مريم
মারইয়াম
Ayah ৯৮ · Meccan · Para ১৬
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
کٓہٰیٰعٓصٓ ۟ۚ
কাফ-হা-ইয়া-‘আইন-সাদ।
ذِکۡرُ رَحۡمَتِ رَبِّکَ عَبۡدَہٗ زَکَرِیَّا ۖۚ
এটা সেই রহমতের বর্ণনা, যা তোমার প্রতিপালক নিজ বান্দা যাকারিয়ার প্রতি করেছিলেন।
اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗ نِدَآءً خَفِیًّا
যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকেছিল চুপিসারে।
قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ وَہَنَ الۡعَظۡمُ مِنِّیۡ وَاشۡتَعَلَ الرَّاۡسُ شَیۡبًا وَّلَمۡ اَکُنۡۢ بِدُعَآئِکَ رَبِّ شَقِیًّا
সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার অস্থিরাজি পর্যন্ত জীর্ণ হয়ে গেছে, মাথা বার্ধক্যজনিত শুভ্রতায় উজ্জ্বলিত হয়ে উঠেছে এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করে কখনও ব্যর্থকাম হইনি।
وَاِنِّیۡ خِفۡتُ الۡمَوَالِیَ مِنۡ وَّرَآءِیۡ وَکَانَتِ امۡرَاَتِیۡ عَاقِرًا فَہَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ وَلِیًّا ۙ
আমি আমার পর আমার চাচাত ভাইদের ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতরাং আপনি আপনার নিকট থেকে আমাকে এমন এক উত্তরাধিকারী দান করুন
یَّرِثُنِیۡ وَیَرِثُ مِنۡ اٰلِ یَعۡقُوۡبَ ٭ۖ وَاجۡعَلۡہُ رَبِّ رَضِیًّا
যে আমারও উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর উত্তরাধিকারও লাভ করবে এবং হে আমার প্রতিপালক! তাকে এমন বানান, যে (আপনার নিজেরও) সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হবে।
یٰزَکَرِیَّاۤ اِنَّا نُبَشِّرُکَ بِغُلٰمِ ۣ اسۡمُہٗ یَحۡیٰی ۙ لَمۡ نَجۡعَلۡ لَّہٗ مِنۡ قَبۡلُ سَمِیًّا
(উত্তর আসল) হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি ছেলের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম ইয়াহইয়া! আমি আগে তার সমনামধারী কাউকে সৃষ্টি করিনি।
قَالَ رَبِّ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ غُلٰمٌ وَّکَانَتِ امۡرَاَتِیۡ عَاقِرًا وَّقَدۡ بَلَغۡتُ مِنَ الۡکِبَرِ عِتِیًّا
যাকারিয়া বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার কিভাবে পুত্র-সন্তান জন্ম নেবে, যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি এমন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি যে, আমার দেহ শুকিয়ে গেছে?
قَالَ کَذٰلِکَ ۚ قَالَ رَبُّکَ ہُوَ عَلَیَّ ہَیِّنٌ وَّقَدۡ خَلَقۡتُکَ مِنۡ قَبۡلُ وَلَمۡ تَکُ شَیۡئًا
তিনি বললেন, এভাবেই হবে। তোমার প্রতিপালক বলেছেন, এটা তো আমার পক্ষে মামুলি ব্যাপার। তাছাড়া এর আগে তো আমি তোমাকেও সৃষ্টি করেছি, যখন তুমি কিছুই ছিলে না।
قَالَ رَبِّ اجۡعَلۡ لِّیۡۤ اٰیَۃً ؕ قَالَ اٰیَتُکَ اَلَّا تُکَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَ لَیَالٍ سَوِیًّا
যাকারিয়া বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য কোন নিদর্শন স্থির করে দিন। তিনি বললেন, তোমার নিদর্শন হল তুমি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিন রাত পর্যন্ত মানুষের সাথে কথা বলতে পারবে না।
فَخَرَجَ عَلٰی قَوۡمِہٖ مِنَ الۡمِحۡرَابِ فَاَوۡحٰۤی اِلَیۡہِمۡ اَنۡ سَبِّحُوۡا بُکۡرَۃً وَّعَشِیًّا
সুতরাং সে ইবাদতখানা থেকে বের হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের সামনে আসল এবং তাদেরকে ইশারায় হুকুম দিল, তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ (পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা) কর।
یٰیَحۡیٰی خُذِ الۡکِتٰبَ بِقُوَّۃٍ ؕ وَاٰتَیۡنٰہُ الۡحُکۡمَ صَبِیًّا ۙ
(অতঃপর যখন ইয়াহইয়া জন্মগ্রহণ করল এবং সে বড়ও হয়ে গেল, তখন আমি তাকে বললাম) হে ইয়াহইয়া! (আল্লাহর) কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধর। আমি তাকে তার শৈশবেই জ্ঞানবত্তা দান করেছিলাম
وَّحَنَانًا مِّنۡ لَّدُنَّا وَزَکٰوۃً ؕ وَکَانَ تَقِیًّا ۙ
এবং বিশেষভাবে আমার নিজের পক্ষ থেকে হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতাও। আর সে ছিল বড়ই পরহেজগার।
وَّبَرًّۢا بِوَالِدَیۡہِ وَلَمۡ یَکُنۡ جَبَّارًا عَصِیًّا
এবং নিজ পিতা-মাতার খেদমতগার। সে অহংকারী ও অবাধ্য ছিল না।
وَسَلٰمٌ عَلَیۡہِ یَوۡمَ وُلِدَ وَیَوۡمَ یَمُوۡتُ وَیَوۡمَ یُبۡعَثُ حَیًّا ٪
এবং (আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে) তার প্রতি সালাম যে দিন সে জন্মগ্রহণ করেছে, যে দিন তার মৃত্যু হবে এবং যে দিন সে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।
وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ مَرۡیَمَ ۘ اِذِ انۡتَبَذَتۡ مِنۡ اَہۡلِہَا مَکَانًا شَرۡقِیًّا ۙ
এ কিতাবে মারয়ামের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। সেই সময়ের বৃত্তান্ত, যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের এক স্থানে চলে গেল।
فَاتَّخَذَتۡ مِنۡ دُوۡنِہِمۡ حِجَابًا ۪۟ فَاَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہَا رُوۡحَنَا فَتَمَثَّلَ لَہَا بَشَرًا سَوِیًّا
তারপর সে তাদের ও নিজের মাঝখানে একটি পর্দা ফেলে দিল। এ সময় আমি তার কাছে আমার রূহ (অর্থাৎ একজন ফিরিশতা) পাঠালাম, যে তার সামনে এক পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।
قَالَتۡ اِنِّیۡۤ اَعُوۡذُ بِالرَّحۡمٰنِ مِنۡکَ اِنۡ کُنۡتَ تَقِیًّا
মারয়াম বলল, আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি যদি তুমি আল্লাহকে ভয় কর (তবে এখান থেকে সরে যাও)।
قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوۡلُ رَبِّکِ ٭ۖ لِاَہَبَ لَکِ غُلٰمًا زَکِیًّا
ফিরিশতা বলল, আমি তো তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত (ফিরিশতা আর আমি এসেছি) তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্য।
قَالَتۡ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ غُلٰمٌ وَّلَمۡ یَمۡسَسۡنِیۡ بَشَرٌ وَّلَمۡ اَکُ بَغِیًّا
মারয়াম বলল, আমার পুত্র হবে কেমন করে, যখন আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি নই কোন ব্যভিচারিণী নারী?
قَالَ کَذٰلِکِ ۚ قَالَ رَبُّکِ ہُوَ عَلَیَّ ہَیِّنٌ ۚ وَلِنَجۡعَلَہٗۤ اٰیَۃً لِّلنَّاسِ وَرَحۡمَۃً مِّنَّا ۚ وَکَانَ اَمۡرًا مَّقۡضِیًّا
ফিরিশতা বলল, এভাবেই হবে। তোমার রব্ব বলেছেন, আমার পক্ষে এটা একটা মামুলি কাজ। আমি এটা করব এজন্য যে, তাকে বানাব মানুষের জন্য (আমার কুদরতের) এক নিদর্শন ও আমার নিকট হতে রহমত। এটা সম্পূর্ণরূপে স্থিরীকৃত হয়ে গেছে।
فَحَمَلَتۡہُ فَانۡتَبَذَتۡ بِہٖ مَکَانًا قَصِیًّا
অতঃপর এই ঘটল যে, মারয়াম সেই শিশুকে গর্ভে ধারণ করল (এবং যখন জন্মের সময় কাছে এসে গেল) তখন সে তাকে নিয়ে দূরে এক নিভৃত স্থানে চলে গেল।
فَاَجَآءَہَا الۡمَخَاضُ اِلٰی جِذۡعِ النَّخۡلَۃِ ۚ قَالَتۡ یٰلَیۡتَنِیۡ مِتُّ قَبۡلَ ہٰذَا وَکُنۡتُ نَسۡیًا مَّنۡسِیًّا
তারপর প্রসব-বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের কাছে নিয়ে গেল। সে বলতে লাগল, হায়! আমি যদি এর আগেই মারা যেতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃত-বিলুপ্ত হয়ে যেতাম!
فَنَادٰىہَا مِنۡ تَحۡتِہَاۤ اَلَّا تَحۡزَنِیۡ قَدۡ جَعَلَ رَبُّکِ تَحۡتَکِ سَرِیًّا
তখন ফিরিশতা তার নিচে এক স্থান থেকে তাকে ডাক দিয়ে বলল, তুমি দুঃখ করো না, তোমার প্রতিপালক তোমার নিচে একটি উৎস সৃষ্টি করেছেন।
وَہُزِّیۡۤ اِلَیۡکِ بِجِذۡعِ النَّخۡلَۃِ تُسٰقِطۡ عَلَیۡکِ رُطَبًا جَنِیًّا ۫
এবং খেজুর গাছের ডালাকে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা থেকে পাকা তাজা খেজুর তোমার উপর ঝরে পড়বে।
فَکُلِیۡ وَاشۡرَبِیۡ وَقَرِّیۡ عَیۡنًا ۚ فَاِمَّا تَرَیِنَّ مِنَ الۡبَشَرِ اَحَدًا ۙ فَقُوۡلِیۡۤ اِنِّیۡ نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمٰنِ صَوۡمًا فَلَنۡ اُکَلِّمَ الۡیَوۡمَ اِنۡسِیًّا ۚ
তারপর খাও ও পান কর এবং চোখ জুড়াও, মানুষের মধ্যে কাউকে আসতে দেখলে (ইশারায়) বলে দিও, আজ আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি রোজা মানত করেছি। সুতরাং আজ আমি কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।
فَاَتَتۡ بِہٖ قَوۡمَہَا تَحۡمِلُہٗ ؕ قَالُوۡا یٰمَرۡیَمُ لَقَدۡ جِئۡتِ شَیۡئًا فَرِیًّا
তারপর সে শিশুটি নিয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে আসল। তারা বলে উঠল, মারয়াম! তুমি তো বড় খতরনাক কাজ করেছ!
یٰۤاُخۡتَ ہٰرُوۡنَ مَا کَانَ اَبُوۡکِ امۡرَاَ سَوۡءٍ وَّمَا کَانَتۡ اُمُّکِ بَغِیًّا ۖۚ
ওহে হারূনের বোন! তোমার পিতাও কোন খারাপ লোক ছিল না এবং তোমার মাও ছিল না অসতী নারী।
فَاَشَارَتۡ اِلَیۡہِ ؕ قَالُوۡا کَیۡفَ نُکَلِّمُ مَنۡ کَانَ فِی الۡمَہۡدِ صَبِیًّا
তখন মারয়াম শিশুটির দিকে ইশারা করলেন। তারা বলল, আমরা এই দোলনার শিশুর সাথে কিভাবে কথা বলব?
قَالَ اِنِّیۡ عَبۡدُ اللّٰہِ ۟ؕ اٰتٰنِیَ الۡکِتٰبَ وَجَعَلَنِیۡ نَبِیًّا ۙ
অমনি শিশুটি বলে উঠল, আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী বানিয়েছেন।
وَّجَعَلَنِیۡ مُبٰرَکًا اَیۡنَ مَا کُنۡتُ ۪ وَاَوۡصٰنِیۡ بِالصَّلٰوۃِ وَالزَّکٰوۃِ مَا دُمۡتُ حَیًّا ۪ۖ
এবং আমি যেখানেই থাকি না কেন আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যত দিন জীবিত থাকি আমাকে নামায ও যাকাত আদায়ের হুকুম দিয়েছেন।
وَّبَرًّۢا بِوَالِدَتِیۡ ۫ وَلَمۡ یَجۡعَلۡنِیۡ جَبَّارًا شَقِیًّا
এবং আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত বানিয়েছেন। আমাকে উদ্ধত ও রূঢ় বানাননি।
وَالسَّلٰمُ عَلَیَّ یَوۡمَ وُلِدۡتُّ وَیَوۡمَ اَمُوۡتُ وَیَوۡمَ اُبۡعَثُ حَیًّا
এবং (আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে) আমার প্রতি সালাম যে দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যে দিন আমার মৃত্যু হবে এবং যে দিন আমাকে পুনরায় জীবিত করে ওঠানো হবে।
ذٰلِکَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ ۚ قَوۡلَ الۡحَقِّ الَّذِیۡ فِیۡہِ یَمۡتَرُوۡنَ
এই হল মারয়ামের পুত্র ঈসা। তার (প্রকৃত অবস্থা) সম্পর্কে এটাই সত্য কথা, যে সম্পর্কে তারা তর্ক-বিতর্ক করছে।
مَا کَانَ لِلّٰہِ اَنۡ یَّتَّخِذَ مِنۡ وَّلَدٍ ۙ سُبۡحٰنَہٗ ؕ اِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ؕ
এটা আল্লাহর শান নয় যে, তিনি কোন পুত্র গ্রহণ করবেন। তাঁর সত্তা পবিত্র। তিনি যখন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থির করেন, তখন কেবল বলেন, ‘হয়ে যাও’। অমনি তা হয়ে যায়।
وَاِنَّ اللّٰہَ رَبِّیۡ وَرَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ
(হে নবী! মানুষকে) বলে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত কর। এটাই সরল পথ।
فَاخۡتَلَفَ الۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَیۡنِہِمۡ ۚ فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ مَّشۡہَدِ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ
তা সত্ত্বেও তাদের বিভিন্ন দল বিভিন্ন মত সৃষ্টি করেছে। সুতরাং যারা কুফর অবলম্বন করেছে মহাদিবস প্রত্যক্ষ করার দিন তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংস।
اَسۡمِعۡ بِہِمۡ وَاَبۡصِرۡ ۙ یَوۡمَ یَاۡتُوۡنَنَا لٰکِنِ الظّٰلِمُوۡنَ الۡیَوۡمَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ
যে দিন তারা আমার কাছে আসবে সে দিন তারা কতইনা শুনবে এবং কতইনা দেখবে! কিন্তু জালেমগণ আজ স্পষ্ট গোমরাহীতে নিপতিত।
وَاَنۡذِرۡہُمۡ یَوۡمَ الۡحَسۡرَۃِ اِذۡ قُضِیَ الۡاَمۡرُ ۘ وَہُمۡ فِیۡ غَفۡلَۃٍ وَّہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ
(হে নবী!) তাদেরকে আক্ষেপের দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যে দিন সকল বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা হয়ে যাবে, অথচ মানুষ গাফলতিতে পড়ে আছে এবং তারা ঈমান আনছে না।
اِنَّا نَحۡنُ نَرِثُ الۡاَرۡضَ وَمَنۡ عَلَیۡہَا وَاِلَیۡنَا یُرۡجَعُوۡنَ ٪
নিশ্চয়ই পৃথিবী এবং এর উপর যারা আছে, সকলের ওয়ারিশ হব আমিই এবং আমারই কাছে তাদের সকলকে ফিরিয়ে আনা হবে।
وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ اِبۡرٰہِیۡمَ ۬ؕ اِنَّہٗ کَانَ صِدِّیۡقًا نَّبِیًّا
এ কিতাবে ইবরাহীমের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল সত্যনিষ্ঠ নবী।
اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ یٰۤاَبَتِ لِمَ تَعۡبُدُ مَا لَا یَسۡمَعُ وَلَا یُبۡصِرُ وَلَا یُغۡنِیۡ عَنۡکَ شَیۡئًا
স্মরণ কর, যখন সে নিজ পিতাকে বলেছিল, আব্বাজী! আপনি এমন জিনিসের ইবাদত কেন করেন, যা কিছু শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোন কাজও করতে পারে না?
یٰۤاَبَتِ اِنِّیۡ قَدۡ جَآءَنِیۡ مِنَ الۡعِلۡمِ مَا لَمۡ یَاۡتِکَ فَاتَّبِعۡنِیۡۤ اَہۡدِکَ صِرَاطًا سَوِیًّا
আব্বাজী! আমার নিকট এমন এক জ্ঞান এসেছে যা আপনার কাছে আসেনি। কাজেই আপনি আমার কথা শুনুন, আমি আপনাকে সরল পথ বাতলে দেব।
یٰۤاَبَتِ لَا تَعۡبُدِ الشَّیۡطٰنَ ؕ اِنَّ الشَّیۡطٰنَ کَانَ لِلرَّحۡمٰنِ عَصِیًّا
আব্বাজী! শয়তানের ইবাদত করবেন না। নিশ্চয়ই শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য।
یٰۤاَبَتِ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اَنۡ یَّمَسَّکَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ فَتَکُوۡنَ لِلشَّیۡطٰنِ وَلِیًّا
আব্বাজী! আমার আশঙ্কা দয়াময়ের পক্ষ হতে কোন শাস্তি আপনাকে স্পর্শ করবে। ফলে আপনি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবেন।
قَالَ اَرَاغِبٌ اَنۡتَ عَنۡ اٰلِہَتِیۡ یٰۤـاِبۡرٰہِیۡمُ ۚ لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہِ لَاَرۡجُمَنَّکَ وَاہۡجُرۡنِیۡ مَلِیًّا
তার পিতা বলল, ইবরাহীম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? তুমি যদি এর থেকে নিবৃত্ত না হও, তবে আমি অবশ্যই তোমার উপর পাথর নিক্ষেপ করব। আর এখন তুমি চিরদিনের জন্য আমার থেকে দূর হয়ে যাও।
قَالَ سَلٰمٌ عَلَیۡکَ ۚ سَاَسۡتَغۡفِرُ لَکَ رَبِّیۡ ؕ اِنَّہٗ کَانَ بِیۡ حَفِیًّا
ইবরাহীম বলল, আপনার প্রতি (বিদায়ী) সালাম। আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আপনার মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করব। নিঃসন্দেহে তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
وَاَعۡتَزِلُکُمۡ وَمَا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَاَدۡعُوۡا رَبِّیۡ ۫ۖ عَسٰۤی اَلَّاۤ اَکُوۡنَ بِدُعَآءِ رَبِّیۡ شَقِیًّا
আমি আপনাদের থেকেও পৃথক হয়ে যাচ্ছি এবং আপনারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করেন তাদের থেকেও। আমি আমার প্রতিপালককে ডাকতে থাকব। আমি পরিপূর্ণ আশাবাদী যে, আমি আমার প্রতিপালককে ডেকে ব্যর্থকাম হব না।
فَلَمَّا اعۡتَزَلَہُمۡ وَمَا یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ۙ وَہَبۡنَا لَہٗۤ اِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ ؕ وَکُلًّا جَعَلۡنَا نَبِیًّا
সুতরাং যখন সে তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে (অর্থাৎ যেই প্রতিমাদেরকে) ডাকত তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেল, তখন আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব (-এর মত সন্তান) দান করলাম এবং তাদের প্রত্যেককে নবী বানালাম।
وَوَہَبۡنَا لَہُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِنَا وَجَعَلۡنَا لَہُمۡ لِسَانَ صِدۡقٍ عَلِیًّا ٪
এবং তাদেরকে দান করলাম আমার রহমত আর তাদের দিলাম সমুচ্চ সুখ্যাতি।
وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ مُوۡسٰۤی ۫ اِنَّہٗ کَانَ مُخۡلَصًا وَّکَانَ رَسُوۡلًا نَّبِیًّا
এ কিতাবে মূসার বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল আল্লাহর মনোনীত বান্দা এবং (তাঁর) রাসূল ও নবী।
وَنَادَیۡنٰہُ مِنۡ جَانِبِ الطُّوۡرِ الۡاَیۡمَنِ وَقَرَّبۡنٰہُ نَجِیًّا
আমি তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে ডাক দিলাম এবং তাকে আমার অন্তরঙ্গরূপে নৈকট্য দান করলাম।
وَوَہَبۡنَا لَہٗ مِنۡ رَّحۡمَتِنَاۤ اَخَاہُ ہٰرُوۡنَ نَبِیًّا
আর আমি নিজ রহমতে তাকে দান করলাম তার ভাই হারূনকে নবীরূপে।
وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ اِسۡمٰعِیۡلَ ۫ اِنَّہٗ کَانَ صَادِقَ الۡوَعۡدِ وَکَانَ رَسُوۡلًا نَّبِیًّا ۚ
এবং এ কিতাবে ইসমাঈলের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে সত্যবাদী এবং রাসূল ও নবী।
وَکَانَ یَاۡمُرُ اَہۡلَہٗ بِالصَّلٰوۃِ وَالزَّکٰوۃِ ۪ وَکَانَ عِنۡدَ رَبِّہٖ مَرۡضِیًّا
সে নিজ পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাত আদায়ের হুকুম করত এবং সে ছিল নিজ প্রতিপালকের সন্তোষভাজন।
وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ اِدۡرِیۡسَ ۫ اِنَّہٗ کَانَ صِدِّیۡقًا نَّبِیًّا ٭ۙ
এ কিতাবে ইদরীসের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল একজন সত্যনিষ্ঠ নবী!
وَّرَفَعۡنٰہُ مَکَانًا عَلِیًّا
আমি তাকে এক উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম।
اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ مِّنَ النَّبِیّٖنَ مِنۡ ذُرِّیَّۃِ اٰدَمَ ٭ وَمِمَّنۡ حَمَلۡنَا مَعَ نُوۡحٍ ۫ وَّمِنۡ ذُرِّیَّۃِ اِبۡرٰہِیۡمَ وَاِسۡرَآءِیۡلَ ۫ وَمِمَّنۡ ہَدَیۡنَا وَاجۡتَبَیۡنَا ؕ اِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُ الرَّحۡمٰنِ خَرُّوۡا سُجَّدًا وَّبُکِیًّا ٛ
আদমের বংশধরদের মধ্যে এরাই সেই সকল নবী, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। এদের কতিপয় সেই সব লোকের বংশধর, যাদেরকে আমি নূহের সাথে (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম এবং কতিপয় ইবরাহীম ও ইসরাঈল (অর্থাৎ হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর। আমি যাদেরকে হিদায়াত দিয়েছিলাম ও (আমার দীনের জন্য) মনোনীত করেছিলাম, এরা তাদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সামনে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হত, তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত।
فَخَلَفَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ خَلۡفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوۃَ وَاتَّبَعُوا الشَّہَوٰتِ فَسَوۡفَ یَلۡقَوۡنَ غَیًّا ۙ
তারপর তাদের স্থলাভিষিক্ত হল এমন লোক, যারা নামায নষ্ট করল এবং ইন্দ্রিয়-চাহিদার অনুগামী হল। সুতরাং তারা অচিরেই তাদের পথভ্রষ্টতার সাক্ষাত পাবে।
اِلَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَاُولٰٓئِکَ یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ وَلَا یُظۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا ۙ
অবশ্য যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।
جَنّٰتِ عَدۡنِۣ الَّتِیۡ وَعَدَ الرَّحۡمٰنُ عِبَادَہٗ بِالۡغَیۡبِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ وَعۡدُہٗ مَاۡتِیًّا
(তারা প্রবেশ করবে) এমন স্থায়ী উদ্যানরাজিতে, দয়াময় আল্লাহ নিজ বান্দাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের অলক্ষ্যে। নিশ্চয়ই তাঁর প্রতিশ্রুতি এমন যে, তারা সে পর্যন্ত অবশ্যই পৌঁছবে।
لَا یَسۡمَعُوۡنَ فِیۡہَا لَغۡوًا اِلَّا سَلٰمًا ؕ وَلَہُمۡ رِزۡقُہُمۡ فِیۡہَا بُکۡرَۃً وَّعَشِیًّا
তারা সেখানে শান্তিমূলক কথা ছাড়া কোন বেহুদা কথা শুনবে না এবং তারা সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় জীবিকা লাভ করবে।
تِلۡکَ الۡجَنَّۃُ الَّتِیۡ نُوۡرِثُ مِنۡ عِبَادِنَا مَنۡ کَانَ تَقِیًّا
এটাই সেই জান্নাত যার ওয়ারিশ বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে যারা মুত্তাকী তাদেরকে।
وَمَا نَتَنَزَّلُ اِلَّا بِاَمۡرِ رَبِّکَ ۚ لَہٗ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡنَا وَمَا خَلۡفَنَا وَمَا بَیۡنَ ذٰلِکَ ۚ وَمَا کَانَ رَبُّکَ نَسِیًّا ۚ
(এবং ফেরেশতাগণ তোমাকে বলে,) আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না। যা-কিছু আমাদের সামনে, যা-কিছু আমাদের পিছনে এবং যা-কিছু এ দু’য়ের মাঝখানে আছে, তা সব তাঁরই মালিকানাধীন। তোমার প্রতিপালক ভুলে যাওয়ার নন।
رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا فَاعۡبُدۡہُ وَاصۡطَبِرۡ لِعِبَادَتِہٖ ؕ ہَلۡ تَعۡلَمُ لَہٗ سَمِیًّا ٪
তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক এবং এ দু’য়ের মাঝখানে যা আছে তারও। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর ইবাদতে অবিচলিত থাক। তোমার জানা মতে তাঁর সমগুণসম্পন্ন কেউ আছে কি?
وَیَقُوۡلُ الۡاِنۡسَانُ ءَاِذَا مَا مِتُّ لَسَوۡفَ اُخۡرَجُ حَیًّا
আর মানুষ (অর্থাৎ কাফেরগণ) বলে, আমার যখন মৃত্যু হয়ে যাবে, তখন বাস্তবিকই কি আমাকে আবার জীবিতরূপে উঠানো হবে?
اَوَلَا یَذۡکُرُ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰہُ مِنۡ قَبۡلُ وَلَمۡ یَکُ شَیۡئًا
মানুষের কি স্মরণ পড়ে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি, যখন সে কিছুই ছিল না?
فَوَرَبِّکَ لَنَحۡشُرَنَّہُمۡ وَالشَّیٰطِیۡنَ ثُمَّ لَنُحۡضِرَنَّہُمۡ حَوۡلَ جَہَنَّمَ جِثِیًّا ۚ
সুতরাং শপথ তোমার প্রতিপালকের। আমি তাদেরকে তাদের শয়তানদেরসহ অবশ্যই সমবেত করব তারপর অবশ্যই তাদেরকে জাহান্নামের আশেপাশে নতজানু অবস্থায় উপস্থিত করব।
ثُمَّ لَنَنۡزِعَنَّ مِنۡ کُلِّ شِیۡعَۃٍ اَیُّہُمۡ اَشَدُّ عَلَی الرَّحۡمٰنِ عِتِیًّا ۚ
তারপর তাদের প্রত্যেক দলের মধ্যে যারা দয়াময় আল্লাহর অবাধ্যতায় প্রচণ্ডতম, তাদেরকে টেনে বের করব।
ثُمَّ لَنَحۡنُ اَعۡلَمُ بِالَّذِیۡنَ ہُمۡ اَوۡلٰی بِہَا صِلِیًّا
আর সেই সকল লোক সম্পর্কে আমিই ভালো জানি, যারা জাহান্নামে পৌঁছার বেশি উপযুক্ত।
وَاِنۡ مِّنۡکُمۡ اِلَّا وَارِدُہَا ۚ کَانَ عَلٰی رَبِّکَ حَتۡمًا مَّقۡضِیًّا ۚ
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তা (অর্থাৎ জাহান্নাম) অতিক্রম করবে না। এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষে এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
ثُمَّ نُنَجِّی الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا وَّنَذَرُ الظّٰلِمِیۡنَ فِیۡہَا جِثِیًّا
অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদেরকে আমি নিষ্কৃতি দেব আর জালিমদেরকে তাতে (জাহান্নামে) মুখ থুবড়ানো অবস্থায় ফেলে রাখব।
وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا ۙ اَیُّ الۡفَرِیۡقَیۡنِ خَیۡرٌ مَّقَامًا وَّاَحۡسَنُ نَدِیًّا
তাদের সামনে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেরগণ মুমিনদেরকে বলে, বল, আমাদের এ দুই দলের মধ্যে কোন দল মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর এবং মজলিস হিসেবে উৎকৃষ্ট?
وَکَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ ہُمۡ اَحۡسَنُ اَثَاثًا وَّرِءۡیًا
(তারা কি দেখে না) তাদের আগে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, যারা নিজেদের আসবাব-উপকরণ ও বাহ্য আড়ম্বরে তাদের অপেক্ষা উন্নত ছিল।
قُلۡ مَنۡ کَانَ فِی الضَّلٰلَۃِ فَلۡیَمۡدُدۡ لَہُ الرَّحۡمٰنُ مَدًّا ۬ۚ حَتّٰۤی اِذَا رَاَوۡا مَا یُوۡعَدُوۡنَ اِمَّا الۡعَذَابَ وَاِمَّا السَّاعَۃَ ؕ فَسَیَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ ہُوَ شَرٌّ مَّکَانًا وَّاَضۡعَفُ جُنۡدًا
বলে দাও, যারা বিভ্রান্তিতে পতিত, তাদের জন্য এটাই সমীচীন যে, দয়াময় আল্লাহ তাদেরকে প্রচুর ঢিল দিতে থাকবেন। পরিশেষে তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে তা যখন নিজেরা দেখে নেবে, তা শাস্তি হোক বা কিয়ামত, তখন তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট এবং কে বাহিনীর দিক দিয়ে বেশি দুর্বল।
وَیَزِیۡدُ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اہۡتَدَوۡا ہُدًی ؕ وَالۡبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیۡرٌ عِنۡدَ رَبِّکَ ثَوَابًا وَّخَیۡرٌ مَّرَدًّا
আর যারা সরল পথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াতের ক্ষেত্রে অধিকতর উৎকর্ষ দান করেন এবং যে সৎকর্ম স্থায়ী, তোমার প্রতিপালকের কাছে তা প্রতিদানে উৎকৃষ্ট এবং পরিণামেও শ্রেষ্ঠতর।
اَفَرَءَیۡتَ الَّذِیۡ کَفَرَ بِاٰیٰتِنَا وَقَالَ لَاُوۡتَیَنَّ مَالًا وَّوَلَدًا ؕ
তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে (আখেরাতেও) আমাকে অবশ্যই সম্পদ ও সন্তান দেওয়া হবে।
اَطَّلَعَ الۡغَیۡبَ اَمِ اتَّخَذَ عِنۡدَ الرَّحۡمٰنِ عَہۡدًا ۙ
তবে কি সে অদৃশ্য জগতে উঁকি মেরে দেখেছে, না কি সে দয়াময় আল্লাহর থেকে কোন প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে?
کَلَّا ؕ سَنَکۡتُبُ مَا یَقُوۡلُ وَنَمُدُّ لَہٗ مِنَ الۡعَذَابِ مَدًّا ۙ
কখনও নয়। সে যা কিছু বলছে আমি তাও লিখে রাখব এবং তার শাস্তি আরও বৃদ্ধি করে দেব।
وَّنَرِثُہٗ مَا یَقُوۡلُ وَیَاۡتِیۡنَا فَرۡدًا
এবং সে যার কথা বলছে, তার (অর্থাৎ সেই ধন ও জনের) ওয়ারিশ আমিই হব। আর সে একাকীই আমার কাছে আসবে।
وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اٰلِہَۃً لِّیَکُوۡنُوۡا لَہُمۡ عِزًّا ۙ
তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য মাবুদ গ্রহণ করেছে এজন্য, যাতে তারা তাদের সহায়ক হতে পারে।
کَلَّا ؕ سَیَکۡفُرُوۡنَ بِعِبَادَتِہِمۡ وَیَکُوۡنُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ ضِدًّا ٪
এসব তাদের ভ্রান্ত ধারণা। তারা তো তাদের ইবাদতকেই অস্বীকার করবে এবং উল্টো তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।
اَلَمۡ تَرَ اَنَّـاۤ اَرۡسَلۡنَا الشَّیٰطِیۡنَ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ تَؤُزُّہُمۡ اَزًّا ۙ
(হে নবী!) তুমি কি জ্ঞাত নও আমি কাফেরদের প্রতি শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি, যারা তাদেরকে অবিরত প্ররোচনা দেয়?
فَلَا تَعۡجَلۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ اِنَّمَا نَعُدُّ لَہُمۡ عَدًّا ۚ
সুতরাং তুমি তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না। আমি তো তাদের জন্য দিনক্ষণ গুণছি।
یَوۡمَ نَحۡشُرُ الۡمُتَّقِیۡنَ اِلَی الرَّحۡمٰنِ وَفۡدًا ۙ
(সেই দিনকে ভুলো না) যে দিন আমি মুত্তাকীগণকে অতিথিরূপে দয়াময় (আল্লাহ)-এর কাছে একত্র করব।
وَّنَسُوۡقُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ اِلٰی جَہَنَّمَ وِرۡدًا ۘ
আর অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় হাঁকিয়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব।
لَا یَمۡلِکُوۡنَ الشَّفَاعَۃَ اِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِنۡدَ الرَّحۡمٰنِ عَہۡدًا ۘ
মানুষ কারও জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে না, তারা ছাড়া, যারা দয়াময় (আল্লাহ)-এর নিকট থেকে অনুমতি লাভ করেছে।
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحۡمٰنُ وَلَدًا ؕ
তারা বলে, দয়াময়ের পুত্র আছে।
لَقَدۡ جِئۡتُمۡ شَیۡئًا اِدًّا ۙ
তোমরা (যারা এরূপ কথা বলছ, তারা) প্রকৃতপক্ষে অতি গুরুতর কথার অবতারণা করেছ।
تَکَادُ السَّمٰوٰتُ یَتَفَطَّرۡنَ مِنۡہُ وَتَنۡشَقُّ الۡاَرۡضُ وَتَخِرُّ الۡجِبَالُ ہَدًّا ۙ
অসম্ভব নয় এর কারণে আকাশ ফেটে যাবে, ভূমি বিদীর্ণ হবে এবং পাহাড় ভেঙ্গে-চুরে পড়বে।
اَنۡ دَعَوۡا لِلرَّحۡمٰنِ وَلَدًا ۚ
যেহেতু তারা দয়াময়ের সন্তান আছে বলে দাবী করে।
وَمَا یَنۡۢبَغِیۡ لِلرَّحۡمٰنِ اَنۡ یَّتَّخِذَ وَلَدًا ؕ
অথচ এটা দয়াময়ের শান নয় যে, তার সন্তান থাকবে।
اِنۡ کُلُّ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اِلَّاۤ اٰتِی الرَّحۡمٰنِ عَبۡدًا ؕ
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের দরবারে বান্দারূপে উপস্থিত হবে না।
لَقَدۡ اَحۡصٰہُمۡ وَعَدَّہُمۡ عَدًّا ؕ
নিশ্চয়ই তিনি সকলকে বেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদেরকে ভালোভাবে গুণে রেখেছেন।
وَکُلُّہُمۡ اٰتِیۡہِ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فَرۡدًا
কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকে তার কাছে একাকী উপস্থিত হবে।
اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَیَجۡعَلُ لَہُمُ الرَّحۡمٰنُ وُدًّا
(তবে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে নিশ্চয়ই দয়াময় (আল্লাহ) তাদের জন্য সৃষ্টি করবেন ভালোবাসা।
فَاِنَّمَا یَسَّرۡنٰہُ بِلِسَانِکَ لِتُبَشِّرَ بِہِ الۡمُتَّقِیۡنَ وَتُنۡذِرَ بِہٖ قَوۡمًا لُّدًّا
সুতরাং (হে নবী!) আমি এ কুরআনকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর মাধ্যমে মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দাও এবং এর মাধ্যমেই বিতণ্ডাপ্রবণ লোকদেরকে সতর্ক কর।
وَکَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ ؕ ہَلۡ تُحِسُّ مِنۡہُمۡ مِّنۡ اَحَدٍ اَوۡ تَسۡمَعُ لَہُمۡ رِکۡزًا ٪
তাদের আগে আমি কত মানব-গোষ্ঠীকেই ধ্বংস করেছি। তুমি কি হাতড়িয়েও তাদের কারও সন্ধান পাও কিংবা তুমি কি তাদের কোন সাড়া-শব্দ শুনতে পাও?