كتاب الطهارة

১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়

Chapter 1 · 324 hadith

মহান আল্লাহর বাণীঃ "যখন তোমরা নামাযে দাঁড়াবে তখন তোমাদের মুখমণ্ডল দু’হাত কুনুই পর্যন্ত ... ধুয়ে নিবে" - এর ব্যখ্যা

تأويل قوله عز وجل: {إذا قمتم إلى الصلاة فاغسلوا وجوهكم وأيديكم إلى المرافق} [المائدة: 6]

1

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلاَ يَغْمِسْ يَدَهُ فِي وَضُوئِهِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلاَثًا فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ নিদ্রা থেকে জাগ্রত হলে সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত পানিতে না ঢোকায়। কেননা তোমাদের কারো জানা নেই যে, তার হাত রাতে কোথায় পৌঁছেছিল।

রাতের বেলা নামায আদায় করতে উঠলে মিসওয়াক করা।

باب السواك إذا قام من الليل

2

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রিবেলা নামায আদায় করতে উঠলে মিসওয়াক দ্বারা আপন দাঁত মাজতেন।

মিসওয়াক কিভাবে করবে?

باب كيف يستاك

3

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا غَيْلاَنُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَسْتَنُّ وَطَرَفُ السِّوَاكِ عَلَى لِسَانِهِ وَهُوَ يَقُولُ " عَأْعَأْ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩। আহমদ ইবনে আব্দাহ (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলাম তখন তিনি মিসওয়াক করছিলেন এবং মিসওয়াকের একপার্শ্ব তাঁর জিহবার উপর ছিল এবং আ’ আ’ করছিলেন।

সর্দার তাঁর অধস্তনের সামনে মিসওয়াক করবেন কি?

باب هل يستاك الإمام بحضرة رعيته؟

4

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - قَالَ حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ أَقْبَلْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعِي رَجُلاَنِ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ أَحَدُهُمَا عَنْ يَمِينِي وَالآخَرُ عَنْ يَسَارِي وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَاكُ فَكِلاَهُمَا سَأَلَ الْعَمَلَ قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ نَبِيًّا مَا أَطْلَعَانِي عَلَى مَا فِي أَنْفُسِهِمَا وَمَا شَعَرْتُ أَنَّهُمَا يَطْلُبَانِ الْعَمَلَ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى سِوَاكِهِ تَحْتَ شَفَتِهِ قَلَصَتْ فَقَالَ " إِنَّا لاَ - أَوْ لَنْ - نَسْتَعِينَ عَلَى الْعَمَلِ مَنْ أَرَادَهُ وَلَكِنِ اذْهَبْ أَنْتَ " . فَبَعَثَهُ عَلَى الْيَمَنِ ثُمَّ أَرْدَفَهُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ رضى الله عنهما .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আবু বুরদা (রাহঃ) [তাঁর পিতা] আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলাম, আমার সঙ্গে ছিল আশ’আরী গোত্রের দু’জন লোক। তাদের একজন ছিল আমার ডানদিকে আর অন্যজন ছিল আমার বামদিকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন মিসওয়াক করছিলেন। তারা উভয়ে তাঁর কাছে কাজ চাইল। আমি বললামঃ যিনি আপনাকে সত্য নবীরূপে পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! তাদের অন্তরে কি ছিল তা আামকে অবগত করেনি আর আমিও বুঝতে পারিনি যে, তারা কাজ চাইবে। আমি তখন তাঁর ঠোঁটের নীচে রাখা মিসওয়াকের দিকে লক্ষ্য করছিলাম। তার ঠোঁট তখন উঁচু ছিল। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি কাজ চায় আমরা তাকে কাজ দেই না। তবে তুমি যাও, পরে আবু মুসাকে ইয়ামানে পাঠান আর মুয়াজ ইবনে জাবালকে তাঁর অনুগামী করলেন।

মিসওয়াক করার প্রতি উৎসাহ দান করা

باب الترغيب في السواك

5

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَتِيقٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫। হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেনঃ তিনি বলেছেন যে, মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ও আল্লাহর সন্তোষ লাভের উপায়।

বেশী বেশী মিসওয়াক করা।

الإكثار في السواك

6

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، وَعِمْرَانُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ الْحَبْحَابِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السِّوَاكِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬। হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ ও ইমরান ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মিসওয়াক করার ব্যাপারে তোমাদের অত্যধিক উৎসাহিত করছি।

রোজাদারের জন্য অপরাহ্ণে মিসওয়াক করার অনুমতি

الرخصة في السواك بالعشي للصائم

7

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম তবে তাদেরকে প্রত্যেক নামায এর সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

সর্বদা মিসওয়াক করা

السواك في كل حين

8

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عِيسَى، - وَهُوَ ابْنُ يُونُسَ - عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ، - وَهُوَ ابْنُ شُرَيْحٍ - عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ بِأَىِّ شَىْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ قَالَتْ بِالسِّوَاكِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮। আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... সূরাইয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করার পর প্রথমে কি করতেন? তিনি বলেনঃ মিসওয়াক করতেন।

ফিতরাত প্রসঙ্গ - খাতনা

ذكر الفطرة:<br>الاختتان

9

أَخْبَرَنَا الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْفِطْرَةُ خَمْسٌ الاِخْتِتَانُ وَالاِسْتِحْدَادُ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَنَتْفُ الإِبْطِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯। হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ পাঁচটি বিষয় মানুষের ফিতরাতের অন্তর্গত। খাতনা করা, নাভির নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের পশম উপরে ফেলা।

নখ কাটা প্রসঙ্গ

تقليم الأظفار

10

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ مَعْمَرًا، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ قَصُّ الشَّارِبِ وَنَتْفُ الإِبْطِ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَالاِسْتِحْدَادُ وَالْخِتَانُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচটি বিষয় মানুষের ফিতরাতের অন্তর্ভূক্ত। গোঁফ ছাঁটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা, নাভির নিম্নাংশের লোম চেছে ফেলা এবং খাতনা করা।

বগলের লোম উপড়ে ফেলা

نتف الإبط

11

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ الْخِتَانُ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَنَتْفُ الإِبْطِ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَأَخْذُ الشَّارِبِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পাঁচটি বিষয় মানুষের ফিতরাতের অন্তর্ভূক্ত। খাতনা করা, নাভীর নিম্নাংশের লোম চেঁছে ফেলা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা এবং গোঁফ ছাঁটা।

নাভির নীচের লোম চেছে ফেলা

حلق العانة

12

أَخْبَرَنَا الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْفِطْرَةُ قَصُّ الأَظْفَارِ وَأَخْذُ الشَّارِبِ وَحَلْقُ الْعَانَةِ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২। হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের ফিতরাত হল নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা এবং নাভীর নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলা।

গোঁফ ছাটা প্রসঙ্গ

قص الشارب

13

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ لَمْ يَأْخُذْ شَارِبَهُ فَلَيْسَ مِنَّا " .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

১৩। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গোঁফ না ছাঁটে সে আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়।

এ সব কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করা

التوقيت في ذلك

14

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، - هُوَ ابْنُ سُلَيْمَانَ - عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ وَقَّتَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ وَنَتْفِ الإِبْطِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ يَوْمًا . وَقَالَ مَرَّةً أُخْرَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, নাভীর নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলার ও বগলের পশম উপড়ে ফেলার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমরা যেন এ কাজগুলো চল্লিশ দিনের বেশী সময় পর্যন্ত ফেলে না রাখি। রাবী বলেন, আরেকবার চল্লিশ রাতের কথাও বলেছেন।

গোঁফ ছাঁটা ও দাড়ি লম্বা করা

إحفاء الشارب وإعفاء اللحى

15

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللِّحَى " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ খাট কর এবং দাড়ি বর্ধিত কর।

পায়খানা প্রস্রাবের সময় দূরে যাওয়া

الإبعاد عند إرادة الحاجة

16

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الْخَطْمِيُّ، عُمَيْرُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ فُضَيْلٍ، وَعُمَارَةُ بْنُ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي قُرَادٍ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْخَلاَءِ وَكَانَ إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ أَبْعَدَ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনু আবি কুরাদ (রাঃ)

১৬। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবু কুরাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ময়দানের দিকে বের হলাম। যখন তিনি পায়খানা-পেশাব করার ইচ্ছা করতেন তখন (লোকালয় হতে) দূরে গমন করতেন।

17

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا ذَهَبَ الْمَذْهَبَ أَبْعَدَ قَالَ فَذَهَبَ لِحَاجَتِهِ - وَهُوَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ - فَقَالَ " ائْتِنِي بِوَضُوءٍ " . فَأَتَيْتُهُ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ . قَالَ الشَّيْخُ إِسْمَاعِيلُ هُوَ ابْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ الْقَارِئُ .

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৭। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যখন পায়খানা-পেশাবের স্থানের দিকে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন (লোকালয় হতে) দূরে চলে যেতেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোন এক সফরে পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে (লোকালয় হতে) দূরে গিয়েছিলেন। তারপর বললেন, আমার জন্য উযুর পানি আন। আমি তাঁর জন্য উযুর পানি আনলাম। তিনি উযু করলেন এবং মোজার উপর মাসাহ করলেন।

দূরে না যাওয়ার অনুমতি

الرخصة في ترك ذلك

18

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ أَنْبَأَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْتَهَى إِلَى سُبَاطَةِ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا فَتَنَحَّيْتُ عَنْهُ فَدَعَانِي وَكُنْتُ عِنْدَ عَقِبَيْهِ حَتَّى فَرَغَ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

১৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে হ্যাঁটছিলাম। তিনি এক সম্প্রদায়ের আবর্জনা ফেলবার স্থান পর্যন্ত গেলেন এবং (সেখানে) দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন। এমতাবস্থায় আমি তাঁর নিকট হতে দূরে সরে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে ডাকলেন, আমি (এসে) তাঁর গোড়ালির কাছে (অর্থাৎ নিকটেই) থাকলাম, যাবৎ না তিনি পেশাবের কাজ সমাধা করলেন। এরপর তিনি উযু করলেন এবং মোজার উপর মাসাহ করলেন।

পায়খানা প্রস্রাবের স্থানে প্রবেশ করার সময় দুআ পাঠ করা

القول عند دخول الخلاء

19

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন পায়খানা-পেশাবের স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করতেন তখন পড়তেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- পুরুষ শয়তান ও নারী শয়তান থেকে”।

পায়খানা প্রস্রাব করার সময় কিবলামুখী হওয়া নিষেধ

النهي عن استقبال القبلة عند الحاجة

20

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، وَاللَّفْظُ، لَهُ عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ إِسْحَاقَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ، وَهُوَ بِمِصْرَ يَقُولُ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي كَيْفَ أَصْنَعُ بِهَذِهِ الْكَرَايِيسِ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ أَوِ الْبَوْلِ فَلاَ يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلاَ يَسْتَدْبِرْهَا " .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

২০। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... রাফি ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) এর মিসর অবস্থানকালে তাঁকে বলতে শুনেছেন- আল্লাহর শপথ! আমি জানি না কিভাবে (মিসরের) এই পায়খানা ব্যবহার করবো। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মল-মূত্র ত্যাগের উদ্দেশ্যে গমন করবে, তখন সে যেন কিবলামুখী হয়ে ও কিবলাকে পেছনে রেখে না বসে।

পায়খানা প্রস্রাব করার সময় কিবলাকে পিছনে রেখে বসা নিষেধ

النهي عن استدبار القبلة عند الحاجة

21

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلاَ تَسْتَدْبِرُوهَا لِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا "

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

২১। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ পেশাব ও পায়খানার জন্য তোমরা কিবলামুখী হয়ে এবং কিবলাকে পেছনে রেখে বসবে না; বরং পূর্বদিক ও পশ্চিম দিক ফিরে বসবে।[১]

[১] যেহেতু মদীনা কিবলার উত্তরদিকে অবস্থিত, তাই পূর্বদিক বা পশ্চিমদিকে ফিরে বসার কথা বলা হয়েছে। মূল কথা হচ্ছে। কিবলার দিকে মুখ করে বা কিবলাকে পেছনে রেখে বসা নিষিদ্ধ । -অনুবাদক

পায়খানা প্রস্রাব করার সময় পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বসার নির্দেশ[১]

الأمر باستقبال المشرق أو المغرب عند الحاجة

22

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْغَائِطَ فَلاَ يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلَكِنْ لِيُشَرِّقْ أَوْ لِيُغَرِّبْ " .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

২২। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন (পায়খানার জন্য) ঢালু জমির দিকে যাবে তখন সে যেন কিবলামুখী হয়ে না বসে এবং সে যেন পূর্ব ও পশ্চিমদিকে মুখ করে বসে।

[১] এ নির্দেশ তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা কা'বা হতে উত্তর বা দক্ষিণদিকে অবস্থান করে।

ঘরের ভিতরে কিবলামুখী হয়ে বসার অনুমতি

الرخصة في ذلك في البيوت

23

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ لَقَدِ ارْتَقَيْتُ عَلَى ظَهْرِ بَيْتِنَا فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ لِحَاجَتِهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি (একদিন) আমাদের ঘরের ছাদে উঠেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে দু’টি ইটের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখেছি।[১]

[১] হানাফী মাযহাব অনুযায়ী ঘরের ভেতরে ও বাইরে কোথাও কিবলামুখী হয়ে কিংবা কিবলাকে পেছনে রেখে পেশাব-পায়খানায় বসার অনুমতি নেই। এ হাদীসে উল্লিখিত ঘটনাটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পূর্বেকার ঘটনা কিংবা নবী করীম (ﷺ) বিশেষ কোন ওজরবশত ঐরূপ করেছিলেন।

প্রস্রাব করার সময় ডান হাত দ্বারা লিঙ্গ স্পর্শ করা নিষেধ

النهي عن مس الذكر باليمين عند الحاجة

24

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ دُرُسْتَ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ، - وَهُوَ الْقَنَّادُ - قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَتَادَةَ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَأْخُذْ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ " .

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৪। ইয়াহয়া ইবনে দুরুস্ত (রাহঃ) ......... আবু কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পেশাব করবে, তখন সে যেন ডান হাত দ্বারা তার লিঙ্গ স্পর্শ না করে।

25

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ يَحْيَى، - هُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْخَلاَءَ فَلاَ يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৫। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আবু কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পায়খানা বা পেশাবখানায় প্রবেশ করবে, তখন সে যেন ডান হাত দ্বারা তার লিঙ্গ স্পর্শ না করে।

মাঠে-ময়দানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনুমতি

الرخصة في البول في الصحراء قائما

26

أَخْبَرَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

২৬। মুআম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের আবর্জনা ফেলার স্থানে আসেন এবং (সেখানে) দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।[১]

[১] বসতে অসুবিধা ছিল বিধায় তিনি দাঁড়িয়ে পেশাব করেন। অনুবাদক
27

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، أَنَّ حُذَيْفَةَ، قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

২৭। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের আবর্জনা ফেলার স্থানে আসেন এবং (সেখানে) দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।

28

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَنْبَأَنَا بَهْزٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، وَمَنْصُورٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَشَى إِلَى سُبَاطَةِ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا . قَالَ سُلَيْمَانُ فِي حَدِيثِهِ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَلَمْ يَذْكُرْ مَنْصُورٌ الْمَسْحَ .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

২৮। সুলাইমান ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবর্জনা ফেলবার স্থানে গমন করলেন এবং দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন। সুলাইমান (রাহঃ) তার হাদীসে বলেছেন, তিনি তার মোজার উপর মাসাহ করেছেন, কিন্তু মনসূর মাসাহ এর কথা উল্লেখ করেন নি।

ঘরে নির্মিত প্রস্রাবখানায় বসে প্রস্রাব করা

البول في البيت جالسا

29

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَالَ قَائِمًا فَلاَ تُصَدِّقُوهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلاَّ جَالِسًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তোমাদের বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন, তোমরা তার কথা বিশ্বাস করবে না। (কেননা) তিনি বসেই পেশাব করতেন।

কোন সুতরার[১] দ্বারা আড়াল করে প্রস্রাব করা

البول إلى السترة يستتر بها

30

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ حَسَنَةَ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي يَدِهِ كَهَيْئَةِ الدَّرَقَةِ فَوَضَعَهَا ثُمَّ جَلَسَ خَلْفَهَا فَبَالَ إِلَيْهَا فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ انْظُرُوا يَبُولُ كَمَا تَبُولُ الْمَرْأَةُ فَسَمِعَهُ فَقَالَ " أَوَمَا عَلِمْتَ مَا أَصَابَ صَاحِبُ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا أَصَابَهُمْ شَىْءٌ مِنَ الْبَوْلِ قَرَضُوهُ بِالْمَقَارِيضِ فَنَهَاهُمْ صَاحِبُهُمْ فَعُذِّبَ فِي قَبْرِهِ " .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে হাসানা (রাঃ)

৩০। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে হাসানা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আমাদের কাছে আগমন করলেন। তাঁর হাতে চামড়ার তৈরী ঢালের মত একটি বস্তু ছিল। তিনি তা স্থাপন করলেন। এরপর তার পেছনে বসলেন এবং সেদিকে ফিরে পেশাব করলেন। জনৈক ব্যক্তি বললো, দেখ, তিনি স্ত্রীলোকের ন্যায় পেশাব করছেন। লোকটির কথা তিনি শুনে ফেললেন এবং বললেনঃ তুমি কি জান না যে, বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির কি শাস্তি হয়েছে? তাদের যদি পেশাবের কোন ফোঁটা শরীরে লাগত তাহলে কাঁচি দিয়ে সে অংশ তারা কেটে ফেলত। তাদের এক ব্যক্তি তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে। এজন্য তাকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।

[১] সুতরা: পায়খানা-পেশাবের সময় যা আড়াল হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

প্রস্রাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকা

التنزه عن البول

31

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يُحَدِّثُ عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ " إِنَّهُمَا يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا هَذَا فَكَانَ لاَ يَسْتَنْزِهُ مِنْ بَوْلِهِ وَأَمَّا هَذَا فَإِنَّهُ كَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ " . ثُمَّ دَعَا بِعَسِيبٍ رَطْبٍ فَشَقَّهُ بِاثْنَيْنِ فَغَرَسَ عَلَى هَذَا وَاحِدًا وَعَلَى هَذَا وَاحِدًا ثُمَّ قَالَ " لَعَلَّهُ يُخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا " . خَالَفَهُ مَنْصُورٌ رَوَاهُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَلَمْ يَذْكُرْ طَاوُسًا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’টি কবরের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। (এমনি সময়) তিনি বললেনঃ এ দু’টি কবরের লোককে আযাব দেওয়া হচ্ছে। (অবশ্য) কোন কবীরা গুনাহর কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে না। (এরপর তিনি কবর দু’টির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন) এই যে, কবরের অধিবাসী, সে তার পেশাবের (ফোঁটা) হতে বেঁচে থাকত না। আর এই যে কবরের অধিবাসী, সে চুগলি করে বেড়াত। তারপর তিনি একটি খেজুরের তাজা শাখা আনতে বললেন। (শাখা আনা হলে) তিনি তা দু’ভাগে বিভক্ত করলেন এবং উভয় কবরের উপর একটি করে শাখা পুঁতে দিলেন। তারপর বললেনঃ আল্লাহ তাআলা হয়ত শাখাগুলো না শুকানো পর্যন্ত এদের আযাব হালকা করে দেবেন।

পাত্রে প্রস্রাব করা

باب البول في الإناء

32

أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَزَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَتْنِي حُكَيْمَةُ بِنْتُ أُمَيْمَةَ، عَنْ أُمِّهَا، أُمَيْمَةَ بِنْتِ رُقَيْقَةَ قَالَتْ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدَحٌ مِنْ عَيْدَانٍ يَبُولُ فِيهِ وَيَضَعُهُ تَحْتَ السَّرِيرِ

Narrator: উমায়মা বিনতে রুকায়কা (রাঃ)

৩২। আইয়ুব ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াযযান (রাহঃ) ......... উমায়মা বিন রুকায়কা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একটি কাঠের পেয়ালা ছিল। তিনি তাতে (রাত্রে) পেশাব করতেন এবং তা খাটের নীচে রেখে দিতেন।[১]

[১] তা ছিল প্রয়োজনবশত।

তামার পাত্রে প্রস্রাব করা

البول في الطست

33

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَزْهَرُ، أَنْبَأَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ يَقُولُونَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَوْصَى إِلَى عَلِيٍّ لَقَدْ دَعَا بِالطَّسْتِ لِيَبُولَ فِيهَا فَانْخَنَثَتْ نَفْسُهُ وَمَا أَشْعُرُ فَإِلَى مَنْ أَوْصَى قَالَ الشَّيْخُ أَزْهَرُ هُوَ ابْنُ سَعْدٍ السَّمَّانُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৩। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ)-কে ওসিয়ত করেছেন। (অথচ তিনি তাঁর অন্তিমকালে) পেশাব করবার জন্য একটি তশতরী আনতে বললেন আর অমনি তাঁর দেহ মুবারক (মৃত্যুর কারণে) ঢলে পড়ল, অথচ আমি টের পেলাম না (যে তার মৃত্যু হয়েছে)। কাজেই তিনি কাকে (কখন) ওসিয়ত করলেন?

Reference: সহীহ বুখারী

গর্তে প্রস্রাব করা মাকরূহ

كراهية البول في الجحر

34

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي جُحْرٍ " . قَالُوا لِقَتَادَةَ وَمَا يُكْرَهُ مِنَ الْبَوْلِ فِي الْجُحْرِ قَالَ يُقَالُ إِنَّهَا مَسَاكِنُ الْجِنِّ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস রাযি.

৩৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তোমাদের কেউ যেন গর্তে পেশাব না করে। লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলোঃ গর্তে পেশব করা দূষণীয় কেন? তিনি জবাব দেন যে, বলা হয়ে থাকে, গর্ত জ্বীনের বাসস্থান।[১]

[১] অনেক সময় গর্তের মধ্যে সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর, বিষাক্ত, পোকা-মাকড় ইত্যাদি বসবাস করে থাকে। সেখানে পেশাব করলে কষ্টদায়ক প্রাণী মানুষের ক্ষতি করতে পারে; অপরদিকে দুর্বল প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।-অনুবাদক

বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা মাকরূহ

النهي عن البول في الماء الراكد

35

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنِ الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদ্ধ পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

গোসলখানায় প্রস্রাব করা মাকরূহ

كراهية البول في المستحم

36

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي مُسْتَحَمِّهِ فَإِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

৩৬। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন গোসলখানায় পেশাব না করে। কেননা এর কারণেই অধিকাংশ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

প্রস্রাবরত ব্যক্তিকে সালাম করা

السلام على من يبول

37

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، وَقَبِيصَةُ، قَالاَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ مَرَّ رَجُلٌ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৭। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পেশাব করছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাঁকে সালাম দিল। কিন্তু তিনি তার সালামের জবাব দিলেন না।[১]

[১] পেশাবরত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া নিষেধ। তাই সে সময় তিনি উক্ত ব্যক্তির সালামের জবাব দেননি।

ওযু করার পর সালামের উত্তর দেয়া

رد السلام بعد الوضوء

38

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ حُضَيْنٍ أَبِي سَاسَانَ، عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ، أَنَّهُ سَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ حَتَّى تَوَضَّأَ فَلَمَّا تَوَضَّأَ رَدَّ عَلَيْهِ .

Narrator: মুহাজির ইবনে কুনফুয (রাঃ)

৩৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... মুহাজির ইবনে কুনফুয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পেশাব করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁকে সালাম দেন। কিন্তু নবী (ﷺ) উযু করার পূর্বে সালামের জবাব দেননি; উযু করার পর সালামের জবাব দেন।

হাড় দিয়ে কুলুখ করা নিষেধ

النهي عن الاستطابة بالعظم

39

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ بْنِ سَنَّةَ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَسْتَطِيبَ أَحَدُكُمْ بِعَظْمٍ أَوْ رَوْثٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৯। আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদেরকে হাড় এবং শুষ্ক গোবর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে নিষেধ করেছেন।

গোবর দিয়ে কুলুখ করা নিষেধ

النهي عن الاستطابة بالروث

40

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، قَالَ أَخْبَرَنِي الْقَعْقَاعُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ أُعَلِّمُكُمْ إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْخَلاَءِ فَلاَ يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلاَ يَسْتَدْبِرْهَا وَلاَ يَسْتَنْجِ بِيَمِينِهِ " وَكَانَ يَأْمُرُ بِثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ وَنَهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالرِّمَّةِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তো তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য। আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দেই। তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পেশাব-পায়খানার স্থানে যাবে, তখন সে যেন কিবলার দিকে ফিরে অথবা কিবলাকে পেছনে রেখে না বসে। আর ডান হাতে যেন পবিত্রতা অর্জন না করে। নবী (ﷺ) তিনটি পাথর (ঢেলা) ব্যবহার করতে হুকুম করতেন এবং গোবর ও হাড়কে ঢেলা হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন।

পবিত্রতা অর্জনকালে তিনটির কম ঢিলা ব্যবহার করা নিষেধ

النهي عن الاكتفاء في الاستطابة بأقل من ثلاثة أحجار

41

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ قَالَ لَهُ رَجُلٌ إِنَّ صَاحِبَكُمْ لَيُعَلِّمُكُمْ حَتَّى الْخِرَاءَةَ . قَالَ أَجَلْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ أَوْ نَسْتَنْجِيَ بِأَيْمَانِنَا أَوْ نَكْتَفِيَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ

Narrator: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৪১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সালমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁকে এক ব্যক্তি বলল, তোমাদের নবী তোমাদেরকে শিক্ষা দেন এমনকি পায়খানা-পেশাবে কিভাবে বসবে তাও। সালমান (রাযিঃ) উত্তরে বললেনঃ নিশ্চয়ই। তিনি আমাদেরকে পেশাব-পায়খানাকালে কিবলামুখী হয়ে বসতে, ডান হাতে ইস্তিনজা করতে এবং তিনটি কুলুখের কমে ক্ষান্ত হতে নিষেধ করেছেন।

দুটি ঢিলা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করার অনুমতি

الرخصة في الاستطابة بحجرين

42

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ زُهَيْرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ لَيْسَ أَبُو عُبَيْدَةَ ذَكَرَهُ وَلَكِنْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ، يَقُولُ أَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْغَائِطَ وَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَهُ بِثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ فَوَجَدْتُ حَجَرَيْنِ وَالْتَمَسْتُ الثَّالِثَ فَلَمْ أَجِدْهُ فَأَخَذْتُ رَوْثَةً فَأَتَيْتُ بِهِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ الْحَجَرَيْنِ وَأَلْقَى الرَّوْثَةَ وَقَالَ " هَذِهِ رِكْسٌ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرِّكْسُ طَعَامُ الْجِنِّ .

Narrator: আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ নাখঈ (রহঃ)

৪২। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আসওয়াদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী (ﷺ) একদিন (পায়খানার জন্য) ঢালু জমিতে আসেন এবং আমাকে তিনটি পাথর (ঢেলা) আনার জন্য হুকুম করেন। আমি দু’টি পাথর পেলাম। তৃতীয়টি খোঁজ করলাম। কিন্তু পেলাম না। কাজেই আমি একটি গোবরের টুকরা নিলাম এবং এগুলো নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। তিনি পাথর দু’টি[১] নিলেন ও গোবর ফেলে দিলেন এবং বললেন, ইহা ‘রিকস’।

[১] এ হাদীসের দ্বারা বুঝা যায় যে, কুলুখ ব্যবহারে তিনটির কমে যদি পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব হয় তবে তিনটির কম সংখ্যক কুলুখ ব্যবহার করা বৈধ। এরূপ ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর অভিমত। এ হাদীসের উপরে বর্ণিত তিনটির কম সংখ্যক কুলুখ ব্যবহার করতে যে নিষেধ করা হয়েছে, তা এ অর্থে যে, পবিত্রতা অর্জনকারী যদি মনে করে,, তিনটির কমে পবিত্রতা অর্জন হবে না, তবে তিনটির কমে পবিত্রতা অর্জন করা নিষেধ। -অনুবাদক

একটি ঢিলা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করার অনুমতি

باب الرخصة في الاستطابة بحجر واحد

43

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاَهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اسْتَجْمَرْتَ فَأَوْتِرْ " .

Narrator: সালামা ইবনে কায়স (রাঃ)

৪৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে কায়স (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেছেন, যখন ঢেলা ব্যবহার কর তখন বেজোড় ব্যবহার কর।

শুধু ঢিলা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন যথেষ্ট

الاجتزاء في الاستطابة بالحجارة دون غيرها

44

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ قُرْطٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ فَلْيَسْتَطِبْ بِهَا فَإِنَّهَا تَجْزِي عَنْهُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন (পায়খানার জন্য) ঢালু ভূমিতে যাবে, সে যেন সাথে করে তিনটি পাথর নিয়ে যায় এবং এগুলোর দ্বারা যেন সে পবিত্রতা অর্জন করে। এটা তার (পবিত্রতা অর্জনের) জন্য যথেষ্ট হবে।

পানির দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের প্রসঙ্গে

الاستنجاء بالماء

45

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا النَّضْرُ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ أَحْمِلُ أَنَا وَغُلاَمٌ مَعِي نَحْوِي إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ فَيَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৫। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আতা ইবনে আবু মায়মুনা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে উন্মুক্ত স্থানে প্রবেশ করতেন তখন আমি এবং আমার সাথে আমার মতই আর একটি ছেলে পানির পাত্র বয়ে আনতাম। তিনি পানি দ্বারা ইস্তিনজা করতেন।

46

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ مُرْنَ أَزْوَاجَكُنَّ أَنْ يَسْتَطِيبُوا بِالْمَاءِ فَإِنِّي أَسْتَحْيِيهِمْ مِنْهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের স্বামীদেরকে পানি দ্বারা শৌচকার্য করতে বল। আমি নিজে তাদেরকে বলতে লজ্জাবোধ করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতেন।

ডান হাতে ইস্তিনজা করা নিষেধ

النهي عن الاستنجاء باليمين

47

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ أَنْبَأَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَتَنَفَّسْ فِي إِنَائِهِ وَإِذَا أَتَى الْخَلاَءَ فَلاَ يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلاَ يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ " .

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৭। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... আবু কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন সে যেন পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলে এবং যখন পায়খানা-প্রশ্রাবের জন্য যায়, তখন যেন সে তার ডান হাত দ্বারা লিঙ্গ স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দ্বারা ইস্তিনজা না করে।

48

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَتَنَفَّسَ فِي الإِنَاءِ وَأَنْ يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَأَنْ يَسْتَطِيبَ بِيَمِينِهِ .

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৮। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... আবু কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং ডান হাতে লিঙ্গ স্পর্শ করতে ও ডান হাতে শৌচকার্যে করতে নিষেধ করেছেন।

49

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَشُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، وَاللَّفْظُ، لَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَالأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ قَالَ الْمُشْرِكُونَ إِنَّا لَنَرَى صَاحِبَكُمْ يُعَلِّمُكُمُ الْخِرَاءَةَ . قَالَ أَجَلْ نَهَانَا أَنْ يَسْتَنْجِيَ أَحَدُنَا بِيَمِينِهِ وَيَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ وَقَالَ " لاَ يَسْتَنْجِي أَحَدُكُمْ بِدُونِ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ "

Narrator: সালমান ফারিসী (রাঃ)

৪৯। আমর ইবনে আলী ও শুয়ায়ব ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... সালমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকরা বললোঃ তোমাদের নবীকে দেখিছ যে, তোমাদেরকে পায়খানা-পেশাবের পদ্ধতি শিক্ষা দেন! সালমান (রাযিঃ) বললেন, নিশ্চয়ই। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন যে, আমাদের কেউ যেন ডান হাতে ইস্তিনজা না করে এবং কিবলামুখী হয়ে (পায়খানা-পেশাবে) না বসে। তিনি আরও বলেছেন যে, তোমাদের কেউ যেন তিনটির কম কুলুখ (ঢেলা) দ্বারা ইস্তিনজা না করে।

ইস্তিনজার পর হাত মাটিতে ঘষা

باب دلك اليد بالأرض بعد الاستنجاء

50

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْمُخَرِّمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَلَمَّا اسْتَنْجَى دَلَكَ يَدَهُ بِالأَرْضِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক মুখাররামী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ইস্তিনজা করার পর মাটিতে হাত ঘষেন এবং উযু করেন।

51

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ حَرْبٍ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى الْخَلاَءَ فَقَضَى الْحَاجَةَ ثُمَّ قَالَ " يَا جَرِيرُ هَاتِ طَهُورًا " . فَأَتَيْتُهُ بِالْمَاءِ فَاسْتَنْجَى بِالْمَاءِ وَقَالَ بِيَدِهِ فَدَلَكَ بِهَا الأَرْضَ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا أَشْبَهُ بِالصَّوَابِ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৫১। আহমদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ......... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পায়খানা-পেশাবের স্থানে গেলেন এবং প্রয়োজন সমাধা করলেন। তারপর বললেন, হে জারীর! পানি আন, আমি তাঁকে পানি এনে দিলাম। তিনি পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করেন এবং হাত মাটিতে ঘষেন।

পানির (পাক নাপাক হওয়ার) ব্যাপারে পরিমাণ নির্ধারণ

باب التوقيت في الماء

52

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَاءِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنَ الدَّوَابِّ وَالسِّبَاعِ . فَقَالَ " إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫২। হান্নাদ ইবনে সাররী ও হুসাইন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পানির (পাক-নাপাক হওয়ার) পরিমাণ এবং যে পানিতে চতুষ্পদ জন্তু ও হিংস্র জন্তু আসা-যাওয়া করে, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি (উত্তরে) বলেনঃ পানি যখন দুই ‘কুল্লা’ হবে তখন তা নাপাক হবে না।[১]

[১] কুল্লা' বলতে বড় মশক বা মটকা উভয়কে বুঝায়। তৎকালে একটা মটকায় সাধারণত তিন মণের কিছু বেশী পানি ধরত। সে হিসেবে দুই মটকা পানির পরিমাণ দাঁড়ায় অনুমান সোয়া ছয় মণ। হানাফী ফকীহগণ দশ বর্গহাতবিশিষ্ট কূপের পানিকে বেশী পানি মনে করেন। এ পরিমাণ পানিতে কোন নাপাক বস্তু পড়ার কারণে যদি এর রং, স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট না হয় তাহলে তা নাপাক হবে না।

পানির পরিমাণ নির্ধারণ না করা

ترك التوقيت في الماء

53

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، بَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَامَ إِلَيْهِ بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعُوهُ لاَ تُزْرِمُوهُ " . فَلَمَّا فَرَغَ دَعَا بِدَلْوٍ فَصَبَّهُ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَعْنِي لاَ تَقْطَعُوا عَلَيْهِ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করে দেয়। কেউ কেউ (বাধা দিতে) উঠে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, তার পেশাবে বাধার সৃষ্টি করো না। সে ব্যক্তি পেশাব শেষ করলে তিনি এক বালতি পানি আনতে বললেন। তারপর তার পেশাবের উপর তা ঢেলে দেন।

54

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ بَالَ أَعْرَابِيٌّ فِي الْمَسْجِدِ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصُبَّ عَلَيْهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক বেদুঈন ব্যক্তি মসজিদে পেশাব করে দেয়। নবী (ﷺ) এক বালতি পানি আনতে আদেশ করলেন। তারপর ঐস্থানে পানি ঢেলে দেয়া হয়।

55

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى الْمَسْجِدِ فَبَالَ فَصَاحَ بِهِ النَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اتْرُكُوهُ " . فَتَرَكُوهُ حَتَّى بَالَ ثُمَّ أَمَرَ بِدَلْوٍ فَصُبَّ عَلَيْهِ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৫। সুওয়াদ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, এক বেদুঈন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে এবং পেশাব করতে শুরু করে। এতে লোকেরা চিত্কার করে উঠল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। তারা তাকে ছেড়ে দেয়। সে ব্যক্তি পেশাব শেষ করে। পরে তিনি এক বালতি পানি আনতে নির্দেশ দেন এবং তা পেশাবের উপর ঢেলে দেয়া হয়।

56

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَامَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَتَنَاوَلَهُ النَّاسُ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعُوهُ وَأَهْرِيقُوا عَلَى بَوْلِهِ دَلْوًا مِنْ مَاءٍ فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৬। আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন মসজিদে এসে পেশাব করে দেয়। লোকেরা তাকে ধমক দিতে আরম্ভ করলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেনঃ তোমরা তাকে ছেড়ে দাও এবং তার পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমরা নম্র ব্যবহারের জন্য প্রেরিত হয়েছ, কঠোর ও রূঢ় আচরণের জন্য নয়।

আব্দ্ধ পানির বর্ণনা

باب الماء الدائم

57

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ " . قَالَ عَوْفٌ وَقَالَ خِلاَسٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে যেখানে সে পরে উযু করবে।[১]

[১] বদ্ধ পানিতে পেশাব করা নিষেধ।
58

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَتِيقٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَ يَعْقُوبُ لاَ يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ إِلاَّ بِدِينَارٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৮। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে, যাতে সে পরে গোসল করবে।

সাগরের পানি প্রসঙ্গে

باب ماء البحر

59

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ، مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে আবু বুরদাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করল। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্রে ভ্রমণ করি। আমাদের সঙ্গে অল্প পরিমাণ পানি নিয়ে থাকি। এ পানি দ্বারা যদি আমরা উযু করি তবে (পানি নিঃশেষ হয়ে যাবে) আমরা পিপাসায় কষ্ট পাবো। (এমতাবস্থায়) আমরা কি সমুদ্রের পানি দ্বারা উযু করব? জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং সমুদ্রের মৃত প্রাণীও হালাল।[১]

[১] সমুদ্রের মৃত প্রাণী ফুলে উঠার পূর্ব পর্যন্ত হালাল । আর এখানে সমুদ্রের মৃত প্রাণী দ্বারা মাছকেই বুঝানো হয়েছে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এরই অনুসরণ করেন।

বরফ দ্বারা ওযু করা

باب الوضوء بالثلج

60

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاَةَ سَكَتَ هُنَيْهَةً فَقُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَقُولُ فِي سُكُوتِكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ قَالَ " أَقُولُ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আরম্ভ করার পর অল্পক্ষণ নীরব থাকতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক; তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী নীরবতার সময় আপনি কি পড়েন? তিনি বলেন, আমি তখন পড়িঃ

اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ

“হে আল্লাহ! পূর্ব পশ্চিমের মধ্যে আপনি যেমন দুরত্ব সৃষ্টি করেছেন তেমনিও আমার অপরাধসমূহের মধ্যে দুরত্ব করে দিন। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে ধৌত করে দিন বরফ, পানি এবং শিলাবৃষ্টির পানি দ্বারা”।

বরফের পানি দিয়ে ওযু করা

الوضوء بماء الثلج

61

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পড়তেনঃ

اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ

″হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ বরফের পানি এবং বৃষ্টির ঠাণ্ডা পানি দ্বারা ধৌত করে দিন এবং আমার অন্তরকে গুনাহসমূহ থেকে পবিত্র করে দিন যেমন আপনি সাদা কাপড় পবিত্র করেছেন ময়লা থেকে।

শিলাবৃষ্টির পানি দিয়ে ওযু করা

باب الوضوء بماء البرد

62

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ شَهِدْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى مَيِّتٍ فَسَمِعْتُ مِنْ دُعَائِهِ وَهُوَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَأَوْسِعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ "

Narrator: জুবাইর ইবন নুফাইর (রহঃ)

৬২। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... যুবাইর ইবনে নুফায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আউফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর নিকট গমন করি। তখন তিনি বলেছিলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযের সময় যে দু'আ পড়েছিলেন আমি তা শুনেছি। তিনি পড়ছিলেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَأَوْسِعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ

“হে আল্লাহ! আপনি তাকে মাফ করে দিন এবং তার উপর রহম করুন। তাকে আরাম দিন এবং ক্ষমা করুন। তার আতিথিয়তাকে সম্মানজনক করুন। তার কবর প্রশস্ত করুন এবং তাকে পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করুন। তাকে গুনাহ থেকে পবিত্র করুন যেমন সা’দা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়।

কুকুরের উচ্ছিষ্টের বর্ণনা

سؤر الكلب

63

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি তোমাদের কারও পাত্র থেকে কুকুর পান করে তবে সে যেন তার পাত্রটি সাতবার ধৌত করে।

64

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّ ثَابِتًا، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৪। ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারও পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেবে, তখন সে যেন তার পাত্রটি সাতবার ধৌত করে।

65

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ هِلاَلُ بْنُ أُسَامَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلَمَةَ، يُخْبِرُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ وسلم صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫। ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ......... অপর এক সূত্র হতে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে এবং তিনি নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

পাত্রে কুকুর মুখ দিলে পাত্রের জিনিস ঢেলে ফেলে দেয়ার নির্দেশ

الأمر بإراقة ما في الإناء إذا ولغ فيه الكلب

66

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُرِقْهُ ثُمَّ لْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ " قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ لاَ أَعْلَمُ أَحَدًا تَابَعَ عَلِيَّ بْنَ مُسْهِرٍ عَلَى قَوْلِهِ فَلْيُرِقْهُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৬। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন পাত্রের জিনিস ঢেলে ফেলে দেয়। তারপর যেন তা সাতবার ধুয়ে ফেলে।

কুকুরের মুখ দেয়া পাত্র মাটি দিয়ে পরিষ্কার করা সম্পর্কে

باب تعفير الإناء الذي ولغ فيه الكلب بالتراب

67

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ مُطَرِّفًا، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغَفَّلِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلاَبِ وَرَخَّصَ فِي كَلْبِ الصَّيْدِ وَالْغَنَمِ وَقَالَ " إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ بِالتُّرَابِ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

৬৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা সান’আনী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুকুর মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অবশ্য শিকার ও ছাগপালের পাহারাদারীর জন্য কুকুর রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছেন যে, কোন পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয় তখন তা সাতবার ধৌত করবে এবং অষ্টমবারে মাটি দ্বারা মেজে নেবে।

বিড়ালের উচ্ছিষ্ট

سؤر الهرة

68

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ، دَخَلَ عَلَيْهَا ثُمَّ ذَكَرَتْ كَلِمَةً مَعْنَاهَا فَسَكَبْتُ لَهُ وَضُوءًا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ فَشَرِبَتْ مِنْهُ فَأَصْغَى لَهَا الإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ - قَالَتْ كَبْشَةُ - فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا ابْنَةَ أَخِي فَقُلْتُ نَعَمْ . قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ " .

Narrator: কাবশা বিনতে কা'ব ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... কাবশা বিনতে কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবু কাতাদা (রাযিঃ) একদিন তাঁর নিকট আগমন করেন। তারপর কাবশা কিছু কথা বলেনঃ যার অর্থ হচ্ছে, আমি আবু কাতাদা (রাযিঃ) এর জন্য উযুর পানি রাখি। ইত্যবসরে একটি বিড়াল এসে পাত্র থেকে পানি পান করে। আবু কাতাদা (রাযিঃ) পাত্রটি কাত করে দিলে বিড়ালটি পানি পান করে। কাবশা বলেনঃ আবু কাতাদা (রাযিঃ) আমাকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ভাতিজী! (আমি বিড়ালকে পাত্র থেকে পানি পান করিয়েছে দেখে) তুমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছ কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, বিড়াল অপবিত্র নয়। কারণ যে সব প্রাণী প্রতিনিয়ত তোমাদের আশে পাশে থাকে, তাদের মধ্যে বিড়ালও একটি।

গাধার উচ্ছিষ্ট

باب سؤر الحمار

69

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَتَانَا مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَنْهَاكُمْ عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ فَإِنَّهَا رِجْسٌ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘোষণাকারী এসে বললোঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(ﷺ) তোমাদেরকে গাধার গোশত (খেতে) নিষেধ করেছেন। কেননা তা অপবিত্র।

ঋতুবতি মহিলার উচ্ছিষ্ট

باب سؤر الحائض

70

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنْتُ أَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ فَيَضَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاهُ حَيْثُ وَضَعْتُ وَأَنَا حَائِضٌ وَكُنْتُ أَشْرَبُ مِنَ الإِنَاءِ فَيَضَعُ فَاهُ حَيْثُ وَضَعْتُ وَأَنَا حَائِضٌ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭০। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে নিতাম। তারপর আমি যেখানে মুখ রাখতাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও সেখানে তাঁর মুখ রাখতেন। অথচ তখন আমি ঋতুমতি ছিলাম। আমি পাত্র থেকে পানি পান করতাম। তারপর তিনিও সে স্থানে মুখ রাখতেন, যেখানে আমি মুখ রাখতাম। অথচ আমি তখন ঋতুমতি ছিলাম।

নারী পুরুষের একসাথে ওযু করা

باب وضوء الرجال والنساء جميعا

71

أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، ح وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ يَتَوَضَّئُونَ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمِيعًا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭১। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় নারী-পুরুষ একত্রে উযু করতেন।[১]

[১] মুহাদ্দিস-ই সিন্ধী (রাহঃ) বলেন : একত্রে উযূ করার ঘটনা পর্দার নির্দেশ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের অথবা তা ছিল পর্যায়ক্রমিক। হযরত ইবন উমর (রাযিঃ) তা-ই বুঝিয়েছেন।

জুনুব[১] ব্যক্তির ( গোসলের পর ) অতিরিক্ত পানি

باب فضل الجنب

72

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، كَانَتْ تَغْتَسِلُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الإِنَاءِ الْوَاحِدِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... উরওয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একই পাত্রে গোসল করতেন।

[১] জুনুব- যে ব্যক্তির জন্য গোসল ফরয।

ওযু করতে একজন লোকের জন্য কতটুকু পরিমাণ পানি যথেষ্ট

باب القدر الذي يكتفي به الرجل من الماء للوضوء

73

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ بِمَكُّوكٍ وَيَغْتَسِلُ بِخَمْسَةِ مَكَاكِيَّ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৩। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মাক্কুক[১] পরিণাম পানি দ্বারা উযু করতেন এবং পাঁচ মাক্কুক পরিমাণ পানি দ্বারা গোসল করতেন।

[১] মাক্কুক অর্থ এক মুদ্দ। আর ১ মুদ্দ ইরাকের ফকীহগণের মতে ২ রতল বা ১ লিটার (প্রায়) এবং হিজাযের ফকীহগণের মতে ১ রতল ও ১ রতলের তিনভাগের একভাগ বা পৌণে ১ লিটার (প্রায়)। উল্লেখ্য, ১ রতল= ৪০ তোলা। -অনুবাদক
74

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، ثُمَّ ذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبَّادَ بْنَ تَمِيمٍ، يُحَدِّثُ عَنْ جَدَّتِي، وَهِيَ أُمُّ عُمَارَةَ بِنْتُ كَعْبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَأُتِيَ بِمَاءٍ فِي إِنَاءٍ قَدْرَ ثُلُثَىِ الْمُدِّ . قَالَ شُعْبَةُ فَأَحْفَظُ أَنَّهُ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ وَجَعَلَ يَدْلُكُهُمَا وَيَمْسَحُ أُذُنَيْهِ بَاطِنَهُمَا وَلاَ أَحْفَظُ أَنَّهُ مَسَحَ ظَاهِرَهُمَا .

Narrator: উম্মে উমারা বিনতে কা’ব (রাঃ)

৭৪। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... উম্মু আম্মারা বিনতে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী (ﷺ) উযু করেন (এ উযুর জন্য) এমন একটি পাত্রে পানি আনা হয় যাতে এক মুদ-এর দু’-তৃতীয়াংশ পানি ছিল। হাবীব থেকে বর্ণনাকারী শু’বা বলেনঃ আমার এ কথাও স্মরণ আছে যে, তিনি উভয় হাত মর্দন করে ধৌত করেন এবং উভয় কানের ভেতর দিকে মাসাহ করেন। কানের উপর দিকে মাসাহ করেছেন কিনা তা আমার খেয়াল নেই।

ওযুর নিয়ত

باب النية في الوضوء

75

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، عَنْ حَمَّادٍ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، ح وَأَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لاِمْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৭৫। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবী (রাহঃ), সুলাইমান ইবনে মনসুর (রাহঃ) ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সব কাজই নিয়ত অনুযায়ী হয়। মানুষ যা নিয়ত করে, তাই লাভ করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যক্তির হিজরত হবে দুনিয়া লাভের জন্য, সে তাই লাভ করবে। অথবা যার হিজরত হবে কোন মহিলাকে বিবাহ করার জন্য, তার হিজরত সে জন্যই হবে যার উদ্দেশ্য সে হিজরত করেছে।

পাত্র থেকে ওযু করা

الوضوء من الإناء

76

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَانَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَالْتَمَسَ النَّاسُ الْوَضُوءَ فَلَمْ يَجِدُوهُ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوءٍ فَوَضَعَ يَدَهُ فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَتَوَضَّئُوا فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখলাম যে, আসরের নামায নিকটবর্তী (অথচ পানি নেই) লোকেরা পানির অনুসন্ধান করল কিন্তু পানি পেল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি পাত্র আনা হয়। তিনি পাত্রটির ভেতরে হাত রাখেন এবং লোকদের উযু করার নির্দেশ দেন। আমি দেখলাম, তাঁর হাতের আঙ্গুল থেকে পানি উত্সারিত হচ্ছে। তাঁদের সর্বশেষ ব্যক্তিসহ সকলেই (সে পানি দ্বারা) উযু করলেন।

77

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَجِدُوا مَاءً فَأُتِيَ بِتَوْرٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَلَقَدْ رَأَيْتُ الْمَاءَ يَتَفَجَّرُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ وَيَقُولُ " حَىَّ عَلَى الطَّهُورِ وَالْبَرَكَةِ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " . قَالَ الأَعْمَشُ فَحَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ أَبِي الْجَعْدِ قَالَ قُلْتُ لِجَابِرٍ كَمْ كُنْتُمْ يَوْمَئِذٍ قَالَ أَلْفٌ وَخَمْسُ مِائَةٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৭৭। ইসহাক ইবনে ইবারাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা (এক সফরে) নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। লোকেরা পানি পচ্ছিলেন না। তাঁর কাছে একটি (তশতরীরর ন্যায়) পাত্র নিয়ে আসা হয়। এবং তিনি তাতে হাত ঢোকান। আমি দেখলাম, তাঁর হাতের আঙ্গুলের ফাঁক হতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলছিলেন, তোমরা আল্লাহর তরফ হতে পানি ও বরকত নিতে এসো। আ’মাশ (রাযিঃ) বলেনঃ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সালিম ইবনে আবুল জা’দ। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনারা তখন কতজন লোক ছিলেন? তিনি বলেনঃ আমরা তখন দেড় হাজার লোক ছিলাম।

ওযু করার সময় বিসমিল্লাহ পাঠ করা

باب التسمية عند الوضوء

78

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَقَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ طَلَبَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَضُوءًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ مَعَ أَحَدٍ مِنْكُمْ مَاءٌ " . فَوَضَعَ يَدَهُ فِي الْمَاءِ وَيَقُولُ " تَوَضَّئُوا بِسْمِ اللَّهِ " . فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ . قَالَ ثَابِتٌ قُلْتُ لأَنَسٍ كَمْ تُرَاهُمْ قَالَ نَحْوًا مِنْ سَبْعِينَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (কোন এক সফরে) নবী (ﷺ) এর কয়েকজন সাহাবী পানি তালাশ করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের কারো নিকট পানি আছে কি? (একজন পানি এনে দিলে) তিনি পানিতে হাত রাখলেন এবং বললেনঃ বিসমিল্লাহ বলে উযু কর। আমি তাঁর আঙ্গুলের ফাঁক থেকে পানি বের হতে দেখলাম। তাঁদের সর্বশেষ ব্যক্তিসহ সকলেই এই পানিতে উযু করেন। সাবিত (রাহঃ) বলেনঃ আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি উপস্থিত লোকের সংখ্যা কত মনে করেন? তিনি বললেন, সত্তরজনের মত।[১]

[১] হাদীসদ্বয়ে পৃথক পৃথক দু‘টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরুষের জন্য খাদেমের ওযুর পানি ঢেলে দেয়া

صب الخادم الماء على الرجل للوضوء

79

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكٍ، وَيُونُسَ، وَعَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ عَبَّادِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ، يَقُولُ سَكَبْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تَوَضَّأَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَمْ يَذْكُرْ مَالِكٌ عُرْوَةَ بْنَ الْمُغِيرَةِ .

Narrator: উরওয়া ইবনে মুগীরা (রহঃ)

৭৯। সুলাইমান ইবনে দাউদ ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... উরওয়া ইবনে মুগীরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা [মুগীরা (রাযিঃ)]-কে বলতে শুনেছেনঃ তাবূকের যুদ্ধে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উযু করার সময় পানি ঢেলে দিয়েছি। তিনি মোজার উপর মাসাহ করেছিলেন।

ওযুর অঙ্গসমুহ একবার করে ধৌত করা

الوضوء مرة مرة

80

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِوُضُوءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮০। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি তোমাদেরকে রাসূল (ﷺ) এর উযুর সংবাদ দেব কি? পরে তিনি (প্রত্যেক অঙ্গ) এক-একবার (ধৌত) করে উযু করলেন।

ওযুর অঙ্গসমুহ তিন তিন বার ধৌত করা

باب الوضوء ثلاثا ثلاثا

81

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ أَنْبَأَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي الْمُطَّلِبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، تَوَضَّأَ ثَلاَثًا ثَلاَثًا يُسْنِدُ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৮১। সুয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... মুত্তালিব আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তিন-তিনবার ধৌত করে উযু করেছেন এবং বলেছেন নবী (ﷺ) এরূপ উযু করেছেন।[১]

[১] উযূর অঙ্গসমূহ তিনবার করে ধৌত করা সুন্নত। একবার করে ধৌত করলে উযূ হয়ে যাবে কিন্তু সুন্নত আদায় হবে না। একে বলা হয় বয়ানে জাওয়ায। অর্থাৎ একবার করে ধৌত করলেও উযূ হয়ে যায়। অনুবাদক

ওযুর বর্ণনায় উভয় কব্জি ধৌত করা প্রসঙ্গে

صفة الوضوء :<br>غسل الكفين

82

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَصْرِيُّ، عَنْ بِشْرِ بْنِ الْمُفَضَّلِ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ رَجُلٍ، حَتَّى رَدَّهُ إِلَى الْمُغِيرَةِ - قَالَ ابْنُ عَوْنٍ وَلاَ أَحْفَظُ حَدِيثَ ذَا مِنْ حَدِيثِ ذَا - أَنَّ الْمُغِيرَةَ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَقَرَعَ ظَهْرِي بِعَصًا كَانَتْ مَعَهُ فَعَدَلَ وَعَدَلْتُ مَعَهُ حَتَّى أَتَى كَذَا وَكَذَا مِنَ الأَرْضِ فَأَنَاخَ ثُمَّ انْطَلَقَ . قَالَ فَذَهَبَ حَتَّى تَوَارَى عَنِّي ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ " أَمَعَكَ مَاءٌ " . وَمَعِي سَطِيحَةٌ لِي فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَأَفْرَغْتُ عَلَيْهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ وَذَهَبَ لِيَغْسِلَ ذِرَاعَيْهِ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ شَامِيَّةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَّيْنِ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَذَكَرَ مِنْ نَاصِيَتِهِ شَيْئًا وَعِمَامَتِهِ شَيْئًا - قَالَ ابْنُ عَوْنٍ لاَ أَحْفَظُ كَمَا أُرِيدُ ثُمَّ مَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ - ثُمَّ قَالَ " حَاجَتَكَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيْسَتْ لِي حَاجَةٌ فَجِئْنَا وَقَدْ أَمَّ النَّاسَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَقَدْ صَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ فَذَهَبْتُ لأُوذِنَهُ فَنَهَانِي فَصَلَّيْنَا مَا أَدْرَكْنَا وَقَضَيْنَا مَا سُبِقْنَا

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৮২। মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম বসরী (রাহঃ) ......... মুগীরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তাঁর কাছে একটি লাঠি ছিল। (পথের এক স্থানে) তিনি লাঠিটি দিয়ে আমার পিঠে ঠোকা দিলেন। পরে তিনি রাস্তা থেকে সরে গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে সরে গেলাম। (কিছুক্ষণ চলার পর) এক স্থানে এসে উট থামালেন। তারপর তিনি আবার চলতে লাগলেন। রাবী বলেনঃ তিনি এতদুর গেলেন যে, আমার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

(ক্ষণিক পর) ফিরে এসে বললেন, তোমার নিকট পানি আছে? আমার সাথে একটি পানির পাত্র ছিল। আমি তা নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম এবং পানি ঢেলে দিতে লাগলাম। তিনি তাঁর হাত মুখ ধুলেন এবং কব্জির উপরিভাগ ধৌত করতে চাইলেন। তখন তাঁর পরিধানে ছিল চিকন হাতার একটি শামী (সিরীয়) জুব্বা। তিনি জুব্বার ভেতর থেকে হাত বের করে আনলেন এবং মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করলেন। তিনি কপাল ও পাগড়ির কিছু অংশ মাসাহ করেছিলেন বলে রাবী উল্লেখ করেছেন।

(হাদীসের একজন রাবী) ইবনে আওন (রাহঃ) বলেনঃ আমার যেমন ইচ্ছা ছিল হাদীসটি তেমন স্মরণ রাখতে পারিনি। (অতঃপর রাবী বলেন) এরপর তিনি তাঁর মোজার উপর মাসাহ করেন এবং বললেনঃ তোমার প্রয়োজন সমাধা করো। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার প্রয়োজন নেই। তারপর আমরা চলে আসলাম। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) অগ্রগামী দলে ছিলেন।

(এদিকে রাসূল (ﷺ) এর বিলম্বের কারণে) আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) লোকদেরকে নিয়ে ফজরের নামায এক রাকআত আদায় করলেন। আমি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগমন সংবাদ দেয়ার ইচ্ছা করি কিন্তু তিনি (নবী (ﷺ)) আমাকে নিষেধ করেন। অতএব আমরা যতটুকু পেলাম তা (জামাআতে) আদায় করলাম এবং যা আমরা পাইনি তা নিজেরা আদায় করে নিলাম।

কব্জি কতবার ধৌত করতে হবে

كم تغسلان

83

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ سُفْيَانَ، - وَهُوَ ابْنُ حَبِيبٍ - عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْسٍ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَوْكَفَ ثَلاَثًا .

Narrator: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

৮৩। হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ (রাহঃ) ......... ইবনে আওস (রাহঃ) তাঁর দাদার নিকট থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে (উযুর সময়) তিনবার করে পানি ঢালতে দেখেছি।

কুলি করা ও নাক পরিষ্কার করা

المضمضة والاستنشاق

84

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ، قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ - رضى الله عنه - تَوَضَّأَ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلاَثًا فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاَثًا ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَهُ الْيُمْنَى ثَلاَثًا ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي ثُمَّ قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا بِشَىْءٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৮৪। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... হুমরান ইবনে আবান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) কে উযু করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতে পানি ঢেলে হাত ধৌত করেন। এরপর গড়গড়া করে কুলি করেন এবং নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন, তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং কনুই পর্যন্ত তিনবার ডান হাত ধৌত করেন। অনুরূপভাবে বাম হাতেও। এরপরে মাথা মাসাহ করেন এবং ডান পা তিনবার ধৌত করেন। অনুরূপভাবে বাম পাও। এভাবে উযু শেষ করে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এরূপ উযু করতে দেখেছি এবং বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমার এ উযুর ন্যায় উযু করবে এবং তারপরে একাগ্রতার সাথে দু’রাকআত নামায আদায় করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

কোন হাতে কুলি করতে হবে

بأي اليدين يتمضمض؟

85

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، - هُوَ ابْنُ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْحِمْصِيُّ عَنْ - شُعَيْبٍ، - هُوَ ابْنُ أَبِي حَمْزَةَ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ حُمْرَانَ، أَنَّهُ رَأَى عُثَّمَانَ دَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إِنَائِهِ فَغَسَلَهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْوَضُوءِ فَتَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ كُلَّ رِجْلٍ مِنْ رِجْلَيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ بِشَىْءٍ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ "

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৮৫। আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুগীরা (রাহঃ) ......... হুমরান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উসমান (রাযিঃ) কে উযুর পানি চাইতে দেখলেন। (পানি আনা হলে) তিনি পাত্র হতে হাতে পানি ঢালেন এবং হস্তদ্বয় তিনবার ধৌত করেন। পরে ডান হত পাত্রে ঢুকান এবং কুলি করেন ও পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করেন। এরপর মুখমণ্ডল ধৌত করেন তিনবার এবং কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করেন তিনবার।

এরপরে মাসাহ করেন ও প্রত্যেক পা তিনবার করে ধৌত করেন ও বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেছি যে, তিনি আমার উযুর ন্যায় উযু করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার এ উযুর ন্যায় উযু করবে এবং একাগ্রতা সহকারে দু’রাকআত নামায আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

নাক পরিষ্কার করা

اتخاذ الاستنشاق

86

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، ح وَحَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عِيسَى، عَنْ مَعْنٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً ثُمَّ لْيَسْتَنْثِرْ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৬। মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর ও হুসাইন ইবনে ঈসা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উযু করবে, তখন সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং নাক পরিষ্কার করে ফেলে।

নাকে ভালভাবে পানি দেয়া।

المبالغة في الاستنشاق

87

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ كَثِيرٍ، ح وَأَنْبَأَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ، قَالَ " أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَبَالِغْ فِي الاِسْتِنْشَاقِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِمًا "

Narrator: লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাঃ)

৮৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে উযু সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেনঃ পূর্ণরূপে উযু করবে, আর তুমি যদি রোযাদার না হও তাহলে উত্তমরূপে নাকে পানি পৌছাবে।

নাক ঝাড়ার নির্দেশ

الأمر بالاستنثار

88

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৮। কুতায়বা ও ইসহাক ইবনে মনসূর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি উযু করবে সে যেন নাক ঝাড়ে এবং যে ব্যক্তি ঢিলা ব্যবহার করবে সে যেন বেজোড় ব্যবহার করে।

89

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأْتَ فَاسْتَنْثِرْ وَإِذَا اسْتَجْمَرْتَ فَأَوْتِرْ " .

Narrator: সালামা ইবনে কায়স (রাঃ)

৮৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন উযু কর তখন নাক ঝেড়ে নাও। যখন কুলুখ ব্যবহার কর, তখন বেজোড় ব্যবহার কর।

ঘুম থেকে জেগে উঠার পর নাক ঝেড়ে ফেলার নির্দেশ

باب الأمر بالاستنثار عند الاستيقاظ من النوم

90

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زُنْبُورٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُ عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَتَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبِيتُ عَلَى خَيْشُومِهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯০। মুহাম্মাদ ইবনে যুমবূর মক্কী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে উযু করে, সে যেন তিনবার নাক ঝেড়ে নেয়। কেননা শয়তান নাকের (মস্তক সংলগ্ন) ছিদ্রের উপরিভাগে রাত্রি যাপন করে।

কোন হাতে নাক ঝাড়তে হবে ?

بأي اليدين يستنثر

91

أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّهُ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَنَثَرَ بِيَدِهِ الْيُسْرَى فَفَعَلَ هَذَا ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ هَذَا طُهُورُ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৯১। মুসা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি পানি আনতে বললেন, পরে তিনি কুলি করেন এবং নাকে পানি দেন। বামহাতে নাক ঝাড়েন। তিনবার এরূপ করেন। পরে বলেনঃ এই হল নবী (ﷺ)-এর উযু।

মুখমণ্ডল ধৌত করা

باب غسل الوجه

92

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، قَالَ أَتَيْنَا عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - وَقَدْ صَلَّى فَدَعَا بِطَهُورٍ فَقُلْنَا مَا يَصْنَعُ بِهِ وَقَدْ صَلَّى مَا يُرِيدُ إِلاَّ لِيُعَلِّمَنَا فَأُتِيَ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ وَطَسْتٍ فَأَفْرَغَ مِنَ الإِنَاءِ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهَا ثَلاَثًا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا مِنَ الْكَفِّ الَّذِي يَأْخُذُ بِهِ الْمَاءَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَغَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى ثَلاَثًا وَيَدَهُ الشِّمَالَ ثَلاَثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً وَاحِدَةً ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى ثَلاَثًا وَرِجْلَهُ الشِّمَالَ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَعْلَمَ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ هَذَا .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৯২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আব্দ খায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এর নিকট এলাম। এমতাবস্থায় যে, তিনি নামায আদায় করে ফেলেছেন। (আমাদেরকে দেখে) তিনি উযুর পানি আনতে বলেন। আমরা বললাম, তিনি তো নামায আদায় করেছেন, এখন পানি দিয়ে কি করবেন? (পরে বুঝলাম) তিনি আমাদেরকে উযু শিক্ষা দেওয়ার জন্যই এরূপ করেছেন। তাঁর হুকুম অনুযায়ী পানি ভর্তি একটি পাত্র ও অন্য একটি পাত্র আনা হল। তিনি পাত্র হতে পানি ঢেলে তিনবার হাত ধৌত করলেন।

এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে তিনবার কুলি করেন এবং ঐ পানির কিছু অংশ দিয়েই নাক ঝাড়েন তিনবার করে। এর পর তিন বার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। তার পর ডান ও বাম হাত তিনবার করে ধৌত করেন এবং একবার মাথা মাসাহ করেন। পরে ডান পা ও বাম পা তিনবার করে ধৌত করেন এবং বলেনঃ যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উযু জানতে আগ্রহী, সে জেনে রাখুক এটাই তাঁর উযু।

মুখমণ্ডল ধোয়ার সংখ্যা

عدد غسل الوجه

93

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُبَارَكِ - عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ عُرْفُطَةَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه أَنَّهُ أُتِيَ بِكُرْسِيٍّ فَقَعَدَ عَلَيْهِ ثُمَّ دَعَا بِتَوْرٍ فِيهِ مَاءٌ فَكَفَأَ عَلَى يَدَيْهٍ ثَلاَثًا ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ بِكَفٍّ وَاحِدٍ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا وَأَخَذَ مِنَ الْمَاءِ فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ - وَأَشَارَ شُعْبَةُ مَرَّةً مِنْ نَاصِيَتِهِ إِلَى مُؤَخَّرِ رَأْسِهِ - ثُمَّ قَالَ - لاَ أَدْرِي أَرَدَّهُمَا أَمْ لاَ - وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى طُهُورِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهَذَا طُهُورُهُ . وَقَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ وَالصَّوَابُ خَالِدُ بْنُ عَلْقَمَةَ لَيْسَ مَالِكَ بْنَ عُرْفُطَةَ

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৯৩। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর নিকট একটি বসার চৌকি নিয়ে আসা হয় এবং তিনি তাতে বসেন। পরে পানিভর্তি একটি পাত্র আনতে বলেন। (পানি আনা হলে) তিনি উভয় হাতের উপর পাত্রটি কাত করে তিনবার করে পানি ঢালেন। পরে এক-এক অঞ্জলি পানি দ্বারা তিনবার কুলি করেন ও নাকে পানি দেন এবং তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন। আর তিনবার করে কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করেন এবং হাতে কিছু পানি নিয়ে মাথা মাসাহ করেন।

শু’বা (আলোচ্য হাদীসের রাবী) তাঁর মাথার অগ্রভাগ থেকে মাথার শেষভাগ পর্যন্ত একবার ইঙ্গিত করে দেখান এবং বলেনঃ তিনি হাত দু’টি সম্মুখের দিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন কিনা তা আমার মনে নেই এবং তিনি [আলী (রাযিঃ)] তিনবার করে উভয় পা ধৌত করেন এবং তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উযু দেখে খুশি হতে চায় (সে যেন আমার এ উযু দেখে), এটাই তাঁর উযু।

দু’হাত ধৌত করা প্রসঙ্গে

غسل اليدين

94

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ عُرْفُطَةَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، قَالَ شَهِدْتُ عَلِيًّا دَعَا بِكُرْسِيٍّ فَقَعَدَ عَلَيْهِ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فِي تَوْرٍ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ بِكَفٍّ وَاحِدٍ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ غَمَسَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى وُضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهَذَا وَضُوؤُهُ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৯৪। আমর ইবনে আলী ও হুমায়দ ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ......... আব্দ খায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি একটি চৌকি আনতে বলেন। (চৌকি আনা হলে) তিনি তাতে বসেন এবং একটি পাত্রে পানি আনতে বলেন। (পানি আনা হলে) তিনি তিনবার করে উভয় হাত ধৌত করেন। এক-এক অঞ্জলি পানি দ্বারা তিনবার কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। পরে তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন ও উভয় হাত তিনবার করে ধৌত করেন। এরপর হাত পানির পাত্রে প্রবিষ্ট করান এবং মাথা মাসাহ করেন। পরে উভয় পা তিনবার করে ধৌত করেন এবং বলেনঃ যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উযু দেখে খুশি হতে চায় (সে যেন আমার উযু দেখে), এরূপই তাঁর উযু।

ওযুর বর্ণনা

باب صفة الوضوء

95

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِقْسَمِيُّ، قَالَ أَنْبَأَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي شَيْبَةُ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيٍّ، أَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي عَلِيٌّ، أَنَّ الْحُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ، قَالَ دَعَانِي أَبِي عَلِيٌّ بِوَضُوءٍ فَقَرَّبْتُهُ لَهُ فَبَدَأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهُمَا فِي وَضُوئِهِ ثُمَّ مَضْمَضَ ثَلاَثًا وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاَثًا ثُمَّ الْيُسْرَى كَذَلِكَ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ مَسْحَةً وَاحِدَةً ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلاَثًا ثُمَّ الْيُسْرَى كَذَلِكَ ثُمَّ قَامَ قَائِمًا فَقَالَ نَاوِلْنِي فَنَاوَلْتُهُ الإِنَاءَ الَّذِي فِيهِ فَضْلُ وَضُوئِهِ فَشَرِبَ مِنْ فَضْلِ وَضُوئِهِ قَائِمًا فَعَجِبْتُ فَلَمَّا رَآنِي قَالَ لاَ تَعْجَبْ فَإِنِّي رَأَيْتُ أَبَاكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ مِثْلَ مَا رَأَيْتَنِي صَنَعْتُ يَقُولُ لِوُضُوئِهِ هَذَا وَشُرْبِ فَضْلِ وَضُوئِهِ قَائِمًا .

Narrator: হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ)

৯৫। ইবরাহীম ইবনে হাসান মিকসামী (রাহঃ) ......... হুসাইন ইবনে আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার পিতা আলী (রাযিঃ) আমাকে উযুর পানি আনতে বলেন। আমি তাঁর নিকট পানি এনে দিলাম। তিনি উযু করতে আরম্ভ করলেন। (প্রথমে) উযুর পানিতে হাত ঢুকাবার পূর্বে হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিন বার কুলি করেন ও তিন বার নাক ঝাড়েন। তারপর তিন বার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং ডান হাত তিনবার কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন। অনুরূপভাবে বাম হাতে ধৌত করলেন এবং একবার মাথা মাসাহ করেন। তারপর টাখনু পর্যন্ত ডান পা তিনবার এবং অনুরূপভাবে বাম পা ধৌত করেন।

পরে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন, পানির পাত্রটা (আমার হাতে) দাও। আমি (তাঁর উযুর পর যে পানিটুকু পাত্রে ছিল তা সহ) পাত্রটি তাঁকে দিলাম। তিনি উযুর অবশিষ্ট পানিটুকু দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন। আমি তাঁকে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখে অবাক হলাম। তিনি আমার অবস্থা দেখে বললেনঃ অবাক হয়ো না। তুমি আমাকে যেমন করতে দেখলে, আমিও তোমার নানা নবী (ﷺ)-কে এরূপ করতে দেখেছি। আলী (রাযিঃ) তাঁর এ উযু এবং অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করা সম্পর্কে বলছিলেন।

দু’হাত ধৌত করার সংখ্যা

عدد غسل اليدين

96

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ، - وَهُوَ ابْنُ قَيْسٍ - قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - تَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ حَتَّى أَنْقَاهُمَا ثُمَّ تَمَضْمَضَ ثَلاَثًا وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَأَخَذَ فَضْلَ طَهُورِهِ فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ أَحْبَبْتُ أَنْ أُرِيَكُمْ كَيْفَ طَهُورُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৯৬। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হায়্যা ইবনে কায়স (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাযিঃ) কে উযু করতে দেখেছি। তিনি (সর্বপ্রথম) হাতের কব্জি পর্যন্ত অত্যন্ত পরিষ্কার করে ধৌত করেন। তারপর তিনবার কুলি করেন তিনবার নাকে পানি দেন ও তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার করে ধৌত করেন। পরে মাথা মাসাহ করেন এবং উভয় পা গোড়ালী পর্যন্ত ধৌত করেন। তারপর দাঁড়িয়ে উযুর অবশিষ্ট পানি পান করেন এবং বলেনঃ নবী (ﷺ) এর উযু পদ্ধতি কিরূপ ছিল, আমি তা তোমাদেরকে দেখাতে চেয়েছি। (তাই আমি তোমাদের উযু করে দেখালাম)।

ধৌত করার সীমা

باب حد الغسل

97

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى - هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ نَعَمْ . فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে উমারা মাযিনী (রহঃ)

৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... ইয়াহয়া মাযিনী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ ইবনে আসিম (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিভাবে উযু করতেন, আপনি আমাকে তা দেখাতে পারবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, দেখাতে পারি। এই বলে তিনি পানি আনতে বলেন। পানি আনা হলে তিনি হাতে পানি ঢালেন এবং উভয় হাত দু’দুবার করে ধৌত করেন।

তিনবার কুলি করেন ও তিনবার নাকে পানি দেন। পরে মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করেন এবং মাথা মাসাহ করেন। একবার দু’হাত পেছনে নেন, আর একবার মাথার সামনের দিকে আনেন। মাথার সামনের দিক হতে শুরু করে পেছনে ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে যান। আবার হাত ফিরিয়ে আনেন, মাথার যে স্থান থেকে মাসাহ শুরু করেছিলেন সে স্থান পর্যন্ত। পরিশেষে উভয় পা ধৌত করেন।

মাথা মাসাহ করার নিয়ম

باب صفة مسح الرأس

98

أَخْبَرَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَالِكٍ، - هُوَ ابْنُ أَنَسٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ - وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى - هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي، كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ نَعَمْ . فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدِهِ الْيُمْنَى فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ মাযিনী (রাঃ)

৯৮। উতবা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইয়াহয়া মাযিনী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ ইবনে আসিম মাযিনী (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিভাবে উযু করতেন তা আমাকে দেখাতে পারেন? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ হ্যাঁ, এরপর তিনি পানি আনতে বলেন। পানি আনা হলে তিনি ডান হাতে পানি ঢালেন এবং দু’বার করে উভয় হাত ধৌত করেন।

এরপর তিনবার কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এরপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন, অতপর দু’বার উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে দু’হাতে মাথা মাসাহ করেন। একবার সামনে আনেন একবার হাত পেছনে নেন, আর মাথার অগ্রভাগ হতে শুরু করেন এবং উভয় হাত পেছনে ঘাড় পর্যন্ত নেন। আবার মাসাহ যে স্থান থেকে শুরু করেন সে স্থান পর্যন্ত উভয় হাত ফিরিয়ে আনেন। তারপর উভয় পা ধৌত করেন।

মাথা মাসাহ এর সংখ্যা

عدد مسح الرأس

99

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، - الَّذِي أُرِيَ النِّدَاءَ - قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ مَرَّتَيْنِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّتَيْنِ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ মাযিনী (রাঃ)

৯৯। মুহাম্মাদ ইবনে মনসূর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উযু করতে দেখেছি। তিনি (হাত ধোয়া, কুলি করা ইত্যাদির পর) তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং দু’বার করে হাত ধৌত করেন এবং দুবার করে পা ধৌত করেন ও মাথা মাসাহ করেন দু’বার।[১]

[১] দু'বার মাথা মাসাহ্‌ করার অর্থ হচ্ছে একবার হাত পেছনে নেওয়া আর একবার মাথার পেছন থেকে সামনে ফিরিয়ে আনা।

মহিলাদের মাথা মাসাহ করা

باب مسح المرأة رأسها

100

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ جُعَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، سَالِمٌ سَبَلاَنُ قَالَ وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَسْتَعْجِبُ بِأَمَانَتِهِ وَتَسْتَأْجِرُهُ فَأَرَتْنِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ فَتَمَضْمَضَتْ وَاسْتَنْثَرَتْ ثَلاَثًا وَغَسَلَتْ وَجْهَهَا ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَتْ يَدَهَا الْيُمْنَى ثَلاَثًا وَالْيُسْرَى ثَلاَثًا وَوَضَعَتْ يَدَهَا فِي مُقَدَّمِ رَأْسِهَا ثُمَّ مَسَحَتْ رَأْسَهَا مَسْحَةً وَاحِدَةً إِلَى مُؤَخَّرِهِ ثُمَّ أَمَرَّتْ يَدَيْهَا بِأُذُنَيْهَا ثُمَّ مَرَّتْ عَلَى الْخَدَّيْنِ قَالَ سَالِمٌ كُنْتُ آتِيهَا مُكَاتَبًا مَا تَخْتَفِي مِنِّي فَتَجْلِسُ بَيْنَ يَدَىَّ وَتَتَحَدَّثُ مَعِي حَتَّى جِئْتُهَا ذَاتَ يَوْمٍ فَقُلْتُ ادْعِي لِي بِالْبَرَكَةِ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ . قَالَتْ وَمَا ذَاكَ قُلْتُ أَعْتَقَنِي اللَّهُ . قَالَتْ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ . وَأَرْخَتِ الْحِجَابَ دُونِي فَلَمْ أَرَهَا بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْمِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১০০। হুসাইন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ......... আবু আব্দুল্লাহ সালিম সাবলান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাযিঃ) তাঁর আমানতদারীতে অত্যন্ত মুগ্ধ ছিলেন এবং তাঁকে অর্থের বিনিময়ে কাজে নিযুক্ত করতেন। (সে) সালিম বলেনঃ আয়িশা (রাযিঃ) আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিভাবে উযু করতেন তা দেখান। তিনি তিনবার কুলি করেন ও নাক পরিষ্কার করেন। তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন। তিনবার করে ডান ও বাম হাত ধৌত করেন এবং হাত মাথার অগ্রভাগে রাখেন ও মাথার পেছন পর্যন্ত একবার মাসাহ করেন।

পরে তিনি উভয় কান মাসাহ করেন। তারপর মুখমণ্ডলে হাত বুলান। সালিম বলেনঃ আমি যখন মুকাতাব[১] ছিলাম তখন তাঁর নিকট আসা-যাওয়া করতাম। তিনি তখন আমার থেকে পর্দা করতেন না। তিনি আমার সম্মুখে বসতেন এবং আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। একদিন আমি তাঁর নিকট এলাম এবং বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! আপনি আমার জন্য বরকতের দু'আ করুন। তিনি বললেনঃ কিসের জন্য দুআ করব? বললাম, আল্লাহ আমাকে আযাদ করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন। (এই কথা বলে) তিনি আমার সামনে পর্দা ফেলে দিলেন। এরপর আমি তাঁকে কোনদিন দেখিনি।

[১] মুকাতাব : যে ক্রীতদাসের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মুক্তির চুক্তি হয়েছে, সে ক্রীতদাসকে মুকাতাব
বলা হয় ।

দু’কান মাসাহ করা প্রসঙ্গে

مسح الأذنين

101

أَخْبَرَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ أَيُّوبَ الطَّالَقَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّةً مَرَّةً وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ مَرَّةً . قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَأَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ ابْنَ عَجْلاَنَ يَقُولُ فِي ذَلِكَ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১০১। হায়সাম ইবনে আইয়্যুব তালাকানী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে উযু করতে দেখেছি। তিনি (প্রথমে) হাত ধৌত করেন এবং এক অঞ্জলি পানি দ্বারা কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। মুখমণ্ডল ও উভয় হাত একবার করে ধৌত করেন। একবার একবার মাথা ও উভয় কান মাসাহ করেন। আব্দুল আযীয (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে আজলান (রাহঃ) হতে যিনি শুনেছেন, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আজলান এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উভয় পা ধৌত করার কথাও বলেছেন।

মাথার সাথে কান মাসাহ করা ও তার বর্ণনা যা দিয়ে প্রমাণ করা হয় যে, উভয় কান মাথার অংশ

باب مسح الأذنين مع الرأس وما يستدل به على أنهما من الرأس

102

أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَرَفَ غَرْفَةً فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَرَفَ غَرْفَةً فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثُمَّ غَرَفَ غَرْفَةً فَغَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى ثُمَّ غَرَفَ غَرْفَةً فَغَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ بَاطِنِهِمَا بِالسَّبَّاحَتَيْنِ وَظَاهِرِهِمَا بِإِبْهَامَيْهِ ثُمَّ غَرَفَ غَرْفَةً فَغَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى ثُمَّ غَرَفَ غَرْفَةً فَغَسَلَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১০২। মুজাহিদ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু করেন (উভয় হাত ধৌত করেন)। তিনি এক অঞ্জলি পানি দ্বারা কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। আবার এক অঞ্জলি পানি নেন এবং মুখমণ্ডল ধৌত করেন। আবার এক অঞ্জলি পানি নিয়ে ডান হাত ধৌত করেন। আবার এক অঞ্জলি পানি নিয়ে বাম হাত ধৌত করেন। তারপর মাথা ও কান মাসাহ করেন। কানের ভেতর দিক শাহাদাত অঙ্গুলী ও বাহির দিক বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা মাসাহ করেন। আবার এক অঞ্জলি পানি নিয়ে ডান পা ধৌত করেন এবং এক অঞ্জলি পানি নিয়ে বাম পা ধৌত করেন।

103

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، وَعُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَتَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ فَإِذَا اسْتَنْثَرَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ أَنْفِهِ فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ فَإِذَا مَسَحَ بِرَأْسِهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَأْسِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلاَتُهُ نَافِلَةً لَهُ " قَالَ قُتَيْبَةُ عَنِ الصُّنَابِحِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ

Narrator: আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ)

১০৩। কুতায়বা ও উতবা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মুমিন বান্দা যখন উযু করে এবং কুলি করে, তখন তার মুখের গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন নাকে পানি দেয় তখন নাকের গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন মুখমণ্ডলের গুনাহ বের হয়ে যায়। এমনকি গুনাহ বের হয়ে যায় দু’চোখের পাতার নিচ থেকে। যখন হাত ধৌত করে, তখন হাতের গুনাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয়ে যায় দু’ হাতের নখের নিচ থেকে। যখন মাথা মাসাহ করে তখন মাথার গুনাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয়ে যায় তার দু’কান থেকে। যখন পা ধৌত করে, তখন পায়ের গুনাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয়ে যায় নখের নিচ থেকে। তারপর মসজিদে যাওয়া ও নামায আদায় করা তার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত (অতিরিক্ত সাওয়াব) হিসেবে গণ্য হয়।[১]

[১] নফল ইবাদত : উযূর দ্বারা মুমিন বান্দার যাবতীয় গুনাহ মাফ হয়ে যায়। তারপর মসজিদে গিয়ে তিনি ফরয, নফল সালাত ইত্যাদি যা কিছু আদায় করবেন তার সওয়াব তিনি অতিরিক্ত পাবেন।

পাগড়ীর উপর মাসাহ করা

باب المسح على العمامة

104

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، ح وَأَنْبَأَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ بِلاَلٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْخِمَارِ .

Narrator: বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ)

১০৪। হুসাইন ইবনে মনসূর (রাহঃ) ......... বিলাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মোজা ও পাগড়ির উপর মাসাহ্‌ করতে দেখেছি।

105

وَأَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَرْجَرَائِيُّ، عَنْ طَلْقِ بْنِ غَنَّامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، وَحَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنْ بِلاَلٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ .

Narrator: বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ)

১০৫। হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান জারজারায়ী[১] (রাহঃ) ......... বিলাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে উভয় মোজার উপর মাসাহ করতে দেখেছি।

[১] বাগদাদ এবং ওয়াসিতের মাঝখানে অবস্থিত একটি শহরের নাম জারজারায়া। হুসায়ন ইব্‌ন আব্দুর রহমান এখানকার অধিবাসী ছিলেন বলে তাঁকে জারজারায়ী বলা হয়েছে।
106

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ بِلاَلٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخِمَارِ وَالْخُفَّيْنِ .

Narrator: বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ)

১০৬। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... বিলাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পাগড়ি ও মোজার উপর মাসাহ্‌ করতে দেখেছি।

মাথার অগ্রভাগ সহ পাগড়ী উপর মাসাহ করা

باب المسح على العمامة مع الناصية

107

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَمَسَحَ نَاصِيَتَهُ وَعِمَامَتَهُ وَعَلَى الْخُفَّيْنِ . قَالَ بَكْرٌ وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيهِ .

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১০৭। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... মুগীরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু করেন। তাতে মাথার অগ্রভাগ[১] পাগড়ি ও মোজার উপর মাসাহ্‌ করেন।

[১] অর্থাৎ মাথার সম্মুখ দিকের কপাল-সংলগ্ন অংশ।
108

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ تَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَخَلَّفْتُ مَعَهُ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قَالَ " أَمَعَكَ مَاءٌ " . فَأَتَيْتُهُ بِمِطْهَرَةٍ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثُمَّ ذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ فَضَاقَ كُمُّ الْجُبَّةِ فَأَلْقَاهُ عَلَى مَنْكِبَيْهِ فَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ وَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ وَعَلَى الْعِمَامَةِ وَعَلَى خُفَّيْهِ .

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১০৮। আমর ইবনে আলী ও হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শু’বাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এক সফরে কাফেলা থেকে) পেছনে থেকে যান। আমিও তার সঙ্গে পেছনে থেকে যাই। তিনি পায়খানা-পেশাবের কাজ সমাধা করলেন। তারপর আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার নিকট কি পানি আছে? আমি তার নিকট একটি পানির পাত্র নিয়ে উপস্থিত হলাম। তিনি হাত ও মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। তারপর কনুই থেকে আস্তিন উপরে উঠাতে চাইলেন। কিন্তু জামার হাতা সংকীর্ণ হওয়াতে তিনি তা পারলেন না। তাই জামার হাতা খুলে কাঁধের উপর রেখে দেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করেন এবং মাথার অগ্রভাগ ও পাগড়ির উপর মাসাহ্‌ করেন এবং মোজার উপর মাসাহ্‌ করেন।

পাগড়ীর উপর কীভাবে মাসাহ করতে হবে ?

باب كيف المسح على العمامة

109

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ وَهْبٍ الثَّقَفِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، قَالَ خَصْلَتَانِ لاَ أَسْأَلُ عَنْهُمَا أَحَدًا بَعْدَ مَا شَهِدْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - كُنَّا مَعَهُ فِي سَفَرٍ فَبَرَزَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ جَاءَ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ وَجَانِبَىْ عِمَامَتِهِ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ قَالَ وَصَلاَةُ الإِمَامِ خَلْفَ الرَّجُلِ مِنْ رَعِيَّتِهِ فَشَهِدْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَاحْتَبَسَ عَلَيْهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَقَامُوا الصَّلاَةَ وَقَدَّمُوا ابْنَ عَوْفٍ فَصَلَّى بِهِمْ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى خَلْفَ ابْنِ عَوْفٍ مَا بَقِيَ مِنَ الصَّلاَةِ فَلَمَّا سَلَّمَ ابْنُ عَوْفٍ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَضَى مَا سُبِقَ بِهِ .

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১০৯ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আমর ইবনে ওয়াহব সাকাফী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) কে বলতে শুনছি যে, দু’টি বিষয়ে আমি কারো নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করব না। কেননা এ দু’টি কাজের সময় আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। (একটি হল মাসাহ) তিনি বলেনঃ আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। তিনি পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে বাইরে গেলেন। সেখান থেকে এসে উযু করেন এবং মাথার অগ্রভাগ ও পাগড়ির দু’ পার্শ্ব এবং মোজার উপর মাসাহ্‌ করেন। আর (দ্বিতীয়টি হল) অধঃস্তনের পিছনে ইমামের (নেতার) নামায আদায় করা।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ফিয়েছিলেন। আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। (তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধার জন্য) দূরে চলে গিয়েছিলেন। এদিকে নামায এর সময় হয়ে যায়। (নামায এর সময় শেষ হচ্ছে দেখে) লোকেরা নামায শুরু করে দিল। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) কে তারা ইমাম নিযুক্ত করেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করলেন। (এমন সময়) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে আসেন এবং ইবনে আউফের পেছনে অবশিষ্ট নামায আদায় করেন। ইবনে আউফ সালাম ফিরালে নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে যান এবং যতটুকু নামায ছুটে গিয়েছিল তিনি তা আদায় করেন।

উভয় পা ধোওয়া ওয়াজিব

باب إيجاب غسل الرجلين

110

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَأَنْبَأَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم " وَيْلٌ لِلْعَقِبِ مِنَ النَّارِ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১০। কুতায়বা ও মুয়াম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবুল কাসেম (রাসূলুল্লাহ) (ﷺ) বলেছেনঃ (উযুর সময়) যার পায়ের গোড়ালী শুষ্ক থাকবে, তাদের জন্য জাহান্নামের দুর্ভোগ।

111

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَأَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْمًا يَتَوَضَّئُونَ فَرَأَى أَعْقَابَهُمْ تَلُوحُ فَقَالَ " وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১১১। মাহমুদ ইবনে গায়লান ও আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক দল লোককে উযু করতে দেখেন। তাদের পায়ের গোড়ালির প্রতি লক্ষ্য করে দেখেন যে, তা শুষ্ক রয়েছে। তখন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেনঃ যাদের পায়ের গোড়ালী শুষ্ক থাকবে, তাদের জন্য জাহান্নামের দুর্ভোগ। তোমরা পরিপূর্ণরূপে উযু কর।

কোন পা প্রথমে ধৌত করবে ?

باب بأي الرجلين يبدأ بالغسل

112

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي الأَشْعَثُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - وَذَكَرَتْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُحِبُّ التَّيَامُنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي طُهُورِهِ وَنَعْلِهِ وَتَرَجُّلِهِ . قَالَ شُعْبَةُ ثُمَّ سَمِعْتُ الأَشْعَثَ بِوَاسِطٍ يَقُولُ يُحِبُّ التَّيَامُنَ فَذَكَرَ شَأْنَهُ كُلَّهُ ثُمَّ سَمِعْتُهُ بِالْكُوفَةِ يَقُولُ يُحِبُّ التَّيَامُنَ مَا اسْتَطَاعَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১২। মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু করা, জুতা পরিধান করা ও চুল আঁচড়াতে যথাসম্ভব ডানদিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। হাদীসের অন্যতম রাবী শু’বা বলেনঃ ওয়াসিত শহরে আমি আশয়াছ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন তাঁর সকল কাজ। তারপর কূফাতে আমি তাকে বলতে শুনেছি, তিনি [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] যথাসাধ্য ডানদিক হতে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন।

দু’ হাত দিয়ে দু’ পা ধোয়া

غسل الرجلين باليدين

113

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو جَعْفَرٍ الْمَدَنِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُثْمَانَ بْنِ حُنَيْفٍ، - يَعْنِي عُمَارَةَ - قَالَ حَدَّثَنِي الْقَيْسِيُّ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَأُتِيَ بِمَاءٍ فَقَالَ عَلَى يَدَيْهِ مِنَ الإِنَاءِ فَغَسَلَهُمَا مَرَّةً وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ مَرَّةً مَرَّةً وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ بِيَمِينِهِ كِلْتَيْهِمَا

Narrator: কায়সী (রাঃ)

১১৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... (আব্দুর রহমান ইবনে আব্দ) কায়সী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক সফরে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলেন, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য পানি আনা হলে তিনি পাত্র থেকে পানি ঢালেন এবং উভয় হাত একবার ধৌত করেন। এক-একবার করে মুখমণ্ডল ও দু’হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে উভয় হাত দ্বারা পদদ্বয় ধৌত করেন।

আঙ্গুল খিলাল করার নির্দেশ

الأمر بتخليل الأصابع

114

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ كَثِيرٍ، وَكَانَ، يُكْنَى أَبَا هَاشِمٍ ح وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَوَضَّأْتَ فَأَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الأَصَابِعِ " .

Narrator: লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাঃ)

১১৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফে (রাহঃ) ......... লাকীত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি যখন উযু করবে পরিপূর্ণরূপে উযু করবে এবং আঙ্গুল খিলাল করবে।

দু’পা ধৌত করার সংখ্যা

عدد غسل الرجلين

115

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ، عَنِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي وَغَيْرُهُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ الْوَادِعِيِّ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا تَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثًا وَتَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا قَالَ هَذَا وُضُوءُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১১৫। মুহাম্মাদ ইবনে আদম (রাহঃ) ......... আবু হাইয়াহ ওয়াদায়ী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাযিঃ) কে উযু করতে দেখেছি। তিনি তিনবার উভয় হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করেন, তিনবার কুলি করেন, তিনবার নাক পরিষ্কার করেন, তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং তিনবার উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে মাথা মাসাহ্‌ করেন এবং উভয় পা তিনবার করে ধৌত করেন এবং বলেনঃ এটাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উযু।

(হাত ও পা) ধৌত করার সীমা

باب حد الغسل

116

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَزِيدَ اللَّيْثِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُثْمَانَ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ "

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১১৬। আহমদ ইবনে আমর (রাহঃ) ও হারিস ইবনে মিসকীন ......... হুমরান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উসমান (রাযিঃ) উযুর পানি আনতে বলেন। প্রথমে তিনি তিনবার উভয় হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। তারপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন। এরপর তিনি তিন-তিনবার ডান ও বাম হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন। এরপর মাথা মাসাহ্‌ করেন এবং তিন-তিনবার ডান ও বাম পা গোড়ালী পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এরূপ উযু করতে দেখেছি। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার এই উযুর ন্যায় উযু করবে এবং দাঁড়িয়ে দু’রাকআত নামায (তাহিয়্যাতুল উযু) একাগ্রচিত্তে আদায় করবে, তার পেছনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

জুতা পরা অবস্থায় ওযু করার প্রসঙ্গে

باب الوضوء في النعل

117

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، وَمَالِكٍ، وَابْنِ، جُرَيْجٍ عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ رَأَيْتُكَ تَلْبَسُ هَذِهِ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ وَتَتَوَضَّأُ فِيهَا . قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلْبَسُهَا وَيَتَوَضَّأُ فِيهَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১৭। মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... উবাইদ ইবনে জুরাইজ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বললামঃ আমি দেখেছি আপনি এই সিবতী[১] জুতা পরিধান করেন এগুলো পরিধান করেই উযু করেন (এর কারণ কি)? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ সিবতী জুতা পরিধান করতে এবং তা রেখে উযু করতে দেখেছি।

[১] গরুর চামড়া দ্বারা তৈরী এক প্রকার জুতা, যার লোম উঠিয়ে ফেলা হয়েছে।

মোজার উপর মাসাহ করা

باب المسح على الخفين

118

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقِيلَ لَهُ أَتَمْسَحُ فَقَالَ قَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ . وَكَانَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ يُعْجِبُهُمْ قَوْلُ جَرِيرٍ وَكَانَ إِسْلاَمُ جَرِيرٍ قَبْلَ مَوْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِيَسِيرٍ .

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

১১৮। কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উযু করেন এবং মোজার উপর মাসাহ্‌ করেন। তাকে বলা হল, কি ব্যাপার! আপনি মোজার উপর মাসাহ্‌ করেন? তিনি উত্তরে বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মাসাহ্‌ করতে দেখেছি। আব্দুল্লাহর শাগরিদগণ জারীরের এই কথা পছন্দ করতেন। আর জারীর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর ইন্‌তিকালের সামান্য কিছুকাল পূর্বে ইসলাম কবুল করেন।

119

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ .

Narrator: আমর ইবনে উমাইয়্যা যামরী (রাঃ)

১১৯। আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম (রাহঃ) ......... আমর ইবনে উমাইয়া যামরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উযু করতে এবং (উযুতে) মোজার উপর মাসাহ্‌ করতে দেখেছেন।

120

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، دُحَيْمٌ وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ نَافِعٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِلاَلٌ الأَسْوَاقَ فَذَهَبَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ خَرَجَ قَالَ أُسَامَةُ فَسَأَلْتُ بِلاَلاً مَا صَنَعَ فَقَالَ بِلاَلٌ ذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ ثُمَّ صَلَّى .

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

১২০। আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম দুহায়ম (রাহঃ) ও সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং বিলাল (রাযিঃ) হারামে মদীনায় (আসওয়াক) প্রবেশ করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে বাইরে যান এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসেন। উসামা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি বিলাল (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে কি করেছেন? বিলাল (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) তার প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে উযু করেন। তার মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করেন, মাথা ও মোজার উপর মাসাহ করেন। তারপর নামায আদায় করেন।

121

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১২১। সুলাইমান ইবনে দাউদ ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মোজার উপর মাসাহ্‌ করেছেন।

122

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ أَنَّهُ لاَ بَأْسَ بِهِ

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১২২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) সূত্রে মোজার উপর মাসাহ্‌ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, মোজার উপর মাসাহ্‌ করাতে কোন অসুবিধা নেই।

123

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عِيسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ فَلَمَّا رَجَعَ تَلَقَّيْتُهُ بِإِدَاوَةٍ فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثُمَّ ذَهَبَ لِيَغْسِلَ ذِرَاعَيْهِ فَضَاقَتْ بِهِ الْجُبَّةُ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ أَسْفَلِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَهُمَا وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ثُمَّ صَلَّى بِنَا .

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১২৩। আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শু’বাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) (একদা) পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি যখন প্রত্যাবর্তন করেন তখন আমি পানির পাত্র নিয়ে উপস্থিত হই। আমি তাঁকে পানি ঢেলে দেই, তিনি উযু করেন। (প্রথমে) হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে মুখমণ্ডল ধৌত করেন। তারপর কনুই পর্যন্ত হাত ধুতে চান। কিন্তু জামার হাতা চিকন হওয়াতে তা পারেন নি। তাই জুব্বার (জামার) নিচ দিয়ে হাত বের করেন কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন এবং মোজার উপর মাসাহ্‌ করেন। এরপর আমাদের সঙ্গে নিয়ে নামায আদায় করেন।

124

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ أَبِيهِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ خَرَجَ لِحَاجَتِهِ فَاتَّبَعَهُ الْمُغِيرَةُ بِإِدَاوَةٍ فِيهَا مَاءٌ فَصَبَّ عَلَيْهِ حَتَّى فَرَغَ مِنْ حَاجَتِهِ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ .

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১২৪। কুতা’ইয়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ......... মুগীরাহ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার প্রয়োজন সমাধার জন্য বের হলেন। মুগীরা (রাযিঃ) পানির পাত্র নিয়ে তার অনুগমন করলেন। নবী(ﷺ) তার প্রয়োজন সামাধার পর উযু করেন এবং মোজার উপর মাসাহ্‌ করেন। উযু করার সময় মুগীরা (রাযিঃ) তাঁকে পানি ঢেলে দেন।

ভ্রমনে মোজার উপর মাসাহ করা প্রসঙ্গে

باب المسح على الخفين في السفر

125
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ حَمْزَةَ بْنَ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَقَالَ " تَخَلَّفْ يَا مُغِيرَةُ وَامْضُوا أَيُّهَا النَّاسُ " . فَتَخَلَّفْتُ وَمَعِي إِدَاوَةٌ مِنْ مَاءٍ وَمَضَى النَّاسُ فَذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ فَلَمَّا رَجَعَ ذَهَبْتُ أَصُبُّ عَلَيْهِ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَّيْنِ فَأَرَادَ أَنْ يُخْرِجَ يَدَهُ مِنْهَا فَضَاقَتْ عَلَيْهِ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَا نَعْلَمُ أَحَدًا تَابَعَ أَبَا قَيْسٍ عَلَى هَذِهِ الرِّوَايَةِ وَالصَّحِيحُ عَنِ الْمُغِيرَةِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ .

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১২৫ (ক) মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এক সফরে নবী এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ হে মুগীরা! তুমি পেছনে থাক এবং (লোকদের বললেন,) হে লোক সকল! তোমরা চলতে থাক। আমি (কাফেলার) পেছনে থাকলাম, আমার সঙ্গে পানির একটি পাত্র ছিল। লোকেরা চলে গেলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার প্রয়োজন সমাধার জন্য গেলেন। তিনি যখন ফিরে আসেন তখন আমি তাঁকে (উযুর জন্য) পানি ঢেলে দিতে থাকি। তার পড়নে চিকন হাতাওয়ালা একটি রূমী জুব্বা ছিল। তিনি তার হাত বের করতে চাইলেন কিন্তু জামার হাতা চিকন হওয়ার কারণে পারলেন না। ফলে জুব্বার নীচের দিক দিয়ে হাত বের করেন। তারপর মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করেন এবং মাথা ও মোজার উপর মাসাহ্‌ করেন।

সহীহ। [পূর্বোক্ত হাদীস দ্রঃ]

১২৫ (খ) মুগীরাহ ইবনে শু’বাহ (রঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল (ﷺ) জওরাবাহ (সুতি মোজা) এবং জুতোর উপর মাসাহ করেছেন। আবু আব্দুর রহমান বলেন, এই বর্ণনায় কেউ আবু কাইস এর অনুসরণ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মুগীরাহ হতে সঠিক বর্ণনা এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মোজার উপর মাসাহ করেছিলেন।

সহীহ, ইবনে মাজাহ হাঃ ৫৫৯, ইরউয়াউল গালীল হাঃ ১০১।

মুসাফিরের জন্য মোজার উপর মাসাহ করার সময়সীমা

باب التوقيت في المسح على الخفين للمسافر

126

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، قَالَ رَخَّصَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كُنَّا مُسَافِرِينَ أَنْ لاَ نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ

Narrator: সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাঃ)

১২৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদেরকে, আমরা যখন সফরে থাকি তখন আমাদের মোজা তিন দিন তিন রাত না খোলার অনুমতি দিয়েছেন।

127

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرُّهَاوِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَمَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، وَزُهَيْرٌ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ سَأَلْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا مُسَافِرِينَ أَنْ نَمْسَحَ عَلَى خِفَافِنَا وَلاَ نَنْزِعَهَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ

Narrator: সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাঃ)

১২৭। আহমদ ইবনে সুলাইমান রাহাভী (রাহঃ) ......... যির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাযিঃ) কে মোজার উপর মাসাহ্‌ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলাম। তিনি বলেছিলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে আদেশ করতেন, আমরা যখন সফররত অবস্থায় থাকি তখন যেন মোজার উপর মাসাহ্‌ করি এবং জানাবাতের অবস্থা ব্যতীত, পায়খানা-পেশাব অথবা নিদ্রার কারণে তিনদিন তা না খুলি।

মুকীমের জন্য মোজার উপর মাসাহ করার সময়সীমা

التوقيت في المسح على الخفين للمقيم

128

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْمُسَافِرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ يَعْنِي فِي الْمَسْحِ

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১২৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাসেহের ব্যাপারে মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকীমের জন্য একদিন এক রাত সময় নির্ধারণ করেছেন।

129

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتِ ائْتِ عَلِيًّا فَإِنَّهُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ مِنِّي . فَأَتَيْتُ عَلِيًّا فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْمَسْحِ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا أَنْ يَمْسَحَ الْمُقِيمُ يَوْمًا وَلَيْلَةً وَالْمُسَافِرُ ثَلاَثًا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৯। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... শুরাইহ ইবনে হানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে মোজার উপর মাসাহ্‌ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ আলী (রাযিঃ) এর নিকট যাও, তিনি এ ব্যাপারে আমার থেকে অধিক জ্ঞাত। তারপর আমি আলী (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম এবং তাকে মাসাহর ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের আদেশ করতেন যে, মুকীম একদিন একরাত ও মুসাফির তিনদিন তিনরাত মাসাহ্‌ করবে।

ওযু ভঙ্গ হওয়া ছাড়া ওযু করার বর্ণনা

صفة الوضوء من غير حدث

130

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّزَّالَ بْنَ سَبْرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ قَعَدَ لِحَوَائِجِ النَّاسِ فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ أُتِيَ بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ فَأَخَذَ مِنْهُ كَفًّا فَمَسَحَ بِهِ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَرَأْسَهُ وَرِجْلَيْهِ ثُمَّ أَخَذَ فَضْلَهُ فَشَرِبَ قَائِمًا وَقَالَ إِنَّ نَاسًا يَكْرَهُونَ هَذَا وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ وَهَذَا وُضُوءُ مَنْ لَمْ يُحْدِثْ

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৩০। আমর ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) আব্দুল মালিক মায়সারা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাযযাল ইবনে সাবরাহকে বলতে শুনেছি যে, আমি আলী (রাযিঃ) কে দেখলাম যে, তিনি যোহরের নামায আদায় করলেন এবং জনসাধারণের প্রয়োজন পূরণার্থে বসলেন। যখন আসরের সময় উপস্থিত হল তখন তার নিকট একটি পানির পাত্র আনা হল। তিনি তা হতে এককোষ পানি নিলেন এবং তা দ্বারা মুখমণ্ডল, হস্তদ্বয়, মাথা এবং উভয় পা মাসাহ্‌ করলেন। পরে দাঁড়িয়ে উদ্ধৃত্ত পানি পান করলেন এবং বললেনঃ অনেক লোক এরূপ পান করাকে খারাপ মনে করে। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এরূপ করতে দেখেছি। আর এটা হল ঐ ব্যক্তির উযু, যার উযু ভঙ্গ হয়নি।

প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযু করা প্রসঙ্গে

الوضوء لكل صلاة

131

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ ذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِإِنَاءٍ صَغِيرٍ فَتَوَضَّأَ . قُلْتُ أَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَأَنْتُمْ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الصَّلَوَاتِ مَا لَمْ نُحْدِثْ قَالَ وَقَدْ كُنَّا نُصَلِّي الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৩১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আমর ইবনে আমির (রাহঃ) সূত্রে আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পানির একটি ছোট পাত্র আনা হল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু করলেন। আমি (আমর) বললাম, নবী(ﷺ) কি প্রত্যেক নামাযের জন্য উযু করতেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমর বললেনঃ আর আপনারা (সাহাবীগণ)? তিনি বললেঃ আমরা উযু ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করতাম। তিনি (আমর) বলেনঃ আমরা একই উযু দ্বারা একাধিক নামায আদায় করতাম।

132

أَخْبَرَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنَ الْخَلاَءِ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فَقَالُوا أَلاَ نَأْتِيكَ بِوَضُوءٍ فَقَالَ " إِنَّمَا أُمِرْتُ بِالْوُضُوءِ إِذَا قُمْتُ إِلَى الصَّلاَةِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩২। যিয়াদ ইবনে আইয়্যুব (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শৌচাগার থেকে বের হলে তার নিকট কিছু খাদ্য আনা হল। উপস্থিত লোকেরা বললেনঃ আপনার জন্য উযুর পানি আনব কি? তিনি বললেন, আমাকে তো উযু করার আদেশ করা হয়েছে যখন আমি নামাযের জন্য প্রস্তুত হই।

133

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْفَتْحِ صَلَّى الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ فَعَلْتَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَفْعَلُهُ . قَالَ " عَمْدًا فَعَلْتُهُ يَا عُمَرُ "

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

১৩৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক নামাযের জন্য উযু করতেন। কিন্তু মক্কা বিজয়ের দিন তিনি একই উযু দ্বারা কয়েক ওয়াক্তের নামায আদায় করলেন। তখন উমর (রাযিঃ) তাঁকে বললেনঃ (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আজ আপনি এমন কাজ করলেন যা এর পূর্বে করেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে উমর! ইচ্ছা করেই আমি এরূপ করেছি।

(ওযুর পর) পানি ছিটানো

باب النضح

134

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا تَوَضَّأَ أَخَذَ حَفْنَةً مِنْ مَاءٍ فَقَالَ بِهَا هَكَذَا - وَوَصَفَ شُعْبَةُ - نَضَحَ بِهِ فَرْجَهُ فَذَكَرْتُهُ لإِبْرَاهِيمَ فَأَعْجَبَهُ قَالَ الشَّيْخُ ابْنُ السُّنِّيِّ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَكَمُ هُوَ ابْنُ سُفْيَانَ الثَّقَفِيُّ رضى الله عنه .

Narrator: হাকাম ইবনে সুফয়ান

১৩৪। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... হাকাম (রাহঃ) এর পিতা সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উযু করতেন তখন এককোষ পানি নিতেন এবং তা এরূপ ছিটাতেন। শু’বাহ (বিশিষ্ট রাবী) তা স্বীয় পুরুষাঙ্গের উপর ছিটিয়ে দেখালেন। আমি এটা ইবরাহীমের নিকট উল্লেখ করলে তিনি আশ্চর্যাম্বিত হলেন। শায়খ ইবনে সুন্নি বলেনঃ হাকাম সুফিয়ান সাকাফীর পুত্র।

135

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَحْوَصُ بْنُ جَوَّابٍ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، ح وَأَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا قَاسِمٌ، - وَهُوَ ابْنُ يَزِيدَ الْجَرْمِيُّ - قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ سُفْيَانَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَنَضَحَ فَرْجَهُ قَالَ أَحْمَدُ فَنَضَحَ فَرْجَهُ

Narrator: হাকাম ইবনে সুফয়ান

১৩৫। আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ দুরী ও আহমদ ইবনে হারব (রাহঃ) ......... হাকাম ইবনে সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি, তিনি উযু করলেন এবং লজ্জাস্থানের প্রতি পানি ছিটালেন। আহমদ বলেছেন, পরে লজ্জাস্থানের উপর পানি ছিটালেন।

ওযুর উদ্ধৃত্ত পানি দ্বারা লাভবান হওয়া

باب الانتفاع بفضل الوضوء

136

أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ سَيْفٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَتَّابٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - تَوَضَّأَ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ قَامَ فَشَرِبَ فَضْلَ وَضُوئِهِ وَقَالَ صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا صَنَعْتُ

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৩৬। আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে সায়ফ (রাহঃ) ......... আবু হাইয়্যাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আলী (রাযিঃ) কে দেখলাম, তিনি তিন-তিন বার করে (উযুর অঙ্গগুলো ধৌত করে) উযু করলেন, পরে দাঁড়ালেন এবং উযুর উদ্ধৃত্ত পানি পান করলেন, আর বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপ করেছিলেন আমি সেরূপ করেছি।

137

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ شَهِدْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِالْبَطْحَاءِ وَأَخْرَجَ بِلاَلٌ فَضْلَ وَضُوئِهِ فَابْتَدَرَهُ النَّاسُ فَنِلْتُ مِنْهُ شَيْئًا وَرَكَزْتُ لَهُ الْعَنَزَةَ فَصَلَّى بِالنَّاسِ وَالْحُمُرُ وَالْكِلاَبُ وَالْمَرْأَةُ يَمُرُّونَ بَيْنَ يَدَيْهِ

Narrator: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

১৩৭। মুহাম্মাদ ইবনে মনসূর (রাহঃ) ......... আবু জুহাইফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বাতহা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন দেখলাম বিলাল (রাযিঃ) তার উযুর অবশিষ্ট পানি পান করলেন, আর লোক সেদিকে দৌড়াচ্ছে। আমিও তার কিছু পেলাম। তারপর তার সম্মুখে একটি লাঠি স্থাপন করা হল। তিনি লোকদের ইমাম হয়ে নামায আদায় করলেন। আর গাধা, কুকুর এবং স্ত্রীলোক তার সম্মুখ দিয়ে চলাচল করছিল।

138

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ الْمُنْكَدِرِ، يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرًا، يَقُولُ مَرِضْتُ فَأَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ يَعُودَانِّي فَوَجَدَانِي قَدْ أُغْمِيَ عَلَىَّ فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَبَّ عَلَىَّ وَضُوءَهُ

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩৮। মুহাম্মাদ ইবনে মনসূর (রাহঃ) ......... সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মুনকাদির (রাহঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ আমি জাবির (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি একবার অসুস্থ হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে দেখতে আসলেন। তারা দেখলেন আমি জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছি। এরূপ দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু করলেন এবং আমার উপর তার উযুর পানি ছিটিয়ে দিলেন।

ওযু ফরয হওয়া প্রসঙ্গে

باب فرض الوضوء

139

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةً بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلاَ صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ "

Narrator: উসামা ইবনে উমায়র হুযালী (রাঃ)

১৩৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা ব্যতীত কোন নামায কবুল করেন না এবং অবৈধভাবে অর্জিত মালের সাদ্‌কা গ্রহণ করেন না।

ওযুতে সীমালঙ্ঘন

الاعتداء في الوضوء

140

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُهُ عَنِ الْوُضُوءِ فَأَرَاهُ الْوُضُوءَ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ " هَكَذَا الْوُضُوءُ فَمَنْ زَادَ عَلَى هَذَا فَقَدْ أَسَاءَ وَتَعَدَّى وَظَلَمَ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৪০। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তাকে উযু সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে উযুর অঙ্গ তিন-তিনবার ধৌত করে দেখালেন। আর বললেন- এরূপেই করতে হয়। যে ব্যক্তি এর উপর বাড়ালো সে অন্যায় করল, সীমালঙ্ঘন ও যুলূম করল।

ভালভাবে ওযু করার নির্দেশ

الأمر بإسباغ الوضوء

141

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو جَهْضَمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا خَصَّنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ دُونَ النَّاسِ إِلاَّ بِثَلاَثَةِ أَشْيَاءَ فَإِنَّهُ أَمَرَنَا أَنْ نُسْبِغَ الْوُضُوءَ وَلاَ نَأْكُلَ الصَّدَقَةَ وَلاَ نُنْزِيَ الْحُمُرَ عَلَى الْخَيْلِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪১। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব আরাবী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ, অন্য লোকদের বাদ দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বিশেষভাবে কোন বিষয়ে বলেননি, তিনটি বিষয় ব্যতীতঃ (১) তিনি আমাদের পরিপূর্ণভাবে উযু করার নির্দেশ দিয়েছেন; (২) আমাদের সাদ্‌কা খেতে নিষেধ করেছেন; (৩) নিষেধ করেছেন গাধাকে ঘোড়ার উপর পাল দিতে।

142

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৪২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা পরিপূর্ণরূপে উযু করবে।

পূর্ণরূপে ওযু করার ফযীলত

باب الفضل في ذلك

143

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِمَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৩ কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন বস্তুর সন্ধান দিবনা, যা দ্বারা আল্লাহ তাআলা গুনাহসমূহ দূর করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? তা হল, কষ্ট অবস্থায়ও পূর্ণরূপে উযু করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচালনা করা, আর এক নামাযের পর অন্য নামাযের অপেক্ষায় থাকা। এটাই রিবাত, এটাই রিবাত, এটাই রিবাত।[১]

[১] রিবাতের মূল অর্থ হচ্ছে শত্রুকে প্রতিরোধ করার জন্য সীমান্তে সর্বদা প্রহরারত অবস্থায় থাকা। আর মন ও শয়তানের শত্রুতা ও কুমন্ত্রণা সম্পর্কে সর্বদা সজাগ থাকাকেও রিবাত বলা হয় । – অনুবাদক

আদেশ অনুযায়ী যে ব্যক্তি ওযু করে তার সাওয়াব

ثواب من توضأ كما أمر

144

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُفْيَانَ الثَّقَفِيِّ، أَنَّهُمْ غَزَوْا غَزْوَةَ السَّلاَسِلِ فَفَاتَهُمُ الْغَزْوُ فَرَابَطُوا ثُمَّ رَجَعُوا إِلَى مُعَاوِيَةَ وَعِنْدَهُ أَبُو أَيُّوبَ وَعُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ فَقَالَ عَاصِمٌ يَا أَبَا أَيُّوبَ فَاتَنَا الْغَزْوُ الْعَامَ وَقَدْ أُخْبِرْنَا أَنَّهُ مَنْ صَلَّى فِي الْمَسَاجِدِ الأَرْبَعَةِ غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ . فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي أَدُلُّكَ عَلَى أَيْسَرَ مِنْ ذَلِكَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ تَوَضَّأَ كَمَا أُمِرَ وَصَلَّى كَمَا أُمِرَ غُفِرَ لَهُ مَا قَدَّمَ مِنْ عَمَلٍ " . أَكَذَلِكَ يَا عُقْبَةُ قَالَ نَعَمْ .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

১৪৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আসিম ইবনে সাকাফী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা ‘সুলাসিল’ যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন কিন্তু যুদ্ধ করার সুযোগ পাননি। পরে তার শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রইলেন এবং মুআবিয়া (রাযিঃ) এর নিকট প্রত্যাবর্তন করলেন। তখন তার নিকট আবু আইয়্যুব এবং উকবা ইবনে আমির ছিলেন। তখন আসিম বললেন, হে আবু আইয়্যুব! এ বৎসর আমরা যুদ্ধ করার সুযোগ পেলাম না। আর আমাদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তি চারটি মসজিদে নামায আদায় করবে, তার পাপ মার্জনা করা হবে।

তিনি বললেনঃ হে ভাতিজা! আমি কি এর চেয়ে সহজতর পন্থা বলে দিব না? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নির্দেশ মোতাবেক উযু করবে আর নির্দেশ মোতাবেক নামায আদায় করবে, তার পূর্বেকার পাপ ক্ষমা করা হবে। সত্যি কি তাই হে উকবা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাই।
145

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ، أَخْبَرَ أَبَا بُرْدَةَ، فِي الْمَسْجِدِ أَنَّهُ سَمِعَ عُثْمَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ أَتَمَّ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَالصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ " .

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১৪৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... হুমরান ইবনে আবান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু বুরদা (রাহঃ) কে মসজিদে এ মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত করতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক উযু সম্পন্ন করবে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ গণ্য হবে।

146

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّ عُثْمَانَ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنِ امْرِئٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلاَةَ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلاَةِ الأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَا " .

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১৪৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উসমান (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস হুমরান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উসমান (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে উযু করে এবং পরে নামায আদায় করে, তার এ নামায ও পরবর্তী নামায আদায়ের মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মাফ করে দেওয়া হবে।

147

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، - هُوَ ابْنُ سَعْدٍ - قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو يَحْيَى، سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ وَضَمْرَةُ بْنُ حَبِيبٍ وَأَبُو طَلْحَةَ نُعَيْمُ بْنُ زِيَادٍ قَالُوا سَمِعْنَا أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ عَبَسَةَ، يَقُولُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ الْوُضُوءُ قَالَ " أَمَّا الْوُضُوءُ فَإِنَّكَ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَغَسَلْتَ كَفَّيْكَ فَأَنْقَيْتَهُمَا خَرَجَتْ خَطَايَاكَ مِنْ بَيْنِ أَظْفَارِكَ وَأَنَامِلِكَ فَإِذَا مَضْمَضْتَ وَاسْتَنْشَقْتَ مَنْخِرَيْكَ وَغَسَلْتَ وَجْهَكَ وَيَدَيْكَ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَمَسَحْتَ رَأْسَكَ وَغَسَلْتَ رِجْلَيْكَ إِلَى الْكَعْبَيْنِ اغْتَسَلْتَ مِنْ عَامَّةِ خَطَايَاكَ فَإِنْ أَنْتَ وَضَعْتَ وَجْهَكَ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ خَرَجْتَ مِنْ خَطَايَاكَ كَيَوْمَ وَلَدَتْكَ أُمُّكَ " . قَالَ أَبُو أُمَامَةَ فَقُلْتُ يَا عَمْرُو بْنَ عَبَسَةَ انْظُرْ مَا تَقُولُ أَكُلُّ هَذَا يُعْطَى فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كَبِرَتْ سِنِّي وَدَنَا أَجَلِي وَمَا بِي مِنْ فَقْرٍ فَأَكْذِبَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَقَدْ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

Narrator: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

১৪৭। আমর ইবনে মনসূর (রাহঃ) ......... মুআবিয়া ইবনে সালেহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু ইয়াহয়া সুলায়ম ইবনে আমির, যামরাহ ইবনে হাবীব এবং আবু তালহা নুয়ায়ম ইবনে যিয়াদ (রাহঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমরা আবু উমামা বাহিলী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি আমর ইবনে আবাসা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! উযু কিরূপ করতে হয়? তিনি বললেন, উযু! তুমি যখন উযু কর এবং তোমার হস্ত তালুদ্বয় ধৌত কর এবং পরিস্কার করে ধৌত কর তখন তোমার পাপসমুহ তোমার নখের ভিতর হতে এবং তোমার আঙ্গুলির অগ্রভাগ হতে বের হয়ে যায়। এবং যখন তুমি কুলি কর এবং নাকের ভিতরকার অংশ ধৌত কর এবং তোমার মুখমণ্ডল ধৌত কর এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর এবং মাথা মাসাহ্‌ কর এবং গোড়ালী পর্যন্ত পা ধৌত কর, তখন তুমি তোমার সাধারণ পাপসমূহ ধুয়ে ফেললে।

আর যখন তুমি তোমার মুখমণ্ডল আল্লাহ তাআলার জন্য স্থাপন কর, তখন তুমি তোমার পাপ হতে ঐ দিনের মত মুক্ত হয়ে যাও, যেদিন তোমার জননী তোমাকে জন্ম দিয়েছিল। আবু উমামা বলেনঃ আমি বললাম, হে আমর ইবনে আবাসাহ! দেখ তুমি কি বলছ। একই মজলিসে এ সব কিছু দান করা হয়? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়েছি আর আমার মৃত্যু নিকটবর্তী। আর আমার কোন অভাবও নেই, এমতাবস্থায় কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্পর্কে মিথ্যা বলবো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমার উভয় কান তা শ্রবণ করেছে এবং আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে।

ওযু শেষে যা বলতে হয়

القول بعد الفراغ من الوضوء

148

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَرْبٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، وَأَبِي، عُثْمَانَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فُتِّحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ "

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৪৮। মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হারব মারওয়াযী (রাহঃ) ......... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে আর বলেঃ

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রাসূল” তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করবে।

ওযুর জ্যোতি

حلية الوضوء

149

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ خَلَفٍ، - وَهُوَ ابْنُ خَلِيفَةَ - عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ كُنْتُ خَلْفَ أَبِي هُرَيْرَةَ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ وَكَانَ يَغْسِلُ يَدَيْهِ حَتَّى يَبْلُغَ إِبْطَيْهِ فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا هَذَا الْوُضُوءُ فَقَالَ لِي يَا بَنِي فَرُّوخَ أَنْتُمْ هَا هُنَا لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكُمْ هَا هُنَا مَا تَوَضَّأْتُ هَذَا الْوُضُوءَ سَمِعْتُ خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَبْلُغُ حِلْيَةُ الْمُؤْمِنِ حَيْثُ يَبْلُغُ الْوُضُوءُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হাযিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নামাযের জন্য উযু করছিলেন। আর আমি তাঁর পেছনে ছিলাম, তিনি তার হস্তদ্বয় ধৌত করছিলেন তাঁর বগল পর্যন্ত, তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আবু হুরায়রা! এ কোন ধরনের উযু? তিনি আমাকে বললেনঃ হে ফররূখের বংশধর! তোমরা এখানে? যদি আমি পূর্বে জানতাম যে, তোমরা এখানে আছ তাহলে আমি এরূপ উযু করতাম না। আমি আমার বন্ধু রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, মুমিনের জ্যোতি ঐ পর্যন্ত পৌছবে, যে পর্যন্ত উযুর পানি পৌছে।

150

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْمَقْبُرَةِ فَقَالَ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ وَدِدْتُ أَنِّي قَدْ رَأَيْتُ إِخْوَانَنَا " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَسْنَا إِخْوَانَكَ قَالَ " بَلْ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانِي الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ يَأْتِي بَعْدَكَ مِنْ أُمَّتِكَ قَالَ " أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لِرَجُلٍ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ فِي خَيْلٍ بُهْمٍ دُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ " . قَالُوا بَلَى . قَالَ " فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫০। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার কবরস্থানের দিকে গেলেন। (তথায় উপস্থিত হয়ে) তিনি বললেনঃ হে মুমিন সম্প্রদায়ের ঘরের অধিবাসী! তোমাদেরকে সালাম, আমরাও ইনশাল্ললাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আশা করি আমার ভ্রাতৃবৃন্দকে দেখতে পাব। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভ্রাতা নই? তিনি বললেনঃ বরং তোমরা আমার সাহাবী। আর আমার ভ্রাতৃবৃন্দ হল যারা পরবর্তীকালে আসবে, আর আমি হাউযে কাউসারে তাদের অগ্রবর্তী হব।

তারা বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার যেসকল উম্মত পরবর্তীকালে আগমন করবে, আপনি তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা বল তো, যদি কোন ব্যক্তির একদল কালো ঘোড়ার মধ্যে সা’দা চেহারা ও সা’দা পদবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তবে কি সেই ব্যক্তি তার ঘোড়া চিনে নিতে পারবে না? তারা বলেনঃ নিশ্চয়ই। তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন উযুর দরুণ তাদের হস্তপদ উজ্জ্বল হবে। আর আমি হাউযে কাউসারে তাদের আগে গিয়ে অপেক্ষা করব।

যে লোক ওযু করে দু’রাকআত নামায পড়ে তার সাওয়াব

باب ثواب من أحسن الوضوء ثم صلى ركعتين

151

أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَسْرُوقِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ حَدَّثَنَا رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيُّ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، وَأَبِي، عُثْمَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ يُقْبِلُ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ "

Narrator: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৫১। মুসা ইবনে আব্দুর রহমান মাসরূকী (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে তারপর দু’রাকআত নামায আদায় করে নিষ্ঠার সাথে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।

মযী কখন ওযু নষ্ট করে এবং কখন করে না

باب ما ينقض الوضوء وما لا ينقض الوضوء من المذي

152

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً وَكَانَتِ ابْنَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَحْتِي فَاسْتَحْيَيْتُ أَنْ أَسْأَلَهُ فَقُلْتُ لِرَجُلٍ جَالِسٍ إِلَى جَنْبِي سَلْهُ . فَسَأَلَهُ فَقَالَ " فِيهِ الْوُضُوءُ "

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫২। হান্নাদ ইবনে সাররী (রাহঃ) ......... আবু আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী (রাযিঃ) বলেছেন, আমি এমন ছিলাম যে, প্রায় আমার মযী[১] নির্গত হতো, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা আমার সহধর্মিনী হওয়ায় আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করতাম। অতএব আমার পার্শ্বে উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করতে বললাম। সে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ এতে উযু করতে হবে।

[১] পেশাবের আগে অথবা পরে এবং সামান্য কামোত্তেজনার ফলে যে পাতলা সামান্য আঠাল পানি পুরুষাঙ্গ থেকে নির্গত হয়, তাকে মযী বা বীর্যরস বলে। তা বের হলে উযূ ভঙ্গ হয়।
153

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ قُلْتُ لِلْمِقْدَادِ إِذَا بَنَى الرَّجُلُ بِأَهْلِهِ فَأَمْذَى وَلَمْ يُجَامِعْ فَسَلِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَإِنِّي أَسْتَحِي أَنْ أَسْأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ وَابْنَتُهُ تَحْتِي . فَسَأَلَهُ فَقَالَ " يَغْسِلُ مَذَاكِيرَهُ وَيَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ "

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মিকদাদকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করুন যে, যদি কোন ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর সাথে আমোদ করে এবং তদ্দরুন তার মযী নির্গত হয় অথচ সে সহবাস করেনি, তাহলে সে কি করবে? কেননা তার কন্যা আমার সহধর্মিনী হওয়ায় আমি জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করি। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং নামাযের উযুর ন্যায় উযু করবে।

154

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشِ بْنِ أَنَسٍ، أَنَّ عَلِيًّا، قَالَ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً فَأَمَرْتُ عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ يَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَجْلِ ابْنَتِهِ عِنْدِي فَقَالَ " يَكْفِي مِنْ ذَلِكَ الْوُضُوءُ "

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশ ইবনে আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমার প্রায়ই মযী নির্গত হত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা আমার সহধর্মিণী হওয়ায় আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে অনুরোধ করলাম। তিনি এর উত্তরে বললেন, এর জন্য উযু করলেই চলবে।

155

أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَنْبَأَنَا أُمَيَّةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَنَّ رَوْحَ بْنَ الْقَاسِمِ، حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ أَبِي نُجَيْحٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّ عَلِيًّا، أَمَرَ عَمَّارًا أَنْ يَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَذْىِ فَقَالَ " يَغْسِلُ مَذَاكِيرَهُ وَيَتَوَضَّأُ " .

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

১৫৫। উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... রাফি’ ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাযিঃ) আম্মারকে অনুরোধ করলেন, তিনি যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মযীর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তিনি বললেনঃ সে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং উযু করবে।

156

أَخْبَرَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَرْوَزِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، - وَهُوَ ابْنُ أَنَسٍ - عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ عَلِيًّا، أَمَرَهُ أَنْ يَسْأَلَ، رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ إِذَا دَنَا مِنْ أَهْلِهِ فَخَرَجَ مِنْهُ الْمَذْىُ مَاذَا عَلَيْهِ فَإِنَّ عِنْدِي ابْنَتَهُ وَأَنَا أَسْتَحِي أَنْ أَسَأَلَهُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَنْضَحْ فَرْجَهُ وَيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৬। উতবা ইবনে আব্দুল্লাহ মারওয়াযী (রাহঃ) ......... মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য তাকে অনুরোধ করলেন যে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিকটবর্তী হলে যদি তদ্দরুন তার মযী নির্গত হয়, তাহলে তার কি করতে হবে? কারণ তার কন্যা আমার সহধর্মিণী থাকায় আমি তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করি। তারপর আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তোমাদের কারও এরূপ হয় তাহলে সে যেন স্বীয় লজ্জাস্থান ধৌত করে এবং নামাযের উযুর ন্যায় উযু করে।

157

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ، قَالَ سَمِعْتُ مُنْذِرًا، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ اسْتَحْيَيْتُ أَنْ أَسْأَلَ النَّبِيَّ، صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَذْىِ مِنْ أَجْلِ فَاطِمَةَ فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ " فِيهِ الْوُضُوءُ "

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা (রাযিঃ) আমার বিবাহাধীন থাকায় মযী সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করতাম। অতএব আমি মিকদাদ ইবনে আসওয়াদকে অনুরোধ করলাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এতে উযু করতে হবে।

পায়খানা প্রস্রাবের পর ওযু করা

باب الوضوء من الغائط والبول

158

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ، يُحَدِّثُ قَالَ أَتَيْتُ رَجُلاً يُدْعَى صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ فَقَعَدْتُ عَلَى بَابِهِ فَخَرَجَ فَقَالَ مَا شَأْنُكَ قُلْتُ أَطْلُبُ الْعِلْمَ . قَالَ إِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًا بِمَا يَطْلُبُ . فَقَالَ عَنْ أَىِّ شَىْءٍ تَسْأَلُ قُلْتُ عَنِ الْخُفَّيْنِ . قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ أَمَرَنَا أَنْ لاَ نَنْزِعَهُ ثَلاَثًا إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ

Narrator: সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাঃ)

১৫৮। মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... আসিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যির ইবনে হুরায়শকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেনঃ আমি সাফওয়ান ইবনে আসসাল নামক এক ব্যক্তির নিকট আসলাম এবং তার দরজায় বসে রইলাম। তিনি বের হয়ে বললেন, তোমার খবর কি? আমি বললাম, ইলমের সন্ধানে এসেছি। তিনি বললেন, ইলম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ফিরিশতাগণ ডানা বিছিয়ে দেন। তারপর তিনি বললেন, কোন বিষয়ে তুমি জিজ্ঞাসা করতে চাও? আমি বললাম, মোজা পরিধান সম্পর্কে। তিনি বললেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফরে আসতাম, তিনি আমাদের আদেশ করতেন, আমরা যেন একমাত্র জানাবাত ব্যতীত, পায়খানা-পেশাব এবং নিদ্রার কারণে তিনদিন পর্যন্ত তা না খুলি।

পায়খানা করার পর ওযু করা

الوضوء من الغائط

159

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قَالَ صَفْوَانُ بْنُ عَسَّالٍ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ أَمَرَنَا أَنْ لاَ نَنْزِعَهُ ثَلاَثًا إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ .

Narrator: সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাঃ)

১৫৯। আমর ইবনে ইবনে আলী ও ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... যির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সফরে বের হতাম তখন তিনি আমাদের আদেশ করতেন আমরা যেন একমাত্র জানাবাত ব্যতীত পায়খানা-পেশাব এবং নিদ্রার কারণে তিন দিন পর্যন্ত তা না খুলি।

বায়ু নির্গমনে ওযু করা

الوضوء من الريح

160

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُسَيَّبِ - وَعَبَّادُ بْنُ تَمِيمٍ عَنْ عَمِّهِ، - وَهُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ - قَالَ شُكِيَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الرَّجُلُ يَجِدُ الشَّىْءَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ " لاَ يَنْصَرِفْ حَتَّى يَجِدَ رِيحًا أَوْ يَسْمَعَ صَوْتًا " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ মাযিনী (রাঃ)

১৬০। কুতায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করল, সে নামাযে কিছু অনুভব করে।[১] তিনি বললেনঃ সে নামায পরিত্যাগ করবেনা যতক্ষণ না গন্ধ বা শব্দ শুনতে পায়।[২]

[১] বায়ু নির্গমন হয়েছে বলে সন্দেহ করে।
[২] বায়ু নির্গমন হয়েছে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস হয় ।

ঘুমের কারণে ওযু করা প্রসঙ্গে

الوضوء من النوم

161

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلاَ يُدْخِلْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يُفْرِغَ عَلَيْهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬১। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ ও হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যখন নিদ্রা হতে জাগ্রত হয় তখন সে যেন তার হাত পানির পাত্রে প্রবিষ্ট না করায় যতক্ষণ না তার উপর তিনবার পানি ঢালে, কেননা সে জানেনা তার হাত রাত্রে কোথায় ছিল।

তন্দ্রার বিবরণ

باب النعاس

162

أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا نَعَسَ الرَّجُلُ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَنْصَرِفْ لَعَلَّهُ يَدْعُو عَلَى نَفْسِهِ وَهُوَ لاَ يَدْرِي " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬২। বিশর ইবনে হিলাল (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তির নামাযে তন্দ্রা আসে, তবে সে যেন হালকাভাবে নামায শেষ করে চলে যায়। কেননা অজ্ঞাতসারে সে হয়ত নিজের উপরেই বদদু'আ করে বসবে।

পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার কারণে ওযু করা

الوضوء من مس الذكر

163

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، أَنْبَأَنَا مَالِكٌ، ح وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَذَكَرْنَا مَا يَكُونُ مِنْهُ الْوُضُوءُ فَقَالَ مَرْوَانُ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ الْوُضُوءُ . فَقَالَ عُرْوَةُ مَا عَلِمْتُ ذَلِكَ . فَقَالَ مَرْوَانُ أَخْبَرَتْنِي بُسْرَةُ بِنْتُ صَفْوَانَ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا مَسَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ " .

Narrator: বুসরা বিনতে সাফওয়ান (রাঃ)

১৬৩। হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে বর্ণিত। তিনি উরওয়া ইবনে যুবাইরকে বলতে শুনেছেন যে, আমি মারওয়ান ইবনে হাকাম এর নিকট এসে কোন কোন কারণে উযু করতে হয় তা জিজ্ঞাসা করলাম। মারওয়ান বললেনঃ পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে উযু করতে হবে। উরওয়া বললেন, আমি তা অবগত নই। মারওয়ান বললেনঃ বুসরা বিনতে সাফওয়ান (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, যখন তোমাদের কেউ স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তখন তার উযু করা উচিৎ।

164

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، يَقُولُ ذَكَرَ مَرْوَانُ فِي إِمَارَتِهِ عَلَى الْمَدِينَةِ أَنَّهُ يُتَوَضَّأُ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ إِذَا أَفْضَى إِلَيْهِ الرَّجُلُ بِيَدِهِ فَأَنْكَرْتُ ذَلِكَ وَقُلْتُ لاَ وُضُوءَ عَلَى مَنْ مَسَّهُ . فَقَالَ مَرْوَانُ أَخْبَرَتْنِي بُسْرَةُ بِنْتُ صَفْوَانَ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ مَا يُتَوَضَّأُ مِنْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَيُتَوَضَّأُ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ " . قَالَ عُرْوَةُ فَلَمْ أَزَلْ أُمَارِي مَرْوَانَ حَتَّى دَعَا رَجُلاً مِنْ حَرَسِهِ فَأَرْسَلَهُ إِلَى بُسْرَةَ فَسَأَلَهَا عَمَّا حَدَّثَتْ مَرْوَانَ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ بُسْرَةُ بِمِثْلِ الَّذِي حَدَّثَنِي عَنْهَا مَرْوَانُ

Narrator: বুসরা বিনতে সাফওয়ান (রাঃ)

১৬৪। আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুগীরা (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে আমর ইবনে হাযম (রাহঃ) আমাকে বলেছেন, কোন ব্যক্তি স্বীয় হস্ত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে সে উযু করবে। আমি অস্বীকার করলাম এবং বললাম, যে ব্যক্তি তা স্পর্শ করে, তার উযু করতে হবে না। তখন মারওয়ান বললেন, বুসরা বিনতে সাফওয়ান আমাকে বলেছেন যে, তিনি যে যে কারণে উযু করতে হয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তা উল্লেখ করতে শুনেছেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, আর পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে উযু করতে হবে। উরওয়া বলেনঃ অতএব আমি এ ব্যাপারে মারওয়ানের সাথে বিতর্কে লিপ্ত রইলাম। অবশেষে তিনি তার দেহরক্ষীদের একজনকে ডেকে বুসরার নিকট প্রেরণ করলেন। বুসরা তার নিকট ঐরূপই বলে পাঠালেন যেরূপ মারওয়ান আমার নিকট বুসরা থেকে বর্ণনা করেছেন।

পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করায় ওযু না করা

باب ترك الوضوء من ذلك

165

أَخْبَرَنَا هَنَّادٌ، عَنْ مُلاَزِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَدْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْنَا وَفْدًا حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَايَعْنَاهُ وَصَلَّيْنَا مَعَهُ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ جَاءَ رَجُلٌ كَأَنَّهُ بَدَوِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَرَى فِي رَجُلٍ مَسَّ ذَكَرَهُ فِي الصَّلاَةِ قَالَ " وَهَلْ هُوَ إِلاَّ مُضْغَةٌ مِنْكَ أَوْ بَضْعَةٌ مِنْكَ "

Narrator: হযরত তালক ইবনে আলী রাযি.

১৬৫। হান্নাদ (রাহঃ) ......... তালক ইবনে আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আমাদের গোত্রের প্রতিনিধি হিসাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলাম, তারপর তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম এবং তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করলাম। নামায শেষ হলে এক ব্যক্তি আসলো, মনে হল যেন সে একজন গ্রাম্য লোক। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন ব্যক্তি নামাযে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে তার সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেনঃ এটা তোমার শরীরের এক টুকরা গোশত বৈ আর কি? অথবা তিনি বললেনঃ তা তোমার শরীরের একটি অংশ।[১]

[১] হানাফী মাযহাব অনুসারে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে উর্দূ নষ্ট হয় না।

কামভাব ছাড়া কোন লোক স্বীয় স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ওযু না করা।

ترك الوضوء من مس الرجل امرأته من غير شهوة

166

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصَلِّي وَإِنِّي لَمُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ اعْتِرَاضَ الْجَنَازَةِ حَتَّى إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ مَسَّنِي بِرِجْلِهِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করতেন আর আমি জানাযার ন্যায় তার সামনে শায়িত থাকতাম। এমনকি তিনি যখন বিতর নামায পরার ইচ্ছা করতেন তখন আমাকে তার পা দ্বারা স্পর্শ করতেন।

167

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَقَدْ رَأَيْتُمُونِي مُعْتَرِضَةً بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ غَمَزَ رِجْلِي فَضَمَمْتُهَا إِلَىَّ ثُمَّ يَسْجُدُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৭। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি দেখেছি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে আড়াআড়ি শুয়ে আছি আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করতেন। যখন তিনি সিজদা করতে মনস্থ করতেন আমার পা স্পর্শ করতেন। আমি তা আমার দিকে টেনে নিতাম। তারপর তিনি সিজদা করতেন।

168

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرِجْلاَىَ فِي قِبْلَتِهِ فَإِذَا سَجَدَ غَمَزَنِي فَقَبَضْتُ رِجْلَىَّ فَإِذَا قَامَ بَسَطْتُهُمَا وَالْبُيُوتُ يَوْمَئِذٍ لَيْسَ فِيهَا مَصَابِيحُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে শায়িত থাকতাম আর আমার পদদ্বয় তার কিবলার দিকে থাকত। যখন তিনি সিজদা করতেন আমাকে স্পর্শ করতেন আর আমি আমার পদদ্বয় টেনে নিতাম আর যখন তিনি দাঁড়াতেন তখন আমি তা মেলে দিতাম। আর ঘরে তখন কোন বাতি থাকত না।

169

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، وَنُصَيْرُ بْنُ الْفَرَجِ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ فَقَدْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَجَعَلْتُ أَطْلُبُهُ بِيَدِي فَوَقَعَتْ يَدِي عَلَى قَدَمَيْهِ وَهُمَا مَنْصُوبَتَانِ وَهُوَ سَاجِدٌ يَقُولُ " أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ও নুসায়ের ইবনে ফারাজ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বিছানায় পাচ্ছিলাম না। তখন আমি আমার হাত দ্বারা তাঁকে খুঁজতে লাগলাম। তখন আমার হাত তাঁর পদযুগলের উপর পতিত হল। তখন তাঁর পা খাড়া ছিল এবং তিনি ছিলেন সিজদারত। তিনি বলছিলেনঃ

أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

“(হে আল্লাহ!) আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি তোমার ক্রোধ হতে তোমার সন্তুষ্টির, তোমার শাস্তি থেকে তোমার ক্ষমার আর তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি তোমা হতে। তোমার প্রশংসা করে আমি শেষ করতে পারব না, তুমি নিজে ঐরূপ, যেরূপ তুমি নিজের প্রশংসা করেছ।

চুমু দেওয়ার পর ওযু না করা প্রসঙ্গে

ترك الوضوء من القبلة

170

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو رَوْقٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُ بَعْضَ أَزْوَاجِهِ ثُمَّ يُصَلِّي وَلاَ يَتَوَضَّأُ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَيْسَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ أَحْسَنُ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ وَإِنَ كَانَ مُرْسَلاً وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الأَعْمَشُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ يَحْيَى الْقَطَّانُ حَدِيثُ حَبِيبٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ هَذَا وَحَدِيثُ حَبِيبٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ تُصَلِّي وَإِنْ قَطَرَ الدَّمُ عَلَى الْحَصِيرِ لاَ شَىْءَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জনৈক স্ত্রীকে চুম্বন করতেন পরে নামায আদায় করতেন কিন্তু তিনি উযু করতেন না।

আগুনে জাল দেয়া জিনিস খাবার পরে ওযু করা

باب الوضوء مما غيرت النار

171

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيِلُ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, আগুনে জ্বাল দেওয়া বস্তু আহার করলে উযু করবে।[১]

[১] এখানে উযূ করার অর্থ হচ্ছে হাত মুখ ধৌত করা।
172

أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ حَرْبٍ - قَالَ حَدَّثَنِي الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَارِظٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭২। হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা আগুনে জ্বাল দেওয়া বস্তু আহার করলে উযু করবে।

173

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ بَكْرٍ، - وَهُوَ ابْنُ مُضَرَ - قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ قَارِظٍ، قَالَ رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَتَوَضَّأُ عَلَى ظَهْرِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ أَكَلْتُ أَثْوَارَ أَقِطٍ فَتَوَضَّأْتُ مِنْهَا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ بِالْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৩ আব্দুলাহ ইবনু ইবরাহীম ইবনুকারিয (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে মসজিদের উঠানে উযু করতে দেখেছি। তিনি বললেন, আমি কয়েক টুকরা পনির খেয়েছি তাই উযু করলাম। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আগুনে জ্বাল দেওয়া বস্তু আহার করাতে উযু করার নির্দেশ দিতে শুনেছি।

174

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ الْمُطَّلِبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، يَقُولُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَتَوَضَّأُ مِنْ طَعَامٍ أَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ حَلاَلاً لأَنَّ النَّارَ مَسَّتْهُ فَجَمَعَ أَبُو هُرَيْرَةَ حَصًى فَقَالَ أَشْهَدُ عَدَدَ هَذَا الْحَصَى أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৪। ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আমর আল-আওযায়ী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেনঃ আগুন স্পর্শ করার কারণে কি ঐ খাদ্যের জন্য উযু করতে হবে যাকে আমি আল্লাহর কিতাবে (কুরআনে) হালাল পেয়েছি? এতদশ্রবণে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কতকগুলো পাথর টুকরা একত্রিত করলেন এবং বললেন আমি এই কংকর পরিমাণ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা উযু করবে ঐ সকল বস্তু হতে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

175

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা উযু করবে ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

176

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ أَنْبَأَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، - قَالَ مُحَمَّدٌ الْقَارِيُّ - عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَوَضَّئُوا مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ " .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

১৭৬। আমর ইবনে আলী ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা উযু করবে ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন পরিবর্তন করেছে।

177

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَرَمِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ - قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ جَعْدَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو الْقَارِيِّ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَوَضَّئُوا مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ " .

Narrator: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

১৭৭। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ও হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা উযু করবে ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন পরিবর্তন করেছে।

178

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَفْصٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَوَضَّئُوا مِمَّا أَنْضَجَتِ النَّارُ " .

Narrator: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

১৭৮। হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা উযু কর ঐ সকল বস্তু আহার করার জন্য যা আগুন দ্বারা রান্না করা হয়েছে।

179

أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ خَارِجَةَ بْنَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ " .

Narrator: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

১৭৯। হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা উযু করবে ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

180

أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ الأَخْنَسِ بْنِ شَرِيقٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، دَخَلَ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ خَالَتُهُ فَسَقَتْهُ سَوِيقًا ثُمَّ قَالَتْ لَهُ تَوَضَّأْ يَا ابْنَ أُخْتِي فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

১৮০। হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক (রাহঃ) ......... আবু সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনে আখনাস ইবনে শারীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার তাঁর খালা নবী(ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর নিকটে গেলেন। তিনি (উম্মে হাবীবা) তাঁকে ছাতু খাওয়ালেন। পরে তাঁকে বললেন, হে ভাগ্নে! উযু করে নাও। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা উযু কর ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

181

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ بَكْرِ بْنِ مُضَرَ، قَالَ حَدَّثَنِي بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ الأَخْنَسِ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لَهُ وَشَرِبَ سَوِيقًا يَا ابْنَ أُخْتِي تَوَضَّأْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

১৮১। রবী ইবনে সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ......... আবু সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনে আখনাস ইবনে শারীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) তাকে ছাতু খাওয়ানোর পর বলেছিলেন, হে ভাগ্নে, উযু করে নাও। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা উযু কর ঐ সকল বস্তু আহার করলে যা আগুন স্পর্শ করেছে।

আগুনে সিদ্ধ জিনিস খাওয়ার পর ওযু না করা

باب ترك الوضوء مما غيرت النار

182

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ كَتِفًا فَجَاءَهُ بِلاَلٌ فَخَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১৮২। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (বকরীর) কাঁধের গোশত আহার করলেন, তারপর বিলাল (রাযিঃ) এলে তিনি নামায আদায় করতে গেলেন। অথচ তিনি পানি স্পর্শ করলেন না।

183

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَحَدَّثَتْنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ احْتِلاَمٍ ثُمَّ يَصُومُ . وَحَدَّثَنَا مَعَ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا قَرَّبَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جَنْبًا مَشْوِيًّا فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১৮৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... সুলাইমান ইবনে ইয়াসির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উম্মে সালামার নিকট গেলাম। তিনি আমার নিকট বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বপ্নদোষ ব্যতীত (সহবাস জনিত কারণে) জানাবাত অবস্থায় ভোর করতেন এবং রোযাও পালন করতেন। বর্ণনাকারী রাবীদের মধ্যে খালিদ বলেন যে, এ হাদীসের সাথে এও বর্ণনা করেছেন যে, একদা উম্মে সালামা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ভূনা গোশত রাখলেন। তিনি তা হতে কিছু খেলেন। পরে নামাযের জন্য প্রস্তুত হলেন কিন্তু উযু করলেন না।

184

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ ابْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ خُبْزًا وَلَحْمًا ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলাম। তিনি রুটি ও গোশত খেলেন। পরে নামাযের জন্য গেলেন কিন্তু উযু করলেন না।

185

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ آخِرَ الأَمْرَيْنِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرْكُ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮৫। আমর ইবনে মনসূর (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, যে সকল বস্তুকে আগুনে স্পর্শ করেছে তা আহার করার পরে উযু করা ও না করার মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শেষ কাজটি ছিল উযু না করা।

ছাতু খাওয়ার পর কুলি করা প্রসঙ্গে

المضمضة من السويق

186

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، مَوْلَى بَنِي حَارِثَةَ أَنَّ سُوَيْدَ بْنَ النُّعْمَانِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ خَيْبَرَ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالصَّهْبَاءِ وَهِيَ مِنْ أَدْنَى خَيْبَرَ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَعَا بِالأَزْوَادِ فَلَمْ يُؤْتَ إِلاَّ بِالسَّوِيقِ فَأَمَرَ بِهِ فَثُرِّيَ فَأَكَلَ وَأَكَلْنَا ثُمَّ قَامَ إِلَى الْمَغْرِبِ فَتَمَضْمَضَ وَتَمَضْمَضْنَا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .

Narrator: বুশাইর ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

১৮৬। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... বুশায়র ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। সুয়ায়দ ইবনে নু’মান (রাযিঃ) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি খায়বর যুদ্ধের বৎসর একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বের হলেন। যখন তাঁরা সাহবা নামক স্থানে পৌঁছলেন - আর তা খায়বরের শেষ সীমায় অবস্থিত, তখন তিনি আসরের নামায আদায় করলেন।

পরে তিনি কিছু খাদ্যদ্রব্য চাইলে তাঁর নিকট কেবল কিছু ছাতু পরিবেশন করা হল। তার আদেশক্রমে তা পানির সাথে মেশানো হল, তারপর তিনি তা খেলেন আর আমরাও তা খেলাম। তারপর তিনি মাগরিবের নামায আদায়ের জন্য প্রস্তুত হলেন এবং কুলি করলেন আর আমরাও কুলি করলাম। পরে নামায আদায় করলেন অথচ আর উযু করলেন না।

দুধ পান করার পর কুলি করা

المضمضة من اللبن

187

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَتَمَضْمَضَ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ لَهُ دَسَمًا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮৭। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুধ পান করার পর পানি চাইলেন এবং তা দ্বারা কুলি করলেন এবং বললেনঃ ওতে চর্বি আছে।

যাতে গোসল ওয়াজিব আর যাতে গোসল ওয়াজিব হয় না এবং মুসলিম হওয়ার জন্য কাফিরের গোসল করা

ذكر ما يوجب الغسل وما لا يوجبه :<br>غسل الكافر إذا أسلم

188

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَغَرِّ، - وَهُوَ ابْنُ الصَّبَّاحِ - عَنْ خَلِيفَةَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ، أَنَّهُ أَسْلَمَ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَغْتَسِلَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ

Narrator: কায়স ইবনে আসিম (রাঃ)

১৮৮। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... কায়স ইবনে আসিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মুসলমান হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা গোসল করতে আদেশ করলেন।

কাফির ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে প্রথমেই গোসল করে নেয়া

تقديم غسل الكافر إذا أراد أن يسلم

189

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ إِنَّ ثُمَامَةَ بْنَ أُثَالٍ الْحَنَفِيَّ انْطَلَقَ إِلَى نَجْلٍ قَرِيبٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ يَا مُحَمَّدُ وَاللَّهِ مَا كَانَ عَلَى الأَرْضِ وَجْهٌ أَبْغَضَ إِلَىَّ مِنْ وَجْهِكَ فَقَدْ أَصْبَحَ وَجْهُكَ أَحَبَّ الْوُجُوهِ كُلِّهَا إِلَىَّ وَإِنَّ خَيْلَكَ أَخَذَتْنِي وَأَنَا أُرِيدُ الْعُمْرَةَ فَمَاذَا تَرَى فَبَشَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَهُ أَنْ يَعْتَمِرَ . مُخْتَصِرٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৮৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, ছুমামা ইবনে উসাল হানাফী মসজিদে নববীর নিকটবর্তী একটি বাগানে গেলেন, সেখানে গোসল করার পর মসজিদে নবাবীতে গেলেন এবং বললেনঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক, তঁর কোন শরীক নেই, আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা এবং রাসূল।” হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর শপথ, পৃথিবীতে আমার কাছে কোন চেহারাই আমার কাছে আপনার চেহারা থেকে অধিক অপ্রিয় ছিল না, এখন আপনার চেহারা আমার নিকট সকলের চেহারা থেকে প্রিয়। আপনার সৈনিকরা আমাকে গ্রেফতার করেছে অথচ আমি উমরার ইচ্ছা করেছিলাম। এখন এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে সুসংবাদ দান করলেন এবং তাঁকে উমরাহ করতে অনুমতি দিলেন।

মুশরিককে দাফন করার পর গোসল করা

الغسل من مواراة المشرك

190

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ نَاجِيَةَ بْنَ كَعْبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ أَبَا طَالِبٍ مَاتَ . فَقَالَ " اذْهَبْ فَوَارِهِ " . قَالَ إِنَّهُ مَاتَ مُشْرِكًا . قَالَ " اذْهَبْ فَوَارِهِ " . فَلَمَّا وَارَيْتُهُ رَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ لِي " اغْتَسِلْ "

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৯০। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলেন এবং বললেনঃ আবু তালিব মরে গিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যাও তাকে দাফন কর, আলী (রাযিঃ) বললেনঃ তিনি তো মুশরিক অবস্থায় মারা গিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার বললেনঃ যাও তাকে দাফন কর। যখন আমি তাকে দাফন করে তাঁর নিকট ফিরে আসলাম, তখন তিনি আমাকে বললেনঃ গোসল করে নাও।

দুই লজ্জাস্থান পরস্পর মিলিত হলে গোসল ওয়াজিব হওয়া

باب وجوب الغسل إذا التقى الختانان

191

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الأَرْبَعِ ثُمَّ اجْتَهَدَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৯১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কেউ স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে তার সাথে সহবাসের চেষ্টা করে, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।

192

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ الْجُوزَجَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَعَدَ بَيْنَ شُعَبِهَا الأَرْبَعِ ثُمَّ اجْتَهَدَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا خَطَأٌ وَالصَّوَابُ أَشْعَثُ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَقَدْ رَوَى الْحَدِيثَ عَنْ شُعْبَةَ النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ وَغَيْرُهُ كَمَا رَوَاهُ خَالِدٌ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৯২। ইবরাহীম ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-জুযাজানী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কেউ স্ত্রীর চার শাখার[১] মাঝে বসে তার সাথে সঙ্গমের চেষ্টা চালায়, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।

[১] দুই হাত দুই পা।

বীর্যপাতের দরুন গোসল করা প্রসঙ্গ

الغسل من المني

193

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - قَالَ حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ قَبِيصَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتَ الْمَذْىَ فَاغْسِلْ ذَكَرَكَ وَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ وَإِذَا فَضَخْتَ الْمَاءَ فَاغْتَسِلْ "

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৯৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আলী ইবনে হুজুর (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এমন ছিলাম যে, আমার অধিক মযী নির্গত হত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ যখন তুমি মযী দেখবে, তখন তোমার পুরুষাঙ্গ ধৌত করবে এবং নামাযের ন্যায় উযু করবে। আর যখন বীর্য নির্গত হয়, তখন গোসল করবে।

194

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ زَائِدَةَ، ح وَأَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَنْبَأَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ عَمِيلَةَ الْفَزَارِيِّ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ قَبِيصَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِذَا رَأَيْتَ الْمَذْىَ فَتَوَضَّأْ وَاغْسِلْ ذَكَرَكَ وَإِذَا رَأَيْتَ فَضْخَ الْمَاءِ فَاغْتَسِلْ "

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৯৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার অত্যধিক মযী নির্গত হত, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেনঃ যখন তুমি মযী দেখতে পাও, তখন তোমার পুরুষাঙ্গ ধৌত করো এবং উযু করো। আর যখন বীর্যের ফোঁটা দেখতে পাবে, তখন গোসল করবে।

পুরুষের ন্যায় স্ত্রীলোক স্বপ্ন দেখলে তার গোসল করা

غسل المرأة ترى في منامها ما يرى الرجل

195

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ، سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَرْأَةِ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ قَالَ " إِذَا أَنْزَلَتِ الْمَاءَ فَلْتَغْتَسِلْ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৯৫। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। পুরুষের ন্যায় মহিলার স্বপ্ন দেখা সম্পর্কে উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ বীর্য নির্গত হলে গোসল করবে।

196

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ كَلَّمَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَائِشَةُ جَالِسَةٌ فَقَالَتْ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ أَرَأَيْتَ الْمَرْأَةَ تَرَى فِي النَّوْمِ مَا يَرَى الرَّجُلُ أَفَتَغْتَسِلُ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ لَهَا أُفٍّ لَكِ أَوَتَرَى الْمَرْأَةُ ذَلِكِ فَالْتَفَتَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تَرِبَتْ يَمِينُكِ فَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৬। কাসির ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ......... উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে সংবাদ দিলেন যে, উম্মে সুলাইমান রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কথা বলেছিলেন তখন আয়িশা (রাযিঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। উম্মে সুলাইমান বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না, আমাকে বলুন, কোন নারী যদি স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা পুরুষ দেখে থাকে, এতে কি তারও গোসল করতে হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ হ্যাঁ। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তাঁকে বললাম, ধিক তোমায়! নারীও কি তা দেখে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার দিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমার হাত ধুলো-মলিন হোক, তা না হলে সন্তান মাতার মত হয় কি করে?

197

أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ غُسْلٌ إِذَا هِيَ احْتَلَمَتْ قَالَ " نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ " . فَضَحِكَتْ أُمُّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ أَتَحْتَلِمُ الْمَرْأَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَفِيمَ يُشْبِهُهَا الْوَلَدُ "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১৯৭। শু’য়াইব ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না, আমাকে বলুন, কোন নারী যদি স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা পুরুষ দেখে থাকে, এতে কি তারও গোসল ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখবে। এতে উম্মে সালামা হেসে দিলেন, তিনি বললেনঃ নারীরও কি স্বপ্নদোষ হয়? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তা না হলে সন্তান মায়ের সদৃশ হয় কিরূপে?

198

أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً الْخُرَاسَانِيَّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ، قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَرْأَةِ تَحْتَلِمُ فِي مَنَامِهَا فَقَالَ " إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ فَلْتَغْتَسِلْ " .

Narrator: হযরত খাওলা বিনতে হাকীম সুলামিয়্যা রাযি.

১৯৮। ইউসুফ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... খাওলা বিনতে হাকীম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এমন নারীর কথা জিজ্ঞাসা করলাম যার স্বপ্নদোষ হয়। তিনি বললেনঃ যখন সে বীর্য দেখবে, তখন গোসল করবে।

যার স্বপ্নদোষ হয় অথচ বীর্য দেখে না

باب الذي يحتلم ولا يرى الماء

199

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلاَءِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُعَادٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ "

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

১৯৯। আব্দুল জব্বার ইবনে আ’লা (রাহঃ) .... আবু আইয়্যুব (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ পানির ব্যবহার পানির কারণেই অপরিহার্য হয়। (অর্থাৎ বীর্যপাত হলেই গোসল করতে হয়।)*

পুরুষ ও নারীর বীর্যের পার্থক্য

باب الفصل بين ماء الرجل وماء المرأة

200

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَاءُ الرَّجُلِ غَلِيظٌ أَبْيَضُ وَمَاءُ الْمَرْأَةِ رَقِيقٌ أَصْفَرُ فَأَيُّهُمَا سَبَقَ كَانَ الشَّبَهُ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২০০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পুরুষের বীর্য গাঢ় সা’দা বর্ণের এবং নারীর বীর্য পাতলা হলদে বর্ণের। এতদুভয়ের যেটই পূর্বে নির্গত হয় সন্তান তার সদৃশ হয়ে থাকে।

হায়যের পর গোসল করা প্রসঙ্গে

ذكر الاغتسال من الحيض

201

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَدَوِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، مِنْ بَنِي أَسَدِ قُرَيْشٍ أَنَّهَا أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ أَنَّهَا تُسْتَحَاضُ فَزَعَمَتْ أَنَّهُ قَالَ لَهَا " إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ ثُمَّ صَلِّي " .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

২০১। ইমরান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... কুরাইশ বংশের আসাদ গোত্রের ফাতিমা বিনতে কায়েস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ এর নিকট এসে উল্লেখ করলেন যে, তার অতিরিক্ত রক্তস্রাব হয়। তার ধারণা যে, রাসূলুল্লাহ তাঁকে বলেছেন যে, তা একটি শিরার* রক্ত মাত্র। অতএব যখন হায়য আরম্ভ হয় তখন নামায ছেড়ে দিবে- আর যখন হায়যের মেয়াদ অতিবাহিত হয়, তখন রক্ত ধৌত করবে তারপর নামায আদায় করবে।

202

أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ هَاشِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَاتْرُكِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০২। হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখন হায়য আরম্ভ হয় তখন নামায ছেড়ে দিবে আর যখন তা বন্ধ হয়ে যায় (অর্থাৎ যখন তা অতিবাহিত হয়) তখন গোসল করবে।

203

أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ سَبْعَ سِنِينَ فَاشْتَكَتْ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنْ هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৩। ইমরান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্মে হাবীবাহ বিনতে জাহশ সাত বছর ইস্তেহাযায় ভুগেছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেনঃ এটা হায়য নয় বরং এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। অতএব, তুমি গোসল কর এবং নামায আদায় কর।

204

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي النُّعْمَانُ، وَالأَوْزَاعِيُّ، وَأَبُو مُعَيْدٍ - وَهُوَ حَفْصُ بْنُ غَيْلاَنَ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَعَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ امْرَأَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَهِيَ أُخْتُ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنْ هَذَا عِرْقٌ فَإِذَا أَدْبَرَتِ الْحَيْضَةُ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي وَإِذَا أَقْبَلَتْ فَاتْرُكِي لَهَا الصَّلاَةَ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَتُصَلِّي وَكَانَتْ تَغْتَسِلُ أَحْيَانًا فِي مِرْكَنٍ فِي حُجْرَةِ أُخْتِهَا زَيْنَبَ وَهِيَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَنَّ حُمْرَةَ الدَّمِ لَتَعْلُو الْمَاءَ وَتَخْرُجُ فَتُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا يَمْنَعُهَا ذَلِكَ مِنَ الصَّلاَةِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৪। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ (রাযিঃ) যিনি ছিলেন উম্মুল মুমেনীন যয়নাব বিনতে জাহশ (রাযিঃ) এর বোন- ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ বিষয়ে ফতোওয়া জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ এটা হায়য নয়। এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। অতএব যখন হায়য বন্ধ হয়ে যায়, তখন গোসল করবে এবং নামায আদায় করবে। আবার যখন হায়য আরম্ভ হবে, তখন নামায ছেড়ে দিবে।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর তিনি প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতেন এবং নামায আদায় করতেন। কোন কোন সময় তিনি তাঁর বোন যয়নাবের কক্ষে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থাকতেন, একটি বড় গামলায় গোসল করতেন। এমনকি রক্তের লাল রং পানির উপর উঠে আসত। তারপর তিনি বের হতেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামায শরীক হতেন। এটা তাঁকে নামায বাধা প্রদান করত না।
205

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ، - خَتَنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ - اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ اسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنْ هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) এর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শ্যালিকা উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) সাত বছর যাবৎ ইস্তিহাযায় ভুগছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ফতওয়া জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেনঃ এটা হায়য নয়, বর এটা একটা শিরার রক্ত। অতএব তুমি গোসল কর এবং নামায আদায় কর।

206

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اسْتَفْتَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُسْتَحَاضُ . فَقَالَ " إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي " . فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ফতোওয়া জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। অতএব তুমি গোসল কর এবং নামায আদায় কর। এরপর উম্মে হাবীবা প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতেন।

207
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ، سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدَّمِ - قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها رَأَيْتُ مِرْكَنَهَا مَلآنَ دَمًا - فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " امْكُثِي قَدْرَ مَا كَانَتْ تَحْبِسُكِ حَيْضَتُكِ ثُمَّ اغْتَسِلِي "
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، مَرَّةً أُخْرَى وَلَمْ يَذْكُرْ جَعْفَرًا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৭। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে (ইস্তিহাযার) রক্ত প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তাঁর টব রক্তে পূর্ণ দেখেছি। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তাঁকে বললেনঃ তোমার হায়য যতদিন তোমাকে নামায হতে বিরত রাখবে, ততদিন বিরত থাক, তারপর গোসল কর।
কুতায়বা (রাহঃ) থেকে অন্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাতে তিনি জাফরের* নাম উল্লেখ করেন নি।

*জা‘ফর পূর্বোক্ত রিওয়ায়াতের সনদে একজন রাবী।
208

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، تَعْنِي أَنَّ امْرَأَةً، كَانَتْ تُهَرَاقُ الدَّمَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَتْ لَهَا أُمُّ سَلَمَةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لِتَنْظُرْ عَدَدَ اللَّيَالِي وَالأَيَّامِ الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُ مِنَ الشَّهْرِ قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا الَّذِي أَصَابَهَا فَلْتَتْرُكِ الصَّلاَةَ قَدْرَ ذَلِكَ مِنَ الشَّهْرِ فَإِذَا خَلَّفَتْ ذَلِكَ فَلْتَغْتَسِلْ ثُمَّ لْتَسْتَثْفِرْ ثُمَّ لْتُصَلِّي " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২০৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ এর সময়ে জনৈকা মহিলার সর্বদা রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, উম্মে সালামা তার এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করলেন। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেনঃ (রক্তস্রাব বন্ধ না হওয়ার) যে রোগে সে আক্রান্ত, সে রোগ হওয়ার পূর্বে প্রত্যেক মাসে কত দিন কত রাত হায়য আসত সে তার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। মাসের সেই দিন ও রাত্রিগুলোতে নামায আদায় করবে না। তারপর সে দিনগুলো অতিবাহিত হলে সে গোসল করবে ও লজ্জাস্থান কাপড় দিয়ে বেঁধে নিবে এবং নামায আদায় করবে।

সহীহ।

হায়যের মুদ্দত সম্পর্কিত বর্ণনা

ذكر الأقراء

209

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ الَّتِي، كَانَتْ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَأَنَّهَا اسْتُحِيضَتْ لاَ تَطْهُرْ فَذُكِرَ شَأْنُهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنَّهَا رَكْضَةٌ مِنَ الرَّحِمِ فَلْتَنْظُرْ قَدْرَ قُرْئِهَا الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُ لَهَا فَلْتَتْرُكِ الصَّلاَةَ ثُمَّ تَنْظُرْ مَا بَعْدَ ذَلِكَ فَلْتَغْتَسِلْ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১০। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ যিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের সহধর্মিণী ছিলেন - ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হলেন যা অবিরাম চলতে লাগল। তাঁর এ অবস্থা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ তা হায়য নয়, বরং তা জরায়ুর স্পন্দন মাত্র। অতএব সে যেন হায়যের মুদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রাখে এবং সে দিনগুলোতে নামায আদায় থেকে বিরত থাকে, হায়যের মুদ্দত অতিবাহিত হলে সে যেন প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করে।

210

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ، كَانَتْ تُسْتَحَاضُ سَبْعَ سِنِينَ فَسَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ إِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ " . فَأَمَرَهَا أَنْ تَتْرُكَ الصَّلاَةَ قَدْرَ أَقْرَائِهَا وَحَيْضَتِهَا وَتَغْتَسِلَ وَتُصَلِّيَ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ (রাযিঃ) সাত বছর ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ এটা হায়য নয়, বরং একটি শিরা মাত্র (যা থেকে রক্ত নির্গত হয়)। অতএব তিনি তার হায়যের মুদ্দত পরিমাণ নামায ত্যাগ করতে আদেশ দিলেন। তারপর গোসল করতে ও নামায আদায় করতে বললেন। এরপর তিনি প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতেন।

211

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ، حَدَّثَتْ أَنَّهَا، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَشَكَتْ إِلَيْهِ الدَّمَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَانْظُرِي إِذَا أَتَاكِ قُرْؤُكِ فَلاَ تُصَلِّي فَإِذَا مَرَّ قُرْؤُكِ فَتَطَهَّرِي ثُمَّ صَلِّي مَا بَيْنَ الْقُرْءِ إِلَى الْقُرْءِ " هَذَا الدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ الأَقْرَاءَ حِيَضٌ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ عُرْوَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ مَا ذَكَرَ الْمُنْذِرُ

Narrator: ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ (রাঃ)

২১২। ঈসা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ......... উরওয়াহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর নিকট এসে তাঁর রক্তক্ষরণ জনিত সমস্যার কথা জানালেন। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তাঁকে বললেনঃ এটা একটি শিরা মাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)। অতএব লক্ষ্য রাখবে যখন তোমার হায়য উপস্থিত হয়, তখন নামায আদায় করা হতে বিরত থাকবে। আর যখন তোমার হায়য অতিবাহিত হয় এবং তুমি পবিত্র হও, তখন তুমি নামায আদায় করবে এবং এক হায়য থেকে অন্য হায়যের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত।

এ হাদীস হতে বুঝা যায়, (الأَقْرَاءَ) আকরা’ এখানে হায়য অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আবু আব্দুর রহমান বলেনঃ হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) এ হাদীসটি উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মুনযীর (রাবী) তাতে এ (হায়য) সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা তিনি উল্লেখ করেন নি।
212

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، وَوَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ قَالُوا حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ قَالَ " لاَ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ফাতিমা বিনতে আবী হুবায়শ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর নিকট এসে বললেনঃ আমি একজন ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলা; আমি পাক হই না। এমতাবস্থায় আমি কি নামায ত্যাগ করব? তিনি বললেনঃ না। এটা হায়য নয়। এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। যখন তোমার হায়য আরম্ভ হবে তখন নামায ছেড়ে দিবে। যখন তা অতিবাহিত হয় তখন রক্ত ধুয়ে নামায আদায় করবে।

ইস্তিহাযায় আক্রান্ত নারীর গোসল

ذكر اغتسال المستحاضة

213

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ امْرَأَةً، مُسْتَحَاضَةً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِيلَ لَهَا إِنَّهُ عِرْقٌ عَانِدٌ فَأُمِرَتْ أَنْ تُؤَخِّرَ الظُّهْرَ وَتُعَجِّلَ الْعَصْرَ وَتَغْتَسِلَ لَهُمَا غُسْلاً وَاحِدًا وَتُؤَخِّرَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلَ الْعِشَاءَ وَتَغْتَسِلَ لَهُمَا غُسْلاً وَاحِدًا وَتَغْتَسِلَ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ غُسْلاً وَاحِدًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৪। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় একজন ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীকে বলা হয়েছিল যে, এটা একটা শিরামাত্র যার রক্ত বন্ধ হয় না। তাকে আদেশ করা হয়েছিল, সে যেন যোহর নামাযকে পিছিয়ে শেষ ওয়াক্তে এবং আসর নামাযকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে এবং উভয় নামাযের জন্য একবারই গোসল করে এবং মাগরিবকে শেষ ওয়াক্তে এবং ঈশাকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে এবং এ দুই নামাযের জন্য একবারই গোসল করে। আর ফজরের নামায এর জন্য একবার গোসল করে।

নিফাসের গোসল প্রসঙ্গ

باب الاغتسال من النفاس

214

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، فِي حَدِيثِ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ حِينَ نُفِسَتْ بِذِي الْحُلَيْفَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَبِي بَكْرٍ " مُرْهَا أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُهِلَّ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৫। মুহাম্মাদ ইবনে কুদামাহ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আসমা বিনতে উমায়স (রাযিঃ) এর হাদীসে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন যুল হুলাইফা নামক স্থানে নিফাসগ্রস্ত হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ(ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ) কে বললেনঃ তাকে (আসমা বিনতে উমায়স) গোসল করে ইহরাম বাঁধতে বল।

হায়য ও ইস্তিহাযার রক্তের পার্থক্য নির্ণয়

باب الفرق بين دم الحيض والاستحاضة

215

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - وَهُوَ ابْنُ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ - عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ أَبِي حُبَيْشٍ، أَنَّهَا كَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ دَمُ الْحَيْضِ - فَإِنَّهُ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ - فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلاَةِ فَإِذَا كَانَ الآخَرُ فَتَوَضَّئِي فَإِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ " .

Narrator: ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ (রাঃ)

২১৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... ফাতেমা বিনতে আবু হুবায়শ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর ইস্তিহাযা হলে রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তাঁকে বললেনঃ যখন হায়যের রক্ত হয়, যা কাল রক্ত, চেনা যায়, তখন তুমি নামায থেকে বিরত থাকবে, আর যখন অন্য রক্ত হয় তখন উযু করে নিবে। কেননা তা একটি শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)।

216
قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، هَذَا مِنْ كِتَابِهِ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، مِنْ حِفْظِهِ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ، كَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ دَمَ الْحَيْضِ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ فَإِذَا كَانَ ذَلِكِ فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلاَةِ وَإِذَا كَانَ الآخَرُ فَتَوَضَّئِي وَصَلِّي " .

قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ غَيْرُ وَاحِدٍ لَمْ يَذْكُرْ أَحَدٌ مِنْهُمْ مَا ذَكَرَهُ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতেমা বিনতে আবু হুবায়শ (রাযিঃ) এর ইস্তিহাযা হলে রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তাঁকে বললেনঃ হায়যের রক্ত কাল বর্ণের হয়ে থাকে যা সহজে চেনা যায়। যখন এ রক্ত দেখা দেবে তখন নামায থেকে বিরত থাকবে, আর যখন অন্য রক্ত দেখা দেবে তখন উযু করবে এবং নামায আদায় করবে।

আবু আব্দুর রহমান বলেন, এ হাদীসটি অনেকেই বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনে আবী আদী যা উল্লেখ করেছেন, ″হায়যের রক্ত কালো যা সহজে চেনা যায়″ অন্য আর কেউ তা উল্লেখ করেননি। আল্লাহই ভাল জানেন।
217

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - وَهُوَ ابْنُ زَيْدٍ - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتِ اسْتُحِيضَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ فَسَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ أَثَرَ الدَّمِ وَتَوَضَّئِي فَإِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ " . قِيلَ لَهُ فَالْغُسْلُ قَالَ " ذَلِكَ لاَ يَشُكُّ فِيهِ أَحَدٌ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ لاَ أَعْلَمُ أَحَدًا ذَكَرَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ " وَتَوَضَّئِي " . غَيْرَ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ وَقَدْ رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ هِشَامٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ " وَتَوَضَّئِي "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ (রাযিঃ) এর ইস্তিহাযা হলে তিনি রাসূলুল্লাহ(ﷺ)কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ইস্তিহাযা হয়, অতএব আমি পাক হই না। এমতাবস্থায় আমি কি নামায ত্যাগ করব? রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বললেনঃ এটা হায়য নয় (বরং এটা একটি শিরা মাত্র যা হতে রক্ত নির্গত হয়)।

অতএব যখন হায়য দেখা দেয় তখন নামায পড়বে না। আর যখন হায়য বন্ধ হবে তখন রক্তের চিহ্ন ধৌত করবে এবং ওযু করবে। কারণ এটি হায়য নয়, বরং তা একটি সিরার রক্ত মাত্র। তাঁকে প্রশ্ন করা হলঃ হায়য বন্ধ হওয়ার পর কি গোসল করতে হবে? তিনি বললেনঃ এতে কারও সন্দেহ থাকতে পারেনা।

আবু আব্দুর রহমান বলেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ ব্যতীত অন্য কেউ এ হাদীসে ″তুমি ওযু করে নিবে″ এ কথাটি উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি ব্যতিত আরও অনেকে এটি হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে কেউই তুমি ওযু করে নেবে কথাটি উল্লেখ করেন নি।
218

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ فَإِذَا ذَهَبَ قَدْرُهَا فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ(ﷺ) কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি পবিত্র হই না, আমি কি নামায ত্যাগ করব? রাসুল (ﷺ) বলেন, এটা একটা শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়), এটা হায়য নয়। যখন হায়য দেখা দিবে তখন নামায ত্যাগ করবে আর যখন হায়যের মুদ্দত অতিবাহিত হবে, তখন গোসল করে রক্ত দূর করবে এবং নামায আদায় করবে।

219

أَخْبَرَنَا أَبُو الأَشْعَثِ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ، قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لاَ أَطْهُرُ أَفَأَتْرُكُ الصَّلاَةَ قَالَ " لاَ إِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ " . قَالَ خَالِدٌ فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ " وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২০। আবুল আশআছ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবু হুবায়শের কন্যা বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি পাক হই না, অতএব আমি কি নামায ত্যাগ করব? তিনি বললেনঃ না, এটা একটা শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)। খালিদ বললেনঃ আমি তার নিকট যা পাঠ করেছি তাহলো, তা হায়য নয়, অতএব যখন হায়য আসে তখন নামায ছেড়ে দিবে আর যখন শেষ হয়ে যায় তখন গোসল করে নামায আদায় করবে।

বদ্ধ পানিতে নাপাক লোকের গোসল না করা

باب النهي عن اغتسال الجنب في الماء الدائم

220

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرٍ، أَنَّ أَبَا السَّائِبِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَغْتَسِلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২১। সুলাইমান ইবনে দা’উদ ও হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... বুকায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আবু সায়িব তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন জানাবাত অবস্থায় বদ্ধ পানিতে গোসল না করে।[১]

[১] যার গোসল করা ফরজ তাকে জুনুব বলে। আর তার অপবিত্রতাকে জানাবাত বলে।

বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব এবং গোসল না করা

باب النهي عن البول في الماء الراكد والاغتسال منه

221

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ মুকরী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে, যাতে সে পরে গোসল করবে।

রাতের প্রথমভাগে গোসল করা প্রসঙ্গে

باب ذكر الاغتسال أول الليل

222

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ غُضَيْفِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَىُّ اللَّيْلِ كَانَ يَغْتَسِلُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ رُبَّمَا اغْتَسَلَ أَوَّلَ اللَّيْلِ وَرُبَّمَا اغْتَسَلَ آخِرَهُ . قُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الأَمْرِ سَعَةً

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৩। আমর ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... গুযায়ফ ইবনে হারিস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) রাতের কোন অংশে গোসল করতেন? তিনি বললেনঃ কোন সময় তিনি রাতের প্রথমভাগে গোসল করতেন আর কোন কোন সময় রাতের শেষভাগে গোসল করতেন। আমি বললাম, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি এই ব্যাপারে অবকাশ রেখেছেন।

রাতের প্রথম ও শেষে গোসল করা

الاغتسال أول الليل وآخره

223

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ بُرْدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ غُضَيْفِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رضى الله عنها فَسَأَلْتُهَا قُلْتُ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْتَسِلُ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ أَوْ مِنْ آخِرِهِ قَالَتْ كُلَّ ذَلِكَ رُبَّمَا اغْتَسَلَ مِنْ أَوَّلِهِ وَرُبَّمَا اغْتَسَلَ مِنْ آخِرِهِ . قُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الأَمْرِ سَعَةً .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৪। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবী (রাহঃ) ......... গুযায়ফ ইবনে হারিস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) রাতের প্রথমভাগে গোসল করতেন না শেষভাগে? তিনি বললেনঃ সব রকমই করেছেন। কোন সময় রাতের প্রথমভাগে করেছেন আবার কোন সময় রাতের শেষভাগে করেছেন। আমি বললাম, সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি এ বিষয়ে অবকাশ রেখেছেন।

গোসলের সময় পর্দা করা

باب ذكر الاستتار عند الاغتسال

224

أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحِلُّ بْنُ خَلِيفَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو السَّمْحِ، قَالَ كُنْتُ أَخْدُمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَغْتَسِلَ قَالَ " وَلِّنِي قَفَاكَ " . فَأُوَلِّيهِ قَفَاىَ فَأَسْتُرُهُ بِهِ

Narrator: আবুস সামহ (রাঃ)

২২৫। মুজাহিদ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... মুহিল ইবনে খলীফা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবুস সামেহ (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর খেদমত করতাম। তিনি যখন গোসল করার ইচ্ছা করতেন, তখন বলতেনঃ তোমার পিঠটা আমার দিকে ঘুরিয়ে দাও। তখন আমি আমার পিঠ তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দিতাম। এভাবে তাঁকে পর্দা করতাম।

225

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ، مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، رضى الله عنها أَنَّهَا ذَهَبَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ فَوَجَدَتْهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ فَسَلَّمَتْ فَقَالَ " مَنْ هَذَا " . قُلْتُ أُمُّ هَانِئٍ . فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ قَامَ فَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ فِي ثَوْبٍ مُلْتَحِفًا بِهِ .

Narrator: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

২২৬। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর নিকট গিয়ে দেখলেন, তিনি গোসল করছেন আর ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁকে একখানা কাপড় দিয়ে পর্দা করে আছেন। তিনি তাঁকে সালাম করলেন, তিনি বললেন ইনি কে? আমি বললামঃ আমি উম্মে হানী’। তিনি গোসল শেষ করলেন এবং পরে একখানা কাপড় জড়িয়ে আট রাকআত নামায আদায় করলেন।

পুরুষের গোসলের জন্য কি পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়

باب ذكر القدر الذي يكتفي به الرجل من الماء للغسل

226

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ، قَالَ أُتِيَ مُجَاهِدٌ بِقَدَحٍ حَزَرْتُهُ ثَمَانِيَةَ أَرْطَالٍ فَقَالَ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ بِمِثْلِ هَذَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৭। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ......... মুসা জুহানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুজাহিদ (রাহঃ) এর নিকট একটি পেয়ালা আনা হল, আমার অনুমান তাতে আট রতল* পানি হবে। পরে তিনি বললেনঃ আমাকে আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ পরিমাণ পানি দ্বারা গোসল করতেন।

227

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَفْصٍ، سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - وَأَخُوهَا مِنَ الرَّضَاعَةِ فَسَأَلَهَا عَنْ غُسْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَتْ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ قَدْرَ صَاعٍ وَسَتَرَتْ سِتْرًا فَاغْتَسَلَتْ فَأَفْرَغَتْ عَلَى رَأْسِهَا ثَلاَثًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৮। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু বকর ইবনে হাফস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি আবু সালামাকে বলতে শুনেছি, আমি এবং আয়িশা (রাযিঃ) এর দুধভাই তাঁর নিকট গেলাম। তাঁর ভাই রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি এমন একটি পাত্র আনলেন যাতে এক সা’ পরিমাণ পানি ছিল। তারপর তিনি যথাযথ পর্দা করে গোসল করলেন এবং তাঁর মাথায় তিনবার পানি ঢাললেন।

228

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْتَسِلُ فِي الْقَدَحِ وَهُوَ الْفَرَقُ وَكُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَهُوَ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এমন এক পানির পাত্রে গোসল করতেন যার নাম ফারাক (যাতে ষোল রতল পানি ধরত) আর আমি এবং তিনি একই পাত্রে গোসল করতাম।

229

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ بِمَكُّوكٍ وَيَغْتَسِلُ بِخَمْسَةِ مَكَاكِيَّ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩০। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে জাবর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এক মাককূক দ্বারা উযু করতেন এবং গোসল করতেন পাঁচ মাককূক দ্বারা।

230

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ تَمَارَيْنَا فِي الْغُسْلِ عِنْدَ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ جَابِرٌ يَكْفِي مِنَ الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ صَاعٌ مِنْ مَاءٍ . قُلْنَا مَا يَكْفِي صَاعٌ وَلاَ صَاعَانِ . قَالَ جَابِرٌ قَدْ كَانَ يَكْفِي مَنْ كَانَ خَيْرًا مِنْكُمْ وَأَكْثَرَ شَعْرًا .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৩১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু জাফর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমর জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর সম্মুখে গোসলের ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হলাম। তখন জাবির (রাযিঃ) বললেনঃ জানাবাতের গোসলে এক সা’ পানিই যথেষ্ট। আমরা বললাম এক সা’ বা দুই সা’ কোনরূপেই যথেষ্ট নয়। জাবির বললেনঃ তোমাদের থেকে উত্তম ও অধিক কেশযুক্ত ব্যক্তির (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) জন্য তা যথেষ্ট হতো।

এ ব্যাপারে (গোসলের পানির) কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ না থাকার বিবরণ

باب ذكر الدلالة على أنه لا وقت في ذلك

231

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح وَأَنْبَأَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، وَابْنُ، جُرَيْجٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ وَهُوَ قَدْرُ الْفَرَقِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩২। সুওয়ায়দ ইবনে নসর ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসূলুল্লাহ(ﷺ) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম আর সে পাত্র ছিল ফারাক (ষোল রতল পরিমাণের একটি পাত্র)।

স্বামী ও স্ত্রীর একই পাত্র হতে গোসল করা

باب ذكر اغتسال الرجل والمرأة من نسائه من إناء واحد

232

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، ح وَأَنْبَأَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ وَأَنَا مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ نَغْتَرِفُ مِنْهُ جَمِيعًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৩। সুওয়ায়দ ইবনে নসর ও কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এবং আমি একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। আমরা অঞ্জলিপূর্ণ করে তা থেকে একই সময়ে পানি নিতাম।

233

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مِنَ الْجَنَابَةِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্র থেকে নাপাকির গোসল করতাম।

234

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ لَقَدْ رَأَيْتُنِي أُنَازِعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الإِنَاءَ أَغْتَسِلُ أَنَا وَهُوَ مِنْهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার স্মরণ আছে, আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে পাত্র থেকে গোসল করতাম সে পাত্র নিয়ে আমি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাড়াকাড়ি করতাম।

235

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৬। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসূলুল্লাহ(ﷺ) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম।

236

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَخْبَرَتْنِي خَالَتِي، مَيْمُونَةُ أَنَّهَا كَانَتْ تَغْتَسِلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৭। ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে আমার খালা (উম্মুল মুমেনীন) মায়মুনা (রাযিঃ) সংবাদ দিয়েছেন, তিনি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্র থেকে গোসল করতেন।

237

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ هُرْمُزَ الأَعْرَجَ، يَقُولُ حَدَّثَنِي نَاعِمٌ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ رضى الله عنها أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ سُئِلَتْ أَتَغْتَسِلُ الْمَرْأَةُ مَعَ الرَّجُلِ قَالَتْ نَعَمْ إِذَا كَانَتْ كَيِّسَةً رَأَيْتُنِي وَرَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَغْتَسِلُ مِنْ مِرْكَنٍ وَاحِدٍ نُفِيضُ عَلَى أَيْدِينَا حَتَّى نُنْقِيَهُمَا ثُمَّ نُفِيضَ عَلَيْهَا الْمَاءَ . قَالَ الأَعْرَجُ لاَ تَذْكُرُ فَرْجًا وَلاَ تَبَالَهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৩৮। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে হুরমূয আল আ’রাজ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে উম্মে সালামার আযাদকৃত গোলাম না’য়িম বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে সালামা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, স্ত্রী কি পুরুষের সাথে গোসল করতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, করতে পারে যখন স্ত্রী বুদ্ধিমতী হয়। আমার স্মরণ আছে, আমি এবং রাসূলুল্লাহ(ﷺ) একই গামলা থেকে গোসল করতাম। আমরা আমাদের উভয় হাতে পানি ঢালতাম এবং তা ধুইতাম পরে তার উপর পানিও ঢালতাম। আ’রাজ (রাহঃ) ‘বুদ্ধিমতী’ এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেনঃ যে লজ্জাস্থানের উল্লেখ করেন না এবং নির্বোধ মহিলার ন্যায় আচরণ করেন না।

অপবিত্র ব্যক্তির উদ্ধৃত্ত পানি দ্বারা গোসল করা নিষেধ

باب ذكر النهي عن الاغتسال بفضل الجنب

238

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ دَاوُدَ الأَوْدِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ لَقِيتُ رَجُلاً صَحِبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَمَا صَحِبَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ - رضى الله عنه - أَرْبَعَ سِنِينَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَمْتَشِطَ أَحَدُنَا كُلَّ يَوْمٍ أَوْ يَبُولَ فِي مُغْتَسَلِهِ أَوْ يَغْتَسِلَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةُ بِفَضْلِ الرَّجُلِ وَلْيَغْتَرِفَا جَمِيعًا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষাত লাভ করেছি এমন এক ব্যক্তির যিনি চার বৎসর রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর সহচর্য লাভ করেছিলেন যেরূপ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) তাঁর সহচর্য লাভ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের প্রতিদিন মাথা আঁচড়াতে এবং গোসলের স্থানে পেশাব করতে না করেছেন আর স্ত্রীর উদ্ধৃত্ত পানি দ্বারা পুরুষের এবং পুরুষের উদ্ধৃত্ত পানি দ্বারা স্ত্রীর গোসল করতে এবং তাদের একত্রে অঞ্জলি দিয়ে পানি নিতেও নিষেধ করেছেন।

এ ব্যাপারে সুযোগ প্রদান

باب الرخصة في ذلك

239

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، ح وَأَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ يُبَادِرُنِي وَأُبَادِرُهُ حَتَّى يَقُولَ " دَعِي لِي " . وَأَقُولُ أَنَا دَعْ لِي . قَالَ سُوَيْدٌ يُبَادِرُنِي وَأُبَادِرُهُ فَأَقُولُ دَعْ لِي دَعْ لِي .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪০। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ও সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তিনি আমার পূর্বে পানি নেয়ার জন্য তাড়াতাড়ি করতেন, আমি তার পূর্বে নেয়ার জন্য তাড়াহুড়া করতাম। এমনকি তিনি বলতেন আমার জন্য রাখ, আর আমি বলতাম, আমার জন্য রাখুন। সুওয়ায়দ (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেনঃ তিনি আমার পূর্বে ও আমি তাঁর পূর্বে পানি নেয়ার চেষ্টা করতাম। এক পর্যায়ে আমি বলতাম, আমার জন্য রাখুন, আমার জন্য রাখুন।

এমন পাত্রে গোসল করা যাতে আটা খামির করা হয়

باب ذكر الاغتسال في القصعة التي يعجن فيها

240

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَ هُوَ وَمَيْمُونَةُ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ فِي قَصْعَةٍ فِيهَا أَثَرُ الْعَجِينِ .

Narrator: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

২৪১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) ও মায়মুনা (রাযিঃ) একই পাত্রে গোসল করেছেন, তা এমন পাত্র ছিল যাতে আটার খামিরের চিহ্ন ছিল।

জানাবাতের গোসলের নারীর মাথার বেণী না খোলা

باب ذكر ترك المرأة نقض ضفر رأسها عند اغتسالها من الجنابة

241

أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، - رضى الله عنها - زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أَشُدُّ ضَفْرَ رَأْسِي أَفَأَنْقُضُهَا عِنْدَ غَسْلِهَا مِنَ الْجَنَابَةِ قَالَ " إِنَّمَا يَكْفِيكِ أَنْ تَحْثِي عَلَى رَأْسِكِ ثَلاَثَ حَثَيَاتٍ مِنْ مَاءٍ ثُمَّ تُفِيضِينَ عَلَى جَسَدِكِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৪২। সুলাইমান ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... নবী(ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি শক্ত করে বেণী করি। আমি কি আমার জানাবাতের সময় তা ধোয়ার জন্য খুলে ফেলব? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মাথায় তিন অঞ্জলি পানি দিয়ে পরে তোমার শরীরে পানি ঢালবে।*

ইহরামের গোসলে ঋতুমতির জন্য বেণী খোলার আদেশ

باب ذكر الأمر بذلك للحائض عند الاغتسال للإحرام

242

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَشْهَبُ، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، وَهِشَامَ بْنَ عُرْوَةَ، حَدَّثَاهُ عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْتُ بِالْعُمْرَةِ فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ " . فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ " هَذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ مَالِكٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ لَمْ يَرْوِهِ أَحَدٌ إِلاَّ أَشْهَبُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৩। ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা বিদায় হজ্জের (হজ্জের) বছর রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর সঙ্গে বের হলাম, তারপর আমি উমরার ইহরাম বাঁধলাম। আর আমি হায়য অবস্থায় মক্কায় উপস্থিত হলাম। ফলে আমি কাবাঘরের ও সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করতে পারলাম না। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ ব্যাপারে মনঃকষ্টের কথা জানালাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মাথার চুল খুলে ফেল ও মাথা আঁচড়াও, হজ্জের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধ, উমরার নিয়ত ছাড়। আমি তাই করলাম। তারপর যখন আমরা হজ্জের (হজ্জের) কাজ সমাপ্ত করলাম, তিনি আমাকে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরের সাথে তানঈমে পাঠালেন। তখন আমি উমরা করলাম। তিনি বললেনঃ এ-ই তোমার উমরার স্থান।

পাত্রে হাত ঢুকাবার আগে অপবিত্র ব্যক্তির হাত ধৌত করা

ذكر غسل الجنب يديه قبل أن يدخلهما الإناء

243

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ وُضِعَ لَهُ الإِنَاءُ فَيَصُبُّ عَلَى يَدَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهُمَا الإِنَاءَ حَتَّى إِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ أَدْخَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى فِي الإِنَاءِ ثُمَّ صَبَّ بِالْيُمْنَى وَغَسَلَ فَرْجَهُ بِالْيُسْرَى حَتَّى إِذَا فَرَغَ صَبَّ بِالْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا ثُمَّ يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ مِلْءَ كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى جَسَدِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৪। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তাঁর জন্য পানি রাখা হত, তখন তিনি তাঁর হাতদ্বয়কে পাত্রে ঢুকাবার পূর্বে তাঁর উপর পানি ঢেলে নিতেন। তারপর যখন উভয় হাত ধুয়ে নিতেন তখন তিনি নিজ ডান হাত পাত্রে ঢুকাতেন। তারপর ডান হাত ধৌত করতেন আর বাম হাতে তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করতেন। এ কাজ শেষ করার পর তিনি ডান হাতে বাম হাতের উপর পানি ঢালতেন। এভাবে উভয় হাত ধুয়ে ফেলতেন। তারপর তিনি তিন বার কুলি করতেন এবং নাকে পানি দিতেন। তারপর উভয় হাতের তালুভরে মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন। তারপর দেহে পানি ঢালতেন।

দু’হাত পাত্রে ঢুকাবার আগে কতবার ধুতে হবে

باب ذكر عدد غسل اليدين قبل إدخالهما الإناء

244

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ غُسْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْجَنَابَةِ فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُفْرِغُ عَلَى يَدَيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ يَغْسِلُ فَرْجَهُ ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ ثُمَّ يُمَضْمِضُ وَيَسْتَنْشِقُ ثُمَّ يُفْرِغُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثًا ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৫। আহমদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে জানাবাতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলাম। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ(ﷺ) তিনবার হাতে পানি ঢালতেন, তারপর লজ্জাস্থান ধুতেন। তারপর উভয় হাত ধুতেন, পরে কুলি করতেন এবং নাকে পানি দিতেন। তারপর মাথার উপর তিনবার পানি ঢালতেন। এরপর তার সমস্ত শরীরের উপর পানি ঢালতেন।

নাপাক ব্যক্তি স্বীয় দু’হাত ধোয়ার পর শরীর থেকে ময়লা দুর করা

إزالة الجنب الأذى عن جسده بعد غسل يديه

245

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، أَنْبَأَنَا النَّضْرُ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - فَسَأَلَهَا عَنْ غُسْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْجَنَابَةِ فَقَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُؤْتَى بِالإِنَاءِ فَيَصُبُّ عَلَى يَدَيْهِ ثَلاَثًا فَيَغْسِلُهُمَا ثُمَّ يَصُبُّ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ فَيَغْسِلُ مَا عَلَى فَخِذَيْهِ ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ وَيَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْشِقُ وَيَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثًا ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৬। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আতা ইবনে সায়িব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু সালামাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জানাবাতের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পানির পাত্র আনা হলে নিজ হাত তিনবার পানি ঢেলে ধৌত করেন। তারপর তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাতে পানি ঢালতেন। সে পানি দ্বারা উভয় উরু ধৌত করতেন। পরে উভয় হাত ধৌত করতেন, কুলি করতেন এবং নাক পরিষ্কার করতেন। এরপর মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন। এরপর সমস্ত শরীরে পানি ঢালতেন।

অপবিত্র ব্যক্তি তার শরীর থেকে ময়লা দুর করার পর পুনরায় হাত ধোয়া

باب إعادة الجنب غسل يديه بعد إزالة الأذى عن جسده

246

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ وَصَفَتْ عَائِشَةُ غُسْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْجَنَابَةِ قَالَتْ كَانَ يَغْسِلُ يَدَيْهِ ثَلاَثًا ثُمَّ يُفِيضُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى فَيَغْسِلُ فَرْجَهُ وَمَا أَصَابَهُ - قَالَ عُمَرُ وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَالَ يُفِيضُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى ثَلاَثَ مَرَّاتٍ - ثُمَّ يَتَمَضْمَضُ ثَلاَثًا وَيَسْتَنْشِقُ ثَلاَثًا وَيَغْسِلُ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثًا ثُمَّ يَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর জানাবাতের গোসলের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, তিনি উভয় হাত তিনবার ধৌত করতেন এবং যে সকল স্থানে নাপাকী লেগেছে তা ধুতেন। উমর ইবনে যায়দ বলেনঃ আমি তাঁকে [বর্ণনাকারী আতা ইবনে সায়িব (রাহঃ) কে] এ ব্যতীত আর কিছু বলতে শুনিনি। তিনি বলেছেন যে, তিনি ডান হাতে বাম হাতের উপর তিন বার পানি ঢালতেন এবং তিনবার কুলি করতেন। আর তিনবার নাকে পানি দিতেন আর তাঁর চেহারা ও দু’হাত তিন বার ধুয়ে ফেলতেন। তারপর মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন। পরিশেষে তাঁর সর্বাঙ্গে পানি ঢালতেন।

গোসলের আগে অপবিত্র ব্যক্তির ওযু করা

ذكر وضوء الجنب قبل الغسل

247

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُدْخِلُ أَصَابِعَهُ الْمَاءَ فَيُخَلِّلُ بِهَا أُصُولَ شَعْرِهِ ثُمَّ يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ غُرَفٍ ثُمَّ يُفِيضُ الْمَاءَ عَلَى جَسَدِهِ كُلِّهِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতেন তখন উভয় হাত ধোয়ার মাধ্যমে আরম্ভ করতেন। তারপর নামাযের উযুর মত উযু করতেন। তারপর আঙ্গুলসমূহ পানিতে ডুবিয়ে তদ্বারা তাঁর চুলের গোড়া খিলাল করতেন। পরে মাথায় তিন অঞ্জলি পানি দিতেন। এরপর সর্বাঙ্গে পানি ঢালতেন।

জুনুব ব্যক্তির মাথা খিলাল করা

باب تخليل الجنب رأسه

248

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا يَحْيَى، قَالَ أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، - رضى الله عنها - عَنْ غُسْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْجَنَابَةِ أَنَّهُ كَانَ يَغْسِلُ يَدَيْهِ وَيَتَوَضَّأُ وَيُخَلِّلُ رَأْسَهُ حَتَّى يَصِلَ إِلَى شَعْرِهِ ثُمَّ يُفْرِغُ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৯। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... উরওয়াহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর জানাবাতের গোসল সম্পর্কে আমাকে বলেছেন যে, তিনি উভয় হাত ধৌত করতেন, উযু করতেন এবং মাথায় খিলাল করতেন, যেন পানি তাঁর চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌছে, তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢালতেন।

249

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُشَرِّبُ رَأْسَهُ ثُمَّ يَحْثِي عَلَيْهِ ثَلاَثًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মাথায় (খিলালের মাধ্যমে) পানি পৌঁছাতেন তারপর মাথায় তিন অঞ্জলি পানি ঢালতেন।

জুনুব ব্যক্তি মাথায় যতটুকু পানি ঢাললে যথেষ্ট হবে

باب ذكر ما يكفي الجنب من إفاضة الماء على رأسه

250

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، قَالَ تَمَارَوْا فِي الْغُسْلِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ إِنِّي لأَغْسِلُ كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا أَنَا فَأُفِيضُ عَلَى رَأْسِي ثَلاَثَ أَكُفٍّ " .

Narrator: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

২৫১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... জুবাইর ইবনে মুতঈম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে সাহাবীগণ গোসল সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হলেন। তাদের কেউ বললেনঃ আমি এভাবে গোসল করি, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কিন্তু আমি আমার মাথায় তিন অঞ্জলি পানি ঢালি।

হায়যের গোসলে কি করতে হয়।

باب ذكر العمل في الغسل من الحيض

251

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، - وَهُوَ ابْنُ صَفِيَّةَ - عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ غُسْلِهَا مِنَ الْمَحِيضِ فَأَخْبَرَهَا كَيْفَ تَغْتَسِلُ ثُمَّ قَالَ " خُذِي فِرْصَةً مِنْ مِسْكٍ فَتَطَهَّرِي بِهَا " . قَالَتْ وَكَيْفَ أَتَطَهَّرُ بِهَا فَاسْتَتَرَ كَذَا ثُمَّ قَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ تَطَهَّرِي بِهَا " . قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها فَجَذَبْتُ الْمَرْأَةَ وَقُلْتُ تَتَّبِعِينَ بِهَا أَثَرَ الدَّمِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫২। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা তার হায়যের গোসল সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাকে কিভাবে গোসল করতে হবে তা বললেন। তারপর বললেনঃ মিশক মিশ্রিত একখণ্ড তুলা নিয়ে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে বলল, তা দ্বারা কিভাবে পরিত্র হব? তখন রাসূলুল্লাহু (ﷺ) [লজ্জায়] এভাবে মুখ ঢাকলেন [বর্ণনাকারী নিজ মুখ ঢেকে দেখালেন] এবং বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি ঐ মহিলাকে টেনে নিলাম এবং বললাম, এটা যেখানে রক্তের চিহ্ন আছে সেখানে লাগাবে।

গোসলের পর ওযু না করা

باب ترك الوضوء من بعد الغسل

252

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ، - وَهُوَ ابْنُ صَالِحٍ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَتَوَضَّأُ بَعْدَ الْغُسْلِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৩। আহমদ ইবনে উসমান ইবনে হাকীম ও আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোসলের পর উযু করতেন না।[১]

[১] অর্থাৎ গোসলের পূর্বে যে উযু করেছেন সে উযূই যথেষ্ট বলে মনে করতেন অথবা গোসলের মাধ্যমে উযূর উদ্দেশ্য
হাসিল হয় বলে পুনরায় উযূ করতেন না।

গোসলের জায়গা ত্যাগ করে অন্য জায়গায় পা ধৌত করা

باب غسل الرجلين في غير المكان الذي يغتسل فيه

253

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عِيسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي خَالَتِي، مَيْمُونَةُ قَالَتْ أَدْنَيْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غُسْلَهُ مِنَ الْجَنَابَةِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا ثُمَّ أَدْخَلَ بِيَمِينِهِ فِي الإِنَاءِ فَأَفْرَغَ بِهَا عَلَى فَرْجِهِ ثُمَّ غَسَلَهُ بِشِمَالِهِ ثُمَّ ضَرَبَ بِشِمَالِهِ الأَرْضَ فَدَلَكَهَا دَلْكًا شَدِيدًا ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ حَثَيَاتٍ مِلْءَ كَفِّهِ ثُمَّ غَسَلَ سَائِرَ جَسَدِهِ ثُمَّ تَنَحَّى عَنْ مَقَامِهِ فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ قَالَتْ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِالْمِنْدِيلِ فَرَدَّهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৪। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জানাবাতের গোসলের সময় তার কাছে পানি এগিয়ে দিলাম। তিনি দু’বার কি তিনবার উভয় হাত (কব্জি পর্যন্ত) ধুলেন, তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রে ঢুকালেন। ঐ হাতে তাঁর লজ্জাস্থানে পানি ঢাললেন এবং বাম হাতে তা ধুলেন। তারপর বাম হাত মাটিতে রেখে তা উত্তমরূপে ঘষলেন। তারপর নামাযের উযুর ন্যায় উযু করলেন। এরপর অঞ্জলিভরে তিন অঞ্জলি পানি মাথায় ঢাললেন। তারপর সমস্ত শরীর ধৌত করলেন। এরপর গোসলের স্থান হতে সরে উভয় পা ধৌত করলেন। পরিশেষে আমি তাঁর নিকট রুমাল নিয়ে গেলে তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন।

গোসলের পর রুমাল ব্যবহার না করা

باب ترك المنديل بعد الغسل

254

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَ فَأُتِيَ بِمِنْدِيلٍ فَلَمْ يَمَسَّهُ وَجَعَلَ يَقُولُ بِالْمَاءِ هَكَذَا

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) গোসল করার পর তাঁর নিকট রুমাল আনা হল, কিন্তু তিনি তা স্পর্শ করলেন না এবং এরূপে পানি ঝেড়ে ফেলতে লাগলেন।[১]

[১] গোসলের পর দেহের পানি মোছার জন্য তিনি কখনো রুমাল ব্যবহার করতেন, কখনো করতেন না।

পানাহারের প্রয়োজনে জুনুব ব্যক্তির ওযু করা

باب وضوء الجنب إذا أراد أن يأكل

255

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم - وَقَالَ عَمْرٌو كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ تَوَضَّأَ - زَادَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ - وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৬। হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ ও আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানাবাত অবস্থায় যখন আহার করতে অথবা নিদ্রা যেতে ইচ্ছা করতেন তখন তিনি উযু করতেন। আমর তাঁর বর্ণনায় বলেছেন, নামাযের উযুর মত উযু।

জুনুব ব্যক্তি খাবার খেতে ইচ্ছা করলে শুধু তার উভয় হাত ধৌত করা

باب اقتصار الجنب على غسل يديه إذا أراد أن يأكل

256

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ تَوَضَّأَ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ غَسَلَ يَدَيْهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানাবাত অবস্থায় নিদ্রার ইচ্ছা করলে উযু করতেন আর আহার করার ইচ্ছা করলে উভয় হাত ধৌত করতেন।

পানাহারের ইচ্ছা করলে জুনুব ব্যক্তি শুধু তার উভয় হাত ধুবে

باب اقتصار الجنب على غسل يديه إذا أراد أن يأكل أو يشرب

257

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ تَوَضَّأَ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ يَشْرَبَ - قَالَتْ - غَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ يَأْكُلُ أَوْ يَشْرَبُ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৮। সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানাবাত অবস্থায় নিদ্রার ইচ্ছা করলে উযু করতেন। আর যখন পানাহারের ইচ্ছা করতেন, তখন উভয় হাত ধুতেন, তারপর পানাহার করতেন।

নিদ্রার ইচ্ছা করলে জুনুব ব্যক্তির ওযু করা

باب وضوء الجنب إذا أراد أن ينام

258

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ قَبْلَ أَنْ يَنَامَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৫৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানাবাত অবস্থায় নিদ্রার ইচ্ছা করলে নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে নামাযের ন্যায় উযু করতেন।

259

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَنَامُ أَحَدُنَا وَهُوَ جُنُبٌ قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬০। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ জানাবাত অবস্থায় নিদ্রা যাবে কি? তিনি বললেন, যদি উযু করে নেয়।

জুনুব ব্যক্তি নিদ্রা যেতে ইচ্ছা করলে ওযু করা এবং লজ্জাস্থান ধোয়া

باب وضوء الجنب، وغسل ذكره إذا أراد أن ينام

260

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: ذَكَرَ عُمَرُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ تُصِيبُهُ الْجَنَابَةُ مِنَ اللَّيْلِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَوَضَّأْ وَاغْسِلْ ذَكَرَكَ، ثُمَّ نَمْ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করলেন যে, রাতে তিনি জানাবাতগ্রস্থ হন (এরপর ঘুমাতে চাইলে কি করবেন?) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এরূপ হলে তুমি উযু করবে এবং লজ্জাস্থান ধৌত করবে, তারপর ঘুমাবে।

জুনুব অপবিত্র ব্যক্তি যদি ওযু না করে

باب في الجنب إذا لم يتوضأ

261

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، ح وَأَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُجَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَلاَ كَلْبٌ وَلاَ جُنُبٌ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ঘরে ছবি, ককুর বা জুনুব ব্যক্তি থাকে, সে ঘরে ফিরিশতা প্রবেশ করে না।[১]

[১] অর্থাৎ রহমত ওবরকতের ফেরেস্তা প্রবেশ করেন না।

জুনুব ব্যক্তি পুনঃসহবাস করতে ইচ্ছা করলে

باب في الجنب إذا أراد أن يعود

262

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَعُودَ تَوَضَّأَ "

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৬৩। হুসাইন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ পুনঃ সহবাস করতে চাইলে সে উযু করে নেবে।

গোসল না করে একাধিক স্ত্রীর কাছে যাওয়া

باب إتيان النساء قبل إحداث الغسل

263

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لإِسْحَاقَ - قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَافَ عَلَى نِسَائِهِ فِي لَيْلَةٍ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই গোসলে একরাতে তাঁর সকল সহধর্মীণীর নিকট গমন করেছেন।

264

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬৫। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই গোসলে সকল স্ত্রীর নিকট গমন করতেন।

জুনুব ব্যক্তির কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকা

باب حجب الجنب من قراءة القرآن

265

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلِمَةَ، قَالَ أَتَيْتُ عَلِيًّا أَنَا وَرَجُلاَنِ، فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ مِنَ الْخَلاَءِ فَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَأْكُلُ مَعَنَا اللَّحْمَ وَلَمْ يَكُنْ يَحْجُبُهُ عَنِ الْقُرْآنِ شَىْءٌ لَيْسَ الْجَنَابَةَ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬৬। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং অন্য দু’ব্যক্তি আলী (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। তখন তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শৌচাগার হতে বের হয়ে কুরআন পড়তেন এবং আমাদের সাথে গোশত খেতেন। জানাবাত অবস্থা ব্যতিত তাকে কোন কিছুই কুরআন পাঠ হতে বিরত রাখত না।

266

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ أَبُو يُوسُفَ الصَّيْدَلاَنِيُّ الرَّقِّيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلِمَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ الْقُرْآنَ عَلَى كُلِّ حَالٍ لَيْسَ الْجَنَابَةَ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬৭। মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আবু ইউসুফ সায়দালানী আর-রিক্কি (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানাবাতের অবস্থা ব্যতিত সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

জুনুব ব্যক্তিকে স্পর্শ করা ও তার সঙ্গে বসা

باب مماسة الجنب ومجالسته

267

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا لَقِيَ الرَّجُلَ مِنْ أَصْحَابِهِ مَاسَحَهُ وَدَعَا لَهُ - قَالَ - فَرَأَيْتُهُ يَوْمًا بُكْرَةً فَحِدْتُ عَنْهُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ فَقَالَ " إِنِّي رَأَيْتُكَ فَحِدْتَ عَنِّي " . فَقُلْتُ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا فَخَشِيتُ أَنْ تَمَسَّنِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمُسْلِمَ لاَ يَنْجُسُ " .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

২৬৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখনই তাঁর সাহাবীগণের কারো সাথে সাক্ষাত করতেন, তাঁর সাথে মুসাফাহা করতেন এবং তাঁর জন্য দু'আ করতেন। হুযাইফা বলেন, একদিন ভোরে আমি তাঁর দেখা পেলাম। তাকে দেখে আমি দূরে সরে গেলাম। তারপর যখন কিছু বেলা হল, আমি তাঁর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে দেখলাম, তারপর তুমি আমার থেকে দূরে সরে গেলে? আমি বললাম, আমি জুনুব অবস্থায় ছিলাম। আমার ভয় হল, এমতাবস্থায় আপনি আমাকে স্পর্শ করে না বসেন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মুসলমান নাপাক হয় না।

268

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، قَالَ حَدَّثَنِي وَاصِلٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُ وَهُوَ جُنُبٌ . فَأَهْوَى إِلَىَّ فَقُلْتُ إِنِّي جُنُبٌ فَقَالَ " إِنَّ الْمُسْلِمَ لاَ يَنْجُسُ "

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

২৬৯। ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর জানাবাত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দেখা হল। (হুযাইফা বলেন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার দিকে আসছেন দেখে আমি বললাম, আমি জানাবাত অবস্থায় আছি। তিনি [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] বললেনঃ মুসলমান নাপাক হয় না।

269

أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُفَضَّلِ - قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ بَكْرٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُ فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ جُنُبٌ فَانْسَلَّ عَنْهُ فَاغْتَسَلَ فَفَقَدَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا جَاءَ قَالَ " أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَقِيتَنِي وَأَنَا جُنُبٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ حَتَّى أَغْتَسِلَ . فَقَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لاَ يَنْجُسُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭০। হুমায়দ ইবনে মাসআদাহ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর সাথে মদীনার এক রাস্তায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাত হল, তখন তিনি জানাবাত অবস্থায়। সেজন্য তিনি সন্তর্পণে সরে পড়লেন এবং গোসল করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে আর দেখতে পেলেন না। যখন পুনরায় আসলেন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, যে আবু হুরায়রা! তুমি কোথায় ছিলে? তিনি বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার সাথে যখন আপনার সাক্ষাত হয়েছিল তখন আমি জানাবাত অবস্থায় ছিলাম। আমি গোসল করার পূর্বে আপনার সাথে বসাকে খারাপ মনে করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! মুমিন নাপাক হয় না।

ঋতুমতি স্ত্রীর খেদমত নেয়া প্রসঙ্গে

باب استخدام الحائض

270

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ إِذْ قَالَ " يَا عَائِشَةُ نَاوِلِينِي الثَّوْبَ " . فَقَالَتْ إِنِّي لاَ أُصَلِّي . قَالَ " إِنَّهُ لَيْسَ فِي يَدِكِ " . فَنَاوَلَتْهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৭১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে ছিলেন, হঠাৎ তিনি বললেনঃ হে আয়িশা আমাকে কাপড়টি দাও। তিনি [আয়িশা (রাযিঃ)] বললেনঃ আমি তো নামায হতে বিরত আছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হায়য তোমার হাতে নয়, পরে আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে কাপড় দিলেন।

271

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَأَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ " . قَالَتْ إِنِّي حَائِضٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَتْ حَيْضَتُكِ فِي يَدِكِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭২। কতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মসজিদ হতে আমাকে জায়নামাযটি এনে দাও। তিনি বললেন, আমি তো হায়য অবস্থায় আছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হায়য তোমার হাতে নয়।

272

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) আবু মুআবিয়া (রাহঃ) থেকে, তিনি আ’মাশ (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মসজিদে ঋতুমতির চাটাই বিছানো

باب بسط الحائض الخمرة في المسجد

273

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْبُوذٍ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّ مَيْمُونَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ رَأْسَهُ فِي حِجْرِ إِحْدَانَا فَيَتْلُو الْقُرْآنَ وَهِيَ حَائِضٌ وَتَقُومُ إِحْدَانَا بِالْخُمْرَةِ إِلَى الْمَسْجِدِ فَتَبْسُطُهَا وَهِيَ حَائِضٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

২৭৪। মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর ......... মানবুয (রাহঃ) এর[১] মা থেকে বর্ণিত। মায়মুনা (রাযিঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ মাথা আমাদের কারো কোলে রেখে কুরআন তিলাওয়াত করতেন অথচ (যার কোলে মাথা রাখতেন) তিনি তখন ঋতুবতী। আর আমাদের কেউ ঋতুবতী অবস্থায় মসজিদে চাটাই বিছিয়ে দিতেন।[২]

[১] মানবূয ইবনে আবু সুলাইমান মক্কী (রাহঃ)।
[২] অর্থাৎ মসজিদের বাইরে থেকে চাটাই বিছিয়ে দিতেন।

ঋতুমতি স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে কুরআন তিলাওয়াত করা

باب في الذي يقرأ القرآن ورأسه في حجر امرأته وهي حائض

274

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَأْسُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حِجْرِ إِحْدَانَا وَهِيَ حَائِضٌ وَهُوَ يَتْلُو الْقُرْآنَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৫। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাদের ঋতুমতী কারো কোলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথা রেখে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

ঋতুমতি স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর মাথা ধোয়া

باب غسل الحائض رأس زوجها

275

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُومِئُ إِلَىَّ رَأْسَهُ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ فَأَغْسِلُهُ وَأَنَا حَائِضٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৬। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতিকাফ অবস্থায় আমার দিকে তাঁর মাথা বের করে দিতেন আর আমি তা ধুয়ে দিতাম অথচ তখন আমি ঋতুবতী।

276

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، وَذَكَرَ، آخَرُ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخْرِجُ إِلَىَّ رَأْسَهُ مِنَ الْمَسْجِدِ وَهُوَ مُجَاوِرٌ فَأَغْسِلُهُ وَأَنَا حَائِضٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৭। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদ হতে তাঁর মাথা আমার দিকে বের করে দিতেন আর আমি তা ধুয়ে দিতাম, অথচ তখন আমি ঋতুবতী।

277

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا حَائِضٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৮। কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা আঁচড়ে দিতাম অথচ তখন আমি ঋতুবতী।

278

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَأَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ شُعَيْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - مِثْلَ ذَلِكَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৭৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আলী ইবনে শুয়ায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। (অর্থাৎ তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা আঁচড়ে দিতাম অথচ তখন আমি ঋতুবতী।)

ঋতুমতির সাথে খাওয়া এবং তার ভুক্তাবশেষ পান করা

باب مؤاكلة الحائض والشرب من سؤرها

279

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - وَهُوَ ابْنُ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ شُرَيْحٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها سَأَلْتُهَا هَلْ تَأْكُلُ الْمَرْأَةُ مَعَ زَوْجِهَا وَهِيَ طَامِثٌ قَالَتْ نَعَمْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُونِي فَآكُلُ مَعَهُ وَأَنَا عَارِكٌ وَكَانَ يَأْخُذُ الْعَرْقَ فُيُقْسِمُ عَلَىَّ فِيهِ فَأَعْتَرِقُ مِنْهُ ثُمَّ أَضَعُهُ فَيَأْخُذُهُ فَيَعْتَرِقُ مِنْهُ وَيَضَعُ فَمَهُ حَيْثُ وَضَعْتُ فَمِي مِنَ الْعَرْقِ وَيَدْعُو بِالشَّرَابِ فَيُقْسِمُ عَلَىَّ فِيهِ قَبْلَ أَنْ يَشْرَبَ مِنْهُ فَآخُذُهُ فَأَشْرَبُ مِنْهُ ثُمَّ أَضَعُهُ فَيَأْخُذُهُ فَيَشْرَبُ مِنْهُ وَيَضَعُ فَمَهُ حَيْثُ وَضَعْتُ فَمِي مِنَ الْقَدَحِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮০। কুতায়বা (রাহঃ) ......... সূরাইয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলামঃ হায়য অবস্থায় স্ত্রী কি তাঁর স্বামীর সঙ্গে খেতে পারে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডাকতেন, আমি তাঁর সঙ্গে খেতাম অথচ আমি তখন ঋতুবতী। আর তিনি হাড় নিতেন এবং বলতেন, আল্লাহর কসম, তুমি আগে খাও। তারপর আমি তাঁর কিছু অংশ চিবাতাম এবং রেখে দিতাম। পরে তিনি তা নিয়ে চিবাতেন। হাড়টির ঐখানেই মুখ দিতেন যেখানে আমি মুখ দিয়েছিলাম। আর তিনি পানীয় আনিয়ে বলতেনঃ আল্লাহর কসম, তুমি এটি আগে পান কর। তখন আমি পাত্রটি নিয়ে তা থেকে পান করতাম এবং আমি রেখে দিলে তিনি উঠিয়ে তা থেকে পান করতেন। আর আমি পেয়ালার যেখানে মুখ দিয়েছিলাম তিনি সেখানেই মুখ দিতেন।

280

أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَزَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ فَاهُ عَلَى الْمَوْضِعِ الَّذِي أَشْرَبُ مِنْهُ فَيَشْرَبُ مِنْ فَضْلِ سُؤْرِي وَأَنَا حَائِضٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮১। আইয়ুব ইবনে মুহাম্মাদ ওয়াজ্জান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে মুখ রাখতে যেখানে মুখ রেখে আমি পান করতাম। তিনি আমার ভুক্তাবশেষ (অবশিষ্ট অংশ) থেকে পান করতেন অথচ তখন আমি ঋতুবতী।

ঋতুমতির ভুক্তাবশেষ আহার করা

باب الانتفاع بفضل الحائض

281

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَاوِلُنِي الإِنَاءَ فَأَشْرَبُ مِنْهُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُعْطِيهِ فَيَتَحَرَّى مَوْضِعَ فَمِي فَيَضَعُهُ عَلَى فِيهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮২। মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... মিকদাম ইবনে সূরাইয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে পাত্র দিতেন আমি তা থেকে পান করতাম অথচ তখন আমি ঋতুবতী। তারপর আমি তাকে সে পাত্র দিতাম আর তিনি আমার পান করার জায়গা তালাশ করে সে জায়গায় তাঁর মুখ রাখতেন।

282

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، وَسُفْيَانُ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ وَأُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ وَأُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৩। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হায়য অবস্থায় পাত্র থেকে পান করতাম এবং তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দিতাম। আমি যেখানে মুখ রেখে পান করতাম তিনি সেখানে মুখ রাখতেন। আমি হায়য অবস্থায় হাড় চিবাতাম তারপর তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দিতাম। আর তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে মুখ রাখতেন।

ঋতুমতির সাথে শয়ন করা

باب مضاجعة الحائض

283

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَأَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ حَدَّثَتْهَا قَالَتْ، بَيْنَمَا أَنَا مُضْطَجِعَةٌ، مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَمِيلَةِ إِذْ حِضْتُ فَانْسَلَلْتُ فَأَخَذْتُ ثِيَابَ حَيْضَتِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَفِسْتِ " . قُلْتُ نَعَمْ فَدَعَانِي فَاضْطَجَعْتُ مَعَهُ فِي الْخَمِيلَةِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৮৪। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একই চাঁদরে শায়িত ছিলাম, হঠাৎ আমার হায়য দেখা দিল। আমি সরে পড়লাম এবং আমার হায়যের কাপড় পরিধান করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তুমি কি ঋতুবতী হয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি আমাকে ডাকলেন আর আমি তাঁর সঙ্গে একই চাঁদরে শয়ন করলাম।

284

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ صُبْحٍ، قَالَ سَمِعْتُ خِلاَسًا، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم نَبِيتُ فِي الشِّعَارِ الْوَاحِدِ وَأَنَا طَامِثٌ أَوْ حَائِضٌ فَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَىْءٌ غَسَلَ مَكَانَهُ وَلَمْ يَعْدُهُ وَصَلَّى فِيهِ ثُمَّ يَعُودُ فَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَىْءٌ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَمْ يَعْدُهُ وَصَلَّى فِيهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই চাঁদরে রাত্রিযাপন করতাম অথচ তখন আমি ঋতুবতী। যদি আমার কোন কিছু তাঁর শরীরে লাগত, তখন তিনি ঐ স্থানই ধুয়ে নিতেন এবং এর বেশী ধুতেন না। আর এ অবস্থাতেই তিনি নামায আদায় করতেন, আবার তিনি বিছানায় ফিরে আসতেন। যদি আমার কোন কিছু তার শরীরে লাগত, তবে তিনি শরীরের ঐ অংশটুকুই ধুতেন এর বেশী ধুতেন না। আর এ অবস্থাতেই তিনি নামায পড়তেন।

ঋতুমতির শরীরের সাথে শরীর মিলানো

باب مباشرة الحائض

285

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا أَنْ تَشُدَّ إِزَارَهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৬। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ ঋতুবতী অবস্থায় থাকলে রাসূলুল্লাহ তাকে ইযার (হায়যের কাপড়) পরার আদেশ দিতেন। তারপর তিনি তাঁর শরীরের সাথে শরীর লাগাতেন।

286

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ إِحْدَانَا إِذَا حَاضَتْ أَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَتَّزِرَ ثُمَّ يُبَاشِرُهَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ ঋতুবতী থাকলে তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে তাঁর ইযার পরিধান করতে বলতেন। তারপর তিনি তাঁর শরীরে শরীর লাগাতেন।

287

أَخْبَرَنَا الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، وَاللَّيْثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حَبِيبٍ، مَوْلَى عُرْوَةَ عَنْ بُدَيَّةَ، - وَكَانَ اللَّيْثُ يَقُولُ نَدَبَةَ - مَوْلاَةُ مَيْمُونَةَ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَاشِرُ الْمَرْأَةَ مِنْ نِسَائِهِ وَهِيَ حَائِضٌ إِذَا كَانَ عَلَيْهَا إِزَارٌ يَبْلُغُ أَنْصَافَ الْفَخِذَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ . فِي حَدِيثِ اللَّيْثِ مُحْتَجِزَةً بِهِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

২৮৮। হারিস ইবনে মিসকীন (রাহঃ) ......... মায়মুনা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোন সহধর্মিণীর হায়য অবস্থায় যখন তাঁর পরনে ইযার থাকত যা হাঁটু ও রানের মধ্যস্থল পর্যন্ত পৌঁছে, তখন তিনি তাঁর শরীরে শরীর মেলাতেন। লাঈসের হাদীসে আছে, তিনি (সহধর্মিণী) ঐ ইযার দ্বারা (দেহের মধ্যাংশ) আবৃত করতেন।

মহান আল্লাহর বাণীঃ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ - এর ব্যাখ্যা

باب تأويل قول الله عز وجل: {ويسألونك عن المحيض} [البقرة: 222]

288

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَتِ الْيَهُودُ إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ مِنْهُمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَلَمْ يُشَارِبُوهُنَّ وَلَمْ يُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ فَسَأَلُوا نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى) الآيَةَ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَيُشَارِبُوهُنَّ وَيُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ وَأَنْ يَصْنَعُوا بِهِنَّ كُلَّ شَىْءٍ مَا خَلاَ الْجِمَاعَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৮৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইয়াহুদিদের স্ত্রীরা যখন ঋতুবতী হত তখন তারা তাদের সাথে একত্রে পানাহার করত না এবং তারা ঘরে তাদের সাথে একত্রে অবস্থানও করত না। অতএব সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন।তখন আল্লাহ তাআলা - وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى [ "তারা তোমাকে হায়য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে"] আয়াতটি নাযিল করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের আদেশ করলেন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের সাথে পানাহার করে ও ঘরে একত্রে অবস্থান করে এবং তাদের সাথে সহবাস ব্যতিত আর সব কিছু করা বৈধ মনে করে।

এতে ইয়াহুদিরা বলল, আমাদের রীতিনীতির কোনটিরই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিরোধিতা না করে ছাড়বেন না। উসায়দ ইবনে হুজায়র ও আব্বাদ ইবনে বিশর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গমন করে এ কথাটি জানালেন এবং প্রশ্ন করলেন, আমরা হায়য অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে সহবাস করব কি? এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল, তখন তারা ধারণা করলেন যে, তিনি রাগান্বিত হয়েছেন এবং উভয়েই সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু হাদিয়ার দুধ গ্রহণ করলেন। তখন তিনি সাহাবিদ্বয়-এর অনুসন্ধানে লোক পাঠালেন। তাদের দেকে আনা হল এবং উভয়কে তিনি দুধ পান করালেন। এতে জানা গেল যে, তাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগ করেন নি।

যে লোক হায়য অবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও সহবাস করে তার উপর কি ওয়াজিব হবে ?

باب ما يجب على من أتى حليلته في حال حيضتها بعد علمه بنهي الله عز وجل عن وطئها

289

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مُقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّجُلِ يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯০। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেনঃ যে ব্যক্তি হায়য অবস্থায় স্ত্রী সঙ্গম করে, সে এক দিনার অথবা অর্ধ দিনার[১] সাদ্‌কা করবে।

[১] সে যুগে দীনার স্বর্ণমুদ্রাকে বলা হত। এযুগেও কোন কোন দেশের মুদ্রাকে দীনার বলা হয় ।

মুহরিম[১] মহিলা ঋতুমতি হলে কি করবে ?

باب ما تفعل المحرمة إذا حاضت

290

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ نُرَى إِلاَّ الْحَجَّ فَلَمَّا كَانَ بِسَرِفَ حِضْتُ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ " مَا لَكِ أَنَفِسْتِ " . فَقُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ فَاقْضِي مَا يَقْضِي الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ " . وَضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে হজ্জের নিয়তে বের হলাম। যখন আমরা সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার হায়য আসল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট আসলেন, তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হল? তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ তাআলা আদম কন্যাদের জন্য অবধারিত করেছেন। অতএব তুমি হজ্জের সকল আহকাম আদায় কর তবে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী দিলেন।

[১] যে হজ্জ বা উমরার উদ্দেশে ইহরাম করেছে, তাকে মুহরিম বলা হয়।

ইহরামের সময় নিফাসওয়ালী নারীরা[১] কী করবে

باب ما تفعل النفساء عند الإحرام

291

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، أَتَيْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ حَجَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ وَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى إِذَا أَتَى ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلَدَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْسَلَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ أَصْنَعُ قَالَ " اغْتَسِلِي وَاسْتَثْفِرِي ثُمَّ أَهِلِّي " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯২। আমর ইবনে আলী, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জাফর ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে আমার পিতা বলেছেন, আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট গমন করে তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিদায় হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যূলকা’দ মাসের পাঁচ দ্বীন অবশিষ্ট থাকতে হজ্জের উদ্দেশ্য বের হলেন। আমরাও তাঁর সাথে বের হলাম। যখন তিনি যুল হুলাইফা পৌঁছলেন, তখন আসমা বিনতে উমায়স (রাযিঃ) মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকে প্রসব করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করে পাঠালেনঃ আমি এখন কি করব? তিনি বললেনঃ তুমি গোসল কর তারপর পট্টি পরে নাও এবং ইহরাম বাঁধ।

[১] গর্ভবতী মহিলাদের সন্তান প্রসবের পর যে কিছুদিন রক্ত বের হয়, সে সময়কালকে নিফাস বলা হয় ।

হায়যের রক্ত কাপড়ে লাগলে

باب دم الحيض يصيب الثوب

292

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الْمِقْدَامِ، ثَابِتٌ الْحَدَّادُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ قَيْسٍ بِنْتَ مِحْصَنٍ، أَنَّهَا سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ قَالَ " حُكِّيهِ بِضِلَعٍ وَاغْسِلِيهِ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ " .

Narrator: উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাঃ)

২৯৩। উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আদী ইবনে দীনার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হায়যের রক্ত লাগার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি, তিনি বললেন, কাঠ দ্বারা তা ঘষে নেবে এবং কুলপাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলেবে।

293

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، وَكَانَتْ، تَكُونُ فِي حِجْرِهَا أَنَّ امْرَأَةً اسْتَفْتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ فَقَالَ " حُتِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ بِالْمَاءِ ثُمَّ انْضَحِيهِ وَصَلِّي فِيهِ "

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২৯৪। ইয়াহিয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবী (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কাপড়ে লাগা হায়যের রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ তা খুঁটবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে, তারপর তা ধুয়ে নেবে আর তাতেই নামায আদায় করবে।

কাপড়ে যদি বীর্য লাগে

باب المني يصيب الثوب

294

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ حَبِيبَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الَّذِي كَانَ يُجَامِعُ فِيهِ قَالَتْ نَعَمْ إِذَا لَمْ يَرَ فِيهِ أَذًى

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২৯৫। ঈসা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) ......... মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কাপড়ে সহবাস করতেন তাতে কি তিনি নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যদি তাতে কোন নাপাকী না দেখতেন।

কাপড় থেকে বীর্য ধৌত ফেলা

باب غسل المني من الثوب

295

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الْجَزَرِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْسِلُ الْجَنَابَةَ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ وَإِنَّ بُقَعَ الْمَاءِ لَفِي ثَوْبِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৬। সুওয়ায়াদ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাপড় হতে জানাবাতের নাপাকী ধুইতাম, তারপর তিনি নামাযের জন্য বের হতেন অথচ পানির চিহ্ন তাঁর কাপড়ে বিদ্যমান থাকত।

কাপড় থেকে বীর্য তুলে ফেলা

باب فرك المني من الثوب

296

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَفْرُكُ الْجَنَابَةَ - وَقَالَتْ مَرَّةً أُخْرَى الْمَنِيَّ - مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাপড় থেকে জানাবাতের নাপাকী ঘষে ফেলতাম। আর এক সময় বলেছেনঃ কাপড় থেকে বীর্য ঘষে ফেলতাম।

297

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ الْحَكَمُ أَخْبَرَنِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَمَا أَزِيدُ عَلَى أَنْ أَفْرُكَهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৮। আমর ইবনে ইয়াজীদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ আমার মনে আছে যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাপড় থেকে জানাবাতের নাপাকী ঘষে ফেলার অতিরিক্ত কিছু করতাম না।

298

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَفْرُكُهُ مِنْ ثَوْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৯। হুসাইন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাপড় থেকে তা ঘষে ফেলতাম।

299

أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَرَاهُ فِي ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَحُكُّهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০০। শুআয়ব ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমিই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাপড়ে তা দেখতাম আর তা ঘষে ফেলতাম।

300

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَقَدْ رَأَيْتُنِي أَفْرُكُ الْجَنَابَةَ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার মনে পড়ে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাপড় থেকে জানাবাতের চিহ্ন ঘষে ফেলতাম।

301

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَامِلٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَقَدْ رَأَيْتُنِي أَجِدُهُ فِي ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَحُتُّهُ عَنْهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০২। মুহাম্মাদ ইবনে কামিল মারওয়াযী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মনে পড়ে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাপড় থেকে জানাবাতের চিহ্ন ঘষে পরিষ্কার করতাম।

খাদ্যগ্রহণ করেনি এমন বাচ্চার প্রস্রাব প্রসঙ্গে

باب بول الصبي الذي لم يأكل الطعام

302

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، أَنَّهَا أَتَتْ بِابْنٍ لَهَا صَغِيرٍ لَمْ يَأْكُلِ الطَّعَامَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَجْلَسَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجْرِهِ فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ .

Narrator: উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাঃ)

৩০৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি খাদ্যগ্রহণ করেনি তার এমন একটি শিশুকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে তার কোলে বসালেন, সে তার কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল। তিনি কিছু পানি আনিয়ে কাপড়ে ঢেলে দিলেন, তা ধুলেন না।

303

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصَبِيٍّ فَبَالَ عَلَيْهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَأَتْبَعَهُ إِيَّاهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি শিশু আনা হল। সে তার কোলে প্রস্রাব করে দিল। তিনি কিছু পানি আনালেন এবং তা প্রস্রাবের উপর ঢেলে দিলেন।

ছোট বালিকার প্রস্রাব প্রসঙ্গে

باب بول الجارية

304

أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحِلُّ بْنُ خَلِيفَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو السَّمْحِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْجَارِيَةِ وَيُرَشُّ مِنْ بَوْلِ الْغُلاَمِ " .

Narrator: আবুস সামহ (রাঃ)

৩০৫। মুজাহিদ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আবুস সামহ (রাযিঃ) [তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খাদেম ছিলেন] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ছোট মেয়ের প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হয় আর ছোট ছেলের প্রস্রাবের উপর পানি ছিটাতে হয়।

হালাল পশুর প্রস্রাব প্রসঙ্গে

باب بول ما يؤكل لحمه

305

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ حَدَّثَهُمْ: أَنَّ أُنَاسًا أَوْ رِجَالًا مِنْ عُكْلٍ قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَكَلَّمُوا بِالْإِسْلَامِ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا أَهْلُ ضَرْعٍ، وَلَمْ نَكُنْ أَهْلَ رِيفٍ، وَاسْتَوْخَمُوا الْمَدِينَةَ، «فَأَمَرَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَوْدٍ وَرَاعٍ، وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَخْرُجُوا فِيهَا فَيَشْرَبُوا مِنَ الْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا، فَلَمَّا صَحُّوا - وَكَانُوا بِنَاحِيَةِ الْحَرَّةِ - كَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ وَقَتَلُوا رَاعِيَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاسْتَاقُوا الذَّوْدَ، فَبَلَغَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَعَثَ لطَّلبِ فِي آثَارِهِمْ، فَأُتِيَ بِهِمْ فَسَمَرُوا أَعْيُنَهُمْ وَقَطَعُوا أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ، ثُمَّ تُرِكُوا فِي الْحَرَّةِ عَلَى حَالِهِمْ حَتَّى مَاتُوا»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উকল গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিল। তারপর তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা দুগ্ধবতী পশু রাখি; আমরা কৃষিকাজের লোক নই। মদীনার আবহাওয়া তাদের উপযোগী হল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে কিছু উট ও একজন রাখাল প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তাদের উটের প্রতিপালনের কাজে মদীনার বাইরে যেতে এবং উটের দুধ ও এর পেশাব পান করার নির্দেশ দিলেন।

যখন তারা সুস্থ হয়ে গেল এবং হাররা নামক স্থানে অবস্থান করল, তখন তারা ইসলাম পরিত্যাগ করল। আর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এ খবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পৌছলে তিনি তাদের পেছনে অনুসন্ধানকারী দল পাঠালেন এবং তাদের গ্রেফতার করে আনা হল। তাদের চোখে লৌহ শলাকা গরম করে লাগান হল এবং হাত পা কেটে দেয়া হল। পরে তাদের হাররার জমিতে ঐ অবস্থায় ফেলে রাখা হল। এভাবে তারা প্রাণ ত্যাগ করল।
306

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَدِمَ أَعْرَابٌ مِنْ عُرَيْنَةَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمُوا فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ حَتَّى اصْفَرَّتْ أَلْوَانُهُمْ وَعَظُمَتْ بُطُونُهُمْ فَبَعَثَ بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى لِقَاحٍ لَهُ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَشْرَبُوا مِنْ أَلْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا حَتَّى صَحُّوا فَقَتَلُوا رَاعِيَهَا وَاسْتَاقُوا الإِبِلَ فَبَعَثَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَلَبِهِمْ فَأُتِيَ بِهِمْ فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَرَ أَعْيُنَهُمْ . قَالَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عَبْدُ الْمَلِكِ لأَنَسٍ وَهُوَ يُحَدِّثُهُ هَذَا الْحَدِيثَ بِكُفْرٍ أَمْ بِذَنْبٍ قَالَ بِكُفْرٍ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا قَالَ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَنَسٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ غَيْرَ طَلْحَةَ وَالصَّوَابُ عِنْدِي وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ يَحْيَى عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ مُرْسَلٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০৭। মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উরায়নাহ গোত্রের কয়েকজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে ইসলাম কবুল করল। মদীনায় বসবাস তাঁদের জন্য উপযোগী হল না। এমনকি তাঁদের রং ফ্যাকাসে হয়ে গেল এবং পেট ফুলে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের স্বীয় দুগ্ধবতী উটের পালের দিকে পাঠিয়ে দিলেন। আর তাঁদেরকে উহা (দুধ ও প্রস্রাব) পান করার আদেশ দিলেন। এতে তারা সুস্থ হয়ে পড়ল এবং উটের রাখালকে মেরে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এর পর নবী (ﷺ) তাঁদের খুঁজে আনার জন্য লোক পাঠালেন। তাঁদের ধরে আনা হল তাঁদের হাত পা কেটে দেয়া হল এবং তাঁদের চোখে গরম শলকা ঢুকিয়ে দেয়া হল।

আমিরুল মু’মিনীন আব্দুল মালিক আনাস (রাযিঃ) এর কাছে এ হাদীস শুনে তার কাছে প্রশ্ন করলেন, এ শাস্তি কি কুফুরের জন্য না পাপের জন্য? তিনি বললেন কুফুরের জন্য।

হালাল পশুর উদরস্থ গোবর কাপড়ে লাগা প্রসঙ্গে

باب فرث ما يؤكل لحمه يصيب الثوب

307

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ - قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ صَالِحٍ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، فِي بَيْتِ الْمَالِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عِنْدَ الْبَيْتِ وَمَلأٌ مِنْ قُرَيْشٍ جُلُوسٌ وَقَدْ نَحَرُوا جَزُورًا فَقَالَ بَعْضُهُمْ أَيُّكُمْ يَأْخُذُ هَذَا الْفَرْثَ بِدَمِهِ ثُمَّ يُمْهِلُهُ حَتَّى يَضَعَ وَجْهَهُ سَاجِدًا فَيَضَعُهُ - يَعْنِي - عَلَى ظَهْرِهِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَانْبَعَثَ أَشْقَاهَا فَأَخَذَ الْفَرْثَ فَذَهَبَ بِهِ ثُمَّ أَمْهَلَهُ فَلَمَّا خَرَّ سَاجِدًا وَضَعَهُ عَلَى ظَهْرِهِ فَأُخْبِرَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ جَارِيَةٌ فَجَاءَتْ تَسْعَى فَأَخَذَتْهُ مِنْ ظَهْرِهِ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ قَالَ " اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ " اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَعُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ " . حَتَّى عَدَّ سَبْعَةً مِنْ قُرَيْشٍ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَوَالَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ لَقَدْ رَأَيْتُهُمْ صَرْعَى يَوْمَ بَدْرٍ فِي قَلِيبٍ وَاحِدٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩০৮। আহমদ ইবনে উসমান ইবনে হাকিম (রাহঃ) ......... আমর ইবনুল মায়মুন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) আমাদের নিকট বায়তুল মাল সম্পর্কিত একটি হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহর নিকট নামায আদায় করছিলেন। তখন একদল কুরাইশ তথায় উপবিষ্ট ছিল। তারা একটি উট যবেহ করেছিল। তাদের একজন বলল, তোমাদের মধ্যে কে এর রক্তমাখা উদরস্থ গোবর (নাড়ি ভুঁড়ি সহ) নিয়ে তার কাছে গিয়ে অপেক্ষা করতে পারবে, তারপর যখন সে সিজদায় কপাল ঠেকাবে তখন তা পিঠের উপর রেখে দেবে? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন তাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তিটি প্রস্তুত হল এবং গোবরযুক্ত নাড়ি ভুঁড়ি সহ হাতে নিয়ে অপেক্ষায় রইল।

যখন তিনি সিজদায় গেলেন, তখন তা তার পিঠের উপর রেখে দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ) এ খবর পেলেন এ সময় তিনি ছিলেন অল্পবয়স্কা। তিনি দৌড়ে এলেন এবং তার পিঠ হতে তা সরিয়ে ফেললেন। তিনি নামায শেষ করে তিনবার বললেনঃ আয় আল্লাহ! কুরাইশকে ধর। হে আল্লাহ! আবু জহল ইবনে হিশাম, শায়িবা ইবনে রবি’আ, উতবা ইবনে রবিআ, উকবা ইবনে আবু মুআয়ত প্রমুখকে পাকড়াও কর। এভাবে তিনি সাতজনের নাম উল্লেখ করলেন। আব্দুল্লাহ বলেন, সেই আল্লাহর কসম যিনি তার উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, আমি তাদের সকলকে বদরের দিন একই গর্তে মৃত অবস্থায় পতিত দেখেছি।

থুথু কাপড়ে লাগা প্রসঙ্গে

باب البزاق يصيب الثوب

308

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ طَرَفَ رِدَائِهِ فَبَصَقَ فِيهِ فَرَدَّ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০৯। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার চাঁদরের একদিক উঠিয়ে তাতে থুথু ফেললেন, এরপর এক অংশের উপর অন্য অংশ চাপা দিলেন।

309

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مِهْرَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلاَ يَبْزُقْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ وَإِلاَّ " . فَبَزَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَكَذَا فِي ثَوْبِهِ وَدَلَكَهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১০। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামায আদায় করে তখন কেউ যেন তার সামনে অথবা তার ডানে থুথু না ফেলে। বরং বামদিকে কিংবা পায়ের নীচে ফেলে। অথবা এরকম (এ বলে) করে নবী (ﷺ) তার কাপড়ে থুথু ফেললেন ও তা মললেন।

তায়াম্মুমের সূচনা

باب بدء التيمم

310

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ أَوْ ذَاتِ الْجَيْشِ انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْتِمَاسِهِ وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَتَى النَّاسُ أَبَا بَكْرٍ - رضى الله عنه - فَقَالُوا أَلاَ تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِالنَّاسِ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ . فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ - رضى الله عنه - وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ فَقَالَ حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسَ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ . قَالَتْ عَائِشَةُ فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ وَجَعَلَ يَطْعُنُ بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي فَمَا مَنَعَنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلاَّ مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى فَخِذِي فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ آيَةَ التَّيَمُّمِ . فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ . قَالَتْ فَبَعَثْنَا الْبَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ فَوَجَدْنَا الْعِقْدَ تَحْتَهُ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩১১। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হলাম। আমরা যখন বায়দা অথবা জাতুল যায়শ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমার একটি হার হারিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তার সঙ্গীগণ তার তালাশে সেখানে অবস্থান করলেন। তাদের অবস্থান পানির নিকটে ছিল না এবং তাদের সাথেও পানি ছিল না। লোকজন আবু বকর (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল, আপনি কি দেখছেন না আয়িশা (রাযিঃ) কি করলেন? তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এবং অন্যান্য লোকদের এমন স্থানে অবস্থানে বাধ্য করেছেন যার নিকটে কোন পানি নেই এবং লোকদের সাথেও পানি নেই। তখন আবু বকর (রাযিঃ) আমার নিকট এলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।

আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং অন্যান্য লোকদের এমন স্থানে আটকিয়ে রেখেছ যেখানে পানির কোন উৎস নেই আর তাদের সাথেও পানি নেই। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি আমাকে খুব তিরস্কার করলেন আর আল্লাহর যা ইচ্ছা ছিল তাই বললেন এবং তার হাত দিয়ে আমর কোমরে খোঁচা দিতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শরীর আমার উরুর উপর থাকার কারণে আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিদ্রায় রইলেন, এমনকি পানির কোন ব্যবস্থা ছাড়াই ভোর হয়ে গেল। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন।

এতে উসায়র ইবনে হুজায়র (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবু বকরের পরিজন! এটাই তোমাদের প্রথম বরকত নয়। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি যে উটের উপরে ছিলাম সেটিকে উঠালে তার নীচে আমার হারটি পেলাম।

মুকীমের তায়াম্মুম

باب التيمم في الحضر

311

أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ أَقْبَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَسَارٍ، مَوْلَى مَيْمُونَةَ حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَبِي جُهَيْمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الصِّمَّةِ الأَنْصَارِيِّ فَقَالَ أَبُو جُهَيْمٍ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَحْوِ بِئْرِ الْجَمَلِ وَلَقِيَهُ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَقْبَلَ عَلَى الْجِدَارِ فَمَسَحَ بِوَجْهِهِ وَيَدَيْهِ ثُمَّ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১২। রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস উমায়র থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, আমি এবং মায়মুনা (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসার আবু জুহায়ম ইবনে সিম্মা আনসারী (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। আবু জুহায়ম বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘বি’র আল জামাল এর দিক থেকে আসছিলেন, তার সাথে এক ব্যক্তির সাক্ষাত হল। সে তাকে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি একটি দেওয়ালের নিকট আসলেন এবং তার চেহারা ও উভয় হাত মাসাহ্‌ করলেন, এরপর সালামের জবাব দিলেন।

312

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى عُمَرَ فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ . قَالَ عُمَرُ لاَ تُصَلِّ . فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَمَا تَذْكُرُ إِذْ أَنَا وَأَنْتَ فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْنَا فَلَمْ نَجِدِ الْمَاءَ فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ فَصَلَّيْتُ فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ " . فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ نَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ - وَسَلَمَةُ شَكَّ لاَ يَدْرِي فِيهِ الْمِرْفَقَيْنِ أَوْ إِلَى الْكَفَّيْنِ - فَقَالَ عُمَرُ نُوَلِّيكَ مَا تَوَلَّيْتَ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩১৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি উমর (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল আমি জানাবাতের অবস্থায় আছি কিন্তু পানি পাইনি। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি নামায আদায় করো না। একথা শুনে আম্মার ইবনে ইয়াসির বললেন, হে আমিরুল মু'মিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই, যে এক সময় আমি আর আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম, আমরা উভয়ে জুনুবী হয়ে পড়লাম, আর আমরা পানি পেলাম না। এতে আপনি নামায আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম, তারপর নামায আদায় করলাম।

তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ ই যথেষ্ট ছিল। এ বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হস্তদ্বয় মাটিতে মারলেন এরপর তাতে ফুঁ দিলেন এবং তা দ্বারা তার চেহারা এবং উভয় হাত মাসাহ্‌ করলেন। বর্ণনাকারী সালাম সন্দেহ করলেন এ ব্যাপারে তার মনে নেই কনুই পর্যন্ত বলেছেন নাকি কব্জি পর্যন্ত। এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে তার দায়দায়িত্ব তোমার উপরেই অর্পণ করলাম।
313

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ نَاجِيَةَ بْنِ خُفَافٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ أَجْنَبْتُ وَأَنَا فِي الإِبِلِ، فَلَمْ أَجِدْ مَاءً فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ تَمَعُّكَ الدَّابَّةِ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ بِذَلِكَ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَجْزِيكَ مِنْ ذَلِكَ التَّيَمُّمُ " .

Narrator: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৩১৪। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি জুনুবী হয়ে পড়লাম, তখন আমি ছিলাম উট পালের মধ্যে। এসময়ে আমি পানি পেলাম না। তখন আমি চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এই সংবাদ জানালাম। এ রকম না করে বরং তায়াম্মুম করাই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল।

ভ্রমনে তায়াম্মুম

باب التيمم في السفر

314

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَمَّارٍ، قَالَ عَرَّسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأُولاَتِ الْجَيْشِ وَمَعَهُ عَائِشَةُ زَوْجَتُهُ فَانْقَطَعَ عِقْدُهَا مِنْ جَزْعِ ظِفَارِ فَحُبِسَ النَّاسُ ابْتِغَاءَ عِقْدِهَا ذَلِكَ حَتَّى أَضَاءَ الْفَجْرُ وَلَيْسَ مَعَ النَّاسِ مَاءٌ فَتَغَيَّظَ عَلَيْهَا أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ حَبَسْتِ النَّاسَ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ رُخْصَةَ التَّيَمُّمِ بِالصَّعِيدِ قَالَ فَقَامَ الْمُسْلِمُونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَرَبُوا بِأَيْدِيهِمُ الأَرْضَ ثُمَّ رَفَعُوا أَيْدِيَهُمْ وَلَمْ يَنْفُضُوا مِنَ التُّرَابِ شَيْئًا فَمَسَحُوا بِهَا وُجُوهَهُمْ وَأَيْدِيَهُمْ إِلَى الْمَنَاكِبِ وَمِنْ بُطُونِ أَيْدِيهِمْ إِلَى الآبَاطِ .

Narrator: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৩১৫। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আম্মার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শেষরাতে উলাতুল জায়শ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি দিলেন। আর তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী আয়িশা (রাযিঃ)। তার ইয়ামানী মোতির হার হারিয়ে গেলে এর তালাশে সমস্ত লোক আটকা পড়ল। অবশেষে ভোর হয়ে গেল অথচ লোকদের পানি ছিল না। যদ্দরুন আবু বকর (রাযিঃ) তার উপর রাগান্বিত হয়ে বললেনঃ তুমি লোকদের আটকিয়ে রেখেছ অথচ তাদের সাথে পানি নেই। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুম করার অনুমতি সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করলেন।

বর্ণনাকারী বলেন, তখন মুমিনগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে উঠে মাটিতে নিজেদের হাত মারলেন আর তাদের হাত উঠালেন এবং হাত থেকে মাটি একটুও ঝাড়লেন না, বরং তা দ্বারা তাদের চেহারা ও হাত (উপরের দিক থেকে) কাঁধ পর্যন্ত মাসাহ করলেন আর তাদের হাতের নিচ দিক থেকে বগল পর্যন্ত মাসাহ করলেন।

তায়াম্মুমের পদ্ধতি সম্পর্কে মতভেদ

باب الاختلاف في كيفية التيمم

315

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَ حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ تَيَمَّمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالتُّرَابِ فَمَسَحْنَا بِوُجُوهِنَا وَأَيْدِينَا إِلَى الْمَنَاكِبِ .

Narrator: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৩১৬। আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীয আম্বারী (রাহঃ) ......... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মাটি দ্বারা তায়ম্মুম করলাম। এতে আমাদের চেহারা এবং কাঁধ পর্যন্ত আমাদের হাত মাসাহ করেছিলাম।

আর এক প্রকারের তায়াম্মুম এবং হাতে ফুঁক দেয়া

نوع آخر من التيمم والنفخ في اليدين

316

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عُمَرَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ رُبَّمَا نَمْكُثُ الشَّهْرَ وَالشَّهْرَيْنِ وَلاَ نَجِدُ الْمَاءَ . فَقَالَ عُمَرُ أَمَّا أَنَا فَإِذَا لَمْ أَجِدِ الْمَاءَ لَمْ أَكُنْ لأُصَلِّيَ حَتَّى أَجِدَ الْمَاءَ . فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ أَتَذْكُرُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ حَيْثُ كُنْتَ بِمَكَانِ كَذَا وَكَذَا وَنَحْنُ نَرْعَى الإِبِلَ فَتَعْلَمُ أَنَّا أَجْنَبْنَا قَالَ نَعَمْ أَمَّا أَنَا فَتَمَرَّغْتُ فِي التُّرَابِ فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكَ فَقَالَ " إِنْ كَانَ الصَّعِيدُ لَكَافِيكَ " . وَضَرَبَ بِكَفَّيْهِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ نَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ مَسَحَ وَجْهَهُ وَبَعْضَ ذِرَاعَيْهِ . فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ يَا عَمَّارُ . فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنْ شِئْتَ لَمْ أَذْكُرْهُ . قَالَ لاَ وَلَكِنْ نُوَلِّيكَ مِنْ ذَلِكَ مَا تَوَلَّيْتَ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩১৭। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা উমর (রাযিঃ) নিকট ছিলাম। তার কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন! অনেক সময় আমরা এক মাস বা দুই মাস পর্যন্ত কোথাও অবস্থান করি আর আমরা পানি পাই না। উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি পানি না পেলে নামায আদায় করবার নই, যাবৎ না পানি পাই। তখন আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) বললেনঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার মনে আছে কি, যখন আমরা অমুক অমুক স্থানে ছিলাম আর আমরা উট চরাতাম, আপনি জানেন যে আমরা জানাবাতগ্রস্ত হলাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম।

পরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলে তিনি হেসে বললেনঃ মাটই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল, আর তিনি উভয় হাত মাটিতে মারলেন এবং তাতে ফুঁ দিলেন। তারপর তিনি তার চেহারা আর উভয় হাতের কিয়দংশ মাসাহ্‌ করলেন। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ হে আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর। আম্মার বললেনঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! যদি আপনি চান আমি এটা বর্ণনা করব না। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ না। কিন্তু আমার নিকট যা বর্ণনা করলে, এর দায়িত্বভার আমি তোমার উপর অর্পণ করলাম (তাই হাদীস বর্ণনায় সাবধানতা অবলম্বনের জন্য এটা বললাম)।

আরেক প্রকারের তায়াম্মুম

نوع آخر من التيمم

317

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَنِ التَّيَمُّمِ، فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُولُ فَقَالَ عَمَّارٌ أَتَذْكُرُ حَيْثُ كُنَّا فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْتُ فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّمَا يَكْفِيكَ هَكَذَا " . وَضَرَبَ شُعْبَةُ بِيَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَنَفَخَ فِي يَدَيْهِ وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ مَرَّةً وَاحِدَةً .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩১৮। আমর ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) কে তায়াম্মুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। এ প্রশ্নের তিনি কোন উত্তর খুঁজে পেলেন না। তখন আম্মার (রাযিঃ) বললেন, আপনার কি স্মরণ আছে? যখন আমরা যুদ্ধে ছিলাম, আমি জানাবাতগ্রস্ত হলাম। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তোমার এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল। এ বলে শু’বা হাঁটুর উপর তার উভয় হাত মেরে তার হস্তদ্বয়ে ফুঁ দিলেন আর উভয় হাত দ্বারা তার মুখ ও হস্তদ্বয় একবার করে মাসাহ করলেন।

318

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، أَنْبَأَنَا خَالِدٌ، أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، سَمِعْتُ ذَرًّا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ وَقَدْ سَمِعَهُ الْحَكَمُ، مِنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ أَجْنَبَ رَجُلٌ فَأَتَى عُمَرَ - رضى الله عنه - فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدْ مَاءً . قَالَ لاَ تُصَلِّ . قَالَ لَهُ عَمَّارٌ أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْنَا فَلَمْ نَجِدْ مَاءً فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فَإِنِّي تَمَعَّكْتُ فَصَلَّيْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ " . وَضَرَبَ شُعْبَةُ بِكَفَّيْهِ ضَرْبَةً وَنَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ دَلَكَ إِحْدَاهُمَا بِالأُخْرَى ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ . فَقَالَ عُمَرُ شَيْئًا لاَ أَدْرِي مَا هُوَ . فَقَالَ إِنْ شِئْتَ لاَ حَدَّثْتُهُ . وَذَكَرَ شَيْئًا فِي هَذَا الإِسْنَادِ عَنْ أَبِي مَالِكٍ وَزَادَ سَلَمَةُ قَالَ بَلْ نُوَلِّيكَ مِنْ ذَلِكَ مَا تَوَلَّيْتَ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩১৯। ইসমাঈল ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জানাবাতগ্রস্ত হলে উমর (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি জানাবাত অবস্থায় উপনীত হয়েছি কিন্তু পানি পাই না। তিনি বললেন তুমি নামায আদায় করো না। তখন আম্মার (রাযিঃ) বললেন আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমরা এক যুদ্ধে ছিলাম। আমরা জানাবার অবস্থায় পতিত হলাম, তখন আমরা পানি পাইনি, এতে আপনি নামায আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং নামায আদায় করলাম।

পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল, এ বলে শু’বা (রাহঃ) একবার মাটিতে হাত মারলেন আর তাতে ফুঁ দিলেন আর তা দিয়ে এক হাত অন্য হাতের সাথে ঘষলেন এবং উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি জানি না এটা কি। আম্মার (রাযিঃ) বললেন, যদি আপনি চাহ তাহলে আমি এটা বর্ণনা করব না। সালামার বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, উমর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার।

তায়াম্মুম এর অন্য প্রকার

نوع آخر

319

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ تَمِيمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، وَسَلَمَةُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عُمَرَ - رضى الله عنه - فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ . فَقَالَ عُمَرُ لاَ تُصَلِّ . فَقَالَ عَمَّارٌ أَمَا تَذْكُرُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ أَنَا وَأَنْتَ فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْنَا فَلَمْ نَجِدْ مَاءً فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ ثُمَّ صَلَّيْتُ فَلَمَّا أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا يَكْفِيكَ " . وَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيْهِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ نَفَخَ فِيهِمَا فَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ - شَكَّ سَلَمَةُ وَقَالَ لاَ أَدْرِي فِيهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ أَوْ إِلَى الْكَفَّيْنِ - قَالَ عُمَرُ نُوَلِّيكَ مِنْ ذَلِكَ مَا تَوَلَّيْتَ قَالَ شُعْبَةُ كَانَ يَقُولُ الْكَفَّيْنِ وَالْوَجْهَ وَالذِّرَاعَيْنِ . فَقَالَ لَهُ مَنْصُورٌ مَا تَقُولُ فَإِنَّهُ لاَ يَذْكُرُ الذِّرَاعَيْنِ أَحَدٌ غَيْرُكَ . فَشَكَّ سَلَمَةُ فَقَالَ لاَ أَدْرِي ذَكَرَ الذِّرَاعَيْنِ أَمْ لاَ

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৩২০। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তামীম (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি উমর (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি জানাবাতগ্রস্ত হয়েছি কিন্তু পানি পেলাম না। উমর (রাযিঃ) বললেন তুমি নামায আদায় করোনা। তখন আম্মার (রাযিঃ) বললেন হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার স্মরণ আছে কি? একবার আমি এবং আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম আর আমরা জানাবাতগ্রস্থ হলাম কিন্তু পানি পাচ্ছিলাম না। তখন আপনি নামায আদায় করলেন না। কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং নামায আদায় করলাম। পরবর্তীতে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তা ব্যক্ত করলাম, তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ ই যথেষ্ট ছিল, এ বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাটিতে হাত রাখলেন এবং উভয় হাতে ফুঁ দিলেন তারপর উভয় হাত দ্বারা আপন মুখমণ্ডল ও উভয় কব্জি মাসাহ করলেন।

সালামা সন্দেহ করে বলেন, আমার জানা নেই (তিনি এতে উভয় কনুই বলেছেন না উভয় কব্জি বলেছেন)। উমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি যা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার উপরেই অর্পণ করলাম। শু’বা (রাহঃ) বলেন, তিনি উভয় হাত, বাহুদ্বয় এবং মুখমণ্ডলের কথা বলতেন। এজন্য মানসুর তাকে বললেন, আপনি কি বলছেন? আপনি ব্যতীত কেউই বাহুর কথা উল্লেখ করেন নি। এজন্য সালামার সন্দেহ হল। তিনি বললেনঃ আমার স্মরণ নেই তিনি বাহুর কথা উল্লেখ করেছেন কিনা।

জুনুব ব্যক্তির তায়াম্মুম

باب تيمم الجنب

320

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي مُوسَى فَقَالَ أَبُو مُوسَى أَوَلَمْ تَسْمَعْ قَوْلَ عَمَّارٍ لِعُمَرَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ فَأَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ فَتَمَرَّغْتُ بِالصَّعِيدِ ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَقُولَ هَكَذَا " . وَضَرَبَ بِيَدَيْهِ عَلَى الأَرْضِ ضَرْبَةً فَمَسَحَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَضَهُمَا ثُمَّ ضَرَبَ بِشِمَالِهِ عَلَى يَمِينِهِ وَبِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ عَلَى كَفَّيْهِ وَوَجْهِهِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَوَلَمْ تَرَ عُمَرَ لَمْ يَقْنَعْ بِقَوْلِ عَمَّارٍ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩২১। মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ এবং আবু মুসা (রাযিঃ) এর সঙ্গে বসা ছিলাম, তখন আবু মুসা বললেন, আপনি কি আম্মারের কথা শুনেন নি যে, তিনি উমর (রাযিঃ) কে বলেছিলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক কাজে পাঠালেন, আমি জানাবাতগ্রস্ত হলে পানি পেলাম না। অতএব আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ-ই যথেষ্ট ছিল। এই বলে তিনি তার হস্তদ্বয় একবার মাটিতে মারলেন। তারপর উভয় হাতের তালু মুছলেন ও ঝাড়লেন, তারপর তার বামহাত ডানহাতের উপর মারলেন আর ডান হাত বামহাতের উপর এবং উভয় কব্জি ও মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। আব্দুল্লাহ বললেন, তুমি কি দেখছ না যে, উমর (রাযিঃ) আম্মার (রাযিঃ) এর কথায় তৃপ্ত হননি।

মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা প্রসঙ্গে

باب التيمم بالصعيد

321

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، قَالَ سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً مُعْتَزِلاً لَمْ يُصَلِّ مَعَ الْقَوْمِ فَقَالَ " يَا فُلاَنُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ الْقَوْمِ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ وَلاَ مَاءَ . قَالَ " عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ " .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩২২। সুয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু রাজা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে লোকদের সঙ্গে নামায আদায় না করে আলাদা থাকতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ হে অমুক! লোকদের সঙ্গে নামায আদায় করতে কোন বস্তুটি তোমায় বাধা দিল? সে ব্যক্তি বলল। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জানাবাত অবস্থায় আছি অথচ পানি পাইনি। তিনি বললেনঃ তুমি মাটি ব্যবহার কর, তা ই তোমার জন্য যথেষ্ট।

এক তায়াম্মুমে কয়েক সালাত আদায় করা

باب الصلوات بتيمم واحد

322

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ بُجْدَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصَّعِيدُ الطَّيِّبُ وَضُوءُ الْمُسْلِمِ وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ عَشْرَ سِنِينَ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৩২৩। আমর ইবনে হিশাম (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন পবিত্র মাটি মুমিনের উযুর উপকরণ, যদি সে দশ বছরও পানি না পায়।

যে ব্যক্তি মাটি ও পানির কোনটাই না পায়

باب فيمن لم يجد الماء ولا الصعيد

323

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُسَيْدَ بْنَ حُضَيْرٍ وَنَاسًا يَطْلُبُونَ قِلاَدَةً كَانَتْ لِعَائِشَةَ نَسِيَتْهَا فِي مَنْزِلٍ نَزَلَتْهُ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسُوا عَلَى وُضُوءٍ وَلَمْ يَجِدُوا مَاءً فَصَلُّوا بِغَيْرِ وُضُوءٍ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ آيَةَ التَّيَمُّمِ قَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ جَزَاكِ اللَّهُ خَيْرًا فَوَاللَّهِ مَا نَزَلَ بِكِ أَمْرٌ تَكْرَهِينَهُ إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ لَكِ وَلِلْمُسْلِمِينَ فِيهِ خَيْرًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩২৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসায়দ ইবনে উযায়র (রাযিঃ) এবং আরো কয়েক ব্যক্তিকে আয়িশা (রাযিঃ) এর একটি হার তালাশের জন্য পাঠিয়ে ছিলেন, যা তিনি যে মনজিলে অবতরণ করেছিলেন সেখানে হারিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় নামাযের সময় উপস্থিত হল, অথচ লোকদের উযু ছিলনা আর তারা পানিও পাচ্ছিলেন না। তখন তারা উযু ব্যতীতই নামায আদায় করলেন। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তা উল্লেখ করলেন। আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। উসায়দ ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) বলে উঠলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন, যখনই আপনার উপর এমন কোন বিপদ অপতিত হয়েছে যা আপনি অপছন্দ করেন, তার মধ্যেই আল্লাহ তাআলা আপনার ও মুসলমানদের জন্য কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।

324

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، أَنَّ مُخَارِقًا، أَخْبَرَهُمْ عَنْ طَارِقٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَجْنَبَ فَلَمْ يُصَلِّ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " أَصَبْتَ " . فَأَجْنَبَ رَجُلٌ آخَرُ فَتَيَمَّمَ وَصَلَّى فَأَتَاهُ فَقَالَ نَحْوَ مَا قَالَ لِلآخَرِ يَعْنِي " أَصَبْتَ "

Narrator: অজ্ঞাত সাহাবী

৩২৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... তারিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জানাবাতগ্রস্ত হলে সে নামায আদায় করল না। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তা বর্ণনা করল। তিনি বললেনঃ তুমি ঠিক করেছ। এরপর অন্য একটি লোক জানাবাতগ্রস্ত হয়ে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করল তারপর সে তার নিকট আসল। তিনি অন্য ব্যক্তিকে যা বলেছিলেন তাকেও তাই বললেন। অর্থাৎ তুমি ঠিকই করেছ।