المزمل

المزمل

আল-মুযযাম্মিল

আয়াত ২০ · মক্কী · পারা ২৯

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

یٰۤاَیُّہَا الۡمُزَّمِّلُ ۙ

হে চাদরাবৃত!

قُمِ الَّیۡلَ اِلَّا قَلِیۡلًا ۙ

রাতের কিছু অংশ ছাড়া বাকি রাত (ইবাদতের জন্য) দাঁড়িয়ে যাও,

نِّصۡفَہٗۤ اَوِ انۡقُصۡ مِنۡہُ قَلِیۡلًا ۙ

রাতের অর্ধাংশ বা অর্ধাংশ থেকে কিছু কমাও।

اَوۡ زِدۡ عَلَیۡہِ وَرَتِّلِ الۡقُرۡاٰنَ تَرۡتِیۡلًا ؕ

বা তা থেকে কিছু বাড়িয়ে নাও এবং ধীর-স্থিরভাবে স্পষ্টরূপে কুরআন তেলাওয়াত কর।

اِنَّا سَنُلۡقِیۡ عَلَیۡکَ قَوۡلًا ثَقِیۡلًا

আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করছি এক গুরুভার বাণী।

اِنَّ نَاشِئَۃَ الَّیۡلِ ہِیَ اَشَدُّ وَطۡاً وَّاَقۡوَمُ قِیۡلًا ؕ

অবশ্যই রাত্রিকালের জাগরণ এমন যা কঠিনভাবে প্রবৃত্তি দলন করে এবং যা কথা বলার পক্ষে উত্তম।

اِنَّ لَکَ فِی النَّہَارِ سَبۡحًا طَوِیۡلًا ؕ

দিনের বেলা তো তোমার থাকে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।

وَاذۡکُرِ اسۡمَ رَبِّکَ وَتَبَتَّلۡ اِلَیۡہِ تَبۡتِیۡلًا ؕ

এবং প্রতিপালকের নামের যিকির কর এবং সকলের থেকে পৃথক হয়ে সম্পূর্ণরূপে তাঁরই হয়ে থাক।

رَبُّ الۡمَشۡرِقِ وَالۡمَغۡرِبِ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ فَاتَّخِذۡہُ وَکِیۡلًا

তিনি উদয়াচল ও অস্তাচলের মালিক। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তাকেই কর্মবিধায়করূপে গ্রহণ কর।

وَاصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَاہۡجُرۡہُمۡ ہَجۡرًا جَمِیۡلًا

আর তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) যেসব কথা বলে, তাতে ধৈর্য ধারণ কর এবং তাদেরকে পাশ কাটিয়ে চল উত্তমরূপে।

وَذَرۡنِیۡ وَالۡمُکَذِّبِیۡنَ اُولِی النَّعۡمَۃِ وَمَہِّلۡہُمۡ قَلِیۡلًا

যে বিলাস সামগ্রীর মালিকগণ তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের ব্যাপার আমার উপর ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে কিছু কালের জন্য অবকাশ দাও।

اِنَّ لَدَیۡنَاۤ اَنۡکَالًا وَّجَحِیۡمًا ۙ

নিশ্চয়ই আমার কাছে আছে কঠিন বেড়ি ও প্রজ্বলিত আগুন।

وَّطَعَامًا ذَا غُصَّۃٍ وَّعَذَابًا اَلِیۡمًا ٭

এবং এমন খাদ্য, যা গলায় আটকে যায় এবং যন্ত্রণাময় শাস্তি।

یَوۡمَ تَرۡجُفُ الۡاَرۡضُ وَالۡجِبَالُ وَکَانَتِ الۡجِبَالُ کَثِیۡبًا مَّہِیۡلًا

(এ শাস্তি হবে সেই দিন) যে দিন যখন ভূমি ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং সমস্ত পাহাড় বহমান বালুর স্তূপে পরিণত হবে।

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡکُمۡ رَسُوۡلًا ۬ۙ  شَاہِدًا عَلَیۡکُمۡ کَمَاۤ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ رَسُوۡلًا ؕ

(হে অবিশ্বাসীগণ!) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি এক রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ, যেমন আমি রাসূল পাঠিয়েছিলাম ফির‘আউনের কাছে।

فَعَصٰی فِرۡعَوۡنُ الرَّسُوۡلَ فَاَخَذۡنٰہُ اَخۡذًا وَّبِیۡلًا

কিন্তু ফির‘আউন সেই রাসূলের অবাধ্যতা করেছিল। ফলে আমি তাকে ধরি কঠোর ধরায়।

فَکَیۡفَ تَتَّقُوۡنَ اِنۡ کَفَرۡتُمۡ یَوۡمًا یَّجۡعَلُ الۡوِلۡدَانَ شِیۡبَۨا ٭ۖ

সুতরাং তোমরাও যদি অমান্য কর, তবে সেই দিন থেকে কিভাবে রক্ষা পাবে, যে দিনটি শিশুকে বৃদ্ধে পরিণত করবে

السَّمَآءُ مُنۡفَطِرٌۢ بِہٖ ؕ کَانَ وَعۡدُہٗ مَفۡعُوۡلًا

(এবং) যে দিন আকাশ ফেটে যাবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

اِنَّ ہٰذِہٖ تَذۡکِرَۃٌ ۚ  فَمَنۡ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰی رَبِّہٖ سَبِیۡلًا ٪

এটা এক উপদেশ বাণী। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের দিকে যাওয়ার পথ অবলম্বন করুক।

اِنَّ رَبَّکَ یَعۡلَمُ اَنَّکَ تَقُوۡمُ اَدۡنٰی مِنۡ ثُلُثَیِ الَّیۡلِ وَنِصۡفَہٗ وَثُلُثَہٗ وَطَآئِفَۃٌ مِّنَ الَّذِیۡنَ مَعَکَ ؕ  وَاللّٰہُ یُقَدِّرُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ ؕ  عَلِمَ اَنۡ لَّنۡ تُحۡصُوۡہُ فَتَابَ عَلَیۡکُمۡ فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ ؕ  عَلِمَ اَنۡ سَیَکُوۡنُ مِنۡکُمۡ مَّرۡضٰی ۙ  وَاٰخَرُوۡنَ یَضۡرِبُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ یَبۡتَغُوۡنَ مِنۡ فَضۡلِ اللّٰہِ ۙ  وَاٰخَرُوۡنَ یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۫ۖ  فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنۡہُ ۙ  وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَاَقۡرِضُوا اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا ؕ  وَمَا تُقَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِکُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ تَجِدُوۡہُ عِنۡدَ اللّٰہِ ہُوَ خَیۡرًا وَّاَعۡظَمَ اَجۡرًا ؕ  وَاسۡتَغۡفِرُوا اللّٰہَ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪

(হে রাসূল!) তোমার প্রতিপালক জানেন, তুমি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে, (কখনও) অর্ধ রাতে এবং (কখনও) রাতের এক-তৃতীয়াংশে (তাহাজ্জুদের নামাযের জন্য) জাগরণ কর এবং তোমার সঙ্গীদের মধ্যেও একটি দল (এ রকম করে)। রাত ও দিনের পরিমাণ আল্লাহই নির্ধারণ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর যথাযথ হিসাব রাখতে পারবে না। কাজেই তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং কুরআনের যতটুকু (পড়া তোমাদের জন্য) সহজ হয় ততটুকুই পড়। আল্লাহ জানেন তোমাদের মধ্যে কিছু লোক অসুস্থ হয়ে পড়বে, অপর কিছু লোক এমন থাকবে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানের জন্য পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে এবং কিছু লোক থাকবে এমন, যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ রত থাকবে। সুতরাং তোমরা তা (অর্থাৎ কুরআন) থেকে ততটুকুই পড়, যা সহজ হয় এবং নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর ও আল্লাহকে ঋণ দাও উত্তম ঋণ। তোমরা নিজেদের জন্য উত্তম যাই অগ্রিম পাঠাবে, আল্লাহর কাছে গিয়ে তোমরা তা আরও উৎকৃষ্ট অবস্থায় এবং মহা পুরস্কাররূপে বিদ্যমান পাবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।