القصص

القصص

আল-কাসাস

Ayah ৮৮ · Meccan · Para ২০

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

طٰسٓمّٓ

তোয়া-সীন-মীম।

تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ

এগুলো (সত্যকে) পরিস্ফুটকারী কিতাবের আয়াত।

نَتۡلُوۡا عَلَیۡکَ مِنۡ نَّبَاِ مُوۡسٰی وَفِرۡعَوۡنَ بِالۡحَقِّ لِقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ

আমি যে সকল লোক ঈমান আনে তাদের কল্যাণার্থে মূসা ও ফির‘আওনের কিছু বৃত্তান্ত তোমাকে যথাযথভাবে পড়ে শোনাচ্ছি।

اِنَّ فِرۡعَوۡنَ عَلَا فِی الۡاَرۡضِ وَجَعَلَ اَہۡلَہَا شِیَعًا یَّسۡتَضۡعِفُ طَآئِفَۃً مِّنۡہُمۡ یُذَبِّحُ اَبۡنَآءَہُمۡ وَیَسۡتَحۡیٖ نِسَآءَہُمۡ ؕ اِنَّہٗ کَانَ مِنَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ

বস্তুত ফির‘আওন ভূমিতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল এবং সে তার অধিবাসীদেরকে পৃথক-পৃথক দলে বিভক্ত করেছিল। তাদের একটি শ্রেণীকে সে অত্যন্ত দুর্বল করে রাখছিল, যাদের পুত্রদেরকে সে যবাহ করত ও তাদের নারীদেরকে জীবিত ছেড়ে দিত। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল ফাসাদ বিস্তারকারীদের একজন।

وَنُرِیۡدُ اَنۡ نَّمُنَّ عَلَی الَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَنَجۡعَلَہُمۡ اَئِمَّۃً وَّنَجۡعَلَہُمُ الۡوٰرِثِیۡنَ ۙ

আর আমি চাচ্ছিলাম সেদেশে যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল, তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতা বানাতে এবং তাদেরকেই (সে দেশের ভূমি ও সম্পদের) উত্তরাধিকারী বানাতে।

وَنُمَکِّنَ لَہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ وَنُرِیَ فِرۡعَوۡنَ وَہَامٰنَ وَجُنُوۡدَہُمَا مِنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَحۡذَرُوۡنَ

এবং সে দেশে তাদেরকে ক্ষমতাসীন করতে আর ফির‘আওন, হামান ও তাদের সৈন্যদেরকে সেই জিনিস দেখিয়ে দিতে, যার আশঙ্কা তারা তাদের (অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের) দিক থেকে করছিল।

وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰۤی اُمِّ مُوۡسٰۤی اَنۡ اَرۡضِعِیۡہِ ۚ فَاِذَا خِفۡتِ عَلَیۡہِ فَاَلۡقِیۡہِ فِی الۡیَمِّ وَلَا تَخَافِیۡ وَلَا تَحۡزَنِیۡ ۚ اِنَّا رَآدُّوۡہُ اِلَیۡکِ وَجَاعِلُوۡہُ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ

আমি মূসার মায়ের প্রতি ইলহাম করলাম, তুমি তাকে দুধ পান করাতে থাক। যখন তার ব্যাপারে কোন আশঙ্কা বোধ করবে তখন তাকে নদীতে ফেলে দিও। আর ভয় পেও না ও দুঃখ করো না। বিশ্বাস রেখ, আমি অবশ্যই তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলগণের মধ্য হতে একজন রাসূল বানিয়ে দেব।

فَالۡتَقَطَہٗۤ اٰلُ فِرۡعَوۡنَ لِیَکُوۡنَ لَہُمۡ عَدُوًّا وَّحَزَنًا ؕ اِنَّ فِرۡعَوۡنَ وَہَامٰنَ وَجُنُوۡدَہُمَا کَانُوۡا خٰطِئِیۡنَ

অতঃপর ফির‘আওনের লোকজন তাকে (অর্থাৎ শিশু মূসা আলাইহিস সালামকে) তুলে নিল। এর পরিণাম তো ছিল এই যে, সে হবে তাদের শত্রু ও তাদের দুঃখের কারণ। নিশ্চয়ই ফির‘আওন, হামান ও তাদের সৈন্যরা বড়ই ভুলের উপর ছিল।

وَقَالَتِ امۡرَاَتُ فِرۡعَوۡنَ قُرَّتُ عَیۡنٍ لِّیۡ وَلَکَ ؕ لَا تَقۡتُلُوۡہُ ٭ۖ عَسٰۤی اَنۡ یَّنۡفَعَنَاۤ اَوۡ نَتَّخِذَہٗ وَلَدًا وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ

ফেরাউনের স্ত্রী (ফির‘আওনকে) বলল, এ শিশু আমার ও তোমার পক্ষে নয়নপ্রীতিকর। একে হত্যা করো না হয়ত সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা একে পুত্রও বানাতে পারি। আর (এ সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে) তারা পরিণাম বুঝতে পারছিল না।

وَاَصۡبَحَ فُؤَادُ اُمِّ مُوۡسٰی فٰرِغًا ؕ اِنۡ کَادَتۡ لَتُبۡدِیۡ بِہٖ لَوۡلَاۤ اَنۡ رَّبَطۡنَا عَلٰی قَلۡبِہَا لِتَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

এদিকে মূসার মায়ের মন ব্যাকুল হয়ে পড়েছিল। সে তো রহস্য ফাঁস করেই দিচ্ছিল যদি না আমি তার অন্তরকে সংযত রাখতাম (আমার ওয়াদার প্রতি) দৃঢ় বিশ্বাসী থাকার জন্য।

وَقَالَتۡ لِاُخۡتِہٖ قُصِّیۡہِ ۫  فَبَصُرَتۡ بِہٖ عَنۡ جُنُبٍ وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ

সে মূসার বোনকে বলল, শিশুটির একটু খোঁজ নাও। সে তাকে দূর থেকে এমনভাবে দেখছিল যে, তারা টের পাচ্ছিল না।

وَحَرَّمۡنَا عَلَیۡہِ الۡمَرَاضِعَ مِنۡ قَبۡلُ فَقَالَتۡ ہَلۡ اَدُلُّکُمۡ عَلٰۤی اَہۡلِ بَیۡتٍ یَّکۡفُلُوۡنَہٗ لَکُمۡ وَہُمۡ لَہٗ نٰصِحُوۡنَ

আমি পূর্ব থেকেই ধাত্রীদুগ্ধ গ্রহণে তার প্রতি নিরোধ আরোপ করে দিয়েছিলাম। শেষে মূসার বোন বলল, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক পরিবারের সন্ধান দেব, যারা তোমাদের পক্ষ হতে এ শিশুর লালন-পালন করবে এবং তারা হবে তার কল্যাণকামী?

فَرَدَدۡنٰہُ اِلٰۤی اُمِّہٖ کَیۡ تَقَرَّ عَیۡنُہَا وَلَا تَحۡزَنَ وَلِتَعۡلَمَ اَنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٪

এভাবে আমি মূসাকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে চিন্তিত না থাকে এবং যাতে সে ভালোভাবে জানতে পারে আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।

وَلَمَّا بَلَغَ اَشُدَّہٗ وَاسۡتَوٰۤی اٰتَیۡنٰہُ حُکۡمًا وَّعِلۡمًا ؕ وَکَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ

যখন মূসা বলবত্তায় উপনীত হল ও হয়ে গেল পূর্ণ যুবা, তখন আমি তাকে দান করলাম হিকমত ও ইলম। আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।

وَدَخَلَ الۡمَدِیۡنَۃَ عَلٰی حِیۡنِ غَفۡلَۃٍ مِّنۡ اَہۡلِہَا فَوَجَدَ فِیۡہَا رَجُلَیۡنِ یَقۡتَتِلٰنِ ٭۫ ہٰذَا مِنۡ شِیۡعَتِہٖ وَہٰذَا مِنۡ عَدُوِّہٖ ۚ فَاسۡتَغَاثَہُ الَّذِیۡ مِنۡ شِیۡعَتِہٖ عَلَی الَّذِیۡ مِنۡ عَدُوِّہٖ ۙ فَوَکَزَہٗ مُوۡسٰی فَقَضٰی عَلَیۡہِ ٭۫ قَالَ ہٰذَا مِنۡ عَمَلِ الشَّیۡطٰنِ ؕ اِنَّہٗ عَدُوٌّ مُّضِلٌّ مُّبِیۡنٌ

এবং (একদা) সে নগরে এমন এক সময় প্রবেশ করল, যখন তার বাসিন্দাগণ ছিল অসতর্ক। সে দেখল সেখানে দু’জন লোক মারামারি করছে। একজন তো তার নিজ দলের এবং আরেকজন তার শত্রুপক্ষের। যে ব্যক্তি ছিল তার নিজ দলের, সে তার শত্রুপক্ষের লোকটির বিরুদ্ধে তাকে সাহায্যের জন্য ডাকল। তখন মূসা তাকে একটি ঘুষি মারল আর তা তার কর্ম সাবাড় করে দিল। (তারপর) সে (আক্ষেপ করে) বলল, এটা শয়তানের কাণ্ড। মূলত সে এক প্রকাশ্য শত্রু, যার কাজই ভুল পথে নিয়ে যাওয়া।

قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ ظَلَمۡتُ نَفۡسِیۡ فَاغۡفِرۡ لِیۡ فَغَفَرَ لَہٗ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ

বলতে লাগল, হে আমার প্রতিপালক! আমি নিজ সত্তার প্রতি জুলুম করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। সুতরাং আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

قَالَ رَبِّ بِمَاۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ فَلَنۡ اَکُوۡنَ ظَہِیۡرًا لِّلۡمُجۡرِمِیۡنَ

মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তাই ভবিষ্যতে আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।

فَاَصۡبَحَ فِی الۡمَدِیۡنَۃِ خَآئِفًا یَّتَرَقَّبُ فَاِذَا الَّذِی اسۡتَنۡصَرَہٗ بِالۡاَمۡسِ یَسۡتَصۡرِخُہٗ ؕ قَالَ لَہٗ مُوۡسٰۤی اِنَّکَ لَغَوِیٌّ مُّبِیۡنٌ

অতঃপর সে সকাল বেলা ভীতাবস্থায় নগরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। হঠাৎ সে দেখতে পেল গতকাল যে ব্যক্তি তার কাছে সাহায্য চেয়েছিল, সেই ব্যক্তিই তাকে ফের সাহায্যের জন্য ডাকছে। মূসা তাকে বলল, বোঝা গেল তুমি এক প্রকাশ্য দুষ্ট লোক।

فَلَمَّاۤ اَنۡ اَرَادَ اَنۡ یَّبۡطِشَ بِالَّذِیۡ ہُوَ عَدُوٌّ لَّہُمَا ۙ قَالَ یٰمُوۡسٰۤی اَتُرِیۡدُ اَنۡ تَقۡتُلَنِیۡ کَمَا قَتَلۡتَ نَفۡسًۢا بِالۡاَمۡسِ ٭ۖ اِنۡ تُرِیۡدُ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ جَبَّارًا فِی الۡاَرۡضِ وَمَا تُرِیۡدُ اَنۡ تَکُوۡنَ مِنَ الۡمُصۡلِحِیۡنَ

অতঃপর যে (ফেরাউনী) ব্যক্তি তাদের উভয়ের শত্রু মূসা যখন তাকে ধরতে উদ্যত হল, তখন সে (অর্থাৎ ইসরাঈলী ব্যক্তি) বলল, হে মূসা! গতকাল তুমি যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছ, আমাকেও কি তুমি সেভাবে হত্যা করতে চাও? তোমার উদ্দেশ্য তো এছাড়া কিছুই নয় যে, তুমি ভূমিতে নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চাও আর তুমি শান্তি প্রতিষ্ঠাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে চাও না।

وَجَآءَ رَجُلٌ مِّنۡ اَقۡصَا الۡمَدِیۡنَۃِ یَسۡعٰی ۫ قَالَ یٰمُوۡسٰۤی اِنَّ الۡمَلَاَ یَاۡتَمِرُوۡنَ بِکَ لِیَقۡتُلُوۡکَ فَاخۡرُجۡ اِنِّیۡ لَکَ مِنَ النّٰصِحِیۡنَ

(তারপরের বৃত্তান্ত এই যে,) নগরের বিলকুল দূর প্রান্ত হতে এক ব্যক্তি ছুটে আসল ও বলল, হে মূসা! নেতৃবর্গ তোমাকে হত্যা করার জন্য পরামর্শ করছে। সুতরাং তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। বিশ্বাস কর, আমি তোমার কল্যাণকামীদের একজন।

فَخَرَجَ مِنۡہَا خَآئِفًا یَّتَرَقَّبُ ۫  قَالَ رَبِّ نَجِّنِیۡ مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ٪

সুতরাং মূসা ভীতাবস্থায় পরিস্থিতির প্রতি নজর রেখে নগর থেকে বের হয়ে পড়ল। বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জালেম সম্প্রদায়ের থেকে রক্ষা কর।

وَلَمَّا تَوَجَّہَ تِلۡقَآءَ مَدۡیَنَ قَالَ عَسٰی رَبِّیۡۤ اَنۡ یَّہۡدِیَنِیۡ سَوَآءَ السَّبِیۡلِ

যখন সে মাদইয়ান অভিমুখে যাত্রা করল, তখন বলল, আমার পূর্ণ আশা আছে, আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথে পরিচালিত করবেন।

وَلَمَّا وَرَدَ مَآءَ مَدۡیَنَ وَجَدَ عَلَیۡہِ اُمَّۃً مِّنَ النَّاسِ یَسۡقُوۡنَ ۬۫ وَوَجَدَ مِنۡ دُوۡنِہِمُ امۡرَاَتَیۡنِ تَذُوۡدٰنِ ۚ قَالَ مَا خَطۡبُکُمَا ؕ قَالَتَا لَا نَسۡقِیۡ حَتّٰی یُصۡدِرَ الرِّعَآءُ ٜ وَاَبُوۡنَا شَیۡخٌ کَبِیۡرٌ

যখন সে মাদইয়ানের কুয়ার কাছে পৌঁছল, সেখানে একদল মানুষকে দেখল, যারা তাদের পশুদেরকে পানি পান করাচ্ছে। আরও দেখল তাদের পেছনে দু’জন নারী, যারা তাদের পশুগুলোকে আগলিয়ে রাখছে। মূসা তাদেরকে বলল, তোমরা কী চাও? তারা বলল, আমরা আমাদের পশুগুলোকে ততক্ষণ পর্যন্ত পানি পান করাতে পারি না, যতক্ষণ না সমস্ত রাখাল তাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়ে চলে যায়। আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ।

فَسَقٰی لَہُمَا ثُمَّ تَوَلّٰۤی اِلَی الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ اِنِّیۡ لِمَاۤ اَنۡزَلۡتَ اِلَیَّ مِنۡ خَیۡرٍ فَقِیۡرٌ

তখন মূসা তাদের সম্মানার্থে তাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়ে দিল। তারপর একটি ছায়াস্থলে ফিরে আসল। তারপর বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণ বর্ষণ করবে আমি তার ভিখারী।

فَجَآءَتۡہُ اِحۡدٰىہُمَا تَمۡشِیۡ عَلَی اسۡتِحۡیَآءٍ ۫ قَالَتۡ اِنَّ اَبِیۡ یَدۡعُوۡکَ لِیَجۡزِیَکَ اَجۡرَ مَا سَقَیۡتَ لَنَا ؕ فَلَمَّا جَآءَہٗ وَقَصَّ عَلَیۡہِ الۡقَصَصَ ۙ قَالَ لَا تَخَفۡ ٝ۟ نَجَوۡتَ مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ

কিছুক্ষণ পর সেই দুই নারীর একজন লাজুক ভঙ্গিমায় হেঁটে হেঁটে তার কাছে আসল। সে বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, আপনি যে আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়ে দিয়েছেন, তার পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য। সুতরাং যখন সে নারীদ্বয়ের পিতার কাছে এসে পৌঁছল এবং তাকে তার সমস্ত বৃত্তান্ত শোনাল, তখন সে বলল, কোন ভয় করো না। তুমি জালেম সম্প্রদায় হতে মুক্তি পেয়ে গিয়েছ।

قَالَتۡ اِحۡدٰىہُمَا یٰۤاَبَتِ اسۡتَاۡجِرۡہُ ۫ اِنَّ خَیۡرَ مَنِ اسۡتَاۡجَرۡتَ الۡقَوِیُّ الۡاَمِیۡنُ

নারীদ্বয়ের একজন বলল, আব্বাজী! আপনি একে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোন কাজ দিন। আপনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কারও থেকে কাজ নিতে চাইলে সেজন্য এমন ব্যক্তিই উত্তম, যে শক্তিশালী হবে এবং আমানতদারও।

قَالَ اِنِّیۡۤ اُرِیۡدُ اَنۡ اُنۡکِحَکَ اِحۡدَی ابۡنَتَیَّ ہٰتَیۡنِ عَلٰۤی اَنۡ تَاۡجُرَنِیۡ ثَمٰنِیَ حِجَجٍ ۚ فَاِنۡ اَتۡمَمۡتَ عَشۡرًا فَمِنۡ عِنۡدِکَ ۚ وَمَاۤ اُرِیۡدُ اَنۡ اَشُقَّ عَلَیۡکَ ؕ سَتَجِدُنِیۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ

তার পিতা বলল, আমি আমার এই দুই মেয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহ দিতে চাই, এই শর্তে যে তুমি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আট বছর আমার এখানে কাজ করবে আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, সেটা তোমার নিজ এখতিয়ার। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। ইনশাআল্লাহ তুমি আমাকে সচাদারীদের একজন পাবে।

قَالَ ذٰلِکَ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکَ ؕ  اَیَّمَا الۡاَجَلَیۡنِ قَضَیۡتُ فَلَا عُدۡوَانَ عَلَیَّ ؕ  وَاللّٰہُ عَلٰی مَا نَقُوۡلُ وَکِیۡلٌ ٪

মূসা বলল, আমার ও আপনার মধ্যে এ বিষয়টা স্থির হয়ে গেল। আমি দুই মেয়াদের যেটিই পূর্ণ করি তাতে আমার প্রতি কোন বাড়াবাড়ি চলবে না। আর আমরা যে কথা বলছি, আল্লাহই তার রক্ষাকর্তা।

فَلَمَّا قَضٰی مُوۡسَی الۡاَجَلَ وَسَارَ بِاَہۡلِہٖۤ اٰنَسَ مِنۡ جَانِبِ الطُّوۡرِ نَارًا ۚ قَالَ لِاَہۡلِہِ امۡکُثُوۡۤا اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا لَّعَلِّیۡۤ اٰتِیۡکُمۡ مِّنۡہَا بِخَبَرٍ اَوۡ جَذۡوَۃٍ مِّنَ النَّارِ لَعَلَّکُمۡ تَصۡطَلُوۡنَ

মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং নিজ স্ত্রীকে নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল, তখন তিনি তূর পাহাড়ের দিকে এক আগুন দেখতে পেলেন। তিনি নিজ পরিবারবর্গকে বললেন, তোমরা অপেক্ষা কর। আমি এক আগুন দেখেছি, হয়ত আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে আনতে পারব কোন সংবাদ অথবা আগুনের একটা জ্বলন্ত কাঠ, যাতে তোমরা উত্তাপ গ্রহণ করতে পার।

فَلَمَّاۤ اَتٰىہَا نُوۡدِیَ مِنۡ شَاطِیَٴ الۡوَادِ الۡاَیۡمَنِ فِی الۡبُقۡعَۃِ الۡمُبٰرَکَۃِ مِنَ الشَّجَرَۃِ اَنۡ یّٰمُوۡسٰۤی اِنِّیۡۤ اَنَا اللّٰہُ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ

সুতরাং সে যখন আগুনের কাছে পৌঁছল, তখন ডান উপত্যকার কিনারায় অবস্থিত বরকতপূর্ণ ভূমির একটি বৃক্ষ থেকে ডেকে বলা হল, হে মূসা! আমিই আল্লাহ জগতসমূহের প্রতিপালক।

وَاَنۡ اَلۡقِ عَصَاکَ ؕ فَلَمَّا رَاٰہَا تَہۡتَزُّ کَاَنَّہَا جَآنٌّ وَّلّٰی مُدۡبِرًا وَّلَمۡ یُعَقِّبۡ ؕ یٰمُوۡسٰۤی اَقۡبِلۡ وَلَا تَخَفۡ ۟ اِنَّکَ مِنَ الۡاٰمِنِیۡنَ

আরও বলা হল, তোমার লাঠিটি নিচে ফেলে দাও। অতঃপর সে যখন লাঠিটিকে দেখল সাপের মত ছোটাছুটি করছে, তখন সে পিছন দিকে ঘুরে পালাতে লাগল এবং সে ফিরেও তাকাল না। (তাকে বলা হল,) হে মূসা! সামনে এসো। ভয় করো না। তুমি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

اُسۡلُکۡ یَدَکَ فِیۡ جَیۡبِکَ تَخۡرُجۡ بَیۡضَآءَ مِنۡ غَیۡرِ سُوۡٓءٍ ۫ وَّاضۡمُمۡ اِلَیۡکَ جَنَاحَکَ مِنَ الرَّہۡبِ فَذٰنِکَ بُرۡہَانٰنِ مِنۡ رَّبِّکَ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِیۡنَ

তুমি তোমার হাত জামার সামনের ফোকড়ের ভেতর ঢোকাও। তা কোন রোগ ব্যতিরেকে সমুজ্জ্বলরূপে বের হয়ে আসবে। ভয় দূর করার জন্য তোমার বাহু নিজ শরীরে চেপে ধর। এ দু’টি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে বলিষ্ঠ প্রমাণ, ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গের প্রতি। তারা ঘোর অবাধ্য সম্প্রদায়।

قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ قَتَلۡتُ مِنۡہُمۡ نَفۡسًا فَاَخَافُ اَنۡ یَّقۡتُلُوۡنِ

মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তাদের একজন লোককে হত্যা করেছিলাম। তাই আমি আশংকা করি তারা আমাকে হত্যা করে ফেলবে।

وَاَخِیۡ ہٰرُوۡنُ ہُوَ اَفۡصَحُ مِنِّیۡ لِسَانًا فَاَرۡسِلۡہُ مَعِیَ رِدۡاً یُّصَدِّقُنِیۡۤ ۫ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اَنۡ یُّکَذِّبُوۡنِ

আমার ভাই হারূনের যবান আমা অপেক্ষা বেশি স্পষ্ট। তাকেও আমার সঙ্গে আমার সাহায্যকারীরূপে পাঠিয়ে দিন, যাতে সে আমার সমর্থন করে। আমার আশঙ্কা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।

قَالَ سَنَشُدُّ عَضُدَکَ بِاَخِیۡکَ وَنَجۡعَلُ لَکُمَا سُلۡطٰنًا فَلَا یَصِلُوۡنَ اِلَیۡکُمَا ۚۛ بِاٰیٰتِنَاۤ ۚۛ اَنۡتُمَا وَمَنِ اتَّبَعَکُمَا الۡغٰلِبُوۡنَ

আল্লাহ বললেন, আমি তোমার ভাইয়ের দ্বারা তোমার বাহু শক্তিশালী করে দিচ্ছি এবং তোমাদের উভয়কে এমন প্রভাব দান করছি যে, আমার নিদর্শনাবলীর বরকতে তারা তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছতেই পারবে না। তোমরা ও তোমাদের অনুসারীরাই জয়ী হয়ে থাকবে।

فَلَمَّا جَآءَہُمۡ مُّوۡسٰی بِاٰیٰتِنَا بَیِّنٰتٍ قَالُوۡا مَا ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّفۡتَرًی وَّمَا سَمِعۡنَا بِہٰذَا فِیۡۤ اٰبَآئِنَا الۡاَوَّلِیۡنَ

যখন মূসা আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হল, তখন তারা বলল, এটা আর কিছুই নয়, কেবল বানোয়াট যাদু। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এরূপ কথা শুনিনি।

وَقَالَ مُوۡسٰی رَبِّیۡۤ اَعۡلَمُ بِمَنۡ جَآءَ بِالۡہُدٰی مِنۡ عِنۡدِہٖ وَمَنۡ تَکُوۡنُ لَہٗ عَاقِبَۃُ الدَّارِ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الظّٰلِمُوۡنَ

মূসা বলল, আমার প্রতিপালক ভালো করেই জানেন কে তার নিকট থেকে হেদায়াত নিয়ে এসেছে এবং পরিণামে কে লাভ করবে উৎকৃষ্ট ঠিকানা। এটা নিশ্চিত যে, জালেমগণ সফলকাম হবে না।

وَقَالَ فِرۡعَوۡنُ یٰۤاَیُّہَا الۡمَلَاُ مَا عَلِمۡتُ لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرِیۡ ۚ فَاَوۡقِدۡ لِیۡ یٰہَامٰنُ عَلَی الطِّیۡنِ فَاجۡعَلۡ لِّیۡ صَرۡحًا لَّعَلِّیۡۤ اَطَّلِعُ اِلٰۤی اِلٰہِ مُوۡسٰی ۙ وَاِنِّیۡ لَاَظُنُّہٗ مِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ

ফির‘আউন বলল, হে পারিষদবর্গ! আমি তো আমার নিজেকে ছাড়া তোমাদের অন্য কোন মাবুদ আছে বলে জানি না। আর হে হামান! তুমি আমার জন্য আগুন দিয়ে মাটি জ্বালাও (অর্থাৎ ইট তৈরি কর) এবং আমার জন্য একটি উঁচু ইমারত তৈরি কর, যাতে আমি তার উপর উঠে মূসার প্রভুকে উঁকি মেরে দেখতে পারি। আমার পূর্ণ বিশ্বাস সে একজন মিথ্যাবাদী।

وَاسۡتَکۡبَرَ ہُوَ وَجُنُوۡدُہٗ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَظَنُّوۡۤا اَنَّہُمۡ اِلَیۡنَا لَا یُرۡجَعُوۡنَ

বস্তুত ফির‘আউন ও তার বাহিনী ভূমিতে অন্যায় অহমিকা প্রদর্শন করেছিল। তারা মনে করেছিল তাদেরকে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না।

فَاَخَذۡنٰہُ وَجُنُوۡدَہٗ فَنَبَذۡنٰہُمۡ فِی الۡیَمِّ ۚ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الظّٰلِمِیۡنَ

সুতরাং আমি তাকে ও তার সৈন্যদেরকে ধৃত করে সাগরে নিক্ষেপ করলাম। এবার দেখ জালেমদের পরিণতি কী হয়েছে।

وَجَعَلۡنٰہُمۡ اَئِمَّۃً یَّدۡعُوۡنَ اِلَی النَّارِ ۚ وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ لَا یُنۡصَرُوۡنَ

আমি তাদেরকে বানিয়েছিলাম নেতা, যারা মানুষকে জাহান্নামের দিকে ডাকত। কিয়ামতের দিন তারা কারও সাহায্য পাবে না।

وَاَتۡبَعۡنٰہُمۡ فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا لَعۡنَۃً ۚ  وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ہُمۡ مِّنَ الۡمَقۡبُوۡحِیۡنَ ٪

দুনিয়ায় আমি তাদের পেছনে অভিসম্পাত লাগিয়ে দিয়েছি আর কিয়ামতের দিন তারা হবে সেই সব লোকের অন্তর্ভুক্ত, যাদের অবস্থা হবে অতি মন্দ।

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَاۤ اَہۡلَکۡنَا الۡقُرُوۡنَ الۡاُوۡلٰی بَصَآئِرَ لِلنَّاسِ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃً لَّعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ

আমি পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে ধ্বংস করার পর মূসাকে দিয়েছিলাম এমন এক কিতাব, যা ছিল মানুষের জন্য জ্ঞান-তত্ত্বসমৃদ্ধ এবং হেদায়াত ও রহমত, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

وَمَا کُنۡتَ بِجَانِبِ الۡغَرۡبِیِّ اِذۡ قَضَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسَی الۡاَمۡرَ وَمَا کُنۡتَ مِنَ الشّٰہِدِیۡنَ ۙ

(হে রাসূল!) আমি যখন মূসার উপর বিধানাবলী অর্পণ করেছিলাম, তখন তুমি (তূর পাহাড়ের) পশ্চিম পার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না এবং যারা তা প্রত্যক্ষ করছিল, তুমি তাদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলে না।

وَلٰکِنَّاۤ اَنۡشَاۡنَا قُرُوۡنًا فَتَطَاوَلَ عَلَیۡہِمُ الۡعُمُرُ ۚ وَمَا کُنۡتَ ثَاوِیًا فِیۡۤ اَہۡلِ مَدۡیَنَ تَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِنَا ۙ وَلٰکِنَّا کُنَّا مُرۡسِلِیۡنَ

বস্তুত আমি তাদের পর বহু মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি, যাদের উপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে এবং তুমি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলে না যে, তাদেরকে আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনাবে; বরং আমিই (তোমাকে) রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি।

وَمَا کُنۡتَ بِجَانِبِ الطُّوۡرِ اِذۡ نَادَیۡنَا وَلٰکِنۡ رَّحۡمَۃً مِّنۡ رَّبِّکَ لِتُنۡذِرَ قَوۡمًا مَّاۤ اَتٰىہُمۡ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ لَعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ

এবং আমি যখন (মূসাকে) ডাক দিয়েছিলাম তখন তুমি তূর পাহাড়ের পাদদেশে উপস্থিত ছিলে না। বস্তুত এটা তোমার প্রতিপালকের রহমত (যে, তোমাকে ওহীর মাধ্যমে এসব বিষয় অবহিত করা হচ্ছে) যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার, যাদের কাছে তোমার আগে কোন সতর্ককারী আসেনি। হয়ত তারা উপদেশ গ্রহণ করবে।

وَلَوۡلَاۤ اَنۡ تُصِیۡبَہُمۡ مُّصِیۡبَۃٌۢ بِمَا قَدَّمَتۡ اَیۡدِیۡہِمۡ فَیَقُوۡلُوۡا رَبَّنَا لَوۡلَاۤ اَرۡسَلۡتَ اِلَیۡنَا رَسُوۡلًا فَنَتَّبِعَ اٰیٰتِکَ وَنَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

এবং তাদের কৃতকার্যের কারণে তাদের উপর কোন মুসিবত আসলে তারা যাতে বলতে না পারে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের কাছে কোন রাসূল পাঠালেন না কেন? তাহলে আমরা আপনার আয়াতসমূহ অনুসরণ করতাম এবং আমরাও ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।

فَلَمَّا جَآءَہُمُ الۡحَقُّ مِنۡ عِنۡدِنَا قَالُوۡا لَوۡلَاۤ اُوۡتِیَ مِثۡلَ مَاۤ اُوۡتِیَ مُوۡسٰی ؕ اَوَلَمۡ یَکۡفُرُوۡا بِمَاۤ اُوۡتِیَ مُوۡسٰی مِنۡ قَبۡلُ ۚ قَالُوۡا سِحۡرٰنِ تَظٰہَرَا ۟ٝ وَقَالُوۡۤا اِنَّا بِکُلٍّ کٰفِرُوۡنَ

অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ হতে সত্য এসে গেল, তখন তারা বলতে লাগল, মূসা (আলাইহিস সালাম)কে যেমনটা দেওয়া হয়েছিল, সে রকম জিনিস একে (অর্থাৎ এই রাসূলকে) কেন দেওয়া হল না? পূর্বে মূসাকে যা দেওয়া হয়েছিল, তারা কি পূর্বেই তা প্রত্যাখ্যান করেনি? তারা বলেছিল, এ দুটোই যাদু, যার একটি অন্যটিকে সমর্থন করে। আমরা এর প্রত্যেকটিই অস্বীকার করি।

قُلۡ فَاۡتُوۡا بِکِتٰبٍ مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ہُوَ اَہۡدٰی مِنۡہُمَاۤ اَتَّبِعۡہُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

(তাদেরকে) বল, আচ্ছা, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে আল্লার পক্ষ থেকে এমন কোন কিতাব আনয়ন কর, যা এ দু’টি অপেক্ষা বেশি হেদায়াত সম্বলিত। তাহলে আমি তার অনুসরণ করব।

فَاِنۡ لَّمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَکَ فَاعۡلَمۡ اَنَّمَا یَتَّبِعُوۡنَ اَہۡوَآءَہُمۡ ؕ  وَمَنۡ اَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ ہَوٰىہُ بِغَیۡرِ ہُدًی مِّنَ اللّٰہِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٪

তারা যদি তোমার ফরমায়েশ মত কাজ না করে, তবে বুঝবে, তারা মূলত তাদের খেয়াল-খুশীরই অনুসরণ করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ হতে আগত হেদায়াত ছাড়া কেবল নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে, তার চেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না।

وَلَقَدۡ وَصَّلۡنَا لَہُمُ الۡقَوۡلَ لَعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ ؕ

এটা এক বাস্তবতা যে, আমি তাদের কল্যাণার্থে একের পর এক (উপদেশ) বাণী পাঠাতে থাকি, যাতে তারা সতর্ক হয়ে যায়।

اَلَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِہٖ ہُمۡ بِہٖ یُؤۡمِنُوۡنَ

আমি কুরআনের আগে যাদেরকে আসমানী কিতাব দিয়েছি, তারা এর (অর্থাৎ কুরআনের) প্রতি ঈমান আনে।

وَاِذَا یُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِہٖۤ اِنَّہُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّنَاۤ اِنَّا کُنَّا مِنۡ قَبۡلِہٖ مُسۡلِمِیۡنَ

তাদেরকে যখন তা পড়ে শোনানো হয়, তখন বলে আমরা এর প্রতি ঈমান আনলাম। নিশ্চয়ই এটা সত্য বাণী, যা আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এসেছে। আমরা তো এর আগেও অনুগত ছিলাম।

اُولٰٓئِکَ یُؤۡتَوۡنَ اَجۡرَہُمۡ مَّرَّتَیۡنِ بِمَا صَبَرُوۡا وَیَدۡرَءُوۡنَ بِالۡحَسَنَۃِ السَّیِّئَۃَ وَمِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ یُنۡفِقُوۡنَ

এরূপ ব্যক্তিদেরকে তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে দ্বিগুণ। কেননা তারা সবর অবলম্বন করেছে, তারা মন্দকে প্রতিহত করে ভালোর দ্বারা এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছে, তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।

وَاِذَا سَمِعُوا اللَّغۡوَ اَعۡرَضُوۡا عَنۡہُ وَقَالُوۡا لَنَاۤ اَعۡمَالُنَا وَلَکُمۡ اَعۡمَالُکُمۡ ۫ سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ ۫ لَا نَبۡتَغِی الۡجٰہِلِیۡنَ

তারা যখন কোন বেহুদা কথা শোনে, তা এড়িয়ে যায় এবং বলে, আমাদের জন্য আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। তোমাদেরকে সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।

اِنَّکَ لَا تَہۡدِیۡ مَنۡ اَحۡبَبۡتَ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ

(হে রাসূল!) সত্যি কথা হল, তুমি নিজে যাকে ইচ্ছা করবে তাকে হেদায়াতপ্রাপ্ত করতে পারবে না; বরং আল্লাহ যাকে চান হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন। কারা হেদায়াত কবুল করবে তা তিনিই ভালো জানেন।

وَقَالُوۡۤا اِنۡ نَّتَّبِعِ الۡہُدٰی مَعَکَ نُتَخَطَّفۡ مِنۡ اَرۡضِنَا ؕ اَوَلَمۡ نُمَکِّنۡ لَّہُمۡ حَرَمًا اٰمِنًا یُّجۡبٰۤی اِلَیۡہِ ثَمَرٰتُ کُلِّ شَیۡءٍ رِّزۡقًا مِّنۡ لَّدُنَّا وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

তারা বলে, আমরা যদি তোমার সাথে হেদায়াতের অনুসরণ করি, তবে আমাদেরকে নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করা হবে। আমি কি তাদেরকে এমন এক নিরাপদ হরমে প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে আমার পক্ষ হতে প্রদত্ত রিযকস্বরূপ সর্বপ্রকার ফলমূল আমদানী করা হয়? কিন্তু তাদের অধিকাংশেই জানে না।

وَکَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍۭ بَطِرَتۡ مَعِیۡشَتَہَا ۚ فَتِلۡکَ مَسٰکِنُہُمۡ لَمۡ تُسۡکَنۡ مِّنۡۢ بَعۡدِہِمۡ اِلَّا قَلِیۡلًا ؕ وَکُنَّا نَحۡنُ الۡوٰرِثِیۡنَ

আমি এমন কত জনপদ ধ্বংস করেছি, যার বাসিন্দাগণ তাদের অর্থ-সম্পদের বড়াই করত। ওই তো তাদের বাস্তুভিটা (যা তোমাদের সামনে রয়েছে), তাদের পর সামান্য কিছুকাল ছাড়া তা আর আবাদ হতে পারেনি। আমিই হয়েছি তার উত্তরাধিকারী।

وَمَا کَانَ رَبُّکَ مُہۡلِکَ الۡقُرٰی حَتّٰی یَبۡعَثَ فِیۡۤ اُمِّہَا رَسُوۡلًا یَّتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِنَا ۚ وَمَا کُنَّا مُہۡلِکِی الۡقُرٰۤی اِلَّا وَاَہۡلُہَا ظٰلِمُوۡنَ

তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, তিনি জনপদসমূহকে ধ্বংস করে দিবেন তার কেন্দ্রভূমিতে আমার আয়াতসমূহ তাদেরকে পড়ে শোনানোর জন্য কোন রাসূল প্রেরণ না করেই। আমি জনপদসমূহ কেবল তখনই ধ্বংস করি যখন তার বাসিন্দাগণ জালেম হয়ে যায়।

وَمَاۤ اُوۡتِیۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَمَتَاعُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَزِیۡنَتُہَا ۚ  وَمَا عِنۡدَ اللّٰہِ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی ؕ  اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٪

তোমাদেরকে যা-কিছুই দেওয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের পুঁজি ও তার শোভা। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী। তথাপি কি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে না?

اَفَمَنۡ وَّعَدۡنٰہُ وَعۡدًا حَسَنًا فَہُوَ لَاقِیۡہِ کَمَنۡ مَّتَّعۡنٰہُ مَتَاعَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ثُمَّ ہُوَ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ مِنَ الۡمُحۡضَرِیۡنَ

আচ্ছা বল তো আমি যাকে উত্তম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, অতঃপর সে তা অবশ্যই লাভ করবে, সে কি সেই ব্যক্তির সমান হতে পারে, যাকে আমি পার্থিব জীবনের কিছুটা ভোগ-উপকরণ দিয়েছি, অতঃপর কিয়ামতের দিন সে হবে সেই সব লোকের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে ধৃত করে আনা হবে?

وَیَوۡمَ یُنَادِیۡہِمۡ فَیَقُوۡلُ اَیۡنَ شُرَکَآءِیَ الَّذِیۡنَ کُنۡتُمۡ تَزۡعُمُوۡنَ

এবং সেই দিন (-কে কখনও ভুলো না), যখন আল্লাহ তাদেরকে ডাক দিয়ে বলবেন, কোথায় আমার (প্রভুত্বের) অংশীদারগণ, যাদের (অংশীদার হওয়ার) দাবি তোমরা করতে?

قَالَ الَّذِیۡنَ حَقَّ عَلَیۡہِمُ الۡقَوۡلُ رَبَّنَا ہٰۤؤُلَآءِ الَّذِیۡنَ اَغۡوَیۡنَا ۚ اَغۡوَیۡنٰہُمۡ کَمَا غَوَیۡنَا ۚ تَبَرَّاۡنَاۤ اِلَیۡکَ ۫ مَا کَانُوۡۤا اِیَّانَا یَعۡبُدُوۡنَ

যাদের বিরুদ্ধে (আল্লাহর) বাণী চূড়ান্ত হয়ে গেছে, তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই তারা যাদেরকে আমরা বিপথগামী করেছিলাম, তাদেরকে বিপথগামী করেছিলাম সেভাবেই, যেমন আমরা নিজেরা বিপথগামী হয়েছিলাম। আমরা আপনার সামনে তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা করছি। বস্তুত তারা আমাদের ইবাদত করত না।

وَقِیۡلَ ادۡعُوۡا شُرَکَآءَکُمۡ فَدَعَوۡہُمۡ فَلَمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَہُمۡ وَرَاَوُا الۡعَذَابَ ۚ لَوۡ اَنَّہُمۡ کَانُوۡا یَہۡتَدُوۡنَ

এবং তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) বলা হবে, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছিলে তাদেরকে ডাক। সুতরাং তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। তারা তখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। আহা! যদি তারা হেদায়াত কবুল করত।

وَیَوۡمَ یُنَادِیۡہِمۡ فَیَقُوۡلُ مَاذَاۤ اَجَبۡتُمُ الۡمُرۡسَلِیۡنَ

এবং সেই দিন (-কে কিছুতেই ভুলো না) যখন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা নবীগণকে কী উত্তর দিয়েছিলে?

فَعَمِیَتۡ عَلَیۡہِمُ الۡاَنۡۢبَآءُ یَوۡمَئِذٍ فَہُمۡ لَا یَتَسَآءَلُوۡنَ

সে দিন যাবতীয় সংবাদ (যা তারা নিজেদের পক্ষ হতে তৈরি করত) বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে তারা একে অন্যকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে না।

فَاَمَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنَ مِنَ الۡمُفۡلِحِیۡنَ

তবে যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, পূর্ণ আশা রাখা যায় তারা সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

وَرَبُّکَ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ وَیَخۡتَارُ ؕ مَا کَانَ لَہُمُ الۡخِیَرَۃُ ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰہِ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ

তোমার প্রতিপালক যা চান সৃষ্টি করেন এবং (যা চান) বেছে নেন। তাদের কোন এখতিয়ার নেই। আল্লাহ তাদের শিরক হতে পবিত্র ও সমুচ্চ।

وَرَبُّکَ یَعۡلَمُ مَا تُکِنُّ صُدُوۡرُہُمۡ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ

তোমার প্রতিপালক তাদের অন্তর যে সব কথা গোপন করে তাও জানেন এবং তারা যা প্রকাশ করে তাও।

وَہُوَ اللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ لَہُ الۡحَمۡدُ فِی الۡاُوۡلٰی وَالۡاٰخِرَۃِ ۫ وَلَہُ الۡحُکۡمُ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ

তিনিই আল্লাহ। তিনি ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। প্রশংসা তাঁরই, দুনিয়ায়ও এবং আখেরাতেও। বিধান কেবল তাঁরই এবং তাঁরই দিকে তোমাদের সকলকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ جَعَلَ اللّٰہُ عَلَیۡکُمُ الَّیۡلَ سَرۡمَدًا اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ مَنۡ اِلٰہٌ غَیۡرُ اللّٰہِ یَاۡتِیۡکُمۡ بِضِیَآءٍ ؕ اَفَلَا تَسۡمَعُوۡنَ

(হে রাসূল! তাদেরকে) বল, আচ্ছা তোমরা কী মনে কর? আল্লাহ যদি তোমাদের উপর রাতকে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন মাবুদ আছে কি, যে তোমাদেরকে আলো এনে দিতে পারে? তবে কি তোমরা শুনতে পাও না?

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ جَعَلَ اللّٰہُ عَلَیۡکُمُ النَّہَارَ سَرۡمَدًا اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ مَنۡ اِلٰہٌ غَیۡرُ اللّٰہِ یَاۡتِیۡکُمۡ بِلَیۡلٍ تَسۡکُنُوۡنَ فِیۡہِ ؕ اَفَلَا تُبۡصِرُوۡنَ

বল, তোমরা কী মনে কর? আল্লাহ যদি তোমাদের উপর দিনকে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কোন মাবুদ আছে কি, যে তোমাদেরকে এমন রাত এনে দেবে, যাতে তোমরা বিশ্রাম গ্রহণ করতে পার? তবে কি তোমরা কিছুই বোঝ না?

وَمِنۡ رَّحۡمَتِہٖ جَعَلَ لَکُمُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ لِتَسۡکُنُوۡا فِیۡہِ وَلِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ

তিনিই নিজ রহমতে তোমাদের জন্য রাত ও দিন বানিয়েছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পার ও আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা শুকর আদায় কর।

وَیَوۡمَ یُنَادِیۡہِمۡ فَیَقُوۡلُ اَیۡنَ شُرَکَآءِیَ الَّذِیۡنَ کُنۡتُمۡ تَزۡعُمُوۡنَ

এবং সেই দিন (-কে ভুলো না) যখন তিনি তাদেরকে (অর্থাৎ মুশরিকদেরকে) ডেকে বলবেন, কোথায় আমার (প্রভুত্বের) শরীকগণ, যাদের (শরীক হওয়ার) দাবি তোমরা করতে?

وَنَزَعۡنَا مِنۡ کُلِّ اُمَّۃٍ شَہِیۡدًا فَقُلۡنَا ہَاتُوۡا بُرۡہَانَکُمۡ فَعَلِمُوۡۤا اَنَّ الۡحَقَّ لِلّٰہِ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٪

আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী বের করে আনব তারপর বলব, তোমরা তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর। তখন তারা উপলব্ধি করতে পারবে যে, সত্য কথা ছিল আল্লাহরই। আর তারা মিথ্যা যা-কিছু উদ্ভাবন করেছিল, তাদের থেকে তা অন্তর্হিত হয়ে যাবে।

اِنَّ قَارُوۡنَ کَانَ مِنۡ قَوۡمِ مُوۡسٰی فَبَغٰی عَلَیۡہِمۡ ۪ وَاٰتَیۡنٰہُ مِنَ الۡکُنُوۡزِ مَاۤ اِنَّ مَفَاتِحَہٗ لَتَنُوۡٓاُ بِالۡعُصۡبَۃِ اُولِی الۡقُوَّۃِ ٭ اِذۡ قَالَ لَہٗ قَوۡمُہٗ لَا تَفۡرَحۡ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ الۡفَرِحِیۡنَ

কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি। কিন্তু সে তাদেরই প্রতি জুলুম করল। আমি তাকে এমন ধনভাণ্ডার দিয়েছিলাম, যার চাবিগুলি বহন করা একদল শক্তিমান লোকের পক্ষেও কষ্টকর ছিল। যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, বড়াই করো না। যারা বড়াই করে আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না।

وَابۡتَغِ فِیۡمَاۤ اٰتٰىکَ اللّٰہُ الدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ وَلَا تَنۡسَ نَصِیۡبَکَ مِنَ الدُّنۡیَا وَاَحۡسِنۡ کَمَاۤ اَحۡسَنَ اللّٰہُ اِلَیۡکَ وَلَا تَبۡغِ الۡفَسَادَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ الۡمُفۡسِدِیۡنَ

আল্লাহ তোমাকে যা-কিছু দিয়েছেন তার মাধ্যমে আখেরাতের নিবাস লাভের চেষ্টা কর এবং দুনিয়া হতেও নিজ হিস্যা অগ্রাহ্য করো না। আল্লাহ যেমন তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তেমনি তুমিও (অন্যদের প্রতি) অনুগ্রহ কর। আর পৃথিবীতে ফাসাদ বিস্তারের চেষ্টা করো না। জেনে রেখ, আল্লাহ ফাসাদ বিস্তারকারীদের পছন্দ করেন না।

قَالَ اِنَّمَاۤ اُوۡتِیۡتُہٗ عَلٰی عِلۡمٍ عِنۡدِیۡ ؕ اَوَلَمۡ یَعۡلَمۡ اَنَّ اللّٰہَ قَدۡ اَہۡلَکَ مِنۡ قَبۡلِہٖ مِنَ الۡقُرُوۡنِ مَنۡ ہُوَ اَشَدُّ مِنۡہُ قُوَّۃً وَّاَکۡثَرُ جَمۡعًا ؕ وَلَا یُسۡـَٔلُ عَنۡ ذُنُوۡبِہِمُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ

সে বলল, এসব তো আমি আমার জ্ঞানবলে লাভ করেছি। সে কি এতটুকুও জানত না যে, আল্লাহ তার আগে এমন বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছিলেন, যারা শক্তিতে তার অপেক্ষা প্রবল ছিল এবং জনসংখ্যায়ও বেশি ছিল? অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেসও করা হয় না।

فَخَرَجَ عَلٰی قَوۡمِہٖ فِیۡ زِیۡنَتِہٖ ؕ قَالَ الَّذِیۡنَ یُرِیۡدُوۡنَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا یٰلَیۡتَ لَنَا مِثۡلَ مَاۤ اُوۡتِیَ قَارُوۡنُ ۙ اِنَّہٗ لَذُوۡ حَظٍّ عَظِیۡمٍ

অতঃপর (একদিন) সে তার সম্প্রদায়ের সামনে নিজ জাঁকজমকের সাথে বের হয়ে আসল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা (তা দেখে) বলতে লাগল, আহা! কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে, অনুরূপ যদি আমাদেরও থাকত! বস্তুত সে মহা ভাগ্যবান।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ وَیۡلَکُمۡ ثَوَابُ اللّٰہِ خَیۡرٌ لِّمَنۡ اٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ۚ وَلَا یُلَقّٰہَاۤ اِلَّا الصّٰبِرُوۡنَ

আর যারা (আল্লাহর পক্ষ হতে) জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল, তারা বলল, ধিক তোমাদেরকে! (তোমরা এরূপ কথা বলছ, অথচ) যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সওয়াব কতই না শ্রেয়! আর তা লাভ করে কেবল ধৈর্যশীলগণই।

فَخَسَفۡنَا بِہٖ وَبِدَارِہِ الۡاَرۡضَ ۟ فَمَا کَانَ لَہٗ مِنۡ فِئَۃٍ یَّنۡصُرُوۡنَہٗ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ٭ وَمَا کَانَ مِنَ الۡمُنۡتَصِرِیۡنَ

পরিণামে আমি তাকে ও তার বাড়িটি ভূগর্ভে ধসিয়ে দিলাম। অতঃপর সে এমন একটি দলও পেল না, যারা আল্লাহর বিপরীতে তার কোন সাহায্য করতে পারে এবং নিজেও পারল না আত্মরক্ষা করতে।

وَاَصۡبَحَ الَّذِیۡنَ تَمَنَّوۡا مَکَانَہٗ بِالۡاَمۡسِ یَقُوۡلُوۡنَ وَیۡکَاَنَّ اللّٰہَ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ وَیَقۡدِرُ ۚ  لَوۡلَاۤ اَنۡ مَّنَّ اللّٰہُ عَلَیۡنَا لَخَسَفَ بِنَا ؕ  وَیۡکَاَنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الۡکٰفِرُوۡنَ ٪

আর গতকালই যারা তার মত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করছিল, তারা বলতে লাগল, দেখলে তো! আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) সংকীর্ণ করে দেন। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করলে তিনি আমাদের ভূগর্ভে ধসিয়ে দিতেন। দেখলে তো কাফেরগণ সফলতা লাভ করে না।

تِلۡکَ الدَّارُ الۡاٰخِرَۃُ نَجۡعَلُہَا لِلَّذِیۡنَ لَا یُرِیۡدُوۡنَ عُلُوًّا فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فَسَادًا ؕ وَالۡعَاقِبَۃُ لِلۡمُتَّقِیۡنَ

ওই পরকালীন নিবাস তো আমি সেই সকল লোকের জন্যই নির্ধারণ করব, যারা পৃথিবীতে বড়ত্ব দেখাতে ও ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। শেষ পরিণাম তো মুত্তাকীদেরই অনুকূলে থাকবে।

مَنۡ جَآءَ بِالۡحَسَنَۃِ فَلَہٗ خَیۡرٌ مِّنۡہَا ۚ وَمَنۡ جَآءَ بِالسَّیِّئَۃِ فَلَا یُجۡزَی الَّذِیۡنَ عَمِلُوا السَّیِّاٰتِ اِلَّا مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

যে ব্যক্তি কোন পুণ্য নিয়ে আসবে সে তদপেক্ষা উত্তম জিনিস পাবে আর কেউ কোন মন্দকর্ম নিয়ে আসলে, যারা মন্দ কাজ করে তাদেরকে কেবল তাদের কৃতকর্ম অনুপাতেই শাস্তি দেওয়া হবে।

اِنَّ الَّذِیۡ فَرَضَ عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ لَرَآدُّکَ اِلٰی مَعَادٍ ؕ قُلۡ رَّبِّیۡۤ اَعۡلَمُ مَنۡ جَآءَ بِالۡہُدٰی وَمَنۡ ہُوَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ

(হে নবী!) যেই সত্তা তোমার প্রতি এই কুরআনের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন, তিনি তোমাকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনবেন (তোমার) প্রিয়ভূমিতে। বল, আমার প্রতিপালক ভালো জানেন কে হেদায়াত নিয়ে এসেছে এবং কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত।

وَمَا کُنۡتَ تَرۡجُوۡۤا اَنۡ یُّلۡقٰۤی اِلَیۡکَ الۡکِتٰبُ اِلَّا رَحۡمَۃً مِّنۡ رَّبِّکَ فَلَا تَکُوۡنَنَّ ظَہِیۡرًا لِّلۡکٰفِرِیۡنَ ۫

(হে রাসূল!) পূর্ব থেকে তোমার এ আশা ছিল না যে, তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করা হবে। কিন্তু এটা তোমার প্রতিপালকের রহমত। সুতরাং তুমি কখনও কাফেরদের সাহায্যকারী হয়ো না।

وَلَا یَصُدُّنَّکَ عَنۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ بَعۡدَ اِذۡ اُنۡزِلَتۡ اِلَیۡکَ وَادۡعُ اِلٰی رَبِّکَ وَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ۚ

তোমার প্রতি আল্লাহর আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার পর তারা যেন কিছুতেই তোমাকে এর (অনুসরণ) থেকে ফিরিয়ে রাখতে না পারে। তুমি নিজ প্রতিপালকের দিকে মানুষকে ডাকতে থাক এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

وَلَا تَدۡعُ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ ۘ  لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۟  کُلُّ شَیۡءٍ ہَالِکٌ اِلَّا وَجۡہَہٗ ؕ  لَہُ الۡحُکۡمُ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٪

এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন মাবুদকে ডেক না। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সবকিছুই ধ্বংসশীল, কেবল আল্লাহর সত্তাই ব্যতিক্রম। শাসন কেবল তাঁরই এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।