هود
হুদ
Ayah ১২৩ · Meccan · Para ১১
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
الٓرٰ ۟ کِتٰبٌ اُحۡکِمَتۡ اٰیٰتُہٗ ثُمَّ فُصِّلَتۡ مِنۡ لَّدُنۡ حَکِیۡمٍ خَبِیۡرٍ ۙ
আলিফ-লাম-রা। এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহকে (দলীল-প্রমাণ দ্বারা) সুদৃঢ় করা হয়েছে। অতঃপর এমন এক সত্তার পক্ষ হতে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি প্রজ্ঞাময়, সর্ববিষয়ে অবহিত।
اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ اِنَّنِیۡ لَکُمۡ مِّنۡہُ نَذِیۡرٌ وَّبَشِیۡرٌ ۙ
(এ কিতাব নবীকে নির্দেশ দেয় মানুষকে এই কথা বলতে) যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। নিশ্চয়ই আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য সতর্ককারী এবং সুসংবাদদাতা।
وَّاَنِ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡہِ یُمَتِّعۡکُمۡ مَّتَاعًا حَسَنًا اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی وَّیُؤۡتِ کُلَّ ذِیۡ فَضۡلٍ فَضۡلَہٗ ؕ وَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ کَبِیۡرٍ
এবং এই (পথনির্দেশ দেয়) যে, তোমাদের প্রতিপালকের কাছে গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁর অভিমুখী হও। তিনি তোমাদেরকে এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দিবেন এবং যে-কেউ বেশি আমল করবে তাকে নিজের পক্ষ থেকে বেশি প্রতিদান দিবেন। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্য এক মহা দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।
اِلَی اللّٰہِ مَرۡجِعُکُمۡ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
আল্লাহরই কাছে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
اَلَاۤ اِنَّہُمۡ یَثۡنُوۡنَ صُدُوۡرَہُمۡ لِیَسۡتَخۡفُوۡا مِنۡہُ ؕ اَلَا حِیۡنَ یَسۡتَغۡشُوۡنَ ثِیَابَہُمۡ ۙ یَعۡلَمُ مَا یُسِرُّوۡنَ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ ۚ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ
দেখ, তারা (কাফেরগণ) তাঁর থেকে লুকানোর জন্য নিজেদের বুক দু’ভাঁজ করে রাখে। স্মরণ রেখ, তারা যখন নিজেদের গায়ে কাপড় জড়ায়, তখন তারা যেসব কথা গোপন করে তাও আল্লাহ জানেন এবং তারা যা প্রকাশ্যে করে তাও। নিশ্চয়ই তিনি অন্তর্যামী।
وَمَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ رِزۡقُہَا وَیَعۡلَمُ مُسۡتَقَرَّہَا وَمُسۡتَوۡدَعَہَا ؕ کُلٌّ فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ
ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনও প্রাণী নেই, যার রিযক আল্লাহ নিজ দায়িত্বে রাখেননি। তিনি তাদের স্থায়ী ঠিকানাও জানেন এবং সাময়িক ঠিকানাও। সব কিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
وَہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ وَّکَانَ عَرۡشُہٗ عَلَی الۡمَآءِ لِیَبۡلُوَکُمۡ اَیُّکُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ وَلَئِنۡ قُلۡتَ اِنَّکُمۡ مَّبۡعُوۡثُوۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡمَوۡتِ لَیَقُوۡلَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ
তিনিই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, যখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, তোমাদের মধ্যে কাজে কে শ্রেষ্ঠ তা পরীক্ষা করার জন্য। তুমি যদি (মানুষকে) বল যে, মৃত্যুর পর তোমাদেরকে ফের জীবিত করা হবে, তবে যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া কিছুই নয়।
وَلَئِنۡ اَخَّرۡنَا عَنۡہُمُ الۡعَذَابَ اِلٰۤی اُمَّۃٍ مَّعۡدُوۡدَۃٍ لَّیَقُوۡلُنَّ مَا یَحۡبِسُہٗ ؕ اَلَا یَوۡمَ یَاۡتِیۡہِمۡ لَیۡسَ مَصۡرُوۡفًا عَنۡہُمۡ وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪
আমি কিছু কালের জন্য যদি তাদের শাস্তি স্থগিত রাখি, তবে তারা নিশ্চয়ই বলবে, কোন জিনিস তা (অর্থাৎ সেই শাস্তি) আটকে রেখেছে? সাবধান! যে দিন সে শাস্তি এসে যাবে সে দিন তা তাদের থেকে টলানো যাবে না। তারা যা নিয়ে ঠাট্টা করছে তা তাদেরকে চারদিক থেকে বেষ্টন করে ফেলবে।
وَلَئِنۡ اَذَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنَّا رَحۡمَۃً ثُمَّ نَزَعۡنٰہَا مِنۡہُ ۚ اِنَّہٗ لَیَـُٔوۡسٌ کَفُوۡرٌ
যখন আমি মানুষকে আমার নিকট হতে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই ও পরে তার থেকে তা প্রত্যাহার করে নেই তখন সে হতাশ (ও) অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।
وَلَئِنۡ اَذَقۡنٰہُ نَعۡمَآءَ بَعۡدَ ضَرَّآءَ مَسَّتۡہُ لَیَقُوۡلَنَّ ذَہَبَ السَّیِّاٰتُ عَنِّیۡ ؕ اِنَّہٗ لَفَرِحٌ فَخُوۡرٌ ۙ
আবার যখন কোনও দুঃখ-কষ্ট তাকে স্পর্শ করার পর তাকে নি‘আমতরাজি আস্বাদন করাই, তখন সে বলে, আমার সব অমঙ্গল কেটে গেছে। (আর তখন) সে হয় উল্লসিত, গর্বিত।
اِلَّا الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ کَبِیۡرٌ
তবে যারা ধৈর্য ধারণ করে ও সৎকর্ম করে, তারা এ রকম নয়। তারা মাগফিরাত ও মহা প্রতিদান লাভ করবে।
فَلَعَلَّکَ تَارِکٌۢ بَعۡضَ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡکَ وَضَآئِقٌۢ بِہٖ صَدۡرُکَ اَنۡ یَّقُوۡلُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ کَنۡزٌ اَوۡ جَآءَ مَعَہٗ مَلَکٌ ؕ اِنَّمَاۤ اَنۡتَ نَذِیۡرٌ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ وَّکِیۡلٌ ؕ
(হে নবী!) তবে কি তোমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হচ্ছে তার কিছু অংশ ছেড়ে দিবে? এবং তারা যে বলে, তার (অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) প্রতি কোনও ধন-ভান্ডার অবতীর্ণ হল না কেন কিংবা তার সাথে কোনও ফেরেশতা আসল না কেন? এ কারণে সম্ভবত তোমার অন্তর সঙ্কুচিত হচ্ছে। তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র! আল্লাহ তাআলাই প্রতিটি বিষয়ে পরিপূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।
اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ؕ قُلۡ فَاۡتُوۡا بِعَشۡرِ سُوَرٍ مِّثۡلِہٖ مُفۡتَرَیٰتٍ وَّادۡعُوۡا مَنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তবে কি তারা বলে, সে (নবী) নিজের পক্ষ থেকে এই ওহী রচনা করেছে? (হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, তাহলে তোমরাও এর মত দশটি স্বরচিত সূরা এনে উপস্থিত কর এবং (এ কাজে সাহায্যের জন্য) আল্লাহ ছাড়া যাকে ডাকতে পার ডেকে নাও- যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
فَاِلَّمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَکُمۡ فَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَاۤ اُنۡزِلَ بِعِلۡمِ اللّٰہِ وَاَنۡ لَّاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ
এরপরও যদি তারা তোমার কথা গ্রহণ না করে তবে (হে মানুষ!) জেনে রেখ এ ওহী কেবল আল্লাহর ইলম হতে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই। সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?
مَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا وَزِیۡنَتَہَا نُوَفِّ اِلَیۡہِمۡ اَعۡمَالَہُمۡ فِیۡہَا وَہُمۡ فِیۡہَا لَا یُبۡخَسُوۡنَ
যারা (কেবল) পার্থিব জীবন ও তার ঠাটবাট চায়, আমি তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ ফল এ দুনিয়ায়ই ভোগ করতে দেব এবং এখানে তাদের প্রাপ্য কিছু কম দেওয়া হবে না।
اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَیۡسَ لَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ اِلَّا النَّارُ ۫ۖ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوۡا فِیۡہَا وَبٰطِلٌ مَّا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
এরাই তারা, যাদের জন্য আখেরাতে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই নেই এবং যা-কিছু কাজকর্ম তারা করেছিল, আখেরাতে তা নিষ্ফল হয়ে যাবে আর তারা যে আমল করছে (আখেরাতের হিসেবে) তা না করারই মত।
اَفَمَنۡ کَانَ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّہٖ وَیَتۡلُوۡہُ شَاہِدٌ مِّنۡہُ وَمِنۡ قَبۡلِہٖ کِتٰبُ مُوۡسٰۤی اِمَامًا وَّرَحۡمَۃً ؕ اُولٰٓئِکَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ ؕ وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِہٖ مِنَ الۡاَحۡزَابِ فَالنَّارُ مَوۡعِدُہٗ ۚ فَلَا تَکُ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡہُ ٭ اِنَّہُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ
আচ্ছা বল তো, সেই ব্যক্তি (তাদের মত কী করে হতে পারে) যে নিজ প্রতিপালকের পক্ষ হতে আগত উজ্জ্বল হিদায়াত (অর্থাৎ কুরআন)-এর উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, যার সত্যতার এক প্রমাণ খোদ তার মধ্যেই তার অনুগামী হয়েছে এবং তার পূর্বে মূসার কিতাবও (তার সত্যতার প্রমাণ বহন করে), যা মানুষের জন্য অনুসরণীয় ও রহমতস্বরূপ ছিল। এরূপ লোক এর (অর্থাৎ কুরআনের) প্রতি ঈমান রাখে। আর ওইসব দলের মধ্যে যে ব্যক্তি একে অস্বীকার করে, জাহান্নামই তার নির্ধারিত স্থান। সুতরাং এর (অর্থাৎ কুরআনের) ব্যাপারে কোনও সন্দেহে পতিত হয়ো না। নিশ্চয়ই এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে আগত সত্য। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।
وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا ؕ اُولٰٓئِکَ یُعۡرَضُوۡنَ عَلٰی رَبِّہِمۡ وَیَقُوۡلُ الۡاَشۡہَادُ ہٰۤؤُلَآءِ الَّذِیۡنَ کَذَبُوۡا عَلٰی رَبِّہِمۡ ۚ اَلَا لَعۡنَۃُ اللّٰہِ عَلَی الظّٰلِمِیۡنَ ۙ
সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়? এরূপ লোকদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষ্যদাতাগণ বলবে, এরাই তারা, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি মিথ্যা আরোপ করত। সকলে শুনে নিক, ওই জালেমদের উপর আল্লাহর লানত-
الَّذِیۡنَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَیَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا ؕ وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ کٰفِرُوۡنَ
যারা আল্লাহর পথ থেকে অন্যদেরকে নিবৃত্ত রাখত ও তাতে বক্রতা তালাশ করত আর আখেরাতকে তারা বিলকুল অস্বীকার করত।
اُولٰٓئِکَ لَمۡ یَکُوۡنُوۡا مُعۡجِزِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا کَانَ لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ ۘ یُضٰعَفُ لَہُمُ الۡعَذَابُ ؕ مَا کَانُوۡا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ السَّمۡعَ وَمَا کَانُوۡا یُبۡصِرُوۡنَ
এরূপ লোক পৃথিবীতে কোথাও আল্লাহ হতে নিজেদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে না এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কোনও বন্ধু ও সাহায্যকারী লাভ হতে পারে না। তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হবে। তারা (ঘৃণা ও বিদ্বেষের কারণে সত্য কথা) শুনতে পারত না এবং তারা (সত্য) দেখতেও পারত না।
اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ
তারাই সেই সব লোক, যারা নিজেদের জন্য লোকসানের সওদা করেছিল এবং তারা যে মাবুদ গড়ে নিয়েছিল, তা তাদের থেকে অন্তর্হিত হবে।
لَا جَرَمَ اَنَّہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ہُمُ الۡاَخۡسَرُوۡنَ
নিশ্চয়ই আখেরাতে তারাই সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَاَخۡبَتُوۡۤا اِلٰی رَبِّہِمۡ ۙ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ
(অন্য দিকে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং নিজেদের প্রতিপালকের সামনে বিনীত প্রশান্ত হয়ে গেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।
مَثَلُ الۡفَرِیۡقَیۡنِ کَالۡاَعۡمٰی وَالۡاَصَمِّ وَالۡبَصِیۡرِ وَالسَّمِیۡعِ ؕ ہَلۡ یَسۡتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ٪
এ দল দু’টির উপমা অন্ধ ও বধির এবং চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্নের মত। তুলনায় এরা উভয়ে কি সমান হতে পারে? তথাপি কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖۤ ۫ اِنِّیۡ لَکُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۙ
আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে এই বার্তা দিয়ে পাঠালাম যে, আমি তোমাদের জন্য এ বিষয়ের সুস্পষ্ট সতর্ককারী-
اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ اَلِیۡمٍ
যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে এক মর্মন্তুদ দিবসের শাস্তির ভয় করি।
فَقَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ مَا نَرٰىکَ اِلَّا بَشَرًا مِّثۡلَنَا وَمَا نَرٰىکَ اتَّبَعَکَ اِلَّا الَّذِیۡنَ ہُمۡ اَرَاذِلُنَا بَادِیَ الرَّاۡیِ ۚ وَمَا نَرٰی لَکُمۡ عَلَیۡنَا مِنۡ فَضۡلٍۭ بَلۡ نَظُنُّکُمۡ کٰذِبِیۡنَ
তার সম্প্রদায়ের যেই নেতৃবর্গ কুফর অবলম্বন করেছিল, তারা বলতে লাগল, আমরা তো তোমাকে আমাদের মতই মানুষ দেখছি, এর বেশি কিছু নয়। আমরা আরও দেখছি তোমার অনুসরণ করছে কেবল সেই সব লোক, যারা আমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বহীন এবং তাও ভাসা-ভাসা চিন্তার ভিত্তিতে এবং আমরা তো আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পাচ্ছি না; বরং আমাদের ধারণা তোমরা সকলে মিথ্যাবাদী।
قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَاٰتٰىنِیۡ رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِہٖ فَعُمِّیَتۡ عَلَیۡکُمۡ ؕ اَنُلۡزِمُکُمُوۡہَا وَاَنۡتُمۡ لَہَا کٰرِہُوۡنَ
নূহ বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমাকে একটু বল তো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত এক উজ্জ্বল হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি বিশেষভাবে নিজের পক্ষ থেকে এক রহমত (অর্থাৎ নবুওয়াত) দান করেন কিন্তু তোমাদের তা উপলব্ধিতে না আসে, তবে কি আমি তোমাদের উপর তা জবরদস্তিমূলকভাবে চাপিয়ে দেব, যখন তোমরা তা অপছন্দ কর?
وَیٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡئَلُکُمۡ عَلَیۡہِ مَالًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ اِنَّہُمۡ مُّلٰقُوۡا رَبِّہِمۡ وَلٰکِنِّیۡۤ اَرٰىکُمۡ قَوۡمًا تَجۡہَلُوۡنَ
এবং হে আমার সম্প্রদায়! আমি এর (অর্থাৎ এই তাবলীগের) বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনও সম্পদ চাই না। আমার পারিশ্রমিকের দায়িত্ব আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপর নয়। যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমি তাড়িয়ে দিতে পারি না। নিশ্চয়ই তারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাত করবে। কিন্তু আমি তো দেখছি তোমরা অজ্ঞতাসুলভ কথা বলছ।
وَیٰقَوۡمِ مَنۡ یَّنۡصُرُنِیۡ مِنَ اللّٰہِ اِنۡ طَرَدۡتُّہُمۡ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ
এবং হে আমার সম্প্রদায়! আমি যদি তাদেরকে তাড়িয়ে দেই, তবে আমাকে আল্লাহর (ধরা) থেকে কে রক্ষা করবে? তবুও কি তোমরা অনুধ্যান করবে না?
وَلَاۤ اَقُوۡلُ لَکُمۡ عِنۡدِیۡ خَزَآئِنُ اللّٰہِ وَلَاۤ اَعۡلَمُ الۡغَیۡبَ وَلَاۤ اَقُوۡلُ اِنِّیۡ مَلَکٌ وَّلَاۤ اَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ تَزۡدَرِیۡۤ اَعۡیُنُکُمۡ لَنۡ یُّؤۡتِیَہُمُ اللّٰہُ خَیۡرًا ؕ اَللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ ۚۖ اِنِّیۡۤ اِذًا لَّمِنَ الظّٰلِمِیۡنَ
আমি তোমাদেরকে বলছি না যে, আমার হাতে আল্লাহর ধন-ভাণ্ডার আছে, এবং এটাও নয় যে, আমি গায়েব জানি এবং আমি একথাও বলছি না যে, আমি কোনও ফেরেশতা। তোমাদের দৃষ্টিতে যারা হেয়, তাদের সম্পর্কে আমি একথা বলতে পারি না যে, আল্লাহ তাদেরকে কোনও মঙ্গল দান করবেন না। তাদের অন্তরে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহই সর্বাপেক্ষা বেশি জানেন। আমি তাদের সম্পর্কে এরূপ কথা বললে নিশ্চয়ই আমি জালিমদের মধ্যে গণ্য হব।
قَالُوۡا یٰنُوۡحُ قَدۡ جٰدَلۡتَنَا فَاَکۡثَرۡتَ جِدَالَنَا فَاۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ
তারা বলল, হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে হুজ্জত করেছ এবং আমাদের সাথে বড় বেশি হুজ্জত করেছ। এখন তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে তুমি আমাদেরকে যার (অর্থাৎ যে শাস্তির) হুমকি দিচ্ছ, তা হাজির কর।
قَالَ اِنَّمَا یَاۡتِیۡکُمۡ بِہِ اللّٰہُ اِنۡ شَآءَ وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ
নূহ বলল, তা তো আল্লাহই হাজির করবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন। আর তোমরা তাকে অক্ষম করতে পারবে না।
وَلَا یَنۡفَعُکُمۡ نُصۡحِیۡۤ اِنۡ اَرَدۡتُّ اَنۡ اَنۡصَحَ لَکُمۡ اِنۡ کَانَ اللّٰہُ یُرِیۡدُ اَنۡ یُّغۡوِیَکُمۡ ؕ ہُوَ رَبُّکُمۡ ۟ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ؕ
আমি তোমাদের কল্যাণ কামনা করতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের কোনও কাজে আসতে পারে না, যদি (তোমাদের জেদ ও হঠকারিতার কারণে) আল্লাহই তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চান। তিনিই তোমাদের প্রতিপালক এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىہُ ؕ قُلۡ اِنِ افۡتَرَیۡتُہٗ فَعَلَیَّ اِجۡرَامِیۡ وَاَنَا بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُجۡرِمُوۡنَ ٪
আচ্ছা তারা (অর্থাৎ আরবের এসব কাফের) বলে না কি যে, সে (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কুরআন নিজের পক্ষ থেকে রচনা করেছে? (হে নবী!) বলে দাও, আমি এটা রচনা করে থাকলে আমার অপরাধের দায় আমার নিজের উপরই বর্তাবে। আর তোমরা যে অপরাধ করছ আমি সে জন্য দায়ী নই।
وَاُوۡحِیَ اِلٰی نُوۡحٍ اَنَّہٗ لَنۡ یُّؤۡمِنَ مِنۡ قَوۡمِکَ اِلَّا مَنۡ قَدۡ اٰمَنَ فَلَا تَبۡتَئِسۡ بِمَا کَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ ۚۖ
এবং নূহের কাছে ওহী পাঠানো হল যে, এ পর্যন্ত তোমার সম্প্রদায়ের যে সকল লোক ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউ ঈমান আনবে না। সুতরাং তারা যা-কিছু করছে সে জন্য তুমি দুঃখ করো না।
وَاصۡنَعِ الۡفُلۡکَ بِاَعۡیُنِنَا وَوَحۡیِنَا وَلَا تُخَاطِبۡنِیۡ فِی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ۚ اِنَّہُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ
এবং আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহীর সাহায্যে তুমি নৌকা তৈরি কর। আর যারা জালেম হয়ে গেছে তাদের সম্পর্কে তুমি আমার সঙ্গে কোন কথা বলো না। এবার তারা অবশ্যই নিমজ্জিত হবে।
وَیَصۡنَعُ الۡفُلۡکَ ۟ وَکُلَّمَا مَرَّ عَلَیۡہِ مَلَاٌ مِّنۡ قَوۡمِہٖ سَخِرُوۡا مِنۡہُ ؕ قَالَ اِنۡ تَسۡخَرُوۡا مِنَّا فَاِنَّا نَسۡخَرُ مِنۡکُمۡ کَمَا تَسۡخَرُوۡنَ ؕ
সুতরাং তিনি নৌকা বানাতে শুরু করলেন। যখনই তার সম্প্রদায়ের কতক সর্দার তাঁর কাছ দিয়ে যেত, তখন তারা তাকে নিয়ে উপহাস করত। নূহ বলল, তোমরা যদি আমাকে নিয়ে উপহাস কর, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ, তেমনি আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করছি।
فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ مَنۡ یَّاۡتِیۡہِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡہِ وَیَحِلُّ عَلَیۡہِ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ
এবং শীঘ্রই তোমরা টের পাবে কার উপর এমন শাস্তি আপতিত হয়, যা তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়বে এবং কার উপর অবতীর্ণ হয় স্থায়ী শাস্তি।
حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَفَارَ التَّنُّوۡرُ ۙ قُلۡنَا احۡمِلۡ فِیۡہَا مِنۡ کُلٍّ زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ وَاَہۡلَکَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَیۡہِ الۡقَوۡلُ وَمَنۡ اٰمَنَ ؕ وَمَاۤ اٰمَنَ مَعَہٗۤ اِلَّا قَلِیۡلٌ
পরিশেষে যখন আমার হুকুম এসে গেল এবং তান্নূর উথলে উঠল, তখন আমি (নূহকে) বললাম, ওই নৌকায় প্রত্যেক প্রকার প্রাণী হতে দু’টি করে যুগল তুলে লও এবং তোমার পরিবারবর্গকেও, তবে তাদের মধ্যে যাদের সম্পর্কে পূর্বে বলা হয়েছে (যে, তারা কুফরীর কারণে নিমজ্জিত হবে) তারা ব্যতীত এবং (তুলে নাও) যারা ঈমান এনেছে তাদেরকেও। বস্তুত অল্প সংখ্যক লোকই তার সঙ্গে ঈমান এনেছিল।
وَقَالَ ارۡکَبُوۡا فِیۡہَا بِسۡمِ اللّٰہِ مَجۡؔرٖىہَا وَمُرۡسٰىہَا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
নূহ (তাদের সকলকে) বলল, তোমরা এ নৌকায় আরোহণ কর। এর চলাও আল্লাহর নামে এবং নোঙ্গর করাও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَہِیَ تَجۡرِیۡ بِہِمۡ فِیۡ مَوۡجٍ کَالۡجِبَالِ ۟ وَنَادٰی نُوۡحُۨ ابۡنَہٗ وَکَانَ فِیۡ مَعۡزِلٍ یّٰـبُنَیَّ ارۡکَبۡ مَّعَنَا وَلَا تَکُنۡ مَّعَ الۡکٰفِرِیۡنَ
সে নৌকা পর্বত-প্রমাণ তরঙ্গরাশির মধ্যে তাদের নিয়ে বয়ে চলছিল। নূহ তার যে পুত্র সকলের থেকে পৃথক ছিল, তাকে ডেকে বলল, বাছা! আমাদের সাথে আরোহণ কর এবং কাফেরদের সাথে থেক না।
قَالَ سَاٰوِیۡۤ اِلٰی جَبَلٍ یَّعۡصِمُنِیۡ مِنَ الۡمَآءِ ؕ قَالَ لَا عَاصِمَ الۡیَوۡمَ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰہِ اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ ۚ وَحَالَ بَیۡنَہُمَا الۡمَوۡجُ فَکَانَ مِنَ الۡمُغۡرَقِیۡنَ
সে বলল, আমি এখনই এমন এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। নূহ বলল, আজ আল্লাহর হুকুম থেকে কাউকে রক্ষা করার কেউ নেই, কেবল সেই ছাড়া যার প্রতি আল্লাহ দয়া করবেন। অতঃপর ঢেউ তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিল এবং সেও নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হল।
وَقِیۡلَ یٰۤاَرۡضُ ابۡلَعِیۡ مَآءَکِ وَیٰسَمَآءُ اَقۡلِعِیۡ وَغِیۡضَ الۡمَآءُ وَقُضِیَ الۡاَمۡرُ وَاسۡتَوَتۡ عَلَی الۡجُوۡدِیِّ وَقِیۡلَ بُعۡدًا لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ
এবং হুকুম দেওয়া হল, হে ভূমি! তুমি নিজ পানি গ্রাস করে নাও এবং হে আকাশ! তুমি ক্ষান্ত হও। সুতরাং পানি নেমে গেল এবং বিষয়টি চুকিয়ে দেওয়া হল। আর নৌকা জুদী পাহাড়ে এসে থেমে গেল এবং বলে দেওয়া হল, ধ্বংস সেই সম্প্রদায়ের জন্য, যারা জালিম!
وَنَادٰی نُوۡحٌ رَّبَّہٗ فَقَالَ رَبِّ اِنَّ ابۡنِیۡ مِنۡ اَہۡلِیۡ وَاِنَّ وَعۡدَکَ الۡحَقُّ وَاَنۡتَ اَحۡکَمُ الۡحٰکِمِیۡنَ
নূহ তার প্রতিপালককে ডাক দিয়ে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র তো আমার পরিবারেরই একজন! এবং নিশ্চয়ই তোমার ওয়াদা সত্য এবং তুমি সকল বিচারকের শ্রেষ্ঠ বিচারক!
قَالَ یٰنُوۡحُ اِنَّہٗ لَیۡسَ مِنۡ اَہۡلِکَ ۚ اِنَّہٗ عَمَلٌ غَیۡرُ صَالِحٍ ٭۫ۖ فَلَا تَسۡـَٔلۡنِ مَا لَـیۡسَ لَکَ بِہٖ عِلۡمٌ ؕ اِنِّیۡۤ اَعِظُکَ اَنۡ تَکُوۡنَ مِنَ الۡجٰہِلِیۡنَ
আল্লাহ বললেন, হে নূহ! জেনে রেখ, সে তোমার পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়। সে তো অসৎ কর্মে কলুষিত। সুতরাং তুমি আমার কাছে এমন কিছু চেও না, যে সম্পর্কে তোমার কোনও জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
قَالَ رَبِّ اِنِّیۡۤ اَعُوۡذُ بِکَ اَنۡ اَسۡـَٔلَکَ مَا لَـیۡسَ لِیۡ بِہٖ عِلۡمٌ ؕ وَاِلَّا تَغۡفِرۡ لِیۡ وَتَرۡحَمۡنِیۡۤ اَکُنۡ مِّنَ الۡخٰسِرِیۡنَ
নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, ভবিষ্যতে আপনার কাছে তা চাওয়া হতে আমি আপনার আশ্রয় চাই। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন ও আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
قِیۡلَ یٰنُوۡحُ اہۡبِطۡ بِسَلٰمٍ مِّنَّا وَبَرَکٰتٍ عَلَیۡکَ وَعَلٰۤی اُمَمٍ مِّمَّنۡ مَّعَکَ ؕ وَاُمَمٌ سَنُمَتِّعُہُمۡ ثُمَّ یَمَسُّہُمۡ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
বলা হল, হে নূহ! এবার (নৌকা থেকে) নেমে যাও আমার পক্ষ হতে সেই শান্তি ও বরকতসহ, যা তোমার জন্যও এবং তোমার সঙ্গে যে ‘সম্প্রদায়সমূহ’ আছে তাদের জন্যও। আর কিছু সম্প্রদায় এমন রয়েছে, যাদেরকে আমি (দুনিয়ায়) জীবন উপভোগ করতে দেব, তারপর আমার পক্ষ হতে তাদেরকে এক যন্ত্রণাময় শাস্তি স্পর্শ করবে।
تِلۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡغَیۡبِ نُوۡحِیۡہَاۤ اِلَیۡکَ ۚ مَا کُنۡتَ تَعۡلَمُہَاۤ اَنۡتَ وَلَا قَوۡمُکَ مِنۡ قَبۡلِ ہٰذَا ؕۛ فَاصۡبِرۡ ؕۛ اِنَّ الۡعَاقِبَۃَ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ٪
(হে নবী!) এগুলো গায়েবের কিছু বৃত্তান্ত, যা আমি ওহীর মাধ্যমে তোমাকে জানাচ্ছি। এসব বৃত্তান্ত তুমিও ইতঃপূর্বে জানতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও না। সুতরাং ধৈর্য ধারণ কর। শেষ পরিণাম মুত্তাকীদেরই অনুকূলে থাকবে।
وَاِلٰی عَادٍ اَخَاہُمۡ ہُوۡدًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا مُفۡتَرُوۡنَ
আর আদ জাতির কাছে আমি তাদের ভাই হুদকে নবী বানিয়ে পাঠালাম। সে বলল, হে আমার কওম! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনও মাবুদ নেই। প্রকৃতপক্ষে তোমরা মিথ্যা রচনাকারী বৈ নও।
یٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ
হে আমার কওম! আমি এর (অর্থাৎ এই প্রচার কার্যের) বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনও পারিশ্রমিক চাই না। আমার পারিতোষিক তো অন্য কেউ নয়; বরং সেই সত্তাই নিজ দায়িত্বে রেখেছেন, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তারপরও কি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে না?
وَیٰقَوۡمِ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡہِ یُرۡسِلِ السَّمَآءَ عَلَیۡکُمۡ مِّدۡرَارًا وَّیَزِدۡکُمۡ قُوَّۃً اِلٰی قُوَّتِکُمۡ وَلَا تَتَوَلَّوۡا مُجۡرِمِیۡنَ
হে আমার কওম! নিজেদের প্রতিপালকের কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তারই দিকে রুজু হও। তিনি তোমাদের প্রতি আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের বর্তমান শক্তির সাথে বাড়তি আরও শক্তি যোগাবেন। সুতরাং তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না।
قَالُوۡا یٰہُوۡدُ مَا جِئۡتَنَا بِبَیِّنَۃٍ وَّمَا نَحۡنُ بِتَارِکِیۡۤ اٰلِہَتِنَا عَنۡ قَوۡلِکَ وَمَا نَحۡنُ لَکَ بِمُؤۡمِنِیۡنَ
তারা বলল, হে হুদ! তুমি আমাদের কাছে কোনও উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে আসনি এবং আমরা কেবল তোমার কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করবার নই এবং আমরা তোমার কথায় ঈমানও আনতে পারি না।
اِنۡ نَّقُوۡلُ اِلَّا اعۡتَرٰىکَ بَعۡضُ اٰلِہَتِنَا بِسُوۡٓءٍ ؕ قَالَ اِنِّیۡۤ اُشۡہِدُ اللّٰہَ وَاشۡہَدُوۡۤا اَنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُشۡرِکُوۡنَ ۙ
আমরা তো এ ছাড়া আর কিছুই বলতে পারি না যে, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে কেউ তোমাকে অমঙ্গলে আক্রান্ত করেছে। হুদ বলল, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাক যে, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই-
مِنۡ دُوۡنِہٖ فَکِیۡدُوۡنِیۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ لَا تُنۡظِرُوۡنِ
আল্লাহ ছাড়া। সুতরাং তোমরা সকলে মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আঁট এবং আমাকে একটুও অবকাশ দিও না।
اِنِّیۡ تَوَکَّلۡتُ عَلَی اللّٰہِ رَبِّیۡ وَرَبِّکُمۡ ؕ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ اِلَّا ہُوَ اٰخِذٌۢ بِنَاصِیَتِہَا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ
আমি তো আল্লাহর উপর ভরসা করেছি, যিনি আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। ভূমিতে বিচরণকারী এমন কোনও প্রাণী নেই, যার ঝুঁটি তাঁর মুঠোয় নয়। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সরল পথে রয়েছেন।
فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَقَدۡ اَبۡلَغۡتُکُمۡ مَّاۤ اُرۡسِلۡتُ بِہٖۤ اِلَیۡکُمۡ ؕ وَیَسۡتَخۡلِفُ رَبِّیۡ قَوۡمًا غَیۡرَکُمۡ ۚ وَلَا تَضُرُّوۡنَہٗ شَیۡئًا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ حَفِیۡظٌ
তথাপি যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমাকে যে বার্তা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল আমি তো তা পৌঁছিয়ে দিয়েছি। আর আমার প্রতিপালক (তোমাদের কুফরের কারণে) তোমাদের স্থানে অন্য কোনও সম্প্রদায়কে স্থাপিত করবেন। তখন তোমরা তার কিছু ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সবকিছু রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
وَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا ہُوۡدًا وَّالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا ۚ وَنَجَّیۡنٰہُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ غَلِیۡظٍ
(পরিশেষে) যখন আমার হুকুম এসে গেল, তখন আমি নিজ রহমতে হুদকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে বাঁচালাম এবং তাদেরকে রক্ষা করলাম এক কঠিন শাস্তি হতে।
وَتِلۡکَ عَادٌ ۟ۙ جَحَدُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ وَعَصَوۡا رُسُلَہٗ وَاتَّبَعُوۡۤا اَمۡرَ کُلِّ جَبَّارٍ عَنِیۡدٍ
এই ছিল আদ জাতি, যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী অস্বীকার করেছিল, তাঁর রাসূলগণের অবাধ্যতা করেছিল এবং এমন সব ব্যক্তির আনুগত্য করেছিল, যারা ছিল চরম স্পর্ধিত ও সত্যের ঘোর দুশমন।
وَاُتۡبِعُوۡا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا لَعۡنَۃً وَّیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ عَادًا کَفَرُوۡا رَبَّہُمۡ ؕ اَلَا بُعۡدًا لِّعَادٍ قَوۡمِ ہُوۡدٍ ٪
আর (এর ফল হল এই যে,) এ দুনিয়ায়ও অভিসম্পাতকে তাদের অনুগামী করে দেওয়া হল এবং কিয়ামত দিবসেও। স্মরণ রেখ, আদ জাতি নিজ প্রতিপালকের সঙ্গে কুফরীর আচরণ করেছিল। স্মরণ রেখ, আদ জাতিই ধ্বংস হয়েছে, যা ছিল হুদের সম্প্রদায়।
وَاِلٰی ثَمُوۡدَ اَخَاہُمۡ صٰلِحًا ۘ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ ہُوَ اَنۡشَاَکُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ وَاسۡتَعۡمَرَکُمۡ فِیۡہَا فَاسۡتَغۡفِرُوۡہُ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡہِ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ قَرِیۡبٌ مُّجِیۡبٌ
এবং ছামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহকে নবী করে পাঠালাম। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তিনিই তোমাদেরকে ভূমি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদেরকে বসবাস করিয়েছেন। সুতরাং তাঁর কাছে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর তারপর তাঁর অভিমুখী হও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক (তোমাদের) নিকটবর্তী ও দু‘আ কবুলকারীও।
قَالُوۡا یٰصٰلِحُ قَدۡ کُنۡتَ فِیۡنَا مَرۡجُوًّا قَبۡلَ ہٰذَاۤ اَتَنۡہٰنَاۤ اَنۡ نَّعۡبُدَ مَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَا وَاِنَّنَا لَفِیۡ شَکٍّ مِّمَّا تَدۡعُوۡنَاۤ اِلَیۡہِ مُرِیۡبٍ
তারা বলল, হে সালিহ! ইতঃপূর্বে তুমি আমাদের মধ্যে এমন ছিলে যে, তোমাকে নিয়ে অনেক আশা ছিল। আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের (অর্থাৎ যে সকল প্রতিমার) উপাসনা করত, তুমি আমাদেরকে তাদের উপাসনা করতে নিষেধ করছ? তুমি যে বিষয়ের দিকে ডাকছ, তাতে আমাদের এতটা সন্দেহ রয়েছে যে, তা আমাদেরকে অস্থিরতার ভেতর ফেলে দিয়েছে।
قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَاٰتٰىنِیۡ مِنۡہُ رَحۡمَۃً فَمَنۡ یَّنۡصُرُنِیۡ مِنَ اللّٰہِ اِنۡ عَصَیۡتُہٗ ۟ فَمَا تَزِیۡدُوۡنَنِیۡ غَیۡرَ تَخۡسِیۡرٍ
সালিহ বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল তো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত এক উজ্জ্বল হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি বিশেষভাবে তাঁর নিজের কাছ থেকে আমাকে এক রহমত (অর্থাৎ নবুওয়াত) দান করে থাকেন, আর তারপরও আমি তার নাফরমানী করি, তবে এমন কে আছে, যে আমাকে তাঁর (শাস্তি) থেকে রক্ষা করবে? সুতরাং তোমরা (আমার কর্তব্য কাজে বাধা দিয়ে) ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়া আমাকে আর কী দিচ্ছ?
وَیٰقَوۡمِ ہٰذِہٖ نَاقَۃُ اللّٰہِ لَکُمۡ اٰیَۃً فَذَرُوۡہَا تَاۡکُلۡ فِیۡۤ اَرۡضِ اللّٰہِ وَلَا تَمَسُّوۡہَا بِسُوۡٓءٍ فَیَاۡخُذَکُمۡ عَذَابٌ قَرِیۡبٌ
এবং হে আমার সম্প্রদায়! এটা আল্লাহর এক উটনী, তোমাদের জন্য একটি নিদর্শনরূপে এসেছে। সুতরাং এটিকে আল্লাহর ভূমিতে স্বাধীনভাবে চরে খেতে দাও। একে অসুদদ্দেশ্যে স্পর্শও করবে না, পাছে আশু শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করে।
فَعَقَرُوۡہَا فَقَالَ تَمَتَّعُوۡا فِیۡ دَارِکُمۡ ثَلٰثَۃَ اَیَّامٍ ؕ ذٰلِکَ وَعۡدٌ غَیۡرُ مَکۡذُوۡبٍ
অতঃপর ঘটল এই যে, তারা সেটিকে মেরে ফেলল। সুতরাং সালিহ তাদেরকে বলল, তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িতে তিন দিন ফূর্তি করে নাও (তারপর শাস্তি আসবে আর) এটা এমন এক প্রতিশ্রুতি, যাকে কেউ মিথ্যা বানাতে পারবে না।
فَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا صٰلِحًا وَّالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا وَمِنۡ خِزۡیِ یَوۡمِئِذٍ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ الۡقَوِیُّ الۡعَزِیۡزُ
অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে গেল, তখন আমি সালিহকে এবং তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার বিশেষ রহমতে রক্ষা করলাম এবং সে দিনের লাঞ্ছনা থেকে বাঁচালাম। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক অত্যন্ত শক্তিশালী, সর্বময় ক্ষমতার মালিক।
وَاَخَذَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الصَّیۡحَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دِیَارِہِمۡ جٰثِمِیۡنَ ۙ
আর যারা জুলুমের পথ অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে আঘাত হানল মহা গর্জন। ফলে তারা তাদের ঘর-বাড়িতে এভাবে অধঃমুখে পড়ে থাকল
کَاَنۡ لَّمۡ یَغۡنَوۡا فِیۡہَا ؕ اَلَاۤ اِنَّ ثَمُوۡدَا۠ کَفَرُوۡا رَبَّہُمۡ ؕ اَلَا بُعۡدًا لِّثَمُوۡدَ ٪
যেন তারা কখনও সেখানে বসবাসই করেনি। স্মরণ রেখ, ছামুদ জাতি নিজ প্রতিপালকের সঙ্গে কুফরীর আরচরণ করেছিল। স্মরণ রেখ, ছামুদ জাতিই ধ্বংস হয়েছিল।
وَلَقَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ بِالۡبُشۡرٰی قَالُوۡا سَلٰمًا ؕ قَالَ سَلٰمٌ فَمَا لَبِثَ اَنۡ جَآءَ بِعِجۡلٍ حَنِیۡذٍ
আর আমার ফিরিশতাগণ (মানুষের বেশে) ইবরাহীমের কাছে সুসংবাদ নিয়ে আসল (যে, তার পুত্র সন্তান জন্ম নেবে)। তারা সালাম বলল। ইবরাহীমও সালাম বলল। অতঃপর সে অবিলম্বে (তাদের আতিথেয়তার জন্য) একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে আসল।
فَلَمَّا رَاٰۤ اَیۡدِیَہُمۡ لَا تَصِلُ اِلَیۡہِ نَکِرَہُمۡ وَاَوۡجَسَ مِنۡہُمۡ خِیۡفَۃً ؕ قَالُوۡا لَا تَخَفۡ اِنَّاۤ اُرۡسِلۡنَاۤ اِلٰی قَوۡمِ لُوۡطٍ ؕ
কিন্তু যখন দেখল তাদের হাত সে দিকে (অর্থাৎ বাছুরের দিকে) বাড়ছে না, তখন তাদের ব্যাপারে তার খটকা লাগল এবং তাদের দিক থেকে অন্তরে শঙ্কা বোধ করল। ফিরিশতাগণ বলল, ভয় করবেন না। আমাদেরকে পাঠানো হয়েছে (আপনাকে পুত্র সন্তান জন্মের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য এবং পাঠানো হয়েছে) লূতের সম্প্রদায়ের কাছে।
وَامۡرَاَتُہٗ قَآئِمَۃٌ فَضَحِکَتۡ فَبَشَّرۡنٰہَا بِاِسۡحٰقَ ۙ وَمِنۡ وَّرَآءِ اِسۡحٰقَ یَعۡقُوۡبَ
আর ইবরাহীমের স্ত্রী দাঁড়ানো ছিল। সে হেসে দিল। আমি তাকে (পুনরায়) ইসহাকের এবং ইসহাকের পর ইয়াকূবের জন্মের সুসংবাদ দিলাম।
قَالَتۡ یٰوَیۡلَتٰۤیءَ اَلِدُ وَاَنَا عَجُوۡزٌ وَّہٰذَا بَعۡلِیۡ شَیۡخًا ؕ اِنَّ ہٰذَا لَشَیۡءٌ عَجِیۡبٌ
সে বলতে লাগল, হায়! আমি এ অবস্থায় সন্তান জন্মাব, যখন আমি বৃদ্ধা এবং এই আমার স্বামী, যে নিজেও বার্ধক্যে উপনীত? বাস্তবিকই এটা বড় আশ্চর্য ব্যাপার।
قَالُوۡۤا اَتَعۡجَبِیۡنَ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰہِ رَحۡمَتُ اللّٰہِ وَبَرَکٰتُہٗ عَلَیۡکُمۡ اَہۡلَ الۡبَیۡتِ ؕ اِنَّہٗ حَمِیۡدٌ مَّجِیۡدٌ
ফেরেশতাগণ বলল, আপনি কি আল্লাহর হুকুম সম্বন্ধে বিস্ময়বোধ করছেন? আপনাদের মত সম্মানিত পরিবারবর্গের উপর রয়েছে আল্লাহর রহমত ও প্রভূত বরকত। নিশ্চয়ই তিনি সর্বময় প্রশংসার হকদার, অতি মর্যাদাবান।
فَلَمَّا ذَہَبَ عَنۡ اِبۡرٰہِیۡمَ الرَّوۡعُ وَجَآءَتۡہُ الۡبُشۡرٰی یُجَادِلُنَا فِیۡ قَوۡمِ لُوۡطٍ ؕ
অতঃপর যখন ইবরাহীমের ভীতি দূর হল এবং সে সুসংবাদ লাভ করল, তখন সে লূতের সম্প্রদায় সম্পর্কে আমার সঙ্গে (আবদারের ভঙ্গিতে) ঝগড়া শুরু করে দিল।
اِنَّ اِبۡرٰہِیۡمَ لَحَلِیۡمٌ اَوَّاہٌ مُّنِیۡبٌ
বস্তুত ইবরাহীম অত্যন্ত সহনশীল, (আল্লাহর স্মরণে) অত্যধিক আহ্-উহ্কারী (এবং) সর্বদা আমার প্রতি অভিনিবিষ্ট ছিল।
یٰۤـاِبۡرٰہِیۡمُ اَعۡرِضۡ عَنۡ ہٰذَا ۚ اِنَّہٗ قَدۡ جَآءَ اَمۡرُ رَبِّکَ ۚ وَاِنَّہُمۡ اٰتِیۡہِمۡ عَذَابٌ غَیۡرُ مَرۡدُوۡدٍ
(আমি তাকে বললাম), হে ইবরাহীম! এ বিষয়টা যেতে দাও। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের হুকুম এসে পড়েছে এবং তাদের উপর এমন শাস্তি আসবেই, যা কেউ প্রতিহত করতে পারবে না।
وَلَمَّا جَآءَتۡ رُسُلُنَا لُوۡطًا سِیۡٓءَ بِہِمۡ وَضَاقَ بِہِمۡ ذَرۡعًا وَّقَالَ ہٰذَا یَوۡمٌ عَصِیۡبٌ
যখন আমার ফিরিশতাগণ লূতের কাছে পৌঁছল, সে তাদের কারণে ঘাবড়ে গেল, তার অন্তরে উদ্বেগ দেখা দিল এবং সে বলতে লাগল, আজকের এ দিনটি বড় কঠিন।
وَجَآءَہٗ قَوۡمُہٗ یُہۡرَعُوۡنَ اِلَیۡہِ ؕ وَمِنۡ قَبۡلُ کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ السَّیِّاٰتِ ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ ہٰۤؤُلَآءِ بَنَاتِیۡ ہُنَّ اَطۡہَرُ لَکُمۡ فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَلَا تُخۡزُوۡنِ فِیۡ ضَیۡفِیۡ ؕ اَلَـیۡسَ مِنۡکُمۡ رَجُلٌ رَّشِیۡدٌ
তার সম্প্রদায়ের লোক তার দিকে ছুটে আসল। তারা পূর্ব থেকেই কুকর্মে লিপ্ত ছিল। লূত বলল, হে আমার সম্প্রদায়! এই আমার কন্যাগণ উপস্থিত রয়েছে। এরা তোমাদের পক্ষে ঢের পবিত্র! সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে তোমরা আমাকে হেয় করো না। তোমাদের মধ্যে কি একজনও ভালো লোক নেই?
قَالُوۡا لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَا لَنَا فِیۡ بَنٰتِکَ مِنۡ حَقٍّ ۚ وَاِنَّکَ لَتَعۡلَمُ مَا نُرِیۡدُ
তারা বলল, তোমার জানা আছে তোমার কন্যাদের প্রতি আমাদের কোন আগ্রহ নেই। তুমি ভালো করেই জান আমরা কী চাই।
قَالَ لَوۡ اَنَّ لِیۡ بِکُمۡ قُوَّۃً اَوۡ اٰوِیۡۤ اِلٰی رُکۡنٍ شَدِیۡدٍ
লূত বলল, হায়! তোমাদের মুকাবেলা করার কোন শক্তি যদি আমার থাকত অথবা আমি যদি গ্রহণ করতে পারতাম কোন শক্তিশালী আশ্রয়!
قَالُوۡا یٰلُوۡطُ اِنَّا رُسُلُ رَبِّکَ لَنۡ یَّصِلُوۡۤا اِلَیۡکَ فَاَسۡرِ بِاَہۡلِکَ بِقِطۡعٍ مِّنَ الَّیۡلِ وَلَا یَلۡتَفِتۡ مِنۡکُمۡ اَحَدٌ اِلَّا امۡرَاَتَکَ ؕ اِنَّہٗ مُصِیۡبُہَا مَاۤ اَصَابَہُمۡ ؕ اِنَّ مَوۡعِدَہُمُ الصُّبۡحُ ؕ اَلَـیۡسَ الصُّبۡحُ بِقَرِیۡبٍ
(অবশেষে) ফিরিশতাগণ (লুতকে) বলল, আমরা আপনার প্রতিপালকের প্রেরিত ফিরিশতা। তারা কিছুতেই আপনার পর্যন্ত পৌঁছুতে পারবে না। আপনি রাতের কোন অংশে আপনার পরিবারবর্গ নিয়ে জনপদ থেকে বের হয়ে পড়ুন। আপনাদের মধ্য হতে কেউ যেন পেছনে ফিরেও না তাকায়, তবে আপনার স্ত্রী ছাড়া (সে আপনাদের সাথে যাবে না)। তার উপরও সেই বিপদ আসবে, যা অন্যদের উপর আসছে। নিশ্চয়ই, তাদের (উপর শাস্তি নাযিলের) জন্য প্রভাতকাল স্থিরীকৃত। প্রভাতকাল কি খুব কাছে নয়?
فَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا جَعَلۡنَا عَالِیَہَا سَافِلَہَا وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہَا حِجَارَۃً مِّنۡ سِجِّیۡلٍ ۬ۙ مَّنۡضُوۡدٍ ۙ
অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে গেল, তখন আমি সে জনপদের উপর দিককে নিচের দিকে উল্টিয়ে দিলাম এবং তাদের উপর থাকে থাকে পাকা মাটির পাথর বর্ষণ করলাম-
مُّسَوَّمَۃً عِنۡدَ رَبِّکَ ؕ وَمَا ہِیَ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ بِبَعِیۡدٍ ٪
যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে চিহ্নিত ছিল। সে জনপদ (মক্কার এই) জালেমদের থেকে দূরে নয়।
وَاِلٰی مَدۡیَنَ اَخَاہُمۡ شُعَیۡبًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ وَلَا تَنۡقُصُوا الۡمِکۡیَالَ وَالۡمِیۡزَانَ اِنِّیۡۤ اَرٰىکُمۡ بِخَیۡرٍ وَّاِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ مُّحِیۡطٍ
আর মাদয়ানে তাদের ভাই শুআইবকে নবী করে পাঠাই। সে (তাদেরকে) বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই এবং ওজন ও পরিমাপে কম দিও না। আমি তোমাদেরকে সমৃদ্ধশালী দেখছি। আমি তোমাদের প্রতি এমন এক দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি, যা তোমাদেরকে চারও দিক থেকে বেষ্টন করে ফেলবে।
وَیٰقَوۡمِ اَوۡفُوا الۡمِکۡیَالَ وَالۡمِیۡزَانَ بِالۡقِسۡطِ وَلَا تَبۡخَسُوا النَّاسَ اَشۡیَآءَہُمۡ وَلَا تَعۡثَوۡا فِی الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِیۡنَ
হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা পরিমাণ ও ওজন ন্যায়সঙ্গতভাবে পূর্ণ করবে। মানুষকে তাদের দ্রব্যাদি কম দেবে না এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে বেড়াবে না।
بَقِیَّتُ اللّٰہِ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ۬ۚ وَمَاۤ اَنَا عَلَیۡکُمۡ بِحَفِیۡظٍ
তোমরা যদি আমার কথা মান, তবে (মানুষের ন্যায্য হক আদায় করার পর) আল্লাহ-প্রদত্ত যা-কিছু অবশিষ্ট থাকবে, তোমাদের পক্ষে তাই শ্রেয়। আর (যদি না মান, তবে) আমি তোমাদের উপর পাহারাদার নিযুক্ত হইনি।
قَالُوۡا یٰشُعَیۡبُ اَصَلٰوتُکَ تَاۡمُرُکَ اَنۡ نَّتۡرُکَ مَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَاۤ اَوۡ اَنۡ نَّفۡعَلَ فِیۡۤ اَمۡوَالِنَا مَا نَشٰٓؤُا ؕ اِنَّکَ لَاَنۡتَ الۡحَلِیۡمُ الرَّشِیۡدُ
তারা বলল, হে শুআইব! তোমার নামায কি তোমাকে এই আদেশ করছে যে, আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের ইবাদত করত, আমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করব এবং নিজেদের অর্থ-সম্পদে যা ইচ্ছা হয় তা করব না? তুমি তো বড় বুদ্ধিমান ও সদাচারী লোক!
قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَرَزَقَنِیۡ مِنۡہُ رِزۡقًا حَسَنًا ؕ وَمَاۤ اُرِیۡدُ اَنۡ اُخَالِفَکُمۡ اِلٰی مَاۤ اَنۡہٰکُمۡ عَنۡہُ ؕ اِنۡ اُرِیۡدُ اِلَّا الۡاِصۡلَاحَ مَا اسۡتَطَعۡتُ ؕ وَمَا تَوۡفِیۡقِیۡۤ اِلَّا بِاللّٰہِ ؕ عَلَیۡہِ تَوَکَّلۡتُ وَاِلَیۡہِ اُنِیۡبُ
শুআইব বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল তো, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি বিশেষভাবে নিজের পক্ষ থেকে আমাকে উত্তম রিযক দান করে থাকেন (তবে তা সত্ত্বেও আমি তোমাদের ভ্রান্ত পথে কেন চলব?)। আমার এমন কোন ইচ্ছা নেই যে, আমি যে সব বিষয়ে তোমাদেরকে নিষেধ করি, তোমাদের পিছনে গিয়ে নিজেই তা করতে থাকব। নিজ সাধ্যমত সংস্কার করা ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য আমার নেই। আর আমি যা-কিছু করতে পারি, তা কেবল আল্লাহর সাহায্যেই পারি। আমি তারই উপর নির্ভর করেছি এবং তারই দিকে (প্রতিটি বিষয়ে) রুজূ হই।
وَیٰقَوۡمِ لَا یَجۡرِمَنَّکُمۡ شِقَاقِیۡۤ اَنۡ یُّصِیۡبَکُمۡ مِّثۡلُ مَاۤ اَصَابَ قَوۡمَ نُوۡحٍ اَوۡ قَوۡمَ ہُوۡدٍ اَوۡ قَوۡمَ صٰلِحٍ ؕ وَمَا قَوۡمُ لُوۡطٍ مِّنۡکُمۡ بِبَعِیۡدٍ
হে আমার সম্প্রদায়! আমার সাথে তোমাদের বিরোধ যেন তোমাদেরকে এমন পরিণতিতে না পৌঁছায় যে, নূহের সম্প্রদায় বা হুদের সম্প্রদায় কিংবা সালিহের সম্প্রদায়ের উপর যেমন মুসিবত অবতীর্ণ হয়েছিল, তোমাদের উপরও সে রকম মুসিবত অবতীর্ণ হয়ে যায়। আর লূতের সম্প্রদায় তো তোমাদের থেকে বেশি দূরেও নয়।
وَاسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡہِ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ رَحِیۡمٌ وَّدُوۡدٌ
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তারপর তাঁরই দিকে রুজূ হও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক পরম দয়ালু, প্রেমময়।
قَالُوۡا یٰشُعَیۡبُ مَا نَفۡقَہُ کَثِیۡرًا مِّمَّا تَقُوۡلُ وَاِنَّا لَنَرٰىکَ فِیۡنَا ضَعِیۡفًا ۚ وَلَوۡلَا رَہۡطُکَ لَرَجَمۡنٰکَ ۫ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡنَا بِعَزِیۡزٍ
তারা বলল, হে শুআইব! তোমার অনেক কথা আমাদের বুঝেই আসে না। আমরা দেখছি, আমাদের মধ্যে তুমি একজন দুর্বল লোক। তোমার খান্দান না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে ধ্বংস করতাম। আমাদের বিপরীতে তুমি কিছু শক্তিমান নও।
قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَہۡطِیۡۤ اَعَزُّ عَلَیۡکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ ؕ وَاتَّخَذۡتُمُوۡہُ وَرَآءَکُمۡ ظِہۡرِیًّا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ مُحِیۡطٌ
শুআইব বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের উপর কি আল্লাহ অপেক্ষা আমার খান্দানের চাপই বেশি? তোমরা তাঁকে সম্পূর্ণরূপে তোমাদের পিছন দিকে রেখে দিয়েছ? জেনে রেখ, তোমরা যা-কিছু করছ, আমার প্রতিপালক তা সবই পরিপূর্ণরূপে বেষ্টন করে রেখেছেন।
وَیٰقَوۡمِ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَکَانَتِکُمۡ اِنِّیۡ عَامِلٌ ؕ سَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ مَنۡ یَّاۡتِیۡہِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡہِ وَمَنۡ ہُوَ کَاذِبٌ ؕ وَارۡتَقِبُوۡۤا اِنِّیۡ مَعَکُمۡ رَقِیۡبٌ
এবং হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আপন অবস্থায় থেকে (যা ইচ্ছা হয়) কাজ করতে থাক, আমিও (নিজ নিয়ম অনুসারে) কাজ করছি। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কার উপর এমন শাস্তি অবতীর্ণ হয়, যা তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়বে আর কে মিথ্যাবাদী? তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষারত আছি।
وَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا شُعَیۡبًا وَّالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا وَاَخَذَتِ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الصَّیۡحَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دِیَارِہِمۡ جٰثِمِیۡنَ ۙ
এবং (পরিশেষে) যখন আমার হুকুম এসে গেল, আমি শুআইবকে এবং যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার বিশেষ রহমতে রক্ষা করি আর যারা জুলুম করেছিল তাদেরকে এক প্রচণ্ড নিনাদ এসে পাকড়াও করল। ফলে তারা নিজেদের ঘর-বাড়িতে এমনভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল-
کَاَنۡ لَّمۡ یَغۡنَوۡا فِیۡہَا ؕ اَلَا بُعۡدًا لِّمَدۡیَنَ کَمَا بَعِدَتۡ ثَمُوۡدُ ٪
যেন তারা কখনও সেখানে বসবাসই করেনি। স্মরণ রেখ, মাদয়ানেরও সেইভাবে বিনাশ ঘটল, যেভাবে বিনাশ হয়েছিল ছামুদ জাতি।
وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَا وَسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ۙ
এবং আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠালাম-
اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ فَاتَّبَعُوۡۤا اَمۡرَ فِرۡعَوۡنَ ۚ وَمَاۤ اَمۡرُ فِرۡعَوۡنَ بِرَشِیۡدٍ
ফিরাউন ও তার অমাত্যদের কাছে। তারা ফির‘আউনের কর্মকাণ্ডেরই অনুসরণ করল, অথচ ফির‘আউনের কর্মকাণ্ড যথোচিত ছিল না।
یَقۡدُمُ قَوۡمَہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فَاَوۡرَدَہُمُ النَّارَ ؕ وَبِئۡسَ الۡوِرۡدُ الۡمَوۡرُوۡدُ
কিয়ামতের দিন সে নিজ সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদের সকলকে নিয়ে জাহান্নামে নামাবে আর তা কত নিকৃষ্ট ঘাট, যাতে তারা নামবে।
وَاُتۡبِعُوۡا فِیۡ ہٰذِہٖ لَعۡنَۃً وَّیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ بِئۡسَ الرِّفۡدُ الۡمَرۡفُوۡدُ
এই দুনিয়ায়ও লানতকে তাদের পিছনে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও। এটা কত নিকৃষ্ট পুরস্কার, যা তাদেরকে দেওয়া হবে।
ذٰلِکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡقُرٰی نَقُصُّہٗ عَلَیۡکَ مِنۡہَا قَآئِمٌ وَّحَصِیۡدٌ
এটা সেই সব জনপদের বৃত্তান্ত, যা আমি তোমাকে শোনাচ্ছি। তার মধ্যে কতক (জনপদ) এখনও আপন স্থানে বিদ্যমান আছে এবং কতক কর্তিত ফসল (-এর মত নিশ্চিহ্ন) হয়ে গেছে।
وَمَا ظَلَمۡنٰہُمۡ وَلٰکِنۡ ظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَمَاۤ اَغۡنَتۡ عَنۡہُمۡ اٰلِہَتُہُمُ الَّتِیۡ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ لَّمَّا جَآءَ اَمۡرُ رَبِّکَ ؕ وَمَا زَادُوۡہُمۡ غَیۡرَ تَتۡبِیۡبٍ
আমি তাদের উপর কোনও জুলুম করিনি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করেছিল, পরিণামে যখন তোমার প্রতিপালকের হুকুম আসল, তখন আল্লাহর পরিবর্তে যে সকল মাবুদকে তারা ডাকত, তারা তাদের কিছুমাত্র কাজে আসল না এবং তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের জন্য কিছু বৃদ্ধি করল না।
وَکَذٰلِکَ اَخۡذُ رَبِّکَ اِذَاۤ اَخَذَ الۡقُرٰی وَہِیَ ظَالِمَۃٌ ؕ اِنَّ اَخۡذَہٗۤ اَلِیۡمٌ شَدِیۡدٌ
যে সকল জনপদ জুলুমে লিপ্ত হয়, তোমার প্রতিপালক যখন তাদের ধরেন, তখন তাঁর ধরা এমনই হয়ে থাকে। বাস্তবিকই তাঁর ধরা অতি মর্মন্তুদ, অতি কঠিন।
اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّمَنۡ خَافَ عَذَابَ الۡاٰخِرَۃِ ؕ ذٰلِکَ یَوۡمٌ مَّجۡمُوۡعٌ ۙ لَّہُ النَّاسُ وَذٰلِکَ یَوۡمٌ مَّشۡہُوۡدٌ
যে ব্যক্তি আখেরাতের শাস্তিকে ভয় করে, তার জন্য এসব বিষয়ের মধ্যে বিরাট শিক্ষা রয়েছে। তা এমন দিন, যার জন্য সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে এবং তা এমন দিন, যা হবে (সকলের কাছে) দৃশ্যমান।
وَمَا نُؤَخِّرُہٗۤ اِلَّا لِاَجَلٍ مَّعۡدُوۡدٍ ؕ
আমি তা স্থগিত রেখেছি গনা-গুণতি কিছু কালের জন্য।
یَوۡمَ یَاۡتِ لَا تَکَلَّمُ نَفۡسٌ اِلَّا بِاِذۡنِہٖ ۚ فَمِنۡہُمۡ شَقِیٌّ وَّسَعِیۡدٌ
যখন সে দিন আসবে, তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কেউ হবে দুর্গতিগ্রস্ত এবং কেউ হবে সদগতিসম্পন্ন।
فَاَمَّا الَّذِیۡنَ شَقُوۡا فَفِی النَّارِ لَہُمۡ فِیۡہَا زَفِیۡرٌ وَّشَہِیۡقٌ ۙ
সুতরাং যারা দুর্গতিগ্রস্ত হবে, তারা থাকবে জাহান্নামে, যেখানে তাদের চিৎকার ও আর্তনাদ শোনা যাবে।
خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا مَا دَامَتِ السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ اِلَّا مَا شَآءَ رَبُّکَ ؕ اِنَّ رَبَّکَ فَعَّالٌ لِّمَا یُرِیۡدُ
তারা তাতে সর্বদা থাকবে যতদিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে যদি না তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করেন। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন, তা উত্তমরূপে সাধিত করেন।
وَاَمَّا الَّذِیۡنَ سُعِدُوۡا فَفِی الۡجَنَّۃِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا مَا دَامَتِ السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ اِلَّا مَا شَآءَ رَبُّکَ ؕ عَطَآءً غَیۡرَ مَجۡذُوۡذٍ
আর যারা সদগতিসম্পন্ন হবে, তারা থাকবে জান্নাতে, তাতে তারা সর্বদা থাকবে- যতদিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করেন। এটা হবে এক নিরবচ্ছিন্ন দান।
فَلَا تَکُ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّمَّا یَعۡبُدُ ہٰۤؤُلَآءِ ؕ مَا یَعۡبُدُوۡنَ اِلَّا کَمَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُہُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ ؕ وَاِنَّا لَمُوَفُّوۡہُمۡ نَصِیۡبَہُمۡ غَیۡرَ مَنۡقُوۡصٍ ٪
সুতরাং (হে নবী!) তারা (অর্থাৎ মুশরিকগণ) যাদের (অর্থাৎ প্রতিমাদের) ইবাদত করে, তাদের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহে থেক না। পূর্বে তাদের বাপ-দাদাগণ যেভাবে ইবাদত করত এরা তো সেভাবেই ইবাদত করছে। নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে তাদের অংশ পরিপূর্ণভাবে আদায় করে দেব, যাতে কিছুমাত্র কম করা হবে না।
وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ فَاخۡتُلِفَ فِیۡہِ ؕ وَلَوۡلَا کَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّکَ لَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ ؕ وَاِنَّہُمۡ لَفِیۡ شَکٍّ مِّنۡہُ مُرِیۡبٍ
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতেও মতভেদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পূর্বেই যদি একটি কথা (অর্থাৎ তাদেরকে পরিপূর্ণ শাস্তি দেওয়া হবে আখেরাতে এই কথা) স্থিরীকৃত না থাকত, তবে (দুনিয়াতেই) তাদের মীমাংসা হয়ে যেত। বস্তুত তারা (এখনও পর্যন্ত) এ বিষয়ে কঠিন সন্দেহে নিপতিত।
وَاِنَّ کُلًّا لَّمَّا لَیُوَفِّیَنَّہُمۡ رَبُّکَ اَعۡمَالَہُمۡ ؕ اِنَّہٗ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ
নিশ্চয়ই সকলের ব্যাপারে এটাই নিয়ম যে, তোমার প্রতিপালক তাদের কর্মফল পুরোপুরি দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের যাবতীয় কর্ম সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে অবগত।
فَاسۡتَقِمۡ کَمَاۤ اُمِرۡتَ وَمَنۡ تَابَ مَعَکَ وَلَا تَطۡغَوۡا ؕ اِنَّہٗ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ
সুতরাং (হে নবী!) তোমাকে যেভাবে হুকুম করা হয়েছে, সে অনুযায়ী তুমি নিজেও সরল পথে স্থির থাক এবং যারা তাওবা করে তোমার সঙ্গে আছে তারাও। আর সীমালংঘন করো না। নিশ্চয়ই তোমরা যা-কিছুই কর, তিনি তা ভালোভাবে দেখেন।
وَلَا تَرۡکَنُوۡۤا اِلَی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا فَتَمَسَّکُمُ النَّارُ ۙ وَمَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ ثُمَّ لَا تُنۡصَرُوۡنَ
এবং (হে মুসলিমগণ!) তোমরা ওই জালেমদের দিকে একটুও ঝুঁকবে না, অন্যথায় জাহান্নামের আগুন তোমাদেরকেও স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনও রকমের বন্ধু লাভ হবে না আর তখন কেউ তোমাদের সাহায্যও করবে না।
وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ طَرَفَیِ النَّہَارِ وَزُلَفًا مِّنَ الَّیۡلِ ؕ اِنَّ الۡحَسَنٰتِ یُذۡہِبۡنَ السَّیِّاٰتِ ؕ ذٰلِکَ ذِکۡرٰی لِلذّٰکِرِیۡنَ ۚ
এবং (হে নবী!) দিনের উভয় প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে নামায কায়েম কর। নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ মানে তাদের জন্য এটা এক উপদেশ।
وَاصۡبِرۡ فَاِنَّ اللّٰہَ لَا یُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
এবং সবর অবলম্বন কর। কেননা আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।
فَلَوۡلَا کَانَ مِنَ الۡقُرُوۡنِ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ اُولُوۡا بَقِیَّۃٍ یَّنۡہَوۡنَ عَنِ الۡفَسَادِ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا قَلِیۡلًا مِّمَّنۡ اَنۡجَیۡنَا مِنۡہُمۡ ۚ وَاتَّبَعَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مَاۤ اُتۡرِفُوۡا فِیۡہِ وَکَانُوۡا مُجۡرِمِیۡنَ
তোমাদের আগে যেসব উম্মত গত হয়েছে, তাদের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধির অবশেষ আছে এমন কিছু লোক কেন হল না, যারা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করা থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করত? অবশ্য অল্প কিছু লোক ছিল, যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে (শাস্তি থেকে) রক্ষা করেছিলাম। আর জালেমগণ যে ভোগ-বিলাসের মধ্যে ছিল, তারই পিছনে লেগে থাকল এবং তারা ছিল অপরাধী।
وَمَا کَانَ رَبُّکَ لِیُہۡلِکَ الۡقُرٰی بِظُلۡمٍ وَّاَہۡلُہَا مُصۡلِحُوۡنَ
তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, তিনি জনপদসমূহ অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, অথচ তার বাসিন্দাগণ সঠিক পথে চলছে।
وَلَوۡ شَآءَ رَبُّکَ لَجَعَلَ النَّاسَ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّلَا یَزَالُوۡنَ مُخۡتَلِفِیۡنَ ۙ
তোমার প্রতিপালক চাইলে সমস্ত মানুষকে একই পথের অনুসারী বানিয়ে দিতেন কিন্তু (কাউকে জোরপূর্বক কোনও দীন মানতে বাধ্য করাটা তাঁর হিকমতের পরিপন্থী। তাই তাদেরকে তাদের ইচ্ছাক্রমে যে-কোনও পথ অবলম্বনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং) তারা বিভিন্ন পথেই চলতে থাকবে।
اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ رَبُّکَ ؕ وَلِذٰلِکَ خَلَقَہُمۡ ؕ وَتَمَّتۡ کَلِمَۃُ رَبِّکَ لَاَمۡلَـَٔنَّ جَہَنَّمَ مِنَ الۡجِنَّۃِ وَالنَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ
অবশ্য তোমার প্রতিপালক যাদের প্রতি দয়া করবেন, তাদের কথা ভিন্ন (আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন)। আর এরই (অর্থাৎ এই পরীক্ষারই) জন্য তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তোমার প্রতিপালকের এই কথা পূর্ণ হবেই, যা তিনি বলেছিলেন যে, আমি জিন ও ইনসান উভয়ের দ্বারা জাহান্নাম ভরে ফেলব।
وَکُلًّا نَّقُصُّ عَلَیۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِہٖ فُؤَادَکَ ۚ وَجَآءَکَ فِیۡ ہٰذِہِ الۡحَقُّ وَمَوۡعِظَۃٌ وَّذِکۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
(হে নবী!) আমি তোমাকে বিগত নবীগণের এমন সব ঘটনা শোনাচ্ছি, যা দ্বারা আমি তোমার অন্তরে শক্তি যোগাই। আর এসব ঘটনার ভিতর দিয়ে তোমার কাছে যে বাণী এসেছে তা সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মারকও।
وَقُلۡ لِّلَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَکَانَتِکُمۡ ؕ اِنَّا عٰمِلُوۡنَ ۙ
যারা ঈমান আনছে না তাদেরকে বল, তোমরা নিজেদের বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী কাজ করতে থাক, আমরাও (নিজেদের নিয়ম অনুসারে) কাজ করছি।
وَانۡتَظِرُوۡا ۚ اِنَّا مُنۡتَظِرُوۡنَ
এবং তোমরাও (আল্লাহর পক্ষ হতে ফায়সালার) অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষা করছি।
وَلِلّٰہِ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَاِلَیۡہِ یُرۡجَعُ الۡاَمۡرُ کُلُّہٗ فَاعۡبُدۡہُ وَتَوَکَّلۡ عَلَیۡہِ ؕ وَمَا رَبُّکَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ٪
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যত গুপ্ত রহস্য আছে, তার সবই আল্লাহর জ্ঞানে রয়েছে এবং তাঁরই দিকে যাবতীয় বিষয় প্রত্যানীত হবে। সুতরাং (হে নবী!) তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর উপর নির্ভর কর। তোমরা যা-কিছু কর, তোমার প্রতিপালক সে সম্পর্কে অনবহিত নন।