ফযীলতপূর্ণ বিশেষ কিছু যিকির

* সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হচ্ছে- لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বূদ নেই। (নাসায়ী সুনানে কুবরা, হাদীস: ২৩৫)

ফযীলত: কোনো ব্যক্তি যদি একনিষ্ঠতার সাথে লোক দেখানো বা শুনানোর নিয়ত ব্যতীত ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লহ’ বলে তৎক্ষণাৎ তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে যায় এবং তা আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে এর জন্য শর্ত হলো কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। (মিশকাত শরীফ, হাদীস: ২২০৬)

যে ব্যক্তি দৈনিক সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার করে لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ পড়বে সে হযরত ইসমাঈল আ. এর বংশের ১০০ গোলাম আযাদ করার সওয়াব পাবে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ৩৪৮০)

* যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। (কানযুল উম্মাল, হাদীস: ১৮০৫)

* সর্বশ্রেষ্ঠ দু‘আ হচ্ছে- اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ

অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

ফযীলত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘সুবহানাল্লহ’ পাল্লার অর্ধেক, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ তাকে পূর্ণ করে দেয়। (মিশকাত শরীফ, হাদীস: ২২০৫)

যে ব্যক্তি দৈনিক সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার করে اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ পড়বে সে জিহাদের উদ্দেশ্যে ১০০ ঘোড়া দান করার সওয়াব পাবে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ৩৪৮০)

* যে ব্যক্তি দৈনিক সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার করে سُبْحَانَ اللهِ পড়বে সে একশত নফল হজ্জের সওয়াব পাবে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ৩৪৮০)

* যে ব্যক্তি দৈনিক সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার করে اَللهُ اَكْبَرُ পড়বে, সে ঐ দিন এত পরিমাণ নেকী অর্জন করবে যা অন্য কেউ অর্জন করতে পারবে না। তবে যে তার মত এই আমল বা এর চেয়েও বেশি আমল করবে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ৩৪৮০)

* দৈনিক সকালে: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه- ১০০ বার, সন্ধ্যায় سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه- ১০০ বার পাঠ করলে সমুদ্রের ফেনার চেয়ে বেশি গুনাহও আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিযী, হাদীস: ৩৫৩৬)

* সর্বাবস্থায় পড়া উচিত- اَسْتَغْفِرُ اللهَ

অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই।

ফযীলত: হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়াকে আবশ্যক করে নেয় আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন এবং প্রত্যেক চিন্তা- পেরেশানী থেকে পরিত্রাণ দেন। আর তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দান করেন যা সে কখনও ভাবেনি। (মিশকাত শরীফ, হাদীস: ২২৩০)

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ

ফযীলত: আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: দু‘টি কালেমা এমন রয়েছে যা যবানে উচ্চারণ করতে সহজ, কিয়ামত দিবসে ওজনে ভারী এবং করুণাময় আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। কালেমা দু‘টি হচ্ছে:

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ

অর্থ: আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি! (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৭৫৬৩)

* দৈনিক ১০০ বার

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ الْمَلِـكُ الْحَقُّ الْمُبِيْنُ

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো মা’বূদ নেই। তিনি রাজাধিরাজ, হক ও সুস্পষ্ট। (কানযুল উম্মাল, হাদীস: ৫০৫৮)

* صَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِىِّ الْاُمِّىِّ

১০০ বার।

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ، وَارْحَمْنـِـيْ

১০০ বার।

سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْمِ

অর্থ: আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ব্যতীত কোনো মা’বূদ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। কারো কোনো ভাল কাজ করার শক্তি নেই এবং কোনো গুনাহ থেকে বাঁচার শক্তি নেই আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৮৩২)

* মিসওয়াক করে নামাজ পড়লে ৭০ গুণ সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। (বায়হাকী সুনানে কুবরা, হাদীস: ১৫৯)

* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সূরা ইখলাস কুরআনে কারীমের এক-তৃতীয়াংশের সমপরিমাণ। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৮১১)

উক্ত হাদীসের আলোকে উলামায়ে কেরাম বলেন, সূরা ইখলাস ৩ বার পাঠ করলে ১ খতম কুরআন শরীফ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়।

* সূরা ইয়াসীন ১ বার পাঠ করলে ১০ খতম কুরআন শরীফ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়। (বায়হাকী শুআবুল ঈমান, হাদীস: ২২৩২)