يونس

يونس

ইউনুস

Ayah ১০৯ · Meccan · Para ১১

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الٓرٰ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ الۡحَکِیۡمِ

আলিফ-লাম-রা। এসব হিকমতপূর্ণ কিতাবের আয়াত।

اَکَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا اَنۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی رَجُلٍ مِّنۡہُمۡ اَنۡ اَنۡذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنَّ لَہُمۡ قَدَمَ صِدۡقٍ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕؔ قَالَ الۡکٰفِرُوۡنَ اِنَّ ہٰذَا لَسٰحِرٌ مُّبِیۡنٌ

মানুষের জন্য কি এটা বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমি তাদেরই এক ব্যক্তির প্রতি ওহী নাযিল করেছি যে, মানুষকে (আল্লাহর হুকুম অমান্য করার পরিণাম সম্পর্কে) সতর্ক কর এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য আছে সত্যিকারের উচ্চমর্যাদা। (কিন্তু সে যখন তাদেরকে এই বার্তা দিল, তখন) কাফেরগণ বলল, এতো এক সুস্পষ্ট যাদুকর।

اِنَّ رَبَّکُمُ اللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ ؕ مَا مِنۡ شَفِیۡعٍ اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ اِذۡنِہٖ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ গ্রহণ করেন। তিনি সকল কিছু পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ (তাঁর কাছে) কারও পক্ষে সুপারিশ করার নেই। তিনিই আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তাঁর ইবাদত কর। তবুও কি তোমরা অনুধ্যান করবে না?

اِلَیۡہِ مَرۡجِعُکُمۡ جَمِیۡعًا ؕ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقًّا ؕ اِنَّہٗ یَبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ لِیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ بِالۡقِسۡطِ ؕ وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ شَرَابٌ مِّنۡ حَمِیۡمٍ وَّعَذَابٌ اَلِیۡمٌۢ بِمَا کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ

তাঁরই দিকে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। এটা আল্লাহর সত্য প্রতিশ্রুতি। নিশ্চয়ই সমস্ত মাখলুক প্রথমবারও তিনিই সৃষ্টি করেন এবং পুনর্বারও তিনিই সৃষ্টি করবেন, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদেরকে ইনসাফের সাথে প্রতিদান দেওয়ার জন্য। আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য আছে উত্তপ্ত পানির পানীয় ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করত।

ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ الشَّمۡسَ ضِیَآءً وَّالۡقَمَرَ نُوۡرًا وَّقَدَّرَہٗ مَنَازِلَ لِتَعۡلَمُوۡا عَدَدَ السِّنِیۡنَ وَالۡحِسَابَ ؕ مَا خَلَقَ اللّٰہُ ذٰلِکَ اِلَّا بِالۡحَقِّ ۚ یُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ

তিনিই আল্লাহ, যিনি সূর্যকে রশ্মিময় ও চন্দ্রকে জ্যোতির্পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর (পরিভ্রমণের) জন্য বিভিন্ন ‘মনযিল’ নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের গণনা ও (মাসসমূহের) হিসাব জানতে পার। আল্লাহ এসব যথার্থ উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে সৃষ্টি করেননি। যে সকল লোক জ্ঞান-বুদ্ধি রাখে, তাদের জন্য তিনি এসব নিদর্শন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন।

اِنَّ فِی اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ وَمَا خَلَقَ اللّٰہُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَّقُوۡنَ

নিশ্চয়ই দিন-রাতের একের পর এক আগমনে এবং আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তাতে সেই সকল লোকের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوۡا بِالۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَاطۡمَاَنُّوۡا بِہَا وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنۡ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوۡنَ ۙ

নিশ্চয়ই যারা (আখিরাতে) আমার সঙ্গে সক্ষাত করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে উদাসীন-

اُولٰٓئِکَ مَاۡوٰىہُمُ النَّارُ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ

নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَہۡدِیۡہِمۡ رَبُّہُمۡ بِاِیۡمَانِہِمۡ ۚ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہِمُ الۡاَنۡہٰرُ فِیۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ

(অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে।

دَعۡوٰىہُمۡ فِیۡہَا سُبۡحٰنَکَ اللّٰہُمَّ وَتَحِیَّتُہُمۡ فِیۡہَا سَلٰمٌ ۚ  وَاٰخِرُ دَعۡوٰىہُمۡ اَنِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪

তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে তুমি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।

وَلَوۡ یُعَجِّلُ اللّٰہُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسۡتِعۡجَالَہُمۡ بِالۡخَیۡرِ لَقُضِیَ اِلَیۡہِمۡ اَجَلُہُمۡ ؕ فَنَذَرُ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا فِیۡ طُغۡیَانِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ

আল্লাহ যদি মানুষের (অর্থাৎ ওইসব কাফিরের) জন্য অনিষ্টকে (অর্থাৎ শাস্তিকে) ত্বরান্বিত করতেন, যেমনটা ত্বরা কল্যাণ প্রার্থনার ক্ষেত্রে তারা করে থাকে, তবে তাদের অবকাশ খতম করে দেওয়া হত। (কিন্তু এরূপ তাড়াহুড়া আমার হিকমত-বিরুদ্ধ)। সুতরাং যারা (আখেরাতে) আমার সাথে মিলিত হওয়ার আশা রাখে না তাদেরকে আমি তাদের আপন অবস্থায় ছেড়ে দেই, যাতে তারা তাদের অবাধ্যতার ভেতর ইতস্তত ঘুরতে থাকে।

وَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنۡۢبِہٖۤ اَوۡ قَاعِدًا اَوۡ قَآئِمًا ۚ فَلَمَّا کَشَفۡنَا عَنۡہُ ضُرَّہٗ مَرَّ کَاَنۡ لَّمۡ یَدۡعُنَاۤ اِلٰی ضُرٍّ مَّسَّہٗ ؕ کَذٰلِکَ زُیِّنَ لِلۡمُسۡرِفِیۡنَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে ও দাঁড়িয়ে (সর্বাবস্থায়) আমাকে ডাকে। তারপর আমি যখন তার কষ্ট দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে পথ চলে যেন সে কখনও তাকে স্পর্শ করা কোনও বিপদের জন্য আমাকে ডাকেইনি! যারা সীমালংঘন করে তাদের কাছে নিজেদের কৃতকর্মকে এভাবেই মনোরম করে তোলা হয়েছে।

وَلَقَدۡ اَہۡلَکۡنَا الۡقُرُوۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَمَّا ظَلَمُوۡا ۙ وَجَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ وَمَا کَانُوۡا لِیُؤۡمِنُوۡا ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡقَوۡمَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ

তোমাদেরর পূর্বে আমি বহু জাতিকে, যখন তারা জুলুমে লিপ্ত হয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল। অথচ তারা ঈমান আনেনি। অপরাধী সম্প্রদায়কে আমি এভাবেই বদলা দিয়ে থাকি।

ثُمَّ جَعَلۡنٰکُمۡ خَلٰٓئِفَ فِی الۡاَرۡضِ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ لِنَنۡظُرَ کَیۡفَ تَعۡمَلُوۡنَ

অতঃপর পৃথিবীতে আমি তোমাদেরকে তাদের পর স্থলাভিষিক্ত করেছি, তোমরা কিরূপ কাজ কর তা দেখার জন্য।

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیَاتُنَا بَیِّنٰتٍ ۙ قَالَ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا ائۡتِ بِقُرۡاٰنٍ غَیۡرِ ہٰذَاۤ اَوۡ بَدِّلۡہُ ؕ قُلۡ مَا یَکُوۡنُ لِیۡۤ اَنۡ اُبَدِّلَہٗ مِنۡ تِلۡقَآیِٔ نَفۡسِیۡ ۚ اِنۡ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ

যারা (আখেরাতে) আমার সাথে মিলিত হওয়ার আশা রাখে না, তাদের সামনে যখন আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, এটা নয়, অন্য কোনও কুরআন নিয়ে এসো অথবা এতে পরিবর্তন আন। (হে নবী!) তাদেরকে বলে দাও, আমার এ অধিকার নেই যে, নিজের পক্ষ থেকে এতে কোন পরিবর্তন আনব। আমি তো অন্য কিছুর নয়; কেবল সেই ওহীরই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি নাযিল করা হয়। আমি যদি কখনও আমার প্রতিপালকের নাফরমানী করে বসি, তবে আমার এক মহা দিবসের শাস্তির ভয় রয়েছে।

قُلۡ لَّوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَا تَلَوۡتُہٗ عَلَیۡکُمۡ وَلَاۤ اَدۡرٰىکُمۡ بِہٖ ۫ۖ فَقَدۡ لَبِثۡتُ فِیۡکُمۡ عُمُرًا مِّنۡ قَبۡلِہٖ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ

বলে দাও, আল্লাহ চাইলে আমি এ কুরআন তোমাদের সামনে পড়তাম না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে এ সম্পর্কে অবগত করতেন না। আমি তো এর আগেও একটা বয়স তোমাদের মধ্যে কাটিয়েছি। তারপরও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?

فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ

ওই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে কিংবা তার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে? বিশ্বাস কর অপরাধীরা কৃতকার্য হয় না।

وَیَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَضُرُّہُمۡ وَلَا یَنۡفَعُہُمۡ وَیَقُوۡلُوۡنَ ہٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ قُلۡ اَتُنَبِّـُٔوۡنَ اللّٰہَ بِمَا لَا یَعۡلَمُ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ

তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর (অর্থাৎ মনগড়া উপাস্যদের) ইবাদত করে, যারা তাদের কোনও ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের কোন উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। (হে নবী! তাদেরকে) বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করছ, যার কোন অস্তিত্ব তাঁর জ্ঞানে নেই, না আকাশমণ্ডলীতে এবং না পৃথিবীতে? বস্তুত তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও বহু উর্ধ্বে।

وَمَا کَانَ النَّاسُ اِلَّاۤ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً فَاخۡتَلَفُوۡا ؕ وَلَوۡلَا کَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّکَ لَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ فِیۡمَا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ

(প্রথমে) সমস্ত মানুষ কেবল একই দীনের অনুসারী ছিল। তারপর তারা (পরস্পরে মতভেদে লিপ্ত হয়ে) আলাদা-আলাদা হয়ে যায়। তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পূর্ব থেকেই একটা কথা স্থিরীকৃত না থাকলে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে (দুনিয়াতেই) তার মীমাংসা করে দেওয়া হত।

وَیَقُوۡلُوۡنَ لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ۚ  فَقُلۡ اِنَّمَا الۡغَیۡبُ لِلّٰہِ فَانۡتَظِرُوۡا ۚ  اِنِّیۡ مَعَکُمۡ مِّنَ الۡمُنۡتَظِرِیۡنَ ٪

তারা বলে, এ নবীর প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোনও নিদর্শন কেন অবতীর্ণ করা হল না? (হে নবী! উত্তরে) তুমি বলে দাও, অদৃশ্যের বিষয়সমূহ তো কেবল আল্লাহরই এখতিয়ারে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।

وَاِذَاۤ اَذَقۡنَا النَّاسَ رَحۡمَۃً مِّنۡۢ بَعۡدِ ضَرَّآءَ مَسَّتۡہُمۡ اِذَا لَہُمۡ مَّکۡرٌ فِیۡۤ اٰیَاتِنَا ؕ قُلِ اللّٰہُ اَسۡرَعُ مَکۡرًا ؕ اِنَّ رُسُلَنَا یَکۡتُبُوۡنَ مَا تَمۡکُرُوۡنَ

আমি যখন মানুষকে রহমত আস্বাদন করাই তাদেরকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করার পর, তখন সহসাই তারা আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে চালাকি শুরু করে দেয়। বলে দাও, আল্লাহ আরও দ্রুত কোনও চাল দেখাতে পারেন। নিশ্চয়ই আমার ফিরিশতাগণ তোমাদের সমস্ত চালাকি লিপিবদ্ধ করছে।

ہُوَ الَّذِیۡ یُسَیِّرُکُمۡ فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا کُنۡتُمۡ فِی الۡفُلۡکِ ۚ وَجَرَیۡنَ بِہِمۡ بِرِیۡحٍ طَیِّبَۃٍ وَّفَرِحُوۡا بِہَا جَآءَتۡہَا رِیۡحٌ عَاصِفٌ وَّجَآءَہُمُ الۡمَوۡجُ مِنۡ کُلِّ مَکَانٍ وَّظَنُّوۡۤا اَنَّہُمۡ اُحِیۡطَ بِہِمۡ ۙ دَعَوُا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ۚ لَئِنۡ اَنۡجَیۡتَنَا مِنۡ ہٰذِہٖ لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الشّٰکِرِیۡنَ

তিনি তো আল্লাহই, যিনি তোমাদেরকে স্থলেও ভ্রমণ করান এবং সাগরেও। এভাবে তোমরা যখন নৌকায় সওয়ার হও আর নৌকাগুলো মানুষকে নিয়ে অনুকূল বাতাসে পানির উপর বয়ে চলে এবং তারা তাতে আনন্দ-মগ্ন হয়ে পড়ে, তখন হঠাৎ তার উপর আপতিত হয় তীব্র বায়ু এবং সব দিক থেকে তাদের দিকে ছুটে আসে তরঙ্গ এবং তারা মনে করে সব দিক থেকে তারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে, তখন তারা খাঁটি মনে কেবল আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে শুধু তাঁকেই ডাকে (এবং বলে, হে আল্লাহ!) তুমি যদি এর (অর্থাৎ এই বিপদ) থেকে আমাদেরকে মুক্তি দাও, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব।

فَلَمَّاۤ اَنۡجٰہُمۡ اِذَا ہُمۡ یَبۡغُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ ؕ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّمَا بَغۡیُکُمۡ عَلٰۤی اَنۡفُسِکُمۡ ۙ مَّتَاعَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۫ ثُمَّ اِلَیۡنَا مَرۡجِعُکُمۡ فَنُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

কিন্তু আল্লাহ যখন তাদেরকে মুক্তি দান করেন, অমনি তারা যমীনে অন্যায়ভাবে অবাধ্যতা প্রদর্শন করে। হে মানুষ! প্রকৃতপক্ষে তোমাদের এ অবাধ্যতা খোদ তোমাদেরই বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সুতরাং তোমরা পার্থিব জীবনের মজা লুটে নাও। শেষ পর্যন্ত আমারই নিকট তোমাদের ফিরতে হবে। তখন আমি তোমাদেরকে তোমরা যা-কিছু করছ তা অবহিত করব।

اِنَّمَا مَثَلُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا کَمَآءٍ اَنۡزَلۡنٰہُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخۡتَلَطَ بِہٖ نَبَاتُ الۡاَرۡضِ مِمَّا یَاۡکُلُ النَّاسُ وَالۡاَنۡعَامُ ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذَتِ الۡاَرۡضُ زُخۡرُفَہَا وَازَّیَّنَتۡ وَظَنَّ اَہۡلُہَاۤ اَنَّہُمۡ قٰدِرُوۡنَ عَلَیۡہَاۤ ۙ اَتٰہَاۤ اَمۡرُنَا لَیۡلًا اَوۡ نَہَارًا فَجَعَلۡنٰہَا حَصِیۡدًا کَاَنۡ لَّمۡ تَغۡنَ بِالۡاَمۡسِ ؕ کَذٰلِکَ نُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ

পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত তো কিছুটা এ রকম, যেমন আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করলাম, যদ্দরুণ ভূমিজ সেই সব উদ্ভিদ নিবিড় ঘন হয়ে জন্মাল, যা মানুষ ও গবাদি পশু খেয়ে থাকে। অবশেষে ভূমি যখন নিজ শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয়ে ওঠে এবং তার মালিকগণ মনে করে এখন তা সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন, তখন কোনও এক দিনে বা রাতে তাতে আমার নির্দেশ এসে পড়ে (এই মর্মে যে, তার উপর কোন দুর্যোগ আপতিত হোক) এবং আমি তাকে কর্তিত ফসলের এমন শূন্য ভূমিতে পরিণত করি, যেন গতকাল তার অস্তিত্বই ছিল না। যে সকল লোক চিন্তা করে তাদের জন্য এভাবেই নিদর্শনাবলী সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করি।

وَاللّٰہُ یَدۡعُوۡۤا اِلٰی دَارِ السَّلٰمِ ؕ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ

আল্লাহ মানুষকে শান্তির আবাসের দিকে ডাকেন এবং যাকে চান সরল-পথপ্রাপ্ত করেন।

لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوا الۡحُسۡنٰی وَزِیَادَۃٌ ؕ وَلَا یَرۡہَقُ وُجُوۡہَہُمۡ قَتَرٌ وَّلَا ذِلَّۃٌ ؕ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

যারা উৎকৃষ্ট কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট অবস্থা এবং বেশি আরও কিছু। তাদের মুখমণ্ডলকে কোনও কালিমা আচ্ছন্ন করবে না এবং লাঞ্ছনাও নয়। তারা হবে জান্নাতবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

وَالَّذِیۡنَ کَسَبُوا السَّیِّاٰتِ جَزَآءُ سَیِّئَۃٍۭ بِمِثۡلِہَا ۙ وَتَرۡہَقُہُمۡ ذِلَّۃٌ ؕ مَا لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ عَاصِمٍ ۚ کَاَنَّمَاۤ اُغۡشِیَتۡ وُجُوۡہُہُمۡ قِطَعًا مِّنَ الَّیۡلِ مُظۡلِمًا ؕ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

আর যারা মন্দ কাজ করেছে, (তাদের) মন্দ কাজের বদলা অনুরূপ মন্দই হবে। লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহ (-এর আযাব) হতে তাদের কোন রক্ষাকর্তা থাকবে না। মনে হবে যেন তাদের মুখমণ্ডল অন্ধকার রাতের টুকরা দ্বারা আচ্ছাদিত করা হয়েছে। তারা হবে জাহান্নামবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

وَیَوۡمَ نَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ نَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا مَکَانَکُمۡ اَنۡتُمۡ وَشُرَکَآؤُکُمۡ ۚ فَزَیَّلۡنَا بَیۡنَہُمۡ وَقَالَ شُرَکَآؤُہُمۡ مَّا کُنۡتُمۡ اِیَّانَا تَعۡبُدُوۡنَ

এবং (স্মরণ রেখ) যে দিন আমি তাদের সকলকে একত্র করব, তারপর যারা শিরক করেছিল তাদেরকে বলব, নিজ-নিজ স্থানে অবস্থান কর তোমরাও এবং তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক মেনেছিলে তারাও! অতঃপর তাদের মধ্যে (উপাসক ও উপাস্যের) যে সম্পর্ক ছিল, আমি তা ঘুচিয়ে দেব এবং তাদের শরীকগণ বলবে, তোমরা তো আমাদের ইবাদত করতে না।

فَکَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًۢا بَیۡنَنَا وَبَیۡنَکُمۡ اِنۡ کُنَّا عَنۡ عِبَادَتِکُمۡ لَغٰفِلِیۡنَ

আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট (যে,) আমরা তোমাদের ইবাদত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনবহিত ছিলাম।

ہُنَالِکَ تَبۡلُوۡا کُلُّ نَفۡسٍ مَّاۤ اَسۡلَفَتۡ وَرُدُّوۡۤا اِلَی اللّٰہِ مَوۡلٰىہُمُ الۡحَقِّ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٪

প্রত্যেকে অতীতে যা-কিছু করেছে, সেই সময়ে সে নিজেই তা যাচাই করে নেবে। সকলকেই তাদের প্রকৃত মালিক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং তারা যে মিথ্যা রচনা করেছিল, তা তাদের থেকে নিরুদ্ধেশ হয়ে যাবে।

قُلۡ مَنۡ یَّرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ اَمَّنۡ یَّمۡلِکُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَمَنۡ یُّخۡرِجُ الۡحَیَّ مِنَ الۡمَیِّتِ وَیُخۡرِجُ الۡمَیِّتَ مِنَ الۡحَیِّ وَمَنۡ یُّدَبِّرُ الۡاَمۡرَ ؕ فَسَیَقُوۡلُوۡنَ اللّٰہُ ۚ فَقُلۡ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ

(হে নবী! মুশরিকদেরকে) বলে দাও, কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযক সরবরাহ করেন? অথবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? এবং কে মৃত হতে জীবিতকে এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন? এবং কে যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন? তারা বলবে, আল্লাহ! বল, তবুও কি তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে না?

فَذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمُ الۡحَقُّ ۚ فَمَاذَا بَعۡدَ الۡحَقِّ اِلَّا الضَّلٰلُ ۚۖ فَاَنّٰی تُصۡرَفُوۡنَ

হে মানুষ! তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের সত্যিকারের মালিক। সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী অবশিষ্ট থাকে? এতদসত্ত্বেও তোমাদেরকে উল্টো কে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

کَذٰلِکَ حَقَّتۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ عَلَی الَّذِیۡنَ فَسَقُوۡۤا اَنَّہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ

এভাবেই যারা অবাধ্যতার নীতি অবলম্বন করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহর এ বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে যে, তারা ঈমান আনবে না।

قُلۡ ہَلۡ مِنۡ شُرَکَآئِکُمۡ مَّنۡ یَّبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ ؕ قُلِ اللّٰہُ یَبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ

বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত কর, তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে সৃষ্টিরাজিকে প্রথমবার অস্তিত্ব দান করে, অতঃপর (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে পুনরায় অস্তিত্ব দান করে? বল, আল্লাহই সৃষ্টিরাজিকে প্রথমবার অস্তিত্ব দান করেন অতঃপর (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে পুনরায় অস্তিত্ব দান করবেন। এতদসত্ত্বেও তোমাদেরকে উল্টো কে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

قُلۡ ہَلۡ مِنۡ شُرَکَآئِکُمۡ مَّنۡ یَّہۡدِیۡۤ اِلَی الۡحَقِّ ؕ قُلِ اللّٰہُ یَہۡدِیۡ لِلۡحَقِّ ؕ اَفَمَنۡ یَّہۡدِیۡۤ اِلَی الۡحَقِّ اَحَقُّ اَنۡ یُّتَّبَعَ اَمَّنۡ لَّا یَہِدِّیۡۤ اِلَّاۤ اَنۡ یُّہۡدٰی ۚ فَمَا لَکُمۡ ۟ کَیۡفَ تَحۡکُمُوۡنَ

বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত কর, তাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে সত্যের পথ দেখায়? বল, আল্লাহই সত্যের পথ দেখান। বল, যিনি সত্যের পথ দেখান তিনিই কি এর বেশি হকদার যে, তাঁর আনুগত্য করা হবে, না সেই (বেশি হকদার) যে নিজে পথ পায় না, যতক্ষণ না অন্য কেউ তাকে পথ দেখায়? তা তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কি রকমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর?

وَمَا یَتَّبِعُ اَکۡثَرُہُمۡ اِلَّا ظَنًّا ؕ اِنَّ الظَّنَّ لَا یُغۡنِیۡ مِنَ الۡحَقِّ شَیۡئًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِمَا یَفۡعَلُوۡنَ

এবং (প্রকৃতপক্ষে) তাদের (অর্থাৎ মুশরিকদের) মধ্যে অধিকাংশ কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে থাকে, আর এটা তো নিশ্চিত যে, সত্যের বিপরীতে অনুমান কোনও কাজে আসে না। নিশ্চয়ই তারা যা-কিছু করে আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।

وَمَا کَانَ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنُ اَنۡ یُّفۡتَرٰی مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلٰکِنۡ تَصۡدِیۡقَ الَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ وَتَفۡصِیۡلَ الۡکِتٰبِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ مِنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۟

এ কুরআন এমন নয় যে, এটা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ হতে রচনা করা হবে বরং এটা (ওহীর) সেই সব বিষয়ের সমর্থন করে, যা এর পূর্বে নাযিল হয়েছে এবং আল্লাহ (লাওহে মাহফূজে) যেসব বিষয় লিখে রেখেছেন এটা তার ব্যাখ্যা করে। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে।

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ؕ قُلۡ فَاۡتُوۡا بِسُوۡرَۃٍ مِّثۡلِہٖ وَادۡعُوۡا مَنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

তারপরও কি তারা বলে, রাসূল নিজের পক্ষ হতে এটা রচনা করেছে? বল, তবে তোমরা এর মত একটি সূরাই (রচনা করে) নিয়ে এসো এবং (এ কাজে সাহায্য গ্রহণের জন্য) আল্লাহ ছাড়া অন্য যাকে পার ডেকে নাও- যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

بَلۡ کَذَّبُوۡا بِمَا لَمۡ یُحِیۡطُوۡا بِعِلۡمِہٖ وَلَمَّا یَاۡتِہِمۡ تَاۡوِیۡلُہٗ ؕ کَذٰلِکَ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الظّٰلِمِیۡنَ

আসল কথা হচ্ছে, তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করছে সেই বিষয়কে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি, এবং এখনও তার পরিণাম তাদের সামনে আসেনি। তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও এভাবেই (তাদের নবীগণকে) অস্বীকার করেছিল। সুতরাং দেখ সে জালেমদের পরিণাম কী হয়েছে।

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یُّؤۡمِنُ بِہٖ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ لَّا یُؤۡمِنُ بِہٖ ؕ  وَرَبُّکَ اَعۡلَمُ بِالۡمُفۡسِدِیۡنَ ٪

তাদের মধ্যে কতক তো এমন, যারা এর (অর্থাৎ কুরআনের) প্রতি ঈমান আনবে এবং কতক এমন, যারা এর প্রতি ঈমান আনবে না। তোমার প্রতিপালক অশান্তি বিস্তারকারীদেরকে ভালো করেই জানেন।

وَاِنۡ کَذَّبُوۡکَ فَقُلۡ لِّیۡ عَمَلِیۡ وَلَکُمۡ عَمَلُکُمۡ ۚ اَنۡتُمۡ بَرِیۡٓـــُٔوۡنَ مِمَّاۤ اَعۡمَلُ وَاَنَا بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تَعۡمَلُوۡنَ

(হে নবী!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে (তাদেরকে) বলে দাও আমার কর্ম আমার জন্য এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্য। আমি যে কাজ করছি তার দায় থেকে তোমরা মুক্ত এবং তোমরা যা করছ, তার দায় থেকেও আমি মুক্ত।

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّسۡتَمِعُوۡنَ اِلَیۡکَ ؕ اَفَاَنۡتَ تُسۡمِعُ الصُّمَّ وَلَوۡ کَانُوۡا لَا یَعۡقِلُوۡنَ

তাদের মধ্যে কতিপয় এমনও আছে, যারা তোমার কথা (প্রকাশ্যে) কান পেতে শোনে, (কিন্তু অন্তরে সত্যের কোনও অনুসন্ধিৎসা নেই। সে কারণে প্রকৃতপক্ষে তারা বধির) তবে কি তুমি বধিরকে শোনাবে, যদিও তারা না বোঝে?

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّنۡظُرُ اِلَیۡکَ ؕ اَفَاَنۡتَ تَہۡدِی الۡعُمۡیَ وَلَوۡ کَانُوۡا لَا یُبۡصِرُوۡنَ

তাদের মধ্যে কতক এমন, যারা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে (কিন্তু অন্তরে ন্যায়নিষ্ঠতা না থাকার কারণে তারা অন্ধতুল্য)। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাবে যদিও তারা কিছুই উপলব্ধি করে না?

اِنَّ اللّٰہَ لَا یَظۡلِمُ النَّاسَ شَیۡئًا وَّلٰکِنَّ النَّاسَ اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না। কিন্তু মানুষ নিজেই নিজের প্রতি জুলুম করে।

وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ کَاَنۡ لَّمۡ یَلۡبَثُوۡۤا اِلَّا سَاعَۃً مِّنَ النَّہَارِ یَتَعَارَفُوۡنَ بَیۡنَہُمۡ ؕ قَدۡ خَسِرَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِلِقَآءِ اللّٰہِ وَمَا کَانُوۡا مُہۡتَدِیۡنَ

যে দিন আল্লাহ তাদেরকে (হাশরের মাঠে) একত্র করবেন, সে দিন তাদের মনে হবে যে, যেন তারা (দুনিয়ায় বা কবরে) দিনের এক মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি। (এ কারণেই) তারা পরস্পরে একে অন্যকে চিনতে পারবে। বস্তুত যারা (আখেরাতে) আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়াকে অস্বীকার করেছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়নি, তারা অবশ্যই লোকসানগ্রস্ত হয়েছে।

وَاِمَّا نُرِیَنَّکَ بَعۡضَ الَّذِیۡ نَعِدُہُمۡ اَوۡ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِلَیۡنَا مَرۡجِعُہُمۡ ثُمَّ اللّٰہُ شَہِیۡدٌ عَلٰی مَا یَفۡعَلُوۡنَ

(হে নবী!) আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যেসব বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন করেছি, তার কোনও বিষয় আমি তোমাকে (তোমার জীবদ্দশায়) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগে) তোমার রূহ কবয করে নেই, সর্বাবস্থায়ই তো তাদেরকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছেই ফিরতে হবে। অতঃপর (এটা তো সুস্পষ্ট যে,) তারা যা-কিছু করছে, আল্লাহ তা সম্যক প্রত্যক্ষ করছেন (সুতরাং তখন তিনি এর শাস্তি দেবেন)।

وَلِکُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلٌ ۚ فَاِذَا جَآءَ رَسُوۡلُہُمۡ قُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡقِسۡطِ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ

প্রত্যেক উম্মতের জন্য একজন রাসূল পাঠানো হয়েছে। যখন তাদের রাসূল এসে গেছে তখন ন্যায়বিচারের সাথে তাদের মীমাংসা করা হয়েছে। তাদের উপর কোনও জুলুম করা হয়নি।

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ মুসলিমদেরকে উপহাস করার জন্য) বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে (বল আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তিদানের) প্রতিশ্রুতি কবে পূরণ করা হবে?

قُلۡ لَّاۤ اَمۡلِکُ لِنَفۡسِیۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰہُ ؕ لِکُلِّ اُمَّۃٍ اَجَلٌ ؕ اِذَا جَآءَ اَجَلُہُمۡ فَلَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ سَاعَۃً وَّلَا یَسۡتَقۡدِمُوۡنَ

(হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, আমি তো আমার নিজেরও কোনও উপকার করার এখতিয়ার রাখি না এবং কোনও অপকার করারও না, তবে আল্লাহ যতটুকু চান তা ভিন্ন। প্রত্যেক উম্মতের এক নির্দিষ্ট সময় আছে, যখন তাদের সে সময় আসে, তখন তারা তা থেকে এক মুহূর্ত পেছনেও যেতে পারে না এবং এক মুহূর্ত আগেও না।

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَتٰىکُمۡ عَذَابُہٗ بَیَاتًا اَوۡ نَہَارًا مَّاذَا یَسۡتَعۡجِلُ مِنۡہُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ

তাদেরকে বল, তোমরা আমাকে বল তো, আল্লাহর আযাব যদি তোমাদের উপর রাতের বেলা এসে পড়ে কিংবা দিনের বেলা, তবে অপরাধীরা তার মধ্যে এমন কী (আকাঙ্ক্ষাযোগ্য বস্তু আছে, যাকে) ত্বরান্বিত করতে চায়?

اَثُمَّ اِذَا مَا وَقَعَ اٰمَنۡتُمۡ بِہٖ ؕ آٰلۡـٰٔنَ وَقَدۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ

যখন সে শাস্তি এসেই পড়বে তখন কি তোমরা তা বিশ্বাস করবে? (তখন তো তোমাদেরকে বলা হবে যে,) এখন বিশ্বাস করছ? অথচ তোমরাই এটা (অবিশ্বাস করে) তাড়াতাড়ি চাচ্ছিলে।

ثُمَّ قِیۡلَ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡخُلۡدِ ۚ ہَلۡ تُجۡزَوۡنَ اِلَّا بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡسِبُوۡنَ

অতঃপর জালেমদেরকে বলা হবে, এবার স্থায়ী শাস্তির মজা ভোগ কর। তোমাদেরকে অন্য কিছুর নয়; বরং তোমরা যা-কিছু (পাপাচার) করতে তারই প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে।

وَیَسۡتَنۡۢبِئُوۡنَکَ اَحَقٌّ ہُوَ ؕؔ  قُلۡ اِیۡ وَرَبِّیۡۤ اِنَّہٗ لَحَقٌّ ۚؕؔ  وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ٪

তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, এটা (অর্থাৎ আখেরাতের আযাব) কি বাস্তবিক সত্য? বলে দাও, আমার প্রতিপালকের শপথ! এটা বিলকুল সত্য এবং তোমরা (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারবে না।

وَلَوۡ اَنَّ لِکُلِّ نَفۡسٍ ظَلَمَتۡ مَا فِی الۡاَرۡضِ لَافۡتَدَتۡ بِہٖ ؕ وَاَسَرُّوا النَّدَامَۃَ لَمَّا رَاَوُا الۡعَذَابَ ۚ وَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡقِسۡطِ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ

যে ব্যক্তিই জুলুমে লিপ্ত হয়েছে, তার যদি পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই হয়ে যায়, তবে সে নিজ মুক্তির বিনিময়ে তা দিয়ে দেবে এবং তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন নিজ অনুতাপ লুকাতে চাবে। ন্যায়বিচারের সাথে তাদের মীমাংসা হবে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

اَلَاۤ اِنَّ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

স্মরণ রেখ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহরই। স্মরণ রেখ, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।

ہُوَ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ

তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান। তাঁরই কাছে তোমাদের সকলকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ قَدۡ جَآءَتۡکُمۡ مَّوۡعِظَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوۡرِ ۬ۙ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ

হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে এক উপদেশ, অন্তরের রোগ-ব্যাধির উপশম এবং মুমিনদের পক্ষে হিদায়াত ও রহমত।

قُلۡ بِفَضۡلِ اللّٰہِ وَبِرَحۡمَتِہٖ فَبِذٰلِکَ فَلۡیَفۡرَحُوۡا ؕ ہُوَ خَیۡرٌ مِّمَّا یَجۡمَعُوۡنَ

(হে নবী!) বল, এসব আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতেই হয়েছে। সুতরাং এতে তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা-কিছু পুঞ্জীভূত করে, তা অপেক্ষা এটা শ্রেয়!

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ مَّاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ لَکُمۡ مِّنۡ رِّزۡقٍ فَجَعَلۡتُمۡ مِّنۡہُ حَرَامًا وَّحَلٰلًا ؕ قُلۡ آٰللّٰہُ اَذِنَ لَکُمۡ اَمۡ عَلَی اللّٰہِ تَفۡتَرُوۡنَ

বল, চিন্তা করে দেখ তো, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযক নাযিল করেছিলেন, তারপর তোমরা নিজেদের পক্ষ থেকে তার কিছু হালাল ও কিছু হারাম সাব্যস্ত করেছ! জিজ্ঞেস কর, আল্লাহই কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন, না তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ?

وَمَا ظَنُّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَشۡکُرُوۡنَ ٪

যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয় কিয়ামত দিবস সম্পর্কে তাদের ধারণা কী? নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের সঙ্গে সদয় আচরণকারী। কিন্তু তাদের অধিকাংশেই কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।

وَمَا تَکُوۡنُ فِیۡ شَاۡنٍ وَّمَا تَتۡلُوۡا مِنۡہُ مِنۡ قُرۡاٰنٍ وَّلَا تَعۡمَلُوۡنَ مِنۡ عَمَلٍ اِلَّا کُنَّا عَلَیۡکُمۡ شُہُوۡدًا اِذۡ تُفِیۡضُوۡنَ فِیۡہِ ؕ وَمَا یَعۡزُبُ عَنۡ رَّبِّکَ مِنۡ مِّثۡقَالِ ذَرَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ وَلَاۤ اَصۡغَرَ مِنۡ ذٰلِکَ وَلَاۤ اَکۡبَرَ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ

(হে নবী!) তুমি যে-অবস্থায়ই থাক এবং কুরআনের যে-অংশই তিলাওয়াত কর এবং (হে মানুষ!) তোমরা যে-কাজই কর, তোমরা যখন তাতে লিপ্ত থাক, তখন আমি তোমাদের দেখতে থাকি। তোমার প্রতিপালকের কাছে অণু-পরিমাণ জিনিসও গোপন থাকে না না পৃথিবীতে, না আকাশে এবং তার চেয়ে ছোট এবং তার চেয়ে বড় এমন কিছু নেই, যা এক স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।

اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِیَآءَ اللّٰہِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ۚۖ

স্মরণ রেখ, যারা আল্লাহর বন্ধু তাদের কোনও ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَکَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ ؕ

তারা সেই সব লোক, যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে।

لَہُمُ الۡبُشۡرٰی فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَفِی الۡاٰخِرَۃِ ؕ  لَا تَبۡدِیۡلَ لِکَلِمٰتِ اللّٰہِ ؕ  ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ؕ

তাদের দুনিয়ার জীবনেও সুসংবাদ আছে এবং আখেরাতেও। আল্লাহর কথায় কোনও পরিবর্তন হয় না। এটাই মহাসাফল্য।

وَلَا یَحۡزُنۡکَ قَوۡلُہُمۡ ۘ اِنَّ الۡعِزَّۃَ لِلّٰہِ جَمِیۡعًا ؕ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ

(হে নবী!) তাদের কথা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। নিশ্চয়ই সমস্ত শক্তিই আল্লাহর। তিনি সব কথার শ্রোতা সব কিছুর জ্ঞাতা।

اَلَاۤ اِنَّ لِلّٰہِ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَمَا یَتَّبِعُ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ شُرَکَآءَ ؕ اِنۡ یَّـتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَخۡرُصُوۡنَ

স্মরণ রেখ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে, সব আল্লাহরই মালিকানাধীন। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকে, তারা আল্লাহর (প্রকৃত) কোনও শরীকের অনুসরণ করে না। তারা কেবল ধারণারই অনুসরণ করে। আর তাদের কাজ কেবল আনুমানিক কথা বলা।

ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الَّیۡلَ لِتَسۡکُنُوۡا فِیۡہِ وَالنَّہَارَ مُبۡصِرًا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّسۡمَعُوۡنَ

তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ করতে পার। আর দিনকে তোমাদের দেখার উপযোগী করে বানিয়েছেন। নিশ্চয়ই এতে সেই সব লোকের জন্য বহু নিদর্শন আছে, যারা লক্ষ্য করে শোনে।

قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰہُ وَلَدًا سُبۡحٰنَہٗ ؕ ہُوَ الۡغَنِیُّ ؕ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنۡ عِنۡدَکُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍۭ بِہٰذَا ؕ اَتَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

(কিছু লোকে) বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তাঁর সত্তা পবিত্র! তিনি কোনও কিছুর মুখাপেক্ষী নন। আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা তাঁরই। তোমাদের কাছে এর সপক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলছ, যার কোনও জ্ঞান তোমাদের নেই?

قُلۡ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ لَا یُفۡلِحُوۡنَ ؕ

বলে দাও, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, তারা কৃতকার্য হবে না।

مَتَاعٌ فِی الدُّنۡیَا ثُمَّ اِلَیۡنَا مَرۡجِعُہُمۡ ثُمَّ نُذِیۡقُہُمُ الۡعَذَابَ الشَّدِیۡدَ بِمَا کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ ٪

(তাদের জন্য) দুনিয়ায় সামান্য কিছু আনন্দ-উপভোগ আছে। তারপর আমারই কাছে তাদেরকে ফিরে আসতে হবে। তারপর তারা যে কুফুরী কর্মপন্থা অবলম্বন করেছিল, তার বিনিময়ে আমি তাদেরকে কঠিন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব।

وَاتۡلُ عَلَیۡہِمۡ نَبَاَ نُوۡحٍ ۘ اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖ یٰقَوۡمِ اِنۡ کَانَ کَبُرَ عَلَیۡکُمۡ مَّقَامِیۡ وَتَذۡکِیۡرِیۡ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ فَعَلَی اللّٰہِ تَوَکَّلۡتُ فَاَجۡمِعُوۡۤا اَمۡرَکُمۡ وَشُرَکَآءَکُمۡ ثُمَّ لَا یَکُنۡ اَمۡرُکُمۡ عَلَیۡکُمۡ غُمَّۃً ثُمَّ اقۡضُوۡۤا اِلَیَّ وَلَا تُنۡظِرُوۡنِ

(হে নবী!) তাদের সামনে নূহের ঘটনা পড়ে শোনাও, যখন সে নিজ কওমকে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে তোমাদেরকে সতর্ক করাটা যদি তোমাদের পক্ষে দুঃসহ হয়, তবে আমি তো আল্লাহরই উপর ভরসা করেছি। সুতরাং তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে সঙ্গে নিয়ে (আমার বিরুদ্ধে) তোমাদের কৌশল পাকাপোক্ত করে নাও, তারপর তোমরা যে কৌশল অবলম্বন করবে তা যেন তোমাদের অন্তরে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণ না হয়; বরং আমার বিরুদ্ধে তোমাদের সিদ্ধান্ত (আনন্দচিত্তে) কার্যকর করে ফেল এবং আমাকে একদম সময় দিও না।

فَاِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ فَمَا سَاَلۡتُکُمۡ مِّنۡ اَجۡرٍ ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ ۙ وَ اُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ

তথাপি তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে এর (অর্থাৎ এই প্রচার কার্যের) বিনিময়ে আমি তো তোমাদের কাছে কোনও পারিশ্রমিক চাইনি। আমার পারিশ্রমিক অন্য কেউ নয়; কেবল আল্লাহই নিজ দায়িত্বে রেখেছেন। আর আমাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, আমি যেন অনুগত লোকদের মধ্যে শামিল থাকি।

فَکَذَّبُوۡہُ فَنَجَّیۡنٰہُ وَمَنۡ مَّعَہٗ فِی الۡفُلۡکِ وَجَعَلۡنٰہُمۡ خَلٰٓئِفَ وَاَغۡرَقۡنَا الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ۚ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ

কিন্তু তারা নূহকে মিথ্যাবাদী বলল এবং পরিণামে আমি নূহকে ও যারা নৌকায় তার সঙ্গে ছিল তাদেরকে রক্ষা করলাম এবং তাদেরকে কাফেরদের স্থলাভিষিক্ত করলাম। আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদেরকে (প্লাবনের ভেতর) নিমজ্জিত করলাম। সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে।

ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہٖ رُسُلًا اِلٰی قَوۡمِہِمۡ فَجَآءُوۡہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَمَا کَانُوۡا لِیُؤۡمِنُوۡا بِمَا کَذَّبُوۡا بِہٖ مِنۡ قَبۡلُ ؕ کَذٰلِکَ نَطۡبَعُ عَلٰی قُلُوۡبِ الۡمُعۡتَدِیۡنَ

তারপরে আমি বিভিন্ন নবীকে তাদের স্ব-স্ব জাতির কাছে প্রেরণ করেছি। তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তারা প্রথমবার যা প্রত্যাখ্যান করেছিল তা আর মানতেই প্রস্তুত হল না। যারা সীমালংঘন করে তাদের অন্তরে আমি এভাবে মোহর করে দেই।

ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ مُّوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ بِاٰیٰتِنَا فَاسۡتَکۡبَرُوۡا وَکَانُوۡا قَوۡمًا مُّجۡرِمِیۡنَ

অতঃপর আমি তাদের পর মূসা ও হারূনকে ফির‘আউন ও তার অমাত্যদের কাছে আমার নিদর্শনাবলীসহ প্রেরণ করি। কিন্তু তারা অহমিকা প্রদর্শন করল এবং তারা ছিল অপরাধী সম্প্রদায়।

فَلَمَّا جَآءَہُمُ الۡحَقُّ مِنۡ عِنۡدِنَا قَالُوۡۤا اِنَّ ہٰذَا لَسِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ

যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ হতে সত্য আসল, তখন তারা বলতে লাগল, নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট যাদু।

قَالَ مُوۡسٰۤی اَتَقُوۡلُوۡنَ لِلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَکُمۡ ؕ اَسِحۡرٌ ہٰذَا ؕ وَلَا یُفۡلِحُ السّٰحِرُوۡنَ

মূসা বলল, সত্য যখন তোমাদের কাছে আসল তখন তোমরা তার সম্পর্কে এরূপ কথা বলছ? এটা কি যাদু? যাদুকরগণ তো কখনও সফলকাম হয় না!

قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا لِتَلۡفِتَنَا عَمَّا وَجَدۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا وَتَکُوۡنَ لَکُمَا الۡکِبۡرِیَآءُ فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَمَا نَحۡنُ لَکُمَا بِمُؤۡمِنِیۡنَ

তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যই এসেছ যে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে যে রীতি-নীতির উপর পেয়েছি, তুমি আমাদেরকে তা থেকে বিচ্যুত করবে এবং যাতে এ দেশে তোমাদের দু’জনের প্রতিপত্তি কায়েম হয়ে যায় সে জন্য? আমরা তো তোমাদের কথা মানবার নই!

وَقَالَ فِرۡعَوۡنُ ائۡتُوۡنِیۡ بِکُلِّ سٰحِرٍ عَلِیۡمٍ

ফিরাউন (তার কর্মচারীদেরকে) বলল, যত দক্ষ যাদুকর আছে, তাদের সকলকে আমার কাছে নিয়ে এসো।

فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالَ لَہُمۡ مُّوۡسٰۤی اَلۡقُوۡا مَاۤ اَنۡتُمۡ مُّلۡقُوۡنَ

সুতরাং যখন যাদুকরগণ এসে গেল। মূসা তাদেরকে বলল, তোমাদের যা-কিছু নিক্ষেপ করবার তা নিক্ষেপ কর।

فَلَمَّاۤ اَلۡقَوۡا قَالَ مُوۡسٰی مَا جِئۡتُمۡ بِہِ ۙ السِّحۡرُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَیُبۡطِلُہٗ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُصۡلِحُ عَمَلَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ

তারপর তারা যখন (তাদের লাঠি ও রশি) নিক্ষেপ করল (এবং সেগুলোকে সাপের মত ছোটাছুটি করতে দেখা গেল) তখন মূসা বলল, তোমরা এই যা-কিছু প্রদর্শন করলে তা যাদু। আল্লাহ এখনই তা নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছেন। আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজ সফল হতে দেন না।

وَیُحِقُّ اللّٰہُ الۡحَقَّ بِکَلِمٰتِہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡمُجۡرِمُوۡنَ ٪

আল্লাহ নিজ হুকুমে সত্যকে সত্য করে দেখান, যদিও অপরাধীগণ তা অপছন্দ করে।

فَمَاۤ اٰمَنَ لِمُوۡسٰۤی اِلَّا ذُرِّیَّۃٌ مِّنۡ قَوۡمِہٖ عَلٰی خَوۡفٍ مِّنۡ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہِمۡ اَنۡ یَّفۡتِنَہُمۡ ؕ وَاِنَّ فِرۡعَوۡنَ لَعَالٍ فِی الۡاَرۡضِ ۚ وَاِنَّہٗ لَمِنَ الۡمُسۡرِفِیۡنَ

অতঃপর এই ঘটল যে, মূসার প্রতি অন্য কেউ তো নয়, তার সম্প্রদায়েরই কতিপয় যুবক ফির‘আউন ও তাদের নেতৃবর্গ নির্যাতন করতে পারে এ আশঙ্কা সত্ত্বেও ঈমান আনল। নিশ্চয়ই দেশে ফির‘আউন অতি পরাক্রমশালী ছিল এবং সে ছিল সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

وَقَالَ مُوۡسٰی یٰقَوۡمِ اِنۡ کُنۡتُمۡ اٰمَنۡتُمۡ بِاللّٰہِ فَعَلَیۡہِ تَوَکَّلُوۡۤا اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّسۡلِمِیۡنَ

মূসা বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা সত্যিই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকলে, কেবল তাঁরই উপর নির্ভর কর, যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হয়ে থাক।

فَقَالُوۡا عَلَی اللّٰہِ تَوَکَّلۡنَا ۚ  رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا فِتۡنَۃً لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ

তারা বলল, আমরা আল্লাহরই উপর নির্ভর করলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ওই জালেম সম্প্রদায়ের পরীক্ষার পাত্র বানিও না।

وَنَجِّنَا بِرَحۡمَتِکَ مِنَ الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ

এবং নিজ রহমতে আমাদেরকে কাফের সম্প্রদায় হতে নাজাত দাও।

وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰی وَاَخِیۡہِ اَنۡ تَبَوَّاٰ لِقَوۡمِکُمَا بِمِصۡرَ بُیُوۡتًا وَّاجۡعَلُوۡا بُیُوۡتَکُمۡ قِبۡلَۃً وَّاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

আমি মূসা ও তার ভাইয়ের প্রতি ওহী পাঠালাম যে, তোমরা তোমাদের সম্প্রদায়কে মিসরের ঘর-বাড়িতেই থাকতে দাও এবং তোমাদের ঘরসমূহকে নামাযের স্থান বানাও এবং (এভাবে) নামায কায়েম কর ও ঈমান আনয়নকারীদেরকে সুসংবাদ দাও।

وَقَالَ مُوۡسٰی رَبَّنَاۤ اِنَّکَ اٰتَیۡتَ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَاَہٗ زِیۡنَۃً وَّاَمۡوَالًا فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۙ رَبَّنَا لِیُضِلُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِکَ ۚ رَبَّنَا اطۡمِسۡ عَلٰۤی اَمۡوَالِہِمۡ وَاشۡدُدۡ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ فَلَا یُؤۡمِنُوۡا حَتّٰی یَرَوُا الۡعَذَابَ الۡاَلِیۡمَ

মূসা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি ফির‘আউন ও তার অমাত্যদেরকে পার্থিব জীবনে বিপুল শোভা ও ধন-দৌলত দান করেছেন। হে আমাদের প্রতিপালক! তার ফল হচ্ছে এই যে, তারা মানুষকে আপনার পথ থেকে বিচ্যুত করছে। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের ধন-দৌলত ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তর এমন শক্ত করে দিন, যাতে মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে।

قَالَ قَدۡ اُجِیۡبَتۡ دَّعۡوَتُکُمَا فَاسۡتَقِیۡمَا وَلَا تَتَّبِعٰٓنِّ سَبِیۡلَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

আল্লাহ বললেন, তোমাদের দুআ কবুল করা হল। সুতরাং তোমরা দৃঢ়পদ থাক এবং যারা সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ কিছুতেই তাদের অনুসরণ করো না।

وَجٰوَزۡنَا بِبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ الۡبَحۡرَ فَاَتۡبَعَہُمۡ فِرۡعَوۡنُ وَجُنُوۡدُہٗ بَغۡیًا وَّعَدۡوًا ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَدۡرَکَہُ الۡغَرَقُ ۙ قَالَ اٰمَنۡتُ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا الَّذِیۡۤ اٰمَنَتۡ بِہٖ بَنُوۡۤا اِسۡرَآءِیۡلَ وَاَنَا مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ

আমি বনী ইসরাঈলকে সাগর পার করিয়ে দিলাম। তখন ফির‘আউন ও তার বাহিনী জুলুম ও সীমালংঘনের উদ্দেশ্যে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। পরিশেষে যখন সে ডুবে মারা যাচ্ছিল, তখন বলতে লাগল, আমি স্বীকার করলাম, বনী ইসরাঈল যেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই এবং আমিও আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

آٰلۡـٰٔنَ وَقَدۡ عَصَیۡتَ قَبۡلُ وَکُنۡتَ مِنَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ

(উত্তর দেওয়া হল) এখন (ঈমান আনছ)? অথচ এর আগে অবাধ্যতা করেছ এবং ক্রমাগত অশান্তি সৃষ্টি করতে থেকেছ।

فَالۡیَوۡمَ نُنَجِّیۡکَ بِبَدَنِکَ لِتَکُوۡنَ لِمَنۡ خَلۡفَکَ اٰیَۃً ؕ  وَاِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ النَّاسِ عَنۡ اٰیٰتِنَا لَغٰفِلُوۡنَ ٪

সুতরাং আজ আমি তোমার (কেবল) দেহটি বাঁচাব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তী কালের মানুষের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। (কেননা) আমার নিদর্শন সম্পর্কে বহু লোক গাফেল হয়ে আছে।

وَلَقَدۡ بَوَّاۡنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ مُبَوَّاَ صِدۡقٍ وَّرَزَقۡنٰہُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ۚ فَمَا اخۡتَلَفُوۡا حَتّٰی جَآءَہُمُ الۡعِلۡمُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ یَقۡضِیۡ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ

আমি বনী ইসরাঈলকে যথার্থভাবে বসবাসের উপযুক্ত এক স্থানে বসবাস করালাম এবং তাদেরকে উত্তম রিযক দান করলাম। অতঃপর তারা (সত্য দীন সম্পর্কে) ততক্ষণ পর্যন্ত মতভেদ সৃষ্টি করেনি, যতক্ষণ না তাদের কাছে জ্ঞান এসে পৌঁছেছে। নিশ্চয়ই তারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করত কিয়ামতের দিন তোমার প্রতিপালক তাদের মধ্যে তার মীমাংসা করে দিবেন।

فَاِنۡ کُنۡتَ فِیۡ شَکٍّ مِّمَّاۤ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ فَسۡـَٔلِ الَّذِیۡنَ یَقۡرَءُوۡنَ الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ  لَقَدۡ جَآءَکَ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ فَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُمۡتَرِیۡنَ ۙ

(হে নবী!) আমি তোমার প্রতি যে বাণী নাযিল করেছি সে সম্বন্ধে তোমার যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে (যদিও তা থাকা কখনও সম্ভব নয়), তবে তোমার পূর্বের (আসমানী) কিতাব যারা পাঠ করে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। নিশ্চয়ই তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে সত্যই এসেছে। সুতরাং তুমি কখনও সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

وَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ فَتَکُوۡنَ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ

এবং তুমি সেই সকল লোকেরও অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, অন্যথায় তুমি লোকসানগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ حَقَّتۡ عَلَیۡہِمۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ۙ

নিশ্চয়ই যাদের সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে। তারা ঈমান আনবে না।

وَلَوۡ جَآءَتۡہُمۡ کُلُّ اٰیَۃٍ حَتّٰی یَرَوُا الۡعَذَابَ الۡاَلِیۡمَ

যদিও তাদের সামনে সর্ব প্রকার নিদর্শন এসে যায়, যাবৎ না তারা যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।

فَلَوۡلَا کَانَتۡ قَرۡیَۃٌ اٰمَنَتۡ فَنَفَعَہَاۤ اِیۡمَانُہَاۤ اِلَّا قَوۡمَ یُوۡنُسَ ؕ لَمَّاۤ اٰمَنُوۡا کَشَفۡنَا عَنۡہُمۡ عَذَابَ الۡخِزۡیِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَمَتَّعۡنٰہُمۡ اِلٰی حِیۡنٍ

তবে কোন জনপদ এমন কেন হল না যে, তারা এমন এক সময় ঈমান আনত, যখন ঈমান তাদের উপকার করতে পারত? অবশ্য ইউনুসের কওম এ রকম ছিল। তারা যখন ঈমান আনল তখন পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনাকর শাস্তি তাদের থেকে তুলে নিলাম এবং তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত জীবন ভোগ করতে দিলাম।

وَلَوۡ شَآءَ رَبُّکَ لَاٰمَنَ مَنۡ فِی الۡاَرۡضِ کُلُّہُمۡ جَمِیۡعًا ؕ اَفَاَنۡتَ تُکۡرِہُ النَّاسَ حَتّٰی یَکُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ

আল্লাহ ইচ্ছা করলে ভূ-পৃষ্ঠে বসবাসকারী সকলেই ঈমান আনত। তবে কি তুমি মানুষের উপর চাপ প্রয়োগ করবে, যাতে তারা সকলে মুমিন হয়ে যায়?

وَمَا کَانَ لِنَفۡسٍ اَنۡ تُؤۡمِنَ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَیَجۡعَلُ الرِّجۡسَ عَلَی الَّذِیۡنَ لَا یَعۡقِلُوۡنَ

এটা কারও পক্ষেই সম্ভব নয় যে, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে মুমিন হয়ে যাবে। যারা তাদের বুদ্ধি কাজে লাগায় না আল্লাহ তাদের উপর কলুষ চাপিয়ে দেন।

قُلِ انۡظُرُوۡا مَاذَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَمَا تُغۡنِی الۡاٰیٰتُ وَالنُّذُرُ عَنۡ قَوۡمٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ

(হে নবী!) তাদেরকে বল, লক্ষ করে দেখ আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে কি কি জিনিস আছে? কিন্তু যে সব লোক ঈমান আনার নয়, (আসমান ও যমীনে বিরাজমান) নিদর্শনাবলী ও সতর্ককারী (নবী)গণ তাদের কোনও কাজে আসে না।

فَہَلۡ یَنۡتَظِرُوۡنَ اِلَّا مِثۡلَ اَیَّامِ الَّذِیۡنَ خَلَوۡا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ قُلۡ فَانۡتَظِرُوۡۤا اِنِّیۡ مَعَکُمۡ مِّنَ الۡمُنۡتَظِرِیۡنَ

তবে কি (ঈমান আনার জন্য) তারা তাদের পূর্বের লোকে যে রকম দিন প্রত্যক্ষ করেছিল, সে রকম দিনের অপেক্ষা করছে? বলে দাও, তাহলে তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষারত আছি।

ثُمَّ نُنَجِّیۡ رُسُلَنَا وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کَذٰلِکَ ۚ  حَقًّا عَلَیۡنَا نُنۡجِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٪

অতঃপর (যখন আযাব আসে) আমি আমার রাসূলগণকে এবং যারা ঈমান আনে তাদেরকে রক্ষা করি। এভাবেই আমি আমার দায়িত্বে রেখেছি যে, আমি (অপরাপর) মুমিনগণকে রক্ষা করব।

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ شَکٍّ مِّنۡ دِیۡنِیۡ فَلَاۤ اَعۡبُدُ الَّذِیۡنَ تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلٰکِنۡ اَعۡبُدُ اللّٰہَ الَّذِیۡ یَتَوَفّٰىکُمۡ ۚۖ  وَاُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ

(হে নবী!) তাদেরকে বল, হে মানুষ! তোমরা যদি আমার দীন সম্পর্কে কোনও সন্দেহে থাক, তবে (শুনে রাখ) তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর আমি তাদের ইবাদত করি না; বরং আমি আল্লাহর ইবাদত করি, যিনি তোমাদের প্রাণ সংহার করেন। আর আমাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, আমি যেন মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।

وَاَنۡ اَقِمۡ وَجۡہَکَ لِلدِّیۡنِ حَنِیۡفًا ۚ وَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ

এবং (আমাকে) এই (বলা হয়েছে) যে, তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজ চেহারাকে এই দীনের দিকেই কায়েম রাখবে এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

وَلَا تَدۡعُ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُکَ وَلَا یَضُرُّکَ ۚ فَاِنۡ فَعَلۡتَ فَاِنَّکَ اِذًا مِّنَ الظّٰلِمِیۡنَ

আল্লাহ তাআলাকে ছেড়ে এমন কাউকে (অর্থাৎ মনগড়া মাবুদকে) ডাকবে না, যা তোমার কোনও উপকারও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না। তারপরও যদি তুমি এরূপ কর (যদিও তোমার পক্ষে তা করা অসম্ভব), তবে তুমি জালেমদের মধ্যে গণ্য হবে।

وَاِنۡ یَّمۡسَسۡکَ اللّٰہُ بِضُرٍّ فَلَا کَاشِفَ لَہٗۤ اِلَّا ہُوَ ۚ وَاِنۡ یُّرِدۡکَ بِخَیۡرٍ فَلَا رَآدَّ لِفَضۡلِہٖ ؕ یُصِیۡبُ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ ؕ وَہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ

আল্লাহ যদি তোমাকে কোনও কষ্ট দান করেন, তবে তিনি ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তা দূর করবে এবং তিনি যদি তোমার কোনও মঙ্গল করার ইচ্ছা করেন, তবে এমন কেউ নেই, যে তার অনুগ্রহ রদ করবে। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ দান করেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ قَدۡ جَآءَکُمُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکُمۡ ۚ  فَمَنِ اہۡتَدٰی فَاِنَّمَا یَہۡتَدِیۡ لِنَفۡسِہٖ ۚ  وَمَنۡ ضَلَّ فَاِنَّمَا یَضِلُّ عَلَیۡہَا ۚ  وَمَاۤ اَنَا عَلَیۡکُمۡ بِوَکِیۡلٍ ؕ

(হে নবী!) বলে দাও, হে লোক সকল! তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য এসে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি হিদায়াতের পথ অবলম্বন করবে, সে তা অবলম্বন করবে নিজেরই মঙ্গলের জন্য আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করবে, তার পথভ্রষ্টতার ক্ষতি তার নিজেরই ভোগ করতে হবে। আমি তোমাদের কার্যাবলীর যিম্মাদার নই।

وَاتَّبِعۡ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡکَ وَاصۡبِرۡ حَتّٰی یَحۡکُمَ اللّٰہُ ۚۖ  وَہُوَ خَیۡرُ الۡحٰکِمِیۡنَ ٪

তোমার কাছে যে ওহী পাঠানো হচ্ছে, তুমি তার অনুসরণ করো এবং ধৈর্যধারণ করো, যে পর্যন্ত না আল্লাহ মীমাংসা করে দেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী।