المعارج
আল-মাআরিজ
Ayah ৪৪ · Meccan · Para ২৯
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
سَاَلَ سَآئِلٌۢ بِعَذَابٍ وَّاقِعٍ ۙ
এক যাচক যাচনা করল সেই শাস্তি,
لِّلۡکٰفِرِیۡنَ لَیۡسَ لَہٗ دَافِعٌ ۙ
যা কাফেরদের জন্য অবধারিত, যা রোধ করতে পারে এমন কেউ নেই।
مِّنَ اللّٰہِ ذِی الۡمَعَارِجِ ؕ
তা আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি আরোহণের পথসমূহের মালিক।
تَعۡرُجُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَالرُّوۡحُ اِلَیۡہِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُہٗ خَمۡسِیۡنَ اَلۡفَ سَنَۃٍ ۚ
ফেরেশতাগণ ও রূহুল কুদস তাঁর কাছে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।
فَاصۡبِرۡ صَبۡرًا جَمِیۡلًا
সুতরাং সবর অবলম্বন কর উত্তমরূপে।
اِنَّہُمۡ یَرَوۡنَہٗ بَعِیۡدًا ۙ
তারা তাকে দূরবর্তী মনে করছে।
وَّنَرٰىہُ قَرِیۡبًا ؕ
অথচ আমি তাকে দেখছি নিকটবর্তী।
یَوۡمَ تَکُوۡنُ السَّمَآءُ کَالۡمُہۡلِ ۙ
(সে শাস্তি হবে সেই দিন) যে দিন আকাশ তেলের গাদের মত হয়ে যাবে
وَتَکُوۡنُ الۡجِبَالُ کَالۡعِہۡنِ ۙ
এবং পাহাড় হয়ে যাবে রঙ্গিন পশমের মত।
وَلَا یَسۡـَٔلُ حَمِیۡمٌ حَمِیۡمًا ۚۖ
এবং কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু অন্তরঙ্গ বন্ধুকে জিজ্ঞেসও করবে না।
یُّبَصَّرُوۡنَہُمۡ ؕ یَوَدُّ الۡمُجۡرِمُ لَوۡ یَفۡتَدِیۡ مِنۡ عَذَابِ یَوۡمِئِذٍۭ بِبَنِیۡہِ ۙ
অথচ তাদের পরস্পরকে দৃষ্টিগোচর করে দেওয়া হবে। অপরাধী সে দিন শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তার পুত্রকে মুক্তিপণ হিসেবে দিতে চাবে।
وَصَاحِبَتِہٖ وَاَخِیۡہِ ۙ
এবং তার স্ত্রী ও ভাইকে
وَفَصِیۡلَتِہِ الَّتِیۡ تُــٔۡوِیۡہِ ۙ
এবং তার সেই খান্দানকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত।
وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ۙ ثُمَّ یُنۡجِیۡہِ ۙ
এবং পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীকে, যাতে (এসব মুক্তিপণ দিয়ে) সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।
کَلَّا ؕ اِنَّہَا لَظٰی ۙ
(কিন্তু) কখনই এটা সম্ভব হবে না। তা তো এক লেলিহান আগুন।
نَزَّاعَۃً لِّلشَّوٰی ۚۖ
যা চামড়া খসিয়ে দেবে।
تَدۡعُوۡا مَنۡ اَدۡبَرَ وَتَوَلّٰی ۙ
তা প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে ডাকবে, যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
وَجَمَعَ فَاَوۡعٰی
এবং (অর্থ-সম্পদ) সঞ্চয় করেছে অতঃপর তা সযত্নে সংরক্ষণ করেছে।
اِنَّ الۡاِنۡسَانَ خُلِقَ ہَلُوۡعًا ۙ
বস্তুত মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে লঘুচিত্ত রূপে
اِذَا مَسَّہُ الشَّرُّ جَزُوۡعًا ۙ
যখন কোন কষ্ট তাকে স্পর্শ করে, তখন সে অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়ে।
وَّاِذَا مَسَّہُ الۡخَیۡرُ مَنُوۡعًا ۙ
আর যখন তার স্বাচ্ছন্দ্য আসে, তখন হয় অতি কৃপণ।
اِلَّا الۡمُصَلِّیۡنَ ۙ
তবে নামাযীগণ নয়
الَّذِیۡنَ ہُمۡ عَلٰی صَلَاتِہِمۡ دَآئِمُوۡنَ ۪ۙ
যারা তাদের নামায আদায় করে নিয়মিত।
وَالَّذِیۡنَ فِیۡۤ اَمۡوَالِہِمۡ حَقٌّ مَّعۡلُوۡمٌ ۪ۙ
এবং যাদের অর্থ-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে
لِّلسَّآئِلِ وَالۡمَحۡرُوۡمِ ۪ۙ
যাচক ও বঞ্চিতের।
وَالَّذِیۡنَ یُصَدِّقُوۡنَ بِیَوۡمِ الدِّیۡنِ ۪ۙ
এবং যারা কর্মফল দিবসকে সত্য বলে জানে
وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ مِّنۡ عَذَابِ رَبِّہِمۡ مُّشۡفِقُوۡنَ ۚ
এবং যারা তাদের প্রতিপালকের শাস্তির ভয়ে ভীত।
اِنَّ عَذَابَ رَبِّہِمۡ غَیۡرُ مَاۡمُوۡنٍ
নিশ্চয়ই তাদের প্রতিপালকের শাস্তি এমন নয়, যা হতে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙ
এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে (সকলের থেকে) হেফাজত করে,
اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ۚ
তাদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাভুক্ত দাসীদের ছাড়া। কেননা এসব লোক নিন্দনীয় নয়।
فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡعٰدُوۡنَ ۚ
তবে কেউ তার বাইরে অন্য কিছু কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী।
وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِاَمٰنٰتِہِمۡ وَعَہۡدِہِمۡ رٰعُوۡنَ ۪ۙ
এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে,
وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِشَہٰدٰتِہِمۡ قَآئِمُوۡنَ ۪ۙ
এবং যারা তাদের সাক্ষ্য যথাযথভাবে দান করে।
وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَلٰی صَلَاتِہِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ؕ
এবং যারা তাদের নামাযের ব্যাপারে পুরোপুরি যত্নবান থাকে।
اُولٰٓئِکَ فِیۡ جَنّٰتٍ مُّکۡرَمُوۡنَ ؕ٪
তারাই জান্নাতে থাকবে সম্মানজনকভাবে।
فَمَالِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا قِبَلَکَ مُہۡطِعِیۡنَ ۙ
(হে রাসূল!) কাফেরদের হল কি যে, তারা তোমার দিকে ছুটে আসছে?
عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَعَنِ الشِّمَالِ عِزِیۡنَ
ডান দিক থেকেও এবং বাম দিক থেকেও, দলে দলে।
اَیَطۡمَعُ کُلُّ امۡرِیًٴ مِّنۡہُمۡ اَنۡ یُّدۡخَلَ جَنَّۃَ نَعِیۡمٍ ۙ
তাদের প্রত্যেকেই কি প্রত্যাশা করে যে, তাকে দাখিল করা হবে নি‘আমতপূর্ণ জান্নাতে?
کَلَّا ؕ اِنَّا خَلَقۡنٰہُمۡ مِّمَّا یَعۡلَمُوۡنَ
কখনও এরূপ হবে না। আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এমন জিনিস দ্বারা যা তারা জানে।
فَلَاۤ اُقۡسِمُ بِرَبِّ الۡمَشٰرِقِ وَالۡمَغٰرِبِ اِنَّا لَقٰدِرُوۡنَ ۙ
আমি শপথ করছি (নক্ষত্ররাজির) উদয়স্থল ও অস্তাচলসমূহের অধিপতির, নিশ্চয়ই আমি এ বিষয়ে সক্ষম
عَلٰۤی اَنۡ نُّبَدِّلَ خَیۡرًا مِّنۡہُمۡ ۙ وَمَا نَحۡنُ بِمَسۡبُوۡقِیۡنَ
যে, তাদের স্থলবর্তী করব তাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট মানবগোষ্ঠীকে এবং কেউ আমাকে ব্যর্থ করতে পারবে না।
فَذَرۡہُمۡ یَخُوۡضُوۡا وَیَلۡعَبُوۡا حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَہُمُ الَّذِیۡ یُوۡعَدُوۡنَ ۙ
সুতরাং তুমি তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা তাদের অহেতুক বাক-বিতণ্ডা ও খেলাধুলায় মত্ত থাকুক, যাবৎ না সেই দিনের সাক্ষাত লাভ করে, যে দিনের প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।
یَوۡمَ یَخۡرُجُوۡنَ مِنَ الۡاَجۡدَاثِ سِرَاعًا کَاَنَّہُمۡ اِلٰی نُصُبٍ یُّوۡفِضُوۡنَ ۙ
সে দিন তারা দ্রুতবেগে কবর থেকে এমনভাবে বের হবে, যেন তারা তাদের প্রতিমাদের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে।
خَاشِعَۃً اَبۡصَارُہُمۡ تَرۡہَقُہُمۡ ذِلَّۃٌ ؕ ذٰلِکَ الۡیَوۡمُ الَّذِیۡ کَانُوۡا یُوۡعَدُوۡنَ ٪
তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনত। হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। এটাই সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।