الزخرف

الزخرف

আয-যুখরুফ

আয়াত ৮৯ · মক্কী · পারা ২৫

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

حٰمٓ ۚۛ

হা-মীম।

وَالۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ۙۛ

শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।

اِنَّا جَعَلۡنٰہُ قُرۡءٰنًا عَرَبِیًّا لَّعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ۚ

আমি একে বানিয়েছি আরবী কুরআন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।

وَاِنَّہٗ فِیۡۤ اُمِّ الۡکِتٰبِ لَدَیۡنَا لَعَلِیٌّ حَکِیۡمٌ ؕ

প্রকৃতপক্ষে এটা আমার নিকট মূল গ্রন্থে (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে) উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, হেকমত- পূর্ণ কিতাব।

اَفَنَضۡرِبُ عَنۡکُمُ الذِّکۡرَ صَفۡحًا اَنۡ کُنۡتُمۡ قَوۡمًا مُّسۡرِفِیۡنَ

আমি কি বিমুখ হয়ে তোমাদের থেকে এ কিতাব প্রত্যাহার করে নেব এ কারণে যে, তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?

وَکَمۡ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ نَّبِیٍّ فِی الۡاَوَّلِیۡنَ

আমি তো পূর্ববর্তীদের মাঝেও কত নবী পাঠিয়েছি!

وَمَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ نَّبِیٍّ اِلَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ

তাদের কাছে এমন কোন নবী আসেনি, যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত না।

فَاَہۡلَکۡنَاۤ اَشَدَّ مِنۡہُمۡ بَطۡشًا وَّمَضٰی مَثَلُ الۡاَوَّلِیۡنَ

অতঃপর যারা এদের (অর্থাৎ মক্কাবাসীদের) অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী ছিল। তাদেরকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। আর সেই পূর্ববর্তীদের অবস্থা তো গত হয়েছে।

وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ لَیَقُوۡلُنَّ خَلَقَہُنَّ الۡعَزِیۡزُ الۡعَلِیۡمُ ۙ

তুমি যদি তাদেরকে (মুশরিকদেরকে) জিজ্ঞেস কর, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে, তবে তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন সেই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ (আল্লাহ)।

الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ مَہۡدًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ فِیۡہَا سُبُلًا لَّعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ ۚ

যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বানিয়েছেন বিছানা এবং তোমাদের জন্য তাতে বিভিন্ন পথ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।

وَالَّذِیۡ نَزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ ۚ فَاَنۡشَرۡنَا بِہٖ بَلۡدَۃً مَّیۡتًا ۚ کَذٰلِکَ تُخۡرَجُوۡنَ

যিনি আসমান থেকে বারি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে। তারপর আমি তার মাধ্যমে এক মৃত অঞ্চলকে নতুন জীবন দান করি। এভাবেই তোমাদেরকে (কবর থেকে) বের করে নতুন জীবন দান) করা হবে।

وَالَّذِیۡ خَلَقَ الۡاَزۡوَاجَ کُلَّہَا وَجَعَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡفُلۡکِ وَالۡاَنۡعَامِ مَا تَرۡکَبُوۡنَ ۙ

এবং যিনি সর্বপ্রকার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহন করে থাক।

لِتَسۡتَوٗا عَلٰی ظُہُوۡرِہٖ ثُمَّ تَذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ رَبِّکُمۡ اِذَا اسۡتَوَیۡتُمۡ عَلَیۡہِ وَتَقُوۡلُوۡا سُبۡحٰنَ الَّذِیۡ سَخَّرَ لَنَا ہٰذَا وَمَا کُنَّا لَہٗ مُقۡرِنِیۡنَ ۙ

যাতে তোমরা তার পিঠে চড়তে পার, তারপর যখন তোমরা তাতে চড়ে বস, তখন তোমাদের প্রতিপালকের নি‘আমত স্মরণ কর এবং বল, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না।

وَاِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنۡقَلِبُوۡنَ

নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে।

وَجَعَلُوۡا لَہٗ مِنۡ عِبَادِہٖ جُزۡءًا ؕ  اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَکَفُوۡرٌ مُّبِیۡنٌ ؕ٪

এবং তারা (অর্থাৎ মুশরিকগণ) তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ (অর্থাৎ সন্তান) স্থির করে নিয়েছে। নিশ্চয়ই মানুষ প্রকাশ্য অকৃতজ্ঞ।

اَمِ اتَّخَذَ مِمَّا یَخۡلُقُ بَنٰتٍ وَّاَصۡفٰکُمۡ بِالۡبَنِیۡنَ

তবে কি আল্লাহ আপন মাখলুকের মধ্য হতে নিজের জন্য কন্যা বেছে নিয়েছেন আর তোমাদের জন্য পছন্দ করেছেন পুত্র?

وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُہُمۡ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحۡمٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجۡہُہٗ مُسۡوَدًّا وَّہُوَ کَظِیۡمٌ

অথচ তাদের কাউকে যখন তার (অর্থাৎ কন্যা জন্মের) সুসংবাদ দেওয়া হয়, যাকে তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে রেখেছে, তখন তার চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং সে মনে মনে তাপিত হতে থাকে।

اَوَمَنۡ یُّنَشَّؤُا فِی الۡحِلۡیَۃِ وَہُوَ فِی الۡخِصَامِ غَیۡرُ مُبِیۡنٍ

তাছাড়া (আল্লাহ কি এমন সন্তান পছন্দ করেছেন) যে অলংকারের ভেতর লালিত-পালিত হয় এবং যে তর্ক-বিতর্কে নিজের কথা খুলে বলতে পারে না?

وَجَعَلُوا الۡمَلٰٓئِکَۃَ الَّذِیۡنَ ہُمۡ عِبٰدُ الرَّحۡمٰنِ اِنَاثًا ؕ اَشَہِدُوۡا خَلۡقَہُمۡ ؕ سَتُکۡتَبُ شَہَادَتُہُمۡ وَیُسۡـَٔلُوۡنَ

অধিকন্তু তারা ফেরেশতাদেরকে, যারা কিনা আল্লাহর বান্দা, নারী গণ্য করেছে। তবে কি তাদের সৃজনকালে তারা উপস্থিত ছিল? তাদের এ দাবি লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

وَقَالُوۡا لَوۡ شَآءَ الرَّحۡمٰنُ مَا عَبَدۡنٰہُمۡ ؕ  مَا لَہُمۡ بِذٰلِکَ مِنۡ عِلۡمٍ ٭  اِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَخۡرُصُوۡنَ ؕ

এবং তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ চাইলে আমরা তাদের (ফেরেশতাদের) ইবাদত করতাম না। তাদের এ সম্পর্কে কোন জ্ঞানই নেই। তাদের কাজ কেবল অনুমানে ঢিল ছোঁড়া।

اَمۡ اٰتَیۡنٰہُمۡ کِتٰبًا مِّنۡ قَبۡلِہٖ فَہُمۡ بِہٖ مُسۡتَمۡسِکُوۡنَ

আমি কি এর আগে তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছিলাম, যা তারা আঁকড়ে ধরে আছে?

بَلۡ قَالُوۡۤا اِنَّا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّۃٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ

না, বরং তারা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে একটা মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি। আমরা তাদের পদছাপ ধরে সঠিক পথেই চলছি।

وَکَذٰلِکَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ فِیۡ قَرۡیَۃٍ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ اِلَّا قَالَ مُتۡرَفُوۡہَاۤ ۙ اِنَّا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّۃٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ مُّقۡتَدُوۡنَ

এবং (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে যখনই কোন জনপদে কোন সতর্ককারী (রাসূল) পাঠিয়েছি, তখন সেখানকার বিত্তবানেরা একথাই বলেছে যে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে একটা মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি। আমরা তাদেরই পদছাপ অনুসরণ করে চলছি।

قٰلَ اَوَلَوۡ جِئۡتُکُمۡ بِاَہۡدٰی مِمَّا وَجَدۡتُّمۡ عَلَیۡہِ اٰبَآءَکُمۡ ؕ قَالُوۡۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ

নবী বলল, তোমরা তোমাদের বাপ- দাদাদেরকে যে মতাদর্শের উপর পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট হেদায়াতের বাণী নিয়ে আসি (তবুও কি তোমরা সেই মতাদর্শই অনুসরণ করবে)? তারা উত্তর দিল, তোমাদেরকে যে বাণীসহ পাঠানো হয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করি।

فَانۡتَقَمۡنَا مِنۡہُمۡ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ٪

ফলে আমি তাদেরকে শাস্তি দান করলাম। সুতরাং দেখে নাও, অবিশ্বাসীদের পরিণাম কেমন হয়েছে?

وَاِذۡ قَالَ اِبۡرٰہِیۡمُ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖۤ اِنَّنِیۡ بَرَآءٌ مِّمَّا تَعۡبُدُوۡنَ ۙ

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা যাদের ইবাদত কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই,

اِلَّا الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ فَاِنَّہٗ سَیَہۡدِیۡنِ

সেই সত্তা ব্যতিরেকে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে পথ দেখান।

وَجَعَلَہَا کَلِمَۃًۢ بَاقِیَۃً فِیۡ عَقِبِہٖ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ

ইবরাহীম এ বিশ্বাসকে এমনই এক বাণী বানিয়ে দিল, যা তার আওলাদের মধ্যে স্থায়ী হয়ে থাকল, যাতে মানুষ (শিরক থেকে) ফিরে আসে।

بَلۡ مَتَّعۡتُ ہٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَہُمۡ حَتّٰی جَآءَہُمُ الۡحَقُّ وَرَسُوۡلٌ مُّبِیۡنٌ

(তা সত্ত্বেও বহু লোক ফিরে আসল না) তথাপি আমি তাদেরকে ও তাদের বাপ-দাদাদেরকে জীবন ভোগ করতে দেই। পরিশেষে তাদের কাছে আসল সত্য এবং সুস্পষ্ট হেদায়াত দানকারী রাসূল।

وَلَمَّا جَآءَہُمُ الۡحَقُّ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ وَّاِنَّا بِہٖ کٰفِرُوۡنَ

যখন সে সত্য তাদের কাছে আসল, তখন তারা বলল, এটা তো যাদু। আমরা এটা অস্বীকার করি।

وَقَالُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنُ عَلٰی رَجُلٍ مِّنَ الۡقَرۡیَتَیۡنِ عَظِیۡمٍ

এবং বলল, এ কুরআন দুই জনপদের কোন বড় ব্যক্তির উপর নাযিল করা হল না কেন?

اَہُمۡ یَقۡسِمُوۡنَ رَحۡمَتَ رَبِّکَ ؕ نَحۡنُ قَسَمۡنَا بَیۡنَہُمۡ مَّعِیۡشَتَہُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَرَفَعۡنَا بَعۡضَہُمۡ فَوۡقَ بَعۡضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَتَّخِذَ بَعۡضُہُمۡ بَعۡضًا سُخۡرِیًّا ؕ وَرَحۡمَتُ رَبِّکَ خَیۡرٌ مِّمَّا یَجۡمَعُوۡنَ

তবে কি তারাই তোমার প্রতিপালকের রহমত বণ্টন করবে? পার্থিব জীবনে তাদের জীবিকাও তো আমিই বণ্টন করেছি এবং আমিই তাদের একজনকে অপরজনের উপর মর্যাদায় উন্নত করেছি, যাতে তাদের একে অন্যের দ্বারা কাজ নিতে পারে। তোমার প্রতিপালকের রহমত তো তারা যা (অর্থ-সম্পদ) সঞ্চয় করে, তা অপেক্ষা অনেক শ্রেয়।

وَلَوۡلَاۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ النَّاسُ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً لَّجَعَلۡنَا لِمَنۡ یَّکۡفُرُ بِالرَّحۡمٰنِ لِبُیُوۡتِہِمۡ سُقُفًا مِّنۡ فِضَّۃٍ وَّمَعَارِجَ عَلَیۡہَا یَظۡہَرُوۡنَ ۙ

সমস্ত মানুষ একই মতাবলম্বী (অর্থাৎ কাফের) হয়ে যাবে এই আশঙ্কা না থাকলে, যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে, আমি তাদের ঘরের ছাদও করে দিতাম রুপার এবং তারা যে সিঁড়ি দিয়ে চড়ে তাও।

وَلِبُیُوۡتِہِمۡ اَبۡوَابًا وَّسُرُرًا عَلَیۡہَا یَتَّکِـُٔوۡنَ ۙ

আর তাদের ঘরের দরজাগুলি এবং সেই পালঙ্কগুলিও, যাতে তারা হেলান দিয়ে বসে।

وَزُخۡرُفًا ؕ  وَاِنۡ کُلُّ ذٰلِکَ لَمَّا مَتَاعُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ  وَالۡاٰخِرَۃُ عِنۡدَ رَبِّکَ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ٪

বরং করতেন সোনার তৈরি। প্রকৃতপক্ষে এসব পার্থিব জীবনের সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়। আর তোমার প্রতিপালকের নিকট মুত্তাকীদের জন্য আছে আখেরাত।

وَمَنۡ یَّعۡشُ عَنۡ ذِکۡرِ الرَّحۡمٰنِ نُقَیِّضۡ لَہٗ شَیۡطٰنًا فَہُوَ لَہٗ قَرِیۡنٌ

যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর যিকির থেকে অন্ধ হয়ে যাবে, তার জন্য নিয়োজিত করি এক শয়তান, যে তার সঙ্গী হয়ে যায়।

وَاِنَّہُمۡ لَیَصُدُّوۡنَہُمۡ عَنِ السَّبِیۡلِ وَیَحۡسَبُوۡنَ اَنَّہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ

তারা (অর্থাৎ শয়তানেরা) তাদেরকে সৎপথ থেকে বিরত রাখে আর তারা মনে করে আমরা সঠিক পথেই আছি।

حَتّٰۤی اِذَا جَآءَنَا قَالَ یٰلَیۡتَ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکَ بُعۡدَ الۡمَشۡرِقَیۡنِ فَبِئۡسَ الۡقَرِیۡنُ

পরিশেষে এরূপ ব্যক্তি যখন আমার কাছে আসবে তখন (সে তার সঙ্গী শয়তানকে) বলবে, আহা! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত। কেননা তুমি বড় মন্দ সঙ্গী ছিলে।

وَلَنۡ یَّنۡفَعَکُمُ الۡیَوۡمَ اِذۡ ظَّلَمۡتُمۡ اَنَّکُمۡ فِی الۡعَذَابِ مُشۡتَرِکُوۡنَ

আজ একথা কিছুতেই তোমাদের কোন উপকারে আসবে না, যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করেছিলে। তোমরা শাস্তিতে একে অন্যের অংশীদার।

اَفَاَنۡتَ تُسۡمِعُ الصُّمَّ اَوۡ تَہۡدِی الۡعُمۡیَ وَمَنۡ کَانَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি কি বধিরকে শোনাতে পারবে কিংবা অন্ধ এবং যারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত তাদেরকে সুপথে আনতে পারবে?

فَاِمَّا نَذۡہَبَنَّ بِکَ فَاِنَّا مِنۡہُمۡ مُّنۡتَقِمُوۡنَ ۙ

সুতরাং আমি হয়ত তোমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেব, তারপর তাদেরকে শাস্তিদান করব

اَوۡ نُرِیَنَّکَ الَّذِیۡ وَعَدۡنٰہُمۡ فَاِنَّا عَلَیۡہِمۡ مُّقۡتَدِرُوۡنَ

কিংবা তোমাকেও তা (অর্থাৎ সেই শাস্তি) দেখিয়ে দেব, যার ওয়াদা আমি তাদের সাথে করেছি। তাদের উপর তো আমার (দু’টির যে-কোনটি করার) পূর্ণ ক্ষমতা আছে।

فَاسۡتَمۡسِکۡ بِالَّذِیۡۤ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ ۚ اِنَّکَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ

সুতরাং তোমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখ। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথে আছ।

وَاِنَّہٗ لَذِکۡرٌ لَّکَ وَلِقَوۡمِکَ ۚ وَسَوۡفَ تُسۡـَٔلُوۡنَ

বস্তুত এ ওহী তোমার ও তোমার কওমের জন্য সুখ্যাতির উপায়। তোমাদের সকলকে জিজ্ঞেস করা হবে (তোমরা এর কী হক আদায় করেছ?)।

وَسۡـَٔلۡ مَنۡ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رُّسُلِنَاۤ اَجَعَلۡنَا مِنۡ دُوۡنِ الرَّحۡمٰنِ اٰلِـہَۃً یُّعۡبَدُوۡنَ ٪

তোমার আগে আমি যে রাসূলগণকে পাঠিয়েছি, তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া আরও কোন মাবুদ স্থির করেছিলাম, যাদের ইবাদত করা যায়?

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ فَقَالَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ

আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ ফির‘আউন ও তার অমাত্যবর্গের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে তাদেরকে বলেছিল, আমি রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত রাসূল।

فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِاٰیٰتِنَاۤ اِذَا ہُمۡ مِّنۡہَا یَضۡحَکُوۡنَ

অনন্তর সে যখন তাদের সামনে আমার নিদর্শনসমূহ পেশ করল, অমনি তারা তা নিয়ে ঠাট্টা করতে লাগল।

وَمَا نُرِیۡہِمۡ مِّنۡ اٰیَۃٍ اِلَّا ہِیَ اَکۡبَرُ مِنۡ اُخۡتِہَا ۫ وَاَخَذۡنٰہُمۡ بِالۡعَذَابِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ

আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তা তার আগের নিদর্শন অপেক্ষা বড় হত। আমি তাদেরকে শাস্তিও দিলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।

وَقَالُوۡا یٰۤاَیُّہَ السّٰحِرُ ادۡعُ لَنَا رَبَّکَ بِمَا عَہِدَ عِنۡدَکَ ۚ اِنَّنَا لَمُہۡتَدُوۡنَ

তারা বলতে লাগল, হে যাদুকর! তোমার প্রতিপালক তোমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার অছিলা দিয়ে তাঁর কাছে আমাদের জন্য দুআ কর। নিশ্চয়ই আমরা সুপথে চলে আসব।

فَلَمَّا کَشَفۡنَا عَنۡہُمُ الۡعَذَابَ اِذَا ہُمۡ یَنۡکُثُوۡنَ

অতঃপর আমি যখন তাদের থেকে শাস্তি অপসারিত করতাম, অমনি তারা ওয়াদা ভঙ্গ করত।

وَنَادٰی فِرۡعَوۡنُ فِیۡ قَوۡمِہٖ قَالَ یٰقَوۡمِ اَلَیۡسَ لِیۡ مُلۡکُ مِصۡرَ وَہٰذِہِ الۡاَنۡہٰرُ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِیۡ ۚ  اَفَلَا تُبۡصِرُوۡنَ ؕ

ফির‘আউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করল, হে আমার কওম! মিসরের রাজত্ব কি আমার হাতে নয়? এবং (দেখ) এইসব নদ-নদী আমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না?

اَمۡ اَنَا خَیۡرٌ مِّنۡ ہٰذَا الَّذِیۡ ہُوَ مَہِیۡنٌ ۬ۙ وَّلَا یَکَادُ یُبِیۡنُ

বরং আমিই ওই ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যে অতি হীন এবং পরিষ্কার করে কথা বলাও যার পক্ষে কঠিন।

فَلَوۡلَاۤ اُلۡقِیَ عَلَیۡہِ اَسۡوِرَۃٌ مِّنۡ ذَہَبٍ اَوۡ جَآءَ مَعَہُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ مُقۡتَرِنِیۡنَ

আচ্ছা, (সে যদি নবী হয়, তবে) তাকে কেন সোনার কাঁকন দেওয়া হল না। কিংবা তার সাথে দলবদ্ধভাবে ফেরেশতা আসল না কেন?

فَاسۡتَخَفَّ قَوۡمَہٗ فَاَطَاعُوۡہُ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِیۡنَ

এভাবেই সে নিজ সম্প্রদায়কে বেকুব বানাল এবং তারাও তার কথা মেনে নিল। প্রকৃতপক্ষে তারা সকলে ছিল পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়।

فَلَمَّاۤ اٰسَفُوۡنَا انۡتَقَمۡنَا مِنۡہُمۡ فَاَغۡرَقۡنٰہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ

তারা যখন আমাকে অসন্তুষ্ট করল আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম এবং তাদেরকে করলাম নিমজ্জিত।

فَجَعَلۡنٰہُمۡ سَلَفًا وَّمَثَلًا لِّلۡاٰخِرِیۡنَ ٪

এবং তাদেরকে বানিয়ে দিলাম এক বিগত জাতি এবং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত।

وَلَمَّا ضُرِبَ ابۡنُ مَرۡیَمَ مَثَلًا اِذَا قَوۡمُکَ مِنۡہُ یَصِدُّوۡنَ

যখন (ঈসা) ইবনে মারয়ামের উদাহরণ দেওয়া হল, অমনি তোমার সম্প্রদায় তা নিয়ে হৈ-চৈ শুরু করে দিল।

وَقَالُوۡۤاءَ اٰلِہَتُنَا خَیۡرٌ اَمۡ ہُوَ ؕ مَا ضَرَبُوۡہُ لَکَ اِلَّا جَدَلًا ؕ بَلۡ ہُمۡ قَوۡمٌ خَصِمُوۡنَ

তারা বলল, আমাদের উপাস্যগণ শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা কেবল কূটতর্কের জন্যই এ দৃষ্টান্ত তোমার সামনে পেশ করে। প্রকৃতপক্ষে তারা কলহপ্রিয় লোক।

اِنۡ ہُوَ اِلَّا عَبۡدٌ اَنۡعَمۡنَا عَلَیۡہِ وَجَعَلۡنٰہُ مَثَلًا لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ

সে (অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম) তো আমার এক বান্দাই ছিল, যার প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে বানিয়েছিলাম এক দৃষ্টান্ত।

وَلَوۡ نَشَآءُ لَجَعَلۡنَا مِنۡکُمۡ مَّلٰٓئِکَۃً فِی الۡاَرۡضِ یَخۡلُفُوۡنَ

আমি চাইলে তোমাদের মধ্য হতে ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা পৃথিবীতে একে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকত।

وَاِنَّہٗ لَعِلۡمٌ لِّلسَّاعَۃِ فَلَا تَمۡتَرُنَّ بِہَا وَاتَّبِعُوۡنِ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ

নিশ্চয়ই সে (অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম) কিয়ামতের এক আলামত। সুতরাং তোমরা সে সম্বন্ধে সন্দেহ করো না এবং আমার অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ।

وَلَا یَصُدَّنَّکُمُ الشَّیۡطٰنُ ۚ اِنَّہٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ

শয়তান যেন কিছুতেই তোমাদেরকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে না পারে। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

وَلَمَّا جَآءَ عِیۡسٰی بِالۡبَیِّنٰتِ قَالَ قَدۡ جِئۡتُکُمۡ بِالۡحِکۡمَۃِ وَلِاُبَیِّنَ لَکُمۡ بَعۡضَ الَّذِیۡ تَخۡتَلِفُوۡنَ فِیۡہِ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ

যখন ঈসা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসল, তখন সে (মানুষকে) বলল, আমি তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছি জ্ঞানের কথা এবং এসেছি তোমরা যেসব বিষয়ে মতভেদ কর, তা তোমাদের কাছে পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ رَبِّیۡ وَرَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব্ব এবং তোমাদেরও রব্ব। সুতরাং তাঁরই ইবাদত কর। এটাই সরল পথ।

فَاخۡتَلَفَ الۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَیۡنِہِمۡ ۚ فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡ عَذَابِ یَوۡمٍ اَلِیۡمٍ

তারপরও তাদের মধ্যে কয়েকটি দল মতভেদ সৃষ্টি করল। সুতরাং সে জালেমদের জন্য আছে দুর্ভোগ যন্ত্রণাময় দিবসের শাস্তির।

ہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا السَّاعَۃَ اَنۡ تَاۡتِیَہُمۡ بَغۡتَۃً وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ

তারা কেবল কিয়ামতের অপেক্ষা করছে যা এমন অকস্মাৎ তাদের সামনে এসে যাবে যে, তারা টেরও পাবে না।

اَلۡاَخِلَّآءُ یَوۡمَئِذٍۭ بَعۡضُہُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ اِلَّا الۡمُتَّقِیۡنَ ؕ٪

সে দিন বন্ধুবর্গ একে অন্যের শত্রু হয়ে যাবে। কেবল মুত্তাকীগণ ছাড়া

یٰعِبَادِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡکُمُ الۡیَوۡمَ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ تَحۡزَنُوۡنَ ۚ

(যাদেরকে লক্ষ করে বলা হবে) হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা হবে না দুঃখিতও।

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَکَانُوۡا مُسۡلِمِیۡنَ ۚ

(আমার সেই বান্দাগণ,) যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান এনেছিল এবং ছিল অনুগত!

اُدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ اَنۡتُمۡ وَاَزۡوَاجُکُمۡ تُحۡبَرُوۡنَ

তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর এবং তোমাদের স্ত্রীগণও আনন্দোজ্জ্বল চেহারায়।

یُطَافُ عَلَیۡہِمۡ بِصِحَافٍ مِّنۡ ذَہَبٍ وَّاَکۡوَابٍ ۚ  وَفِیۡہَا مَا تَشۡتَہِیۡہِ الۡاَنۡفُسُ وَتَلَذُّ الۡاَعۡیُنُ ۚ  وَاَنۡتُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ۚ

সোনার পেয়ালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদের সামনে ঘোরাঘুরি করা হবে এবং সে জান্নাতে তাদের জন্য এমন সব কিছুই থাকবে, যার চাহিদা মনে জাগবে এবং যা দ্বারা চোখ প্রীতি লাভ করবে। আর এই জান্নাতে তোমরা সর্বদা থাকবে।

وَتِلۡکَ الۡجَنَّۃُ الَّتِیۡۤ اُوۡرِثۡتُمُوۡہَا بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

এটাই সেই জান্নাত তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের বিনিময়ে।

لَکُمۡ فِیۡہَا فَاکِہَۃٌ کَثِیۡرَۃٌ مِّنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ

এখানে রয়েছে তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত ফল, যা থেকে তোমরা খাবে।

اِنَّ الۡمُجۡرِمِیۡنَ فِیۡ عَذَابِ جَہَنَّمَ خٰلِدُوۡنَ ۚۖ

তবে অপরাধীগণ স্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে।

لَا یُفَتَّرُ عَنۡہُمۡ وَہُمۡ فِیۡہِ مُبۡلِسُوۡنَ ۚ

সে শাস্তি তাদের জন্য লাঘব করা হবে না এবং তারা সেখানে হতাশ হয়ে পড়বে।

وَمَا ظَلَمۡنٰہُمۡ وَلٰکِنۡ کَانُوۡا ہُمُ الظّٰلِمِیۡنَ

আমি তাদের উপর জুলুম করিনি, বরং তারা নিজেরাই ছিল জালেম।

وَنَادَوۡا یٰمٰلِکُ لِیَقۡضِ عَلَیۡنَا رَبُّکَ ؕ قَالَ اِنَّکُمۡ مّٰکِثُوۡنَ

তারা (জাহান্নামের প্রধান ফেরেশতাকে) ডেকে বলবে, হে মালেক! তোমার প্রতিপালক আমাদের জীবন সাঙ্গ করে দিন। সে বলবে, তোমাদেরকে এ অবস্থায়ই থাকতে হবে।

لَقَدۡ جِئۡنٰکُمۡ بِالۡحَقِّ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَکُمۡ لِلۡحَقِّ کٰرِہُوۡنَ

আমি তো তোমাদের কাছে সত্য উপস্থিত করেছিলাম। কিন্তু তোমাদের অধিকাংশেই সত্য অপছন্দ করে।

اَمۡ اَبۡرَمُوۡۤا اَمۡرًا فَاِنَّا مُبۡرِمُوۡنَ ۚ

তবে কি তারা কিছু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে? তাহলে আমিও কিছু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করে ফেলবো।

اَمۡ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّا لَا نَسۡمَعُ سِرَّہُمۡ وَنَجۡوٰىہُمۡ ؕ بَلٰی وَرُسُلُنَا لَدَیۡہِمۡ یَکۡتُبُوۡنَ

তারা কি মনে করেছে আমি তাদের গোপন কথাবার্তা ও তাদের কানাকানি শুনতে পাই না? অবশ্যই পাই? তাছাড়া আমার ফেরেশতাগণ তাদের কাছেই রয়েছে, যারা (সবকিছু) লিপিবদ্ধ করছে।

قُلۡ اِنۡ کَانَ لِلرَّحۡمٰنِ وَلَدٌ ٭ۖ فَاَنَا اَوَّلُ الۡعٰبِدِیۡنَ

(হে রাসূল!) বলে দাও, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমিই সর্বপ্রথম ইবাদতকারী হতাম।

سُبۡحٰنَ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ رَبِّ الۡعَرۡشِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক এবং আরশের মালিক তারা যা-কিছু বলছে তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।

فَذَرۡہُمۡ یَخُوۡضُوۡا وَیَلۡعَبُوۡا حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَہُمُ الَّذِیۡ یُوۡعَدُوۡنَ

সুতরাং (হে রাসূল!) তাদেরকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও, তারা ওই সব কথায় মেতে থাকুক ও হাসি-তামাশা করতে থাকুক, যতক্ষণ না তারা সেই দিনের সম্মুখীন হয়, যে দিনের প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।

وَہُوَ الَّذِیۡ فِی السَّمَآءِ اِلٰہٌ وَّفِی الۡاَرۡضِ اِلٰہٌ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡعَلِیۡمُ

তিনিই (অর্থাৎ আল্লাহই) আসমানেও মাবুদ এবং যমীনেও মাবুদ এবং তিনিই হেকমতের মালিক, জ্ঞানেরও মালিক।

وَتَبٰرَکَ الَّذِیۡ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۚ وَعِنۡدَہٗ عِلۡمُ السَّاعَۃِ ۚ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ

মহিমান্বিত তিনি, যার হাতে আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এ দু’য়ের অন্তর্গত সবকিছুর রাজত্ব। তাঁরই কাছে আছে কিয়ামতের জ্ঞান এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

وَلَا یَمۡلِکُ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہِ الشَّفَاعَۃَ اِلَّا مَنۡ شَہِدَ بِالۡحَقِّ وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ

তারা তাঁকে ছেড়ে যেসব উপাস্যকে ডাকে তাদের সুপারিশ করার কোন এখতিয়ার থাকবে না, তবে যারা জেনেশুনে সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে, তারা ব্যতীত।

وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَہُمۡ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰہُ فَاَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ ۙ

তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে কে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! এতদসত্ত্বেও কে কোথা হতে তাদেরকে উল্টো দিকে চালাচ্ছে?

وَقِیۡلِہٖ یٰرَبِّ اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ قَوۡمٌ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ ۘ

(আল্লাহ রাসূলের) একথা সম্পর্কেও অবগত যে, হে আমার রব্ব! এরা এমন সম্প্রদায়, যারা ঈমান আনবে না।

فَاصۡفَحۡ عَنۡہُمۡ وَقُلۡ سَلٰمٌ ؕ  فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ٪

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে অগ্রাহ্য করো এবং বলে দাও, ‘সালাম’। কেননা অচিরেই তারা সব জানতে পারবে।