الفجر
আল-ফাজর
আয়াত ৩০ · মক্কী · পারা ৩০
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
وَالۡفَجۡرِ ۙ
শপথ ফজর-কালের।
وَلَیَالٍ عَشۡرٍ ۙ
এবং দশ রাতের
وَّالشَّفۡعِ وَالۡوَتۡرِ ۙ
এবং জোড় ও বেজোড়ের
وَالَّیۡلِ اِذَا یَسۡرِ ۚ
এবং রাতের, যখন তা গত হতে শুরু করে (আখেরাতের শাস্তি ও পুরস্কার অবশ্যম্ভাবী)।
ہَلۡ فِیۡ ذٰلِکَ قَسَمٌ لِّذِیۡ حِجۡرٍ ؕ
একজন বোধসম্পন্ন ব্যক্তির (বিশ্বাস আনয়নের) জন্য এসব শপথ যথেষ্ট নয় কি?
اَلَمۡ تَرَ کَیۡفَ فَعَلَ رَبُّکَ بِعَادٍ ۪ۙ
তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক আদ (জাতি)-এর প্রতি কী আচরণ করেছেন?
اِرَمَ ذَاتِ الۡعِمَادِ ۪ۙ
ইরাম সম্প্রদায়ের প্রতি, যারা উঁচু উঁচু স্তম্ভের অধিকারী ছিল
الَّتِیۡ لَمۡ یُخۡلَقۡ مِثۡلُہَا فِی الۡبِلَادِ ۪ۙ
যাদের সমান পৃথিবীতে আর কোন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়নি?
وَثَمُوۡدَ الَّذِیۡنَ جَابُوا الصَّخۡرَ بِالۡوَادِ ۪ۙ
এবং (কী আচরণ করেছেন) ছামুদ (জাতি)-এর প্রতি, যারা উপত্যকায় বড়-বড় পাথর কেটে ফেলেছিল?
وَفِرۡعَوۡنَ ذِی الۡاَوۡتَادِ ۪ۙ
এবং (কী আচরণ করেছেন) পেরেকওয়ালা ফির‘আউনের প্রতি?
الَّذِیۡنَ طَغَوۡا فِی الۡبِلَادِ ۪ۙ
যারা দেশে-দেশে অবাধ্যতা প্রদর্শন করেছিল।
فَاَکۡثَرُوۡا فِیۡہَا الۡفَسَادَ ۪ۙ
এবং তাতে ব্যাপক অশান্তি বিস্তার করেছিল।
فَصَبَّ عَلَیۡہِمۡ رَبُّکَ سَوۡطَ عَذَابٍ ۚۙ
ফলে তোমার প্রতিপালক তাদের উপর শাস্তির কষাঘাত হানলেন।
اِنَّ رَبَّکَ لَبِالۡمِرۡصَادِ ؕ
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সকলের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।
فَاَمَّا الۡاِنۡسَانُ اِذَا مَا ابۡتَلٰىہُ رَبُّہٗ فَاَکۡرَمَہٗ وَنَعَّمَہٗ ۬ۙ فَیَقُوۡلُ رَبِّیۡۤ اَکۡرَمَنِ ؕ
কিন্তু মানুষের অবস্থা তো এই যে, যখন তার প্রতিপালক তাকে পরীক্ষা করেন এবং তাকে মর্যাদা ও অনুগ্রহ দান করেন তখন সে বলে, আমার প্রতিপালক আমাকে সম্মানিত করেছেন।
وَاَمَّاۤ اِذَا مَا ابۡتَلٰىہُ فَقَدَرَ عَلَیۡہِ رِزۡقَہٗ ۬ۙ فَیَقُوۡلُ رَبِّیۡۤ اَہَانَنِ ۚ
এবং অপর দিকে যখন তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার জীবিকা সঙ্কুচিত করে দেন, তখন সে বলে, আমার প্রতিপালক আমাকে অমর্যাদা করেছেন।
کَلَّا بَلۡ لَّا تُکۡرِمُوۡنَ الۡیَتِیۡمَ ۙ
কখনও এরূপ সমীচীন নয়। (কেবল এতটুকুই নয়;) বরং তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান করো না।
وَلَا تَحٰٓضُّوۡنَ عَلٰی طَعَامِ الۡمِسۡکِیۡنِ ۙ
এবং মিসকীনদেরকে খাবার খাওয়ানোর জন্য একে অন্যকে উৎসাহিত করো না।
وَتَاۡکُلُوۡنَ التُّرَاثَ اَکۡلًا لَّمًّا ۙ
এবং মীরাছের সম্পদ সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে থাক
وَّتُحِبُّوۡنَ الۡمَالَ حُبًّا جَمًّا ؕ
এবং ধন-সম্পদকে সীমাতিরিক্ত ভালোবাস।
کَلَّاۤ اِذَا دُکَّتِ الۡاَرۡضُ دَکًّا دَکًّا ۙ
কিছুতেই এরূপ সমীচীন নয়। যখন পৃথিবীকে পিষে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলা হবে।
وَّجَآءَ رَبُّکَ وَالۡمَلَکُ صَفًّا صَفًّا ۚ
এবং তোমার প্রতিপালক ও সারিবদ্ধ ফেরেশতাগণ (হাশরের ময়দানে) উপস্থিত হবেন।
وَجِایۡٓءَ یَوۡمَئِذٍۭ بِجَہَنَّمَ ۬ۙ یَوۡمَئِذٍ یَّتَذَکَّرُ الۡاِنۡسَانُ وَاَنّٰی لَہُ الذِّکۡرٰی ؕ
সে দিন জাহান্নামকে সামনে আনা হবে। সে দিন মানুষ বুঝতে পারবে, কিন্তু সেই সময় বুঝে আসার দ্বারা তার কী ফায়দা?
یَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِیۡ قَدَّمۡتُ لِحَیَاتِیۡ ۚ
সে বলবে, হায়! আমি যদি আমার এই জীবনের জন্য কিছু অগ্রিম পাঠাতাম?
فَیَوۡمَئِذٍ لَّا یُعَذِّبُ عَذَابَہٗۤ اَحَدٌ ۙ
সে দিন আল্লাহর শাস্তির মতো শাস্তি কেউ দিতে পারবে না।
وَّلَا یُوۡثِقُ وَثَاقَہٗۤ اَحَدٌ ؕ
এবং তাঁর বাঁধার মত বাঁধতেও কেউ পারবে না।
یٰۤاَیَّتُہَا النَّفۡسُ الۡمُطۡمَئِنَّۃُ ٭ۖ
(অবশ্য নেককারদেরকে বলা হবে,) হে (আল্লাহর ইবাদতে) প্রশান্তি লাভকারী চিত্ত!
ارۡجِعِیۡۤ اِلٰی رَبِّکِ رَاضِیَۃً مَّرۡضِیَّۃً ۚ
নিজ প্রতিপালকের দিকে ফিরে আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে
فَادۡخُلِیۡ فِیۡ عِبٰدِیۡ ۙ
এবং আমার (নেক) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও
وَادۡخُلِیۡ جَنَّتِیۡ ٪
আর দাখিল হয়ে যাও আমার জান্নাতে।