দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন
এক দ্বীনী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে-
(১) মসজিদের ভিতরে আযান দেয়া হয়েছে, অথচ ফিকহের কিতাবে লিখা আছে-
لايؤذن فى المسجد এ বাক্য দ্বারা মসজিদের ভেতরে আযান দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
(২) আযানের বাক্য গুলো দ্রুত বলা হয়েছে। মাঝে এতটুকু সময় দেয়া হয়নি, যাতে আযানের জবাব দেয়া যায়।
(৩) আযানের উচ্চারণ ছিল ভুল। আল্লাহ শব্দকে মদ্দে তাবায়ির চেয়ে বেশী লম্বা করা হয়েছে, যা নিষেধ ।
(৪) ‘মুনিয়াতুল মসজিদ ফি আদাবিল মাসাজিদ’ বার বার পড়ুন এবং তার ওপর আমল করুন।
(৫) অনেক জায়গায় মসজিদের মধ্যে কুরআনের তা‘লীম ও ছাত্রাবাস বানানো হয়। অথচ এটা আদৌ জায়িয নাই। (অপারগতার কারণে সাময়িক কিছুদিন হলে ভিন্ন কথা।-সংকলক) আর মুসাফাহা ইত্যাদির জন্য কাতার করার সময় সর্বদা অন্যকে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ।
(৬) কামরা এবং কামরার আঙ্গিনা পরিস্কার রাখা। বিশেষ করে কাগজের সম্মান করা। অর্থাৎ কাগজের টুকরা বা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে না থকে।
(৭) রুটির পতিত টুকরা সযত্নে উঠিয়ে নেয়া। কেননা, খাদ্যের সম্মানের বিষয়টি হাদীসে পরিস্কার উল্লেখ আছে। রুটির টুকরা এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকলে রিযিকের বরকত চলে যায়।
(৮) খানার কাতারে পরস্পর শরীর লাগিয়ে বসা ঠিক না। এতটুকু ফাক রেখে বসা, যাতে একজন লোক আসা-যাওয়া করতে পারে। আর কাতার করার সময় সর্বদা অন্যকে প্রাধান্য দেয়া উচিত।
(৯) নিজের কাজ নিজে করা যদি সুন্নাত হয়, তাহলে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ কে করবে?
(১০) দাওরায়ে হাদীসের ছাত্রদের লম্বা সূরা মুখস্থ না থাকলে ফজরের নামায কি তাহলে ‘আলাম তারা’ দিয়ে পড়বে?
(১১) অনেক ছাত্র কুরআন শরীফ সহীহ করে পড়তে শিখেনি। কাফিয়া ও মিরকাতের ইবারত সহীহ পড়া আর কুরআন শরীফ গায়রে সহীহ পড়া! এটা আর যাই হোক আল্লাহর কিতাবের শ্রেষ্ঠত্ব নয়।
(১২) ধনীরাতো শানদার মসজিদ মাদরাসা বানিয়ে খুব ভাল কাজ করেছে। কিন্তু আপনাদের (সম্মানিত ছাত্রদের) কাজ কর্ম বেদনাদায়ক। বিছানা পত্র যেমনি অপরিষ্কার তেমনি এলোমেলো। হাড়ি-পাতিল ও থালা-বাসনের অবস্থাও অনুরূপ।
(১৩) অনেক ছাত্রের মোঁচের মাঝখানের চুল পরিস্কার। জিজ্ঞেস করে জানতে পারি যে, কেঁচি দ্বারা মাঝখানের চুল পরিস্কার করা একটা ফ্যাশন। মোঁচ সমান করে কাটা উচিত। মাঝখানে মাছি সম জায়গা পরিস্কার কেন ।তাহলে কি মাছি বসার জন্যে এ জায়গা খালি রাখা হয়েছে?
(১৪) ছাত্রদের মসজিদের প্রবেশের সুন্নাতের মধ্যে মাত্র দুটি সুন্নাত মুখস্থ আছে।
(১৫) মসজিদের ভেতরের এবং বাইরের অংশে একই রকম বিছানা থাকার কারণে কোথা থেকে মসজিদ শুরু হয়েছে তা বুঝা যায় না। ফলে মসজিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার দু‘আ পড়তে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সুতরাং বুঝা যাওয়ার মতো একটা চিহ্ন থাকা উচিৎ।
(১৬) ওয়াযের পরে যেহেতু মুসাফাহার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না, তাই এটাকে অবশ্যই বিদায়ের মুসাফাহা মনে করতে হবে। অতএব যারা মুসাফাহা করবেন, তারা কাতার বন্দী হয়ে ডান দিক থেকে শুরু করে বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে যান। বৃদ্ধ ও বাচ্চাদের অগ্রাধিকার দিন। কাতার ছেড়ে সবাই যদি এক সাথে সামনে চলে আসেন, তাহলে অন্যকে অগ্রাধিকার দেবেন কিভাবে?
(১৭) মসজিদে দুর্গন্ধযুক্ত রং লাগানো জায়িয নেই।
(১৮) ছাত্ররা যদি ভীড়ের কারণে গাড়ি থামায়, তাহলে তাদের বলুন, মেহমানকে রাস্তা দিতে। দেখবেন, মেহমানের দরখাস্ত কবুল করে নিয়েছে।
(১৯) মাদরাসার দফতর ও দারুল হাদীস থেকে মসজিদে প্রবেশের রাস্তায় পৃথক দরজা লাগানো উচিত।