النجم

النجم

আন-নাজম

Ayah ৬২ · Meccan · Para ২৭

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

وَالنَّجۡمِ اِذَا ہَوٰی ۙ

কসম নক্ষত্রের, যখন তা পতিত হয়।

مَا ضَلَّ صَاحِبُکُمۡ وَمَا غَوٰی ۚ

(হে মক্কাবাসীগণ!) তোমাদের সঙ্গী পথ ভুলে যায়নি এবং বিপথগামীও হয়নি।

وَمَا یَنۡطِقُ عَنِ الۡہَوٰی ؕ

সে তার নিজ খেয়াল-খুশী থেকে কিছু বলে না।

اِنۡ ہُوَ اِلَّا وَحۡیٌ یُّوۡحٰی ۙ

এটা তো খালেস ওহী, যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়।

عَلَّمَہٗ شَدِیۡدُ الۡقُوٰی ۙ

তাকে শিক্ষা দিয়েছে এক প্রচণ্ড শক্তিমান (ফেরেশতা)

ذُوۡ مِرَّۃٍ ؕ  فَاسۡتَوٰی ۙ

যে ক্ষমতার অধিকারী। সুতরাং সে আত্মপ্রকাশ করল,

وَہُوَ بِالۡاُفُقِ الۡاَعۡلٰی ؕ

যখন সে ছিল ঊর্ধ্ব দিগন্তে।

ثُمَّ دَنَا فَتَدَلّٰی ۙ

তারপর সে নিকটে আসল এবং ঝুঁকে গেল।

فَکَانَ قَابَ قَوۡسَیۡنِ اَوۡ اَدۡنٰی ۚ

এমনকি দুই ধনুকের দূরত্ব পরিমাণ কাছে এসে গেল, বরং তার চেয়েও বেশি নিকটে।

فَاَوۡحٰۤی اِلٰی عَبۡدِہٖ مَاۤ اَوۡحٰی ؕ

এভাবে নিজ বান্দার প্রতি আল্লাহর যে ওহী নাযিল করার ছিল তা নাযিল করলেন।

مَا کَذَبَ الۡفُؤَادُ مَا رَاٰی

সে যা দেখেছে, তার অন্তর তাতে কোন ভুল করেনি।

اَفَتُمٰرُوۡنَہٗ عَلٰی مَا یَرٰی

তবুও কি সে যা দেখেছে তা নিয়ে তোমরা তার সঙ্গে বিতণ্ডা করবে?

وَلَقَدۡ رَاٰہُ نَزۡلَۃً اُخۡرٰی ۙ

বস্তুত সে তাকে (ফেরেশতাকে) আরও একবার দেখেছে।

عِنۡدَ سِدۡرَۃِ الۡمُنۡتَہٰی

সিদরাতুল মুনতাহা (সীমান্তবর্তী কুলগাছ)-এর কাছে।

عِنۡدَہَا جَنَّۃُ الۡمَاۡوٰی ؕ

তারই কাছে অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া।

اِذۡ یَغۡشَی السِّدۡرَۃَ مَا یَغۡشٰی ۙ

তখন সেই কুল গাছটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল সেই জিনিস যা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।

مَا زَاغَ الۡبَصَرُ وَمَا طَغٰی

(রাসূলের) চোখ বিভ্রান্ত হয়নি এবং সীমালংঘনও করেনি।

لَقَدۡ رَاٰی مِنۡ اٰیٰتِ رَبِّہِ الۡکُبۡرٰی

বাস্তবিকপক্ষে, সে তার প্রতিপালকের বড়-বড় নিদর্শনের মধ্য হতে বহু কিছু দেখেছে।

اَفَرَءَیۡتُمُ اللّٰتَ وَالۡعُزّٰی ۙ

তোমরা কি লাত ও উযযা (এর স্বরূপ) সম্বন্ধে চিন্তা করেছ?

وَمَنٰوۃَ الثَّالِثَۃَ الۡاُخۡرٰی

তৃতীয় আরেকটি সম্বন্ধে যার নাম মানাত?

اَلَکُمُ الذَّکَرُ وَلَہُ الۡاُنۡثٰی

তবে কি তোমাদের থাকবে পুত্র সন্তান আর আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান?

تِلۡکَ اِذًا قِسۡمَۃٌ ضِیۡزٰی

তাহলে তো এটা বড় অন্যায় বণ্টন!

اِنۡ ہِیَ اِلَّاۤ اَسۡمَآءٌ سَمَّیۡتُمُوۡہَاۤ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمۡ مَّاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ بِہَا مِنۡ سُلۡطٰنٍ ؕ  اِنۡ یَّتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَہۡوَی الۡاَنۡفُسُ ۚ  وَلَقَدۡ جَآءَہُمۡ مِّنۡ رَّبِّہِمُ الۡہُدٰی ؕ

(এদের স্বরূপ এর বেশি কিছু নয় যে,) এগুলি কতক নাম মাত্র, যা তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদাগণ রেখেছ। আল্লাহ এর সপক্ষে কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। প্রকৃতপক্ষে তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) কেবল ধারণা এবং মনের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে। অথচ তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদের কাছে এসে গেছে পথ-নির্দেশ।

اَمۡ لِلۡاِنۡسَانِ مَا تَمَنّٰی ۫ۖ

মানুষ যা-কিছু কামনা করে, তাই কি তার প্রাপ্য?

فَلِلّٰہِ الۡاٰخِرَۃُ وَالۡاُوۡلٰی ٪

(না) কেননা আখেরাত ও দুনিয়া সম্পূর্ণরূপে আল্লাহরই এখতিয়ারে।

وَکَمۡ مِّنۡ مَّلَکٍ فِی السَّمٰوٰتِ لَا تُغۡنِیۡ شَفَاعَتُہُمۡ شَیۡئًا اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ اَنۡ یَّاۡذَنَ اللّٰہُ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَرۡضٰی

আকাশমণ্ডলীতে কত ফেরেশতা আছে, যাদের সুপারিশ (কারও) কোন কাজে আসে না। তবে আল্লাহ যার জন্য চান যদি অনুমতি দেন এবং তাতে তিনি সন্তুষ্ট থাকেন তারপরই তা কাজে আসতে পারে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ لَیُسَمُّوۡنَ الۡمَلٰٓئِکَۃَ تَسۡمِیَۃَ الۡاُنۡثٰی

যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না, তারা ফেরেশতাদের নাম রাখে নারীদের নামে।

وَمَا لَہُمۡ بِہٖ مِنۡ عِلۡمٍ ؕ  اِنۡ یَّتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ ۚ  وَاِنَّ الظَّنَّ لَا یُغۡنِیۡ مِنَ الۡحَقِّ شَیۡئًا ۚ

অথচ তাদের এ বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল ধারণার পিছনে চলে। প্রকৃতপক্ষে সত্যের ব্যাপারে ধারণা কিছুমাত্র কাজে আসে না।

فَاَعۡرِضۡ عَنۡ مَّنۡ تَوَلّٰی ۬ۙ  عَنۡ ذِکۡرِنَا وَلَمۡ یُرِدۡ اِلَّا الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ؕ

সুতরাং (হে রাসূল!) যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং পার্থিব জীবন ছাড়া অন্য কিছু কামনাই করে না, তুমি তাকে অগ্রাহ্য কর।

ذٰلِکَ مَبۡلَغُہُمۡ مِّنَ الۡعِلۡمِ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ۙ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنِ اہۡتَدٰی

তাদের জ্ঞানের দৌড় এ পর্যন্তই। তোমার প্রতিপালকই ভালো জানেন কে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভালো জানেন কে তার পথ পেয়ে গেছে।

وَلِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۙ  لِیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اَسَآءُوۡا بِمَا عَمِلُوۡا وَیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا بِالۡحُسۡنٰی ۚ

যা-কিছু আকাশমণ্ডলীতে ও যা-কিছু পৃথিবীতে আছে তা আল্লাহরই। সুতরাং যারা মন্দ কাজ করেছে, তিনি তাদেরকেও তাদের কাজের প্রতিফল দেবেন এবং যারা ভালো কাজ করেছে তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন।

اَلَّذِیۡنَ یَجۡتَنِبُوۡنَ کَبٰٓئِرَ الۡاِثۡمِ وَالۡفَوَاحِشَ اِلَّا اللَّمَمَ ؕ  اِنَّ رَبَّکَ وَاسِعُ الۡمَغۡفِرَۃِ ؕ  ہُوَ اَعۡلَمُ بِکُمۡ اِذۡ اَنۡشَاَکُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ وَاِذۡ اَنۡتُمۡ اَجِنَّۃٌ فِیۡ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ ۚ  فَلَا تُزَکُّوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ  ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنِ اتَّقٰی ٪

সেই সব লোককে, যারা বড়-বড় গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, অবশ্য কদাচিৎ পিছলে পড়লে সেটা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রশস্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছেন যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে পবিত্র বলে দাবি করো না। তিনি ভালোভাবেই জানেন মুত্তাকী কে।

اَفَرَءَیۡتَ الَّذِیۡ تَوَلّٰی ۙ

(হে রাসূল!) তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে (সত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে,

وَاَعۡطٰی قَلِیۡلًا وَّاَکۡدٰی

যে সামান্য কিছু দান করেছে, তারপর থেমে গেছে?

اَعِنۡدَہٗ عِلۡمُ الۡغَیۡبِ فَہُوَ یَرٰی

তার কাছে কি অদৃশ্য-জ্ঞান আছে, যা সে দেখতে পাচ্ছে?

اَمۡ لَمۡ یُنَبَّاۡ بِمَا فِیۡ صُحُفِ مُوۡسٰی ۙ

তাকে কি অবগত করা হয়নি যা আছে মুসার সহীফাসমূহে

وَاِبۡرٰہِیۡمَ الَّذِیۡ وَفّٰۤی ۙ

এবং ইবরাহীমের সহীফাসমূহেও, যে পরিপূর্ণ আনুগত্য করেছিল?

اَلَّا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ۙ

সে সহীফাসমূহে যা ছিল, তা এই যে, কোন বহনকারী অন্য কারও (গুনাহের) বোঝা বহন করতে পারে না।

وَاَنۡ لَّیۡسَ لِلۡاِنۡسَانِ اِلَّا مَا سَعٰی ۙ

আর এই যে, মানুষ নিজের প্রচেষ্টা ছাড়া অন্য কোন কিছুর (বিনিময় লাভের) হকদার হয় না।

وَاَنَّ سَعۡیَہٗ سَوۡفَ یُرٰی ۪

এবং এই যে, তার চেষ্টা অচিরেই দেখা যাবে।

ثُمَّ یُجۡزٰىہُ الۡجَزَآءَ الۡاَوۡفٰی ۙ

তারপর তার প্রতিফল তাকে পুরোপুরি দেওয়া হবে।

وَاَنَّ اِلٰی رَبِّکَ الۡمُنۡتَہٰی ۙ

এবং এই যে, (সকলের) শেষ গন্তব্য তোমার প্রতিপালকেরই কাছে।

وَاَنَّہٗ ہُوَ اَضۡحَکَ وَاَبۡکٰی ۙ

এবং এই যে, তিনিই হাসান ও কাঁদান

وَاَنَّہٗ ہُوَ اَمَاتَ وَاَحۡیَا ۙ

এবং এই যে, তিনিই মৃত্যু ঘটান ও জীবন দান করেন।

وَاَنَّہٗ خَلَقَ الزَّوۡجَیۡنِ الذَّکَرَ وَالۡاُنۡثٰی ۙ

এবং এই যে, তিনিই পুরুষ ও নারীর যুগল সৃষ্টি করেছেন।

مِنۡ نُّطۡفَۃٍ اِذَا تُمۡنٰی ۪

(তাও কেবল) একটি বিন্দু দ্বারা, যখন তা স্খলিত করা হয়।

وَاَنَّ عَلَیۡہِ النَّشۡاَۃَ الۡاُخۡرٰی ۙ

এবং এই যে, দ্বিতীয় জীবন দেওয়ার দায়িত্ব তাঁরই।

وَاَنَّہٗ ہُوَ اَغۡنٰی وَاَقۡنٰی ۙ

এবং এই যে, তিনিই ধনবান বানান এবং সম্পদ সংরক্ষিত করান।

وَاَنَّہٗ ہُوَ رَبُّ الشِّعۡرٰی ۙ

এবং এই যে, তিনিই শি‘রা নক্ষত্রের প্রতিপালক।

وَاَنَّہٗۤ اَہۡلَکَ عَادَۨ االۡاُوۡلٰی ۙ

এবং এই যে, তিনিই ‘প্রথম ‘আদ’-কে ধ্বংস করেছেন।

وَثَمُوۡدَا۠ فَمَاۤ اَبۡقٰی ۙ

এবং ছামুদ (জাতি)-কেও। কাউকে বাকি রাখেননি।

وَقَوۡمَ نُوۡحٍ مِّنۡ قَبۡلُ ؕ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا ہُمۡ اَظۡلَمَ وَاَطۡغٰی ؕ

এবং তার আগে নুহের জাতিকেও (ধ্বংস করেছেন)। নিশ্চয়ই তারা ছিল সর্বাপেক্ষা বড় জালেম ও অবাধ্য।

وَالۡمُؤۡتَفِکَۃَ اَہۡوٰی ۙ

যে জনপদসমূহ উল্টে পড়ে গিয়েছিল, সেগুলোকেও তিনিই তুলে নিক্ষেপ করেছিলেন।

فَغَشّٰہَا مَا غَشّٰی ۚ

অতঃপর যে (ভয়াবহ) বস্তু তাকে আচ্ছন্ন করল, তা তাকে আচ্ছন্ন করে ছাড়ল।

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکَ تَتَمَارٰی

সুতরাং (হে মানুষ!) তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘আমতে সন্দেহ পোষণ করবে?

ہٰذَا نَذِیۡرٌ مِّنَ النُّذُرِ الۡاُوۡلٰی

সে (অর্থাৎ রাসূল)-ও পূর্ববর্তী সতর্ককারীদের মত একজন সতর্ককারী।

اَزِفَتِ الۡاٰزِفَۃُ ۚ

আসন্ন কাল তো নিকটে এসে গেছে।

لَیۡسَ لَہَا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ کَاشِفَۃٌ ؕ

আল্লাহ ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তা রোধ করতে পারে।

اَفَمِنۡ ہٰذَا الۡحَدِیۡثِ تَعۡجَبُوۡنَ ۙ

তবে কি তোমরা এ কথায়ই বিস্ময়বোধ করছ?

وَتَضۡحَکُوۡنَ وَلَا تَبۡکُوۡنَ ۙ

এবং (একে উপহাসের বিষয় বানিয়ে) হাসি-ঠাট্টা করছ এবং কান্নাকাটি করছ না;

وَاَنۡتُمۡ سٰمِدُوۡنَ

এবং তোমরা স্পর্ধিত ঔদাসিন্যে লিপ্ত রয়েছ?

فَاسۡجُدُوۡا لِلّٰہِ وَاعۡبُدُوۡا ٪ٛ

এখন (ও সময় আছে) আল্লাহর সামনে ঝুঁকে পড় এবং তাঁর বন্দেগীতে লিপ্ত হও।