৩৯৪. চিন্তা চেতনায় কমজোরী

মাওলানা আব্দুল মতিন বিন হুসাইন সাহেব (ঢালকানগর)October 6, 2024রাজনীতি ও ব্রিটিশের আগ্রাশন

হযরত মাওলানা আব্দুল মতীন সাহেব বলেন, একদল উলামায়ে কেরামের অবস্থা এরকম যে, কেউ হয় তো রাজনীতিতে আছেন, কেউ ওয়াযের লাইনে আছেন, কেউ পীর-মুরীদির লাইনে আছেন, কেউ আরেক কোন দ্বীনের ক্ষেত্রের মধ্যে আছেন। কিন্তু আমার সঙ্গে সবাই কেনো যোগ দিলো না এটা নিয়ে পেরেশান। উক্ত উলামায়ে কেরামের চিন্তা, ‘আমার সঙ্গে আসেন না কেন? আপনাদেরকে ডাকলে আসেন না কেন?’ উনারা এত বড় মুরুব্বী যে, উনারা ডাক দিলে সব উলামাদের ওখানে হাজির হওয়া জরুরী মনে করেন। এটা কোনো কথা!?

আল্লাহর দীনের খেদমতের বিভিন্ন শাখা আছে। যারা যে খেদমতের মধ্যে যুক্ত আছেন তাদেরকে সেই খেদমত করতে দেন। আপনি সব মানুষকে এক জায়গায় নিয়ে ভিড় করাতে চাচ্ছেন! আপনি কী বুখারী শরীফ পড়াতে পারেন? আপনি কি ফাতওয়ায়ে শামীর ইবারত পড়তে পারেন? ওর থেকে মাসাইল উদ্ধার করতে পারেন? এই জগতের জন্য একদল লোক আছে। তাঁরা তিরমীযী, মিশকাত হাদীসের বিভিন্ন কিতাব পড়ান। এটা কি দ্বীনের খেদমত না? মস্তবড় দ্বীনের খেদমত। আপনি পারবেন মক্তবে গিয়ে কুরআন শরীফ পড়াতে? গিয়ে ২/৪ দিন বসে দেখেন।

ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়ালে জোয়ান মানুষকে বুড়া হয়ে যেতে হয়। এতো মুশকিল সেখানে। আপনি কোথায় গিয়ে পড়াবেন? গিয়ে এক ঘণ্টা বসে থেকে দেখেন। থাকাটা সহ্য করতে পারেন কি না? সেখানে গিয়ে দেখেন। যারা কুরআনে কারীম শিক্ষা দিচ্ছেন, মক্তবে, হিফযখানায় কুরআন পড়াচ্ছেন তারা কি দ্বীনের কাজ করছেন না?

অনেকে বলে, না। তারা বলে, আপনি ওখানে থাকেন কেন? আপনি ওখান থেকে চলে আসেন মাঠে-ময়দানে। এখানে আসেন না কেন, মিয়াঁ? খালি কুরআন শরীফ নিয়ে বসে থাকেন। খানকায় বসে থাকেন কেন? এখানেও আসেন। তাদের এই কথা সহী না। একদম গলদ।