فاطر
ফাতির
আয়াত ৪৫ · মক্কী · পারা ২২
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ جَاعِلِ الۡمَلٰٓئِکَۃِ رُسُلًا اُولِیۡۤ اَجۡنِحَۃٍ مَّثۡنٰی وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ ؕ یَزِیۡدُ فِی الۡخَلۡقِ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহীরূপে নিযুক্ত করেছেন, যারা দু’-দুটি, তিন-তিনটি ও চার-চারটি পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা-ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
مَا یَفۡتَحِ اللّٰہُ لِلنَّاسِ مِنۡ رَّحۡمَۃٍ فَلَا مُمۡسِکَ لَہَا ۚ وَمَا یُمۡسِکۡ ۙ فَلَا مُرۡسِلَ لَہٗ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ
আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত খুলে দেন, তা রোধ করার কেউ নেই, আর যা তিনি রুদ্ধ করেন, এমন কেউ নেই যে তারপর তা উন্মুক্ত করতে পারে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ؕ ہَلۡ مِنۡ خَالِقٍ غَیۡرُ اللّٰہِ یَرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۫ۖ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ
হে মানুষ! আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে নি‘আমত বর্ষণ করেছেন তা স্মরণ কর। আল্লাহ ছাড়া আর কোন খালেক আছে কি, যে আসমান ও যমীন থেকে তোমাদেরকে রিযক দান করে? তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তোমরা বিপথগামী হয়ে কোন দিকে যাচ্ছ?
وَاِنۡ یُّکَذِّبُوۡکَ فَقَدۡ کُذِّبَتۡ رُسُلٌ مِّنۡ قَبۡلِکَ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ
এবং (হে রাসূল!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তোমার পূর্বেও রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। যাবতীয় বিষয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّکُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا ٝ وَلَا یَغُرَّنَّکُمۡ بِاللّٰہِ الۡغَرُوۡرُ
হে মানুষ! নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং এই পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে এবং আল্লাহর সম্পর্কেও যেন মহা ধোঁকাবাজ (শয়তান) তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে।
اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لَکُمۡ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوۡہُ عَدُوًّا ؕ اِنَّمَا یَدۡعُوۡا حِزۡبَہٗ لِیَکُوۡنُوۡا مِنۡ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ؕ
নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। সুতরাং তাকে শত্রুই গণ্য করো। সে তার অনুসারীদেরকে দাওয়াত দেয় কেবল এ জন্যই, যাতে তারা জাহান্নামবাসী হয়ে যায়।
اَلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ۬ؕ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ کَبِیۡرٌ ٪
যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য আছে মাগফিরাত ও মহা পুরস্কার।
اَفَمَنۡ زُیِّنَ لَہٗ سُوۡٓءُ عَمَلِہٖ فَرَاٰہُ حَسَنًا ؕ فَاِنَّ اللّٰہَ یُضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ۫ۖ فَلَا تَذۡہَبۡ نَفۡسُکَ عَلَیۡہِمۡ حَسَرٰتٍ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِمَا یَصۡنَعُوۡنَ
তবে কি যার দৃষ্টিতে তার মন্দ কাজগুলো সুদৃশ্য করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে তার মন্দ কাজকে ভালো মনে করে, (সে কি সৎকর্মশীল ব্যক্তির সমান হতে পারে?)। বস্তুত আল্লাহ যাকে চান বিপথগামী করেন আর যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। সুতরাং (হে নবী!) এমন যেন না হয় যে, তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) জন্য আফসোস করতে করতে তোমার প্রাণটাই চলে যায়। নিশ্চয়ই তারা যা-কিছু করছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণ জ্ঞাত।
وَاللّٰہُ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ الرِّیٰحَ فَتُثِیۡرُ سَحَابًا فَسُقۡنٰہُ اِلٰی بَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَحۡیَیۡنَا بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ کَذٰلِکَ النُّشُوۡرُ
আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, তারপর তা মেঘ সঞ্চারিত করে, তারপর আমি তা চালিয়ে নিয়ে যাই এমন নগরের দিকে, যা (খরার কারণে) নির্জীব হয়ে গেছে। তারপর আমি তা (অর্থাৎ বৃষ্টি) দ্বারা ভূমিকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করি। এভাবেই পুনরুত্থান হবে।
مَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ الۡعِزَّۃَ فَلِلّٰہِ الۡعِزَّۃُ جَمِیۡعًا ؕ اِلَیۡہِ یَصۡعَدُ الۡکَلِمُ الطَّیِّبُ وَالۡعَمَلُ الصَّالِحُ یَرۡفَعُہٗ ؕ وَالَّذِیۡنَ یَمۡکُرُوۡنَ السَّیِّاٰتِ لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ؕ وَمَکۡرُ اُولٰٓئِکَ ہُوَ یَبُوۡرُ
যে ব্যক্তি মর্যাদা লাভ করতে চায় (সে জেনে রাখুক) সমস্ত মর্যাদা আল্লাহরই হাতে। পবিত্র কালেমা তাঁরই দিকে আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উপরে তোলে। যারা মন্দ কাজের ষড়যন্ত্র করে, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি আর তাদের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাবে।
وَاللّٰہُ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ جَعَلَکُمۡ اَزۡوَاجًا ؕ وَمَا تَحۡمِلُ مِنۡ اُنۡثٰی وَلَا تَضَعُ اِلَّا بِعِلۡمِہٖ ؕ وَمَا یُعَمَّرُ مِنۡ مُّعَمَّرٍ وَّلَا یُنۡقَصُ مِنۡ عُمُرِہٖۤ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ ؕ اِنَّ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ
আল্লাহ তোমাদেরকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন তারপর শুক্রবিন্দু দ্বারা। তারপর তোমাদেরকে জোড়া-জোড়া বানিয়ে দিয়েছেন। নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং যা সে প্রসব করে তা আল্লাহর জ্ঞাতসারেই করে। কোন দীর্ঘায়ু ব্যক্তিকে যে আয়ু দেওয়া হয় এবং তার আয়ুতে যা হ্রাস করা হয়, তা সবই এক কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। বস্তুত এসব কিছুই আল্লাহর পক্ষে অতি সহজ।
وَمَا یَسۡتَوِی الۡبَحۡرٰنِ ٭ۖ ہٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ سَآئِغٌ شَرَابُہٗ وَہٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ؕ وَمِنۡ کُلٍّ تَاۡکُلُوۡنَ لَحۡمًا طَرِیًّا وَّتَسۡتَخۡرِجُوۡنَ حِلۡیَۃً تَلۡبَسُوۡنَہَا ۚ وَتَرَی الۡفُلۡکَ فِیۡہِ مَوَاخِرَ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ
দু’টি দরিয়া সমান নয়। একটি মিঠা, তৃষ্ণা নিবারক, সুপেয় আর অন্যটি অতি লোনা। প্রত্যেকটি থেকেই তোমরা খাও (মাছের) তাজা গোশত ও আহরণ কর অলংকার, যা তোমরা পরিধান কর। আর তোমরা জলযানসমূহকে দেখ তা (দরিয়ার) পানি চিরে চলাচল করে, যাতে তোমরা অনুসন্ধান করতে পার আল্লাহর অনুগ্রহ এবং যাতে তোমরা শোকর আদায় কর।
یُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَیُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ ۙ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ۫ۖ کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ وَالَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ مَا یَمۡلِکُوۡنَ مِنۡ قِطۡمِیۡرٍ ؕ
তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট করান এবং দিনকে প্রবিষ্ট করান রাতের মধ্যে। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। (এর) প্রত্যেকটি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। ইনিই আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক। সকল রাজত্ব তাঁরই। তাঁকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যেসব অলীক প্রভুকে) তোমরা ডাক, তারা খেজুর বীচির আবরণের সমানও কিছুর অধিকার রাখে না।
اِنۡ تَدۡعُوۡہُمۡ لَا یَسۡمَعُوۡا دُعَآءَکُمۡ ۚ وَلَوۡ سَمِعُوۡا مَا اسۡتَجَابُوۡا لَکُمۡ ؕ وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یَکۡفُرُوۡنَ بِشِرۡکِکُمۡ ؕ وَلَا یُنَبِّئُکَ مِثۡلُ خَبِیۡرٍ ٪
তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবেই না আর শুনলেও তোমাদেরকে কোন সাড়া দিতে পারবে না। কিয়ামতের দিন তারা নিজেরাই তোমাদের শিরককে অস্বীকার করবে। যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে অবগত সত্তার মত সঠিক সংবাদ তোমাকে আর কেউ দিতে পারবে না।
یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اَنۡتُمُ الۡفُقَرَآءُ اِلَی اللّٰہِ ۚ وَاللّٰہُ ہُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ
হে মানুষ! তোমরা সকলেই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, কিন্তু আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি আপনিই প্রশংসার উপযুক্ত।
اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ وَیَاۡتِ بِخَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۚ
তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং অস্তিত্বে আনয়ন করতে পারেন এক নতুন সৃষ্টিকে।
وَمَا ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ بِعَزِیۡزٍ
আর এ কাজ আল্লাহর জন্য কিছুমাত্র কঠিন নয়।
وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ وَاِنۡ تَدۡعُ مُثۡقَلَۃٌ اِلٰی حِمۡلِہَا لَا یُحۡمَلۡ مِنۡہُ شَیۡءٌ وَّلَوۡ کَانَ ذَا قُرۡبٰی ؕ اِنَّمَا تُنۡذِرُ الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَیۡبِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ ؕ وَمَنۡ تَزَکّٰی فَاِنَّمَا یَتَزَکّٰی لِنَفۡسِہٖ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ
কোন ভার বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং যার উপর ভারী বোঝা চাপানো থাকবে সে অন্য কাউকে তা বহন করার জন্য ডাকলে, তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না যদিও সে (অর্থাৎ যাকে বোঝা বহনের জন্য ডাকা হবে সে) কোন নিকটাত্নীয় হয়। (হে নবী!) তুমি তো কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পার, যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখে ভয় করে এবং যারা নামায কায়েম করে। কেউ পবিত্র হলে সে তো নিজেরই কল্যাণার্থে পবিত্র হয়। শেষ পর্যন্তআল্লাহরই কাছে (সকলের) প্রত্যাবর্তন।
وَمَا یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ۙ
অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান হতে পারে না
وَلَا الظُّلُمٰتُ وَلَا النُّوۡرُ ۙ
এবং অন্ধকার ও আলোও না।
وَلَا الظِّلُّ وَلَا الۡحَرُوۡرُ ۚ
আর না ছায়া ও রোদ।
وَمَا یَسۡتَوِی الۡاَحۡیَآءُ وَلَا الۡاَمۡوَاتُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُسۡمِعُ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَمَاۤ اَنۡتَ بِمُسۡمِعٍ مَّنۡ فِی الۡقُبُوۡرِ
এবং সমান হতে পারে না জীবিত ও মৃত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কথা শুনিয়ে দেন। যারা কবরে আছে, তুমি তাদেরকে কথা শোনাতে পারবে না।
اِنۡ اَنۡتَ اِلَّا نَذِیۡرٌ
তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র।
اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ بِالۡحَقِّ بَشِیۡرًا وَّنَذِیۡرًا ؕ وَاِنۡ مِّنۡ اُمَّۃٍ اِلَّا خَلَا فِیۡہَا نَذِیۡرٌ
আমি তোমাকে সত্যবাণীসহ প্রেরণ করেছি একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন জাতি নেই, যাদের কাছে কোন সতর্ককারী আসেনি।
وَاِنۡ یُّکَذِّبُوۡکَ فَقَدۡ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۚ جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ وَبِالزُّبُرِ وَبِالۡکِتٰبِ الۡمُنِیۡرِ
তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যাবাদী বলে, তবে তাদের আগে যারা ছিল, তারাও (অর্থাৎ সেই কাফেরগণও রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী, সহীফা ও দীপ্তিমান কিতাবসহ।
ثُمَّ اَخَذۡتُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ ٪
অতঃপর যারা অস্বীকৃতির পন্থা অবলম্বন করেছিল আমি তাদেরকে পাকড়াও করি। সুতরাং দেখ আমার শাস্তি কেমন (ভয়ানক) ছিল।
اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَخۡرَجۡنَا بِہٖ ثَمَرٰتٍ مُّخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہَا ؕ وَمِنَ الۡجِبَالِ جُدَدٌۢ بِیۡضٌ وَّحُمۡرٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہَا وَغَرَابِیۡبُ سُوۡدٌ
তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেছেন, তারপর আমি তা দ্বারা বিচিত্র বর্ণের ফল-ফলাদি উৎপন্ন করেছি? আর পাহাড়ের মধ্যেও আছে বিচিত্র বর্ণের অংশ সাদা, লাল ও নিকষ কালো।
وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَآبِّ وَالۡاَنۡعَامِ مُخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ کَذٰلِکَ ؕ اِنَّمَا یَخۡشَی اللّٰہَ مِنۡ عِبَادِہِ الۡعُلَمٰٓؤُا ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ غَفُوۡرٌ
এবং মানুষ, পশু ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও আছে অনুরূপ বর্ণ-বৈচিত্র্য। আল্লাহকে তো কেবল তারাই ভয় করে, যারা জ্ঞানের অধিকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি ক্ষমাশীল।
اِنَّ الَّذِیۡنَ یَتۡلُوۡنَ کِتٰبَ اللّٰہِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاَنۡفَقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً یَّرۡجُوۡنَ تِجَارَۃً لَّنۡ تَبُوۡرَ ۙ
যারা আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (সৎকাজে) ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে, তারা এমন ব্যবসায়ের আশাবাদী, যাতে কখনও লোকসান হয় না,
لِیُوَفِّیَہُمۡ اُجُوۡرَہُمۡ وَیَزِیۡدَہُمۡ مِّنۡ فَضۡلِہٖ ؕ اِنَّہٗ غَفُوۡرٌ شَکُوۡرٌ
যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।
وَالَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ مِنَ الۡکِتٰبِ ہُوَ الۡحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِعِبَادِہٖ لَخَبِیۡرٌۢ بَصِیۡرٌ
(হে নবী!) আমি ওহীর মাধ্যমে তোমার প্রতি যে কিতাব নাযিল করেছি তা সত্য, যা তার পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাবের সমর্থকরূপে এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ নিজ বান্দাদের সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত, সবকিছুর দ্রষ্টা।
ثُمَّ اَوۡرَثۡنَا الۡکِتٰبَ الَّذِیۡنَ اصۡطَفَیۡنَا مِنۡ عِبَادِنَا ۚ فَمِنۡہُمۡ ظَالِمٌ لِّنَفۡسِہٖ ۚ وَمِنۡہُمۡ مُّقۡتَصِدٌ ۚ وَمِنۡہُمۡ سَابِقٌۢ بِالۡخَیۡرٰتِ بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَضۡلُ الۡکَبِیۡرُ ؕ
অতঃপর আমি এ কিতাবের ওয়ারিশ বানিয়েছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তাদের মধ্যে কতক তো নিজের প্রতি অত্যাচারী, কতক মধ্যপন্থী এবং কতক এমন যারা আল্লাহর ইচ্ছায় সৎকর্মে অগ্রগামী। এটা (আল্লাহর) বিরাট অনুগ্রহ।
جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا یُحَلَّوۡنَ فِیۡہَا مِنۡ اَسَاوِرَ مِنۡ ذَہَبٍ وَّلُؤۡلُؤًا ۚ وَلِبَاسُہُمۡ فِیۡہَا حَرِیۡرٌ
স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে। সেখানে তাদেরকে সোনার বালা ও মোতির দ্বারা অলংকৃত করা হবে আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশম।
وَقَالُوا الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡۤ اَذۡہَبَ عَنَّا الۡحَزَنَ ؕ اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوۡرٌ شَکُوۡرُۨ ۙ
তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে সমস্ত দুঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।
الَّذِیۡۤ اَحَلَّنَا دَارَ الۡمُقَامَۃِ مِنۡ فَضۡلِہٖ ۚ لَا یَمَسُّنَا فِیۡہَا نَصَبٌ وَّلَا یَمَسُّنَا فِیۡہَا لُغُوۡبٌ
যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী অবস্থানের নিবাসে এনে দাখিল করেছেন, যেখানে আমাদেরকে কখনও কোনও কষ্ট স্পর্শ করবে না এবং কোন ক্লান্তিও আমাদের দেখা দেবে না।
وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ نَارُ جَہَنَّمَ ۚ لَا یُقۡضٰی عَلَیۡہِمۡ فَیَمُوۡتُوۡا وَلَا یُخَفَّفُ عَنۡہُمۡ مِّنۡ عَذَابِہَا ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِیۡ کُلَّ کَفُوۡرٍ ۚ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। সেখানে তাদের কর্ম সাবাড় করা হবে না যে, তাদের মৃত্যু ঘটবে এবং তাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তিও লাঘব করা হবে না। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ (কাফের)কে আমি এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।
وَہُمۡ یَصۡطَرِخُوۡنَ فِیۡہَا ۚ رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا نَعۡمَلۡ صَالِحًا غَیۡرَ الَّذِیۡ کُنَّا نَعۡمَلُ ؕ اَوَلَمۡ نُعَمِّرۡکُمۡ مَّا یَتَذَکَّرُ فِیۡہِ مَنۡ تَذَکَّرَ وَجَآءَکُمُ النَّذِیۡرُ ؕ فَذُوۡقُوۡا فَمَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ نَّصِیۡرٍ ٪
তারা তাতে আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে মুক্তি দান করুন, আমরা আগে যে কাজ করতাম তা ছেড়ে ভালো কাজ করব। (উত্তরে তাদেরকে বলা হবে) আমি কি তোমাদেরকে এমন দীর্ঘ আয়ু দেইনি যে, তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারত? এবং তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। সুতরাং এখন মজা ভোগ কর। কেননা এমন জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।
اِنَّ اللّٰہَ عٰلِمُ غَیۡبِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ
নিশ্চয়ই আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বিষয়ে জ্ঞাত। নিশ্চয়ই অন্তরে লুকায়িত বিষয়াবলী সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল।
ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَکُمۡ خَلٰٓئِفَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ فَمَنۡ کَفَرَ فَعَلَیۡہِ کُفۡرُہٗ ؕ وَلَا یَزِیۡدُ الۡکٰفِرِیۡنَ کُفۡرُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ اِلَّا مَقۡتًا ۚ وَلَا یَزِیۡدُ الۡکٰفِرِیۡنَ کُفۡرُہُمۡ اِلَّا خَسَارًا
তিনিই পৃথিবীতে তোমাদেরকে (পূর্ববর্তীদের) স্থলাভিষিক্ত করেছেন। যে ব্যক্তি কুফর করবে তার কুফর তারই উপর পতিত হবে। কাফেরদের জন্য তাদের কুফরী তাদের প্রতিপালকের ক্রোধ ছাড়া কিছু বৃদ্ধি করে না এবং কাফেরদের জন্য তাদের কুফরী ক্ষতি ছাড়া কিছু বৃদ্ধি করে না।
قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ شُرَکَآءَکُمُ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ اَرُوۡنِیۡ مَاذَا خَلَقُوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ اَمۡ لَہُمۡ شِرۡکٌ فِی السَّمٰوٰتِ ۚ اَمۡ اٰتَیۡنٰہُمۡ کِتٰبًا فَہُمۡ عَلٰی بَیِّنَتٍ مِّنۡہُ ۚ بَلۡ اِنۡ یَّعِدُ الظّٰلِمُوۡنَ بَعۡضُہُمۡ بَعۡضًا اِلَّا غُرُوۡرًا
(হে নবী!) তাদেরকে বল, আচ্ছা তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যেই মনগড়া শরীকদের পূজা করছ তাদের বিষয়টা ভেবে দেখেছ কি? আমাকে একটু দেখাও তো তারা পৃথিবীর কোন অংশটা তৈরি করেছে? কিংবা আকাশমণ্ডলীতে (অর্থাৎ তার সৃজনে) তাদের কী অংশীদারিত্ব আছে? নাকি আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি, যার সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনার উপর তারা প্রতিষ্ঠিত আছে? না, বরং এসব জালেম একে অন্যকে কেবল মিথ্যা প্রতিশ্রুতিই দিয়ে থাকে।
اِنَّ اللّٰہَ یُمۡسِکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ اَنۡ تَزُوۡلَا ۬ۚ وَلَئِنۡ زَالَتَاۤ اِنۡ اَمۡسَکَہُمَا مِنۡ اَحَدٍ مِّنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ اِنَّہٗ کَانَ حَلِیۡمًا غَفُوۡرًا
বস্তুত আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত হতে না পারে। যদি তারা স্থানচ্যুত হয়, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তাদের ধরে রাখতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।
وَاَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ لَئِنۡ جَآءَہُمۡ نَذِیۡرٌ لَّیَکُوۡنُنَّ اَہۡدٰی مِنۡ اِحۡدَی الۡاُمَمِ ۚ فَلَمَّا جَآءَہُمۡ نَذِیۡرٌ مَّا زَادَہُمۡ اِلَّا نُفُوۡرَۨا ۙ
(পূর্বে) তারা অত্যন্ত জোরালো শপথ করেছিল যে, যদি তাদের কাছে কোন সতর্ককারী (নবী) আসে তবে তারা অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা অধিকতর হেদায়াত গ্রহীতা হবে, কিন্তু যখন তাদের কাছে এক সতর্ককারী আসল, তখন তার আগমন তাদের সত্য-বিমুখতাই বৃদ্ধি করল
اسۡتِکۡـبَارًا فِی الۡاَرۡضِ وَمَکۡرَ السَّیِّیَٴ ؕ وَلَا یَحِیۡقُ الۡمَکۡرُ السَّیِّیٴُ اِلَّا بِاَہۡلِہٖ ؕ فَہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا سُنَّتَ الۡاَوَّلِیۡنَ ۚ فَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللّٰہِ تَبۡدِیۡلًا ۬ۚ وَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللّٰہِ تَحۡوِیۡلًا
পৃথিবীতে তাদের আত্মগর্ব এবং (সত্যের বিরোধিতায় তাদের) কূট চক্রান্তের কারণে, অথচ কূট-চক্রান্ত খোদ তার উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে নেয়। তবে কি তারা পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে যা কার্যকর হয়েছিল সেই নিয়মেরই অপেক্ষা করছে? কিন্তু তোমরা আল্লাহর স্থিরীকৃত নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না এবং তোমরা আল্লাহর স্থিরীকৃত নিয়মকে কখনও টলতেও দেখবে না।
اَوَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ وَکَانُوۡۤا اَشَدَّ مِنۡہُمۡ قُوَّۃً ؕ وَمَا کَانَ اللّٰہُ لِیُعۡجِزَہٗ مِنۡ شَیۡءٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ عَلِیۡمًا قَدِیۡرًا
তারা কি পৃথিবীতে কখনও সফর করেনি, তাহলে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের পরিণাম কী হয়েছিল, যদিও তারা এদের অপেক্ষা বেশি শক্তিমান ছিল? আল্লাহ এমন নন যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কোন বস্তু তাকে ব্যর্থ করতে পারে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
وَلَوۡ یُؤَاخِذُ اللّٰہُ النَّاسَ بِمَا کَسَبُوۡا مَا تَرَکَ عَلٰی ظَہۡرِہَا مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّلٰکِنۡ یُّؤَخِّرُہُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُہُمۡ فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِعِبَادِہٖ بَصِیۡرًا ٪
আল্লাহ মানুষকে তাদের প্রতিটি কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতে শুরু করলে ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কাউকে ছাড়তেন না। বস্তুত তিনি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছেন। যখন তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ এসে যাবে তখন আল্লাহ স্বয়ং তাঁর বান্দাদের দেখে নিবেন।