الطور

الطور

আত-তূর

Ayah ৪৯ · Meccan · Para ২৭

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

وَالطُّوۡرِ ۙ

কসম তূর পাহাড়ের,

وَکِتٰبٍ مَّسۡطُوۡرٍ ۙ

এবং সেই কিতাবের,

فِیۡ رَقٍّ مَّنۡشُوۡرٍ ۙ

যা লেখা আছে খোলা পাতায়।

وَّالۡبَیۡتِ الۡمَعۡمُوۡرِ ۙ

এবং কসম ‘বায়তুল মামুর’-এর

وَالسَّقۡفِ الۡمَرۡفُوۡعِ ۙ

এবং উন্নীত ছাদের

وَالۡبَحۡرِ الۡمَسۡجُوۡرِ ۙ

এবং উত্তাল সাগরের

اِنَّ عَذَابَ رَبِّکَ لَوَاقِعٌ ۙ

তোমার প্রতিপালকের আযাব অবশ্যম্ভাবী।

مَّا لَہٗ مِنۡ دَافِعٍ ۙ

তা রোধ করতে পারে এমন কেউ নেই।

یَّوۡمَ تَمُوۡرُ السَّمَآءُ مَوۡرًا ۙ

যে দিন আকাশ কেঁপে উঠবে থরথর করে,

وَّتَسِیۡرُ الۡجِبَالُ سَیۡرًا ؕ

এবং পবর্তমালা সঞ্চলন করবে ভয়ানক ভাবে

فَوَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ۙ

সে দিন মহা দুর্ভোগ হবে, সত্য প্রত্যাখ্যান কারীদের,

الَّذِیۡنَ ہُمۡ فِیۡ خَوۡضٍ یَّلۡعَبُوۡنَ ۘ

যারা বৃথা কথাবার্তায় নিমজ্জিত থেকে খেল-তামাশা করছে।

یَوۡمَ یُدَعُّوۡنَ اِلٰی نَارِ جَہَنَّمَ دَعًّا ؕ

সে দিন যখন তাদেরকে ধাক্কিয়ে ধাক্কিয়ে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

ہٰذِہِ النَّارُ الَّتِیۡ کُنۡتُمۡ بِہَا تُکَذِّبُوۡنَ

(এবং বলা হবে) এই সেই আগুন, যাকে তোমরা অবিশ্বাস করতে।

اَفَسِحۡرٌ ہٰذَاۤ اَمۡ اَنۡتُمۡ لَا تُبۡصِرُوۡنَ ۚ

এটা কি যাদু, না কি তোমরা (এখনও) কিছু দেখতে পাচ্ছ না?

اِصۡلَوۡہَا فَاصۡبِرُوۡۤا اَوۡ لَا تَصۡبِرُوۡا ۚ سَوَآءٌ عَلَیۡکُمۡ ؕ اِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

তোমরা এতে প্রবেশ কর। অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধর বা নাই ধর তোমাদের পক্ষে উভয়ই সমান। তোমাদেরকে কেবল সেই সব কর্মেরই প্রতিফল দেওয়া হবে, যা তোমরা করতে।

اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ جَنّٰتٍ وَّنَعِیۡمٍ ۙ

নিশ্চয়ই মুত্তাকীগণ উদ্যানরাজি ও নি‘আমতের ভেতর থাকবে।

فٰکِہِیۡنَ بِمَاۤ اٰتٰہُمۡ رَبُّہُمۡ ۚ وَوَقٰہُمۡ رَبُّہُمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ

তাদের প্রতিপালক তাদেরকে যা-কিছু দান করবেন এবং তাদের প্রতিপালকই তাদেরকে যেভাবে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন, তারা তা উপভোগ করবে।

کُلُوۡا وَاشۡرَبُوۡا ہَنِیۡٓـًٔۢا بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ۙ

(তাদেরকে বলা হবে,) তৃপ্তি সহকারে পানাহার কর, তোমরা যা করতে তার পুরস্কার স্বরূপ।

مُتَّکِئِیۡنَ عَلٰی سُرُرٍ مَّصۡفُوۡفَۃٍ ۚ وَزَوَّجۡنٰہُمۡ بِحُوۡرٍ عِیۡنٍ

তারা সারিবদ্ধভাবে সাজানো আসনে হেলান দেওয়া অবস্থায় থাকবে এবং আমি ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের সাথে তাদের বিবাহ দেব।

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَاتَّبَعَتۡہُمۡ ذُرِّیَّتُہُمۡ بِاِیۡمَانٍ اَلۡحَقۡنَا بِہِمۡ ذُرِّیَّتَہُمۡ وَمَاۤ اَلَتۡنٰہُمۡ مِّنۡ عَمَلِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ کُلُّ امۡرِیًٴۢ بِمَا کَسَبَ رَہِیۡنٌ

যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিগণ ঈমানের ক্ষেত্রে তাদের অনুগামী হয়েছে, আমি তাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে তাদের সাথে মিলিয়ে দেব এবং তাদের কর্ম হতে কিছুমাত্র হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের বিনিময়ে বন্ধক রয়েছে।

وَاَمۡدَدۡنٰہُمۡ بِفَاکِہَۃٍ وَّلَحۡمٍ مِّمَّا یَشۡتَہُوۡنَ

আমি তাদেরকে তাদের চাহিদামত একের পর এক ফল ও গোশত দেব,

یَتَنَازَعُوۡنَ فِیۡہَا کَاۡسًا لَّا لَغۡوٌ فِیۡہَا وَلَا تَاۡثِیۡمٌ

সেখানে তারা (বন্ধুত্বপূর্ণভাবে) কাড়াকাড়ি করবে সূরা পাত্র নিয়ে, যা পান করার দ্বারা কোন অনর্থ ঘটবে না এবং হবে না কোন গুনাহ।

وَیَطُوۡفُ عَلَیۡہِمۡ غِلۡمَانٌ لَّہُمۡ کَاَنَّہُمۡ لُؤۡلُؤٌ مَّکۡنُوۡنٌ

তাদের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করবে এমন কিশোররা, যারা তাদের (সেবার) জন্য নিয়োজিত থাকবে, তারা (এমন রূপবান) যেন লুকিয়ে রাখা মুক্তা।

وَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَسَآءَلُوۡنَ

তারা একে অন্যের দিকে ফিরে অবস্থাদি জিজ্ঞেস করবে।

قَالُوۡۤا اِنَّا کُنَّا قَبۡلُ فِیۡۤ اَہۡلِنَا مُشۡفِقِیۡنَ

বলবে, আমরা পূর্বে আমাদের পরিবারবর্গের মধ্যে (অর্থাৎ দুনিয়ায়) বড় ভয়ের ভেতর ছিলাম।

فَمَنَّ اللّٰہُ عَلَیۡنَا وَوَقٰىنَا عَذَابَ السَّمُوۡمِ

অবশেষে আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে রক্ষা করেছেন উত্তপ্ত বায়ুর শাস্তি থেকে।

اِنَّا کُنَّا مِنۡ قَبۡلُ نَدۡعُوۡہُ ؕ  اِنَّہٗ ہُوَ الۡبَرُّ الرَّحِیۡمُ ٪

আমরা এর আগে তার কাছে দুআ করতাম। বস্তুত তিনি অতি অনুগ্রহশীল, পরম দয়ালু।

فَذَکِّرۡ فَمَاۤ اَنۡتَ بِنِعۡمَتِ رَبِّکَ بِکَاہِنٍ وَّلَا مَجۡنُوۡنٍ ؕ

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি উপদেশ দিতে থাক। কেননা তুমি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে নও অতীন্দ্রিয়বাদী এবং নও উন্মাদ।

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ شَاعِرٌ نَّتَرَبَّصُ بِہٖ رَیۡبَ الۡمَنُوۡنِ

তারা কি বলে, সে একজন কবি, যার জন্য আমরা কালচক্রের অপেক্ষায় আছি?

قُلۡ تَرَبَّصُوۡا فَاِنِّیۡ مَعَکُمۡ مِّنَ الۡمُتَرَبِّصِیۡنَ ؕ

বলে দাও, অপেক্ষা করতে থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান আছি।

اَمۡ تَاۡمُرُہُمۡ اَحۡلَامُہُمۡ بِہٰذَاۤ اَمۡ ہُمۡ قَوۡمٌ طَاغُوۡنَ ۚ

তাদের বুদ্ধি কি তাদেরকে এসব করতে বলে, নাকি তারা এক অবাধ্য সম্প্রদায়।

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ تَقَوَّلَہٗ ۚ  بَلۡ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ ۚ

তারা কি বলে, সে এটা (এই কুরআন) নিজে রচনা করে নিয়েছে? না, বরং তারা (জিদের কারণে) ঈমান আনছে না।

فَلۡیَاۡتُوۡا بِحَدِیۡثٍ مِّثۡلِہٖۤ اِنۡ کَانُوۡا صٰدِقِیۡنَ ؕ

তারা সত্যবাদী হলে এর মত কোন বাণী (নিজেরা রচনা করে) নিয়ে আসুক।

اَمۡ خُلِقُوۡا مِنۡ غَیۡرِ شَیۡءٍ اَمۡ ہُمُ الۡخٰلِقُوۡنَ ؕ

তারা কি কারও ছাড়া আপনা-আপনিই সৃষ্টি হয়ে গেছে, না কি তারাই (নিজেদের) স্রষ্টা?

اَمۡ خَلَقُوا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ ۚ  بَلۡ لَّا یُوۡقِنُوۡنَ ؕ

না কি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী তারা সৃষ্টি করেছে? না; বরং (মূল কথা হচ্ছে) তারা বিশ্বাসই রাখে না।

اَمۡ عِنۡدَہُمۡ خَزَآئِنُ رَبِّکَ اَمۡ ہُمُ الۡمُصَۜیۡطِرُوۡنَ ؕ

তোমার প্রতিপালকের ভাণ্ডার কি তাদের কাছে, নাকি তারাই (সবকিছুর) নিয়ন্ত্রক?

اَمۡ لَہُمۡ سُلَّمٌ یَّسۡتَمِعُوۡنَ فِیۡہِ ۚ  فَلۡیَاۡتِ مُسۡتَمِعُہُمۡ بِسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ؕ

না কি তাদের কাছে আছে কোন সিঁড়ি, যাতে চড়ে তারা এটা (ঊর্ধ্ব জগতের কথাবার্তা) শুনতে পায়। তাই যদি হয়, তবে তাদের মধ্যে যে শোনে, সে সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ উপস্থিত করুক।

اَمۡ لَہُ الۡبَنٰتُ وَلَکُمُ الۡبَنُوۡنَ ؕ

তবে কি কন্যা সন্তান পড়ল আল্লাহর ভাগে আর পুত্র সন্তান তোমাদের ভাগে?

اَمۡ تَسۡـَٔلُہُمۡ اَجۡرًا فَہُمۡ مِّنۡ مَّغۡرَمٍ مُّثۡقَلُوۡنَ ؕ

নাকি তুমি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ, যে কারণে তারা জরিমানা-ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে?

اَمۡ عِنۡدَہُمُ الۡغَیۡبُ فَہُمۡ یَکۡتُبُوۡنَ ؕ

নাকি তাদের কাছে গায়েবের জ্ঞান আছে, যা তারা লিপিবদ্ধ করছে?

اَمۡ یُرِیۡدُوۡنَ کَیۡدًا ؕ  فَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ہُمُ الۡمَکِیۡدُوۡنَ ؕ

নাকি তারা কোন ষড়যন্ত্র করতে চাচ্ছে। তবে যারা কুফরী করেছে পরিণামে সে ষড়যন্ত্র তাদেরই বিরুদ্ধে যাবে।

اَمۡ لَہُمۡ اِلٰہٌ غَیۡرُ اللّٰہِ ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ

তাদের কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ আছে? তারা যে শিরক করে, তা হতে আল্লাহ পবিত্র!

وَاِنۡ یَّرَوۡا کِسۡفًا مِّنَ السَّمَآءِ سَاقِطًا یَّقُوۡلُوۡا سَحَابٌ مَّرۡکُوۡمٌ

তারা যদি আকাশের কোন খন্ড ভেঙ্গে পড়তে দেখে, তবে বলবে, এটা জমাট মেঘ।

فَذَرۡہُمۡ حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَہُمُ الَّذِیۡ فِیۡہِ یُصۡعَقُوۡنَ ۙ

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে (আপন অবস্থায়) ছেড়ে দাও, যাবত না তারা সেই দিনের সম্মুখীন হয়, যে দিন তারা অচেতন হয়ে পড়বে।

یَوۡمَ لَا یُغۡنِیۡ عَنۡہُمۡ کَیۡدُہُمۡ شَیۡئًا وَّلَا ہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ ؕ

যে দিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তারা কোন সাহায্যও লাভ করবে না।

وَاِنَّ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا عَذَابًا دُوۡنَ ذٰلِکَ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

তার পূর্বেও এ জালেমদের জন্য এক শাস্তি আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশেই তা জানে না।

وَاصۡبِرۡ لِحُکۡمِ رَبِّکَ فَاِنَّکَ بِاَعۡیُنِنَا وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ حِیۡنَ تَقُوۡمُ ۙ

তুমি নিজ প্রতিপালকের আদেশের উপর অবিচলিত থাক। কেননা তুমি আমার দৃষ্টির মধ্যে রয়েছ। আর তুমি যখন ওঠ, তখন প্রশংসার সাথে নিজ প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠ কর।

وَمِنَ الَّیۡلِ فَسَبِّحۡہُ وَاِدۡبَارَ النُّجُوۡمِ ٪

এবং রাতের কিছু অংশেও তার তাসবীহ পাঠ কর এবং যখন তারকারাজি অস্ত যায়, তখনও।