طه
তা-হা
Ayah ১৩৫ · Meccan · Para ১৬
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
طٰہٰ ۚ
তোয়া-হা।
مَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ لِتَشۡقٰۤی ۙ
আমি তোমার প্রতি কুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি কষ্ট ভোগ করবে।
اِلَّا تَذۡکِرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی ۙ
বরং এটা সেই ব্যক্তির জন্য নসীহত, যে ভয় করে
تَنۡزِیۡلًا مِّمَّنۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ وَالسَّمٰوٰتِ الۡعُلٰی ؕ
এটা সেই সত্তার পক্ষ হতে অল্প-অল্প করে নাযিল করা হচ্ছে, যিনি পৃথিবী ও সমুচ্চ আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন।
اَلرَّحۡمٰنُ عَلَی الۡعَرۡشِ اسۡتَوٰی
তিনি অতি দয়াময়, আরশে ‘ইসতিয়াওয়া’ গ্রহণ করেছেন।
لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا وَمَا تَحۡتَ الثَّرٰی
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, যা-কিছু আছে এ দুয়ের মাঝখানে। আর যা-কিছু ভূ-গর্ভে আছে সব তাঁরই মালিকানাধীন।
وَاِنۡ تَجۡہَرۡ بِالۡقَوۡلِ فَاِنَّہٗ یَعۡلَمُ السِّرَّ وَاَخۡفٰی
তোমরা যদি কোন কথা উচ্চস্বরে বল (বা নিম্নস্বরে), তবে তিনি তো গুপ্ত ও গুপ্ততম সবই জানেন।
اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ لَہُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی
তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সমস্ত উত্তম নাম তাঁরই।
وَہَلۡ اَتٰىکَ حَدِیۡثُ مُوۡسٰی ۘ
(হে নবী!) মূসার বৃত্তান্ত কি তোমার কাছে পৌঁছেছে?
اِذۡ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَہۡلِہِ امۡکُثُوۡۤا اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا لَّعَلِّیۡۤ اٰتِیۡکُمۡ مِّنۡہَا بِقَبَسٍ اَوۡ اَجِدُ عَلَی النَّارِ ہُدًی
যখন সে এক আগুন দেখতে পেয়ে তার পরিবারবর্গকে বলেছিল, তোমরা এখানে থাক। আমি এক আগুন দেখেছি। সম্ভবত আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু জ্বলন্ত অংগার নিয়ে আসতে পারব কিংবা সে আগুনের কাছে আমি পথের কোন দিশা পেয়ে যাব।
فَلَمَّاۤ اَتٰىہَا نُوۡدِیَ یٰمُوۡسٰی ؕ
যখন সে আগুনের কাছে পৌঁছল, ডাক দেওয়া হল হে মূসা!
اِنِّیۡۤ اَنَا رَبُّکَ فَاخۡلَعۡ نَعۡلَیۡکَ ۚ اِنَّکَ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًی ؕ
নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। সুতরাং তোমার জুতা খুলে ফেল। কেননা তুমি এখন পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছো।
وَاَنَا اخۡتَرۡتُکَ فَاسۡتَمِعۡ لِمَا یُوۡحٰی
আমি তোমাকে (নবুওয়াতের জন্য) মনোনীত করেছি। সুতরাং ওহীর মাধ্যমে তোমাকে যা বলা হচ্ছে মনোযোগ দিয়ে শোন।
اِنَّنِیۡۤ اَنَا اللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدۡنِیۡ ۙ وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِذِکۡرِیۡ
নিশ্চয় আমিই আল্লাহ। আমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।
اِنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ اَکَادُ اُخۡفِیۡہَا لِتُجۡزٰی کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا تَسۡعٰی
নিশ্চয়ই কিয়ামত অবশ্যই আসবে। আমি তা (অর্থাৎ তার সময়) গোপন রাখতে চাই। যাতে প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিফল লাভ করে।
فَلَا یَصُدَّنَّکَ عَنۡہَا مَنۡ لَّا یُؤۡمِنُ بِہَا وَاتَّبَعَ ہَوٰىہُ فَتَرۡدٰی
সুতরাং কিয়ামতে বিশ্বাস করে না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এমন কোন ব্যক্তি যেন তোমাকে তা হতে গাফেল করতে না পারে। তা হলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
وَمَا تِلۡکَ بِیَمِیۡنِکَ یٰمُوۡسٰی
হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী?
قَالَ ہِیَ عَصَایَ ۚ اَتَوَکَّوٴُا عَلَیۡہَا وَاَہُشُّ بِہَا عَلٰی غَنَمِیۡ وَلِیَ فِیۡہَا مَاٰرِبُ اُخۡرٰی
মূসা বলল, এটা আমার লাঠি। আমি এতে ভর করি, এর দ্বারা আমার মেষপালের জন্য (গাছ থেকে) পাতা ঝাড়ি এবং এর দ্বারা আমার অন্যান্য প্রয়োজনও সমাধা হয়।
قَالَ اَلۡقِہَا یٰمُوۡسٰی
তিনি বললেন, হে মূসা! ওটা নিচে ফেলে দাও।
فَاَلۡقٰہَا فَاِذَا ہِیَ حَیَّۃٌ تَسۡعٰی
মূসা সেটি ফেলে দিল। অমনি সেটা ধাবমান সাপ হয়ে গেল।
قَالَ خُذۡہَا وَلَا تَخَفۡ ٝ سَنُعِیۡدُہَا سِیۡرَتَہَا الۡاُوۡلٰی
আল্লাহ বললেন, ওটা ধর। ভয় করো না। আমি এখনই ওটা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিচ্ছি।
وَاضۡمُمۡ یَدَکَ اِلٰی جَنَاحِکَ تَخۡرُجۡ بَیۡضَآءَ مِنۡ غَیۡرِ سُوۡٓءٍ اٰیَۃً اُخۡرٰی ۙ
আর তোমার হাত নিজ বগলে রাখ। তা কোনরূপ রোগ ছাড়া শুভ্র উজ্জ্বল হয়ে বের হবে। এটা হবে (তোমার নবুওয়াতের) আরেক নিদর্শন।
لِنُرِیَکَ مِنۡ اٰیٰتِنَا الۡکُبۡرٰی ۚ
(এটা করছি) আমার বড় বড় নিদর্শন থেকে কিছু তোমাকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য।
اِذۡہَبۡ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّہٗ طَغٰی ٪
এবার ফির‘আউনের কাছে যাও। সে অবাধ্যতায় সীমালংঘন করেছে।
قَالَ رَبِّ اشۡرَحۡ لِیۡ صَدۡرِیۡ ۙ
মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ খুলে দিন।
وَیَسِّرۡ لِیۡۤ اَمۡرِیۡ ۙ
এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।
وَاحۡلُلۡ عُقۡدَۃً مِّنۡ لِّسَانِیۡ ۙ
এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন।
یَفۡقَہُوۡا قَوۡلِیۡ ۪
যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে।
وَاجۡعَلۡ لِّیۡ وَزِیۡرًا مِّنۡ اَہۡلِیۡ ۙ
আমার স্বজনদের মধ্য হতে একজনকে আমার সহযোগী বানিয়ে দিন।
ہٰرُوۡنَ اَخِی ۙ
আমার ভাই হারূনকে।
اشۡدُدۡ بِہٖۤ اَزۡرِیۡ ۙ
তার মাধ্যমে আমার শক্তি দৃঢ় করুন।
وَاَشۡرِکۡہُ فِیۡۤ اَمۡرِیۡ ۙ
এবং তাকে আমার কাজে শরীক বানিয়ে দিন।
کَیۡ نُسَبِّحَکَ کَثِیۡرًا ۙ
যাতে আমরা বেশি পরিমাণে আপনার তাসবীহ করতে পারি।
وَّنَذۡکُرَکَ کَثِیۡرًا ؕ
এবং বেশি পরিমাণে আপনার যিকির করতে পারি।
اِنَّکَ کُنۡتَ بِنَا بَصِیۡرًا
নিঃসন্দেহে আপনি আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।
قَالَ قَدۡ اُوۡتِیۡتَ سُؤۡلَکَ یٰمُوۡسٰی
আল্লাহ বললেন, হে মূসা! তুমি যা-কিছু চেয়েছ তা তোমাকে দেওয়া হল।
وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلَیۡکَ مَرَّۃً اُخۡرٰۤی ۙ
এবং আমি তো তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।
اِذۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰۤی اُمِّکَ مَا یُوۡحٰۤی ۙ
যখন আমি তোমার মাকে ওহীর মাধ্যমে বলেছিলাম সেই কথা, যা এখন ওহীর মাধ্যমে (তোমাকে) জানানো হচ্ছে
اَنِ اقۡذِفِیۡہِ فِی التَّابُوۡتِ فَاقۡذِفِیۡہِ فِی الۡیَمِّ فَلۡیُلۡقِہِ الۡیَمُّ بِالسَّاحِلِ یَاۡخُذۡہُ عَدُوٌّ لِّیۡ وَعَدُوٌّ لَّہٗ ؕ وَاَلۡقَیۡتُ عَلَیۡکَ مَحَبَّۃً مِّنِّیۡ ۬ۚ وَلِتُصۡنَعَ عَلٰی عَیۡنِیۡ ۘ
তুমি এ (শিশু)কে সিন্দুকের মধ্যে রাখ। তারপর সিন্দুকটি দরিয়ায় ফেলে দাও। তারপর দরিয়া সে সিন্দুকটিকে তীরে নিয়ে ফেলে দেবে। তাকে তুলে নেবে আমার এক শত্রু এবং তারও শত্রু। আমি আমার পক্ষ হতে তোমার প্রতি ভালোবাসা বর্ষণ করেছিলাম আর এসব করেছিলাম এজন্য, যাতে তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।
اِذۡ تَمۡشِیۡۤ اُخۡتُکَ فَتَقُوۡلُ ہَلۡ اَدُلُّکُمۡ عَلٰی مَنۡ یَّکۡفُلُہٗ ؕ فَرَجَعۡنٰکَ اِلٰۤی اُمِّکَ کَیۡ تَقَرَّ عَیۡنُہَا وَلَا تَحۡزَنَ ۬ؕ وَقَتَلۡتَ نَفۡسًا فَنَجَّیۡنٰکَ مِنَ الۡغَمِّ وَفَتَنّٰکَ فُتُوۡنًا ۬۟ فَلَبِثۡتَ سِنِیۡنَ فِیۡۤ اَہۡلِ مَدۡیَنَ ۬ۙ ثُمَّ جِئۡتَ عَلٰی قَدَرٍ یّٰمُوۡسٰی
সেই সময়ের কথা চিন্তা কর, যখন তোমার বোন ঘর থেকে বের হয়ে চলছে তারপর (ফিরাউনের কর্মচারীদেরকে) বলছে, আমি কি তোমাদেরকে এমন কারো সন্ধান দেব, যে একে লালন-পালন করবে? এভাবে আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে চিন্তিত না থাকে। তুমি এক ব্যক্তিকে মেরে ফেলেছিলে। তারপর আমি তোমাকে সে সংকট থেকে উদ্ধার করি। আর আমি তোমাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করি। তারপর তুমি কয়েক বছর মাদয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করলে। তারপর হে মূসা! এমন এক সময় এখানে আসলে, যা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল।
وَاصۡطَنَعۡتُکَ لِنَفۡسِیۡ ۚ
এবং আমি তোমাকে বিশেষভাবে আমার জন্য তৈরি করেছি।
اِذۡہَبۡ اَنۡتَ وَاَخُوۡکَ بِاٰیٰتِیۡ وَلَا تَنِیَا فِیۡ ذِکۡرِیۡ ۚ
তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে যাও এবং আমার যিকিরে শৈথিল্য করো না।
اِذۡہَبَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّہٗ طَغٰی ۚۖ
উভয়ে ফির‘আউনের কাছে যাও। সে সীমালংঘন করেছে।
فَقُوۡلَا لَہٗ قَوۡلًا لَّیِّنًا لَّعَلَّہٗ یَتَذَکَّرُ اَوۡ یَخۡشٰی
তোমরা গিয়ে তার সাথে নম্র কথা বলবে। হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা (আল্লাহকে) ভয় করবে।
قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنۡ یَّفۡرُطَ عَلَیۡنَاۤ اَوۡ اَنۡ یَّطۡغٰی
তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশঙ্কা করি সে কিনা আমাদের উপর অত্যাচার করে অথবা সীমালংঘন করতে উদ্যত হয়।
قَالَ لَا تَخَافَاۤ اِنَّنِیۡ مَعَکُمَاۤ اَسۡمَعُ وَاَرٰی
আল্লাহ বললেন, ভয় করো না। আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। আমি শুনি ও দেখি।
فَاۡتِیٰہُ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلَا رَبِّکَ فَاَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۬ۙ وَلَا تُعَذِّبۡہُمۡ ؕ قَدۡ جِئۡنٰکَ بِاٰیَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکَ ؕ وَالسَّلٰمُ عَلٰی مَنِ اتَّبَعَ الۡہُدٰی
সুতরাং তোমরা তার কাছে যাও এবং বল, আমরা তোমার প্রতিপালকের রাসূল। কাজেই বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও এবং তাদেরকে শাস্তি দিও না। আমরা তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের নিদর্শন নিয়ে এসেছি। আর শান্তি তো তাদেরই প্রতি, যারা হিদায়াত অনুসরণ করে।
اِنَّا قَدۡ اُوۡحِیَ اِلَیۡنَاۤ اَنَّ الۡعَذَابَ عَلٰی مَنۡ کَذَّبَ وَتَوَلّٰی
আমাদের প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, শাস্তি হবে সেই ব্যক্তির উপর, যে (সত্যকে) অস্বীকার করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।
قَالَ فَمَنۡ رَّبُّکُمَا یٰمُوۡسٰی
(এসব কথা শুনে) ফির‘আউন বলল, হে মূসা! তোমাদের রব্ব কে?
قَالَ رَبُّنَا الَّذِیۡۤ اَعۡطٰی کُلَّ شَیۡءٍ خَلۡقَہٗ ثُمَّ ہَدٰی
মূসা বলল, আমাদের রব্ব তো তিনি, যিনি প্রত্যেককে তার উপযুক্ত আকৃতি দিয়েছেন, তারপর তার পথ প্রদর্শনও করেছেন।
قَالَ فَمَا بَالُ الۡقُرُوۡنِ الۡاُوۡلٰی
ফিরাউন বলল, তাহলে পূর্বে যেসব জাতি গত হয়েছে তাদের অবস্থা কী?
قَالَ عِلۡمُہَا عِنۡدَ رَبِّیۡ فِیۡ کِتٰبٍ ۚ لَا یَضِلُّ رَبِّیۡ وَلَا یَنۡسَی ۫
মূসা বলল, তাদের জ্ঞান আমার প্রতিপালকের কাছে এক কিতাবে সংরক্ষিত আছে। আমার রব্বের কোন বিভ্রান্তি দেখা দেয় না এবং তিনি ভুলেও যান না।
الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ مَہۡدًا وَّسَلَکَ لَکُمۡ فِیۡہَا سُبُلًا وَّاَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ؕ فَاَخۡرَجۡنَا بِہٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡ نَّبَاتٍ شَتّٰی
তিনি সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা বানিয়েছেন, তাতে তোমাদের জন্য চলার পথ দিয়েছেন এবং আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেছেন। তারপর আমি তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।
کُلُوۡا وَارۡعَوۡا اَنۡعَامَکُمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّہٰی ٪
তোমরা নিজেরাও তা খাও এবং তোমাদের গবাদি পশুকেও চরাও। নিশ্চয়ই এসব বিষয়ের মধ্যে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শন আছে।
مِنۡہَا خَلَقۡنٰکُمۡ وَفِیۡہَا نُعِیۡدُکُمۡ وَمِنۡہَا نُخۡرِجُکُمۡ تَارَۃً اُخۡرٰی
আমি তোমাদেরকে এ মাটি হতেই সৃষ্টি করেছি, এর মধ্যে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব এবং পুনরায় তোমাদেরকে এরই মধ্য হতে বের করব।
وَلَقَدۡ اَرَیۡنٰہُ اٰیٰتِنَا کُلَّہَا فَکَذَّبَ وَاَبٰی
বস্তুত আমি তাকে (অর্থাৎ ফির‘আউনকে) আমার সমস্ত নিদর্শন দেখিয়েছিলাম, কিন্তু সে কেবল অস্বীকারই করেছে ও অমান্য করেছে।
قَالَ اَجِئۡتَنَا لِتُخۡرِجَنَا مِنۡ اَرۡضِنَا بِسِحۡرِکَ یٰمُوۡسٰی
সে বলল, হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যই এসেছ যে, তোমার যাদু দ্বারা আমাদেরকে আমাদের ভূমি থেকে বের করে দেবে?
فَلَنَاۡتِیَنَّکَ بِسِحۡرٍ مِّثۡلِہٖ فَاجۡعَلۡ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَکَ مَوۡعِدًا لَّا نُخۡلِفُہٗ نَحۡنُ وَلَاۤ اَنۡتَ مَکَانًا سُوًی
ঠিক আছে, আমরাও তোমার সামনে অবশ্যই অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে কোন উন্মুক্ত স্থানে পরস্পরে মুকাবেলা করার জন্য একটা সময় নির্দিষ্ট কর, যার ব্যতিক্রম আমরাও করব না এবং তুমিও না।
قَالَ مَوۡعِدُکُمۡ یَوۡمُ الزِّیۡنَۃِ وَاَنۡ یُّحۡشَرَ النَّاسُ ضُحًی
মূসা বলল, যে দিন আনন্দ উদযাপন করা হয়, তোমাদের সাথে সে দিনই স্থিরীকৃত রইল এবং এটা স্থির থাকল যে, দিন চড়ে ওঠা মাত্রই মানুষকে সমবেত করা হবে।
فَتَوَلّٰی فِرۡعَوۡنُ فَجَمَعَ کَیۡدَہٗ ثُمَّ اَتٰی
অতঃপর ফির‘আউন (নিজ জায়গায়) চলে গেল এবং সে নিজ কৌশলসমূহ একাট্টা করল। তারপর (মুকাবেলার জন্য) উপস্থিত হল।
قَالَ لَہُمۡ مُّوۡسٰی وَیۡلَکُمۡ لَا تَفۡتَرُوۡا عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا فَیُسۡحِتَکُمۡ بِعَذَابٍ ۚ وَقَدۡ خَابَ مَنِ افۡتَرٰی
মূসা তাদেরকে (অর্থাৎ যাদুকরদেরকে) বলল, আফসোস তোমাদের প্রতি! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। তা করলে তিনি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দ্বারা নির্মূল করে ফেলবেন। আর যে-কেউ মিথ্যা আরোপ করে, সে নিশ্চিতভাবে ব্যর্থকাম হয়।
فَتَنَازَعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ بَیۡنَہُمۡ وَاَسَرُّوا النَّجۡوٰی
এর ফলে তাদের মধ্যে নিজেদের করণীয় বিষয়ে বিরোধ দেখা দিল। তারা চুপিসারে পরামর্শ করতে লাগল।
قَالُوۡۤا اِنۡ ہٰذٰىنِ لَسٰحِرٰنِ یُرِیۡدٰنِ اَنۡ یُّخۡرِجٰکُمۡ مِّنۡ اَرۡضِکُمۡ بِسِحۡرِہِمَا وَیَذۡہَبَا بِطَرِیۡقَتِکُمُ الۡمُثۡلٰی
(পরিশেষে) তারা বলল, নিশ্চয়ই এ দু’জন (অর্থাৎ মূসা ও হারূন) যাদুকর। তারা চায় তোমাদেরকে তোমাদের ভূমি থেকে উৎখাত করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট (ধর্ম) ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে।
فَاَجۡمِعُوۡا کَیۡدَکُمۡ ثُمَّ ائۡتُوۡا صَفًّا ۚ وَقَدۡ اَفۡلَحَ الۡیَوۡمَ مَنِ اسۡتَعۡلٰی
সুতরাং তোমরা তোমাদের কৌশল সংহত করে নাও, তারপর সারিবদ্ধ হয়ে এসে যাও। নিশ্চিত জেন, আজ যে জয়ী হবে সেই সফলতা লাভ করবে।
قَالُوۡا یٰمُوۡسٰۤی اِمَّاۤ اَنۡ تُلۡقِیَ وَاِمَّاۤ اَنۡ نَّکُوۡنَ اَوَّلَ مَنۡ اَلۡقٰی
যাদুকরগণ বলল, হে মূসা! হয় তুমি আগে (নিজ লাঠি) নিক্ষেপ কর অথবা প্রথমে আমরাই নিক্ষেপ করি।
قَالَ بَلۡ اَلۡقُوۡا ۚ فَاِذَا حِبَالُہُمۡ وَعِصِیُّہُمۡ یُخَیَّلُ اِلَیۡہِ مِنۡ سِحۡرِہِمۡ اَنَّہَا تَسۡعٰی
মূসা বলল, বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। অতঃপর তাদের যাদু ক্রিয়ায় হঠাৎ মূসার মনে হয়, তাদের রশি ও লাঠিগুলো ছোটাছুটি করছে।
فَاَوۡجَسَ فِیۡ نَفۡسِہٖ خِیۡفَۃً مُّوۡسٰی
ফলে মূসা তার অন্তরে কিছুটা ভীতি অনুভব করল।
قُلۡنَا لَا تَخَفۡ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡاَعۡلٰی
আমি বললাম, ভয় করো না। নিশ্চিত থাক তুমিই উপরে থাকবে।
وَاَلۡقِ مَا فِیۡ یَمِیۡنِکَ تَلۡقَفۡ مَا صَنَعُوۡا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوۡا کَیۡدُ سٰحِرٍ ؕ وَلَا یُفۡلِحُ السَّاحِرُ حَیۡثُ اَتٰی
তোমার ডান হাতে যা (অর্থাৎ যে লাঠি) আছে, তা (মাটিতে) নিক্ষেপ কর। সেটি তারা যে কারসাজি করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে। তাদের যাবতীয় কারসাজি তো যাদুকরের ভেল্কি মাত্র। যাদুকর যেখানেই যাক, সফলকাম হবে না।
فَاُلۡقِیَ السَّحَرَۃُ سُجَّدًا قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ ہٰرُوۡنَ وَمُوۡسٰی
সুতরাং (তাই হল এবং) সমস্ত যাদুকরকে সিজদায় পাতিত করা হল। তারা বলতে লাগল আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।
قَالَ اٰمَنۡتُمۡ لَہٗ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَکُمۡ ؕ اِنَّہٗ لَکَبِیۡرُکُمُ الَّذِیۡ عَلَّمَکُمُ السِّحۡرَ ۚ فَلَاُقَطِّعَنَّ اَیۡدِیَکُمۡ وَاَرۡجُلَکُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ وَّلَاُصَلِّبَنَّکُمۡ فِیۡ جُذُوۡعِ النَّخۡلِ ۫ وَلَتَعۡلَمُنَّ اَیُّنَاۤ اَشَدُّ عَذَابًا وَّاَبۡقٰی
ফিরাউন বলল, আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে! আমার বিশ্বাস সেই (অর্থাৎ মূসা) তোমাদের দলপতি, যে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। সুতরাং আমিও সংকল্প স্থির করেছি তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াব। তোমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে আমাদের দু’জনের মধ্যে কার শাস্তি বেশি কঠিন ও বেশি স্থায়ী।
قَالُوۡا لَنۡ نُّؤۡثِرَکَ عَلٰی مَا جَآءَنَا مِنَ الۡبَیِّنٰتِ وَالَّذِیۡ فَطَرَنَا فَاقۡضِ مَاۤ اَنۡتَ قَاضٍ ؕ اِنَّمَا تَقۡضِیۡ ہٰذِہِ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ؕ
যাদুকরগণ বলল, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন সেই সত্তার কসম! আমাদের কাছে যে উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী এসেছে তার উপর আমরা তোমাকে কিছুতেই প্রাধান্য দিতে পারব না। সুতরাং তুমি যা করতে চাও কর। তুমি যাই কর না কেন তা এই পার্থিব জীবনেই হবে।
اِنَّـاۤ اٰمَنَّا بِرَبِّنَا لِیَغۡفِرَ لَنَا خَطٰیٰنَا وَمَاۤ اَکۡرَہۡتَنَا عَلَیۡہِ مِنَ السِّحۡرِ ؕ وَاللّٰہُ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی
আমরা তো আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান এনেছি, যাতে তিনি ক্ষমা করে দেন আমাদের গুনাহসমূহ এবং তুমি আমাদেরকে যে যাদু করতে বাধ্য করেছ তাও। আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং চিরস্থায়ী।
اِنَّہٗ مَنۡ یَّاۡتِ رَبَّہٗ مُجۡرِمًا فَاِنَّ لَہٗ جَہَنَّمَ ؕ لَا یَمُوۡتُ فِیۡہَا وَلَا یَحۡیٰی
বস্তুত যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের কাছে অপরাধী হয়ে আসবে, তার জন্য আছে জাহান্নাম, যার ভেতর সে মরবেও না, বাঁচবেও না।
وَمَنۡ یَّاۡتِہٖ مُؤۡمِنًا قَدۡ عَمِلَ الصّٰلِحٰتِ فَاُولٰٓئِکَ لَہُمُ الدَّرَجٰتُ الۡعُلٰی ۙ
যে ব্যক্তি তার নিকট মুমিন হয়ে আসবে এবং সে সৎকর্মও করে থাকবে, এরূপ লোকদের জন্যই রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা
جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ وَذٰلِکَ جَزٰٓؤُا مَنۡ تَزَکّٰی ٪
স্থায়ী উদ্যানরাজি, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। এটা যে পবিত্রতা অবলম্বন করেছে তার পুরস্কার।
وَلَقَدۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی ۬ۙ اَنۡ اَسۡرِ بِعِبَادِیۡ فَاضۡرِبۡ لَہُمۡ طَرِیۡقًا فِی الۡبَحۡرِ یَبَسًا ۙ لَّا تَخٰفُ دَرَکًا وَّلَا تَخۡشٰی
আমি মূসার প্রতি ওহী নাযিল করেছিলাম, তুমি আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতের বেলা রওয়ানা হয়ে যাও। তারপর তাদের জন্য সাগরের ভেতর এমনভাবে শুকনো পথ তৈরি কর, যাতে পেছন থেকে (শত্রু এসে) তোমাকে ধরে ফেলার আশঙ্কা না থাকে এবং অন্য কোন ভয়ও না থাকে।
فَاَتۡبَعَہُمۡ فِرۡعَوۡنُ بِجُنُوۡدِہٖ فَغَشِیَہُمۡ مِّنَ الۡیَمِّ مَا غَشِیَہُمۡ ؕ
অতঃপর ফির‘আউন নিজ সেনাবাহিনীসহ তার পশ্চাদ্ধাবন করলে সাগরের যে (ভয়াল) জিনিস তাকে আচ্ছন্ন করার তা তাকে আচ্ছন্ন করল।
وَاَضَلَّ فِرۡعَوۡنُ قَوۡمَہٗ وَمَا ہَدٰی
বস্তুত ফির‘আউন তার জাতিকে বিপথগামী করেছিল। সে তাদেরকে সঠিক পথ দেখায়নি।
یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ قَدۡ اَنۡجَیۡنٰکُمۡ مِّنۡ عَدُوِّکُمۡ وَوٰعَدۡنٰکُمۡ جَانِبَ الطُّوۡرِ الۡاَیۡمَنَ وَنَزَّلۡنَا عَلَیۡکُمُ الۡمَنَّ وَالسَّلۡوٰی
হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম এবং তোমাদেরকে তূর পাহাড়ের ডান পাশে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আর তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছিলাম মান্না ও সালওয়া।
کُلُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰکُمۡ وَلَا تَطۡغَوۡا فِیۡہِ فَیَحِلَّ عَلَیۡکُمۡ غَضَبِیۡ ۚ وَمَنۡ یَّحۡلِلۡ عَلَیۡہِ غَضَبِیۡ فَقَدۡ ہَوٰی
যে পবিত্র রিযক আমি তোমাদেরকে দিয়েছি তা হতে খাও। তাতে সীমালংঘন করো না। তা করলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ বর্ষিত হবে। আর আমার ক্রোধ যার উপর বর্ষিত হয় সে অনিবার্যভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
وَاِنِّیۡ لَغَفَّارٌ لِّمَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اہۡتَدٰی
আর এটাও সত্য যে, যে ব্যক্তি ঈমান আনে, সৎকর্ম করে অতঃপর সরল পথে প্রতিষ্ঠিত থাকে আমি তার পক্ষে পরম ক্ষমাশীল।
وَمَاۤ اَعۡجَلَکَ عَنۡ قَوۡمِکَ یٰمُوۡسٰی
এবং (মূসা যখন সঙ্গের লোকজনের আগেই তূর পাহাড়ে চলে আসলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বললেন,) হে মূসা! তুমি তাড়াহুড়া করে তোমার সম্প্রদায়ের আগে আগে কেন আসলে?
قَالَ ہُمۡ اُولَآءِ عَلٰۤی اَثَرِیۡ وَعَجِلۡتُ اِلَیۡکَ رَبِّ لِتَرۡضٰی
সে বলল, ওই তো তারা আমার পিছনেই আসল বলে। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে তাড়াতাড়ি এসেছি এজন্য, যাতে আপনি খুশী হন।
قَالَ فَاِنَّا قَدۡ فَتَنَّا قَوۡمَکَ مِنۡۢ بَعۡدِکَ وَاَضَلَّہُمُ السَّامِرِیُّ
আল্লাহ বললেন, তোমার চলে আসার পর আমি তোমার সম্প্রদায়কে ফিতনায় ফেলেছি আর সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে।
فَرَجَعَ مُوۡسٰۤی اِلٰی قَوۡمِہٖ غَضۡبَانَ اَسِفًا ۬ۚ قَالَ یٰقَوۡمِ اَلَمۡ یَعِدۡکُمۡ رَبُّکُمۡ وَعۡدًا حَسَنًا ۬ؕ اَفَطَالَ عَلَیۡکُمُ الۡعَہۡدُ اَمۡ اَرَدۡتُّمۡ اَنۡ یَّحِلَّ عَلَیۡکُمۡ غَضَبٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ فَاَخۡلَفۡتُمۡ مَّوۡعِدِیۡ
সুতরাং মূসা ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে একটি উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? তারপর কি তোমাদের উপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে? না কি তোমরা চাচ্ছিলে তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের ক্রোধ বর্ষিত হোক আর সে কারণে তোমরা আমার সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করেছ?
قَالُوۡا مَاۤ اَخۡلَفۡنَا مَوۡعِدَکَ بِمَلۡکِنَا وَلٰکِنَّا حُمِّلۡنَاۤ اَوۡزَارًا مِّنۡ زِیۡنَۃِ الۡقَوۡمِ فَقَذَفۡنٰہَا فَکَذٰلِکَ اَلۡقَی السَّامِرِیُّ ۙ
তারা বলল, আমরা আপনার সাথে স্বেচ্ছায় ওয়াদা ভঙ্গ করিনি। বরং ব্যাপার এই যে, আমাদের উপর মানুষের অলংকারের বোঝা চাপানো ছিল। আমরা তা ফেলে দেই। তারপর একইভাবে সামেরীও (কিছু) ফেলে।
فَاَخۡرَجَ لَہُمۡ عِجۡلًا جَسَدًا لَّہٗ خُوَارٌ فَقَالُوۡا ہٰذَاۤ اِلٰـہُکُمۡ وَاِلٰہُ مُوۡسٰی ۬ فَنَسِیَ ؕ
তারপর সে তাদের জন্য বের করল একটি বাছুর একটি দেহকাঠামো যার ছিল হাম্বা ধ্বনি। তারা বলল, এই তো তোমাদের মাবুদ এবং মূসারও মাবুদ, কিন্তু মূসা ভুলে গিয়েছে।
اَفَلَا یَرَوۡنَ اَلَّا یَرۡجِعُ اِلَیۡہِمۡ قَوۡلًا ۬ۙ وَّلَا یَمۡلِکُ لَہُمۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا ٪
তবে কি তাদের নজরে আসেনি যে, তা তাদের কথায় সাড়া দেয় না এবং তাদের কোন অপকার বা উপকার করারও ক্ষমতা রাখে না?
وَلَقَدۡ قَالَ لَہُمۡ ہٰرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلُ یٰقَوۡمِ اِنَّمَا فُتِنۡتُمۡ بِہٖ ۚ وَاِنَّ رَبَّکُمُ الرَّحۡمٰنُ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ وَاَطِیۡعُوۡۤا اَمۡرِیۡ
হারূন তাদেরকে আগেই বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদেরকে এর (অর্থাৎ এই বাছুরটির) দ্বারা পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের রব্ব তো রহমান। সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল।
قَالُوۡا لَنۡ نَّبۡرَحَ عَلَیۡہِ عٰکِفِیۡنَ حَتّٰی یَرۡجِعَ اِلَیۡنَا مُوۡسٰی
তারা বলল, যতক্ষণ পর্যন্ত মূসা ফিরে না আসে, আমরা এর পূজায় রত থাকব।
قَالَ یٰہٰرُوۡنُ مَا مَنَعَکَ اِذۡ رَاَیۡتَہُمۡ ضَلُّوۡۤا ۙ
মূসা (ফিরে এসে) বলল, হে হারূন! তুমি যখন দেখলে তারা বিপথগামী হয়ে গেছে, তখন কোন জিনিস তোমাকে নিবৃত্ত রেখেছিল
اَلَّا تَتَّبِعَنِ ؕ اَفَعَصَیۡتَ اَمۡرِیۡ
যে, তুমি আমার অনুসরণ করলে না? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করলে?
قَالَ یَبۡنَؤُمَّ لَا تَاۡخُذۡ بِلِحۡیَتِیۡ وَلَا بِرَاۡسِیۡ ۚ اِنِّیۡ خَشِیۡتُ اَنۡ تَقُوۡلَ فَرَّقۡتَ بَیۡنَ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ وَلَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِیۡ
হারূন বলল, ওহে আমার মায়ের পুত্র! আমার দাড়ি ধরো না এবং আমার মাথাও নয়। আসলে আমি আশঙ্কা করছিলাম তুমি বলবে, ‘তুমি বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা আমলে নাওনি।
قَالَ فَمَا خَطۡبُکَ یٰسَامِرِیُّ
মূসা বলল, তা হে সামেরী! তোমার ব্যাপার কী?
قَالَ بَصُرۡتُ بِمَا لَمۡ یَبۡصُرُوۡا بِہٖ فَقَبَضۡتُ قَبۡضَۃً مِّنۡ اَثَرِ الرَّسُوۡلِ فَنَبَذۡتُہَا وَکَذٰلِکَ سَوَّلَتۡ لِیۡ نَفۡسِیۡ
সে বলল, আমি এমন একটা জিনিস দেখেছিলাম, যা অন্যদের নজরে পড়েনি। তাই আমি রাসূলের পদচিহ্ন থেকে একমুঠো তুলে নিয়েছিলাম। সেটাই আমি (বাছুরের মুখে) ফেলে দেই। আমার মন আমাকে এমনই কিছু বুঝিয়েছিল।
قَالَ فَاذۡہَبۡ فَاِنَّ لَکَ فِی الۡحَیٰوۃِ اَنۡ تَقُوۡلَ لَا مِسَاسَ ۪ وَاِنَّ لَکَ مَوۡعِدًا لَّنۡ تُخۡلَفَہٗ ۚ وَانۡظُرۡ اِلٰۤی اِلٰـہِکَ الَّذِیۡ ظَلۡتَ عَلَیۡہِ عَاکِفًا ؕ لَنُحَرِّقَنَّہٗ ثُمَّ لَنَنۡسِفَنَّہٗ فِی الۡیَمِّ نَسۡفًا
মূসা বলল, তুমি চলে যাও। জীবনভর তোমার কাজ হবে মানুষকে এই বলতে থাকা যে, ‘আমাকে ছুঁয়ো না’। (তাছাড়া) তোমার জন্য আছে এক প্রতিশ্রুত কাল, যা তোমার থেকে টলানো যাবে না। তুমি তোমার এই (অলীক) মাবুদকে দেখ, যার পূজায় তুমি জমে বসেছিলে, আমরা একে জ্বালিয়ে দেব। তারপর একে গুঁড়ো করে সাগরে ছিটিয়ে দেব।
اِنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمُ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ وَسِعَ کُلَّ شَیۡءٍ عِلۡمًا
প্রকৃতপক্ষে তোমাদের সকলের মাবুদ তো কেবল এক আল্লাহই, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তাঁর জ্ঞান সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে।
کَذٰلِکَ نَقُصُّ عَلَیۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَ ۚ وَقَدۡ اٰتَیۡنٰکَ مِنۡ لَّدُنَّا ذِکۡرًا ۖۚ
(হে নবী!) আমি এভাবে অতীতে যা ঘটেছে তার কিছু সংবাদ তোমাকে অবহিত করি আর আমি তোমাকে আমার নিকট থেকে দান করেছি এক উপদেশবাণী।
مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡہُ فَاِنَّہٗ یَحۡمِلُ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وِزۡرًا ۙ
যারা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে কিয়ামতের দিন তারা বহন করবে মস্ত বোঝা।
خٰلِدِیۡنَ فِیۡہِ ؕ وَسَآءَ لَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ حِمۡلًا ۙ
যার (শাস্তির) ভেতর তারা সর্বদা থাকবে। কিয়ামতের দিন তাদের জন্য এটা হবে নিকৃষ্টতর বোঝা,
یَّوۡمَ یُنۡفَخُ فِی الصُّوۡرِ وَنَحۡشُرُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ یَوۡمَئِذٍ زُرۡقًا ۚۖ
যেদিন শিঙ্গায় ফুক দেওয়া হবে এবং আমি অপরাধীদের সমবেত করব নীলবর্ণরূপে।
یَّتَخَافَتُوۡنَ بَیۡنَہُمۡ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا عَشۡرًا
তাদের নিজেদের মধ্যে চুপিসারে বলাবলি করবে, তোমরা (কবরে বা দুনিয়ায়) দশ দিনের বেশি থাকনি।
نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا یَقُوۡلُوۡنَ اِذۡ یَقُوۡلُ اَمۡثَلُہُمۡ طَرِیۡقَۃً اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا یَوۡمًا ٪
তারা যে বিষয়ে বলাবলি করবে তার প্রকৃত অবস্থা আমার ভালোভাবে জানা আছে, যখন তাদের মধ্যে যে সর্বাপেক্ষা ভালো পথে ছিল সে বলবে, তোমরা এক দিনের বেশি অবস্থান করনি।
وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡجِبَالِ فَقُلۡ یَنۡسِفُہَا رَبِّیۡ نَسۡفًا ۙ
লোকে তোমাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (যে, কিয়ামতে তার কী অবস্থা হবে?) বলে দাও, আমার প্রতিপালক তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ধুলার মত উড়িয়ে দিবেন।
فَیَذَرُہَا قَاعًا صَفۡصَفًا ۙ
আর তাকে পরিণত করবেন সমতল প্রান্তরে
لَّا تَرٰی فِیۡہَا عِوَجًا وَّلَاۤ اَمۡتًا ؕ
যাতে তুমি না কোন বক্রতা দেখতে পাবে না কোন উচ্চতা।
یَوۡمَئِذٍ یَّتَّبِعُوۡنَ الدَّاعِیَ لَا عِوَجَ لَہٗ ۚ وَخَشَعَتِ الۡاَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ اِلَّا ہَمۡسًا
সে দিন সকলে আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে এমনভাবে যে, তার কাছে কোন বক্রতা পরিদৃষ্ট হবে না এবং দয়াময় আল্লাহর সামনে সব আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে তুমি পায়ের মৃদু আওয়াজ ছাড়া কিছুই শুনতে পাবে না।
یَوۡمَئِذٍ لَّا تَنۡفَعُ الشَّفَاعَۃُ اِلَّا مَنۡ اَذِنَ لَہُ الرَّحۡمٰنُ وَرَضِیَ لَہٗ قَوۡلًا
সে দিন কারও সুপারিশ কোন কাজে আসবে না, সেই ব্যক্তি (এর সুপারিশ) ছাড়া, যাকে দয়াময় আল্লাহ অনুমতি দিবেন ও যার কথা তিনি পছন্দ করবেন।
یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ وَلَا یُحِیۡطُوۡنَ بِہٖ عِلۡمًا
তিনি মানুষের অগ্র-পশ্চাৎ সবকিছুই জানেন। কিন্তু তারা তাকে জ্ঞানায়ত্ত করতে পারে না।
وَعَنَتِ الۡوُجُوۡہُ لِلۡحَیِّ الۡقَیُّوۡمِ ؕ وَقَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمًا
আল-হায়্যুল কায়্যূমের (অর্থাৎ চিরঞ্জীব, নিয়ন্ত্রক, সেই সত্তার) সামনে সকল চেহারা নত হয়ে থাকবে। আর যে-কেউ জুলুমের ভার বহন করবে, সে-ই ব্যর্থকাম হবে।
وَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَا یَخٰفُ ظُلۡمًا وَّلَا ہَضۡمًا
আর যে-কেউ সৎকর্ম করবে, সে যদি মুমিন হয়, তবে তার কোন জুলুমের ভয় থাকবে না এবং অধিকার খর্বেরও না।
وَکَذٰلِکَ اَنۡزَلۡنٰہُ قُرۡاٰنًا عَرَبِیًّا وَّصَرَّفۡنَا فِیۡہِ مِنَ الۡوَعِیۡدِ لَعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ اَوۡ یُحۡدِثُ لَہُمۡ ذِکۡرًا
এভাবেই আমি একে এক আরবী কুরআনরূপে নাযিল করেছি এবং এতে সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি বিভিন্নভাবে, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা তা তাদের ভেতর কিছুটা সচেতনতা উৎপাদন করে।
فَتَعٰلَی اللّٰہُ الۡمَلِکُ الۡحَقُّ ۚ وَلَا تَعۡجَلۡ بِالۡقُرۡاٰنِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یُّقۡضٰۤی اِلَیۡکَ وَحۡیُہٗ ۫ وَقُلۡ رَّبِّ زِدۡنِیۡ عِلۡمًا
সুতরাং আল্লাহ সমুচ্চ, যিনি প্রকৃত অধিপতি। (হে নবী!) ওহীর মাধ্যমে যখন কুরআন নাযিল হয়, তখন তা শেষ হওয়ার আগে কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করো না এবং বল, হে আমার প্রতিপালক! জ্ঞানে আমাকে আরও উন্নতি দান কর।
وَلَقَدۡ عَہِدۡنَاۤ اِلٰۤی اٰدَمَ مِنۡ قَبۡلُ فَنَسِیَ وَلَمۡ نَجِدۡ لَہٗ عَزۡمًا ٪
আমি ইতঃপূর্বে আদমকে একটা বিষয়ে আদেশ করেছিলাম, কিন্তু সে তা ভুলে গেল এবং আমি তার মধ্যে পাইনি প্রতিজ্ঞা।
وَاِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ اَبٰی
সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, আদমকে সিজদা কর। তখন সকলেই সিজদা করল, ইবলীস ছাড়া। সে অস্বীকার করল।
فَقُلۡنَا یٰۤـاٰدَمُ اِنَّ ہٰذَا عَدُوٌّ لَّکَ وَلِزَوۡجِکَ فَلَا یُخۡرِجَنَّکُمَا مِنَ الۡجَنَّۃِ فَتَشۡقٰی
সুতরাং আমি বললাম, হে আদম! এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। কাজেই সে যেন তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়। তাহলে তুমি কষ্টে পড়ে যাবে।
اِنَّ لَکَ اَلَّا تَجُوۡعَ فِیۡہَا وَلَا تَعۡرٰی ۙ
এখানে তোমার এই সুবিধা আছে যে, তুমি ক্ষুধার্ত হবে না এবং বিবস্ত্রও না।
وَاَنَّکَ لَا تَظۡمَؤُا فِیۡہَا وَلَا تَضۡحٰی
আর না এখানে তৃষ্ণার্ত হবে, না রোদের তাপ ভুগবে।
فَوَسۡوَسَ اِلَیۡہِ الشَّیۡطٰنُ قَالَ یٰۤـاٰدَمُ ہَلۡ اَدُلُّکَ عَلٰی شَجَرَۃِ الۡخُلۡدِ وَمُلۡکٍ لَّا یَبۡلٰی
অতঃপর শয়তান তার অন্তরে কুমন্ত্রণা দিল। সে বলল, হে আদম! তোমাকে কি এমন একটা গাছের সন্ধান দেব, যা দ্বারা অনন্ত জীবন ও এমন রাজত্ব লাভ হয়, যা কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না?
فَاَکَلَا مِنۡہَا فَبَدَتۡ لَہُمَا سَوۡاٰتُہُمَا وَطَفِقَا یَخۡصِفٰنِ عَلَیۡہِمَا مِنۡ وَّرَقِ الۡجَنَّۃِ ۫ وَعَصٰۤی اٰدَمُ رَبَّہٗ فَغَوٰی ۪ۖ
অতঃপর তারা সে গাছ থেকে কিছু খেয়ে ফেলল। ফলে তাদের লজ্জাস্থানসমূহ তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে গেল। তখন তারা জান্নাতের পাতা নিজেদের উপর জুড়তে লাগল। আর (এভাবে) আদম নিজ প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করল ও বিভ্রান্ত হল।
ثُمَّ اجۡتَبٰہُ رَبُّہٗ فَتَابَ عَلَیۡہِ وَہَدٰی
অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন। সুতরাং তার তাওবা কবুল করলেন ও তাঁকে পথ দেখালেন।
قَالَ اہۡبِطَا مِنۡہَا جَمِیۡعًۢا بَعۡضُکُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ ۚ فَاِمَّا یَاۡتِیَنَّکُمۡ مِّنِّیۡ ہُدًی ۬ۙ فَمَنِ اتَّبَعَ ہُدَایَ فَلَا یَضِلُّ وَلَا یَشۡقٰی
আল্লাহ বললেন, তোমরা উভয়ে এখান থেকে নিচে নেমে যাও। তোমরা একে অন্যের শত্রু। অতঃপর তোমাদের কাছে আমার পক্ষ হতে যদি কোন হিদায়াত পৌঁছে, তবে যে আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না এবং দুঃখগ্রস্ত হবে না।
وَمَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِکۡرِیۡ فَاِنَّ لَہٗ مَعِیۡشَۃً ضَنۡکًا وَّنَحۡشُرُہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اَعۡمٰی
আর যে আমার উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে বড় সংকটময়। আর কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ করে উঠাব।
قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِیۡۤ اَعۡمٰی وَقَدۡ کُنۡتُ بَصِیۡرًا
সে বলবে, হে রব্ব! তুমি আমাকে অন্ধ করে উঠালে কেন? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম!
قَالَ کَذٰلِکَ اَتَتۡکَ اٰیٰتُنَا فَنَسِیۡتَہَا ۚ وَکَذٰلِکَ الۡیَوۡمَ تُنۡسٰی
আল্লাহ বলবেন, এভাবেই তােমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। আজ সেভাবেই তােমাকে ভুলে যাওয়া হবে।
وَکَذٰلِکَ نَجۡزِیۡ مَنۡ اَسۡرَفَ وَلَمۡ یُؤۡمِنۡۢ بِاٰیٰتِ رَبِّہٖ ؕ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَشَدُّ وَاَبۡقٰی
যে ব্যক্তি সীমালংঘন করে ও নিজ প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে না, তাকে আমি এভাবেই শাস্তি দেই। আর আখেরাতের আযাব বাস্তবিকই বেশি কঠিন ও অধিকতর স্থায়ী।
اَفَلَمۡ یَہۡدِ لَہُمۡ کَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ یَمۡشُوۡنَ فِیۡ مَسٰکِنِہِمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّہٰی ٪
অতঃপর এ বিষয়টিও কি তাদেরকে হিদায়াতের কোন সবক দিল না যে, আমি তাদের আগে কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, যাদের আবাসভূমিতে এরা চলাফেরা করে থাকে? নিশ্চয়ই যারা বিবেকসম্পন্ন, তাদের জন্য এ বিষয়ের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের বহু উপাদান আছে।
وَلَوۡلَا کَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّکَ لَکَانَ لِزَامًا وَّاَجَلٌ مُّسَمًّی ؕ
তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে পূর্ব থেকেই যদি একটা কথা স্থিরীকৃত না থাকত এবং (তার ভিত্তিতে শাস্তির জন্য) একটা কাল নির্ধারিত না থাকত, তবে অবশ্যম্ভাবী শাস্তি (তাদেরকে) লেপটে ধরত।
فَاصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَقَبۡلَ غُرُوۡبِہَا ۚ وَمِنۡ اٰنَآیِٔ الَّیۡلِ فَسَبِّحۡ وَاَطۡرَافَ النَّہَارِ لَعَلَّکَ تَرۡضٰی
সুতরাং (হে নবী!) তারা যেসব কথা বলে, তাতে সবর কর এবং সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে নিজ প্রতিপালকের তাসবীহ ও হামদে রত থাক এবং রাতের মুহূর্তগুলোতেও তাসবীহতে রত থাক এবং দিনের প্রান্তসমূহেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাও।
وَلَا تَمُدَّنَّ عَیۡنَیۡکَ اِلٰی مَا مَتَّعۡنَا بِہٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡہُمۡ زَہۡرَۃَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۬ۙ لِنَفۡتِنَہُمۡ فِیۡہِ ؕ وَرِزۡقُ رَبِّکَ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی
তুমি পার্থিব জীবনের ওই চাকচিক্যের দিকে চোখ তুলে তাকিও না, যা আমি তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) বিভিন্ন শ্রেণীকে মজা লোটার জন্য দিয়ে রেখেছি, তা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। বস্তুত তোমার রব্বের রিযক সর্বাপেক্ষা উত্তম ও সর্বাধিক স্থায়ী।
وَاۡمُرۡ اَہۡلَکَ بِالصَّلٰوۃِ وَاصۡطَبِرۡ عَلَیۡہَا ؕ لَا نَسۡـَٔلُکَ رِزۡقًا ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُکَ ؕ وَالۡعَاقِبَۃُ لِلتَّقۡوٰی
এবং নিজ পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ কর এবং নিজেও তাতে অবিচলিত থাক। আমি তোমার কাছে রিযক চাই না। রিযক তো আমিই দেব। আর শুভ পরিণাম তো তাকওয়ারই।
وَقَالُوۡا لَوۡلَا یَاۡتِیۡنَا بِاٰیَۃٍ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ اَوَلَمۡ تَاۡتِہِمۡ بَیِّنَۃُ مَا فِی الصُّحُفِ الۡاُوۡلٰی
তারা বলে, সে (অর্থাৎ নবী!) আমাদের কাছে তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তবে কি তাদের কাছে পূর্ববর্তী (আসমানী) সহীফাসমূহে বর্ণিত বিষয়বস্তুর সাক্ষ্য আসেনি?
وَلَوۡ اَنَّـاۤ اَہۡلَکۡنٰہُمۡ بِعَذَابٍ مِّنۡ قَبۡلِہٖ لَقَالُوۡا رَبَّنَا لَوۡلَاۤ اَرۡسَلۡتَ اِلَیۡنَا رَسُوۡلًا فَنَتَّبِعَ اٰیٰتِکَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ نَّذِلَّ وَنَخۡزٰی
আমি যদি তাদেরকে এর আগে (অর্থাৎ কুরআন নাযিলের আগে) কোন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠালেন না কেন, তাহলে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার আগে আপনার আয়াতসমূহ অনুসরণ করতে পারতাম?
قُلۡ کُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوۡا ۚ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ اَصۡحٰبُ الصِّرَاطِ السَّوِیِّ وَمَنِ اہۡتَدٰی ٪
(হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, (আমাদের) সকলেই প্রতীক্ষা করছে। সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা কর। কেননা তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কারা সরল পথের অনুসারী এবং কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত?