তাকওয়া অর্জন
পাপ পঙ্কিলতায় অভ্যস্ত হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে- আখিরাতের শাস্তি ও হিসাব-কিতাবের ব্যাপারে অবহেলা। যে রকম শরীরের বিষ-ব্যাথার মূল কারণ হচ্ছে-দুষিত রক্ত। এজন্যে শুধু মলম নয় ; তিক্ত ঔষধ পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়। এরকম কোন বুযুর্গের সুহবত দ্বারা অন্তরে আল্লাহ তা‘আলার ভয় ও মুহাব্বত হাসিল করতে পারলে ইনশাআল্লাহ তা‘আলা তাকওয়া অর্জন সহজ হবে।’ যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
ياايها الذين أمنوااتقواالله وكونو مع الصادقين
‘হে ঈমানদারগণ! তাকওয়া অর্জন কর। আর তাক্বওয়া অর্জনের উপায় হচ্ছে- বুযুর্গানে দ্বীনের সংশ্রব।’ সাদিকীন-এর তাফসীর এটাই। তাদের সুহবতের বরকতে যখন আল্লাহর ভয় ও মুহাব্বত অর্জিত হবে, তখন গুনাহ করার সাহস থাকবে না। যেরকম কোন অপরাধী অন্যায় করার মুহূর্তে পুলিশ দেখলে অপরাধ থেকে বিরত থাকে। এরকম তাক্বওয়া অর্জন হলে সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার হুকুম সামনে থাকায় সব কাজ সঠিকভাবে হয়, কোন গুনাহ হয় না। যেহেতু আমরা আগামী কালের নাশতার ব্যবস্থা আজই করি। আগামীকালের ঠাণ্ডা বা গরম থেকে বাঁচার জন্যে পূর্ব থেকেই ব্যবস্থা নেই। অতএব হিসাব কিতাবের উপর যদি বিশ্বাস থাকে, তাহলে এর জন্যে পূর্ব প্রস্তুতি জরুরী। যেমন, নামাযের উমরী কাযা, রোযার কাযা, যাকাত ও হজ্জ আদায় সহ হুকুকুল ইবাদতের প্রতি দৃষ্টি দান এবং এগুলো সহীহ্ তরীকায় সম্পাদনের ব্যবস্থা নেয়া। আর বিলম্ব না করে উলামায়ে হক-এর সঙ্গে পরামর্শ করে আমল শুরু করা। আল্লাহ তা‘আলার এই ঘোষণা ওই মুরাকাবারই তা‘লীম দেয় যে, হে ঈমানদারগণ অর্থাৎ হে সত্য স্বীকারকারীগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং আগামীকালের জন্য কি আমল করেছ তা চিন্তা করো। অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! আগামীকাল যে হিসাব কিতাব হবে তার প্রস্তুতি নাও। আল্লাহকে ভয় কর এবং মনে রেখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহপাক তোমার সব আমলের খবর জানেন। একজন পুলিশ দেখে যেখানে আমরা অপরাধ থেকে বিরত থাকি। সেখানে আহকামুল হাকিমীনের জানা ও দেখার কারণে আমাদের কি রকম অবস্থা হওয়া উচিত-নিজ জ্ঞানেই এর ফায়সালা করুন।