الشعراء
আশ-শুআরা
Ayah ২২৭ · Meccan · Para ১৯
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
طٰسٓمّٓ
তোয়া-সীম-মীম।
تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ
এগুলি সত্যকে সুস্পষ্টকারী কিতাবের আয়াত।
لَعَلَّکَ بَاخِعٌ نَّفۡسَکَ اَلَّا یَکُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ
(হে রাসূল!) তারা ঈমান (কেন) আনছে না, এই দুঃখে হয়ত তুমি আত্মবিনাশী হয়ে যাবে!
اِنۡ نَّشَاۡ نُنَزِّلۡ عَلَیۡہِمۡ مِّنَ السَّمَآءِ اٰیَۃً فَظَلَّتۡ اَعۡنَاقُہُمۡ لَہَا خٰضِعِیۡنَ
আমি ইচ্ছা করলে আকাশ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম, ফলে তার সামনে তাদের ঘাড় নুয়ে যেত।
وَمَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ ذِکۡرٍ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ مُحۡدَثٍ اِلَّا کَانُوۡا عَنۡہُ مُعۡرِضِیۡنَ
(তাদের অবস্থা তো এই যে,) তাদের সামনে দয়াময় আল্লাহর পক্ষ হতে যখনই নতুন কোন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
فَقَدۡ کَذَّبُوۡا فَسَیَاۡتِیۡہِمۡ اَنۡۢبٰٓؤُا مَا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ
এভাবে তারা তো সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, অচিরেই তার প্রকৃত সংবাদ তাদের কাছে এসে যাবে।
اَوَلَمۡ یَرَوۡا اِلَی الۡاَرۡضِ کَمۡ اَنۡۢبَتۡنَا فِیۡہَا مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍ کَرِیۡمٍ
তারা কি ভূমির প্রতি লক্ষ্য করেনি, আমি তাতে সর্বপ্রকার উৎকৃষ্ট বস্তু হতে কত কিছু উৎপন্ন করেছি?
اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে নিদর্শন। তথাপি তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক তিনিই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَاِذۡ نَادٰی رَبُّکَ مُوۡسٰۤی اَنِ ائۡتِ الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ
(সেই সময়ের বৃত্তান্ত শোন), যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি ওই জালেম সম্প্রদায়ের কাছে যাও
قَوۡمَ فِرۡعَوۡنَ ؕ اَلَا یَتَّقُوۡنَ
ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি আল্লাহকে ভয় করে না?
قَالَ رَبِّ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اَنۡ یُّکَذِّبُوۡنِ ؕ
মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার আশঙ্কা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।
وَیَضِیۡقُ صَدۡرِیۡ وَلَا یَنۡطَلِقُ لِسَانِیۡ فَاَرۡسِلۡ اِلٰی ہٰرُوۡنَ
আমার অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং আমার জিহ্বাও স্বচ্ছন্দে চলে না। সুতরাং হারূনের কাছেও (নবুওয়াতের) বার্তা পাঠান
وَلَہُمۡ عَلَیَّ ذَنۡۢبٌ فَاَخَافُ اَنۡ یَّقۡتُلُوۡنِ ۚ
আর আমার বিরুদ্ধে তো তাদের একটা অভিযোগও আছে। তাই আমার ভয়, তারা আমাকে হত্যা করবে।
قَالَ کَلَّا ۚ فَاذۡہَبَا بِاٰیٰتِنَاۤ اِنَّا مَعَکُمۡ مُّسۡتَمِعُوۡنَ
আল্লাহ বললেন, কখনও নয়। তোমরা আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে যাও। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, সবকিছু শুনতে থাকব।
فَاۡتِیَا فِرۡعَوۡنَ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ
সুতরাং তোমরা ফির‘আউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা রাব্বুল আলামীনের রাসূল।
اَنۡ اَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ
(আমরা এই বার্তা নিয়ে এসেছি যে,) তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে যেতে দাও।
قَالَ اَلَمۡ نُرَبِّکَ فِیۡنَا وَلِیۡدًا وَّلَبِثۡتَ فِیۡنَا مِنۡ عُمُرِکَ سِنِیۡنَ ۙ
ফেরাউন (একথার উত্তরে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে) বলল, আমরা কি তোমাকে তোমার শিশুকালে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মাঝেই কাটিয়েছ।
وَفَعَلۡتَ فَعۡلَتَکَ الَّتِیۡ فَعَلۡتَ وَاَنۡتَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ
আর যে কাণ্ড তুমি করেছিলে সে তো করেছই। বস্তুত তুমি একজন অকৃতজ্ঞ লোক।
قَالَ فَعَلۡتُہَاۤ اِذًا وَّاَنَا مِنَ الضَّآلِّیۡنَ ؕ
মূসা বলল, আমি সে কাজটি এমন অবস্থায় করেছিলাম যখন আমি ছিলাম অজ্ঞ।
فَفَرَرۡتُ مِنۡکُمۡ لَمَّا خِفۡتُکُمۡ فَوَہَبَ لِیۡ رَبِّیۡ حُکۡمًا وَّجَعَلَنِیۡ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ
অতঃপর আমি যখন তোমাদেরকে ভয় করলাম, তখন তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। তারপর আমার প্রতিপালক আমাকে হেকমত দান করলেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।
وَتِلۡکَ نِعۡمَۃٌ تَمُنُّہَا عَلَیَّ اَنۡ عَبَّدۡتَّ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের খোঁটা দিচ্ছ, তার স্বরূপ তো এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছ।
قَالَ فِرۡعَوۡنُ وَمَا رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ
ফেরাউন বলল, রাব্বুল আলামীন আবার কী?
قَالَ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ؕ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّوۡقِنِیۡنَ
মূসা বলল, তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক যদি তোমাদের বাস্তবিকই বিশ্বাস করার থাকে।
قَالَ لِمَنۡ حَوۡلَہٗۤ اَلَا تَسۡتَمِعُوۡنَ
ফেরাউন তার আশপাশের লোকদেরকে বলল, তোমরা শুনছ কি না?
قَالَ رَبُّکُمۡ وَرَبُّ اٰبَآئِکُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ
মূসা বলল, তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।
قَالَ اِنَّ رَسُوۡلَکُمُ الَّذِیۡۤ اُرۡسِلَ اِلَیۡکُمۡ لَمَجۡنُوۡنٌ
ফেরাউন বলল, তোমাদের এই রাসূল, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, একেবারেই উন্মাদ!
قَالَ رَبُّ الۡمَشۡرِقِ وَالۡمَغۡرِبِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ؕ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ
মূসা বলল, তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের প্রতিপালক এবং এ দুয়ের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুরও যদি তোমরা বুদ্ধির সদ্ব্যবহার কর।
قَالَ لَئِنِ اتَّخَذۡتَ اِلٰـہًا غَیۡرِیۡ لَاَجۡعَلَنَّکَ مِنَ الۡمَسۡجُوۡنِیۡنَ
সে বলল, (মনে রেখ) তুমি যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে মাবুদ বলে গ্রহণ কর, তবে আমি তোমাকে অবশ্যই যারা জেলে পড়ে আছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করব।
قَالَ اَوَلَوۡ جِئۡتُکَ بِشَیۡءٍ مُّبِیۡنٍ ۚ
মূসা বলল, আমি যদি (সত্যকে) পরিস্ফুটকারী কোন জিনিস তোমার নিকট উপস্থিত করি, তবুও কি?
قَالَ فَاۡتِ بِہٖۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ
ফেরাউন বলল, আচ্ছ, তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে তা উপস্থিত কর।
فَاَلۡقٰی عَصَاہُ فَاِذَا ہِیَ ثُعۡبَانٌ مُّبِیۡنٌ ۚۖ
সুতরাং মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল, তৎক্ষণাৎ তা সাক্ষাৎ অজগর হয়ে গেল।
وَّنَزَعَ یَدَہٗ فَاِذَا ہِیَ بَیۡضَآءُ لِلنّٰظِرِیۡنَ ٪
এবং সে তার হাত (বগলের ভেতর থেকে) টেনে বের করল, অমনি তা দর্শকদের সামনে সাদা হয়ে গেল।
قَالَ لِلۡمَلَاِ حَوۡلَہٗۤ اِنَّ ہٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِیۡمٌ ۙ
ফেরাউন তার আশপাশের নেতৃবর্গকে বলল, নিশ্চয়ই সে একজন সুদক্ষ যাদুকর।
یُّرِیۡدُ اَنۡ یُّخۡرِجَکُمۡ مِّنۡ اَرۡضِکُمۡ بِسِحۡرِہٖ ٭ۖ فَمَاذَا تَاۡمُرُوۡنَ
সে তার যাদুবলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে উৎখাত করতে চায়। এবার বল, তোমাদের অভিমত কী?
قَالُوۡۤا اَرۡجِہۡ وَاَخَاہُ وَابۡعَثۡ فِی الۡمَدَآئِنِ حٰشِرِیۡنَ ۙ
তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছুটা সময় দিন এবং নগরে-নগরে সংবাদবাহক পাঠিয়ে দিন
یَاۡتُوۡکَ بِکُلِّ سَحَّارٍ عَلِیۡمٍ
যারা যত সুদক্ষ যাদুকর আছে, তাদেরকে আপনার কাছে নিয়ে আসবে (তারপর মূসা ও তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক)।
فَجُمِعَ السَّحَرَۃُ لِمِیۡقَاتِ یَوۡمٍ مَّعۡلُوۡمٍ ۙ
সুতরাং নির্ধারিত এক দিন সুনির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্র করা হল।
وَّقِیۡلَ لِلنَّاسِ ہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّجۡتَمِعُوۡنَ ۙ
এবং মানুষকে বলা হল, তোমরা সমবেত হচ্ছ তো?
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَۃَ اِنۡ کَانُوۡا ہُمُ الۡغٰلِبِیۡنَ
হয়ত আমরা যাদুকরদের অনুগামী হতে পারব যদি তারাই জয়ী হয়।
فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالُوۡا لِفِرۡعَوۡنَ اَئِنَّ لَنَا لَاَجۡرًا اِنۡ کُنَّا نَحۡنُ الۡغٰلِبِیۡنَ
তারপর যখন যাদুকরগণ আসল, তখন তারা ফির‘আউনকে বলল, এটা তো নিশ্চিত যে, আমরা বিজয়ী হলে আমাদের জন্য কোন পুরস্কার থাকবে?
قَالَ نَعَمۡ وَاِنَّکُمۡ اِذًا لَّمِنَ الۡمُقَرَّبِیۡنَ
ফির‘আউন বলল, হাঁ এবং তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
قَالَ لَہُمۡ مُّوۡسٰۤی اَلۡقُوۡا مَاۤ اَنۡتُمۡ مُّلۡقُوۡنَ
মুসা যাদুকরদেরকে বলল, তোমাদের যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর।
فَاَلۡقَوۡا حِبَالَہُمۡ وَعِصِیَّہُمۡ وَقَالُوۡا بِعِزَّۃِ فِرۡعَوۡنَ اِنَّا لَنَحۡنُ الۡغٰلِبُوۡنَ
তখন তারা তাদের রশি ও লাঠি মাটিতে ফেলে দিল এবং বলল, ফির‘আউনের ইজ্জতের শপথ! আমরাই বিজয়ী হব।
فَاَلۡقٰی مُوۡسٰی عَصَاہُ فَاِذَا ہِیَ تَلۡقَفُ مَا یَاۡفِکُوۡنَ ۚۖ
অতঃপর মুসা নিজ লাঠি মাটিতে নিক্ষেপ করল। অমনি তা (অজগর হয়ে) তারা মিছামিছি যা তৈরি করেছিল তা গ্রাস করতে লাগল।
فَاُلۡقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیۡنَ ۙ
অনন্তর যাদুকরদেরকে সিজদায় পাতিত করা হল।
قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ
তারা বলতে লাগল, আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামীনের প্রতি
رَبِّ مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ
যিনি মুসা ও হারূনের প্রতিপালক।
قَالَ اٰمَنۡتُمۡ لَہٗ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَکُمۡ ۚ اِنَّہٗ لَکَبِیۡرُکُمُ الَّذِیۡ عَلَّمَکُمُ السِّحۡرَ ۚ فَلَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۬ؕ لَاُقَطِّعَنَّ اَیۡدِیَکُمۡ وَاَرۡجُلَکُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ وَّلَاُوصَلِّبَنَّکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۚ
ফেরাউন বলল, আমি অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা মূসার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের সকলের গুরু, যে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। আচ্ছা, তোমরা এখনই জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের সকলের এক দিকের হাত ও অন্য দিকের পা কেটে ফেলব এবং তোমাদের সকলকে শূলে চড়িয়ে ছাড়ব।
قَالُوۡا لَا ضَیۡرَ ۫ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا مُنۡقَلِبُوۡنَ ۚ
যাদুকরগণ বলল, আমাদের কোন ক্ষতি নেই। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাব।
اِنَّا نَطۡمَعُ اَنۡ یَّغۡفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطٰیٰنَاۤ اَنۡ کُنَّاۤ اَوَّلَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ٪
আমরা আশা করি, আমাদের প্রতিপালক এ কারণে আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন যে, আমরা সকলের আগে ঈমান এনেছি।
وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی اَنۡ اَسۡرِ بِعِبَادِیۡۤ اِنَّکُمۡ مُّتَّبَعُوۡنَ
আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে তুমি রাতারাতি রওয়ানা হয়ে যাও। তোমাদের কিন্তু অবশ্যই পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
فَاَرۡسَلَ فِرۡعَوۡنُ فِی الۡمَدَآئِنِ حٰشِرِیۡنَ ۚ
অতঃপর ফির‘আউন শহরে শহরে সংবাদবাহক পাঠিয়ে দিল
اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ لَشِرۡذِمَۃٌ قَلِیۡلُوۡنَ ۙ
(এই বলে যে,) তারা (অর্থাৎ বনী ইসরাঈল) ছোট্ট একটা দলের অল্পকিছু লোক।
وَاِنَّہُمۡ لَنَا لَغَآئِظُوۡنَ ۙ
নিশ্চয়ই তারা আমাদের প্রচণ্ডভাবে ক্রুদ্ধ করে তুলেছে!
وَاِنَّا لَجَمِیۡعٌ حٰذِرُوۡنَ ؕ
আর আমরা সতর্ক (সশস্ত্র) একটি বড় দল (সুতরাং সকলে সম্মিলিতভাবে তাদের পশ্চাদ্ধাবন কর)।
فَاَخۡرَجۡنٰہُمۡ مِّنۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۙ
এভাবে আমি তাদেরকে বের করে আনলাম উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হতে
وَّکُنُوۡزٍ وَّمَقَامٍ کَرِیۡمٍ ۙ
এবং ধনভাণ্ডার ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানসমূহ থেকে।
کَذٰلِکَ ؕ وَاَوۡرَثۡنٰہَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ
এ রকমই হয়েছিল তাদের ব্যাপার। আর (অন্য দিকে) আমি বনী ইসরাঈলকে বানিয়ে দিলাম তার উত্তরাধিকারী।
فَاَتۡبَعُوۡہُمۡ مُّشۡرِقِیۡنَ
সারকথা সূর্যোদয় মাত্রই তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়ল।
فَلَمَّا تَرَآءَ الۡجَمۡعٰنِ قَالَ اَصۡحٰبُ مُوۡسٰۤی اِنَّا لَمُدۡرَکُوۡنَ ۚ
তারপর যখন উভয় দল একে অন্যকে দেখতে পেল, তখন মুসার সঙ্গীগণ বলল, এখন আমরা নির্ঘাত ধরা পড়ব।
قَالَ کَلَّا ۚ اِنَّ مَعِیَ رَبِّیۡ سَیَہۡدِیۡنِ
মুসা বলল, কখনও নয়। আমার সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই আমার প্রতিপালক আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।
فَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی اَنِ اضۡرِبۡ بِّعَصَاکَ الۡبَحۡرَ ؕ فَانۡفَلَقَ فَکَانَ کُلُّ فِرۡقٍ کَالطَّوۡدِ الۡعَظِیۡمِ ۚ
সুতরাং আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, তুমি তোমার লাঠি দ্বারা সাগরে আঘাত কর। ফলে সাগর বিদীর্ণ হল এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পাহাড়ের মত উঁচু হয়ে গেল।
وَاَزۡلَفۡنَا ثَمَّ الۡاٰخَرِیۡنَ ۚ
অন্য দলটিকেও আমি সেথায় উপনীত করলাম।
وَاَنۡجَیۡنَا مُوۡسٰی وَمَنۡ مَّعَہٗۤ اَجۡمَعِیۡنَ ۚ
এবং মূসা ও তার সঙ্গী সকলকে রক্ষা করলাম।
ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا الۡاٰخَرِیۡنَ ؕ
তারপর অন্যদেরকে করলাম নিমজ্জিত।
اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয় এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু
وَاتۡلُ عَلَیۡہِمۡ نَبَاَ اِبۡرٰہِیۡمَ ۘ
(হে নবী!) তাদেরকে শোনাও ইবরাহীমের বৃত্তান্ত।
اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖ مَا تَعۡبُدُوۡنَ
যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কিসের ইবাদত কর।
قَالُوۡا نَعۡبُدُ اَصۡنَامًا فَنَظَلُّ لَہَا عٰکِفِیۡنَ
তারা বলল, আমরা প্রতিমাদের ইবাদত করি এবং তাদেরই সামনে ধর্ণা দিয়ে থাকি।
قَالَ ہَلۡ یَسۡمَعُوۡنَکُمۡ اِذۡ تَدۡعُوۡنَ ۙ
ইবরাহীম বলল, তোমরা যখন তাদেরকে ডাক, তখন তারা কি তোমাদের কথা শোনে?
اَوۡ یَنۡفَعُوۡنَکُمۡ اَوۡ یَضُرُّوۡنَ
কিংবা তারা কি তোমাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে?
قَالُوۡا بَلۡ وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا کَذٰلِکَ یَفۡعَلُوۡنَ
তারা বলল, আসল কথা হল, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এমনই করতে দেখেছি।
قَالَ اَفَرَءَیۡتُمۡ مَّا کُنۡتُمۡ تَعۡبُدُوۡنَ ۙ
ইবরাহীম বলল, তোমরা কি কখনও গভীরভাবে লক্ষ্য করে দেখছ তোমরা কিসের ইবাদত করছ?
اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمُ الۡاَقۡدَمُوۡنَ ۫ۖ
তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণ?
فَاِنَّہُمۡ عَدُوٌّ لِّیۡۤ اِلَّا رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ
এরা সব আমার শত্রু এক রাব্বুল আলামীন ছাড়া।
الَّذِیۡ خَلَقَنِیۡ فَہُوَ یَہۡدِیۡنِ ۙ
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনিই আমার পথপ্রদর্শন করেন।
وَالَّذِیۡ ہُوَ یُطۡعِمُنِیۡ وَیَسۡقِیۡنِ ۙ
এবং আমাকে খাওয়ান ও পান করান।
وَاِذَا مَرِضۡتُ فَہُوَ یَشۡفِیۡنِ ۪ۙ
এবং আমি যখন পীড়িত হই, আমাকে শেফা দান করেন।
وَالَّذِیۡ یُمِیۡتُنِیۡ ثُمَّ یُحۡیِیۡنِ ۙ
এবং যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, ফের আমাকে জীবিত করবেন।
وَالَّذِیۡۤ اَطۡمَعُ اَنۡ یَّغۡفِرَ لِیۡ خَطِیۡٓئَتِیۡ یَوۡمَ الدِّیۡنِ ؕ
এবং যার কাছে আমি আশা রাখি, হিসাব-নিকাশের দিন তিনি আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন।
رَبِّ ہَبۡ لِیۡ حُکۡمًا وَّاَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ ۙ
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে হেকমত দান করুন এবং আমাকে নেককার লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
وَاجۡعَلۡ لِّیۡ لِسَانَ صِدۡقٍ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۙ
এবং পরবর্তীকালীন লোকদের মধ্যে আমার পক্ষে এমন রসনা সৃষ্টি করুন, যা আমার সততার সাক্ষ্য দেবে।
وَاجۡعَلۡنِیۡ مِنۡ وَّرَثَۃِ جَنَّۃِ النَّعِیۡمِ ۙ
এবং আমাকে সেই সকল লোকের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা হবে নি‘আমতপূর্ণ জান্নাতের অধিকারী।
وَاغۡفِرۡ لِاَبِیۡۤ اِنَّہٗ کَانَ مِنَ الضَّآلِّیۡنَ ۙ
এবং আমার পিতাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই তিনি পথভ্রষ্টদের একজন।
وَلَا تُخۡزِنِیۡ یَوۡمَ یُبۡعَثُوۡنَ ۙ
এবং আমাকে সেই দিন লাঞ্ছিত করবেন না, যে দিন মানুষকে পুনরায় জীবিত করা হবে।
یَوۡمَ لَا یَنۡفَعُ مَالٌ وَّلَا بَنُوۡنَ ۙ
যে দিন কোন অর্থ-সম্পদ কাজে আসবে না এবং সন্তান-সন্ততিও না।
اِلَّا مَنۡ اَتَی اللّٰہَ بِقَلۡبٍ سَلِیۡمٍ ؕ
তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে সুস্থ মন নিয়ে (সে মুক্তি পাবে)।
وَاُزۡلِفَتِ الۡجَنَّۃُ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ۙ
জান্নাতকে মুত্তাকীদের কাছে নিয়ে আসা হবে।
وَبُرِّزَتِ الۡجَحِیۡمُ لِلۡغٰوِیۡنَ ۙ
এবং জাহান্নামকে পথভ্রষ্টদের সামনে উন্মুক্ত করা হবে।
وَقِیۡلَ لَہُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡبُدُوۡنَ ۙ
এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যাদের ইবাদত করতে তারা কোথায়?
مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ ہَلۡ یَنۡصُرُوۡنَکُمۡ اَوۡ یَنۡتَصِرُوۡنَ ؕ
আল্লাহকে ছেড়ে তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারবে কিংবা পারবে কি তারা আত্মরক্ষা করতে?
فَکُبۡکِبُوۡا فِیۡہَا ہُمۡ وَالۡغَاوٗنَ ۙ
অতঃপর তাদেরকে ও পথভ্রষ্টদেরকে অধোমুখী করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে
وَجُنُوۡدُ اِبۡلِیۡسَ اَجۡمَعُوۡنَ ؕ
এবং ইবলীসের সমস্ত বাহিনীকেও।
قَالُوۡا وَہُمۡ فِیۡہَا یَخۡتَصِمُوۡنَ ۙ
সেখানে তারা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ে (তাদের উপাস্যদেরকে) বলবে
تَاللّٰہِ اِنۡ کُنَّا لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ۙ
আল্লাহর কসম! আমরা তো সেই সময় স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম
اِذۡ نُسَوِّیۡکُمۡ بِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ
যখন আমরা তোমাদেরকে ‘রাব্বুল আলামীনের’ সমকক্ষ গণ্য করতাম।
وَمَاۤ اَضَلَّنَاۤ اِلَّا الۡمُجۡرِمُوۡنَ
আমাদেরকে তো বড় বড় অপরাধীরাই বিভ্রান্ত করেছিল।
فَمَا لَنَا مِنۡ شَافِعِیۡنَ ۙ
পরিণামে আমাদের না আছে কোন রকম সুপারিশকারী।
وَلَا صَدِیۡقٍ حَمِیۡمٍ
আর না এমন কোন সহৃদয় বন্ধু।
فَلَوۡ اَنَّ لَنَا کَرَّۃً فَنَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
হায়! আমাদের যদি একবার (দুনিয়ায়) ফিরে যাওয়ার সুযোগ লাভ হত, তবে আমরা অবশ্যই মুমিন হয়ে যেতাম।
اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় আছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশে ঈমান আনে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
کَذَّبَتۡ قَوۡمُ نُوۡحِۣ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ
নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল
اِذۡ قَالَ لَہُمۡ اَخُوۡہُمۡ نُوۡحٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ
যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ
নিশ্চয়ই আমি তোমদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۚ
আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ؕ
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।
قَالُوۡۤا اَنُؤۡمِنُ لَکَ وَاتَّبَعَکَ الۡاَرۡذَلُوۡنَ ؕ
তারা বলল, আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব, অথচ তোমার অনুসরণ করছে কেবল নিম্নস্তরের লোকজন?
قَالَ وَمَا عِلۡمِیۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ۚ
নূহ বলল, তারা কী কাজ করে তার আমি কি জানি?
اِنۡ حِسَابُہُمۡ اِلَّا عَلٰی رَبِّیۡ لَوۡ تَشۡعُرُوۡنَ ۚ
তাদের হিসাব নেওয়া অন্য কারও নয়, কেবল আমার প্রতিপালকেরই কাজ। হায়! তোমরা যদি বুঝতে!
وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ
আমি মুমিনদেরকে আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারি না।
اِنۡ اَنَا اِلَّا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ؕ
আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র, যে (তোমাদের সামনে) সত্য সুস্পষ্ট করে দিচ্ছে।
قَالُوۡا لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہِ یٰنُوۡحُ لَتَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمَرۡجُوۡمِیۡنَ ؕ
তারা বলল, হে নূহ! তুমি যদি ক্ষান্ত না হও, তবে পাথরের আঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
قَالَ رَبِّ اِنَّ قَوۡمِیۡ کَذَّبُوۡنِ ۚۖ
নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় আমাকে মিথ্যাবাদী ঠাওরিয়েছে।
فَافۡتَحۡ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَہُمۡ فَتۡحًا وَّنَجِّنِیۡ وَمَنۡ مَّعِیَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার মুমিন সঙ্গীদেরকে রক্ষা করুন।
فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَمَنۡ مَّعَہٗ فِی الۡفُلۡکِ الۡمَشۡحُوۡنِ ۚ
অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে বোঝাই নৌকায় রক্ষা করলাম।
ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا بَعۡدُ الۡبٰقِیۡنَ ؕ
তারপর অবশিষ্ট সকলকে নিমজ্জিত করলাম।
اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে শিক্ষার বিষয়। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
کَذَّبَتۡ عَادُۨ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ
আদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।
اِذۡ قَالَ لَہُمۡ اَخُوۡہُمۡ ہُوۡدٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ
তাদের ভাই হুদ যখন তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ
নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান।
وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ
আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
اَتَبۡنُوۡنَ بِکُلِّ رِیۡعٍ اٰیَۃً تَعۡبَثُوۡنَ
তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার অহেতুক কাজ করছ।
وَتَتَّخِذُوۡنَ مَصَانِعَ لَعَلَّکُمۡ تَخۡلُدُوۡنَ ۚ
আর তোমরা এমন শিল্পমণ্ডিত ইমারত নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরজীবী হয়ে থাকবে।
وَاِذَا بَطَشۡتُمۡ بَطَشۡتُمۡ جَبَّارِیۡنَ ۚ
আর যখন কাউকে ধৃত কর, তখন তাকে ধৃত কর কঠোর অত্যাচারীরূপে।
فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ
এখন তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
وَاتَّقُوا الَّذِیۡۤ اَمَدَّکُمۡ بِمَا تَعۡلَمُوۡنَ ۚ
এবং ভয় কর তাঁকে, যিনি এমন সব জিনিস দ্বারা তোমাদের শক্তিবৃদ্ধি করেছেন যা তোমরা জান।
اَمَدَّکُمۡ بِاَنۡعَامٍ وَّبَنِیۡنَ ۚۙ
তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্ততি।
وَجَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۚ
এবং উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ।
اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ؕ
প্রকৃতপক্ষে আমি তোমাদের ব্যাপারে ভয় করি এক মহা দিবসের শাস্তির।
قَالُوۡا سَوَآءٌ عَلَیۡنَاۤ اَوَعَظۡتَ اَمۡ لَمۡ تَکُنۡ مِّنَ الۡوٰعِظِیۡنَ ۙ
তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও বা না দাও আমাদের জন্য উভয়ই সমান।
اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا خُلُقُ الۡاَوَّلِیۡنَ ۙ
এটা তো সেই বিষয়ই, যাতে পূর্ববর্তীগণ অভ্যস্ত ছিল।
وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِیۡنَ ۚ
আমরা আদৌ শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার নই।
فَکَذَّبُوۡہُ فَاَہۡلَکۡنٰہُمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
মোটকথা তারা হুদকে অস্বীকার করে। ফলে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দেই। নিশ্চয়ই এর ভেতর আছে শিক্ষার বিষয়। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
کَذَّبَتۡ ثَمُوۡدُ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ
ছামুদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।
اِذۡ قَالَ لَہُمۡ اَخُوۡہُمۡ صٰلِحٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ
যখন তাদের ভাই সালেহ তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ
নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ
আমি এ কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
اَتُتۡرَکُوۡنَ فِیۡ مَا ہٰہُنَاۤ اٰمِنِیۡنَ ۙ
এখানে যেসব নি‘আমত আছে, তোমাদেরকে কি তার ভেতর সর্বদা নিরাপদে রেখে দেওয়া হবে?
فِیۡ جَنّٰتٍ وَّعُیُوۡنٍ ۙ
উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণসমূহের ভেতর?
وَّزُرُوۡعٍ وَّنَخۡلٍ طَلۡعُہَا ہَضِیۡمٌ ۚ
এবং ক্ষেত-খামার ও এমন খেজুর বাগানের ভেতর, যার গুচ্ছ পরস্পর সন্নিবিষ্ট?
وَتَنۡحِتُوۡنَ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا فٰرِہِیۡنَ ۚ
তোমরা কি (সর্বদা) জাঁকজমকের সাথে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করতে থাকবে?
فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ
এবার আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মেনে চল।
وَلَا تُطِیۡعُوۡۤا اَمۡرَ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ۙ
সীমালঙ্ঘনকারীদের কথা মত চলো না
الَّذِیۡنَ یُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا یُصۡلِحُوۡنَ
যারা যমীনে অশান্তি বিস্তার করে এবং সংশোধনমূলক কাজ করে না।
قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مِنَ الۡمُسَحَّرِیۡنَ ۚ
তারা বলল, নিশ্চয়ই যাদের উপর কঠিন যাদু করা হয়েছে, তুমি তাদেরই একজন।
مَاۤ اَنۡتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا ۚۖ فَاۡتِ بِاٰیَۃٍ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ
তোমার স্বরূপ তো এ ছাড়া কিছুই নয় যে, তুমি আমাদেরই মত একজন মানুষ। সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে কোন নিদর্শন হাজির কর।
قَالَ ہٰذِہٖ نَاقَۃٌ لَّہَا شِرۡبٌ وَّلَکُمۡ شِرۡبُ یَوۡمٍ مَّعۡلُوۡمٍ ۚ
সালেহ বলল, (নাও) এই যে এক উটনী। এর জন্য থাকবে পানি পানের পালা আর তোমাদের জন্য থাকবে পানি পানের পালা এক নির্ধারিত দিনে।
وَلَا تَمَسُّوۡہَا بِسُوۡٓءٍ فَیَاۡخُذَکُمۡ عَذَابُ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ
আর কোন অসদুদ্দেশ্যে একে স্পর্শ করো না। অন্যথায় এক মহাদিবসের শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।
فَعَقَرُوۡہَا فَاَصۡبَحُوۡا نٰدِمِیۡنَ ۙ
অতঃপর (এই ঘটল যে) তারা উটনীটির পায়ের রগ কেটে ফেলল। তারপর তারা অনুতপ্ত হল।
فَاَخَذَہُمُ الۡعَذَابُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
অতঃপর শাস্তি তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিক্ষার বিষয় আছে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
کَذَّبَتۡ قَوۡمُ لُوۡطِۣ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ
লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।
اِذۡ قَالَ لَہُمۡ اَخُوۡہُمۡ لُوۡطٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ
যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ
নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ
আমি এ কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
اَتَاۡتُوۡنَ الذُّکۡرَانَ مِنَ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ
বিশ্বজগতের সমস্ত মানুষের মধ্যে তোমরাই কি এমন, যারা পুরুষে উপগমন কর।
وَتَذَرُوۡنَ مَا خَلَقَ لَکُمۡ رَبُّکُمۡ مِّنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ عٰدُوۡنَ
আর বর্জন করে থাক তোমাদের স্ত্রীগণকে, যাদেরকে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? প্রকৃতপক্ষে তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
قَالُوۡا لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہِ یٰلُوۡطُ لَتَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُخۡرَجِیۡنَ
তারা বলল, হে লূত! তুমি যদি ক্ষান্ত না হও, তবে জনপদ থেকে যাদেরকে বহিষ্কার করা হয়, তুমিও তাদের একজন হয়ে যাবে।
قَالَ اِنِّیۡ لِعَمَلِکُمۡ مِّنَ الۡقَالِیۡنَ ؕ
লূত বলল, জেনে রেখ, যারা তোমাদের এ কাজকে ঘৃণা করে, আমি তাদেরই একজন।
رَبِّ نَجِّنِیۡ وَاَہۡلِیۡ مِمَّا یَعۡمَلُوۡنَ
হে আমার প্রতিপালক! তারা যে কার্যকলাপ করছে আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে তা থেকে রক্ষা করুন।
فَنَجَّیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗۤ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ
সুতরাং আমি তাকে ও তার পরিবারের সকলকে রক্ষা করলাম
اِلَّا عَجُوۡزًا فِی الۡغٰبِرِیۡنَ ۚ
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, যে পেছনে অবস্থানকারীদের মধ্যে থেকে গেল।
ثُمَّ دَمَّرۡنَا الۡاٰخَرِیۡنَ ۚ
তারপর অবশিষ্ট সকলকে আমি ধ্বংস করে দিলাম।
وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ مَّطَرًا ۚ فَسَآءَ مَطَرُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ
তাদের উপর বর্ষণ করলাম এক মারাত্মক বৃষ্টি। যাদেরকে ভয় দেখানো হয়েছিল তাদের জন্য তা ছিল অতি মন্দ বৃষ্টি।
اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই এর মধ্যে আছে শিক্ষা। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
کَذَّبَ اَصۡحٰبُ لۡـَٔـیۡکَۃِ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۚۖ
আয়কাবাসীগণ রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল।
اِذۡ قَالَ لَہُمۡ شُعَیۡبٌ اَلَا تَتَّقُوۡنَ ۚ
যখন শুআইব তাদেরকে বলল, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না?
اِنِّیۡ لَکُمۡ رَسُوۡلٌ اَمِیۡنٌ ۙ
নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۚ
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।
وَمَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ
আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো জগতসমূহের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন।
اَوۡفُوا الۡکَیۡلَ وَلَا تَکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُخۡسِرِیۡنَ ۚ
তোমরা মাপে পুরোপুরি দিও। যারা মাপে ঘাটতি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
وَزِنُوۡا بِالۡقِسۡطَاسِ الۡمُسۡتَقِیۡمِ ۚ
ওজন করো সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
وَلَا تَبۡخَسُوا النَّاسَ اَشۡیَآءَہُمۡ وَلَا تَعۡثَوۡا فِی الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِیۡنَ ۚ
মানুষকে তাদের মালামাল কমিয়ে দিও না এবং যমীনে অশান্তি বিস্তার করে বেড়িও না।
وَاتَّقُوا الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ وَالۡجِبِلَّۃَ الۡاَوَّلِیۡنَ ؕ
এবং সেই সত্তাকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকেও।
قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مِنَ الۡمُسَحَّرِیۡنَ ۙ
তারা বলল, নিশ্চয়ই যাদের উপর কঠিন যাদু করা হয়েছে তুমি তাদেরই একজন।
وَمَاۤ اَنۡتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا وَاِنۡ نَّظُنُّکَ لَمِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ ۚ
তুমি তো আমাদের মত একজন মানুষই। তোমার সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস এটাই যে, তুমি মিথ্যাবাদীদের একজন।
فَاَسۡقِطۡ عَلَیۡنَا کِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ؕ
তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের উপর আকাশের একটি খণ্ড ফেলে দাও।
قَالَ رَبِّیۡۤ اَعۡلَمُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ
শুআইব বলল, আমার প্রতিপালক ভালোভাবে জানেন তোমরা যা করছ।
فَکَذَّبُوۡہُ فَاَخَذَہُمۡ عَذَابُ یَوۡمِ الظُّلَّۃِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ
মোটকথা তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল। পরিণামে মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি তাদেরকে আক্রান্ত করল। নিশ্চয়ই তা ছিল এক ভয়ানক দিনের শাস্তি।
اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً ؕ وَمَا کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই এর ভেতর আছে শিক্ষা। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশেই ঈমান আনে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ٪
জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَاِنَّہٗ لَتَنۡزِیۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ
নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে অবতীর্ণ।
نَزَلَ بِہِ الرُّوۡحُ الۡاَمِیۡنُ ۙ
রূহুল-আমীন তা নিয়ে অবতরণ করেছে।
عَلٰی قَلۡبِکَ لِتَکُوۡنَ مِنَ الۡمُنۡذِرِیۡنَ
(হে নবী!) তোমার অন্তরে অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের (অর্থাৎ নবীদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।
بِلِسَانٍ عَرَبِیٍّ مُّبِیۡنٍ ؕ
নাযিল হয়েছে এমন আরবী ভাষায়, যা বাণীকে সুস্পষ্ট করে দেয়।
وَاِنَّہٗ لَفِیۡ زُبُرِ الۡاَوَّلِیۡنَ
পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহেও এর (অর্থাৎ এই কুরআনের) উল্লেখ রয়েছে।
اَوَلَمۡ یَکُنۡ لَّہُمۡ اٰیَۃً اَنۡ یَّعۡلَمَہٗ عُلَمٰٓؤُا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ
বনী ইসরাঈলের উলামা এ সম্পর্কে অবগত আছে এটা কি তাদের জন্য একটা প্রমাণ নয়?
وَلَوۡ نَزَّلۡنٰہُ عَلٰی بَعۡضِ الۡاَعۡجَمِیۡنَ ۙ
আমি যদি এ কিতাব কোন আযমী ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ করতাম
فَقَرَاَہٗ عَلَیۡہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ مُؤۡمِنِیۡنَ ؕ
আর সে তাদের সামনে তা পড়ে দিত, তবুও তারা তাতে ঈমান আনত না।
کَذٰلِکَ سَلَکۡنٰہُ فِیۡ قُلُوۡبِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ؕ
এভাবেই আমি অপরাধীদের অন্তরে তা ঢুকিয়ে দিয়েছি।
لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ حَتّٰی یَرَوُا الۡعَذَابَ الۡاَلِیۡمَ ۙ
তারা তাতে ঈমান আনবে না, যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাময় শাস্তি দেখতে পাবে।
فَیَاۡتِیَہُمۡ بَغۡتَۃً وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ
এবং তা তাদের সামনে এমন আকস্মিকভাবে এসে পড়বে যে, তারা বুঝতেই পারবে না।
فَیَقُوۡلُوۡا ہَلۡ نَحۡنُ مُنۡظَرُوۡنَ ؕ
তখন তারা বলে উঠবে, আমাদেরকে কিছুটা অবকাশ দেওয়া হবে কি?
اَفَبِعَذَابِنَا یَسۡتَعۡجِلُوۡنَ
তারা কি আমার শাস্তির জন্য তড়িঘড়ি করছে?
اَفَرَءَیۡتَ اِنۡ مَّتَّعۡنٰہُمۡ سِنِیۡنَ ۙ
আচ্ছা বল তো, আমি যদি একটানা কয়েক বছর তাদেরকে ভোগ-বিলাসের উপকরণ দিতে থাকি।
ثُمَّ جَآءَہُمۡ مَّا کَانُوۡا یُوۡعَدُوۡنَ ۙ
তারপর তাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে তা তাদের নিকট এসে পড়ে
مَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یُمَتَّعُوۡنَ ؕ
তবে ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ তাদেরকে দেওয়া হচ্ছিল, তখন (অর্থাৎ শাস্তির সময়) তা তাদের কোন উপকারে আসবে কি?
وَمَاۤ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ اِلَّا لَہَا مُنۡذِرُوۡنَ ٭ۖۛ
আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করিনি, এ ব্যতিরেকে যে, (পূর্বে) তাদের জন্য ছিল সতর্ককারী।
ذِکۡرٰی ۟ۛ وَمَا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ
যাতে তারা তাদেরকে উপদেশ দান করে। আমি তো জালিম নই।
وَمَا تَنَزَّلَتۡ بِہِ الشَّیٰطِیۡنُ
আর এ কুরআন নিয়ে শয়তানগণ অবতরণ করেনি।
وَمَا یَنۡۢبَغِیۡ لَہُمۡ وَمَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ؕ
এটা তাদের জন্য সংগত নয় এবং তারা এর ক্ষমতাও রাখে না।
اِنَّہُمۡ عَنِ السَّمۡعِ لَمَعۡزُوۡلُوۡنَ ؕ
তাদেরকে তো (ওহী) শোনা থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।
فَلَا تَدۡعُ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَتَکُوۡنَ مِنَ الۡمُعَذَّبِیۡنَ ۚ
সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে মাবুদ মানবে না, পাছে তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হও, যারা হবে শাস্তিপ্রাপ্ত।
وَاَنۡذِرۡ عَشِیۡرَتَکَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ ۙ
এবং (হে নবী!) তুমি তোমার নিকটতম খান্দানকে সতর্ক করে দাও।
وَاخۡفِضۡ جَنَاحَکَ لِمَنِ اتَّبَعَکَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ
আর যে মুমিনগণ তোমার অনুসরণ করে, তাদের জন্য বিনয়ের সাথে মমতার ডানা নুইয়ে দাও।
فَاِنۡ عَصَوۡکَ فَقُلۡ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ۚ
আর তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তবে বলে দাও, তোমরা যা-কিছু করছ তার সাথে আমার কোন সম্বন্ধ নেই।
وَتَوَکَّلۡ عَلَی الۡعَزِیۡزِ الرَّحِیۡمِ ۙ
আর ভরসা রাখ মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু, (আল্লাহ)-এর প্রতি
الَّذِیۡ یَرٰىکَ حِیۡنَ تَقُوۡمُ ۙ
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (ইবাদতের জন্য) দাঁড়াও।
وَتَقَلُّبَکَ فِی السّٰجِدِیۡنَ
এবং দেখেন সিজদাকারীদের মধ্যে তোমার যাতায়াতকেও।
اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ
নিশ্চয়ই তিনিই সব কথা শোনেন, সকল বিষয় জানেন।
ہَلۡ اُنَبِّئُکُمۡ عَلٰی مَنۡ تَنَزَّلُ الشَّیٰطِیۡنُ ؕ
আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব শয়তানেরা কার কাছে অবতরণ করে?
تَنَزَّلُ عَلٰی کُلِّ اَفَّاکٍ اَثِیۡمٍ ۙ
অবতরণ করে প্রত্যেক এমন ব্যক্তির কাছে, যে চরম মিথ্যুক, ঘোর পাপিষ্ঠ।
یُّلۡقُوۡنَ السَّمۡعَ وَاَکۡثَرُہُمۡ کٰذِبُوۡنَ ؕ
তারা শোনাকথা তাদের দিকে ছুঁড়ে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
وَالشُّعَرَآءُ یَتَّبِعُہُمُ الۡغَاوٗنَ ؕ
আর কবিগণ তাদের অনুগামী হয় তো যতসব বিপথগামী লোক।
اَلَمۡ تَرَ اَنَّہُمۡ فِیۡ کُلِّ وَادٍ یَّہِیۡمُوۡنَ ۙ
তুমি দেখনি তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়?
وَاَنَّہُمۡ یَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا یَفۡعَلُوۡنَ ۙ
আর তারা এমন কথা বলে যা নিজেরা করে না।
اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَذَکَرُوا اللّٰہَ کَثِیۡرًا وَّانۡتَصَرُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُوۡا ؕ وَسَیَعۡلَمُ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَیَّ مُنۡقَلَبٍ یَّنۡقَلِبُوۡنَ ٪
তবে সেই সকল লোক ব্যতিক্রম, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করেছে এবং নিজেরা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে। যারা জুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন পরিণামের দিকে ফিরে যাচ্ছে।