নামাযের তাকবীর
اَللهُ اَكْبَرُ
”আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”
-হযরত আয়িশা রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী ﷺ তাকবীরে তাহরীমার মাধ্যমে নামায শুরু করতেন এবং সালামের মাধ্যমে নামায সমাপ্ত করতেন।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা (২৩৯৭), সহীহ ইবনে খুযাইমা (৪৯৮), সহীহ ইবনে হিব্বান (১৭৬৮)। ইমাম ইবনে খুযাইমা এবং ইবনে হিব্বান রহ. এটিকে সহীহ গণ্য করেছেন।
হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রহ. বলেন, তাকবীর সংক্ষিপ্তভাবে বলা উচিৎ। এমনিভাবে সালামও সংক্ষিপ্ত করা উচিৎ।
-সুনানে তিরমীযী (২৯৭), সুনানে সাঈদ ইবনে মানসূর, [আল মাকাসিদুল হাসানা, পৃ. ২৬৩] মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক (২৫৫৩), সাখাবী রহ. বলেন, মারফূ’ হিসেবে এর কোন ভিত্তি নেই, বরং এটি ইবরাহীম নাখায়ী রহ.-এর উক্তি।
ইমাম মুহাম্মাদের কিতাবুল আসলে (১/৭) আছে, ‘প্রশ্ন: তাকবীর কি লম্বা না করে খাটো করবে? উত্তর: হ্যাঁ।’ আল্লামা আব্দুল হাই লখনবী রহ. ‘হিলয়া’ (সম্ভবত ‘হালবা’ হবে) কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেন যে, জেনে রাখো! সুন্নাত হচ্ছে তাকবীরকে সংক্ষিপ্ত করা, চাই তা নামাযের শুরুর তাকবীর হোক বা মাঝখানের তাকবীর হোক। আর এটা উপরে উল্লিখিত ইবরাহীম নাখায়ী রহ.-এর বর্ণনাটির কারণে। (দ্র. সি‘আয়া ২/১৪৮) আল্লামা শামী রহ. বলেন, জানা উচিৎ ‘আল্লাহ’ শব্দের মধ্যে মাদ্দ (টান) তিন জায়গায় হতে পারে; শুরুতে, মাঝখানে আর শেষে। (এর মধ্যে প্রথম আর শেষটি বৈধ নয়)... আর মাঝখানে মাদ্দ করার ক্ষেত্রে যদি এত বেশি টানে যে, ‘লাম’ আর ‘হা’ মাঝে দ্বিতীয় আলিফ (দুই হরকত পরিমাণ টানকে এক আলিফ বলে) সৃষ্টি হয়ে যায় তাহলে মাকরুহ হবে। কোন কোন ফকীহের বক্তব্য আছে যে, ‘এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হলো, নামায নষ্ট হবে না।’ এই বক্তব্য বাস্তবতা থেকে দূরবর্তী নয় (অর্থাৎ এটি বাস্তবসম্মত বক্তব্য)। (রদ্দুল মুহতার ১/৪৮০)