العنكبوت

العنكبوت

আল-আনকাবুত

Ayah ৬৯ · Meccan · Para ২০

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الٓـمّٓ ۚ

আলিফ-লাম-মীম।

اَحَسِبَ النَّاسُ اَنۡ یُّتۡرَکُوۡۤا اَنۡ یَّقُوۡلُوۡۤا اٰمَنَّا وَہُمۡ لَا یُفۡتَنُوۡنَ

মানুষ কি মনে করে ‘আমরা ঈমান এনেছি’ এ কথা বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া হবে?

وَلَقَدۡ فَتَنَّا الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَلَیَعۡلَمَنَّ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ صَدَقُوۡا وَلَیَعۡلَمَنَّ الۡکٰذِبِیۡنَ

অথচ তাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদেরকেও আমি পরীক্ষা করেছি। সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যনিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে এবং তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী।

اَمۡ حَسِبَ الَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ السَّیِّاٰتِ اَنۡ یَّسۡبِقُوۡنَا ؕ سَآءَ مَا یَحۡکُمُوۡنَ

যারা মন্দ কার্যাবলীতে লিপ্ত তারা কি মনে করে তারা আমার উপর জিতে যাবে? তারা যা অনুমান করছে তা কতই না মন্দ!

مَنۡ کَانَ یَرۡجُوۡا لِقَآءَ اللّٰہِ فَاِنَّ اَجَلَ اللّٰہِ لَاٰتٍ ؕ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ

যারা আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আশা রাখে, তাদের নিশ্চিত থাকা উচিত আল্লাহর নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে এবং তিনিই সব কথা শোনেন, সবকিছু জানেন।

وَمَنۡ جَاہَدَ فَاِنَّمَا یُجَاہِدُ لِنَفۡسِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَغَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ

আর আমার পথে যে ব্যক্তিই শ্রম-সাধনা করে, সে তো শ্রম-সাধনা করে নিজেরই কল্যাণার্থে। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্ব-জগতের সকল থেকে অনপেক্ষ।

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُکَفِّرَنَّ عَنۡہُمۡ سَیِّاٰتِہِمۡ وَلَنَجۡزِیَنَّہُمۡ اَحۡسَنَ الَّذِیۡ کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দসমূহ তাদের থেকে মিটিয়ে দেব এবং তারা যা করছে তার উৎকৃষ্টতম প্রতিদান তাদেরকে অবশ্যই দেব।

وَوَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡہِ حُسۡنًا ؕ وَاِنۡ جَاہَدٰکَ لِتُشۡرِکَ بِیۡ مَا لَیۡسَ لَکَ بِہٖ عِلۡمٌ فَلَا تُطِعۡہُمَا ؕ اِلَیَّ مَرۡجِعُکُمۡ فَاُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

আমি মানুষকে আদেশ করেছি তারা যেন পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করে। তারা যদি আমার সাথে এমন কিছুকে শরীক করার জন্য তোমার উপর বলপ্রয়োগ করে, যার সম্পর্কে তোমার কাছে কোন প্রমাণ নেই, তবে সে ব্যাপারে তাদের কথা মানবে না। আমারই কাছে তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে। তখন আমি তোমাদেরকে অবহিত করব তোমরা কী করতে।

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُدۡخِلَنَّہُمۡ فِی الصّٰلِحِیۡنَ

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে নেক লোকদের অন্তর্ভুক্ত করব।

وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یَّقُوۡلُ اٰمَنَّا بِاللّٰہِ فَاِذَاۤ اُوۡذِیَ فِی اللّٰہِ جَعَلَ فِتۡنَۃَ النَّاسِ کَعَذَابِ اللّٰہِ ؕ وَلَئِنۡ جَآءَ نَصۡرٌ مِّنۡ رَّبِّکَ لَیَقُوۡلُنَّ اِنَّا کُنَّا مَعَکُمۡ ؕ اَوَلَیۡسَ اللّٰہُ بِاَعۡلَمَ بِمَا فِیۡ صُدُوۡرِ الۡعٰلَمِیۡنَ

মানুষের মধ্যে কতক লোক এমন আছে, যারা বলে, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। অতঃপর যখন আল্লাহর পথে তাদের কোন কষ্ট-ক্লেশ দেখা দেয়, তখন তারা মানুষের দেওয়া কষ্টকে আল্লাহর আযাব তুল্য গণ্য করে। আবার যদি কখনও তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (মুসলিমদের জন্য) কোন সাহায্য আসে, তখন তারা বলবেই, আমরা তো তোমাদেরই সাথে ছিলাম। বিশ্ব-জগতের সমস্ত মানুষের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ কি তা ভালোভাবে জানেন না?

وَلَیَعۡلَمَنَّ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَلَیَعۡلَمَنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ

আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা ঈমান এনেছে এবং তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মুনাফেক।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّبِعُوۡا سَبِیۡلَنَا وَلۡنَحۡمِلۡ خَطٰیٰکُمۡ ؕ وَمَا ہُمۡ بِحٰمِلِیۡنَ مِنۡ خَطٰیٰہُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ اِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা মুমিনদেরকে বলে, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ কর, তাহলে আমরা তোমাদের গুনাহের বোঝা বহন করব, অথচ তারা তাদের গুনাহের বোঝা আদৌ বহন করতে পারবে না। নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।

وَلَیَحۡمِلُنَّ اَثۡقَالَہُمۡ وَاَثۡقَالًا مَّعَ اَثۡقَالِہِمۡ ۫  وَلَیُسۡـَٔلُنَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ عَمَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٪

তারা অবশ্যই তাদের নিজেদের গুনাহের বোঝা বহন করবে এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরও কিছু বোঝা। তারা যা-কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন করে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে সে সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖ فَلَبِثَ فِیۡہِمۡ اَلۡفَ سَنَۃٍ اِلَّا خَمۡسِیۡنَ عَامًا ؕ فَاَخَذَہُمُ الطُّوۡفَانُ وَہُمۡ ظٰلِمُوۡنَ

আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিল পঞ্চাশ কম হাজার বছর। অতঃপর প্লাবন তাদেরকে গ্রাস করল, যেহেতু তারা ছিল জালেম।

فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَاَصۡحٰبَ السَّفِیۡنَۃِ وَجَعَلۡنٰہَاۤ اٰیَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ

অতঃপর আমি নূহকে ও নৌকারোহীদেরকে রক্ষা করলাম এবং এটাকে জগদ্বাসীদের জন্য একটি নিদর্শন বানিয়ে দিলাম।

وَاِبۡرٰہِیۡمَ اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَاتَّقُوۡہُ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

এবং আমি ইবরাহীমকে পাঠালাম, যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, আল্লাহর ইবাদত কর ও তাঁকে ভয় কর। এটাই তোমাদের পক্ষে শ্রেয়, যদি তোমরা জ্ঞান রাখ।

اِنَّمَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اَوۡثَانًا وَّتَخۡلُقُوۡنَ اِفۡکًا ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَا یَمۡلِکُوۡنَ لَکُمۡ رِزۡقًا فَابۡتَغُوۡا عِنۡدَ اللّٰہِ الرِّزۡقَ وَاعۡبُدُوۡہُ وَاشۡکُرُوۡا لَہٗ ؕ اِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ

তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমাদেরই পূজা করছ এবং রচনা করছ মিথ্যা। তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর, তারা তোমাদেরকে রিযক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং আল্লাহর কাছে রিযক সন্ধান কর, তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় কর। তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

وَاِنۡ تُکَذِّبُوۡا فَقَدۡ کَذَّبَ اُمَمٌ مِّنۡ قَبۡلِکُمۡ ؕ وَمَا عَلَی الرَّسُوۡلِ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ

তোমরা যদি আমাকে মিথ্যাবাদী বল, তবে তোমাদের পূর্বেও বহু জাতি নবীদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। সুস্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছানো ছাড়া রাসূলের আর কোন দায়িত্ব থাকে না।

اَوَلَمۡ یَرَوۡا کَیۡفَ یُبۡدِئُ اللّٰہُ الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ ؕ اِنَّ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ

তবে কি তারা লক্ষ্য করেনি, আল্লাহ কিভাবে মাখলুককে প্রথমবার সৃষ্টি করেন? অতঃপর তিনিই তাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আল্লাহর পক্ষে এ কাজ অতি সহজ।

قُلۡ سِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ بَدَاَ الۡخَلۡقَ ثُمَّ اللّٰہُ یُنۡشِیٴُ النَّشۡاَۃَ الۡاٰخِرَۃَ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ۚ

বল, পৃথিবীতে একটু ভ্রমণ করে দেখ, আল্লাহ কিভাবে মাখলুককে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। তারপর আল্লাহই (তাদেরকে) আখেরাতকালীন উত্থানে উত্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

یُعَذِّبُ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَرۡحَمُ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَاِلَیۡہِ تُقۡلَبُوۡنَ

তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন, যার প্রতি ইচ্ছা দয়া করবেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

وَمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ ۫  وَمَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیۡرٍ ٪

তোমরা ভূমিতেও তাঁকে (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারবে না এবং আকাশেও না। আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং সাহায্যকারীও নেই।

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَلِقَآئِہٖۤ اُولٰٓئِکَ یَئِسُوۡا مِنۡ رَّحۡمَتِیۡ وَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ

যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ ও তাঁর সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে, তারাই আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

فَمَا کَانَ جَوَابَ قَوۡمِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوا اقۡتُلُوۡہُ اَوۡ حَرِّقُوۡہُ فَاَنۡجٰىہُ اللّٰہُ مِنَ النَّارِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ

কিন্তু ইবরাহীমের সম্প্রদায়ের উত্তর এ ছাড়া কিছুই ছিল না যে, তারা বলেছিল, তোমরা তাকে হত্যা করে ফেল অথবা তাকে জ্বালিয়ে দাও। অনন্তর আল্লাহ তাকে আগুন থেকে রক্ষা করলেন। নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে, তাদের জন্য এ ঘটনার ভেতর বহু শিক্ষা আছে।

وَقَالَ اِنَّمَا اتَّخَذۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اَوۡثَانًا ۙ  مَّوَدَّۃَ بَیۡنِکُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ  ثُمَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یَکۡفُرُ بَعۡضُکُمۡ بِبَعۡضٍ وَّیَلۡعَنُ بَعۡضُکُمۡ بَعۡضًا ۫  وَّمَاۡوٰىکُمُ النَّارُ وَمَا لَکُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ ٭ۙ

ইবরাহীম আরও বলেছিল, তোমরা তো আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিগুলোকেই (প্রভু) মেনেছ, পার্থিব জীবনে তোমাদের পারস্পরিক বন্ধুত্ব রক্ষার লক্ষে। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তোমরা একে অন্যকে অস্বীকার করবে এবং একে অন্যকে লানত করবে। তোমাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের কোন রকম সাহায্যকারী লাভ হবে না।

فَاٰمَنَ لَہٗ لُوۡطٌ ۘ وَقَالَ اِنِّیۡ مُہَاجِرٌ اِلٰی رَبِّیۡ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ

অতঃপর লূত তার প্রতি ঈমান আনল। ইবরাহীম বলল, আমি আমার প্রতিপালকের দিকে হিজরত করছি। নিশ্চয়ই তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

وَوَہَبۡنَا لَہٗۤ اِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ وَجَعَلۡنَا فِیۡ ذُرِّیَّتِہِ النُّبُوَّۃَ وَالۡکِتٰبَ وَاٰتَیۡنٰہُ اَجۡرَہٗ فِی الدُّنۡیَا ۚ وَاِنَّہٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ لَمِنَ الصّٰلِحِیۡنَ

আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব (-এর মত সন্তান) দান করলাম এবং তার বংশধরদের মধ্যে নবুওয়াত ও কিতাবের ধারা চালু রাখলাম এবং দুনিয়ায় তাকে তার পুরস্কার দান করলাম আর নিশ্চয়ই আখেরাতে সে সালেহীনের মধ্যে গণ্য হবে।

وَلُوۡطًا اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖۤ اِنَّکُمۡ لَتَاۡتُوۡنَ الۡفَاحِشَۃَ ۫ مَا سَبَقَکُمۡ بِہَا مِنۡ اَحَدٍ مِّنَ الۡعٰلَمِیۡنَ

এবং আমি লূতকে পাঠালাম, যখন সে নিজ সম্প্রদায়কে বলল, বস্তুত তোমরা এমনই অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বজগতের আর কেউ করেনি।

اَئِنَّکُمۡ لَتَاۡتُوۡنَ الرِّجَالَ وَتَقۡطَعُوۡنَ السَّبِیۡلَ ۬ۙ وَتَاۡتُوۡنَ فِیۡ نَادِیۡکُمُ الۡمُنۡکَرَ ؕ فَمَا کَانَ جَوَابَ قَوۡمِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوا ائۡتِنَا بِعَذَابِ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ

তোমরা কি পুরুষদের কাছে উপগমন কর এবং পথে-ঘাটে ডাকাতি কর আর তোমাদের ভরা মজলিসে অন্যায় কাজে লিপ্ত হও? অতঃপর তার সম্প্রদায়ের লোকদের উত্তর এছাড়া আর কিছুই ছিল না যে, তারা বলল, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আমাদের উপর আল্লাহর আযাব নিয়ে এসো।

قَالَ رَبِّ انۡصُرۡنِیۡ عَلَی الۡقَوۡمِ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ٪

লূত বলল, হে আমার প্রতিপালক! ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।

وَلَمَّا جَآءَتۡ رُسُلُنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ بِالۡبُشۡرٰی ۙ  قَالُوۡۤا اِنَّا مُہۡلِکُوۡۤا اَہۡلِ ہٰذِہِ الۡقَرۡیَۃِ ۚ  اِنَّ اَہۡلَہَا کَانُوۡا ظٰلِمِیۡنَ ۚۖ

যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ ইবরাহীমের কাছে (তার পুত্র জন্ম নেওয়ার) সুসংবাদ নিয়ে পৌঁছল, তখন তারা বলেছিল, আমরা এই জনপদবাসীদেরকে ধ্বংস করব। কেননা এর অধিবাসীগণ বড় জালেম।

قَالَ اِنَّ فِیۡہَا لُوۡطًا ؕ قَالُوۡا نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَنۡ فِیۡہَا ٝ۫ لَنُنَجِّیَنَّہٗ وَاَہۡلَہٗۤ اِلَّا امۡرَاَتَہٗ ٭۫ کَانَتۡ مِنَ الۡغٰبِرِیۡنَ

ইবরাহীম বলল, সে জনপদে তো লূত রয়েছে। ফিরিশতাগণ বলল, আমাদের ভালোভাবেই জানা আছে, সেখানে কারা আছে। আমরা তাকে ও তার পরিবারবর্গকে অবশ্যই রক্ষা করব, তবে তার স্ত্রীকে ছাড়া। সে যারা পেছনে থেকে যাবে তাদের মধ্যে থাকবে।

وَلَمَّاۤ اَنۡ جَآءَتۡ رُسُلُنَا لُوۡطًا سِیۡٓءَ بِہِمۡ وَضَاقَ بِہِمۡ ذَرۡعًا وَّقَالُوۡا لَا تَخَفۡ وَلَا تَحۡزَنۡ ۟ اِنَّا مُنَجُّوۡکَ وَاَہۡلَکَ اِلَّا امۡرَاَتَکَ کَانَتۡ مِنَ الۡغٰبِرِیۡنَ

যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ লূতের কাছে আসল, তখন তাদের জন্য সে বিষণ্ণ হয়ে পড়ল এবং তাদের ব্যাপারে তার অন্তর কুণ্ঠিত হল। ফিরিশতাগণ বলল, আপনি ভয় করবেন না এবং দুশ্চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাকে ও আপনার সাথে সম্পৃক্তদেরকে রক্ষা করব, তবে আপনার স্ত্রীকে ছাড়া, যে থেকে যাবে যারা পেছনে থাকবে তাদের মধ্যে।

اِنَّا مُنۡزِلُوۡنَ عَلٰۤی اَہۡلِ ہٰذِہِ الۡقَرۡیَۃِ رِجۡزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا کَانُوۡا یَفۡسُقُوۡنَ

এ জনপদের বাসিন্দাগণ যে কুকর্ম করে যাচ্ছে, তার পরিণামে আমরা তাদের উপর আসমান থেকে আযাব নাযিল করব।

وَلَقَدۡ تَّرَکۡنَا مِنۡہَاۤ اٰیَۃًۢ بَیِّنَۃً لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ

আমি বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রেখে দিয়েছি এ জনপদের কিছু স্পষ্ট নিদর্শন।

وَاِلٰی مَدۡیَنَ اَخَاہُمۡ شُعَیۡبًا ۙ فَقَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَارۡجُوا الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَلَا تَعۡثَوۡا فِی الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِیۡنَ

মাদইয়ানে পাঠালাম তাদের ভাই শুআইবকে। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং শেষ দিবসকে ভয় কর আর ভূমিতে অরাজকতা বিস্তার করে বেড়িও না।

فَکَذَّبُوۡہُ فَاَخَذَتۡہُمُ الرَّجۡفَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دَارِہِمۡ جٰثِمِیۡنَ ۫

অতঃপর এই ঘটল যে, তারা শুআইবকে মিথ্যাবাদী ঠাওরাল, পরিণামে ভূমিকম্প তাদেরকে আঘাত হানল এবং তারা নিজ-নিজ গৃহে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল।

وَعَادًا وَّثَمُوۡدَا۠ وَقَدۡ تَّبَیَّنَ لَکُمۡ مِّنۡ مَّسٰکِنِہِمۡ ۟  وَزَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ اَعۡمَالَہُمۡ فَصَدَّہُمۡ عَنِ السَّبِیۡلِ وَکَانُوۡا مُسۡتَبۡصِرِیۡنَ ۙ

আমি আদ ও ছামূদকেও ধ্বংস করলাম। তাদের ঘরবাড়ি দ্বারাই তাদের ধ্বংসপ্রাপ্তি তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে আছে। শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের দৃষ্টিতে মনোরম বানিয়ে দিয়ে তাদেরকে সরল পথ থেকে নিবৃত্ত রেখেছিল, অথচ তারা ছিল বিচক্ষণ।

وَقَارُوۡنَ وَفِرۡعَوۡنَ وَہَامٰنَ ۟  وَلَقَدۡ جَآءَہُمۡ مُّوۡسٰی بِالۡبَیِّنٰتِ فَاسۡتَکۡبَرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَمَا کَانُوۡا سٰبِقِیۡنَ ۚۖ

আমি কারূন, ফির‘আওন ও হামানকে ধ্বংস করেছিলাম। মূসা তাদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তারা দেশে বড়ত্ব প্রদর্শন করেছিল, কিন্তু তারা তো (আমার উপর) জিততে পারেনি।

فَکُلًّا اَخَذۡنَا بِذَنۡۢبِہٖ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ اَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِ حَاصِبًا ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ اَخَذَتۡہُ الصَّیۡحَۃُ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ خَسَفۡنَا بِہِ الۡاَرۡضَ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ اَغۡرَقۡنَا ۚ وَمَا کَانَ اللّٰہُ لِیَظۡلِمَہُمۡ وَلٰکِنۡ کَانُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ

আমি তাদের প্রত্যেককে তার অপরাধের কারণে ধৃত করি। তাদের কেউ তো এমন, যার বিরুদ্ধে পাঠাই পাথর বর্ষণকারী ঝড়ো-ঝঞ্ঝা, কেউ ছিল এমন যাকে আক্রান্ত করে মহানাদ, কেউ ছিল এমন, যাকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেই এবং কেউ ছিল এমন, যাকে করি নিমজ্জিত। বস্তুত আল্লাহ এমন নন যে, তাদের প্রতি জুলুম করবেন; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল।

مَثَلُ الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اَوۡلِیَآءَ کَمَثَلِ الۡعَنۡکَبُوۡتِ ۖۚ اِتَّخَذَتۡ بَیۡتًا ؕ وَاِنَّ اَوۡہَنَ الۡبُیُوۡتِ لَبَیۡتُ الۡعَنۡکَبُوۡتِ ۘ لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ

যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্য অভিভাবক গ্রহণ করেছে, তাদের দৃষ্টান্ত হল মাকড়সা, যে নিজের জন্য ঘর বানায় আর নিশ্চয়ই ঘরের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুর্বল মাকড়সার ঘরই হয়ে থাকে। আহা! তারা যদি জানত।

اِنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ

আল্লাহ ভালো করেই জানেন তারা আল্লাহকে ছেড়ে কাকে কাকে ডাকে। তিনি ক্ষমতার মালিক, হেকমতেরও মালিক।

وَتِلۡکَ الۡاَمۡثَالُ نَضۡرِبُہَا لِلنَّاسِ ۚ وَمَا یَعۡقِلُہَاۤ اِلَّا الۡعٰلِمُوۡنَ

আমি মানুষের কল্যাণার্থে এসব দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকি, কিন্তু তা বোঝে কেবল তারাই, যারা জ্ঞানবান।

خَلَقَ اللّٰہُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٪

আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে যথার্থ (উদ্দেশ্যে) সৃষ্টি করেছেন। বস্তুত ঈমানদারদের জন্য এর মধ্যে অবশ্যই নিদর্শন আছে।

اُتۡلُ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ مِنَ الۡکِتٰبِ وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ ؕ اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡہٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ ؕ وَلَذِکۡرُ اللّٰہِ اَکۡبَرُ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تَصۡنَعُوۡنَ

(হে নবী!) ওহীর মাধ্যমে তোমার প্রতি যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে, তা তিলাওয়াত কর ও নামায কায়েম কর। নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর যিকিরই তো সর্বাপেক্ষা বড় জিনিস। তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ তা জানেন।

وَلَا تُجَادِلُوۡۤا اَہۡلَ الۡکِتٰبِ اِلَّا بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ ٭ۖ اِلَّا الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡہُمۡ وَقُوۡلُوۡۤا اٰمَنَّا بِالَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡنَا وَاُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ وَاِلٰـہُنَا وَاِلٰـہُکُمۡ وَاحِدٌ وَّنَحۡنُ لَہٗ مُسۡلِمُوۡنَ

(হে মুসলিমগণ!) কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করবে না উত্তম পন্থা ছাড়া। তবে তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘন করে, তাদের কথা স্বতন্ত্র এবং (তাদেরকে) বল, আমরা ঈমান এনেছি সেই কিতাবের প্রতি যা আমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে এবং যে কিতাব তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে তার প্রতিও। আমাদের মাবুদ ও তোমাদের মাবুদ একই। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।

وَکَذٰلِکَ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الۡکِتٰبَ ؕ فَالَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ ۚ وَمِنۡ ہٰۤؤُلَآءِ مَنۡ یُّؤۡمِنُ بِہٖ ؕ وَمَا یَجۡحَدُ بِاٰیٰتِنَاۤ اِلَّا الۡکٰفِرُوۡنَ

(হে রাসূল!) এভাবেই আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি। সুতরাং যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা এতে ঈমান আনে এবং তাদের (অর্থাৎ মূর্তিপূজকদের) মধ্যেও কেউ কেউ এতে ঈমান আনছে। বস্তুত আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে কেবল কাফেররাই।

وَمَا کُنۡتَ تَتۡلُوۡا مِنۡ قَبۡلِہٖ مِنۡ کِتٰبٍ وَّلَا تَخُطُّہٗ بِیَمِیۡنِکَ اِذًا لَّارۡتَابَ الۡمُبۡطِلُوۡنَ

তুমি তো এর আগে কোন কিতাব পড়নি এবং নিজ হাতে কোন কিতাব লেখওনি। সে রকম কিছু হলে ভ্রান্তপথ অবলম্বনকারীরা সন্দেহ করতে পারত।

بَلۡ ہُوَ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ فِیۡ صُدُوۡرِ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ ؕ وَمَا یَجۡحَدُ بِاٰیٰتِنَاۤ اِلَّا الظّٰلِمُوۡنَ

প্রকৃতপক্ষে এ কুরআন এমন নিদর্শনাবলীর সমষ্টি, যা জ্ঞানপ্রাপ্তদের অন্তরে সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট। আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে কেবল জালেমগণই।

وَقَالُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ اٰیٰتٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ قُلۡ اِنَّمَا الۡاٰیٰتُ عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ وَاِنَّمَاۤ اَنَا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ

তারা বলে, তার প্রতি (অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি) তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কেন নিদর্শনাবলী অবতীর্ণ করা হল না? (হে রাসূল! তাদেরকে) বল, নিদর্শনাবলী তো আল্লাহরই কাছে। আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।

اَوَلَمۡ یَکۡفِہِمۡ اَنَّاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ یُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَرَحۡمَۃً وَّذِکۡرٰی لِقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٪

তবে কি তাদের জন্য এটা (অর্থাৎ এই নিদর্শন) যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদেরকে পড়ে শোনানো হচ্ছে? নিশ্চয়ই যে সমস্ত লোক বিশ্বাস করে তাদের জন্য এতে রয়েছে রহমত ও উপদেশ।

قُلۡ کَفٰی بِاللّٰہِ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ شَہِیۡدًا ۚ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِالۡبَاطِلِ وَکَفَرُوۡا بِاللّٰہِ ۙ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ

বল, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষ্য দানের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই জানেন। যারা ভ্রান্ত বিষয়ে ঈমান এনেছে ও আল্লাহকে অস্বীকার করেছে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

وَیَسۡتَعۡجِلُوۡنَکَ بِالۡعَذَابِ ؕ وَلَوۡلَاۤ اَجَلٌ مُّسَمًّی لَّجَآءَہُمُ الۡعَذَابُ ؕ وَلَیَاۡتِیَنَّہُمۡ بَغۡتَۃً وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ

তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি এনে দিতে বলে। যদি (শাস্তির জন্য) এক নির্দিষ্ট সময় না থাকত, তবে তাদের উপর অবশ্যই শাস্তি এসে যেত। আর তা অবশ্যই তাদের উপর এমন অতর্কিতভাবে আসবে যে তারা টেরও পাবে না।

یَسۡتَعۡجِلُوۡنَکَ بِالۡعَذَابِ ؕ  وَاِنَّ جَہَنَّمَ لَمُحِیۡطَۃٌۢ بِالۡکٰفِرِیۡنَ ۙ

তারা তোমাকে শাস্তি তাড়াতাড়ি এনে দিতে বলে। নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফেরদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলবে,

یَوۡمَ یَغۡشٰہُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ فَوۡقِہِمۡ وَمِنۡ تَحۡتِ اَرۡجُلِہِمۡ وَیَقُوۡلُ ذُوۡقُوۡا مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

সেই দিন, যে দিন আযাব তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে উপর দিক থেকেও এবং তাদের পায়ের নিচ থেকেও। আর তিনি বলবেন, তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ কর।

یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ اَرۡضِیۡ وَاسِعَۃٌ فَاِیَّایَ فَاعۡبُدُوۡنِ

হে আমার মুমিন বান্দাগণ! নিশ্চয়ই আমার ভূমি অতি প্রশস্ত। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর।

کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ۟ ثُمَّ اِلَیۡنَا تُرۡجَعُوۡنَ

জীব মাত্রকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তারপর তোমাদের সকলকে আমারই কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُبَوِّئَنَّہُمۡ مِّنَ الۡجَنَّۃِ غُرَفًا تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  نِعۡمَ اَجۡرُ الۡعٰمِلِیۡنَ ٭ۖ

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি তাদেরকে অবশ্যই জান্নাতের এমন বালাখানায় বসবাস করতে দেব, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। তাতে তারা সদা-সর্বদা থাকবে। অতি উৎকৃষ্ট প্রতিদান সেই কর্মশীলদের জন্য

الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا وَعَلٰی رَبِّہِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ

যারা সবর অবলম্বন করেছে এবং তারা নিজ প্রতিপালকের উপর ভরসা রাখে।

وَکَاَیِّنۡ مِّنۡ دَآبَّۃٍ لَّا تَحۡمِلُ رِزۡقَہَا ٭ۖ اَللّٰہُ یَرۡزُقُہَا وَاِیَّاکُمۡ ۫ۖ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ

এমন কত জীবজন্তু আছে, যারা নিজেদের খাদ্য সঙ্গে বয়ে বেড়ায় না। আল্লাহই তাদেরকে রিযক দান করেন এবং তোমাদেরকেও। তিনিই সব কথা শোনেন, সকল কিছু জানেন।

وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰہُ ۚ فَاَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ

তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! তাহলে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে কোন দিকে ফিরে যাচ্ছে?

اَللّٰہُ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ وَیَقۡدِرُ لَہٗ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ

আল্লাহ নিজ বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা সংকীর্ণ করে দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ نَّزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحۡیَا بِہِ الۡاَرۡضَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَوۡتِہَا لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰہُ ؕ  قُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ ؕ  بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡقِلُوۡنَ ٪

তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন অতঃপর তা দ্বারা ভূমিকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! বল, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। কিন্তু তাদের অধিকাংশেই বুদ্ধিকে কাজে লাগায় না।

وَمَا ہٰذِہِ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا لَہۡوٌ وَّلَعِبٌ ؕ وَاِنَّ الدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ لَہِیَ الۡحَیَوَانُ ۘ لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ

এই পার্থিব জীবন খেলাধুলা ছাড়া কিছুই নয়। বস্তুত আখেরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত!

فَاِذَا رَکِبُوۡا فِی الۡفُلۡکِ دَعَوُا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ۚ  فَلَمَّا نَجّٰہُمۡ اِلَی الۡبَرِّ اِذَا ہُمۡ یُشۡرِکُوۡنَ ۙ

তারা যখন নৌকায় চড়ে, তখন তারা আল্লাহকে ডাকে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। তারপর তাদেরকে উদ্ধার করে যখন স্থলে নিয়ে আসেন, অমনি তারা শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

لِیَکۡفُرُوۡا بِمَاۤ اٰتَیۡنٰہُمۡ ۚۙ وَلِیَتَمَتَّعُوۡا ٝ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ

আমি তাদেরকে যে নি‘আমত দিয়েছি, তারা তার অকৃতজ্ঞতা করতে থাকুক এবং লুটে নিক কিছু মজা! সেই সময় দূরে নয়, যখন তারা সবই জানতে পারবে।

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا جَعَلۡنَا حَرَمًا اٰمِنًا وَّیُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنۡ حَوۡلِہِمۡ ؕ اَفَبِالۡبَاطِلِ یُؤۡمِنُوۡنَ وَبِنِعۡمَۃِ اللّٰہِ یَکۡفُرُوۡنَ

তারা কি লক্ষ্য করেনি, আমি (তাদের নগরকে) এক নিরাপদ হরম বানিয়ে দিয়েছি, অথচ তাদের আশপাশের লোকদের উপর হয় অতর্কিত হামলা। তারপরও কি তারা অলীক বস্তুর প্রতি বিশ্বাস রাখছে ও আল্লাহর নি‘আমতের নাশোকরী করছে?

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ کَذَّبَ بِالۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہٗ ؕ اَلَیۡسَ فِیۡ جَہَنَّمَ مَثۡوًی لِّلۡکٰفِرِیۡنَ

তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে কিংবা যখন তার কাছে সত্য বাণী পৌঁছে, তখন তা প্রত্যাখ্যান করে? (এরূপ) কাফেরদের ঠিকানা কি জাহান্নামে নয়?

وَالَّذِیۡنَ جَاہَدُوۡا فِیۡنَا لَنَہۡدِیَنَّہُمۡ سُبُلَنَا ؕ  وَاِنَّ اللّٰہَ لَمَعَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ٪

যারা আমার উদ্দেশ্যে প্রচেষ্টা চালায়, আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে উপনীত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।