الأنبياء
আল-আম্বিয়া
Ayah ১১২ · Meccan · Para ১৭
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
اِقۡتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُہُمۡ وَہُمۡ فِیۡ غَفۡلَۃٍ مُّعۡرِضُوۡنَ ۚ
মানুষের জন্য তাদের হিসাবের সময় কাছে এসে গেছে। অথচ তারা উদাসীনতায় বিমুখ হয়ে আছে।
مَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ ذِکۡرٍ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ مُّحۡدَثٍ اِلَّا اسۡتَمَعُوۡہُ وَہُمۡ یَلۡعَبُوۡنَ ۙ
যখনই তাদের নিকট তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নতুন কোন উপদেশ আসে, তখন তারা তামাশারত হয়ে তা এমনভাবে শোনে যে,
لَاہِیَۃً قُلُوۡبُہُمۡ ؕ وَاَسَرُّوا النَّجۡوَی ٭ۖ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ٭ۖ ہَلۡ ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۚ اَفَتَاۡتُوۡنَ السِّحۡرَ وَاَنۡتُمۡ تُبۡصِرُوۡنَ
তাদের অন্তর ফজুল কাজে মগ্ন থাকে। জালেমগণ চুপিসারে (একে অন্যের সাথে) কানাকানি করে যে, এই ব্যক্তি (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তোমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কিছু? তারপরও কি তোমরা দেখে শুনে যাদুর কথাই শুনে যাবে?
قٰلَ رَبِّیۡ یَعۡلَمُ الۡقَوۡلَ فِی السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ۫ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ
(উত্তরে) নবী বলল, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর যাবতীয় কথাই আমার প্রতিপালক জানেন। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
بَلۡ قَالُوۡۤا اَضۡغَاثُ اَحۡلَامٍۭ بَلِ افۡتَرٰىہُ بَلۡ ہُوَ شَاعِرٌ ۚۖ فَلۡیَاۡتِنَا بِاٰیَۃٍ کَمَاۤ اُرۡسِلَ الۡاَوَّلُوۡنَ
এতটুকুই নয়; বরং তারা একথাও বলে যে, এটা (অর্থাৎ কুরআন) অসংলগ্ন স্বপ্ন সম্ভার; বরং সে নিজে এটা রচনা করেছে। কিংবা সে একজন কবি। তা সে আমাদের সামনে কোন নিদর্শন নিয়ে আসুক না, যেমন পূর্ববর্তী নবীগণ (নিদর্শনসহ) প্রেরিত হয়েছিল!
مَاۤ اٰمَنَتۡ قَبۡلَہُمۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَا ۚ اَفَہُمۡ یُؤۡمِنُوۡنَ
অথচ তাদের পূর্বে আমি যত জনপদ ধ্বংস করেছি, তারা ঈমান আনেনি। তবে কি এরা ঈমান আনবে?
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَکَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ
(হে নবী!) আমি তোমার আগে কেবল পুরুষ মানুষকেই রাসূল করে পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি ওহী নাযিল করতাম। সুতরাং (কাফেরদেরকে বল) তোমরা নিজেরা যদি না জান তবে উপদেশ সম্পর্কে জ্ঞাতদেরকে জিজ্ঞেস কর।
وَمَا جَعَلۡنٰہُمۡ جَسَدًا لَّا یَاۡکُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَمَا کَانُوۡا خٰلِدِیۡنَ
এবং আমি তাদের (অর্থাৎ রাসূলদের)-কে এমন দেহবিশিষ্ট বানাইনি, যারা খাবার খাবে না। আর তারা চিরজীবীও ছিল না।
ثُمَّ صَدَقۡنٰہُمُ الۡوَعۡدَ فَاَنۡجَیۡنٰہُمۡ وَمَنۡ نَّشَآءُ وَاَہۡلَکۡنَا الۡمُسۡرِفِیۡنَ
অতঃপর আমি তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা সত্যে পরিণত করি, অর্থাৎ আমি তাদেরকেও রক্ষা করি এবং (তাদের ছাড়া অন্য) যাদেরকে ইচ্ছা করেছিলাম তাদেরকেও। আর যারা সীমালংঘন করেছিল তাদেরকে করি ধ্বংস।
لَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکُمۡ کِتٰبًا فِیۡہِ ذِکۡرُکُمۡ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٪
(পরিশেষে) আমি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি এমন এক কিতাব, যার ভেতর তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
وَکَمۡ قَصَمۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ کَانَتۡ ظَالِمَۃً وَّاَنۡشَاۡنَا بَعۡدَہَا قَوۡمًا اٰخَرِیۡنَ
আমি কত জনপদ পিষ্ট করেছি, যারা ছিল জালেম! তাদের পর আমি অন্যান্য জাতি সৃষ্টি করেছি।
فَلَمَّاۤ اَحَسُّوۡا بَاۡسَنَاۤ اِذَا ہُمۡ مِّنۡہَا یَرۡکُضُوۡنَ ؕ
অতঃপর তারা যখন আমার শাস্তির পূর্বাভাষ পেল, তখন তারা দ্রুত সেখান থেকে পালাতে লাগল।
لَا تَرۡکُضُوۡا وَارۡجِعُوۡۤا اِلٰی مَاۤ اُتۡرِفۡتُمۡ فِیۡہِ وَمَسٰکِنِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تُسۡـَٔلُوۡنَ
(তাদেরকে বলা হয়েছিল) পালিও না। বরং ফিরে এসো তোমাদের সেই ঘর-বাড়ি ও ভোগ-বিলাসের উপকরণের দিকে, যার মজা তোমরা লুটছিলে। হয়ত তোমাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে।
قَالُوۡا یٰوَیۡلَنَاۤ اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ
তারা বলল, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! প্রকৃতপক্ষে আমরাই জালেম ছিলাম।
فَمَا زَالَتۡ تِّلۡکَ دَعۡوٰىہُمۡ حَتّٰی جَعَلۡنٰہُمۡ حَصِیۡدًا خٰمِدِیۡنَ
তাদের এই চিৎকারই চলতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাদেরকে করে ফেলি কর্তিত শস্য, নির্বাপিত আগুনতুল্য।
وَمَا خَلَقۡنَا السَّمَآءَ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا لٰعِبِیۡنَ
আমি আকাশ, পৃথিবী ও এ দুয়ের মাঝখানে যা-কিছু আছে, তা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
لَوۡ اَرَدۡنَاۤ اَنۡ نَّتَّخِذَ لَہۡوًا لَّاتَّخَذۡنٰہُ مِنۡ لَّدُنَّاۤ ٭ۖ اِنۡ کُنَّا فٰعِلِیۡنَ
আমি যদি কোন খেলার ব্যবস্থা করতে চাইতাম, তবে আমি নিজের কাছ থেকেই তার কোন ব্যবস্থা করে নিতাম একান্ত যদি আমার তা করতেই হত।
بَلۡ نَقۡذِفُ بِالۡحَقِّ عَلَی الۡبَاطِلِ فَیَدۡمَغُہٗ فَاِذَا ہُوَ زَاہِقٌ ؕ وَلَکُمُ الۡوَیۡلُ مِمَّا تَصِفُوۡنَ
বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, যা মিথ্যার মাথা গুঁড়ো করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা যে সব কথা বলছ, তার জন্য দুর্ভোগ রয়েছে তোমাদেরই।
وَلَہٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَمَنۡ عِنۡدَہٗ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِہٖ وَلَا یَسۡتَحۡسِرُوۡنَ ۚ
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারাই আছে, সকলেই আল্লাহর। আর যারা (অর্থাৎ যে সকল ফেরেশতা) তাঁর কাছে আছে, তারা অহংকারবশত তাঁর ইবাদত থেকে বিমুখ হয় না এবং তারা ক্লান্তিও বোধ করে না।
یُسَبِّحُوۡنَ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ لَا یَفۡتُرُوۡنَ
তারা রাত-দিন তার তাসবীহতে লিপ্ত থাকে, কখনও অবসন্ন হয় না।
اَمِ اتَّخَذُوۡۤا اٰلِہَۃً مِّنَ الۡاَرۡضِ ہُمۡ یُنۡشِرُوۡنَ
তবে কি তারা যমীন থেকে এমন মাবুদ বানিয়েছে, যারা নতুন জীবন দিতে পারে?
لَوۡ کَانَ فِیۡہِمَاۤ اٰلِہَۃٌ اِلَّا اللّٰہُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ رَبِّ الۡعَرۡشِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ
যদি আসমান ও যমীনে আল্লাহ ছাড়া অন্য মাবুদ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। সুতরাং তারা যা বলছে, আরশের মালিক আল্লাহ তা থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র।
لَا یُسۡـَٔلُ عَمَّا یَفۡعَلُ وَہُمۡ یُسۡـَٔلُوۡنَ
তিনি যা-কিছু করেন, সেজন্য কারও কাছে তাঁর জবাবদিহি করতে হবে না, কিন্তু সকলকেই তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً ؕ قُلۡ ہَاتُوۡا بُرۡہَانَکُمۡ ۚ ہٰذَا ذِکۡرُ مَنۡ مَّعِیَ وَذِکۡرُ مَنۡ قَبۡلِیۡ ؕ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ الۡحَقَّ فَہُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ
তবে কি তারা তাকে ছেড়ে অন্য সব মাবুদ গ্রহণ করেছে? (হে নবী!) তাদেরকে বল, নিজেদের দলীল পেশ কর। এই তো (বর্তমান) রয়েছে (কুরআন, যা) আমার সঙ্গে যারা আছে তাদের জন্য উপদেশবাণী এবং রয়েছে (পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ, যা) আমার পূর্বে যারা ছিল তাদের উপদেশবাণী। কিন্তু বাস্তবতা হল, তাদের অধিকাংশেই সত্যে বিশ্বাস করে না, ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا نُوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدُوۡنِ
আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল পাঠাইনি, যার প্রতি আমি এই ওহী নাযিল করিনি যে, ‘আমি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত কর’।
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحۡمٰنُ وَلَدًا سُبۡحٰنَہٗ ؕ بَلۡ عِبَادٌ مُّکۡرَمُوۡنَ ۙ
তারা বলে, রহমান (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছেন (আর তাঁর সন্তান হল ফিরিশতাগণ)। সুবহানাল্লাহ! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা।
لَا یَسۡبِقُوۡنَہٗ بِالۡقَوۡلِ وَہُمۡ بِاَمۡرِہٖ یَعۡمَلُوۡنَ
তারা তাঁকে ডিঙিয়ে কোন কথা বলে না এবং তারা তাঁর আদেশ মতই কাজ করে।
یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ وَلَا یَشۡفَعُوۡنَ ۙ اِلَّا لِمَنِ ارۡتَضٰی وَہُمۡ مِّنۡ خَشۡیَتِہٖ مُشۡفِقُوۡنَ
তিনি তাদের সম্মুখ ও পিছনের সবকিছু জানেন। তারা কারও জন্য সুপারিশ করতে পারে না, কেবল তাদের ছাড়া, যাদের জন্য আল্লাহর পছন্দ হয়। তারা তাঁর ভয়ে থাকে ভীত।
وَمَنۡ یَّقُلۡ مِنۡہُمۡ اِنِّیۡۤ اِلٰہٌ مِّنۡ دُوۡنِہٖ فَذٰلِکَ نَجۡزِیۡہِ جَہَنَّمَ ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الظّٰلِمِیۡنَ ٪
তাদের মধ্যে কেউ যদি এমন কথা বলেও (যদিও সেটা অসম্ভব) যে, ‘আল্লাহ ছাড়া আমিও একজন মাবুদ’, তবে আমি তাকে জাহান্নামের শাস্তি দেব। এরূপ জালেমদেরকে আমি এভাবেই শাস্তি দেই।
اَوَلَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ کَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰہُمَا ؕ وَجَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ کُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা কি জানে না আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী রুদ্ধ ছিল, তারপর আমি তা উন্মুক্ত করি এবং পানি হতে প্রাণবান সবকিছু সৃষ্টি করি? তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?
وَجَعَلۡنَا فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ اَنۡ تَمِیۡدَ بِہِمۡ ۪ وَجَعَلۡنَا فِیۡہَا فِجَاجًا سُبُلًا لَّعَلَّہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ
আমি পৃথিবীতে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত পাহাড় সৃষ্টি করেছি, যাতে তাদেরকে নিয়ে তা দোল না খায় এবং তাতে তৈরি করেছি প্রশস্ত রাস্তা, যাতে তারা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে।
وَجَعَلۡنَا السَّمَآءَ سَقۡفًا مَّحۡفُوۡظًا ۚۖ وَّہُمۡ عَنۡ اٰیٰتِہَا مُعۡرِضُوۡنَ
এবং আমি আকাশকে করেছি এক সুরক্ষিত ছাদ। কিন্তু তারা আকাশের নিদর্শনসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
وَہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ وَالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ فِیۡ فَلَکٍ یَّسۡبَحُوۡنَ
এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকেই কোনও না কোনও কক্ষপথে সাঁতার কাটছে।
وَمَا جَعَلۡنَا لِبَشَرٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ الۡخُلۡدَ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مِّتَّ فَہُمُ الۡخٰلِدُوۡنَ
(হে নবী!) আমি তোমার আগেও কোন মানুষের জন্য চিরদিন বেঁচে থাকার ফায়সালা করিনি। সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরজীবী হয়ে থাকবে?
کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَنَبۡلُوۡکُمۡ بِالشَّرِّ وَالۡخَیۡرِ فِتۡنَۃً ؕ وَاِلَیۡنَا تُرۡجَعُوۡنَ
জীবমাত্রকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আমি পরীক্ষা করার জন্য তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোতে লিপ্ত করি, এবং তোমাদের সকলকে আমারই কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।
وَاِذَا رَاٰکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ یَّتَّخِذُوۡنَکَ اِلَّا ہُزُوًا ؕ اَہٰذَا الَّذِیۡ یَذۡکُرُ اٰلِہَتَکُمۡ ۚ وَہُمۡ بِذِکۡرِ الرَّحۡمٰنِ ہُمۡ کٰفِرُوۡنَ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তাদের কাজ হয় কেবল তোমাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা। (তারা বলে,) এই লোকই কি সেই, যে তোমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করে (অর্থাৎ বলে, এদের কোন ভিত্তি নেই)। অথচ তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) অবস্থা হল, তারা ‘রহমান’-এর উল্লেখ করার বিরোধী।
خُلِقَ الۡاِنۡسَانُ مِنۡ عَجَلٍ ؕ سَاُورِیۡکُمۡ اٰیٰتِیۡ فَلَا تَسۡتَعۡجِلُوۡنِ
মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ত্বরাপ্রবণ করে। আমি অচিরেই তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ত্বরা চেও না।
وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তারা (মুসলিমদেরকে) বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বল, (শাস্তির) এ ধমকি কবে পূর্ণ হবে?
لَوۡ یَعۡلَمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا حِیۡنَ لَا یَکُفُّوۡنَ عَنۡ وُّجُوۡہِہِمُ النَّارَ وَلَا عَنۡ ظُہُوۡرِہِمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ
হায়! কাফিরগণ যদি সেই সময়ের কথা জানত, যখন তারা তাদের চেহারা থেকে আগুন ফেরাতে পারবে না এবং তাদের পিঠ থেকেও নয় এবং তারা কোন সাহায্যও লাভ করবে না।
بَلۡ تَاۡتِیۡہِمۡ بَغۡتَۃً فَتَبۡہَتُہُمۡ فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ رَدَّہَا وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ
বরং তা (অর্থাৎ জাহান্নামের আগুন) তাদের কাছে আসবে অতর্কিতভাবে এবং তাদেরকে হতভম্ব করে দেবে, ফলে না তারা তা হটাতে পারবে এবং না তাদেরকে কিছুমাত্র অবকাশ দেওয়া হবে।
وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِئَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪
(হে নবী!) তোমার পূর্বেও রাসূলগণকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল। পরিশেষে তারা তাদেরকে যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, সেটাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলে।
قُلۡ مَنۡ یَّکۡلَؤُکُمۡ بِالَّیۡلِ وَالنَّہَارِ مِنَ الرَّحۡمٰنِ ؕ بَلۡ ہُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ رَبِّہِمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ
বল, রাতে ও দিনে কে তোমাদেরকে রহমান (-এর আযাব) থেকে রক্ষা করবে। বরং তারা নিজ প্রতিপালকের স্মরণ থেকে বিমুখ।
اَمۡ لَہُمۡ اٰلِہَۃٌ تَمۡنَعُہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِنَا ؕ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ نَصۡرَ اَنۡفُسِہِمۡ وَلَا ہُمۡ مِّنَّا یُصۡحَبُوۡنَ
তবে কি তাদের জন্য আমি ছাড়া এমন কোন মাবুদও আছে, যে তাদেরকে রক্ষা করতে পারে? তারা তো নিজেদেরই কোন সাহায্য করতে পারে না এবং আমার মুকাবিলায় কেউ তাদের সহযোগিতা করার ক্ষমতা রাখে না।
بَلۡ مَتَّعۡنَا ہٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَہُمۡ حَتّٰی طَالَ عَلَیۡہِمُ الۡعُمُرُ ؕ اَفَلَا یَرَوۡنَ اَنَّا نَاۡتِی الۡاَرۡضَ نَنۡقُصُہَا مِنۡ اَطۡرَافِہَا ؕ اَفَہُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ
প্রকৃত ব্যাপার হল, আমি তাদেরকে এবং তাদের বাপ-দাদাদেরকে ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলাম, এমনকি (এ অবস্থায়ই) তাদের আয়ুষ্কাল হয়ে যায় দীর্ঘ, তবে কি তারা দেখতে পাচ্ছে না আমি ভূমিকে তার চতুর্দিক থেকে সঙ্কুচিত করে আনছি?
قُلۡ اِنَّمَاۤ اُنۡذِرُکُمۡ بِالۡوَحۡیِ ۫ۖ وَلَا یَسۡمَعُ الصُّمُّ الدُّعَآءَ اِذَا مَا یُنۡذَرُوۡنَ
বলে দাও, আমি তো কেবল ওহী দ্বারাই তোমাদেরকে সতর্ক করি, কিন্তু যারা বধির, তাদেরকে যখন সতর্ক করা হয়, তখন তারা কোন ডাক শোনে না।
وَلَئِنۡ مَّسَّتۡہُمۡ نَفۡحَۃٌ مِّنۡ عَذَابِ رَبِّکَ لَیَقُوۡلُنَّ یٰوَیۡلَنَاۤ اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ
তোমার প্রতিপালকের শাস্তির একটা ঝাপটাও যদি তাদের লাগত, তবে তারা বলে ওঠত, হায় আমাদের দুর্ভোগ! বাস্তবিকই আমরা জালেম ছিলাম।
وَنَضَعُ الۡمَوَازِیۡنَ الۡقِسۡطَ لِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٌ شَیۡئًا ؕ وَاِنۡ کَانَ مِثۡقَالَ حَبَّۃٍ مِّنۡ خَرۡدَلٍ اَتَیۡنَا بِہَا ؕ وَکَفٰی بِنَا حٰسِبِیۡنَ
কিয়ামতের দিন আমি ন্যায়ানুগ তুলাদণ্ড স্থাপন করব। ফলে কারও প্রতি কোন জুলুম করা হবে না। যদি কোন কর্ম তিল পরিমাণও হয়, তবে তাও আমি উপস্থিত করব। হিসাব গ্রহণের জন্য আমিই যথেষ্ট।
وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ الۡفُرۡقَانَ وَضِیَآءً وَّذِکۡرًا لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ۙ
আমি মূসা ও হারূনকে দিয়েছিলাম সত্য ও মিথ্যার এক মানদণ্ড, (হিদায়াতের) আলো ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ,
الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَیۡبِ وَہُمۡ مِّنَ السَّاعَۃِ مُشۡفِقُوۡنَ
যারা নিজ প্রতিপালককে না দেখেও ভয় করে এবং কিয়ামত সম্পর্কে যারা ভীত।
وَہٰذَا ذِکۡرٌ مُّبٰرَکٌ اَنۡزَلۡنٰہُ ؕ اَفَاَنۡتُمۡ لَہٗ مُنۡکِرُوۡنَ ٪
এটা (অর্থাৎ এই কুরআন) বরকতময় উপদেশবাণী, যা আমি নাযিল করেছি, তবুও কি তোমরা একে অস্বীকার কর।
وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ رُشۡدَہٗ مِنۡ قَبۡلُ وَکُنَّا بِہٖ عٰلِمِیۡنَ ۚ
এর আগে আমি ইবরাহীমকে দিয়েছিলাম তার (উপযুক্ত) বুদ্ধিমত্তা। আমি তার সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত ছিলাম।
اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖ مَا ہٰذِہِ التَّمَاثِیۡلُ الَّتِیۡۤ اَنۡتُمۡ لَہَا عٰکِفُوۡنَ
সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন সে নিজ পিতা ও নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিল, এই মূর্তিগুলি কী, যার সামনে তোমরা ধর্না দিয়ে বসে থাক?
قَالُوۡا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا لَہَا عٰبِدِیۡنَ
তারা বলল, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি।
قَالَ لَقَدۡ کُنۡتُمۡ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمۡ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ
ইবরাহীম বলল, প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের বাপ-দাদাগণ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত রয়েছে।
قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا بِالۡحَقِّ اَمۡ اَنۡتَ مِنَ اللّٰعِبِیۡنَ
তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছ, না আমাদের সাথে পরিহাস করছ?
قَالَ بَلۡ رَّبُّکُمۡ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ الَّذِیۡ فَطَرَہُنَّ ۫ۖ وَاَنَا عَلٰی ذٰلِکُمۡ مِّنَ الشّٰہِدِیۡنَ
ইবরাহীম বলল, না তোমাদের প্রতিপালক তো তিনিই, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক, যিনি এদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি এ বিষয়ে সাক্ষ্য দান করছি।
وَتَاللّٰہِ لَاَکِیۡدَنَّ اَصۡنَامَکُمۡ بَعۡدَ اَنۡ تُوَلُّوۡا مُدۡبِرِیۡنَ
আল্লাহর কসম! তোমরা যখন পিছন ফিরে চলে যাবে, তখন তোমাদের মূর্তিদের উপর (এমন) কৌশল খাটাব (যা দ্বারা তাদের স্বরূপ উন্মোচন হয়ে যাবে)।
فَجَعَلَہُمۡ جُذٰذًا اِلَّا کَبِیۡرًا لَّہُمۡ لَعَلَّہُمۡ اِلَیۡہِ یَرۡجِعُوۡنَ
সুতরাং সবগুলো মূর্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল তাদের প্রধানটি ছাড়া, যাতে তারা তার কাছে রুজূ করতে পারে।
قَالُوۡا مَنۡ فَعَلَ ہٰذَا بِاٰلِہَتِنَاۤ اِنَّہٗ لَمِنَ الظّٰلِمِیۡنَ
তারা বলল, আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ আচরণ কে করল? নিশ্চয়ই সে ঘোর জালেম।
قَالُوۡا سَمِعۡنَا فَتًی یَّذۡکُرُہُمۡ یُقَالُ لَہٗۤ اِبۡرٰہِیۡمُ ؕ
কিছু লোক বলল, আমরা এক যুবককে তাদের সমালোচনা করতে শুনেছি। তাকে ‘ইবরাহীম’ বলা হয়।
قَالُوۡا فَاۡتُوۡا بِہٖ عَلٰۤی اَعۡیُنِ النَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَشۡہَدُوۡنَ
তারা বলল, তবে তাকে জনসমক্ষে হাজির কর, যাতে সকলে সাক্ষী হয়ে যায়।
قَالُوۡۤا ءَاَنۡتَ فَعَلۡتَ ہٰذَا بِاٰلِہَتِنَا یٰۤـاِبۡرٰہِیۡمُ ؕ
(তারপর যখন ইবরাহীমকে নিয়ে আসা হল, তখন) তারা বলল হে ইবরাহীম! আমাদের উপাস্যদের সাথে এটা কি তুমিই করেছ?
قَالَ بَلۡ فَعَلَہٗ ٭ۖ کَبِیۡرُہُمۡ ہٰذَا فَسۡـَٔلُوۡہُمۡ اِنۡ کَانُوۡا یَنۡطِقُوۡنَ
ইবরাহীম বলল, বরং এটা করেছে তাদের এই বড়টি। এই প্রতিমাদেরকেই জিজ্ঞেস কর না- যদি তারা কথা বলতে পারে।
فَرَجَعُوۡۤا اِلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ فَقَالُوۡۤا اِنَّکُمۡ اَنۡتُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ۙ
এ কথায় তারা আপন মনে চিন্তা করতে লাগল এবং (স্বগতভাবে) বলতে লাগল, প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেরাই জালেম।
ثُمَّ نُکِسُوۡا عَلٰی رُءُوۡسِہِمۡ ۚ لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَا ہٰۤؤُلَآءِ یَنۡطِقُوۡنَ
অতঃপর তারা তাদের মাথা নুইয়ে দিল এবং বলল, তুমি তো জানই তারা কথা বলতে পারে না।
قَالَ اَفَتَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُکُمۡ شَیۡئًا وَّلَا یَضُرُّکُمۡ ؕ
সে বলল, তবে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর উপাসনা করছ, যা তোমাদের কিছু উপকারও করতে পারে না এবং তোমাদের ক্ষতিও করতে পারে না?
اُفٍّ لَّکُمۡ وَلِمَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ
আফসোস তোমাদের প্রতি এবং আল্লাহকে ছেড়ে যাদের ইবাদত করছ তাদেরও প্রতি। তোমাদের কি এতটুকু বোধও নেই?
قَالُوۡا حَرِّقُوۡہُ وَانۡصُرُوۡۤا اٰلِہَتَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ فٰعِلِیۡنَ
তারা (একে অন্যকে) বলতে লাগল, তোমরা তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দাও এবং নিজেদের দেবতাদেরকে সাহায্য কর, যদি তোমাদের কিছু করার থাকে।
قُلۡنَا یٰنَارُ کُوۡنِیۡ بَرۡدًا وَّسَلٰمًا عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ۙ
(সুতরাং তারা ইবরাহীমকে আগুনে নিক্ষেপ করল) এবং আমি বললাম, হে আগুন! ঠাণ্ডা হয়ে যাও এবং ইবরাহীমের পক্ষে শান্তিদায়ক হয়ে যাও।
وَاَرَادُوۡا بِہٖ کَیۡدًا فَجَعَلۡنٰہُمُ الۡاَخۡسَرِیۡنَ ۚ
তারা ইবরাহীমের বিরুদ্ধে এক দুরভিসন্ধি আঁটল, কিন্তু আমি তাদেরকেই করলাম মহা ক্ষতিগ্রস্ত।
وَنَجَّیۡنٰہُ وَلُوۡطًا اِلَی الۡاَرۡضِ الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا لِلۡعٰلَمِیۡنَ
এবং আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে এমন এক ভূমিতে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি।
وَوَہَبۡنَا لَہٗۤ اِسۡحٰقَ ؕ وَیَعۡقُوۡبَ نَافِلَۃً ؕ وَکُلًّا جَعَلۡنَا صٰلِحِیۡنَ
এবং আমি পুরস্কার স্বরূপ তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব। আমি তাদের প্রত্যেককে বানিয়েছিলাম নেককার।
وَجَعَلۡنٰہُمۡ اَئِمَّۃً یَّہۡدُوۡنَ بِاَمۡرِنَا وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡہِمۡ فِعۡلَ الۡخَیۡرٰتِ وَاِقَامَ الصَّلٰوۃِ وَاِیۡتَآءَ الزَّکٰوۃِ ۚ وَکَانُوۡا لَنَا عٰبِدِیۡنَ ۚۙ
আমি তাদেরকে করেছিলাম নেতা, যারা আমার হুকুমে মানুষকে পথ দেখাত। আমি ওহীর মাধ্যমে তাদেরকে সৎকর্ম করতে, নামায কায়েম করতে ও যাকাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিলাম। তারা আমারই ইবাদতগোজার ছিল।
وَلُوۡطًا اٰتَیۡنٰہُ حُکۡمًا وَّعِلۡمًا وَّنَجَّیۡنٰہُ مِنَ الۡقَرۡیَۃِ الَّتِیۡ کَانَتۡ تَّعۡمَلُ الۡخَبٰٓئِثَ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمَ سَوۡءٍ فٰسِقِیۡنَ ۙ
আমি লূতকে হিকমত ও ইলম দিয়েছিলাম এবং এমন এক জনপদ থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছিলাম, যার অধিবাসীরা এক কদর্য কাজ করত। বস্তুত তারা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট, নাফরমান সম্প্রদায়।
وَاَدۡخَلۡنٰہُ فِیۡ رَحۡمَتِنَا ؕ اِنَّہٗ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ٪
এবং আমি লূতকে আমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করে নেই। নিশ্চয়ই সে ছিল নেক লোকদের একজন।
وَنُوۡحًا اِذۡ نَادٰی مِنۡ قَبۡلُ فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ فَنَجَّیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗ مِنَ الۡکَرۡبِ الۡعَظِیۡمِ ۚ
এবং নূহকেও (হিকমত ও ইলম দিয়েছিলাম)। সেই সময়কে স্মরণ কর, (এ ঘটনার) আগে যখন সে আমাকে ডেকেছিল, আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে মহা বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
وَنَصَرۡنٰہُ مِنَ الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمَ سَوۡءٍ فَاَغۡرَقۡنٰہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ
এবং যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমি তাকে সাহায্য করেছিলাম। বস্তুত তারা ছিল অতি মন্দ লোক। তাই আমি তাদের সকলকে নিমজ্জিত করি।
وَدَاوٗدَ وَسُلَیۡمٰنَ اِذۡ یَحۡکُمٰنِ فِی الۡحَرۡثِ اِذۡ نَفَشَتۡ فِیۡہِ غَنَمُ الۡقَوۡمِ ۚ وَکُنَّا لِحُکۡمِہِمۡ شٰہِدِیۡنَ ٭ۙ
এবং দাঊদ ও সুলায়মানকেও (হিকমত ও ইলম দিয়েছিলাম), যখন তারা একটি শস্য ক্ষেত্রের ব্যাপারে বিচার করছিল। তাতে রাতের বেলা একদল লোকের মেষপাল প্রবেশ করেছিল। তাদের ফায়সালা আমি নিজে প্রত্যক্ষ করছিলাম।
فَفَہَّمۡنٰہَا سُلَیۡمٰنَ ۚ وَکُلًّا اٰتَیۡنَا حُکۡمًا وَّعِلۡمًا ۫ وَّسَخَّرۡنَا مَعَ دَاوٗدَ الۡجِبَالَ یُسَبِّحۡنَ وَالطَّیۡرَ ؕ وَکُنَّا فٰعِلِیۡنَ
আমি সুলায়মানকে সে ফায়সালার বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং (এমনিতে তো) আমি উভয়কেই হিকমত ও ইলম দান করেছিলাম। আমি পর্বতসমূহকে দাঊদের অধীন করে দিয়েছিলাম, যাতে তারা পাখিদেরকে সাথে নিয়ে তাসবীহরত থাকে। এসব কিছুর কর্তা ছিলাম আমিই।
وَعَلَّمۡنٰہُ صَنۡعَۃَ لَبُوۡسٍ لَّکُمۡ لِتُحۡصِنَکُمۡ مِّنۡۢ بَاۡسِکُمۡ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ شٰکِرُوۡنَ
তোমাদের কল্যাণার্থে তাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম সামরিক পোশাক (বর্ম) তৈরির কারিগরি, যাতে যুদ্ধকালে তা তোমাদেরকে পারস্পরিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এবার বল, তোমরা কৃতজ্ঞ হবে কি?
وَلِسُلَیۡمٰنَ الرِّیۡحَ عَاصِفَۃً تَجۡرِیۡ بِاَمۡرِہٖۤ اِلَی الۡاَرۡضِ الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا ؕ وَکُنَّا بِکُلِّ شَیۡءٍ عٰلِمِیۡنَ
এবং আমি ঝড়ো হাওয়াকে সুলায়মানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তার হুকুমে এমন ভূমির দিকে প্রবাহিত হত, যেখানে আমি বরকত রেখেছি। আমি প্রতিটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
وَمِنَ الشَّیٰطِیۡنِ مَنۡ یَّغُوۡصُوۡنَ لَہٗ وَیَعۡمَلُوۡنَ عَمَلًا دُوۡنَ ذٰلِکَ ۚ وَکُنَّا لَہُمۡ حٰفِظِیۡنَ ۙ
এবং কতক দুষ্ট জিনকেও আমি তার বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যারা তার জন্য ডুবুরির কাজ করত এবং তাছাড়া অন্য কাজও করত। আর আমিই তাদের সকলের দেখাশোনা করছিলাম।
وَاَیُّوۡبَ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗۤ اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَاَنۡتَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ ۚۖ
এবং আয়্যূবকে দেখ, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার এই কষ্ট দেখা দিয়েছে এবং তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ فَکَشَفۡنَا مَا بِہٖ مِنۡ ضُرٍّ وَّاٰتَیۡنٰہُ اَہۡلَہٗ وَمِثۡلَہُمۡ مَّعَہُمۡ رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِنَا وَذِکۡرٰی لِلۡعٰبِدِیۡنَ
অতঃপর আমি তার দু‘আ কবুল করলাম এবং সে যে কষ্টে আক্রান্ত ছিল তা দূর করে দিলাম। আর তাকে তার পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম এবং তাদের সমপরিমাণ আরও, যাতে আমার পক্ষ হতে রহমতের প্রকাশ ঘটে এবং ইবাদতকারীদের লাভ হয় স্মরণীয় শিক্ষা।
وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَاِدۡرِیۡسَ وَذَا الۡکِفۡلِ ؕ کُلٌّ مِّنَ الصّٰبِرِیۡنَ ۚۖ
এবং ইসমাঈল, ইদরীস ও যুলকিফলকে দেখ, তারা সকলেই ছিল ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
وَاَدۡخَلۡنٰہُمۡ فِیۡ رَحۡمَتِنَا ؕ اِنَّہُمۡ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ
আমি তাদেরকে আমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। নিশ্চয়ই তারা নেক লোকদের মধ্যে গণ্য ছিল।
وَذَا النُّوۡنِ اِذۡ ذَّہَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنۡ لَّنۡ نَّقۡدِرَ عَلَیۡہِ فَنَادٰی فِی الظُّلُمٰتِ اَنۡ لَّاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنۡتَ سُبۡحٰنَکَ ٭ۖ اِنِّیۡ کُنۡتُ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ۚۖ
এবং মাছের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি (নবী ইউনুস আলাইহিস সালাম)কে দেখ, যখন সে ক্ষুব্ধ হয়ে চলে গিয়েছিল এবং মনে করেছিল, আমি তাকে পাকড়াও করব না। অতঃপর সে অন্ধকার থেকে ডাক দিয়েছিল, (হে আল্লাহ!) তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তুমি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধী।
فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ ۙ وَنَجَّیۡنٰہُ مِنَ الۡغَمِّ ؕ وَکَذٰلِکَ نُــۨۡجِی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
তখন আমি তার দু‘আ কবুল করলাম এবং তাকে সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম। এভাবেই আমি ঈমানদারদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।
وَزَکَرِیَّاۤ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗ رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّاَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ ۚۖ
এবং যাকারিয়াকে দেখ, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল, হে আমার রব্ব! আমাকে একা রেখে দিও না, আর তুমিই শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী।
فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ ۫ وَوَہَبۡنَا لَہٗ یَحۡیٰی وَاَصۡلَحۡنَا لَہٗ زَوۡجَہٗ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ وَیَدۡعُوۡنَنَا رَغَبًا وَّرَہَبًا ؕ وَ کَانُوۡا لَنَا خٰشِعِیۡنَ
সুতরাং আমি তার দু‘আ কবুল করলাম এবং তাকে ইয়াহইয়া (-এর মত পুত্র) দান করলাম। আর তার জন্য তার স্ত্রীকে (সন্তান ধারণের) উপযুক্ত করে দিলাম। নিশ্চয়ই তারা সৎকাজে দ্রুতগমন করত এবং আশা ও ভীতির সাথে আমাকে ডাকত আর তাদের অন্তর ছিল আমার সামনে বিনীত।
وَالَّتِیۡۤ اَحۡصَنَتۡ فَرۡجَہَا فَنَفَخۡنَا فِیۡہَا مِنۡ رُّوۡحِنَا وَجَعَلۡنٰہَا وَابۡنَہَاۤ اٰیَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ
এবং দেখ সেই নারীকে, যে নিজ সতীত্ব রক্ষা করেছিল, তারপর আমি তার ভেতর আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পুত্রকে সমগ্র জগতবাসীর জন্য এক নিদর্শন বানিয়েছিলাম।
اِنَّ ہٰذِہٖۤ اُمَّتُکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً ۫ۖ وَّاَنَا رَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡنِ
(হে মানুষ!) নিশ্চয়ই এটাই তোমাদের দীন, যা একই দীন (সমস্ত নবী-রাসূল যার দাওয়াত দিত) এবং আমি তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত কর।
وَتَقَطَّعُوۡۤا اَمۡرَہُمۡ بَیۡنَہُمۡ ؕ کُلٌّ اِلَیۡنَا رٰجِعُوۡنَ ٪
কিন্তু মানুষ তাদের দীনকে নিজেদের মধ্যে খণ্ড খণ্ড করে ভাগ করেছে। সকলকেই (একদিন) আমার কাছে ফিরে আসতে হবে।
فَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَا کُفۡرَانَ لِسَعۡیِہٖ ۚ وَاِنَّا لَہٗ کٰتِبُوۡنَ
সুতরাং যে ব্যক্তি মুমিন হয়ে সৎকাজ করবে, তার প্রচেষ্টাকে অগ্রাহ্য করা হবে না এবং আমি সে প্রচেষ্টা লিখে রাখি।
وَحَرٰمٌ عَلٰی قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَاۤ اَنَّہُمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ
আর আমি যে জনপদ (-এর মানুষ)-কে ধ্বংস করেছি, তার পক্ষে এটা অসম্ভব যে, তারা (অর্থাৎ তার বাসিন্দাগণ) আবার (দুনিয়ায়) ফিরে আসবে।
حَتّٰۤی اِذَا فُتِحَتۡ یَاۡجُوۡجُ وَمَاۡجُوۡجُ وَہُمۡ مِّنۡ کُلِّ حَدَبٍ یَّنۡسِلُوۡنَ
পরিশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে খুলে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে প্রতিটি উঁচু ভূমি থেকে পিছলে নামতে দেখা যাবে।
وَاقۡتَرَبَ الۡوَعۡدُ الۡحَقُّ فَاِذَا ہِیَ شَاخِصَۃٌ اَبۡصَارُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ یٰوَیۡلَنَا قَدۡ کُنَّا فِیۡ غَفۡلَۃٍ مِّنۡ ہٰذَا بَلۡ کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ
এবং সত্য ওয়াদা পূরণ হওয়ার কাল সমাসন্ন হবে, তখন অকস্মাৎ যারা কুফর অবলম্বন করেছিল, তাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে যাবে (এবং তারা বলবে) হায় আমাদের দুর্ভাগ্য। আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলাম বরং আমরা বড়ই অন্যায় করেছিলাম।
اِنَّکُمۡ وَمَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ حَصَبُ جَہَنَّمَ ؕ اَنۡتُمۡ لَہَا وٰرِدُوۡنَ
(হে মুশরিকগণ!) নিশ্চিত জেনে রেখ, তোমরা এবং আল্লাহকে ছেড়ে তোমরা যাদের ইবাদত কর, সকলেই জাহান্নামের জ্বালানি হবে। তোমাদেরকে সে জাহান্নামেই গিয়ে নামতে হবে।
لَوۡ کَانَ ہٰۤؤُلَآءِ اٰلِہَۃً مَّا وَرَدُوۡہَا ؕ وَکُلٌّ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ
তারা বাস্তবিক মাবুদ হলে তাতে (অর্থাৎ জাহান্নামে) যেত না। তারা সকলেই তাতে সর্বদা থাকবে।
لَہُمۡ فِیۡہَا زَفِیۡرٌ وَّہُمۡ فِیۡہَا لَا یَسۡمَعُوۡنَ
সেখানে থাকবে তাদের আর্তনাদ। তারা সেখানে কিছুই শুনতে পাবে না।
اِنَّ الَّذِیۡنَ سَبَقَتۡ لَہُمۡ مِّنَّا الۡحُسۡنٰۤی ۙ اُولٰٓئِکَ عَنۡہَا مُبۡعَدُوۡنَ ۙ
অবশ্য যাদের জন্য পূর্ব থেকেই আমার পক্ষ হতে কল্যাণ লেখা হয়েছে (অর্থাৎ যারা নেক ও মুমিন) তাদেরকে তা (অর্থাৎ জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে।
لَا یَسۡمَعُوۡنَ حَسِیۡسَہَا ۚ وَہُمۡ فِیۡ مَا اشۡتَہَتۡ اَنۡفُسُہُمۡ خٰلِدُوۡنَ ۚ
তারা তার মৃদু শব্দও শুনতে পাবে না। তারা সর্বদা তাদের মনের কাঙ্খিত বস্তুরাজির মধ্যে থাকবে।
لَا یَحۡزُنُہُمُ الۡفَزَعُ الۡاَکۡبَرُ وَتَتَلَقّٰہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ ؕ ہٰذَا یَوۡمُکُمُ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ تُوۡعَدُوۡنَ
তাদেরকে (কিয়ামতের) মহাভীতি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবে না এবং ফিরিশতাগণ তাদেরকে (এই বলে) অভ্যর্থনা জানাবে যে, এটাই তোমাদের সেই দিন, যার ওয়াদা তোমাদের সঙ্গে করা হত।
یَوۡمَ نَطۡوِی السَّمَآءَ کَطَیِّ السِّجِلِّ لِلۡکُتُبِ ؕ کَمَا بَدَاۡنَاۤ اَوَّلَ خَلۡقٍ نُّعِیۡدُہٗ ؕ وَعۡدًا عَلَیۡنَا ؕ اِنَّا کُنَّا فٰعِلِیۡنَ
সেই দিনকে স্মরণ রাখ, যখন আমি আকাশমণ্ডলীকে গুটিয়ে ফেলব, কাগজের বেলনে লেখাসমূহ গুটানোর মত। আমি পুনরায় তাকে সৃষ্টি করব, যেভাবে প্রথমবার সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম। এটা এক প্রতিশ্রুতি, যা পূরণ করার দায় আমার। আমি তা অবশ্যই করব।
وَلَقَدۡ کَتَبۡنَا فِی الزَّبُوۡرِ مِنۡۢ بَعۡدِ الذِّکۡرِ اَنَّ الۡاَرۡضَ یَرِثُہَا عِبَادِیَ الصّٰلِحُوۡنَ
আমি যাবুরে উপদেশের পর লিখে দিয়েছিলাম, ভূমির উত্তরাধিকারী হবে আমার নেক বান্দাগণ।
اِنَّ فِیۡ ہٰذَا لَبَلٰغًا لِّقَوۡمٍ عٰبِدِیۡنَ ؕ
নিশ্চয়ই এতে (অর্থাৎ কুরআনে) ইবাদতনিষ্ঠদের জন্য যথেষ্ট বার্তা রয়েছে।
وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ
(হে নবী!) আমি তোমাকে বিশ্ব জগতের জন্য কেবল রহমত করেই পাঠিয়েছি।
قُلۡ اِنَّمَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ
বলে দাও, আমার প্রতি এই ওহীই অবতীর্ণ হয় যে, তোমাদের প্রভু একই প্রভু। সুতরাং তোমরা আনুগত্য স্বীকার করবে কি?
فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَقُلۡ اٰذَنۡتُکُمۡ عَلٰی سَوَآءٍ ؕ وَاِنۡ اَدۡرِیۡۤ اَقَرِیۡبٌ اَمۡ بَعِیۡدٌ مَّا تُوۡعَدُوۡنَ
তবুও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দাও, আমি তোমাদেরকে প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছি। আমি জানি না তোমাদেরকে যে বিষয়ের (অর্থাৎ যে শাস্তির) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা নিকটবর্তী, না দূরে।
اِنَّہٗ یَعۡلَمُ الۡجَہۡرَ مِنَ الۡقَوۡلِ وَیَعۡلَمُ مَا تَکۡتُمُوۡنَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যা উচ্চস্বরে বলা হয় এবং তিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর।
وَاِنۡ اَدۡرِیۡ لَعَلَّہٗ فِتۡنَۃٌ لَّکُمۡ وَمَتَاعٌ اِلٰی حِیۡنٍ
আমি জানি না হয়ত এটা (অর্থাৎ শাস্তিকে বিলম্বিত করা) তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত ভোগের অবকাশ।
قٰلَ رَبِّ احۡکُمۡ بِالۡحَقِّ ؕ وَرَبُّنَا الرَّحۡمٰنُ الۡمُسۡتَعَانُ عَلٰی مَا تَصِفُوۡنَ ٪
(পরিশেষে) রাসূল বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি সত্যের ফায়সালা করে দিন। আমাদের প্রতিপালক অতি দয়াবান, তোমরা যেসব কথা বলছ তার বিপরীতে তিনিই সাহায্য প্রার্থনার স্থল।