الجن
আল-জিন
Ayah ২৮ · Meccan · Para ২৯
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
قُلۡ اُوۡحِیَ اِلَیَّ اَنَّہُ اسۡتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الۡجِنِّ فَقَالُوۡۤا اِنَّا سَمِعۡنَا قُرۡاٰنًا عَجَبًا ۙ
(হে রাসূল!) বলে দাও, আমার কাছে ওহী এসেছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর (নিজ সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে) বলেছে, আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি।
یَّہۡدِیۡۤ اِلَی الرُّشۡدِ فَاٰمَنَّا بِہٖ ؕ وَلَنۡ نُّشۡرِکَ بِرَبِّنَاۤ اَحَدًا ۙ
যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে। সুতরাং আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি। এখন আর আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাথে (ইবাদতে) কখনও কাউকে শরীক করব না।
وَّاَنَّہٗ تَعٰلٰی جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَۃً وَّلَا وَلَدًا ۙ
এবং এই (বিশ্বাস করেছি) যে, আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা সমুচ্চ। তিনি কোন স্ত্রী গ্রহণ করেননি এবং কোন সন্তানও নয়।
وَّاَنَّہٗ کَانَ یَقُوۡلُ سَفِیۡہُنَا عَلَی اللّٰہِ شَطَطًا ۙ
এবং এই যে, আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা আল্লাহ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবাস্তব কথা বলত।
وَّاَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنۡ لَّنۡ تَقُوۡلَ الۡاِنۡسُ وَالۡجِنُّ عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا ۙ
এবং আমরা মনে করেছিলাম মানুষ ও জিন আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলবে না।
وَّاَنَّہٗ کَانَ رِجَالٌ مِّنَ الۡاِنۡسِ یَعُوۡذُوۡنَ بِرِجَالٍ مِّنَ الۡجِنِّ فَزَادُوۡہُمۡ رَہَقًا ۙ
এবং মানুষের মধ্যে কিছু লোক জিনদের কিছু লোকের আশ্রয় গ্রহণ করত। এভাবে তারা জিনদেরকে আরও বেশি আত্মম্ভরী করে তুলেছিল।
وَّاَنَّہُمۡ ظَنُّوۡا کَمَا ظَنَنۡتُمۡ اَنۡ لَّنۡ یَّبۡعَثَ اللّٰہُ اَحَدًا ۙ
এবং তোমরা যেমন ধারণা করতে, তেমনি মানুষও ধারণা করেছিল, আল্লাহ কাউকেই মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করবেন না।
وَّاَنَّا لَمَسۡنَا السَّمَآءَ فَوَجَدۡنٰہَا مُلِئَتۡ حَرَسًا شَدِیۡدًا وَّشُہُبًا ۙ
এবং আমরা আকাশে অনুসন্ধান করতে চাইলাম, তখন দেখলাম তা কঠোর পাহারাদার ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
وَّاَنَّا کُنَّا نَقۡعُدُ مِنۡہَا مَقَاعِدَ لِلسَّمۡعِ ؕ فَمَنۡ یَّسۡتَمِعِ الۡاٰنَ یَجِدۡ لَہٗ شِہَابًا رَّصَدًا ۙ
এবং আমরা আগে সংবাদ শোনার জন্য আকাশের কোন কোন স্থানে গিয়ে বসে থাকতাম। কিন্তু এখন কেউ শুনতে চাইলে সে দেখতে পায় এক উল্কাপিণ্ড তার (উপর নিক্ষেপের) জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
وَّاَنَّا لَا نَدۡرِیۡۤ اَشَرٌّ اُرِیۡدَ بِمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ اَمۡ اَرَادَ بِہِمۡ رَبُّہُمۡ رَشَدًا ۙ
এবং আমাদের জানা ছিল না জগদ্বাসীর কোন অমঙ্গল করার ইচ্ছা করা হয়েছে, না তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শনের ইচ্ছা করেছেন।
وَّاَنَّا مِنَّا الصّٰلِحُوۡنَ وَمِنَّا دُوۡنَ ذٰلِکَ ؕ کُنَّا طَرَآئِقَ قِدَدًا ۙ
এবং আমাদের মধ্যে কতক নেককার এবং কতক সে রকম নয়। আর আমরা বিভিন্ন পথের অনুসারী ছিলাম।
وَّاَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنۡ لَّنۡ نُّعۡجِزَ اللّٰہَ فِی الۡاَرۡضِ وَلَنۡ نُّعۡجِزَہٗ ہَرَبًا ۙ
এবং আমরা এখন বুঝেছি, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারব না এবং (অন্য কোথাও) পালিয়ে গিয়ে তাকে ব্যর্থও করতে সক্ষম হব না।
وَّاَنَّا لَمَّا سَمِعۡنَا الۡہُدٰۤی اٰمَنَّا بِہٖ ؕ فَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِرَبِّہٖ فَلَا یَخَافُ بَخۡسًا وَّلَا رَہَقًا ۙ
এবং আমরা যখন হেদায়েতের বাণী শুনলাম, তাতে ঈমান আনলাম। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনে, তার কোনও ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না এবং কোনও অন্যায়েরও না।
وَّاَنَّا مِنَّا الۡمُسۡلِمُوۡنَ وَمِنَّا الۡقٰسِطُوۡنَ ؕ فَمَنۡ اَسۡلَمَ فَاُولٰٓئِکَ تَحَرَّوۡا رَشَدًا
এবং আমাদের মধ্যে কতক তো মুসলিম হয়ে গেছে এবং আমাদের মধ্যে কতক (এখনও) জালেম। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তারা হেদায়েতের পথ খুঁজে নিয়েছে।
وَاَمَّا الۡقٰسِطُوۡنَ فَکَانُوۡا لِجَہَنَّمَ حَطَبًا ۙ
বাকি থাকল জালেমগণ, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।
وَّاَنۡ لَّوِ اسۡتَقَامُوۡا عَلَی الطَّرِیۡقَۃِ لَاَسۡقَیۡنٰہُمۡ مَّآءً غَدَقًا ۙ
এবং (হে রাসূল! মক্কাবাসীদেরকে বল, আমার প্রতি) এই (ওহীও এসেছে) যে, তারা যদি সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তবে আমি প্রচুর পরিমাণ পানি দ্বারা তাদেরকে সিঞ্চিত করব
لِّنَفۡتِنَہُمۡ فِیۡہِ ؕ وَمَنۡ یُّعۡرِضۡ عَنۡ ذِکۡرِ رَبِّہٖ یَسۡلُکۡہُ عَذَابًا صَعَدًا ۙ
এর মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। আর কেউ তার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ তাকে ক্রমবর্ধমান শাস্তিতে গেঁথে দেবেন।
وَّاَنَّ الۡمَسٰجِدَ لِلّٰہِ فَلَا تَدۡعُوۡا مَعَ اللّٰہِ اَحَدًا ۙ
এবং আমার কাছে ওহী এসেছে যে, সিজদাসমূহ আল্লাহরই প্রাপ্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কারও ইবাদত করো না।
وَّاَنَّہٗ لَمَّا قَامَ عَبۡدُ اللّٰہِ یَدۡعُوۡہُ کَادُوۡا یَکُوۡنُوۡنَ عَلَیۡہِ لِبَدًا ؕ٪
এবং এই যে, যখন আল্লাহর বান্দা তাঁর ইবাদত করার জন্য দাঁড়াল, তারা তার উপর যেন ভেঙ্গে পড়ছিল।
قُلۡ اِنَّمَاۤ اَدۡعُوۡا رَبِّیۡ وَلَاۤ اُشۡرِکُ بِہٖۤ اَحَدًا
বলে দাও, আমি তো কেবল আমার প্রতিপালকের ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক স্থির করি না।
قُلۡ اِنِّیۡ لَاۤ اَمۡلِکُ لَکُمۡ ضَرًّا وَّلَا رَشَدًا
বলে দাও, আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করার এখতিয়ার রাখি না এবং কোন উপকার করারও না।
قُلۡ اِنِّیۡ لَنۡ یُّجِیۡرَنِیۡ مِنَ اللّٰہِ اَحَدٌ ۬ۙ وَّلَنۡ اَجِدَ مِنۡ دُوۡنِہٖ مُلۡتَحَدًا ۙ
বলে দাও, আমাকে আল্লাহ হতে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং আমিও তাঁকে ছেড়ে অন্য কোন আশ্রয়স্থল পাব না।
اِلَّا بَلٰغًا مِّنَ اللّٰہِ وَرِسٰلٰتِہٖ ؕ وَمَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ فَاِنَّ لَہٗ نَارَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ
অবশ্য (আমাকে যে জিনিসের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, তা হল) আল্লাহর পক্ষ হতে বার্তা পৌঁছানো ও তাঁর বাণী প্রচার। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করলে তার জন্য আছে জাহান্নামের আগুন, যার ভেতর তারা স্থায়ীভাবে থাকবে।
حَتّٰۤی اِذَا رَاَوۡا مَا یُوۡعَدُوۡنَ فَسَیَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ اَضۡعَفُ نَاصِرًا وَّاَقَلُّ عَدَدًا
(তারা অবাধ্যতা করতে থাকবে) যাবৎ না তারা দেখতে পায় সেই জিনিস যে ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে। তখন তারা বুঝতে পারবে কার সাহায্যকারী দুর্বল এবং কে সংখ্যায় অল্প।
قُلۡ اِنۡ اَدۡرِیۡۤ اَقَرِیۡبٌ مَّا تُوۡعَدُوۡنَ اَمۡ یَجۡعَلُ لَہٗ رَبِّیۡۤ اَمَدًا
বলে দাও, আমি জানি না, তোমাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে, তা আসন্ন, না আমার প্রতিপালক তার জন্য কোন দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করবেন।
عٰلِمُ الۡغَیۡبِ فَلَا یُظۡہِرُ عَلٰی غَیۡبِہٖۤ اَحَدًا ۙ
তিনিই সকল গুপ্ত বিষয় জানেন। তিনি তাঁর গুপ্ত জ্ঞান সম্পর্কে কাউকে অবহিত করেন না
اِلَّا مَنِ ارۡتَضٰی مِنۡ رَّسُوۡلٍ فَاِنَّہٗ یَسۡلُکُ مِنۡۢ بَیۡنِ یَدَیۡہِ وَمِنۡ خَلۡفِہٖ رَصَدًا ۙ
তিনি যাকে (এ কাজের জন্য) মনোনীত করেছেন সেই রাসূল ছাড়া। এরূপ ক্ষেত্রে তিনি সেই রাসূলের সামনে ও পেছনে কিছু প্রহরী নিযুক্ত করেন।
لِّیَعۡلَمَ اَنۡ قَدۡ اَبۡلَغُوۡا رِسٰلٰتِ رَبِّہِمۡ وَاَحَاطَ بِمَا لَدَیۡہِمۡ وَاَحۡصٰی کُلَّ شَیۡءٍ عَدَدًا ٪
তারা (অর্থাৎ রাসূলগণ) তাদের প্রতিপালকের বাণী যে ঠিক পৌঁছিয়ে দিয়েছে তা জানার জন্য। আর তিনি তাদের যাবতীয় অবস্থা পরিবেষ্টন করে আছেন এবং তিনি সমস্ত কিছু পুরোপুরি হিসাব করে রেখেছেন।