المدثر
আল-মুদ্দাস্সির
আয়াত ৫৬ · মক্কী · পারা ২৯
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
یٰۤاَیُّہَا الۡمُدَّثِّرُ ۙ
হে বস্ত্রাবৃত!
قُمۡ فَاَنۡذِرۡ ۪ۙ
ওঠ এবং মানুষকে সতর্ক কর।
وَرَبَّکَ فَکَبِّرۡ ۪ۙ
এবং নিজ প্রতিপালকের তাকবীর বল (মহিমা ঘোষণা কর)।
وَثِیَابَکَ فَطَہِّرۡ ۪ۙ
এবং নিজ কাপড় পবিত্র রাখ
وَالرُّجۡزَ فَاہۡجُرۡ ۪ۙ
এবং অপবিত্রতা হতে দূরে থাক।
وَلَا تَمۡنُنۡ تَسۡتَکۡثِرُ ۪ۙ
এবং অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় অনুগ্রহ করো না,
وَلِرَبِّکَ فَاصۡبِرۡ ؕ
এবং প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সবর অবলম্বন কর
فَاِذَا نُقِرَ فِی النَّاقُوۡرِ ۙ
অতঃপর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে,
فَذٰلِکَ یَوۡمَئِذٍ یَّوۡمٌ عَسِیۡرٌ ۙ
সে দিন হবে অত্যন্ত কঠিন দিন
عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ غَیۡرُ یَسِیۡرٍ
কাফেরদের জন্য তা সহজ হবে না।
ذَرۡنِیۡ وَمَنۡ خَلَقۡتُ وَحِیۡدًا ۙ
সেই ব্যক্তির ব্যাপার আমার উপর ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একক করে।
وَّجَعَلۡتُ لَہٗ مَالًا مَّمۡدُوۡدًا ۙ
আমি তাকে দিয়েছি দূর-দূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ধন-সম্পদ
وَّبَنِیۡنَ شُہُوۡدًا ۙ
এবং সদা হাজির বহু পুত্র।
وَّمَہَّدۡتُّ لَہٗ تَمۡہِیۡدًا ۙ
এবং তার জন্য সকল কিছুর সু-বন্দোবস্ত করে দিয়েছি।
ثُمَّ یَطۡمَعُ اَنۡ اَزِیۡدَ ٭ۙ
তারপরও সে লোভ করে যেন তাকে আরও বেশি দেই।
کَلَّا ؕ اِنَّہٗ کَانَ لِاٰیٰتِنَا عَنِیۡدًا ؕ
কখনও নয়। সে আমার আয়াতসমূহের শত্রু।
سَاُرۡہِقُہٗ صَعُوۡدًا ؕ
অচিরেই আমি তাকে এক কঠিন চড়াইতে চড়াব।
اِنَّہٗ فَکَّرَ وَقَدَّرَ ۙ
(তার অবস্থা তো এই যে), সে চিন্তা-ভাবনা করল এবং (একটি কথা) ঠিক করল।
فَقُتِلَ کَیۡفَ قَدَّرَ ۙ
আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, সে কিভাবে (এমন কথা) ঠিক করল!
ثُمَّ قُتِلَ کَیۡفَ قَدَّرَ ۙ
আবারও আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, সে কিভাবে (এমন কথা) ঠিক করল।
ثُمَّ نَظَرَ ۙ
তারপর সে নজর বুলাল।
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ۙ
তারপর সে ভ্র-কুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল।
ثُمَّ اَدۡبَرَ وَاسۡتَکۡبَرَ ۙ
তারপর সে পিছনে ঘুরল ও অহমিকা দেখাল।
فَقَالَ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ یُّؤۡثَرُ ۙ
তারপর বলতে লাগল, এটা কিছুই নয়, কেবল (যুগ-যুগ ধরে) বর্ণিত হয়ে আসা যাদু।
اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا قَوۡلُ الۡبَشَرِ ؕ
এটা কিছুই নয়, কেবল মানুষেরই কথা!
سَاُصۡلِیۡہِ سَقَرَ
অচিরেই আমি তাকে নিক্ষেপ করব জাহান্নামে।
وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا سَقَرُ ؕ
তুমি কি জান জাহান্নাম কী জিনিস?
لَا تُبۡقِیۡ وَلَا تَذَرُ ۚ
তা কাউকে বাকি রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না।
لَوَّاحَۃٌ لِّلۡبَشَرِ ۚۖ
তা (এমন জিনিস যা) শরীরের চামড়া ঝলসে দেবে।
عَلَیۡہَا تِسۡعَۃَ عَشَرَ ؕ
তাতে ঊনিশ জন (কর্মী) নিযুক্ত থাকবে
وَمَا جَعَلۡنَاۤ اَصۡحٰبَ النَّارِ اِلَّا مَلٰٓئِکَۃً ۪ وَّمَا جَعَلۡنَا عِدَّتَہُمۡ اِلَّا فِتۡنَۃً لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ۙ لِیَسۡتَیۡقِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَیَزۡدَادَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِیۡمَانًا وَّلَا یَرۡتَابَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ وَلِیَقُوۡلَ الَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ وَّالۡکٰفِرُوۡنَ مَاذَاۤ اَرَادَ اللّٰہُ بِہٰذَا مَثَلًا ؕ کَذٰلِکَ یُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَمَا یَعۡلَمُ جُنُوۡدَ رَبِّکَ اِلَّا ہُوَ ؕ وَمَا ہِیَ اِلَّا ذِکۡرٰی لِلۡبَشَرِ ٪
আমি জাহান্নামের এ কর্মী অন্য কাউকে নয়, কেবল ফেরেশতাদেরকেই বানিয়েছি। আর তাদের (এ) সংখ্যা নির্দিষ্ট করেছি, কেবল কাফেরদের পরীক্ষা স্বরূপ এবং, যাতে কিতাবীদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় আর যারা ঈমান এনেছে তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবী ও মুমিনগণ কোন সন্দেহে পতিত না হয়। আর যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা কাফের তারা বলে, এই অভিনব উক্তি দ্বারা আল্লাহ কী বোঝাতে চাচ্ছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান হেদায়াত দান করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। এটা তো মানব জাতির জন্য কেবল উপদেশবাণী।
کَلَّا وَالۡقَمَرِ ۙ
সাবধান! শপথ চাঁদের
وَالَّیۡلِ اِذۡ اَدۡبَرَ ۙ
এবং রাতের, যখন তা প্রস্থান করে,
وَالصُّبۡحِ اِذَاۤ اَسۡفَرَ ۙ
এবং ভোরের, যখন তা উদ্ভাসিত হয়,
اِنَّہَا لَاِحۡدَی الۡکُبَرِ ۙ
এটা বড়-বড় বিষয়াবলীর অন্যতম
نَذِیۡرًا لِّلۡبَشَرِ ۙ
যা সমস্ত মানুষকে সতর্ক করছে।
لِمَنۡ شَآءَ مِنۡکُمۡ اَنۡ یَّتَقَدَّمَ اَوۡ یَتَاَخَّرَ ؕ
তোমাদের প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে, যে অগ্রগামী হতে বা পিছিয়ে পড়তে চায়।
کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ رَہِیۡنَۃٌ ۙ
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ রয়েছে।
اِلَّاۤ اَصۡحٰبَ الۡیَمِیۡنِ ؕۛ
ডান হাত বিশিষ্টগণ ছাড়া,
فِیۡ جَنّٰتٍ ۟ؕۛ یَتَسَآءَلُوۡنَ ۙ
তারা থাকবে জান্নাতে। তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে
عَنِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ۙ
অপরাধীদের সম্পর্কে,
مَا سَلَکَکُمۡ فِیۡ سَقَرَ
যে, কোন জিনিস তোমাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করেছে?
قَالُوۡا لَمۡ نَکُ مِنَ الۡمُصَلِّیۡنَ ۙ
তারা বলবে, আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না
وَلَمۡ نَکُ نُطۡعِمُ الۡمِسۡکِیۡنَ ۙ
আমরা মিসকীনদেরকে খাবার দিতাম না।
وَکُنَّا نَخُوۡضُ مَعَ الۡخَآئِضِیۡنَ ۙ
আর যারা অহেতুক আলাপ-আলোচনায় মগ্ন হত, আমরাও তাদের সঙ্গে তাতে মগ্ন হতাম।
وَکُنَّا نُکَذِّبُ بِیَوۡمِ الدِّیۡنِ ۙ
এবং আমরা কর্মফল দিবসকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতাম।
حَتّٰۤی اَتٰىنَا الۡیَقِیۡنُ ؕ
পরিশেষে সেই নিশ্চিত বিষয় আমাদের সামনে এসেই গেল।
فَمَا تَنۡفَعُہُمۡ شَفَاعَۃُ الشّٰفِعِیۡنَ ؕ
সুতরাং সুপারিশকারীদের সুপারিশ এরূপ লোকদের কোন কাজে আসবে না।
فَمَا لَہُمۡ عَنِ التَّذۡکِرَۃِ مُعۡرِضِیۡنَ ۙ
তাদের কী হল যে, তারা উপদেশবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে?
کَاَنَّہُمۡ حُمُرٌ مُّسۡتَنۡفِرَۃٌ ۙ
যেন তারা ভীত-চকিত (বন্য) গাধা,
فَرَّتۡ مِنۡ قَسۡوَرَۃٍ ؕ
যা কোন সিংহের ভয়ে পলায়ন করছে।
بَلۡ یُرِیۡدُ کُلُّ امۡرِیًٴ مِّنۡہُمۡ اَنۡ یُّؤۡتٰی صُحُفًا مُّنَشَّرَۃً ۙ
বরং তাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যে, তাকে উন্মুক্ত এক গ্রন্থ দেওয়া হোক
کَلَّا ؕ بَلۡ لَّا یَخَافُوۡنَ الۡاٰخِرَۃَ ؕ
কখনও নয়, প্রকৃতপক্ষে তারা আখিরাতকে ভয় করে না।
کَلَّاۤ اِنَّہٗ تَذۡکِرَۃٌ ۚ
কখনও নয়, এটা (অর্থাৎ কুরআন) এক উপদেশবাণী।
فَمَنۡ شَآءَ ذَکَرَہٗ ؕ
সুতরাং যার ইচ্ছা সে এর থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।
وَمَا یَذۡکُرُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ ؕ ہُوَ اَہۡلُ التَّقۡوٰی وَاَہۡلُ الۡمَغۡفِرَۃِ ٪
কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারবে না। তিনিই এর উপযুক্ত যে, তাঁকে ভয় করা হবে এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।