الحج

الحج

আল-হজ্জ

Ayah ৭৮ · Medinan · Para ১৭

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمۡ ۚ اِنَّ زَلۡزَلَۃَ السَّاعَۃِ شَیۡءٌ عَظِیۡمٌ

হে মানুষ! নিজ প্রতিপালকের (ক্রোধকে) ভয় কর। জেনে রেখ, কিয়ামতের প্রকম্পন এক সাংঘাতিক জিনিস।

یَوۡمَ تَرَوۡنَہَا تَذۡہَلُ کُلُّ مُرۡضِعَۃٍ عَمَّاۤ اَرۡضَعَتۡ وَتَضَعُ کُلُّ ذَاتِ حَمۡلٍ حَمۡلَہَا وَتَرَی النَّاسَ سُکٰرٰی وَمَا ہُمۡ بِسُکٰرٰی وَلٰکِنَّ عَذَابَ اللّٰہِ شَدِیۡدٌ

যে দিন তোমরা তা দেখতে পাবে, সে দিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী সেই শিশুকে (পর্যন্ত) ভুলে যাবে, যাকে সে দুধ পান করিয়েছে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত ঘটিয়ে ফেলবে আর মানুষকে তুমি এমন দেখবে, যেন তারা নেশাগ্রস্ত, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়; বরং (সে দিন) আল্লাহর শাস্তি হবে অতি কঠোর।

وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یُّجَادِلُ فِی اللّٰہِ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ وَّیَتَّبِعُ کُلَّ شَیۡطٰنٍ مَّرِیۡدٍ ۙ

মানুষের মধ্যে কতক এমন আছে, যারা আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে-না বুঝে ঝগড়া করে এবং অনুগমন করে সেই অবাধ্য শয়তানের

کُتِبَ عَلَیۡہِ اَنَّہٗ مَنۡ تَوَلَّاہُ فَاَنَّہٗ یُضِلُّہٗ وَیَہۡدِیۡہِ اِلٰی عَذَابِ السَّعِیۡرِ

যার নিয়তিতে লিখে দেওয়া হয়েছে, যে-কেউ তাকে বন্ধু বানাবে, তাকে সে বিপথগামী করে ছাড়বে এবং তাকে নিয়ে যাবে প্রজ্জ্বলিত জাহান্নামের শাস্তির দিকে।

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ رَیۡبٍ مِّنَ الۡبَعۡثِ فَاِنَّا خَلَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ مِنۡ عَلَقَۃٍ ثُمَّ مِنۡ مُّضۡغَۃٍ مُّخَلَّقَۃٍ وَّغَیۡرِ مُخَلَّقَۃٍ لِّنُبَیِّنَ لَکُمۡ ؕ وَنُقِرُّ فِی الۡاَرۡحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ثُمَّ نُخۡرِجُکُمۡ طِفۡلًا ثُمَّ لِتَبۡلُغُوۡۤا اَشُدَّکُمۡ ۚ وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّتَوَفّٰی وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرۡذَلِ الۡعُمُرِ لِکَیۡلَا یَعۡلَمَ مِنۡۢ بَعۡدِ عِلۡمٍ شَیۡئًا ؕ وَتَرَی الۡاَرۡضَ ہَامِدَۃً فَاِذَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡہَا الۡمَآءَ اہۡتَزَّتۡ وَرَبَتۡ وَاَنۡۢبَتَتۡ مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍۭ بَہِیۡجٍ

হে মানুষ! পুনরায় জীবিত হওয়া সম্পর্কে তোমাদের যদি কোন সন্দেহ থাকে, তবে (একটু চিন্তা কর) আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি হতে, তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর জমাট রক্ত থেকে, তারপর এক মাংসপি- থেকে, যা (কখনও) পূর্ণাকৃতি হয় এবং (কখনও) পূর্ণাকৃতি হয় না, তোমাদের কাছে (তোমাদের) প্রকৃত অবস্থা সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত করার জন্য। আর আমি (তোমাদেরকে) যত কাল ইচ্ছা মাতৃগর্ভে রাখি এক নির্দিষ্ট কালের জন্য। তারপর তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করি। তারপর (তোমাদেরকে প্রতিপালন করি) যাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনীত হও। তোমাদের কতককে (আগেই) দুনিয়া থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং তোমাদের কতককে ফিরিয়ে দেওয়া হয় হীনতম বয়সে (অর্থাৎ চরম বার্ধক্যে), এমনকি তখন সে সব কিছু জানার পরও কিছুই জানে না। তুমি ভূমিকে দেখ শুষ্ক, তারপর যখন আমি তাতে বারি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও বাড়-বাড়ন্ত হয়ে ওঠে এবং তা উৎপন্ন করে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।

ذٰلِکَ بِاَنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡحَقُّ وَاَنَّہٗ یُحۡیِ الۡمَوۡتٰی وَاَنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ۙ

এসব এজন্য যে, আল্লাহর অস্তিত্বই সত্য এবং তিনিই প্রাণহীনের ভেতর প্রাণ সঞ্চার করেন এবং তিনি সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।

وَّاَنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ لَّا رَیۡبَ فِیۡہَا ۙ وَاَنَّ اللّٰہَ یَبۡعَثُ مَنۡ فِی الۡقُبُوۡرِ

এবং এজন্য যে, কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী। তাতে কোন সন্দেহ নেই এবং এজন্য যে, যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।

وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یُّجَادِلُ فِی اللّٰہِ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ وَّلَا ہُدًی وَّلَا کِتٰبٍ مُّنِیۡرٍ ۙ

মানুষের মধ্যে কেউ আছে, যে আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক-বিতর্ক করে, অথচ তার না আছে জ্ঞান, না হিদায়াত, আর না আছে কোন দীপ্তিদায়ক কিতাব।

ثَانِیَ عِطۡفِہٖ لِیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ لَہٗ فِی الدُّنۡیَا خِزۡیٌ وَّنُذِیۡقُہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ

সে (অহংকারে) নিজ পার্শ্বদেশ বাঁকিয়ে রাখে, যাতে অন্যদেরকেও আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। এরূপ ব্যক্তির জন্যই দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে জ্বলন্ত আগুনের স্বাদ গ্রহণ করাব।

ذٰلِکَ بِمَا قَدَّمَتۡ یَدٰکَ وَاَنَّ اللّٰہَ لَیۡسَ بِظَلَّامٍ لِّلۡعَبِیۡدِ ٪

(বলা হবে,) এটা তোমার সেই কৃতকর্মের ফল, যা তুমি নিজ হাতে সামনে পাঠিয়েছিলে। আর এটা স্থিরীকৃত বিষয় যে, আল্লাহ বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না।

وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یَّعۡبُدُ اللّٰہَ عَلٰی حَرۡفٍ ۚ فَاِنۡ اَصَابَہٗ خَیۡرُۨ اطۡمَاَنَّ بِہٖ ۚ وَاِنۡ اَصَابَتۡہُ فِتۡنَۃُۨ انۡقَلَبَ عَلٰی وَجۡہِہٖ ۟ۚ خَسِرَ الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃَ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الۡخُسۡرَانُ الۡمُبِیۡنُ

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও আছে, যে আল্লাহর ইবাদত করে এক প্রান্তে থেকে। যদি (দুনিয়ায়) তার কোন কল্যাণ লাভ হয়, তবে তাতে সে আশ্বস্ত হয়ে যায় আর যদি সে কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তবে সে মুখ ফিরিয়ে (কুফুরের দিকে) চলে যায়। এরূপ ব্যক্তি দুনিয়াও হারায় এবং আখেরাতও। এটাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।

یَدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَضُرُّہٗ وَمَا لَا یَنۡفَعُہٗ ؕ  ذٰلِکَ ہُوَ الضَّلٰلُ الۡبَعِیۡدُ ۚ

সে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুকে ডাকে, যা তার কোন ক্ষতি করতে পারে না এবং তার কোন উপকারও করতে পারে না। এটাই তো চরম পথভ্রষ্টতা।

یَدۡعُوۡا لَمَنۡ ضَرُّہٗۤ اَقۡرَبُ مِنۡ نَّفۡعِہٖ ؕ لَبِئۡسَ الۡمَوۡلٰی وَلَبِئۡسَ الۡعَشِیۡرُ

সে ডাকে এমন কাউকে (অলীক প্রভুকে) যার ক্ষতি তার উপকার অপেক্ষা বেশি নিকটবর্তী। কত মন্দ এই অভিভাবক এবং কত মন্দ এ সহচর!

اِنَّ اللّٰہَ یُدۡخِلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَفۡعَلُ مَا یُرِیۡدُ

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে দাখিল করবেন এমন উদ্যানরাজিতে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ করেন যা চান।

مَنۡ کَانَ یَظُنُّ اَنۡ لَّنۡ یَّنۡصُرَہُ اللّٰہُ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ فَلۡیَمۡدُدۡ بِسَبَبٍ اِلَی السَّمَآءِ ثُمَّ لۡیَقۡطَعۡ فَلۡیَنۡظُرۡ ہَلۡ یُذۡہِبَنَّ کَیۡدُہٗ مَا یَغِیۡظُ

যে ব্যক্তি মনে করত আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে (অর্থাৎ নবীকে) সাহায্য করবেন না, সে আকাশ পর্যন্ত একটি রশি টানিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করুক তারপর দেখুক তার প্রচেষ্টা তার আক্রোশ দূর করে কি না!

وَکَذٰلِکَ اَنۡزَلۡنٰہُ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ ۙ وَّاَنَّ اللّٰہَ یَہۡدِیۡ مَنۡ یُّرِیۡدُ

আমি এভাবেই একে (অর্থাৎ কুরআনকে) সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে অবতীর্ণ করেছি। আর আল্লাহ যাকে চান হিদায়াত দান করেন।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَالَّذِیۡنَ ہَادُوۡا وَالصّٰبِئِیۡنَ وَالنَّصٰرٰی وَالۡمَجُوۡسَ وَالَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡۤا ٭ۖ اِنَّ اللّٰہَ یَفۡصِلُ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ

নিশ্চয়ই যারা মুমিন, যারা ইয়াহুদী, সাবী, খ্রিস্টান ও মাজুসী এবং যারা শিরক অবলম্বন করেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সকলের মধ্যে ফায়সালা করে দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের সাক্ষী।

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یَسۡجُدُ لَہٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ وَالشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ وَالنُّجُوۡمُ وَالۡجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَآبُّ وَکَثِیۡرٌ مِّنَ النَّاسِ ؕ  وَکَثِیۡرٌ حَقَّ عَلَیۡہِ الۡعَذَابُ ؕ  وَمَنۡ یُّہِنِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ مُّکۡرِمٍ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ یَفۡعَلُ مَا یَشَآءُ ؕٛ

তুমি কি দেখনি আল্লাহর সম্মুখে সিজদা করে যা-কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে, যা-কিছু আছে পৃথিবীতে এবং সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পাহাড়, বৃক্ষ, জীবজন্তু ও বহু মানুষ? আবার এমনও অনেক আছে, যাদের প্রতি শাস্তি অবধারিত হয়ে আছে। আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন তার কোন সম্মানদাতা নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ করেন যা তিনি চান।

ہٰذٰنِ خَصۡمٰنِ اخۡتَصَمُوۡا فِیۡ رَبِّہِمۡ ۫  فَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا قُطِّعَتۡ لَہُمۡ ثِیَابٌ مِّنۡ نَّارٍ ؕ  یُصَبُّ مِنۡ فَوۡقِ رُءُوۡسِہِمُ الۡحَمِیۡمُ ۚ

এরা (মুমিন ও কাফের) দু’টি পক্ষ, যারা নিজ প্রতিপালক সম্পর্কে বিবাদ করছে। সুতরাং (এর মীমাংসা হবে এভাবে যে,) যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য তৈরি করা হবে আগুনের পোশাক। তাদের মাথার উপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি।

یُصۡہَرُ بِہٖ مَا فِیۡ بُطُوۡنِہِمۡ وَالۡجُلُوۡدُ ؕ

যা দ্বারা তাদের উদরস্থ সবকিছু এবং চামড়া গলিয়ে দেওয়া হবে।

وَلَہُمۡ مَّقَامِعُ مِنۡ حَدِیۡدٍ

আর তাদের জন্য থাকবে লোহার হাতুড়ি।

کُلَّمَاۤ اَرَادُوۡۤا اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنۡہَا مِنۡ غَمٍّ اُعِیۡدُوۡا فِیۡہَا ٭  وَذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ ٪

যখনই তারা যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তা থেকে বের হতে চাবে, তখনই তাদেরকে তার ভেতর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। (বলা হবে), জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন কর।

اِنَّ اللّٰہَ یُدۡخِلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ یُحَلَّوۡنَ فِیۡہَا مِنۡ اَسَاوِرَ مِنۡ ذَہَبٍ وَّلُؤۡلُؤًا ؕ وَلِبَاسُہُمۡ فِیۡہَا حَرِیۡرٌ

(অপর দিকে) যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। সেখানে তাদেরকে সজ্জিত করা হবে সোনার কাঁকন ও মণি-মুক্তা দ্বারা। আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।

وَہُدُوۡۤا اِلٰی الطَّیِّبِ مِنَ الۡقَوۡلِ ۚۖ وَہُدُوۡۤا اِلَی صِرَاطِ الۡحَمِیۡدِ

এবং (তার কারণ এই যে,) তাদেরকে পবিত্র কালিমায় (অর্থাৎ কালিমায়ে তাওহীদে) উপনীত করা হয়েছিল এবং তাদেরকে পৌঁছানো হয়েছিল আল্লাহর পথে, যিনি সমস্ত প্রশংসার উপযুক্ত।

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَیَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَالۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ الَّذِیۡ جَعَلۡنٰہُ لِلنَّاسِ سَوَآءَۨ الۡعَاکِفُ فِیۡہِ وَالۡبَادِ ؕ  وَمَنۡ یُّرِدۡ فِیۡہِ بِاِلۡحَادٍۭ بِظُلۡمٍ نُّذِقۡہُ مِنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ ٪

নিশ্চয়ই (সেই সব লোক শাস্তির উপযুক্ত) যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং অন্যদেরকে বাধা দিচ্ছে আল্লাহর পথ ও মসজিদুল হারাম থেকে, যাকে আমি সমস্ত মানুষের জন্য সমান করেছি তার স্থানীয় বাসিন্দা হোক বা বহিরাগত। আর যে-কেউ এখানে জুলুমে রত হয়ে বাঁকা পথের ইচ্ছা করবে আমি তাকে মর্মন্তুদ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব।

وَاِذۡ بَوَّاۡنَا لِاِبۡرٰہِیۡمَ مَکَانَ الۡبَیۡتِ اَنۡ لَّا تُشۡرِکۡ بِیۡ شَیۡئًا وَّطَہِّرۡ بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَالۡقَآئِمِیۡنَ وَالرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ

এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহীমকে সেই ঘর (অর্থাৎ কাবাগৃহ)-এর স্থান জানিয়ে দিয়েছিলাম। (এবং তাকে হুকুম দিয়েছিলাম) আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার ঘরকে সেই সকল লোকের জন্য পবিত্র রেখ, যারা (এখানে) তাওয়াফ করে, ইবাদতের জন্য দাঁড়ায় এবং রুকূ-সিজদা আদায় করে।

وَاَذِّنۡ فِی النَّاسِ بِالۡحَجِّ یَاۡتُوۡکَ رِجَالًا وَّعَلٰی کُلِّ ضَامِرٍ یَّاۡتِیۡنَ مِنۡ کُلِّ فَجٍّ عَمِیۡقٍ ۙ

এবং মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পদযোগে এবং দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রমকারী উটের পিঠে সওয়ার হয়ে যেগুলো (দীর্ঘ সফরের কারণে) রোগা হয়ে গেছে।

لِّیَشۡہَدُوۡا مَنَافِعَ لَہُمۡ وَیَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰہِ فِیۡۤ اَیَّامٍ مَّعۡلُوۡمٰتٍ عَلٰی مَا رَزَقَہُمۡ مِّنۡۢ بَہِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ ۚ  فَکُلُوۡا مِنۡہَا وَاَطۡعِمُوا الۡبَآئِسَ الۡفَقِیۡرَ ۫

যাতে তারা তাদের জন্য স্থাপিত কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করে এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে সেই সকল পশুতে যা তিনি তাদেরকে দিয়েছেন। সুতরাং (হে মুসলিমগণ!) সেই পশুগুলি থেকে তোমরা নিজেরাও খাও এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও।

ثُمَّ لۡیَقۡضُوۡا تَفَثَہُمۡ وَلۡیُوۡفُوۡا نُذُوۡرَہُمۡ وَلۡیَطَّوَّفُوۡا بِالۡبَیۡتِ الۡعَتِیۡقِ

অতঃপর (যারা হজ্জ করে) তারা যেন তাদের মলিনতা দূর করে ও নিজেদের মানত পূরণ করে এবং আতীক গৃহের তাওয়াফ করে।

ذٰلِکَ ٭  وَمَنۡ یُّعَظِّمۡ حُرُمٰتِ اللّٰہِ فَہُوَ خَیۡرٌ لَّہٗ عِنۡدَ رَبِّہٖ ؕ  وَاُحِلَّتۡ لَکُمُ الۡاَنۡعَامُ اِلَّا مَا یُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ فَاجۡتَنِبُوا الرِّجۡسَ مِنَ الۡاَوۡثَانِ وَاجۡتَنِبُوۡا قَوۡلَ الزُّوۡرِ ۙ

এসব কথা স্মরণ রেখ। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ যেসব জিনিসকে মর্যাদা দিয়েছেন তার মর্যাদা রক্ষা করবে, তার পক্ষে তার প্রতিপালকের কাছে এ কাজ অতি উত্তম। সব চতুষ্পদ জন্তু তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে, সেই পশুগুলো ছাড়া যা বিস্তারিতভাবে তোমাদের পড়ে শোনানো হয়েছে। সুতরাং তোমরা প্রতিমাদের কলুষ পরিহার কর এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাক,

حُنَفَآءَ لِلّٰہِ غَیۡرَ مُشۡرِکِیۡنَ بِہٖ ؕ وَمَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰہِ فَکَاَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَآءِ فَتَخۡطَفُہُ الطَّیۡرُ اَوۡ تَہۡوِیۡ بِہِ الرِّیۡحُ فِیۡ مَکَانٍ سَحِیۡقٍ

একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অভিমুখী হয়ে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করে। যে-কেউ আল্লাহ সাথে কাউকে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পতিত হল, তারপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।

ذٰلِکَ ٭ وَمَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ اللّٰہِ فَاِنَّہَا مِنۡ تَقۡوَی الۡقُلُوۡبِ

এসব বিষয় স্মরণ রেখ। আর কেউ আল্লাহর ‘শাআইর’-কে সম্মান করলে এটা তো অন্তরস্থ তাকওয়া থেকেই অর্জিত হয়।

لَکُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ثُمَّ مَحِلُّہَاۤ اِلَی الۡبَیۡتِ الۡعَتِیۡقِ ٪

এতে রয়েছে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের নানারকম উপকার। অতঃপর তাদের হালাল হওয়ার স্থান সেই প্রাচীন গৃহ (কাবা গৃহ)-এর আশেপাশে।

وَلِکُلِّ اُمَّۃٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَکًا لِّیَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰہِ عَلٰی مَا رَزَقَہُمۡ مِّنۡۢ بَہِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ ؕ  فَاِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ فَلَہٗۤ اَسۡلِمُوۡا ؕ  وَبَشِّرِ الۡمُخۡبِتِیۡنَ ۙ

আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি যাতে আল্লাহ তাদেরকে যে চতুষ্পদ জন্তুসমূহ দিয়েছেন তাতে তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের মাবুদ একই মাবুদ। সুতরাং তোমরা তাঁরই আনুগত্য করবে। আর সুসংবাদ দাও বিনীতদেরকে।

الَّذِیۡنَ اِذَا ذُکِرَ اللّٰہُ وَجِلَتۡ قُلُوۡبُہُمۡ وَالصّٰبِرِیۡنَ عَلٰی مَاۤ اَصَابَہُمۡ وَالۡمُقِیۡمِی الصَّلٰوۃِ ۙ وَمِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ

যাদের সামনে আল্লাহকে স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর ভীত-কম্পিত হয়, যে-কোন বিপদ-আপদে আক্রান্ত হলে ধৈর্যশীল থাকে এবং যারা সালাত কায়েম করে ও আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।

وَالۡبُدۡنَ جَعَلۡنٰہَا لَکُمۡ مِّنۡ شَعَآئِرِ اللّٰہِ لَکُمۡ فِیۡہَا خَیۡرٌ ٭ۖ فَاذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰہِ عَلَیۡہَا صَوَآفَّ ۚ فَاِذَا وَجَبَتۡ جُنُوۡبُہَا فَکُلُوۡا مِنۡہَا وَاَطۡعِمُوا الۡقَانِعَ وَالۡمُعۡتَرَّ ؕ کَذٰلِکَ سَخَّرۡنٰہَا لَکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ

কুরবানীর উট (ও গরু)কে তোমাদের জন্য আল্লাহর ‘শাআইর’-এর অন্তর্ভুক্ত করেছি। তোমাদের পক্ষে তাতে আছে কল্যাণ। সুতরাং যখন তা সারিবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়ানো থাকে, তোমরা তার উপর আল্লাহর নাম নেবে। তারপর যখন (যবেহ হয়ে যাওয়ার পর) তা কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়, তখন তার গোশত থেকে নিজেরাও খাও এবং ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও এবং তাকেও, যে নিজ অভাব প্রকাশ করে। এভাবেই আমি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

لَنۡ یَّنَالَ اللّٰہَ لُحُوۡمُہَا وَلَا دِمَآؤُہَا وَلٰکِنۡ یَّنَالُہُ التَّقۡوٰی مِنۡکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ سَخَّرَہَا لَکُمۡ لِتُکَبِّرُوا اللّٰہَ عَلٰی مَا ہَدٰىکُمۡ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

আল্লাহর কাছে তাদের গোশত পৌঁছে না আর তাদের রক্তও না, বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর, তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন বলে। যারা সুচারুরূপে সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দাও।

اِنَّ اللّٰہَ یُدٰفِعُ عَنِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ کُلَّ خَوَّانٍ کَفُوۡرٍ ٪

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের প্রতিরক্ষা করেন, যারা ঈমান এনেছে। জেনে রেখ, আল্লাহ কোন বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।

اُذِنَ لِلَّذِیۡنَ یُقٰتَلُوۡنَ بِاَنَّہُمۡ ظُلِمُوۡا ؕ  وَاِنَّ اللّٰہَ عَلٰی نَصۡرِہِمۡ لَقَدِیۡرُۨ ۙ

যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদেরকে অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে (তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার্থে যুদ্ধ করতে পারে)। যেহেতু তাদের প্রতি জুলুম করা হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে জয়যুক্ত করতে পরিপূর্ণ সক্ষম।

الَّذِیۡنَ اُخۡرِجُوۡا مِنۡ دِیَارِہِمۡ بِغَیۡرِ حَقٍّ اِلَّاۤ اَنۡ یَّقُوۡلُوۡا رَبُّنَا اللّٰہُ ؕ وَلَوۡلَا دَفۡعُ اللّٰہِ النَّاسَ بَعۡضَہُمۡ بِبَعۡضٍ لَّہُدِّمَتۡ صَوَامِعُ وَبِیَعٌ وَّصَلَوٰتٌ وَّمَسٰجِدُ یُذۡکَرُ فِیۡہَا اسۡمُ اللّٰہِ کَثِیۡرًا ؕ وَلَیَنۡصُرَنَّ اللّٰہُ مَنۡ یَّنۡصُرُہٗ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَقَوِیٌّ عَزِیۡزٌ

যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ি হতে অন্যায়ভাবে কেবল এ কারণে বের করা হয়েছে যে, তারা বলেছিল, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানব জাতির এক দল (-এর অনিষ্ট)কে অন্য দলের মাধ্যমে প্রতিহত না করতেন, তবে ধ্বংস করে দেওয়া হত খানকাহ, গির্জা, ইবাদতখানা ও মসজিদসমূহ যাতে আল্লাহর যিকির করা বেশি। আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করবেন, যারা তার (দীনের) সাহায্য করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী।

اَلَّذِیۡنَ اِنۡ مَّکَّنّٰہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتَوُا الزَّکٰوۃَ وَاَمَرُوۡا بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَنَہَوۡا عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَلِلّٰہِ عَاقِبَۃُ الۡاُمُوۡرِ

তারা এমন যে, আমি যদি দুনিয়ায় তাদেরকে ক্ষমতা দান করি, তবে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, মানুষকে সৎকাজের আদেশ করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে। সব কাজে পরিণতি আল্লাহরই হাতে।

وَاِنۡ یُّکَذِّبُوۡکَ فَقَدۡ کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّعَادٌ وَّثَمُوۡدُ ۙ

(হে নবী!) তারা যদি তোমাকে অস্বীকার করে, তবে তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং আদ ও ছামুদের সম্প্রদায়ও তো (নিজ-নিজ নবীকে) অস্বীকার করেছিল।

وَقَوۡمُ اِبۡرٰہِیۡمَ وَقَوۡمُ لُوۡطٍ ۙ

এবং ইবরাহীমের সম্প্রদায় ও লুতের সম্প্রদায়

وَّاَصۡحٰبُ مَدۡیَنَ ۚ وَکُذِّبَ مُوۡسٰی فَاَمۡلَیۡتُ لِلۡکٰفِرِیۡنَ ثُمَّ اَخَذۡتُہُمۡ ۚ فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ

এবং মাদয়ানবাসীরাও। তাছাড়া মূসাকেও অস্বীকার করা হয়েছিল। সুতরাং আমি সে কাফেরদেরকে কিছুটা অবকাশ দিয়েছিলাম। তারপর তাদেরকে পাকড়াও করি। এবার দেখ আমার ধরা কেমন ছিল!

فَکَاَیِّنۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَا وَہِیَ ظَالِمَۃٌ فَہِیَ خَاوِیَۃٌ عَلٰی عُرُوۡشِہَا وَبِئۡرٍ مُّعَطَّلَۃٍ وَّقَصۡرٍ مَّشِیۡدٍ

মোদ্দাকথা আমি কত জনপদকেই ধ্বংস করেছি, যখন তারা জুলুমে রত ছিল! ফলে তা ছাদের উপর ধসে পড়েছে, কত কুয়া হয়েছে পরিত্যক্ত এবং কত পাকা মহল (ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে)!

اَفَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَتَکُوۡنَ لَہُمۡ قُلُوۡبٌ یَّعۡقِلُوۡنَ بِہَاۤ اَوۡ اٰذَانٌ یَّسۡمَعُوۡنَ بِہَا ۚ فَاِنَّہَا لَا تَعۡمَی الۡاَبۡصَارُ وَلٰکِنۡ تَعۡمَی الۡقُلُوۡبُ الَّتِیۡ فِی الصُّدُوۡرِ

তবে কি তারা ভূমিতে চলাফেরা করেনি, যা দ্বারা তাদের এমন অন্তকরণ লাভ হত, যা দ্বারা তারা (সত্য) উপলব্ধি করত কিংবা এমন কান লাভ হত, যা দ্বারা তা শুনতে পেত। প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ হয় না, বরং অন্ধ হয় সেই হৃদয়, যা বক্ষদেশে বিরাজ করে।

وَیَسۡتَعۡجِلُوۡنَکَ بِالۡعَذَابِ وَلَنۡ یُّخۡلِفَ اللّٰہُ وَعۡدَہٗ ؕ وَاِنَّ یَوۡمًا عِنۡدَ رَبِّکَ کَاَلۡفِ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ

তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি এনে দিতে বলে, অথচ আল্লাহ কখনই নিজ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। নিশ্চিত জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালকের কাছে এক দিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান।

وَکَاَیِّنۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَمۡلَیۡتُ لَہَا وَہِیَ ظَالِمَۃٌ ثُمَّ اَخَذۡتُہَا ۚ  وَاِلَیَّ الۡمَصِیۡرُ ٪

আমি কত জনপদকেই তো অবকাশ দিয়েছিলাম, যা ছিল জুলুমরত। অবশেষে আমি তাদেরকে পাকড়াও করি। আর শেষ পর্যন্ত সকলকে আমারই কাছে ফিরতে হবে।

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّمَاۤ اَنَا لَکُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۚ

(হে নবী!) বলে দাও, আমি তো তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

فَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ

সুতরাং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিযক।

وَالَّذِیۡنَ سَعَوۡا فِیۡۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیۡنَ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَحِیۡمِ

আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে ব্যর্থ প্রমাণের জন্য দৌড়-ঝাঁপ করে, তারা হবে জাহান্নামবাসী।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رَّسُوۡلٍ وَّلَا نَبِیٍّ اِلَّاۤ اِذَا تَمَنّٰۤی اَلۡقَی الشَّیۡطٰنُ فِیۡۤ اُمۡنِیَّتِہٖ ۚ  فَیَنۡسَخُ اللّٰہُ مَا یُلۡقِی الشَّیۡطٰنُ ثُمَّ یُحۡکِمُ اللّٰہُ اٰیٰتِہٖ ؕ  وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ۙ

(হে নবী!) তোমার পূর্বে যখনই আমি কোন রাসূল বা নবী পাঠিয়েছি, তার ক্ষেত্রে অবশ্যই এ ঘটনা ঘটেছে যে, যখন সে (আল্লাহর বাণী) পড়েছে শয়তান তার পড়ার সঙ্গে-সঙ্গে (কাফেরদের অন্তরে) কোন প্রতিবন্ধ ফেলে দিয়েছে। অতঃপর শয়তান যে প্রতিবন্ধ ফেলে আল্লাহ তা অপসারণ করেন তারপর নিজ আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করে দেন। বস্তুত আল্লাহ প্রভূত জ্ঞান ও প্রভূত হিকমতের মালিক।

لِّیَجۡعَلَ مَا یُلۡقِی الشَّیۡطٰنُ فِتۡنَۃً لِّلَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ وَّالۡقَاسِیَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ ؕ  وَاِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ لَفِیۡ شِقَاقٍۭ بَعِیۡدٍ ۙ

তা এজন্য যে, শয়তান যে প্রতিবন্ধ ফেলে, আল্লাহ তাকে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যাদের অন্তর শক্ত, তাদের জন্য ফিতনায় পরিণত করেন। নিশ্চয়ই জালেমগণ বিরোধিতায় বহু দূর পৌঁছে গেছে।

وَّلِیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ اَنَّہُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ فَیُؤۡمِنُوۡا بِہٖ فَتُخۡبِتَ لَہٗ قُلُوۡبُہُمۡ ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَہَادِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ

আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা যেন জেনে নেয় এটাই (অর্থাৎ এ কালামই) সত্য, যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে অতঃপর তারা যেন তাতে ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর তার প্রতি ঝুঁকে পড়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের জন্য সরল পথের হিদায়াতদাতা।

وَلَا یَزَالُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡہُ حَتّٰی تَاۡتِیَہُمُ السَّاعَۃُ بَغۡتَۃً اَوۡ یَاۡتِیَہُمۡ عَذَابُ یَوۡمٍ عَقِیۡمٍ

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা এ সম্পর্কে (অর্থাৎ কুরআন সম্পর্কে) অব্যাহতভাবে সন্দেহে পতিত থাকবে, যাবৎ না তাদের উপর অকস্মাৎ কিয়ামত উপস্থিত হয় অথবা তাদের উপর এমন এক দিবসের শাস্তি এসে পড়ে যা (তাদের জন্য) কোনও রকমের কল্যাণপ্রসূ নয়।

اَلۡمُلۡکُ یَوۡمَئِذٍ لِّلّٰہِ ؕ یَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ ؕ فَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فِیۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ

সে দিন রাজত্ব হবে কেবল আল্লাহর। তিনি তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারা থাকবে নি‘আমত-আকীর্ণ জান্নাতে।

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا فَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ٪

আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে ও আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য থাকবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।

وَالَّذِیۡنَ ہَاجَرُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ثُمَّ قُتِلُوۡۤا اَوۡ مَاتُوۡا لَیَرۡزُقَنَّہُمُ اللّٰہُ رِزۡقًا حَسَنًا ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَہُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ

যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, তারপর তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে বা তাদের ইন্তিকাল হয়েছে, আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে উত্তম রিযক দান করবেন, নিশ্চয়ই আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

لَیُدۡخِلَنَّہُمۡ مُّدۡخَلًا یَّرۡضَوۡنَہٗ ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَعَلِیۡمٌ حَلِیۡمٌ

তিনি তাদেরকে অবশ্যই এমন স্থানে পৌঁছাবেন, যা পেয়ে তারা খুশী হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞাত, পরম সহনশীল।

ذٰلِکَ ۚ وَمَنۡ عَاقَبَ بِمِثۡلِ مَا عُوۡقِبَ بِہٖ ثُمَّ بُغِیَ عَلَیۡہِ لَیَنۡصُرَنَّہُ اللّٰہُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَعَفُوٌّ غَفُوۡرٌ

এসব স্থিরীকৃত বিষয় এবং (আরও জেনে রেখ) কোনও ব্যক্তি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে যদি ঠিক ততটুকু কষ্ট দেয়, যতটুকু কষ্ট তাকে দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর ফের তার প্রতি অত্যাচার করা হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল।

ذٰلِکَ بِاَنَّ اللّٰہَ یُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَیُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ وَاَنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ

তা এজন্য যে, আল্লাহ (তাআলার শক্তি বিপুল। তিনি) রাতকে দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবিষ্ট করান এবং এজন্য যে, আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।

ذٰلِکَ بِاَنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡحَقُّ وَاَنَّ مَا یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ ہُوَ الۡبَاطِلُ وَاَنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡعَلِیُّ الۡکَبِیۡرُ

তা এজন্য যে, আল্লাহই সত্য। আর তারা তাঁকে ছেড়ে যেসব জিনিসের ইবাদত করে তা সবই মিথ্যা। আর আল্লাহই সেই সত্তা, যার মহিমা, সমুচ্চ, মর্যাদা বিপুল।

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۫  فَتُصۡبِحُ الۡاَرۡضُ مُخۡضَرَّۃً ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَطِیۡفٌ خَبِیۡرٌ ۚ

তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, যা দ্বারা ভূমি সবুজ-সজীব হয়ে ওঠে? বস্তুত আল্লাহ অশেষ দয়াবান, সর্ব বিষয়ে অবহিত।

لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  وَاِنَّ اللّٰہَ لَہُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ ٪

যা-কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে এবং যা-কিছু আছে পৃথিবীতে সব তাঁরই। নিশ্চিত জেন, আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি সকলের থেকে অনপেক্ষ, প্রশংসার্হ।

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ سَخَّرَ لَکُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ وَالۡفُلۡکَ تَجۡرِیۡ فِی الۡبَحۡرِ بِاَمۡرِہٖ ؕ وَیُمۡسِکُ السَّمَآءَ اَنۡ تَقَعَ عَلَی الۡاَرۡضِ اِلَّا بِاِذۡنِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِالنَّاسِ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ

তুমি কি দেখনি আল্লাহ ভূমিস্থ সব কিছুকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করে রেখেছেন এবং জলযানসমূহকেও, যা তার আদেশে সাগরে চলাচল করে? এবং তিনি আকাশকে এভাবে ধারণ করে রেখেছেন যে, তা তার অনুমতি ছাড়া পৃথিবীর উপর পতিত হবে না। বস্তুত আল্লাহ মানুষের প্রতি মমতাময় পরম দয়ালু।

وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَحۡیَاکُمۡ ۫ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ ثُمَّ یُحۡیِیۡکُمۡ ؕ اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَکَفُوۡرٌ

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে জীবন দান করেছেন, তারপর তিনিই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করবেন। সত্যিই মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ।

لِکُلِّ اُمَّۃٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَکًا ہُمۡ نَاسِکُوۡہُ فَلَا یُنَازِعُنَّکَ فِی الۡاَمۡرِ وَادۡعُ اِلٰی رَبِّکَ ؕ اِنَّکَ لَعَلٰی ہُدًی مُّسۡتَقِیۡمٍ

আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য ইবাদতের এক পদ্ধতি নির্দিষ্ট করেছি, যে অনুসারে তারা ইবাদত করে। সুতরাং (হে নবী!) এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে যেন তারা বিতর্কে লিপ্ত না হয়। তুমি নিজ প্রতিপালকের দিকে দাওয়াত দিতে থাক। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথে আছ।

وَاِنۡ جٰدَلُوۡکَ فَقُلِ اللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ

তারা তোমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হলে বলে দাও, তোমরা যা-কিছু করছ আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।

اَللّٰہُ یَحۡکُمُ بَیۡنَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ

যে সব বিষয়ে তোমরা বিতর্ক করছ, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে সে বিষয়ে মীমাংসা করে দিবেন।

اَلَمۡ تَعۡلَمۡ اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اِنَّ ذٰلِکَ فِیۡ کِتٰبٍ ؕ اِنَّ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ

তুমি কি জান না আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা জানেন? এসব বিষয় একটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে। নিশ্চয়ই তা আল্লাহ তাআলার পক্ষে অতি সহজ।

وَیَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِہٖ سُلۡطٰنًا وَّمَا لَیۡسَ لَہُمۡ بِہٖ عِلۡمٌ ؕ وَمَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ نَّصِیۡرٍ

তারা আল্লাহকে ছেড়ে এমন জিনিসের ইবাদত করে যার (মাবুদ হওয়া) সম্পর্কে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং এমন জিনিসের (ইবাদত করে) যে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। (আখেরাতে) এ রকম জালেমদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ تَعۡرِفُ فِیۡ وُجُوۡہِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوا الۡمُنۡکَرَ ؕ  یَکَادُوۡنَ یَسۡطُوۡنَ بِالَّذِیۡنَ یَتۡلُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِنَا ؕ  قُلۡ اَفَاُنَبِّئُکُمۡ بِشَرٍّ مِّنۡ ذٰلِکُمۡ ؕ  اَلنَّارُ ؕ  وَعَدَہَا اللّٰہُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ  وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ٪

তাদেরকে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হয়, তখন তুমি কাফেরদের চেহারায় বিতৃষ্ণা ভাব দেখতে পাও। যেন তাদেরকে যারা আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনায় তাদের উপর আক্রমণ চালাবে। বল, হে মানুষ! আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে বেশি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে অবগত করব? তা হল আগুন। আল্লাহ কাফেরদেরকে তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা অতি মন্দ ঠিকানা।

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسۡتَمِعُوۡا لَہٗ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَنۡ یَّخۡلُقُوۡا ذُبَابًا وَّلَوِ اجۡتَمَعُوۡا لَہٗ ؕ وَاِنۡ یَّسۡلُبۡہُمُ الذُّبَابُ شَیۡئًا لَّا یَسۡتَنۡقِذُوۡہُ مِنۡہُ ؕ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالۡمَطۡلُوۡبُ

হে মানুষ! একটি উপমা দেওয়া হচ্ছে। মনোযোগ দিয়ে শোন। তোমরা দু‘আর জন্য আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে ডাক, তারা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না, যদিও এ কাজের জন্য তারা সকলে একত্র হয়ে যায়। এমনকি মাছি যদি তাদের থেকে কোন জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তাও তারা তার থেকে উদ্ধার করতে পারে না। এরূপ দু‘আকারীও বড় দুর্বল এবং যার কাছে দু‘আ করা হয় সেও।

مَا قَدَرُوا اللّٰہَ حَقَّ قَدۡرِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَقَوِیٌّ عَزِیۡزٌ

তারা আল্লাহর যথাযথ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রান্ত।

اَللّٰہُ یَصۡطَفِیۡ مِنَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ رُسُلًا وَّمِنَ النَّاسِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ ۚ

আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য হতে তাঁর বার্তাবাহক মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্য হতেও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।

یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ

তিনি তাদের সামনের ও পিছনের যাবতীয় বিষয় জানেন। বস্তুত আল্লাহরই কাছে যাবতীয় বিষয় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا ارۡکَعُوۡا وَاسۡجُدُوۡا وَاعۡبُدُوۡا رَبَّکُمۡ وَافۡعَلُوا الۡخَیۡرَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ۚٛ

হে মুমিনগণ! রুকু কর, সিজদা কর, তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর এবং সৎকর্ম কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পার।*

وَجَاہِدُوۡا فِی اللّٰہِ حَقَّ جِہَادِہٖ ؕ  ہُوَ اجۡتَبٰىکُمۡ وَمَا جَعَلَ عَلَیۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ مِنۡ حَرَجٍ ؕ  مِلَّۃَ اَبِیۡکُمۡ اِبۡرٰہِیۡمَ ؕ  ہُوَ سَمّٰىکُمُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ۬ۙ  مِنۡ قَبۡلُ وَفِیۡ ہٰذَا لِیَکُوۡنَ الرَّسُوۡلُ شَہِیۡدًا عَلَیۡکُمۡ وَتَکُوۡنُوۡا شُہَدَآءَ عَلَی النَّاسِ ۚۖ  فَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَاعۡتَصِمُوۡا بِاللّٰہِ ؕ  ہُوَ مَوۡلٰىکُمۡ ۚ  فَنِعۡمَ الۡمَوۡلٰی وَنِعۡمَ النَّصِیۡرُ ٪

এবং আল্লাহর পথে জিহাদ কর, যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে (তাঁর দীনের জন্য) মনোনীত করেছেন। তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোন সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। নিজেদের পিতা ইবরাহীমের দীনকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধর। তিনিই পূর্বেও তোমাদের নাম রেখেছিলেন মুসলিম এবং এ কিতাবেও (অর্থাৎ কুরআনেও), যাতে এই রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হতে পারে আর তোমরা সাক্ষী হতে পার অন্যান্য মানুষের জন্য। সুতরাং নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আকড়ে ধর। তিনি তোমাদের অভিভাবক। দেখ কত উত্তম অভিভাবক তিনি এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।