খোদ পসন্দীর আলামত
একবার আমরা রাতের বেলা হারদুঈ যেয়ে পৌঁছলাম। হযরতের সাথে সাক্ষাতও হল। বিশেষ মেহমানখানায় আমাদেরকে থাকতে দেয়া হল। সকালে হযরত নিজে তাশরীফ নিয়ে এলেন এবং বললেন, আপনারা ইচ্ছা করলে এখানেও থাকতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে কাছেই একটি কুতুবখানা আছে-সেখানেও থাকতে পারেন। আপনারা চিন্তা-ভাবনা করে দেখুন। একথা বলে হযরত চলে গেলেন। আমরা সফরকারীরা মনে করলাম, উভয় ঘরেই যখন থাকার অনুমতি আছে তখন উত্তম এটাই যে, আমরা কুতুবখানায় থাকবো, এতে কিতাব দেখারও সুযোগ হবে। তাই আমরা হযরতকে কিছু না জানিয়ে কুতুবখানায় চলে গেলাম। পরবর্তীতে হযরত আমাদের এই কুতুবখানায় যাওয়ার কথা জানতে পেরে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কার নির্দেশে কুতুবখানায় গেলেন? আসলে আপনাদের মধ্যে খোদ পসন্দী এবং নিজেকে ভাল মনে করার বদ অভ্যাস রয়ে গেছে। আপনারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে ফায়সালার জন্য আমার কাছে কেন জিজ্ঞাসা করলেন না?
অতঃপর হযরত আমাদেরকে উক্ত কামরা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ পেয়ে আমরা কুতুবখানা থেকে বের হয়ে আবার মেহমানখানায় চলে গেলাম। এরপর হযরত বললেন, এবার আপনারা দরখাস্ত পেশ করে বলুন আপনারা কোথায় থাকতে চান। আমরা কুতুবখানার ব্যাপারে দরখাস্ত পেশ করলে হযরত সেটাকে মঞ্জুর করলেন। এভাবে তিনি আমাদের অন্তরের একটি রোগ খোদ পসন্দী ধরিয়ে দিয়ে সতর্ক করে দিলেন।