النمل
আন-নামল
Ayah ৯৩ · Meccan · Para ১৯
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
طٰسٓ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡقُرۡاٰنِ وَکِتَابٍ مُّبِیۡنٍ ۙ
তোয়া-সীন-। এগুলো কুরআন ও এমন এক কিতাবের আয়াত, যা সত্যকে সুস্পষ্ট করে।
ہُدًی وَّبُشۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ
এটা হেদায়াত ও সুসংবাদরূপে এসেছে মুমিনদের জন্য
الَّذِیۡنَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ یُوۡقِنُوۡنَ
যারা নামায কায়েম করে ও যাকাত দেয় আর তারাই আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ زَیَّنَّا لَہُمۡ اَعۡمَالَہُمۡ فَہُمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ؕ
বস্তুত যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না, আমি তাদের কার্যকলাপকে তাদের দৃষ্টিতে মনোরম বানিয়ে দিয়েছি। ফলে তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَہُمۡ سُوۡٓءُ الۡعَذَابِ وَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ہُمُ الۡاَخۡسَرُوۡنَ
তারাই এমন লোক, যাদের জন্য আছে নিকৃষ্ট শাস্তি এবং তারাই আখেরাতে সর্বাপেক্ষা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
وَاِنَّکَ لَتُلَقَّی الۡقُرۡاٰنَ مِنۡ لَّدُنۡ حَکِیۡمٍ عَلِیۡمٍ
এবং (হে নবী!) নিশ্চয়ই এ কুরআন তোমাকে দেওয়া হয়েছে সেই সত্তার পক্ষ হতে যিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
اِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِاَہۡلِہٖۤ اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا ؕ سَاٰتِیۡکُمۡ مِّنۡہَا بِخَبَرٍ اَوۡ اٰتِیۡکُمۡ بِشِہَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّکُمۡ تَصۡطَلُوۡنَ
সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল, আমি এক আগুন দেখতে পেয়েছি। আমি শীঘ্রই সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসছি কিংবা তোমাদের কাছে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।
فَلَمَّا جَآءَہَا نُوۡدِیَ اَنۡۢ بُوۡرِکَ مَنۡ فِی النَّارِ وَمَنۡ حَوۡلَہَا ؕ وَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ
সুতরাং যখন সে সেই আগুনের কাছে পৌঁছল, তাকে ডাক দিয়ে বলা হল, বরকত হোক যে আগুনের ভেতর আছে তার প্রতি এবং যে তার আশপাশে আছে তার প্রতিও। আল্লাহ পবিত্র, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
یٰمُوۡسٰۤی اِنَّہٗۤ اَنَا اللّٰہُ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ۙ
হে মূসা! কথা হচ্ছে, আমিই আল্লাহ, অতি পরাক্রমশালী, অতি হেকমতওয়ালা।
وَاَلۡقِ عَصَاکَ ؕ فَلَمَّا رَاٰہَا تَہۡتَزُّ کَاَنَّہَا جَآنٌّ وَّلّٰی مُدۡبِرًا وَّلَمۡ یُعَقِّبۡ ؕ یٰمُوۡسٰی لَا تَخَفۡ ۟ اِنِّیۡ لَا یَخَافُ لَدَیَّ الۡمُرۡسَلُوۡنَ ٭ۖ
তোমার লাঠি নিচে ফেলে দাও। অনন্তর সে যখন দেখল সেটি এমনভাবে নড়াচড়া করছে, যেন সেটি একটি সাপ, অমনি সে পেছন দিকে পালাতে লাগল, আর ফিরে তাকাল না। (বলা হল) হে মূসা ভয় পেও না। যাকে নবী বানানো হয়, আমার নিকটে তার কোন ভয় থাকে না।
اِلَّا مَنۡ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسۡنًۢا بَعۡدَ سُوۡٓءٍ فَاِنِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
তবে কেউ কোন সীমালঙ্ঘন করলে, তারপর মন্দ কাজের পর তার বদলে ভালো কাজ করলে, আমি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَاَدۡخِلۡ یَدَکَ فِیۡ جَیۡبِکَ تَخۡرُجۡ بَیۡضَآءَ مِنۡ غَیۡرِ سُوۡٓءٍ ۟ فِیۡ تِسۡعِ اٰیٰتٍ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَقَوۡمِہٖ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِیۡنَ
এবং তোমার হাত নিজ জায়ব (জামার সামনের ফোকর)-এর ভেতর ঢোকাও, তা শুভ্র হয়ে বের হবে কোন রোগ ছাড়া। এ দু’টি সেই নব-নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত, যা (তোমার মাধ্যমে) ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বস্তুত তারা অবাধ্য সম্প্রদায়।
فَلَمَّا جَآءَتۡہُمۡ اٰیٰتُنَا مُبۡصِرَۃً قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۚ
তারপর যখন তাদের নিকট আমার নিদর্শনসমূহ পৌঁছল, যা ছিল দৃষ্টি উন্মোচনকারী, তখন তারা বলল, এটা তো সুস্পষ্ট যাদু।
وَجَحَدُوۡا بِہَا وَاسۡتَیۡقَنَتۡہَاۤ اَنۡفُسُہُمۡ ظُلۡمًا وَّعُلُوًّا ؕ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ٪
তারা সীমালঙ্ঘন ও অহমিকাবশত তা সব অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো (সত্য বলে) বিশ্বাস করে নিয়েছিল। সুতরাং দেখে নাও ফাসাদকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল!
وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا دَاوٗدَ وَسُلَیۡمٰنَ عِلۡمًا ۚ وَقَالَا الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ فَضَّلَنَا عَلٰی کَثِیۡرٍ مِّنۡ عِبَادِہِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দিয়েছিলাম। তারা বলেছিল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে তার বহু মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
وَوَرِثَ سُلَیۡمٰنُ دَاوٗدَ وَقَالَ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ عُلِّمۡنَا مَنۡطِقَ الطَّیۡرِ وَاُوۡتِیۡنَا مِنۡ کُلِّ شَیۡءٍ ؕ اِنَّ ہٰذَا لَہُوَ الۡفَضۡلُ الۡمُبِیۡنُ
সুলাইমান দাঊদের উত্তরাধিকার লাভ করল এবং সে বলল, হে মানুষ! আমাদেরকে পাখিদের বুলি শেখানো হয়েছে এবং আমাদেরকে সমস্ত (প্রয়োজনীয়) জিনিস দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই এটা (আল্লাহ তাআলার) সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।
وَحُشِرَ لِسُلَیۡمٰنَ جُنُوۡدُہٗ مِنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ وَالطَّیۡرِ فَہُمۡ یُوۡزَعُوۡنَ
সুলাইমানের জন্য তার সমস্ত সৈন্য সমবেত করা হয়েছিল যা ছিল জিন্ন, মানুষ ও পাখি-সম্বলিত। তাদেরকে রাখা হত নিয়ন্ত্রণে।
حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَوۡا عَلٰی وَادِ النَّمۡلِ ۙ قَالَتۡ نَمۡلَۃٌ یّٰۤاَیُّہَا النَّمۡلُ ادۡخُلُوۡا مَسٰکِنَکُمۡ ۚ لَا یَحۡطِمَنَّکُمۡ سُلَیۡمٰنُ وَجُنُوۡدُہٗ ۙ وَہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ
একদিন যখন তারা পিঁপড়ের উপত্যকায় পৌঁছল, তখন এক পিঁপড়ে বলল, ওহে পিঁপড়েরা! নিজ ঘরে ঢুকে পড়, পাছে সুলাইমান ও তার সৈন্যরা তাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষে ফেলে।
فَتَبَسَّمَ ضَاحِکًا مِّنۡ قَوۡلِہَا وَقَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَعَلٰی وَالِدَیَّ وَاَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰىہُ وَاَدۡخِلۡنِیۡ بِرَحۡمَتِکَ فِیۡ عِبَادِکَ الصّٰلِحِیۡنَ
তার কথায় সুলাইমান স্মিথ হেসে দিল এবং বলে উঠল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাওফীক দাও, যেন শুকর আদায় করতে পারি সেই সকল নি‘আমতের, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং করতে পারি এমন সৎকাজ, যা তুমি পছন্দ কর আর নিজ রহমতে তুমি আমাকে নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।
وَتَفَقَّدَ الطَّیۡرَ فَقَالَ مَا لِیَ لَاۤ اَرَی الۡہُدۡہُدَ ۫ۖ اَمۡ کَانَ مِنَ الۡغَآئِبِیۡنَ
এবং সে (একবার) পাখিদের সন্ধান নিল। বলল, কী ব্যাপার! হুদহুদকে দেখছি না যে? সে কি অনুপস্থিত না কি?
لَاُعَذِّبَنَّہٗ عَذَابًا شَدِیۡدًا اَوۡ لَاَاذۡبَحَنَّہٗۤ اَوۡ لَیَاۡتِیَنِّیۡ بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ
আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিব অথবা তাকে যবাহ করে ফেলব যদি না সে আমার কাছে স্পষ্ট কোন কারণ দর্শায়।
فَمَکَثَ غَیۡرَ بَعِیۡدٍ فَقَالَ اَحَطۡتُّ بِمَا لَمۡ تُحِطۡ بِہٖ وَجِئۡتُکَ مِنۡ سَبَاٍۭ بِنَبَاٍ یَّقِیۡنٍ
তারপর হুদহুদ বেশি দেরি করল না এবং (এসে) বলল, আমি এমন বিষয় জেনেছি, যা আপনার জানা নেই। আমি আপনার কাছে সাবা দেশ থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।
اِنِّیۡ وَجَدۡتُّ امۡرَاَۃً تَمۡلِکُہُمۡ وَاُوۡتِیَتۡ مِنۡ کُلِّ شَیۡءٍ وَّلَہَا عَرۡشٌ عَظِیۡمٌ
আমি সেখানে এক নারীকে সেখানকার লোকদের উপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সর্বপ্রকার আসবাব- উপকরণ দেওয়া হয়েছে। আর তার একটি বিরাট সিংহাসনও আছে।
وَجَدۡتُّہَا وَقَوۡمَہَا یَسۡجُدُوۡنَ لِلشَّمۡسِ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَزَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ اَعۡمَالَہُمۡ فَصَدَّہُمۡ عَنِ السَّبِیۡلِ فَہُمۡ لَا یَہۡتَدُوۡنَ ۙ
আমি সেই নারী ও তার সম্প্রদায়কে দেখেছি আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যের সিজদা করছে। শয়তান তাদের কাছে, তাদের কার্যকলাপকে শোভনীয় করে দেখিয়েছে। এভাবে সে তাদেরকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত রেখেছে, ফলে তারা হেদায়াত পাচ্ছে না।
اَلَّا یَسۡجُدُوۡا لِلّٰہِ الَّذِیۡ یُخۡرِجُ الۡخَبۡءَ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَیَعۡلَمُ مَا تُخۡفُوۡنَ وَمَا تُعۡلِنُوۡنَ
(সে তাদেরকে নিবৃত্ত রেখেছে), যাতে তারা সিজদা না করে আল্লাহকে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বিষয়াবলী প্রকাশ করেন এবং তোমরা যা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর সবই জানেন।
اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِیۡمِ ٛ
আল্লাহ তিনি, যিনি ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়, তিনি মহা আরশের অধিপতি।*
قَالَ سَنَنۡظُرُ اَصَدَقۡتَ اَمۡ کُنۡتَ مِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ
সুলাইমান বলল, আমি এখনই দেখছি তুমি সত্য বলেছ, নাকি তুমি মিথ্যাবাদীদের একজন হয়ে গেছ।
اِذۡہَبۡ بِّکِتٰبِیۡ ہٰذَا فَاَلۡقِہۡ اِلَیۡہِمۡ ثُمَّ تَوَلَّ عَنۡہُمۡ فَانۡظُرۡ مَاذَا یَرۡجِعُوۡنَ
আমার এ চিঠি নিয়ে যাও। এটি তাদের সামনে ফেলে দেবে তারপর তাদের থেকে সরে যাবে এবং লক্ষ্য করবে তারা এর জবাবে কী করে।
قَالَتۡ یٰۤاَیُّہَا الۡمَلَؤُا اِنِّیۡۤ اُلۡقِیَ اِلَیَّ کِتٰبٌ کَرِیۡمٌ
(সুতরাং হুদহুদ তাই করল। তারপর) রাণী (তার দরবারের লোকদেরকে) বলল, হে জাতির নেতৃবর্গ! আমার সামনে একটি মর্যাদাসম্পন্ন চিঠি ফেলা হয়েছে।
اِنَّہٗ مِنۡ سُلَیۡمٰنَ وَاِنَّہٗ بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ۙ
তা এসেছে সুলাইমানের পক্ষ থেকে। তা শুরু করা হয়েছে আল্লাহর নামে, যিনি রহমান ও রাহীম।
اَلَّا تَعۡلُوۡا عَلَیَّ وَاۡتُوۡنِیۡ مُسۡلِمِیۡنَ ٪
(তাতে সে লিখেছে) আমার উপর অহমিকা দেখিও না। বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে চলে এসো।
قَالَتۡ یٰۤاَیُّہَا الۡمَلَؤُا اَفۡتُوۡنِیۡ فِیۡۤ اَمۡرِیۡ ۚ مَا کُنۡتُ قَاطِعَۃً اَمۡرًا حَتّٰی تَشۡہَدُوۡنِ
রাণী বলল, ওহে জাতির নেতৃবৃন্দ! যে সমস্যাটি আমার সামনে দেখা দিয়েছে, এ বিষয়ে তোমরা আমাকে সিদ্ধান্তমূলক পরামর্শ দাও। আমি কোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না, যতক্ষণ না তোমরা আমার কাছে উপস্থিত থাক।
قَالُوۡا نَحۡنُ اُولُوۡا قُوَّۃٍ وَّاُولُوۡا بَاۡسٍ شَدِیۡدٍ ۬ۙ وَّالۡاَمۡرُ اِلَیۡکِ فَانۡظُرِیۡ مَاذَا تَاۡمُرِیۡنَ
তারা বলল, আমরা শক্তিশালী লোক এবং প্রচণ্ড লড়াকু। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার আপনার। সুতরাং ভেবে দেখুন কি হুকুম দেবেন।
قَالَتۡ اِنَّ الۡمُلُوۡکَ اِذَا دَخَلُوۡا قَرۡیَۃً اَفۡسَدُوۡہَا وَجَعَلُوۡۤا اَعِزَّۃَ اَہۡلِہَاۤ اَذِلَّۃً ۚ وَکَذٰلِکَ یَفۡعَلُوۡنَ
রাণী বলল, প্রকৃত ব্যাপার হল, রাজা-বাদশাগণ যখন কোন জনপদে ঢুকে পড়ে, তখন তাকে যেরবার করে ফেলে এবং তার মর্যাদাবান বাসিন্দাদেরকে লাঞ্ছিত করে ছাড়ে। এরাও তো তাই করবে।
وَاِنِّیۡ مُرۡسِلَۃٌ اِلَیۡہِمۡ بِہَدِیَّۃٍ فَنٰظِرَۃٌۢ بِمَ یَرۡجِعُ الۡمُرۡسَلُوۡنَ
বরং আমি তাদের কাছে উপঢৌকন পাঠাব। তারপর দেখব দূতেরা কী উত্তর নিয়ে ফেরে।
فَلَمَّا جَآءَ سُلَیۡمٰنَ قَالَ اَتُمِدُّوۡنَنِ بِمَالٍ ۫ فَمَاۤ اٰتٰىنِۦَ اللّٰہُ خَیۡرٌ مِّمَّاۤ اٰتٰىکُمۡ ۚ بَلۡ اَنۡتُمۡ بِہَدِیَّتِکُمۡ تَفۡرَحُوۡنَ
তারপর দূত যখন সুলাইমানের কাছে উপস্থিত হল, সে বলল, তোমরা কি অর্থ দ্বারা আমার সাহায্য করতে চাও? বস্তুত আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উৎকৃষ্ট, অথচ তোমরা তোমাদের উপহার-সামগ্রী নিয়ে উৎফুল্ল।
اِرۡجِعۡ اِلَیۡہِمۡ فَلَنَاۡتِیَنَّہُمۡ بِجُنُوۡدٍ لَّا قِبَلَ لَہُمۡ بِہَا وَلَنُخۡرِجَنَّہُمۡ مِّنۡہَاۤ اَذِلَّۃً وَّہُمۡ صٰغِرُوۡنَ
ফিরে যাও তাদের কাছে। আমি তাদের কাছে এমন এক সেনাদল নিয়ে আসব, যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই এবং আমি তাদেরকে সেখান থেকে লাঞ্ছিতভাবে বের করে দেব আর তারা হয়ে যাবে অবনমিত।
قَالَ یٰۤاَیُّہَا الۡمَلَؤُا اَیُّکُمۡ یَاۡتِیۡنِیۡ بِعَرۡشِہَا قَبۡلَ اَنۡ یَّاۡتُوۡنِیۡ مُسۡلِمِیۡنَ
সুলাইমান বলল, ওহে দরবারীগণ! কে আছে তোমাদের মধ্যে, যে তারা বশ্যতা স্বীকার করে আসার আগেই আমার কাছে তার সিংহাসন নিয়ে আসবে?
قَالَ عِفۡرِیۡتٌ مِّنَ الۡجِنِّ اَنَا اٰتِیۡکَ بِہٖ قَبۡلَ اَنۡ تَقُوۡمَ مِنۡ مَّقَامِکَ ۚ وَاِنِّیۡ عَلَیۡہِ لَقَوِیٌّ اَمِیۡنٌ
এক বলিষ্ঠদেহী জীন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি সেটি আপনার কাছে নিয়ে আসব। নিশ্চয়ই আমি এ কাজে সক্ষম, (এবং আমি) বিশ্বস্তও বটে।
قَالَ الَّذِیۡ عِنۡدَہٗ عِلۡمٌ مِّنَ الۡکِتٰبِ اَنَا اٰتِیۡکَ بِہٖ قَبۡلَ اَنۡ یَّرۡتَدَّ اِلَیۡکَ طَرۡفُکَ ؕ فَلَمَّا رَاٰہُ مُسۡتَقِرًّا عِنۡدَہٗ قَالَ ہٰذَا مِنۡ فَضۡلِ رَبِّیۡ ۟ۖ لِیَبۡلُوَنِیۡۤ ءَاَشۡکُرُ اَمۡ اَکۡفُرُ ؕ وَمَنۡ شَکَرَ فَاِنَّمَا یَشۡکُرُ لِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ رَبِّیۡ غَنِیٌّ کَرِیۡمٌ
যার কাছে ছিল কিতাবের ইলম, সে বলল, আমি আপনার চোখের পলক ফেলার আগেই তা আপনার সামনে এনে দেব। অনন্তর সুলাইমান যখন সিংহাসনটি নিজের সামনে রাখা অবস্থায় দেখল, তখন বলে উঠল, এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে চান যে, আমি কৃতজ্ঞতা আদায় করি, না অকৃতজ্ঞতা করি? যে-কেউ কৃতজ্ঞতা আদায় করে, সে তো কৃতজ্ঞতা আদায় করে নিজেরই উপকারার্থে। আর কেউ অকৃতজ্ঞতা করলে আমার প্রতিপালক তো ঐশ্বর্যশালী, মহানুভব।
قَالَ نَکِّرُوۡا لَہَا عَرۡشَہَا نَنۡظُرۡ اَتَہۡتَدِیۡۤ اَمۡ تَکُوۡنُ مِنَ الَّذِیۡنَ لَا یَہۡتَدُوۡنَ
সুলাইমান (তাঁর অনুচরদেরকে) বলল, তোমরা রাণীর সিংহাসনটিকে তার পক্ষে অচেনা বানিয়ে দাও, দেখি সে এর দিশা পায়, না কি সে যারা সত্যে উপনীত হতে পারে না তাদের অন্তর্ভুক্ত?
فَلَمَّا جَآءَتۡ قِیۡلَ اَہٰکَذَا عَرۡشُکِ ؕ قَالَتۡ کَاَنَّہٗ ہُوَ ۚ وَاُوۡتِیۡنَا الۡعِلۡمَ مِنۡ قَبۡلِہَا وَکُنَّا مُسۡلِمِیۡنَ
পরিশেষে সে যখন আসল, জিজ্ঞেস করা হল, তোমার সিংহাসনটি কি এ রকম? সে বলল, যেন এটি সেটিই। আমাদেরকে তো এর আগেই (আপনার সত্যতা সম্পর্কে) জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল এবং আপনার আনুগত্যও স্বীকার করেছিলাম।
وَصَدَّہَا مَا کَانَتۡ تَّعۡبُدُ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ اِنَّہَا کَانَتۡ مِنۡ قَوۡمٍ کٰفِرِیۡنَ
সে আল্লাহর পরিবর্তে যার পূজা করত তাই তাকে (ঈমান আনা হতে) নিবৃত্ত রেখেছিল এবং সে ছিল এক কাফের সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত।
قِیۡلَ لَہَا ادۡخُلِی الصَّرۡحَ ۚ فَلَمَّا رَاَتۡہُ حَسِبَتۡہُ لُجَّۃً وَّکَشَفَتۡ عَنۡ سَاقَیۡہَا ؕ قَالَ اِنَّہٗ صَرۡحٌ مُّمَرَّدٌ مِّنۡ قَوَارِیۡرَ ۬ؕ قَالَتۡ رَبِّ اِنِّیۡ ظَلَمۡتُ نَفۡسِیۡ وَاَسۡلَمۡتُ مَعَ سُلَیۡمٰنَ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪
তাকে বলা হল, এই মহলে প্রবেশ কর। যখন সে তা দেখল, তাকে জলাশয় মনে করল। তাই সে (কাপড় উঁচিয়ে) নিজ গোছা খুলে ফেলল। সুলাইমান বলল, এটা তো স্বচ্ছ শিশার ঢালাইকৃত মহল। রাণী বলল, হে আমার প্রতিপালক! বস্তুত (এ পর্যন্ত) আমি আমার নিজের প্রতি জুলুম করেছি। এক্ষণে আমি সুলাইমানের সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আনুগত্য স্বীকার করে নিলাম।
وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰی ثَمُوۡدَ اَخَاہُمۡ صٰلِحًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ فَاِذَا ہُمۡ فَرِیۡقٰنِ یَخۡتَصِمُوۡنَ
আমি ছামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে বার্তা দিয়ে পাঠালাম যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। অমনি তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে পরস্পরে বিতর্কে লিপ্ত হল।
قَالَ یٰقَوۡمِ لِمَ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ بِالسَّیِّئَۃِ قَبۡلَ الۡحَسَنَۃِ ۚ لَوۡلَا تَسۡتَغۡفِرُوۡنَ اللّٰہَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
সালেহ বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ভালোর আগে মন্দকে কেন তাড়াতাড়ি চাচ্ছ? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়?
قَالُوا اطَّیَّرۡنَا بِکَ وَبِمَنۡ مَّعَکَ ؕ قَالَ طٰٓئِرُکُمۡ عِنۡدَ اللّٰہِ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ تُفۡتَنُوۡنَ
তারা বলল, আমরা তো তোমাকে এবং তোমার সঙ্গীরদেরকে অশুভ মনে করি। সালেহ বলল, তোমাদের অশুভতা আল্লাহর হাতে। বস্তুত তোমরা এমনই এক সম্প্রদায়, যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।
وَکَانَ فِی الۡمَدِیۡنَۃِ تِسۡعَۃُ رَہۡطٍ یُّفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا یُصۡلِحُوۡنَ
এবং নগরে নয়জন লোক ছিল এমন, যারা যমীনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়াত, ইসলাহের কাজ করত না।
قَالُوۡا تَقَاسَمُوۡا بِاللّٰہِ لَنُبَیِّتَنَّہٗ وَاَہۡلَہٗ ثُمَّ لَنَقُوۡلَنَّ لِوَلِیِّہٖ مَا شَہِدۡنَا مَہۡلِکَ اَہۡلِہٖ وَاِنَّا لَصٰدِقُوۡنَ
তারা (একত্র হয়ে একে অন্যকে) বলল, সকলে শপথ কর, আমরা রাতের বেলা সালেহ ও তার পরিবারবর্গের উপর হামলা চালাব, তারপর তার ওয়ারিশকে বলব, আমরা তার পরিবারবর্গের হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিতই ছিলাম না। বিশ্বাস কর আমরা সম্পূর্ণ সত্যবাদী।
وَمَکَرُوۡا مَکۡرًا وَّمَکَرۡنَا مَکۡرًا وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ
তারা তো এই চাল চালল আর আমিও এক চাল চাললাম কিন্তু তারা টেরও পেল না।
فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ مَکۡرِہِمۡ ۙ اَنَّا دَمَّرۡنٰہُمۡ وَقَوۡمَہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ
সুতরাং লক্ষ্য কর তাদের চালাকির পরিণাম কেমন হল। আমি তাদেরকে ও তাদের গোটা জাতিকে ধ্বংস করে ফেললাম।
فَتِلۡکَ بُیُوۡتُہُمۡ خَاوِیَۃًۢ بِمَا ظَلَمُوۡا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ
ওই তো তাদের ঘর-বাড়ি, যা তাদের জুলুমের কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নিশ্চয়ই যারা তাদের জ্ঞান-বুদ্ধিকে কাজে লাগায়, তাদের জন্য এতে আছে শিক্ষা।
وَاَنۡجَیۡنَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَکَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ
আর যারা ঈমান এনেছিল ও তাকওয়া অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে আমি রক্ষা করেছি।
وَلُوۡطًا اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖۤ اَتَاۡتُوۡنَ الۡفَاحِشَۃَ وَاَنۡتُمۡ تُبۡصِرُوۡنَ
এবং আমি লূতকে (নবী বানিয়ে পাঠালাম)। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কি চাক্ষুষ দেখেও অশ্লীল কাজ করছ?
اَئِنَّکُمۡ لَتَاۡتُوۡنَ الرِّجَالَ شَہۡوَۃً مِّنۡ دُوۡنِ النِّسَآءِ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ تَجۡہَلُوۡنَ
এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে, তোমরা কামচাহিদা পূরণের জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষদের কাছে যাও? বস্তুত তোমরা অতি মূর্খতাসুলভ কাজ করছ।
فَمَا کَانَ جَوَابَ قَوۡمِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اَخۡرِجُوۡۤا اٰلَ لُوۡطٍ مِّنۡ قَرۡیَتِکُمۡ ۚ اِنَّہُمۡ اُنَاسٌ یَّتَطَہَّرُوۡنَ
তার সম্প্রদায়ের উত্তর ছিল কেবল এই যে, তারা বলল, লূতের পরিবারবর্গকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। তারা এমন লোক, যারা বড় পবিত্রতা জাহির করছে।
فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗۤ اِلَّا امۡرَاَتَہٗ ۫ قَدَّرۡنٰہَا مِنَ الۡغٰبِرِیۡنَ
তারপর এই ঘটল যে, আমি লুত ও তার পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম, তবে তার স্ত্রীকে নয়, যার সম্পর্কে আমি স্থির করেছিলাম, সে যারা পিছনে থেকে যাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ مَّطَرًا ۚ فَسَآءَ مَطَرُ الۡمُنۡذَرِیۡنَ ٪
আর আমি তাদের উপর বর্ষণ করলাম এক মারাত্মক বৃষ্টি। যাদেরকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল তাদের প্রতি বর্ষিত সে বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ!
قُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ وَسَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِہِ الَّذِیۡنَ اصۡطَفٰی ؕ آٰللّٰہُ خَیۡرٌ اَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ؕ
(হে নবী!) বল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই এবং সালাম তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন। বল তো, আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, নাকি যাদেরকে তারা (আল্লাহর প্রভুত্বে) অংশীদার বানিয়েছে তারা?
اَمَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَاَنۡزَلَ لَکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَنۡۢبَتۡنَا بِہٖ حَدَآئِقَ ذَاتَ بَہۡجَۃٍ ۚ مَا کَانَ لَکُمۡ اَنۡ تُنۡۢبِتُوۡا شَجَرَہَا ؕ ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ بَلۡ ہُمۡ قَوۡمٌ یَّعۡدِلُوۡنَ ؕ
তবে কে তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন? তারপর আমি সে পানি দ্বারা উদগত করেছি মনোরম উদ্যানরাজি। তার বৃক্ষরাজি উদগত করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। (তবুও কি তোমরা বলছ,) আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন প্রভু আছে? না; বরং তারা (সত্যপথ থেকে) মুখ ফিরিয়ে রাখে।
اَمَّنۡ جَعَلَ الۡاَرۡضَ قَرَارًا وَّجَعَلَ خِلٰلَہَاۤ اَنۡہٰرًا وَّجَعَلَ لَہَا رَوَاسِیَ وَجَعَلَ بَیۡنَ الۡبَحۡرَیۡنِ حَاجِزًا ؕ ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ
তবে কে তিনি, যিনি পৃথিবীকে বানিয়েছেন অবস্থানের জায়গা, তার মাঝে-মাঝে সৃষ্টি করেছেন নদ-নদী, তার (স্থিতির) জন্য (পর্বতমালার) কীলক গেড়ে দিয়েছেন এবং তিনি দুই সাগরের মাঝখানে স্থাপন করেছেন এক অন্তরায়? (তবুও কি তোমরা বলছ) আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন প্রভু আছে? না, বরং তাদের অধিকাংশেই (প্রকৃত সত্য) জানে না।
اَمَّنۡ یُّجِیۡبُ الۡمُضۡطَرَّ اِذَا دَعَاہُ وَیَکۡشِفُ السُّوۡٓءَ وَیَجۡعَلُکُمۡ خُلَفَآءَ الۡاَرۡضِ ؕ ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَذَکَّرُوۡنَ ؕ
তবে কে তিনি, যিনি কোন আর্ত যখন তাকে ডাকে, তার ডাকে সাড়া দেন ও তার কষ্ট দূর করে দেন এবং যিনি তোমাদেরকে পৃথিবীর খলীফা বানান? (তবুও কি তোমরা বলছ) আল্লাহর সঙ্গে অন্য প্রভু আছেন? তোমরা অতি অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর।
اَمَّنۡ یَّہۡدِیۡکُمۡ فِیۡ ظُلُمٰتِ الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ وَمَنۡ یُّرۡسِلُ الرِّیٰحَ بُشۡرًۢا بَیۡنَ یَدَیۡ رَحۡمَتِہٖ ؕ ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ تَعٰلَی اللّٰہُ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ؕ
তবে কে তিনি, যিনি স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে তোমাদেরকে পথ দেখান এবং যিনি নিজ রহমতের (বৃষ্টির) আগে (বৃষ্টির) সুসংবাদবাহীরূপে বাতাস পাঠান? (তবুও কি তোমরা বলছ) আল্লাহর সঙ্গে অন্য প্রভু আছে? (না, বরং) তারা যাকে শরীক করে আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে।
اَمَّنۡ یَّبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ وَمَنۡ یَّرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ ءَاِلٰہٌ مَّعَ اللّٰہِ ؕ قُلۡ ہَاتُوۡا بُرۡہَانَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তবে কে তিনি, যিনি সমস্ত মাখলুককে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, তারপর তাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং যিনি আসমান ও যমীন থেকে তোমাদের রিযক সরবরাহ করেন? (তবুও কি তোমরা বলছ,) আল্লাহর সাথে অন্য কোন প্রভু আছেন? বল, তোমরা তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর যদি সত্যবাদী হও।
قُلۡ لَّا یَعۡلَمُ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ الۡغَیۡبَ اِلَّا اللّٰہُ ؕ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ اَیَّانَ یُبۡعَثُوۡنَ
বলে দাও, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না। এবং মানুষ জানে না তাদেরকে কখন পুনর্জীবিত করা হবে।
بَلِ ادّٰرَکَ عِلۡمُہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ۟ بَلۡ ہُمۡ فِیۡ شَکٍّ مِّنۡہَا ۫۟ بَلۡ ہُمۡ مِّنۡہَا عَمُوۡنَ ٪
বরং আখেরাত সম্পর্কে তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) জ্ঞান সম্পূর্ণ অপারগ হয়ে গেছে; বরং তারা সে সম্বন্ধে সন্দেহে নিপতিত; বরং তারা সে সম্পর্কে অন্ধ।
وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا ءَاِذَا کُنَّا تُرٰبًا وَّاٰبَآؤُنَاۤ اَئِنَّا لَمُخۡرَجُوۡنَ
যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলে, আমরা ও আমাদের বাপ-দাদাগণ যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি আমাদেরকে সত্যি সত্যিই (কবর থেকে) বের করা হবে?
لَقَدۡ وُعِدۡنَا ہٰذَا نَحۡنُ وَاٰبَآؤُنَا مِنۡ قَبۡلُ ۙ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ
আমাদেরকে ও আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এ রকমের প্রতিশ্রুতি আগেও শোনানো হয়েছিল, (কিন্তু) প্রকৃতপক্ষে এসব পূর্ববর্তীদের কিস্সা-কাহিনী ছাড়া কিছুই নয়।
قُلۡ سِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ
বলে দাও, পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখ অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?
وَلَا تَحۡزَنۡ عَلَیۡہِمۡ وَلَا تَکُنۡ فِیۡ ضَیۡقٍ مِّمَّا یَمۡکُرُوۡنَ
(হে নবী!) তুমি তাদের প্রতি দুঃখ করো না। আর তারা যে চক্রান্ত করছে, তার জন্য কুণ্ঠাবোধ করো না।
وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তারা (তোমাকে) বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে (বল,) এ ওয়াদা পূরণ হবে কখন?
قُلۡ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنَ رَدِفَ لَکُمۡ بَعۡضُ الَّذِیۡ تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ
বলে দাও, অসম্ভব নয় তোমরা যে আযাব তাড়াতাড়ি চাচ্ছ, তার কতক তোমাদের একদম কাছেই।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَشۡکُرُوۡنَ
বস্তুত তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি অতি অনুগ্রহশীল কিন্তু তাদের অধিকাংশেই শুকর আদায় করে না।
وَاِنَّ رَبَّکَ لَیَعۡلَمُ مَا تُکِنُّ صُدُوۡرُہُمۡ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ
এবং নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাদের অন্তর যা-কিছু গোপন রাখে তাও জানেন এবং তারা যা-কিছু প্রকাশ করে তাও।
وَمَا مِنۡ غَآئِبَۃٍ فِی السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ
আসমান ও যমীনে এমন কোন গুপ্ত বিষয় নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়।
اِنَّ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ یَقُصُّ عَلٰی بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اَکۡثَرَ الَّذِیۡ ہُمۡ فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ
বস্তুত এ কুরআন বনী ইসরাঈলের সামনে (যথার্থরূপে) বিবৃত করে দেয় তারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করে তার অধিকাংশ।
وَاِنَّہٗ لَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
নিশ্চয়ই এটা ঈমানদারদের জন্য হেদায়াত ও রহমত।
اِنَّ رَبَّکَ یَقۡضِیۡ بَیۡنَہُمۡ بِحُکۡمِہٖ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡعَلِیۡمُ ۙۚ
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাদের মধ্যে নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফায়সালা করবেন। তিনি অতি ক্ষমতাবান, সর্বজ্ঞ।
فَتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ ؕ اِنَّکَ عَلَی الۡحَقِّ الۡمُبِیۡنِ
সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি আল্লাহর উপর ভরসা রাখ। নিশ্চয়ই তুমি সুস্পষ্ট সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
اِنَّکَ لَا تُسۡمِعُ الۡمَوۡتٰی وَلَا تُسۡمِعُ الصُّمَّ الدُّعَآءَ اِذَا وَلَّوۡا مُدۡبِرِیۡنَ
স্মরণ রেখ, তুমি মৃতদেরকে (তোমার কথা) শোনাতে পারবে না এবং বধিরকেও পারবে না ডাক শোনাতে, যখন তারা পেছন ফিরে চলে যায়।
وَمَاۤ اَنۡتَ بِہٰدِی الۡعُمۡیِ عَنۡ ضَلٰلَتِہِمۡ ؕ اِنۡ تُسۡمِعُ اِلَّا مَنۡ یُّؤۡمِنُ بِاٰیٰتِنَا فَہُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ
আর তুমি অন্ধদেরকেও তাদের পথভ্রষ্টতা হতে মুক্ত করে সঠিক পথে আনতে পারবে না। তুমি তো কথা শোনাতে পারবে কেবল তাদেরকেই যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনে অতঃপর তারাই হবে আনুগত্য স্বীকারকারী।
وَاِذَا وَقَعَ الۡقَوۡلُ عَلَیۡہِمۡ اَخۡرَجۡنَا لَہُمۡ دَآبَّۃً مِّنَ الۡاَرۡضِ تُکَلِّمُہُمۡ ۙ اَنَّ النَّاسَ کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا لَا یُوۡقِنُوۡنَ ٪
যখন তাদের সামনে আমার কথা পূর্ণ হওয়ার সময় এসে পড়বে, তখন তাদের জন্য ভূমি থেকে এক জন্তু বের করব, যা তাদের সাথে কথা বলবে, যেহেতু মানুষ আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনছিল না।
وَیَوۡمَ نَحۡشُرُ مِنۡ کُلِّ اُمَّۃٍ فَوۡجًا مِّمَّنۡ یُّکَذِّبُ بِاٰیٰتِنَا فَہُمۡ یُوۡزَعُوۡنَ
এবং সেই দিনকে ভুলো না, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একেকটি দলকে সমবেত করব, যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করত। তারপর তাদেরকে শ্রেণীবদ্ধ করা হবে।
حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡ قَالَ اَکَذَّبۡتُمۡ بِاٰیٰتِیۡ وَلَمۡ تُحِیۡطُوۡا بِہَا عِلۡمًا اَمَّاذَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ
পরিশেষে যখন সকলেই এসে পৌঁছবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি ভালোভাবে না জেনেই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিলে কিংবা তোমরা আসলে কী করছিলে?
وَوَقَعَ الۡقَوۡلُ عَلَیۡہِمۡ بِمَا ظَلَمُوۡا فَہُمۡ لَا یَنۡطِقُوۡنَ
তারা জুলুম করেছিল, সে কারণে তাদের প্রতি শাস্তিবাণী কার্যকর হয়ে যাবে। ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না।
اَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا جَعَلۡنَا الَّیۡلَ لِیَسۡکُنُوۡا فِیۡہِ وَالنَّہَارَ مُبۡصِرًا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ
তারা কি দেখেনি আমি রাত সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা তখন বিশ্রাম নিতে পারে আর দিন সৃষ্টি করেছি এমনভাবে, যাতে তখন সবকিছু দৃষ্টিগোচর হয়। নিশ্চয়ই যে সকল লোক ঈমান আনে তাদের জন্য এর ভেতর বহু নিদর্শন আছে।
وَیَوۡمَ یُنۡفَخُ فِی الصُّوۡرِ فَفَزِعَ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اللّٰہُ ؕ وَکُلٌّ اَتَوۡہُ دٰخِرِیۡنَ
যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, সে দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই ঘাবড়ে যাবে, আল্লাহ যাদের ব্যাপারে ইচ্ছা করবেন তারা ছাড়া এবং সকলেই আনত হয়ে তার সামনে উপস্থিত হবে।
وَتَرَی الۡجِبَالَ تَحۡسَبُہَا جَامِدَۃً وَّہِیَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ؕ صُنۡعَ اللّٰہِ الَّذِیۡۤ اَتۡقَنَ کُلَّ شَیۡءٍ ؕ اِنَّہٗ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَفۡعَلُوۡنَ
তোমরা (আজ) পাহাড়কে দেখে মনে কর তা আপন স্থানে অচল, অথচ (সে দিন) তা সঞ্চরণ করবে, যেমন সঞ্চরণ করে মেঘমালা। এসবই আল্লাহর কর্ম-কুশলতা, যিনি সকল বস্তু সুদৃঢ়ভাবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা-কিছু কর তিনি তা সম্যক অবহিত।
مَنۡ جَآءَ بِالۡحَسَنَۃِ فَلَہٗ خَیۡرٌ مِّنۡہَا ۚ وَہُمۡ مِّنۡ فَزَعٍ یَّوۡمَئِذٍ اٰمِنُوۡنَ
যে-কেউ সৎকর্মসহ আসবে, সে তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট প্রতিফল পাবে। তারা সে দিন সর্বপ্রকার ভয়-ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে।
وَمَنۡ جَآءَ بِالسَّیِّئَۃِ فَکُبَّتۡ وُجُوۡہُہُمۡ فِی النَّارِ ؕ ہَلۡ تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ
আর যে-কেউ মন্দকর্ম নিয়ে আসবে, তাদেরকে উল্টো-মুখো করে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। তোমাদেরকে তো কেবল তোমরা যা করতে তারই শাস্তি দেওয়া হবে।
اِنَّمَاۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ رَبَّ ہٰذِہِ الۡبَلۡدَۃِ الَّذِیۡ حَرَّمَہَا وَلَہٗ کُلُّ شَیۡءٍ ۫ وَّاُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ۙ
(হে রাসূল! তাদেরকে বলে দাও) আমাকে তো কেবল এ হুকুমই দেওয়া হয়েছে যে, আমি যেন এই নগরের প্রতিপালকের ইবাদত করি, যিনি এ নগরকে মর্যাদা দান করেছেন। তিনিই সবকিছুর মালিক এবং আমাকে আদেশ করা হয়েছে, যেন আমি আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।
وَاَنۡ اَتۡلُوَا الۡقُرۡاٰنَ ۚ فَمَنِ اہۡتَدٰی فَاِنَّمَا یَہۡتَدِیۡ لِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ ضَلَّ فَقُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُنۡذِرِیۡنَ
এবং আমি যেন কুরআন তিলাওয়াত করি। যে ব্যক্তি হেদায়াতের পথে আসবে, সে হেদায়াতের পথে আসবে নিজেরই কল্যাণার্থে। আর কেউ পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করলে বলে দাও, আমি তো সতর্ককারীদেরই একজন।
وَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ سَیُرِیۡکُمۡ اٰیٰتِہٖ فَتَعۡرِفُوۡنَہَا ؕ وَمَا رَبُّکَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ٪
এবং বলে দাও, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। তিনি তোমাদেরকে নিজ নিদর্শনসমূহ দেখাবেন। অতঃপর তোমরা তা চিনতেও পারবে। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের কার্যাবলী সম্পর্কে অনবহিত নন।