سبأ

سبأ

সাবা

আয়াত ৫৪ · মক্কী · পারা ২২

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ وَلَہُ الۡحَمۡدُ فِی الۡاٰخِرَۃِ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এমন যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, সব তাঁরই এবং আখেরাতেও প্রশংসা তাঁরই। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্ববিষয়ে অবহিত।

یَعۡلَمُ مَا یَلِجُ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا یَخۡرُجُ مِنۡہَا وَمَا یَنۡزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَمَا یَعۡرُجُ فِیۡہَا ؕ وَہُوَ الرَّحِیۡمُ الۡغَفُوۡرُ

তিনি সেই সব কিছু জানেন, যা ভূমিতে প্রবেশ করে, যা তা থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে উত্থিত হয়। তিনিই পরম দয়ালু, অতি ক্ষমাশীল।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَا تَاۡتِیۡنَا السَّاعَۃُ ؕ  قُلۡ بَلٰی وَرَبِّیۡ لَتَاۡتِیَنَّکُمۡ ۙ  عٰلِمِ الۡغَیۡبِ ۚ  لَا یَعۡزُبُ عَنۡہُ مِثۡقَالُ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ وَلَاۤ اَصۡغَرُ مِنۡ ذٰلِکَ وَلَاۤ اَکۡبَرُ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٭ۙ

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা বলে, আমাদের উপর কিয়ামত আসবে না। বলে দাও, কেন আসবে না? আমার আলিমুল গায়েব প্রতিপালকের কসম! তোমাদের উপর তা অবশ্যই আসবে। অণু পরিমাণ কোন জিনিসও তার দৃষ্টির আড়ালে থাকতে পারে না না আকাশমণ্ডলীতে এবং না পৃথিবীতে। আর না তার চেয়ে ছোট কোন বস্তু আর না বড় কিছু। সবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ আছে।

لِّیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ

(কিয়ামত আসবে) এজন্য যে, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। এরূপ লোকদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং মর্যাদাপূর্ণ রিযক।

وَالَّذِیۡنَ سَعَوۡ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیۡنَ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مِّنۡ رِّجۡزٍ اَلِیۡمٌ

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের জন্য আছে মুসিবতের যন্ত্রণাময় শাস্তি।

وَیَرَی الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ہُوَ الۡحَقَّ ۙ وَیَہۡدِیۡۤ اِلٰی صِرَاطِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَمِیۡدِ

(হে নবী!) যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তারা ভালো করেই বোঝে তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা সত্য এবং তা সেই সত্তার পথ দেখায় যিনি ক্ষমতারও মালিক, সমস্ত প্রশংসারও উপযুক্ত।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ہَلۡ نَدُلُّکُمۡ عَلٰی رَجُلٍ یُّنَبِّئُکُمۡ اِذَا مُزِّقۡتُمۡ کُلَّ مُمَزَّقٍ ۙ  اِنَّکُمۡ لَفِیۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۚ

কাফেরগণ (একে অন্যকে) বলে, আমরা কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যক্তির কথা জানাব, যে তোমাদেরকে সংবাদ দেয় যে, তোমরা (মৃত্যুর পর) যখন ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে, তারপরও তোমরা এক নতুন জীবন লাভ করবে?

اَفۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَمۡ بِہٖ جِنَّۃٌ ؕ بَلِ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ فِی الۡعَذَابِ وَالضَّلٰلِ الۡبَعِیۡدِ

(কে জানে) সে কি আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করছে না কি সে বিকারগ্রস্ত? না, বরং যারা আখেরাতে বিশ্বাস রাখে না তারা আযাব ও ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে।

اَفَلَمۡ یَرَوۡا اِلٰی مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  اِنۡ نَّشَاۡ نَخۡسِفۡ بِہِمُ الۡاَرۡضَ اَوۡ نُسۡقِطۡ عَلَیۡہِمۡ کِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّکُلِّ عَبۡدٍ مُّنِیۡبٍ ٪

তবে কি তারা আসমান ও যমীনের প্রতি লক্ষ করেনি, যা তাদের সামনেও বিদ্যমান আছে এবং পিছনেও? আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে ভূমিতে ধসিয়ে দেব অথবা তাদের উপর আকাশের কিছু খণ্ড ফেলে দেব। বস্তুত এর মধ্যে নিদর্শন আছে প্রত্যেক এমন বান্দার জন্য, যে আল্লাহর দিকে রুজু হয়।

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا دَاوٗدَ مِنَّا فَضۡلًا ؕ  یٰجِبَالُ اَوِّبِیۡ مَعَہٗ وَالطَّیۡرَ ۚ  وَاَلَنَّا لَہُ الۡحَدِیۡدَ ۙ

নিশ্চয়ই আমি দাঊদকে বিশেষভাবে আমার নিকট থেকে অনুগ্রহ দান করেছিলাম। হে পাহাড়-পর্বত! তোমরাও দাঊদের সঙ্গে আমার তাসবীহ পড় এবং হে পাখিরা তোমরাও। আর আমি তার জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম।

اَنِ اعۡمَلۡ سٰبِغٰتٍ وَّقَدِّرۡ فِی السَّرۡدِ وَاعۡمَلُوۡا صَالِحًا ؕ اِنِّیۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ

যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরি কর এবং কড়াসমূহ জোড়ার ক্ষেত্রে পরিমাপ রক্ষা কর। তোমরা সকলে সৎকর্ম কর। তোমরা যা-কিছুই কর আমি তার দ্রষ্টা।

وَلِسُلَیۡمٰنَ الرِّیۡحَ غُدُوُّہَا شَہۡرٌ وَّرَوَاحُہَا شَہۡرٌ ۚ وَاَسَلۡنَا لَہٗ عَیۡنَ الۡقِطۡرِ ؕ وَمِنَ الۡجِنِّ مَنۡ یَّعۡمَلُ بَیۡنَ یَدَیۡہِ بِاِذۡنِ رَبِّہٖ ؕ وَمَنۡ یَّزِغۡ مِنۡہُمۡ عَنۡ اَمۡرِنَا نُذِقۡہُ مِنۡ عَذَابِ السَّعِیۡرِ

আমি বায়ুকে সুলায়মানের আজ্ঞাধীন করে দিয়েছিলাম। তার ভোরের সফর হত এক মাসের দূরত্বে এবং সন্ধ্যার সফরও হত এক মাসের দূরত্বে। আর আমি তার জন্য গলিত তামার এক প্রস্রবণ প্রবাহিত করেছিলাম। কতক জিন ছিল, যারা তার প্রতিপালকের নির্দেশে তার সামনে কাজ করত। (আমি তাদের কাছে একথা পরিষ্কার করে দিয়েছিলাম যে,) তাদের মধ্যে যে-কেউ আমার আদেশ অমান্য করে বাঁকা পথ অবলম্বন করবে আমি তাকে জ্বলন্ত আগুনের স্বাদ গ্রহণ করাব।

یَعۡمَلُوۡنَ لَہٗ مَا یَشَآءُ مِنۡ مَّحَارِیۡبَ وَتَمَاثِیۡلَ وَجِفَانٍ کَالۡجَوَابِ وَقُدُوۡرٍ رّٰسِیٰتٍ ؕ اِعۡمَلُوۡۤا اٰلَ دَاوٗدَ شُکۡرًا ؕ وَقَلِیۡلٌ مِّنۡ عِبَادِیَ الشَّکُوۡرُ

সুলায়মান যা চাইত, তারা তার জন্য তা বানিয়ে দিত উঁচু উঁচু ইমারত, ছবি, হাউজের মত বড় বড় পাত্র এবং ভূমিতে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ। হে দাঊদের খান্দান! তোমরা (ইবাদত-আনুগত্যের) কাজ কর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনার্থে। আমার বান্দাদের মধ্যে শোকরগুজার লোক অল্পই।

فَلَمَّا قَضَیۡنَا عَلَیۡہِ الۡمَوۡتَ مَا دَلَّہُمۡ عَلٰی مَوۡتِہٖۤ اِلَّا دَآبَّۃُ الۡاَرۡضِ تَاۡکُلُ مِنۡسَاَتَہٗ ۚ  فَلَمَّا خَرَّ تَبَیَّنَتِ الۡجِنُّ اَنۡ لَّوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ الۡغَیۡبَ مَا لَبِثُوۡا فِی الۡعَذَابِ الۡمُہِیۡنِ ؕ

অতঃপর আমি যখন সুলায়মানের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিলাম তখন জিনদেরকে তার মৃত্যু বিষয়ে জানাল কেবল মাটির পোকা, যারা তার লাঠি খাচ্ছিল। সুতরাং যখন সে পড়ে গেল তখন জিনরা বুঝতে পারল, তারা যদি গায়েবের জ্ঞান রাখত তবে এই লাঞ্ছনাকর কষ্টে পড়ে থাকত না।

لَقَدۡ کَانَ لِسَبَاٍ فِیۡ مَسۡکَنِہِمۡ اٰیَۃٌ ۚ جَنَّتٰنِ عَنۡ یَّمِیۡنٍ وَّشِمَالٍ ۬ؕ کُلُوۡا مِنۡ رِّزۡقِ رَبِّکُمۡ وَاشۡکُرُوۡا لَہٗ ؕ بَلۡدَۃٌ طَیِّبَۃٌ وَّرَبٌّ غَفُوۡرٌ

নিশ্চয়ই সাবা সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল এক নিদর্শন। ডান ও বাম উভয় দিকে ছিল বাগানের সারি। নিজ প্রতিপালকের দেওয়া রিযক খাও এবং তাঁর শোকর আদায় কর। একদিকে তো উৎকৃষ্ট নগর, অন্যদিকে ক্ষমাশীল প্রতিপালক!

فَاَعۡرَضُوۡا فَاَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ سَیۡلَ الۡعَرِمِ وَبَدَّلۡنٰہُمۡ بِجَنَّتَیۡہِمۡ جَنَّتَیۡنِ ذَوَاتَیۡ اُکُلٍ خَمۡطٍ وَّاَثۡلٍ وَّشَیۡءٍ مِّنۡ سِدۡرٍ قَلِیۡلٍ

তা সত্ত্বেও তারা (হেদায়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিল। ফলে আমি তাদের উপর বাঁধভাঙ্গা বন্যা ছেড়ে দিলাম এবং তাদের দু’পাশের বাগান দু’টিকে এমন দু’টি বাগান দ্বারা পরিবর্তিত করে দিলাম, যা ছিল বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও সামান্য কিছু কুল গাছ সম্বলিত।

ذٰلِکَ جَزَیۡنٰہُمۡ بِمَا کَفَرُوۡا ؕ وَہَلۡ نُجٰزِیۡۤ اِلَّا الۡکَفُوۡرَ

আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম এ কারণে যে, তারা অকৃতজ্ঞতায় লিপ্ত হয়েছিল। আর আমি তো শাস্তি দেই কেবল ঘোর অকৃতজ্ঞদেরকেই।

وَجَعَلۡنَا بَیۡنَہُمۡ وَبَیۡنَ الۡقُرَی الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا قُرًی ظَاہِرَۃً وَّقَدَّرۡنَا فِیۡہَا السَّیۡرَ ؕ سِیۡرُوۡا فِیۡہَا لَیَالِیَ وَاَیَّامًا اٰمِنِیۡنَ

আমি তাদের এবং যে সকল জনপদে বরকত দান করেছিলাম, তাদের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপিত করেছিলাম, (দূর থেকে) দৃশ্যমান বহু জনপদ এবং তার মধ্যে ভ্রমণকে মাপাজোখা বিভিন্ন ধাপে বণ্টন করে দিয়েছিলাম (এবং বলেছিলাম) এসব জনপদে দিনে ও রাতে নিরাপদে ভ্রমণ কর।

فَقَالُوۡا رَبَّنَا بٰعِدۡ بَیۡنَ اَسۡفَارِنَا وَظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَجَعَلۡنٰہُمۡ اَحَادِیۡثَ وَمَزَّقۡنٰہُمۡ کُلَّ مُمَزَّقٍ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ

তারা বলতে লাগল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সফরের (মনজিলসমূহের) মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে দাও। আর এভাবে তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করল, যার পরিণামে আমি তাদেরকে কাহিনীর বিষয়বস্তু বানিয়ে দিলাম এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন-ভিন্ন করে বিক্ষিপ্ত করে ফেললাম। নিশ্চয়ই এ ঘটনার মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্যশীল, শোকরগুজার লোকের জন্য বহু নিদর্শন আছে।

وَلَقَدۡ صَدَّقَ عَلَیۡہِمۡ اِبۡلِیۡسُ ظَنَّہٗ فَاتَّبَعُوۡہُ اِلَّا فَرِیۡقًا مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

বস্তুত ইবলিস তাদের সম্পর্কে নিজ ধারণাকে সঠিক পেল। সুতরাং তারা তার অনুগামী হল, কেবল মুমিনদের একটি দল ছাড়া।

وَمَا کَانَ لَہٗ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍ اِلَّا لِنَعۡلَمَ مَنۡ یُّؤۡمِنُ بِالۡاٰخِرَۃِ مِمَّنۡ ہُوَ مِنۡہَا فِیۡ شَکٍّ ؕ  وَرَبُّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ حَفِیۡظٌ ٪

তাঁদের উপর ইবলিসের কোন আধিপত্য ছিল না। তবে (মানুষকে বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা আমি তাকে এজন্য দিয়েছিলাম যে,) আমি দেখতে চাচ্ছিলাম কে আখেরাতের প্রতি ঈমান আনে আর কে সে সম্বন্ধে থাকে সন্দেহে পতিত। তোমার প্রতিপালক সকল বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক।

قُلِ ادۡعُوا الَّذِیۡنَ زَعَمۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ۚ لَا یَمۡلِکُوۡنَ مِثۡقَالَ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ وَمَا لَہُمۡ فِیۡہِمَا مِنۡ شِرۡکٍ وَّمَا لَہٗ مِنۡہُمۡ مِّنۡ ظَہِیۡرٍ

(হে রাসূল! ওই কাফেরদেরকে) বলে দাও, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য মনে করতে তাদেরকে ডাক। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে তারা অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয় এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে (কোনও বিষয়ে আল্লাহর সাথে) তাদের কোন অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্যে কেউ তাঁর সাহায্যকারীও নয়।

وَلَا تَنۡفَعُ الشَّفَاعَۃُ عِنۡدَہٗۤ اِلَّا لِمَنۡ اَذِنَ لَہٗ ؕ حَتّٰۤی اِذَا فُزِّعَ عَنۡ قُلُوۡبِہِمۡ قَالُوۡا مَاذَا ۙ قَالَ رَبُّکُمۡ ؕ قَالُوا الۡحَقَّ ۚ وَہُوَ الۡعَلِیُّ الۡکَبِیۡرُ

যার জন্য তিনি (সুপারিশের) অনুমতি দেন, তার ছাড়া (অন্য কারও) কোন সুপারিশ আল্লাহর সামনে কাজে আসবে না। পরিশেষে যখন তাদের অন্তর থেকে ভয় দূর করে দেওয়া হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? তারা উত্তর দেয়, সত্য (কথা বলেছেন) এবং তিনিই সমুচ্চ, মহান।

قُلۡ مَنۡ یَّرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ قُلِ اللّٰہُ ۙ وَاِنَّاۤ اَوۡ اِیَّاکُمۡ لَعَلٰی ہُدًی اَوۡ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ

বল, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে তোমাদেরকে রিযক দান করে? বল, তিনি আল্লাহ! এবং আমরা অথবা তোমরা হয়ত হেদায়াতের উপর আছি অথবা স্পষ্ট গোমরাহীতে।

قُلۡ لَّا تُسۡـَٔلُوۡنَ عَمَّاۤ اَجۡرَمۡنَا وَلَا نُسۡـَٔلُ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ

বল, আমরা যে অপরাধ করেছি সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না এবং তোমরা যা করছ সে সম্পর্কেও আমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।

قُلۡ یَجۡمَعُ بَیۡنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ یَفۡتَحُ بَیۡنَنَا بِالۡحَقِّ ؕ وَہُوَ الۡفَتَّاحُ الۡعَلِیۡمُ

বল, আমাদের প্রতিপালক আমাদের সকলকে একত্র করবেন তারপর আমাদের মধ্যে ন্যায্য ফায়সালা করবেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী, সর্বজ্ঞ।

قُلۡ اَرُوۡنِیَ الَّذِیۡنَ اَلۡحَقۡتُمۡ بِہٖ شُرَکَآءَ کَلَّا ؕ بَلۡ ہُوَ اللّٰہُ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ

বল, আমাকে দেখাও, তারা কারা, যাদেরকে তোমরা শরীক বানিয়ে আল্লাহর সাথে জুড়ে দিয়েছ? কক্ষণও নয়, (তাঁর কোন শরীক নেই); বরং তিনিই আল্লাহ, যিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا کَآفَّۃً لِّلنَّاسِ بَشِیۡرًا وَّنَذِیۡرًا وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

এবং (হে নবী!) আমি তোমাকে সমস্ত মানুষের জন্য একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বুঝছে না।

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

এবং তারা (তোমাকে) বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে (বল কিয়ামতের) এ প্রতিশ্রুতি কবে পূরণ হবে?

قُلۡ لَّکُمۡ مِّیۡعَادُ یَوۡمٍ لَّا تَسۡتَاۡخِرُوۡنَ عَنۡہُ سَاعَۃً وَّلَا تَسۡتَقۡدِمُوۡنَ ٪

বলে দাও, তোমাদের জন্য এমন এক দিনের মেয়াদ নির্দিষ্ট আছে, যা থেকে তোমরা এক মুহূর্ত পিছাতে পারবে না এবং সামনেও যেতে পারবে না।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَنۡ نُّؤۡمِنَ بِہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ وَلَا بِالَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ ؕ وَلَوۡ تَرٰۤی اِذِ الظّٰلِمُوۡنَ مَوۡقُوۡفُوۡنَ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ۚۖ یَرۡجِعُ بَعۡضُہُمۡ اِلٰی بَعۡضِۣ الۡقَوۡلَ ۚ یَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا لَوۡلَاۤ اَنۡتُمۡ لَکُنَّا مُؤۡمِنِیۡنَ

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা বলে, আমরা কখনও এ কুরআনের প্রতি ঈমান আনব না এবং এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতিও নয়। তুমি যদি সেই সময়ের দৃশ্য দেখতে যখন জালেমদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে আর তারা একে অন্যের কথা রদ করবে। (দুনিয়ায়) যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল তারা ক্ষমতা-দর্পীদেরকে বলবে, তোমরা না হলে আমরা অবশ্যই মুমিন হয়ে যেতাম।

قَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡۤا اَنَحۡنُ صَدَدۡنٰکُمۡ عَنِ الۡہُدٰی بَعۡدَ اِذۡ جَآءَکُمۡ بَلۡ کُنۡتُمۡ مُّجۡرِمِیۡنَ

যারা ক্ষমতাদর্পী ছিল তারা, যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকে বলবে, হেদায়াত তোমাদের কাছে এসে যাওয়ার পর আমরাই কি তোমাদেরকে তা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি? প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেরাই অপরাধী ছিলে।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا بَلۡ مَکۡرُ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ اِذۡ تَاۡمُرُوۡنَنَاۤ اَنۡ نَّکۡفُرَ بِاللّٰہِ وَنَجۡعَلَ لَہٗۤ اَنۡدَادًا ؕ وَاَسَرُّوا النَّدَامَۃَ لَمَّا رَاَوُا الۡعَذَابَ ؕ وَجَعَلۡنَا الۡاَغۡلٰلَ فِیۡۤ اَعۡنَاقِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ ہَلۡ یُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছিল তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবে, না, বরং এটা তো তোমাদের দিবা-রাত্রের চক্রান্তই ছিল (যা আমাদেরকে হেদায়াত থেকে ফিরিয়ে রেখেছিল), যখন তোমরা আমাদেরকে আদেশ করছিলে আমরা যেন আল্লাহর কুফরী করি এবং তাঁর সাথে (অন্যদেরকে) শরীক সাব্যস্ত করি। তারা যখন আযাব দেখবে তখন তারা অনুতাপ গোপন করবে এবং যারা কুফরী অবলম্বন করেছিল আমি তাদের সকলের গলায় বেড়ি পরাব। তাদেরকে তো কেবল তাদের কৃতকর্মেরই প্রতিদান দেওয়া হবে।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِیۡ قَرۡیَۃٍ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ اِلَّا قَالَ مُتۡرَفُوۡہَاۤ ۙ اِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ

আমি যে জনপদেই কোন সতর্ককারী (নবী) পাঠিয়েছি, তার বিত্তশালী লোকেরা বলেছে, তোমরা যে বার্তাসহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।

وَقَالُوۡا نَحۡنُ اَکۡثَرُ اَمۡوَالًا وَّاَوۡلَادًا ۙ وَّمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِیۡنَ

আরও বলেছে, আমরা ধনে-জনে তোমাদের চেয়ে বেশি আর আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার নই।

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٪

বলে দাও, আমার প্রতিপালক যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) সংকীর্ণ করে দেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক একথা বোঝে না।

وَمَاۤ اَمۡوَالُکُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ بِالَّتِیۡ تُقَرِّبُکُمۡ عِنۡدَنَا زُلۡفٰۤی اِلَّا مَنۡ اٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ۫ فَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ جَزَآءُ الضِّعۡفِ بِمَا عَمِلُوۡا وَہُمۡ فِی الۡغُرُفٰتِ اٰمِنُوۡنَ

তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এমন কিছু নয়, যা তোমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য দান করবে। কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, এরূপ ব্যক্তিবর্গ তাদের কর্মের দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করবে এবং তারা (জান্নাতের) প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে।

وَالَّذِیۡنَ یَسۡعَوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیۡنَ اُولٰٓئِکَ فِی الۡعَذَابِ مُحۡضَرُوۡنَ

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদেরকে শাস্তিতে গ্রেফতার করা হবে।

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ وَیَقۡدِرُ لَہٗ ؕ وَمَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَہُوَ یُخۡلِفُہٗ ۚ وَہُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ

বল, আমার প্রতিপালক নিজ বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযকের প্রাচুর্য দান করেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) তা সংকীর্ণ করে দেন। তোমরা যা-কিছুই ব্যয় কর, তিনি তদস্থলে অন্য জিনিস দিয়ে দেন। তিনি শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ یَقُوۡلُ لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اَہٰۤؤُلَآءِ اِیَّاکُمۡ کَانُوۡا یَعۡبُدُوۡنَ

সেই দিন (-কে ভুলে যেও না), যখন আল্লাহ সকলকে একত্র করবেন তারপর ফেরেশতাদেরকে বলবেন, সত্যিই কি এরা তোমাদের ইবাদত করত?

قَالُوۡا سُبۡحٰنَکَ اَنۡتَ وَلِیُّنَا مِنۡ دُوۡنِہِمۡ ۚ بَلۡ کَانُوۡا یَعۡبُدُوۡنَ الۡجِنَّ ۚ اَکۡثَرُہُمۡ بِہِمۡ مُّؤۡمِنُوۡنَ

তারা বলবে, আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি। আমাদের সম্পর্ক আপনার সাথে; তাদের সাথে নয়। প্রকৃতপক্ষে তারা জিনদের ইবাদত করত। তাদের অধিকাংশ তাদেরই প্রতি বিশ্বাসী ছিল।

فَالۡیَوۡمَ لَا یَمۡلِکُ بَعۡضُکُمۡ لِبَعۡضٍ نَّفۡعًا وَّلَا ضَرًّا ؕ وَنَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ذُوۡقُوۡا عَذَابَ النَّارِ الَّتِیۡ کُنۡتُمۡ بِہَا تُکَذِّبُوۡنَ

সুতরাং আজ তোমরা পরস্পরে একে অন্যের কোন উপকার করতে পারবে না এবং অপকারও নয়। আর যারা জুলুমে লিপ্ত হয়েছিল, তাদেরকে বলব, তোমরা আস্বাদন কর আগুনের শাস্তি, যা তোমরা অবিশ্বাস করতে।

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالُوۡا مَا ہٰذَاۤ اِلَّا رَجُلٌ یُّرِیۡدُ اَنۡ یَّصُدَّکُمۡ عَمَّا کَانَ یَعۡبُدُ اٰبَآؤُکُمۡ ۚ وَقَالُوۡا مَا ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفۡکٌ مُّفۡتَرًی ؕ وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ ۙ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ

তাদেরকে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হয়, তখন তারা (আমার রাসূল সম্পর্কে) বলে, এই ব্যক্তি আর কিছুই নয়, কেবল এটাই চায় যে, সে তোমাদেরকে তোমাদের সেই মাবুদদের থেকে ফিরিয়ে দেবে, যাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদা পূজা করে আসছে এবং তারা বলে, এ কুরআন এক মনগড়া মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যখন কাফেরদের কাছে সত্যের বাণী এসে গেল, তখন তারা সে সম্পর্কে বলল, এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া কিছুই নয়।

وَمَاۤ اٰتَیۡنٰہُمۡ مِّنۡ کُتُبٍ یَّدۡرُسُوۡنَہَا وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہِمۡ قَبۡلَکَ مِنۡ نَّذِیۡرٍ ؕ

অথচ আমি তাদেরকে (এর আগে) এমন কোন কিতাব দেইনি, যার পঠন-পাঠন তারা করে এবং (হে নবী!) তোমার আগে আমি তাদের কাছে কোন সতর্ককারী (নবী) পাঠাইনি।

وَکَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۙ  وَمَا بَلَغُوۡا مِعۡشَارَ مَاۤ اٰتَیۡنٰہُمۡ فَکَذَّبُوۡا رُسُلِیۡ ۟  فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ ٪

তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও (নবীদেরকে) অস্বীকার করেছিল। তাদেরকে আমি যা (অর্থ-সম্পদ) দিয়েছিলাম এরা (অর্থাৎ আরবের মুশরিকগণ) তার এক-দশমাংশেও পৌঁছতে পারেনি। তা সত্ত্বেও তারা আমার রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল। সুতরাং (তুমি দেখে নাও) আমার প্রদত্ত শাস্তি কেমন (কঠোর) ছিল।

قُلۡ اِنَّمَاۤ اَعِظُکُمۡ بِوَاحِدَۃٍ ۚ اَنۡ تَقُوۡمُوۡا لِلّٰہِ مَثۡنٰی وَفُرَادٰی ثُمَّ تَتَفَکَّرُوۡا ۟ مَا بِصَاحِبِکُمۡ مِّنۡ جِنَّۃٍ ؕ اِنۡ ہُوَ اِلَّا نَذِیۡرٌ لَّکُمۡ بَیۡنَ یَدَیۡ عَذَابٍ شَدِیۡدٍ

(হে রাসূল!) তাদেরকে বল, আমি তোমাদেরকে কেবল একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি। তা এই যে, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু-দু’জন অথবা এক-একজন করে দাঁড়িয়ে যাও, তারপর চিন্তা কর (তা করলে অবিলম্বেই বুঝে এসে যাবে যে,) তোমাদের এ সাথীর (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) মধ্যে কোন বিকারগ্রস্ততা নেই। সে তো সুকঠিন এক শাস্তির আগে তোমাদের জন্য এক সতর্ককারী মাত্র।

قُلۡ مَا سَاَلۡتُکُمۡ مِّنۡ اَجۡرٍ فَہُوَ لَکُمۡ ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ

বল, আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাইলে তা তোমাদেরই থাকুক। আমার পারিশ্রমিক তো কেবল আল্লাহরই কাছে। তিনি সমস্ত কিছুর দ্রষ্টা।

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَقۡذِفُ بِالۡحَقِّ ۚ عَلَّامُ الۡغُیُوۡبِ

বলে দাও, আমার প্রতিপালক উপর থেকে সত্য পাঠাচ্ছেন। তিনি গায়েবের যাবতীয় বিষয় ভালোভাবে জানেন।

قُلۡ جَآءَ الۡحَقُّ وَمَا یُبۡدِئُ الۡبَاطِلُ وَمَا یُعِیۡدُ

বলে দাও, সত্য এসে গেছে আর মিথ্যা না পারে কিছু শুরু করতে, না পুনরাবৃত্তি করতে।

قُلۡ اِنۡ ضَلَلۡتُ فَاِنَّمَاۤ اَضِلُّ عَلٰی نَفۡسِیۡ ۚ وَاِنِ اہۡتَدَیۡتُ فَبِمَا یُوۡحِیۡۤ اِلَیَّ رَبِّیۡ ؕ اِنَّہٗ سَمِیۡعٌ قَرِیۡبٌ

বলে দাও, আমি যদি বিপথগামী হয়ে থাকি, তবে আমার বিপথগামিতার ক্ষতি আমাকেই ভোগ করতে হবে আর আমি যদি সরল পথ পেয়ে থাকি, তবে এটা সেই ওহীরই বদৌলতে, যা আমার প্রতিপালক আমার প্রতি অবতীর্ণ করছেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর শ্রোতা, সকলের নিকটবর্তী।

وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ فَزِعُوۡا فَلَا فَوۡتَ وَاُخِذُوۡا مِنۡ مَّکَانٍ قَرِیۡبٍ ۙ

(হে নবী!) তুমি যদি সেই দৃশ্য দেখতে, যখন তারা ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে এবং পালিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা থাকবে না আর তাদেরকে নিকট থেকেই পাকড়াও করা হবে।

وَّقَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِہٖ ۚ  وَاَنّٰی لَہُمُ التَّنَاوُشُ مِنۡ مَّکَانٍۭ بَعِیۡدٍ ۚۖ

এবং (তখন তারা) বলবে, আমরা তার প্রতি ঈমান আনলাম। কিন্তু এতটা দূরবর্তী স্থান থেকে তারা কোন জিনিসের নাগাল পাবে কী করে?

وَّقَدۡ کَفَرُوۡا بِہٖ مِنۡ قَبۡلُ ۚ وَیَقۡذِفُوۡنَ بِالۡغَیۡبِ مِنۡ مَّکَانٍۭ بَعِیۡدٍ

তারা তো পূর্বে তাকে অস্বীকার করেছিল এবং অনেক দূরবর্তী স্থান থেকে অদৃশ্য বিষয়ে অনুমানে ঢিল ছুঁড়ত।

وَحِیۡلَ بَیۡنَہُمۡ وَبَیۡنَ مَا یَشۡتَہُوۡنَ کَمَا فُعِلَ بِاَشۡیَاعِہِمۡ مِّنۡ قَبۡلُ ؕ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا فِیۡ شَکٍّ مُّرِیۡبٍ ٪

তখন তারা যার (অর্থাৎ যে ঈমানের) আকাঙ্ক্ষা করবে তার ও তাদের মধ্যে অন্তরাল করে দেওয়া হবে, যেমন করা হয়েছিল তাদের পূর্বে তাদের অনুরূপ লোকদের সাথে। প্রকৃতপক্ষে তারা এক বিভ্রান্তকর সন্দেহে পতিত ছিল।