الأحزاب
আল-আহযাব
আয়াত ৭৩ · মাদানী · পারা ২১
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اتَّقِ اللّٰہَ وَلَا تُطِعِ الۡکٰفِرِیۡنَ وَالۡمُنٰفِقِیۡنَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ۙ
হে নবী! আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং কাফের ও মুনাফেকদের আনুগত্য করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
وَّاتَّبِعۡ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرًا ۙ
তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যে ওহী পাঠানো হচ্ছে তার অনুসরণ কর। তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ নিশ্চিতভাবে সে সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগত।
وَّتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ وَکِیۡلًا
এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখ। কর্ম বিধানের জন্য আল্লাহ তাআলাই যথেষ্ট।
مَا جَعَلَ اللّٰہُ لِرَجُلٍ مِّنۡ قَلۡبَیۡنِ فِیۡ جَوۡفِہٖ ۚ وَمَا جَعَلَ اَزۡوَاجَکُمُ الّٰٓیِٴۡ تُظٰہِرُوۡنَ مِنۡہُنَّ اُمَّہٰتِکُمۡ ۚ وَمَا جَعَلَ اَدۡعِیَآءَکُمۡ اَبۡنَآءَکُمۡ ؕ ذٰلِکُمۡ قَوۡلُکُمۡ بِاَفۡوَاہِکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ یَقُوۡلُ الۡحَقَّ وَہُوَ یَہۡدِی السَّبِیۡلَ
আল্লাহ কারও অভ্যন্তরেই দু’টো হৃদয় সৃষ্টি করেননি। আর তোমরা তোমাদের যে স্ত্রীদেরকে মায়ের পিঠের সাথে তুলনা কর, তাদেরকে তোমাদের মা বানাননি। আর তোমাদের মুখের ডাকা পুত্রদেরকে তোমাদের প্রকৃত পুত্র সাব্যস্ত করেননি। এটা তো তোমাদের মুখের কথামাত্র। আল্লাহ সত্য কথাই বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
اُدۡعُوۡہُمۡ لِاٰبَآئِہِمۡ ہُوَ اَقۡسَطُ عِنۡدَ اللّٰہِ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ تَعۡلَمُوۡۤا اٰبَآءَہُمۡ فَاِخۡوَانُکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَمَوَالِیۡکُمۡ ؕ وَلَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ جُنَاحٌ فِیۡمَاۤ اَخۡطَاۡتُمۡ بِہٖ ۙ وَلٰکِنۡ مَّا تَعَمَّدَتۡ قُلُوۡبُکُمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
তোমরা তাদেরকে (পোষ্যপুত্রদেরকে) তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাক। এ পদ্ধতিই আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ ন্যায়সঙ্গত। তোমরা যদি তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের দীনী ভাই ও তোমাদের বন্ধু। তোমাদের দ্বারা কোন ভুল হয়ে গেলে সেজন্য তোমাদের কোন গুনাহ হবে না। কিন্তু যে বিষয়ে তোমাদের অন্তর ইচ্ছা পোষণ করে (তা করলে তোমাদের গুনাহ হবে)। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
اَلنَّبِیُّ اَوۡلٰی بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ مِنۡ اَنۡفُسِہِمۡ وَاَزۡوَاجُہٗۤ اُمَّہٰتُہُمۡ ؕ وَاُولُوا الۡاَرۡحَامِ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلٰی بِبَعۡضٍ فِیۡ کِتٰبِ اللّٰہِ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُہٰجِرِیۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ تَفۡعَلُوۡۤا اِلٰۤی اَوۡلِیٰٓئِکُمۡ مَّعۡرُوۡفًا ؕ کَانَ ذٰلِکَ فِی الۡکِتٰبِ مَسۡطُوۡرًا
মুমিনদের পক্ষে নবী তাদের নিজেদের প্রাণ অপেক্ষাও বেশি ঘনিষ্ঠ। আর তার স্ত্রীগণ তাদের মা। তথাপি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী অন্যান্য মুমিন ও মুহাজিরগণ অপেক্ষা গর্ভ-সূত্রের আত্মীয়গণ (মীরাছের ব্যাপারে) একে অন্যের উপর অগ্রাধিকার রাখে। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধু-বান্ধবের (পক্ষে কোন অসিয়ত করে তাদের) প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন কর সেটা ভিন্ন কথা। একথা কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
وَاِذۡ اَخَذۡنَا مِنَ النَّبِیّٖنَ مِیۡثَاقَہُمۡ وَمِنۡکَ وَمِنۡ نُّوۡحٍ وَّاِبۡرٰہِیۡمَ وَمُوۡسٰی وَعِیۡسَی ابۡنِ مَرۡیَمَ ۪ وَاَخَذۡنَا مِنۡہُمۡ مِّیۡثَاقًا غَلِیۡظًا ۙ
এবং (হে রাসূল!) সেই সময়কে স্মরণ রাখ, যখন আমি সমস্ত নবী থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং তোমার থেকেও এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা ইবনে মারয়াম থেকেও আর আমি তাদের থেকে নিয়েছিলাম অতি কঠিন প্রতিশ্রুতি,
لِّیَسۡـَٔلَ الصّٰدِقِیۡنَ عَنۡ صِدۡقِہِمۡ ۚ وَاَعَدَّ لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابًا اَلِیۡمًا ٪
সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদীতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য এবং কাফেরদের জন্য তো তিনি এক যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ جَآءَتۡکُمۡ جُنُوۡدٌ فَاَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ رِیۡحًا وَّجُنُوۡدًا لَّمۡ تَرَوۡہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرًا ۚ
হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের প্রতি সেই সময় কীরূপ অনুগ্রহ করেছিলেন তা স্মরণ কর, যখন বহু সৈন্য তোমাদের প্রতি চড়াও হয়েছিল, তারপর আমি তাদের বিরুদ্ধে এক ঝড়ো হাওয়া পাঠাই এবং এক বাহিনী যা তোমরা দেখতে পাওনি। আর তোমরা যা-কিছু করছিলে আল্লাহ তা দেখছিলেন।
اِذۡ جَآءُوۡکُمۡ مِّنۡ فَوۡقِکُمۡ وَمِنۡ اَسۡفَلَ مِنۡکُمۡ وَاِذۡ زَاغَتِ الۡاَبۡصَارُ وَبَلَغَتِ الۡقُلُوۡبُ الۡحَنَاجِرَ وَتَظُنُّوۡنَ بِاللّٰہِ الظُّنُوۡنَا
স্মরণ কর যখন তারা তোমাদের উপর চড়াও হয়েছিল উপর দিক থেকেও এবং নিচের দিক থেকেও এবং যখন চোখ বিস্ফারিত হয়েছিল এবং প্রাণ মুখের কাছে এসে পড়েছিল আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকমের ভাবনা ভাবতে শুরু করেছিলে।
ہُنَالِکَ ابۡتُلِیَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَزُلۡزِلُوۡا زِلۡزَالًا شَدِیۡدًا
তখন মুমিনগণ কঠিনভাবে পরীক্ষিত হয়েছিল এবং তাদেরকে তীব্র প্রকম্পনে কাঁপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
وَاِذۡ یَقُوۡلُ الۡمُنٰفِقُوۡنَ وَالَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ مَّا وَعَدَنَا اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗۤ اِلَّا غُرُوۡرًا
এবং স্মরণ কর যখন মুনাফেকগণ এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, তারা বলছিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।
وَاِذۡ قَالَتۡ طَّآئِفَۃٌ مِّنۡہُمۡ یٰۤاَہۡلَ یَثۡرِبَ لَا مُقَامَ لَکُمۡ فَارۡجِعُوۡا ۚ وَیَسۡتَاۡذِنُ فَرِیۡقٌ مِّنۡہُمُ النَّبِیَّ یَقُوۡلُوۡنَ اِنَّ بُیُوۡتَنَا عَوۡرَۃٌ ؕۛ وَمَا ہِیَ بِعَوۡرَۃٍ ۚۛ اِنۡ یُّرِیۡدُوۡنَ اِلَّا فِرَارًا
এবং যখন তাদেরই মধ্যকার কতিপয় লোক বলছিল, হে ইয়াসরিববাসী! এখানে তোমাদের কোন স্থান নেই। সুতরাং ওয়াপস চলে যাও এবং তাদেরই মধ্যে কিছু লোক (বাড়ি যাওয়ার জন্য) এই বলে নবীর কাছে অনুমতি চাইল যে, আমাদের ঘর অরক্ষিত, অথচ তা অরক্ষিত ছিল না; বরং তাদের অভিপ্রায় ছিল কেবল (কোনও উপায়ে) পালিয়ে যাওয়া।
وَلَوۡ دُخِلَتۡ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ اَقۡطَارِہَا ثُمَّ سُئِلُوا الۡفِتۡنَۃَ لَاٰتَوۡہَا وَمَا تَلَبَّثُوۡا بِہَاۤ اِلَّا یَسِیۡرًا
মদীনার চারদিক থেকে যদি তাদের কাছে শত্রুদের প্রবেশ ঘটত আর তাদেরকে বিদ্রোহে যোগ দিতে বলা হত, তবে তারা অবশ্যই তাতে যোগ দিত এবং তখন গৃহে অবস্থান করত অল্পই।
وَلَقَدۡ کَانُوۡا عَاہَدُوا اللّٰہَ مِنۡ قَبۡلُ لَا یُوَلُّوۡنَ الۡاَدۡبَارَ ؕ وَکَانَ عَہۡدُ اللّٰہِ مَسۡـُٔوۡلًا
বস্তুত তারা পূর্বে আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। আর আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
قُلۡ لَّنۡ یَّنۡفَعَکُمُ الۡفِرَارُ اِنۡ فَرَرۡتُمۡ مِّنَ الۡمَوۡتِ اَوِ الۡقَتۡلِ وَاِذًا لَّا تُمَتَّعُوۡنَ اِلَّا قَلِیۡلًا
(হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা যদি মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পলায়ন কর, তবে সে পলায়ন তোমাদের কোন কাজে আসবে না এবং সেক্ষেত্রে তোমাদেরকে (জীবনের) আনন্দ ভোগ করতে দেওয়া হবে অতি সামান্যই।
قُلۡ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَعۡصِمُکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ اِنۡ اَرَادَ بِکُمۡ سُوۡٓءًا اَوۡ اَرَادَ بِکُمۡ رَحۡمَۃً ؕ وَلَا یَجِدُوۡنَ لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیۡرًا
বল, এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে আল্লাহ হতে রক্ষা করতে পারে, যদি তিনি তোমাদের কোন ক্ষতি করার ইচ্ছা করেন অথবা (এমন কে আছে, যে তার রহমত ঠেকাতে পারে), যদি তিনি তোমাদের প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করেন? তারা আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
قَدۡ یَعۡلَمُ اللّٰہُ الۡمُعَوِّقِیۡنَ مِنۡکُمۡ وَالۡقَآئِلِیۡنَ لِاِخۡوَانِہِمۡ ہَلُمَّ اِلَیۡنَا ۚ وَلَا یَاۡتُوۡنَ الۡبَاۡسَ اِلَّا قَلِیۡلًا ۙ
আল্লাহ তাদেরকে ভালো করেই জানেন, তোমাদের মধ্যে যারা (জিহাদে) বাধা সৃষ্টি করে এবং নিজ ভাইদেরকে বলে, আমাদের কাছে চলে এসো আর তারা নিজেরা তো যুদ্ধে আসে অতি সামান্যই।
اَشِحَّۃً عَلَیۡکُمۡ ۚۖ فَاِذَا جَآءَ الۡخَوۡفُ رَاَیۡتَہُمۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَیۡکَ تَدُوۡرُ اَعۡیُنُہُمۡ کَالَّذِیۡ یُغۡشٰی عَلَیۡہِ مِنَ الۡمَوۡتِ ۚ فَاِذَا ذَہَبَ الۡخَوۡفُ سَلَقُوۡکُمۡ بِاَلۡسِنَۃٍ حِدَادٍ اَشِحَّۃً عَلَی الۡخَیۡرِ ؕ اُولٰٓئِکَ لَمۡ یُؤۡمِنُوۡا فَاَحۡبَطَ اللّٰہُ اَعۡمَالَہُمۡ ؕ وَکَانَ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرًا
(এবং তাও) তোমাদের প্রতি লালায়িত হয়ে। সুতরাং যখন বিপদ এসে পড়ে, তখন তুমি তাদেরকে দেখবে মৃত্যু ভয়ে মূর্ছিত ব্যক্তির মত তোমার দিকে ঘূর্ণিত চোখে তাকাচ্ছে। অতঃপর যখন বিপদ কেটে যায় তখন তারা অর্থের লোভে তীক্ষ্ণ ভাষায় তোমাদেরকে বিদ্ধ করে। তারা আদৌ ঈমান আনেনি। ফলে আল্লাহ তাদের কর্ম নিষ্ফল করে দিয়েছেন আর এটা তো আল্লাহর পক্ষে অতি সহজ।
یَحۡسَبُوۡنَ الۡاَحۡزَابَ لَمۡ یَذۡہَبُوۡا ۚ وَاِنۡ یَّاۡتِ الۡاَحۡزَابُ یَوَدُّوۡا لَوۡ اَنَّہُمۡ بَادُوۡنَ فِی الۡاَعۡرَابِ یَسۡاَلُوۡنَ عَنۡ اَنۡۢبَآئِکُمۡ ؕ وَلَوۡ کَانُوۡا فِیۡکُمۡ مَّا قٰتَلُوۡۤا اِلَّا قَلِیۡلًا ٪
তারা মনে করছে সম্মিলিত বাহিনী এখনও চলে যায়নি। তারা (পুনরায়) এসে পড়লে তারা কামনা করবে, যদি তারা দেহাতীদের মধ্যে গিয়ে বসবাস করত (এবং সেখানে থেকেই) তোমাদের খবরাখবর জেনে নিত! আর তারা যদি তোমাদের মধ্যে থাকত, তবু যুদ্ধে অল্পই অংশগ্রহণ করত।
لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰہِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰہَ وَالۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَذَکَرَ اللّٰہَ کَثِیۡرًا ؕ
বস্তুত রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ এমন ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে।
وَلَمَّا رَاَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡاَحۡزَابَ ۙ قَالُوۡا ہٰذَا مَا وَعَدَنَا اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗ وَصَدَقَ اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗ ۫ وَمَا زَادَہُمۡ اِلَّاۤ اِیۡمَانًا وَّتَسۡلِیۡمًا ؕ
মুমিনগণ যখন (শত্রুদের) সম্মিলিত বাহিনীকে দেখেছিল, তখন তারা বলেছিল, এটাই সেই বিষয় যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে দিয়েছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছিলেন। আর এ ঘটনা তাদের ঈমান ও আনুগত্যের চেতনাকে আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছিল।
مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ رِجَالٌ صَدَقُوۡا مَا عَاہَدُوا اللّٰہَ عَلَیۡہِ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ قَضٰی نَحۡبَہٗ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّنۡتَظِرُ ۫ۖ وَمَا بَدَّلُوۡا تَبۡدِیۡلًا ۙ
এই ঈমানদারদের মধ্যেই এমন লোকও আছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতিকে সত্যে পরিণত করেছে এবং তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা তাদের নজরানা আদায় করেছে এবং আছে এমন কিছু লোক, যারা এখনও প্রতীক্ষায় আছে আর তারা (তাদের ইচ্ছার ভেতর) কিছুমাত্র পরিবর্তন ঘটায়নি।
لِّیَجۡزِیَ اللّٰہُ الصّٰدِقِیۡنَ بِصِدۡقِہِمۡ وَیُعَذِّبَ الۡمُنٰفِقِیۡنَ اِنۡ شَآءَ اَوۡ یَتُوۡبَ عَلَیۡہِمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ۚ
(এ ঘটনা ঘটানোর কারণ) আল্লাহ সত্যনিষ্ঠদেরকে তাদের সততার পুরস্কার দেবেন এবং মুনাফেকদেরকে ইচ্ছা করলে শাস্তি দেবেন অথবা তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَرَدَّ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِغَیۡظِہِمۡ لَمۡ یَنَالُوۡا خَیۡرًا ؕ وَکَفَی اللّٰہُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ الۡقِتَالَ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ قَوِیًّا عَزِیۡزًا ۚ
আর আল্লাহ কাফেরদেরকে তাদের ক্রোধ সহকারে এমনভাবে ফিরিয়ে দিলেন যে, তারা কোন সুফল অর্জন করতে পারল না। মুমিনদের পক্ষ হতে যুদ্ধের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী।
وَاَنۡزَلَ الَّذِیۡنَ ظَاہَرُوۡہُمۡ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ مِنۡ صَیَاصِیۡہِمۡ وَقَذَفَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمُ الرُّعۡبَ فَرِیۡقًا تَقۡتُلُوۡنَ وَتَاۡسِرُوۡنَ فَرِیۡقًا ۚ
কিতাবীদের মধ্যে যারা তাদেরকে (অর্থাৎ মুসলিমদের শত্রুদেরকে) সাহায্য করেছিল, আল্লাহ তাদেরকে তাদের দুর্গ থেকে অবতরণে বাধ্য করলেন এবং তাদের অন্তরে এমন ভীতি সঞ্চার করলেন যে, (হে মুসলিমগণ!) তাদের কতককে তো তোমরা হত্যা করছিলে আর কতককে করছিলে বন্দী।
وَاَوۡرَثَکُمۡ اَرۡضَہُمۡ وَدِیَارَہُمۡ وَاَمۡوَالَہُمۡ وَاَرۡضًا لَّمۡ تَطَـُٔوۡہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرًا ٪
আল্লাহ তোমাদেরকে ওয়ারিশ বানিয়ে দিলেন তাদের ভূমি, ঘর-বাড়ি ও অর্থ-সম্পদের এবং এমন ভূমির, যা (এখনও পর্যন্ত) তোমরা পদানত করনি। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ قُلۡ لِّاَزۡوَاجِکَ اِنۡ کُنۡـتُنَّ تُرِدۡنَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا وَزِیۡنَتَہَا فَتَعَالَیۡنَ اُمَتِّعۡکُنَّ وَاُسَرِّحۡکُنَّ سَرَاحًا جَمِیۡلًا
হে নবী! নিজ স্ত্রীদেরকে বল, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার শোভা চাও, তবে এসো আমি তোমাদেরকে কিছু উপহার সামগ্রী দিয়ে সৌজন্যের সাথে বিদায় দেই।
وَاِنۡ کُنۡـتُنَّ تُرِدۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَالدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ فَاِنَّ اللّٰہَ اَعَدَّ لِلۡمُحۡسِنٰتِ مِنۡکُنَّ اَجۡرًا عَظِیۡمًا
আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখেরাতের নিবাস কামনা কর, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীলা, তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।
یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ مَنۡ یَّاۡتِ مِنۡکُنَّ بِفَاحِشَۃٍ مُّبَیِّنَۃٍ یُّضٰعَفۡ لَہَا الۡعَذَابُ ضِعۡفَیۡنِ ؕ وَکَانَ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرًا
ওহে নবী পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে তার শাস্তি দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে। আর আল্লাহর পক্ষে তা অতি সহজ।
وَمَنۡ یَّقۡنُتۡ مِنۡکُنَّ لِلّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَتَعۡمَلۡ صَالِحًا نُّؤۡتِہَاۤ اَجۡرَہَا مَرَّتَیۡنِ ۙ وَاَعۡتَدۡنَا لَہَا رِزۡقًا کَرِیۡمًا
আর তোমাদের মধ্যে যে-কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত হয়ে থাকবে ও সৎকর্ম করবে আমি তাকে পুরস্কারও দেব দ্বিগুণ এবং আমি তার জন্য সম্মানজনক জীবিকা প্রস্তুত করে রেখেছি।
یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ لَسۡتُنَّ کَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ اِنِ اتَّقَیۡتُنَّ فَلَا تَخۡضَعۡنَ بِالۡقَوۡلِ فَیَطۡمَعَ الَّذِیۡ فِیۡ قَلۡبِہٖ مَرَضٌ وَّقُلۡنَ قَوۡلًا مَّعۡرُوۡفًا ۚ
হে নবী পত্নীগণ! তোমরা সাধারণ নারীদের মত নও যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। সুতরাং তোমরা কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, পাছে অন্তরে ব্যাধি আছে এমন ব্যক্তি লালায়িত হয়ে পড়ে। আর তোমরা বলো ন্যায়সঙ্গত কথা।
وَقَرۡنَ فِیۡ بُیُوۡتِکُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ الۡجَاہِلِیَّۃِ الۡاُوۡلٰی وَاَقِمۡنَ الصَّلٰوۃَ وَاٰتِیۡنَ الزَّکٰوۃَ وَاَطِعۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ ؕ اِنَّمَا یُرِیۡدُ اللّٰہُ لِیُذۡہِبَ عَنۡکُمُ الرِّجۡسَ اَہۡلَ الۡبَیۡتِ وَیُطَہِّرَکُمۡ تَطۡہِیۡرًا ۚ
নিজ গৃহে অবস্থান কর (পর-পুরুষকে) সাজসজ্জা প্রদর্শন করে বেড়িও না, যেমন প্রাচীন জাহেলী যুগে প্রদর্শন করা হত এবং নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। হে নবী পরিবার (আহলে বাইত)! আল্লাহ তো চান তোমাদের থেকে মলিনতা দূরে রাখতে এবং তোমাদেরকে সর্বতোপ্রকারে পবিত্রতা দান করতে।
وَاذۡکُرۡنَ مَا یُتۡلٰی فِیۡ بُیُوۡتِکُنَّ مِنۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ وَالۡحِکۡمَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ لَطِیۡفًا خَبِیۡرًا ٪
এবং তোমাদের গৃহে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হেকমতের কথা পাঠ করা হয়, তা স্মরণ রাখ। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী এবং সর্ববিষয়ে অবহিত।
اِنَّ الۡمُسۡلِمِیۡنَ وَالۡمُسۡلِمٰتِ وَالۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ وَالۡقٰنِتِیۡنَ وَالۡقٰنِتٰتِ وَالصّٰدِقِیۡنَ وَالصّٰدِقٰتِ وَالصّٰبِرِیۡنَ وَالصّٰبِرٰتِ وَالۡخٰشِعِیۡنَ وَالۡخٰشِعٰتِ وَالۡمُتَصَدِّقِیۡنَ وَالۡمُتَصَدِّقٰتِ وَالصَّآئِمِیۡنَ وَالصّٰٓئِمٰتِ وَالۡحٰفِظِیۡنَ فُرُوۡجَہُمۡ وَالۡحٰفِظٰتِ وَالذّٰکِرِیۡنَ اللّٰہَ کَثِیۡرًا وَّالذّٰکِرٰتِ ۙ اَعَدَّ اللّٰہُ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃً وَّاَجۡرًا عَظِیۡمًا
নিশ্চয়ই আনুগত্য প্রকাশকারী পুরুষ ও আনুগত্য প্রকাশকারী নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, ইবাদতগোজার পুরুষ ও ইবাদতগোজার নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, আন্তরিকভাবে বিনীত পুরুষ ও আন্তরিকভাবে বিনীত নারী, সদকাকারী পুরুষ ও সদকাকারী নারী, রোযাদার পুরুষ ও রোযাদার নারী, নিজ লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী পুরুষ ও হেফাজতকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও স্মরণকারী নারী আল্লাহ এদের সকলের জন্য মাগফেরাত ও মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।
وَمَا کَانَ لِمُؤۡمِنٍ وَّلَا مُؤۡمِنَۃٍ اِذَا قَضَی اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗۤ اَمۡرًا اَنۡ یَّکُوۡنَ لَہُمُ الۡخِیَرَۃُ مِنۡ اَمۡرِہِمۡ ؕ وَمَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلٰلًا مُّبِیۡنًا ؕ
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন কোন বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা দান করেন, তখন কোন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর নিজেদের বিষয়ে কোন এখতিয়ার বাকি থাকে না। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করলে সে তো সুস্পষ্ট গোমরাহীতে পতিত হল।
وَاِذۡ تَقُوۡلُ لِلَّذِیۡۤ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِ وَاَنۡعَمۡتَ عَلَیۡہِ اَمۡسِکۡ عَلَیۡکَ زَوۡجَکَ وَاتَّقِ اللّٰہَ وَتُخۡفِیۡ فِیۡ نَفۡسِکَ مَا اللّٰہُ مُبۡدِیۡہِ وَتَخۡشَی النَّاسَ ۚ وَاللّٰہُ اَحَقُّ اَنۡ تَخۡشٰہُ ؕ فَلَمَّا قَضٰی زَیۡدٌ مِّنۡہَا وَطَرًا زَوَّجۡنٰکَہَا لِکَیۡ لَا یَکُوۡنَ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ حَرَجٌ فِیۡۤ اَزۡوَاجِ اَدۡعِیَآئِہِمۡ اِذَا قَضَوۡا مِنۡہُنَّ وَطَرًا ؕ وَکَانَ اَمۡرُ اللّٰہِ مَفۡعُوۡلًا
এবং (হে রাসূল!) স্মরণ কর, যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন এবং তুমিও অনুগ্রহ করেছিলে, তাকে যখন তুমি বলছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীকে নিজ বিবাহে রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি নিজ অন্তরে এমন কথা গোপন করছিলে, আল্লাহ যা প্রকাশ করে দেওয়ার ছিলেন। তুমি মানুষকে ভয় করছিলে অথচ আল্লাহই এ বিষয়ের বেশি হকদার যে, তুমি তাকে ভয় করবে। অতঃপর যায়দ যখন নিজ স্ত্রীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটাল তখন আমি তার সাথে তোমার বিবাহ সম্পন্ন করলাম, যাতে মুসলিমদের পক্ষে তাদের পোষ্যপুত্রদের স্ত্রীগণকে বিবাহ করাতে কোন সমস্যা না থাকে, যখন তারা তাদের সাথে সম্পর্ক শেষ করে ফেলবে। আর আল্লাহর আদেশ তো কার্যকর হওয়ারই ছিল।
مَا کَانَ عَلَی النَّبِیِّ مِنۡ حَرَجٍ فِیۡمَا فَرَضَ اللّٰہُ لَہٗ ؕ سُنَّۃَ اللّٰہِ فِی الَّذِیۡنَ خَلَوۡا مِنۡ قَبۡلُ ؕ وَکَانَ اَمۡرُ اللّٰہِ قَدَرًا مَّقۡدُوۡرَۨا ۫ۙ
আল্লাহ নবীর জন্য যা বিধিসম্মত করেছেন, তা করাতে তার প্রতি আপত্তির কিছু নেই। পূর্বে যারা গত হয়েছে, তাদের (অর্থাৎ সেই নবীদের) ক্ষেত্রেও এটাই ছিল আল্লাহর নীতি। আল্লাহর ফায়সালা মাপাজোখা, সুনির্ধারিত হয়ে থাকে।
الَّذِیۡنَ یُبَلِّغُوۡنَ رِسٰلٰتِ اللّٰہِ وَیَخۡشَوۡنَہٗ وَلَا یَخۡشَوۡنَ اَحَدًا اِلَّا اللّٰہَ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ حَسِیۡبًا
(নবী তো তারা,) যারা আল্লাহর প্রেরিত বিধানাবলী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়, তাঁকেই ভয় করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। হিসাব গ্রহণের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
مَا کَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنۡ رِّجَالِکُمۡ وَلٰکِنۡ رَّسُوۡلَ اللّٰہِ وَخَاتَمَ النَّبِیّٖنَ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ٪
(হে মুমিনগণ!) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নন, কিন্তু সে আল্লাহর রাসূল এবং নবীদের মধ্যে সর্বশেষ। আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اذۡکُرُوا اللّٰہَ ذِکۡرًا کَثِیۡرًا ۙ
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে স্মরণ কর অধিক পরিমাণে।
وَّسَبِّحُوۡہُ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا
এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তার তাসবীহ পাঠ কর।
ہُوَ الَّذِیۡ یُصَلِّیۡ عَلَیۡکُمۡ وَمَلٰٓئِکَتُہٗ لِیُخۡرِجَکُمۡ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ؕ وَکَانَ بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ رَحِیۡمًا
তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও, তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আলোতে নিয়ে আসার জন্য। তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু।
تَحِیَّتُہُمۡ یَوۡمَ یَلۡقَوۡنَہٗ سَلٰمٌ ۖۚ وَاَعَدَّ لَہُمۡ اَجۡرًا کَرِیۡمًا
মুমিনগণ যে দিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে, সেদিন তাদেরকে অভ্যর্থনা জানানো হবে সালাম দ্বারা। আল্লাহ তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ شَاہِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِیۡرًا ۙ
হে নবী! আমি তো তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে
وَّدَاعِیًا اِلَی اللّٰہِ بِاِذۡنِہٖ وَسِرَاجًا مُّنِیۡرًا
এবং আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী ও আলো বিস্তারকারী প্রদীপরূপে।
وَبَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ بِاَنَّ لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ فَضۡلًا کَبِیۡرًا
মুমিনদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে মহা অনুগ্রহ।
وَلَا تُطِعِ الۡکٰفِرِیۡنَ وَالۡمُنٰفِقِیۡنَ وَدَعۡ اَذٰىہُمۡ وَتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ وَکِیۡلًا
কাফের ও মুনাফেকদের আনুগত্য করো না এবং তাদের পক্ষ থেকে যে কষ্ট-ক্লেশ তোমাকে দেওয়া হয়, তা অগ্রাহ্য কর এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখ। কর্মবিধায়করূপে আল্লাহই যথেষ্ট।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نَکَحۡتُمُ الۡمُؤۡمِنٰتِ ثُمَّ طَلَّقۡتُمُوۡہُنَّ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تَمَسُّوۡہُنَّ فَمَا لَکُمۡ عَلَیۡہِنَّ مِنۡ عِدَّۃٍ تَعۡتَدُّوۡنَہَا ۚ فَمَتِّعُوۡہُنَّ وَسَرِّحُوۡہُنَّ سَرَاحًا جَمِیۡلًا
হে মুমিনগণ! তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করার পর তাদেরকে স্পর্শ করার আগেই তালাক দিলে তোমাদের জন্য তাদের উপর কোন ইদ্দত ওয়াজিব নয়, যা তোমাদেরকে গণনা করতে হবে। সুতরাং তাদেরকে কিছু উপহার সামগ্রী দিবে এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে বিদায় করবে।
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَحۡلَلۡنَا لَکَ اَزۡوَاجَکَ الّٰتِیۡۤ اٰتَیۡتَ اُجُوۡرَہُنَّ وَمَا مَلَکَتۡ یَمِیۡنُکَ مِمَّاۤ اَفَآءَ اللّٰہُ عَلَیۡکَ وَبَنٰتِ عَمِّکَ وَبَنٰتِ عَمّٰتِکَ وَبَنٰتِ خَالِکَ وَبَنٰتِ خٰلٰتِکَ الّٰتِیۡ ہَاجَرۡنَ مَعَکَ ۫ وَامۡرَاَۃً مُّؤۡمِنَۃً اِنۡ وَّہَبَتۡ نَفۡسَہَا لِلنَّبِیِّ اِنۡ اَرَادَ النَّبِیُّ اَنۡ یَّسۡتَنۡکِحَہَا ٭ خَالِصَۃً لَّکَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ قَدۡ عَلِمۡنَا مَا فَرَضۡنَا عَلَیۡہِمۡ فِیۡۤ اَزۡوَاجِہِمۡ وَمَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ لِکَیۡلَا یَکُوۡنَ عَلَیۡکَ حَرَجٌ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
হে নবী! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার সেই স্ত্রীগণকে, যাদেরকে তুমি তাদের মোহরানা আদায় করে দিয়েছ। তাছাড়া আল্লাহ গনীমতের যে সম্পদ তোমাকে দান করেছেন তার মধ্যে যে দাসীগণ তোমার মালিকানায় এসেছে তাদেরকেও (তোমার জন্য হালাল করেছি) এবং তোমার চাচার কন্যাগণ, ফুফুর কন্যাগণ, মামার কন্যাগণ ও খালার কন্যাগণকেও, যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে। তাছাড়া কোন মুমিন নারী বিনা মোহরানায় নিজেকে নবীর নিকট (বিবাহের জন্য) পেশ করলে, নবী যদি তাকে বিবাহ করতে চায়, তাকেও (হালাল করেছি)। বিশেষভাবে তোমারই জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়। মুমিনদের স্ত্রীগণ ও তাদের দাসীদের সম্পর্কে তাদের প্রতি যে বিধান আমি আরোপ করেছি, তা আমার ভালোভাবেই জানা আছে। (আমি তা থেকে তোমাকে ব্যতিক্রম রেখেছি এজন্য), যাতে তোমার কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
تُرۡجِیۡ مَنۡ تَشَآءُ مِنۡہُنَّ وَتُــٔۡوِیۡۤ اِلَیۡکَ مَنۡ تَشَآءُ ؕ وَمَنِ ابۡتَغَیۡتَ مِمَّنۡ عَزَلۡتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکَ ؕ ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَنۡ تَقَرَّ اَعۡیُنُہُنَّ وَلَا یَحۡزَنَّ وَیَرۡضَیۡنَ بِمَاۤ اٰتَیۡتَہُنَّ کُلُّہُنَّ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلِیۡمًا حَلِیۡمًا
তুমি স্ত্রীদের মধ্যে যার পালা ইচ্ছা কর মুলতবি করতে পার এবং যাকে চাও নিজের কাছে রাখতে পার। তুমি যাদেরকে পৃথক করে দিয়েছ, তাদের মধ্যে কাউকে ওয়াপস গ্রহণ করতে চাইলে তাতে তোমার কোন গুনাহ নেই, এ নিয়মে বেশি আশা করা যায়, তাদের চোখ জুড়াবে, তারা বেদনাহত হবে না এবং তুমি তাদেরকে যা-কিছু দেবে তাতে তারা সকলে সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা-কিছু আছে আল্লাহ সে সম্বন্ধে অবহিত এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
لَا یَحِلُّ لَکَ النِّسَآءُ مِنۡۢ بَعۡدُ وَلَاۤ اَنۡ تَبَدَّلَ بِہِنَّ مِنۡ اَزۡوَاجٍ وَّلَوۡ اَعۡجَبَکَ حُسۡنُہُنَّ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ یَمِیۡنُکَ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ رَّقِیۡبًا ٪
এরপর অন্য নারী তোমার পক্ষে হালাল নয় এবং এটাও জায়েয নয় যে, তুমি এদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করবে, যদিও তাদের সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করে। অবশ্য তোমার মালিকানায় যে দাসীগণ আছে (তারা তোমার জন্য হালাল)। আল্লাহ সবকিছুর উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَدۡخُلُوۡا بُیُوۡتَ النَّبِیِّ اِلَّاۤ اَنۡ یُّؤۡذَنَ لَکُمۡ اِلٰی طَعَامٍ غَیۡرَ نٰظِرِیۡنَ اِنٰىہُ ۙ وَلٰکِنۡ اِذَا دُعِیۡتُمۡ فَادۡخُلُوۡا فَاِذَا طَعِمۡتُمۡ فَانۡتَشِرُوۡا وَلَا مُسۡتَاۡنِسِیۡنَ لِحَدِیۡثٍ ؕ اِنَّ ذٰلِکُمۡ کَانَ یُؤۡذِی النَّبِیَّ فَیَسۡتَحۡیٖ مِنۡکُمۡ ۫ وَاللّٰہُ لَا یَسۡتَحۡیٖ مِنَ الۡحَقِّ ؕ وَاِذَا سَاَلۡتُمُوۡہُنَّ مَتَاعًا فَسۡـَٔلُوۡہُنَّ مِنۡ وَّرَآءِ حِجَابٍ ؕ ذٰلِکُمۡ اَطۡہَرُ لِقُلُوۡبِکُمۡ وَقُلُوۡبِہِنَّ ؕ وَمَا کَانَ لَکُمۡ اَنۡ تُؤۡذُوۡا رَسُوۡلَ اللّٰہِ وَلَاۤ اَنۡ تَنۡکِحُوۡۤا اَزۡوَاجَہٗ مِنۡۢ بَعۡدِہٖۤ اَبَدًا ؕ اِنَّ ذٰلِکُمۡ کَانَ عِنۡدَ اللّٰہِ عَظِیۡمًا
হে মুমিনগণ! নবীর ঘরে (অনুমতি ছাড়া) প্রবেশ করো না। অবশ্য তোমাদেরকে আহার্যের জন্য আসার অনুমতি দেওয়া হলে ভিন্ন কথা। তখন এভাবে আসবে যে, তোমরা তা প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকবে না। কিন্তু যখন তোমাদেরকে দাওয়াত করা হয় তখন যাবে। তারপর যখন তোমাদের খাওয়া হয়ে যাবে তখন আপন-আপন পথ ধরবে; কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়বে না। বস্তুত তোমাদের এ আচরণ নবীকে কষ্ট দেয়, কিন্তু সে তোমাদেরকে (তা বলতে) সঙ্কোচবোধ করে। আল্লাহ সত্য বলতে সঙ্কোচবোধ করেন না। নবীর স্ত্রীগণের কাছে তোমরা কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাবে। এ পন্থা তোমাদের অন্তর ও তাদের অন্তর অধিকতর পবিত্র রাখার পক্ষে সহায়ক হবে। নবীকে কষ্ট দেওয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় এবং এটাও জায়েয নয় যে, তার (মৃত্যুর) পর তোমরা তার স্ত্রীদেরকে কখনও বিবাহ করবে। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা গুরুতর ব্যাপার।
اِنۡ تُبۡدُوۡا شَیۡئًا اَوۡ تُخۡفُوۡہُ فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا
তোমরা কোন বিষয় প্রকাশ কর বা তা গোপন রাখ, আল্লাহ তো প্রতিটি বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
لَا جُنَاحَ عَلَیۡہِنَّ فِیۡۤ اٰبَآئِہِنَّ وَلَاۤ اَبۡنَآئِہِنَّ وَلَاۤ اِخۡوَانِہِنَّ وَلَاۤ اَبۡنَآءِ اِخۡوَانِہِنَّ وَلَاۤ اَبۡنَآءِ اَخَوٰتِہِنَّ وَلَا نِسَآئِہِنَّ وَلَا مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُنَّ ۚ وَاتَّقِیۡنَ اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدًا
নবীর স্ত্রীগণের জন্য তাদের পিতাগণ, তাদের পুত্রগণ, তাদের ভাইগণ, তাদের ভাতিজাগণ, তাদের ভাগিনাগণ, তাদের আপন নারীগণ ও তাদের দাসীগণের ক্ষেত্রে (অর্থাৎ তাদের সামনে পর্দাহীনভাবে আসাতে) কোন গুনাহ নেই এবং (হে নারীগণ!) তোমরা আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর প্রত্যক্ষকারী।
اِنَّ اللّٰہَ وَمَلٰٓئِکَتَہٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡہِ وَسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا
নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দরূদ পাঠাও এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।
اِنَّ الَّذِیۡنَ یُؤۡذُوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ لَعَنَہُمُ اللّٰہُ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ وَاَعَدَّ لَہُمۡ عَذَابًا مُّہِیۡنًا
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের উপর লানত করেছেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
وَالَّذِیۡنَ یُؤۡذُوۡنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ بِغَیۡرِ مَا اکۡتَسَبُوۡا فَقَدِ احۡتَمَلُوۡا بُہۡتَانًا وَّاِثۡمًا مُّبِیۡنًا ٪
যারা মুমিন নর ও মুমিন নারীদেরকে বিনা অপরাধে কষ্ট দান করে, তারা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ قُلۡ لِّاَزۡوَاجِکَ وَبَنٰتِکَ وَنِسَآءِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ یُدۡنِیۡنَ عَلَیۡہِنَّ مِنۡ جَلَابِیۡبِہِنَّ ؕ ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَنۡ یُّعۡرَفۡنَ فَلَا یُؤۡذَیۡنَ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের, তোমার কন্যাদের ও মুমিন নারীদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের চাদর নিজেদের (মুখের) উপর নামিয়ে দেয়। এ পন্থায় তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
لَئِنۡ لَّمۡ یَنۡتَہِ الۡمُنٰفِقُوۡنَ وَالَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ وَّالۡمُرۡجِفُوۡنَ فِی الۡمَدِیۡنَۃِ لَنُغۡرِیَنَّکَ بِہِمۡ ثُمَّ لَا یُجَاوِرُوۡنَکَ فِیۡہَاۤ اِلَّا قَلِیۡلًا ۖۛۚ
মুনাফেকগণ, যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা নগরে গুজব রটিয়ে বেড়ায় তারা যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করাব, ফলে তারা এ নগরে তোমার সাথে অল্প কিছুদিনই অবস্থান করতে পারবে
مَّلۡعُوۡنِیۡنَ ۚۛ اَیۡنَمَا ثُقِفُوۡۤا اُخِذُوۡا وَقُتِّلُوۡا تَقۡتِیۡلًا
অভিশপ্তরূপে। অতঃপর তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে পাকড়াও করা হবে এবং তাদেরকে এক-এক করে হত্যা করা হবে।
سُنَّۃَ اللّٰہِ فِی الَّذِیۡنَ خَلَوۡا مِنۡ قَبۡلُ ۚ وَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّۃِ اللّٰہِ تَبۡدِیۡلًا
এটা আল্লাহর রীতি, যা পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর ছিল। তুমি কখনই আল্লাহর রীতিতে কোনরূপ পরিবর্তন পাবে না।
یَسۡـَٔلُکَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَۃِ ؕ قُلۡ اِنَّمَا عِلۡمُہَا عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ وَمَا یُدۡرِیۡکَ لَعَلَّ السَّاعَۃَ تَکُوۡنُ قَرِیۡبًا
লোকে তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এর জ্ঞান কেবল আল্লাহরই কাছে আছে। তোমার কী করে জানা থাকবে? হয়ত কিয়ামত নিকটেই এসে পড়েছে।
اِنَّ اللّٰہَ لَعَنَ الۡکٰفِرِیۡنَ وَاَعَدَّ لَہُمۡ سَعِیۡرًا ۙ
নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদেরকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন জ্বলন্ত আগুন।
خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ۚ لَا یَجِدُوۡنَ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیۡرًا ۚ
তাতে তারা সর্বদা এভাবে থাকবে যে, তারা কোন অভিভাবক পাবে না এবং সাহায্যকারীও না।
یَوۡمَ تُقَلَّبُ وُجُوۡہُہُمۡ فِی النَّارِ یَقُوۡلُوۡنَ یٰلَیۡتَنَاۤ اَطَعۡنَا اللّٰہَ وَاَطَعۡنَا الرَّسُوۡلَا
যে দিন আগুনে তাদের চেহারা ওলট-পালট করে ফেলা হবে, তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের কথা মানতাম!
وَقَالُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّاۤ اَطَعۡنَا سَادَتَنَا وَکُبَرَآءَنَا فَاَضَلُّوۡنَا السَّبِیۡلَا
এবং বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! প্রকৃতপক্ষে আমরা আমাদের নেতৃবর্গ ও আমাদের গুরুজনদের আনুগত্য করেছিলাম, তারাই আমাদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে।
رَبَّنَاۤ اٰتِہِمۡ ضِعۡفَیۡنِ مِنَ الۡعَذَابِ وَالۡعَنۡہُمۡ لَعۡنًا کَبِیۡرًا ٪
হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদের প্রতি লানত করুন, মহা লানত।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ اٰذَوۡا مُوۡسٰی فَبَرَّاَہُ اللّٰہُ مِمَّا قَالُوۡا ؕ وَکَانَ عِنۡدَ اللّٰہِ وَجِیۡہًا ؕ
হে মুমিনগণ! তাদের মত হয়ো না, যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছিল, অতঃপর আল্লাহ তারা যা রটনা করেছিল, তা হতে তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেন। সে ছিল আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান।
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَقُوۡلُوۡا قَوۡلًا سَدِیۡدًا ۙ
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্য-সঠিক কথা বল।
یُّصۡلِحۡ لَکُمۡ اَعۡمَالَکُمۡ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ؕ وَمَنۡ یُّطِعِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِیۡمًا
তাহলে আল্লাহ তোমাদের কার্যাবলী শুধরে দেবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে মহা সাফল্য অর্জন করল।
اِنَّا عَرَضۡنَا الۡاَمَانَۃَ عَلَی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَالۡجِبَالِ فَاَبَیۡنَ اَنۡ یَّحۡمِلۡنَہَا وَاَشۡفَقۡنَ مِنۡہَا وَحَمَلَہَا الۡاِنۡسَانُ ؕ اِنَّہٗ کَانَ ظَلُوۡمًا جَہُوۡلًا ۙ
আমি আমানত পেশ করেছিলাম আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও পাহাড়-পর্বতের সামনে। তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল ও তাতে শঙ্কিত হল আর তা বহন করে নিল মানুষ। বস্তুত সে ঘোর জালেম, ঘোর অজ্ঞ।
لِّیُعَذِّبَ اللّٰہُ الۡمُنٰفِقِیۡنَ وَالۡمُنٰفِقٰتِ وَالۡمُشۡرِکِیۡنَ وَالۡمُشۡرِکٰتِ وَیَتُوۡبَ اللّٰہُ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ٪
পরিণামে আল্লাহ মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদেরকে শাস্তিদান করবেন আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।