الدخان
আদ-দুখান
আয়াত ৫৯ · মক্কী · পারা ২৫
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
حٰمٓ ۚۛ
হা-মীম।
وَالۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ۙۛ
শপথ কিতাবের, যা (সত্যের) সুস্পষ্টকারী।
اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ
আমি এটা নাযিল করেছি এক মুবারক রাতে। (কেননা) আমি মানুষকে সতর্ক করার ছিলাম।
فِیۡہَا یُفۡرَقُ کُلُّ اَمۡرٍ حَکِیۡمٍ ۙ
এ রাতেই প্রতিটি প্রজ্ঞাজনোচিত বিষয় স্থির করা হয়।
اَمۡرًا مِّنۡ عِنۡدِنَا ؕ اِنَّا کُنَّا مُرۡسِلِیۡنَ ۚ
(তাছাড়া) আমার নির্দেশে, আমি (এক) রাসূল পাঠাবার ছিলাম,
رَحۡمَۃً مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ۙ
তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে রহমত স্বরূপ। নিশ্চয় তিনিই সকল কথা শোনেন, সবকিছু জানেন।
رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۘ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّوۡقِنِیۡنَ
যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব্ব যদি বাস্তবিকই তোমরা বিশ্বাসী হও।
لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ؕ رَبُّکُمۡ وَرَبُّ اٰبَآئِکُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ
তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যুও ঘটান। তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং পূর্বে গত তোমাদের বাপ-দাদাদেরও প্রতিপালক।
بَلۡ ہُمۡ فِیۡ شَکٍّ یَّلۡعَبُوۡنَ
(তা সত্ত্বেও কাফেরগণ ঈমান আনে না); বরং তারা সন্দেহে নিপতিত থেকে খেল-তামাশা করছে।
فَارۡتَقِبۡ یَوۡمَ تَاۡتِی السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِیۡنٍ ۙ
সুতরাং সেই দিনের অপেক্ষা কর, যখন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে দেখা দেবে
یَّغۡشَی النَّاسَ ؕ ہٰذَا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
যা মানুষকে আচ্ছন্ন করবে। এটা এক যন্ত্রণাময় শাস্তি।
رَبَّنَا اکۡشِفۡ عَنَّا الۡعَذَابَ اِنَّا مُؤۡمِنُوۡنَ
(তখন তারা বলবে) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে এই শাস্তি অপসারণ করুন। আমরা অবশ্যই ঈমান আনব।
اَنّٰی لَہُمُ الذِّکۡرٰی وَقَدۡ جَآءَہُمۡ رَسُوۡلٌ مُّبِیۡنٌ ۙ
কোথায় তারা উপদেশ গ্রহণ করে? অথচ তাদের কাছে এসেছে এমন রাসূল, যে সত্য স্পষ্ট করে দেয়।
ثُمَّ تَوَلَّوۡا عَنۡہُ وَقَالُوۡا مُعَلَّمٌ مَّجۡنُوۡنٌ ۘ
তারপরও তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখল এবং বলল, একে তো শেখানো হয়েছে, সে তো উন্মাদ।
اِنَّا کَاشِفُوا الۡعَذَابِ قَلِیۡلًا اِنَّکُمۡ عَآئِدُوۡنَ ۘ
আমি কিছু কালের জন্য শাস্তি অপসারণ করছি। এটা নিশ্চিত যে, তোমরা আবার এ অবস্থায়ই ফিরে আসবে।
یَوۡمَ نَبۡطِشُ الۡبَطۡشَۃَ الۡکُبۡرٰی ۚ اِنَّا مُنۡتَقِمُوۡنَ
যে দিন আমি ধরব সর্ববৃহৎ ধরায়, সে দিন আমি অবশ্যই শাস্তি দেব।
وَلَقَدۡ فَتَنَّا قَبۡلَہُمۡ قَوۡمَ فِرۡعَوۡنَ وَجَآءَہُمۡ رَسُوۡلٌ کَرِیۡمٌ ۙ
তাদের আগে ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে আমি পরীক্ষা করেছিলাম এবং তাদের কাছে এসেছিল এক মর্যাদাবান রাসূল।
اَنۡ اَدُّوۡۤا اِلَیَّ عِبَادَ اللّٰہِ ؕ اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ
(সে বলেছিল) আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে সমর্পণ কর। আমি তোমাদের কাছে এক বিশ্বস্ত রাসূল হয়ে এসেছি।
وَّاَنۡ لَّا تَعۡلُوۡا عَلَی اللّٰہِ ۚ اِنِّیۡۤ اٰتِیۡکُمۡ بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ۚ
আরও বলল, আল্লাহর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করো না। আমি তোমাদের সামনে এক স্পষ্ট প্রমাণ পেশ করছি।
وَاِنِّیۡ عُذۡتُ بِرَبِّیۡ وَرَبِّکُمۡ اَنۡ تَرۡجُمُوۡنِ ۫
তোমরা যে আমাকে পাথর মেরে হত্যা করবে, তার থেকে আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের।
وَاِنۡ لَّمۡ تُؤۡمِنُوۡا لِیۡ فَاعۡتَزِلُوۡنِ
তোমরা যদি আমার প্রতি ঈমান না আন, তবে তোমরা আমার থেকে দূরে থাক।
فَدَعَا رَبَّہٗۤ اَنَّ ہٰۤؤُلَآءِ قَوۡمٌ مُّجۡرِمُوۡنَ ؓ
তারপর সে নিজ প্রতিপালককে ডাক দিয়ে বলল, এরা তো এক অপরাধী সম্প্রদায়।
فَاَسۡرِ بِعِبَادِیۡ لَیۡلًا اِنَّکُمۡ مُّتَّبَعُوۡنَ ۙ
(আল্লাহ তাআলা বললেন,) তা হলে তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের ভেতর রওয়ানা হয়ে যাও। অবশ্যই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
وَاتۡرُکِ الۡبَحۡرَ رَہۡوًا ؕ اِنَّہُمۡ جُنۡدٌ مُّغۡرَقُوۡنَ
তুমি সাগরকে স্থির থাকতে দাও। নিশ্চয়ই তারা এমন এক বাহিনী যা নিমজ্জিত হবে।
کَمۡ تَرَکُوۡا مِنۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۙ
তারা পিছনে রেখে গিয়েছিল কত বাগান ও প্রস্রবণ।
وَّزُرُوۡعٍ وَّمَقَامٍ کَرِیۡمٍ ۙ
কত শস্যক্ষেত্র ও সুরৌম্য বসতবাড়ি।
وَّنَعۡمَۃٍ کَانُوۡا فِیۡہَا فٰکِہِیۡنَ ۙ
এবং কত বিলাস সামগ্রী, যার ভেতর তারা আনন্দ-ফুর্তিতে ছিল।
کَذٰلِکَ ۟ وَاَوۡرَثۡنٰہَا قَوۡمًا اٰخَرِیۡنَ
ওই রকমই হল তাদের পরিণাম। আর আমি এসব জিনিসের ওয়ারিশ বানিয়ে দিলাম অপর এক সম্প্রদায়কে।
فَمَا بَکَتۡ عَلَیۡہِمُ السَّمَآءُ وَالۡاَرۡضُ وَمَا کَانُوۡا مُنۡظَرِیۡنَ ٪
অতঃপর তাদের জন্য না আসমান কাঁদল, না যমীন এবং তাদেরকে কিছুমাত্র অবকাশও দেওয়া হল না।
وَلَقَدۡ نَجَّیۡنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ مِنَ الۡعَذَابِ الۡمُہِیۡنِ ۙ
আর বনী ইসরাঈলকে উদ্ধার করলাম লাঞ্ছনাকর শাস্তি হতে।
مِنۡ فِرۡعَوۡنَ ؕ اِنَّہٗ کَانَ عَالِیًا مِّنَ الۡمُسۡرِفِیۡنَ
অর্থাৎ ফির‘আউনের থেকে। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক উদ্ধত ব্যক্তি।
وَلَقَدِ اخۡتَرۡنٰہُمۡ عَلٰی عِلۡمٍ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ ۚ
আমি তাদেরকে জেনেশুনেই বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
وَاٰتَیۡنٰہُمۡ مِّنَ الۡاٰیٰتِ مَا فِیۡہِ بَلٰٓـؤٌا مُّبِیۡنٌ
এবং তাদেরকে দিয়েছিলাম এমন নিদর্শন, যার ভেতর ছিল সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।
اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ لَیَقُوۡلُوۡنَ ۙ
নিশ্চয়ই তারা বলে থাকে
اِنۡ ہِیَ اِلَّا مَوۡتَتُنَا الۡاُوۡلٰی وَمَا نَحۡنُ بِمُنۡشَرِیۡنَ
আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই। এবং আমরা পুনরায় জীবিত হওয়ার নই।
فَاۡتُوۡا بِاٰبَآئِنَاۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের বাপ-দাদাদেরকে তুলে আন।
اَہُمۡ خَیۡرٌ اَمۡ قَوۡمُ تُبَّعٍ ۙ وَّالَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ اَہۡلَکۡنٰہُمۡ ۫ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا مُجۡرِمِیۡنَ
তারা শ্রেষ্ঠ, না তুব্বা’র সম্প্রদায় ও তাদের পূর্ববর্তীগণ? আমি তাদের সকলকে ধ্বংস করে দিয়েছি। (কেননা) তারা অবশ্যই অপরাধী ছিল।
وَمَا خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا لٰعِبِیۡنَ
আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও তার অন্তর্গত বস্তু নিশ্চয় ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
مَا خَلَقۡنٰہُمَاۤ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ
আমি তা সৃষ্টি করেছি যথার্থ উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাদের অধিকাংশেই বোঝে না।
اِنَّ یَوۡمَ الۡفَصۡلِ مِیۡقَاتُہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ
বস্তুত মীমাংসা দিবসই তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত কাল।
یَوۡمَ لَا یُغۡنِیۡ مَوۡلًی عَنۡ مَّوۡلًی شَیۡئًا وَّلَا ہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ ۙ
যে দিন এক মিত্র অপর মিত্রের কিছুমাত্র কাজে আসবে না এবং তাদের কারও কোনও সাহায্য করা হবে না,
اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ اللّٰہُ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
আল্লাহ যার প্রতি রহম করেন, সে ব্যতীত। নিশ্চয়ই তিনি পরিপূর্ণ ক্ষমতার মালিক, পরম দয়ালু।
اِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّوۡمِ ۙ
নিশ্চয়ই যাক্কুম গাছ হবে
طَعَامُ الۡاَثِیۡمِ ۖۛۚ
গুনাহগারদের খাবার
کَالۡمُہۡلِ ۚۛ یَغۡلِیۡ فِی الۡبُطُوۡنِ ۙ
তেলের তলানি-সদৃশ। তা তাদের পেটে উথলাতে থাকবে
کَغَلۡیِ الۡحَمِیۡمِ
গরম পানির উথলানোর মত।
خُذُوۡہُ فَاعۡتِلُوۡہُ اِلٰی سَوَآءِ الۡجَحِیۡمِ ٭ۖ
(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে,) তাকে ধর এবং হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে জাহান্নামের মাঝখানে নিয়ে যাও।
ثُمَّ صُبُّوۡا فَوۡقَ رَاۡسِہٖ مِنۡ عَذَابِ الۡحَمِیۡمِ ؕ
তারপর তার মাথার উপর উত্তপ্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও।
ذُقۡ ۚۙ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡکَرِیۡمُ
(বলা হবে,) স্বাদ গ্রহণ কর। তুই-ই তো সেই মহা ক্ষমতাবান, মহা সম্মানী ব্যক্তি।
اِنَّ ہٰذَا مَا کُنۡتُمۡ بِہٖ تَمۡتَرُوۡنَ
এটাই সেই জিনিস, যে সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করতে।
اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ مَقَامٍ اَمِیۡنٍ ۙ
(অপর দিকে) মুত্তাকীগণ অবশ্যই নিরাপদ স্থানে থাকবে
فِیۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۚۙ
উদ্যানরাজিতে ও প্রস্রবণে!
یَّلۡبَسُوۡنَ مِنۡ سُنۡدُسٍ وَّاِسۡتَبۡرَقٍ مُّتَقٰبِلِیۡنَ ۚۙ
তারা ‘সুন্দুস’ ও ‘ইসতাবরাক’-এর পোশাক পরিহিত অবস্থায় সামনা সামনি বসা থাকবে।
کَذٰلِکَ ۟ وَزَوَّجۡنٰہُمۡ بِحُوۡرٍ عِیۡنٍ ؕ
তাদের সাথে এ রকমই ব্যবহার করা হবে। আমি ডাগর-ডাগর চোখের হুরদের সাথে তাদের বিবাহ দেব।
یَدۡعُوۡنَ فِیۡہَا بِکُلِّ فَاکِہَۃٍ اٰمِنِیۡنَ ۙ
সেখানে তারা অত্যন্ত নিশ্চিন্তে সব রকম ফলের ফরমায়েশ করবে।
لَا یَذُوۡقُوۡنَ فِیۡہَا الۡمَوۡتَ اِلَّا الۡمَوۡتَۃَ الۡاُوۡلٰی ۚ وَوَقٰہُمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ ۙ
(দুনিয়ায়) তাদের যে মৃত্যু প্রথমে এসেছিল, তা ছাড়া সেখানে (অর্থাৎ জান্নাতে) তাদেরকে কোন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে না এবং আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন,
فَضۡلًا مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ
তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে অনুগ্রহ স্বরূপ। (মানুষের জন্য) এটাই মহা সাফল্য।
فَاِنَّمَا یَسَّرۡنٰہُ بِلِسَانِکَ لَعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ
(হে রাসূল!) আমি এ কুরআনকে তোমার মুখে সহজ করে দিয়েছি, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।
فَارۡتَقِبۡ اِنَّہُمۡ مُّرۡتَقِبُوۡنَ ٪
সুতরাং তুমি অপেক্ষা কর, তারাও অপেক্ষায় আছে।