الأنعام
আল-আনআম
Ayah ১৬৫ · Meccan · Para ৭
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَجَعَلَ الظُّلُمٰتِ وَالنُّوۡرَ ۬ؕ ثُمَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ یَعۡدِلُوۡنَ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো বানিয়েছেন। তথাপি যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা (অন্যকে) নিজ প্রতিপালকের সমকক্ষ সাব্যস্ত করে।
ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ طِیۡنٍ ثُمَّ قَضٰۤی اَجَلًا ؕ وَاَجَلٌ مُّسَمًّی عِنۡدَہٗ ثُمَّ اَنۡتُمۡ تَمۡتَرُوۡنَ
তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে নরম মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, তারপর (তোমাদের জীবনের) একটি মেয়াদ স্থির করেছেন এবং (পুনরায় জীবিত হওয়ার) একটি নির্দিষ্ট কাল রয়েছে তারই নিকট। তারপরও তোমরা সন্দেহে পড়ে রয়েছে।
وَہُوَ اللّٰہُ فِی السَّمٰوٰتِ وَفِی الۡاَرۡضِ ؕ یَعۡلَمُ سِرَّکُمۡ وَجَہۡرَکُمۡ وَیَعۡلَمُ مَا تَکۡسِبُوۡنَ
আর আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে তিনিই আল্লাহ। তিনি তোমাদের গুপ্ত বিষয়াদিও জানেন এবং প্রকাশ্য অবস্থাসমূহও। আর তোমরা যা-কিছু অর্জন করছ তাও তিনি অবগত।
وَمَا تَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ اٰیَۃٍ مِّنۡ اٰیٰتِ رَبِّہِمۡ اِلَّا کَانُوۡا عَنۡہَا مُعۡرِضِیۡنَ
(কাফিরদের অবস্থা এই যে,) তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী হতে যখনই কোনও নিদর্শন আসে, তারা তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
فَقَدۡ کَذَّبُوۡا بِالۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ ؕ فَسَوۡفَ یَاۡتِیۡہِمۡ اَنۡۢبٰٓؤُا مَا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ
সুতরাং যখন তাদের নিকট সত্য আসল তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং তারা যে বিষয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছে, শীঘ্রই তাদের কাছে তার খবর পৌঁছে যাবে।
اَلَمۡ یَرَوۡا کَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ مَّکَّنّٰہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مَا لَمۡ نُمَکِّنۡ لَّکُمۡ وَاَرۡسَلۡنَا السَّمَآءَ عَلَیۡہِمۡ مِّدۡرَارًا ۪ وَّجَعَلۡنَا الۡاَنۡہٰرَ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہِمۡ فَاَہۡلَکۡنٰہُمۡ بِذُنُوۡبِہِمۡ وَاَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ قَرۡنًا اٰخَرِیۡنَ
তারা কি দেখেনি, আমি তাদের পূর্বে কত জাতিকে ধ্বংস করেছি? তাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি তাদের প্রতি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম এবং তাদের তলদেশে নদ-নদীকে প্রবহমান করেছিলাম। অতঃপর তাদের পাপাচারের কারণে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দেই এবং তাদের পর অপর মানব গোষ্ঠীকে সৃষ্টি করি।
وَلَوۡ نَزَّلۡنَا عَلَیۡکَ کِتٰبًا فِیۡ قِرۡطَاسٍ فَلَمَسُوۡہُ بِاَیۡدِیۡہِمۡ لَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ
এবং (ওই কাফেরদের অবস্থা এই যে,) আমি যদি তোমার প্রতি কাগজে লিখিত কোনও কিতাব নাযিল করতাম, অতঃপর তারা তা নিজ হাতে স্পর্শ করে দেখত, তবুও (তাদের মধ্যে) যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলত, এটা স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।
وَقَالُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ مَلَکٌ ؕ وَلَوۡ اَنۡزَلۡنَا مَلَکًا لَّقُضِیَ الۡاَمۡرُ ثُمَّ لَا یُنۡظَرُوۡنَ
এবং তারা বলে, তার (অর্থাৎ নবীর) প্রতি কোনও ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথচ আমি কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করলে তো (তাদের) বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত, তারপর আর তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হত না।
وَلَوۡ جَعَلۡنٰہُ مَلَکًا لَّجَعَلۡنٰہُ رَجُلًا وَّلَلَبَسۡنَا عَلَیۡہِمۡ مَّا یَلۡبِسُوۡنَ
আমি যদি কোনও ফিরিশতাকে নবী বানাতাম, তবে তাকেও তো কোনও পুরুষ (-এর আকৃতিতে)-ই বানাতাম, আর তাদেরকে সেরূপ বিভ্রমেই ফেলতাম, যেরূপ বিভ্রমে তারা এখন পতিত রয়েছে।
وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪
(হে নবী!) নিশ্চয়ই তোমার পূর্বেও বহু রাসূলকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছে, পরিণামে তাদের মধ্যে যারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিল তাদেরকে সেই জিনিসই পরিবেষ্টন করে ফেলে, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
قُلۡ سِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ ثُمَّ انۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ
(কাফেরদেরকে) বল, পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, তারপর দেখ (নবীগণকে) অস্বীকারকারীদের পরিণাম কী হয়েছিল।
قُلۡ لِّمَنۡ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ قُلۡ لِّلّٰہِ ؕ کَتَبَ عَلٰی نَفۡسِہِ الرَّحۡمَۃَ ؕ لَیَجۡمَعَنَّکُمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ ؕ اَلَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ
(তাদেরকে) জিজ্ঞেস কর, আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা আছে, তা কার মালিকানাধীন? (তারপর তারা যদি উত্তর না দেয় তবে নিজেই) বলে দাও, আল্লাহরই মালিকানাধীন। তিনি রহমতকে নিজের প্রতি অবশ্য কর্তব্যরূপে স্থির করে নিয়েছেন (তাই তাওবা করলে অতীতের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন।) কিয়ামতের দিন তিনি অবশ্যই তোমাদের সকলকে একত্র করবেন, যে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। (কিন্তু) যারা (কুফর ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে) নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা (এ সত্যের প্রতি) ঈমান আনবে না।
وَلَہٗ مَا سَکَنَ فِی الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ ؕ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ
রাত ও দিনে যত সৃষ্টি বিশ্রাম গ্রহণ করে, সব তারই অধিকারভুক্ত। তিনি সব কিছু শোনেন ও সব কিছু জানেন।
قُلۡ اَغَیۡرَ اللّٰہِ اَتَّخِذُ وَلِیًّا فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَہُوَ یُطۡعِمُ وَلَا یُطۡعَمُ ؕ قُلۡ اِنِّیۡۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ اَوَّلَ مَنۡ اَسۡلَمَ وَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ
বলে দাও, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করব? যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং যিনি (সকলকে) খাদ্য দান করেন, কারও থেকে খাদ্য গ্রহণ করেন না? বলে দাও, আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি হই এবং (আমাকে বলা হয়েছে) তুমি কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
قُلۡ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ
বলে দাও, আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি, তবে আমার এক মহা দিবসের শাস্তির ভয় রয়েছে।
مَنۡ یُّصۡرَفۡ عَنۡہُ یَوۡمَئِذٍ فَقَدۡ رَحِمَہٗ ؕ وَذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡمُبِیۡنُ
সে দিন যে ব্যক্তি হতেই সে শাস্তি দূরীভূত করা হবে, তার প্রতি আল্লাহ বড়ই দয়া করলেন। আর এটাই স্পষ্ট সফলতা।
وَاِنۡ یَّمۡسَسۡکَ اللّٰہُ بِضُرٍّ فَلَا کَاشِفَ لَہٗۤ اِلَّا ہُوَ ؕ وَاِنۡ یَّمۡسَسۡکَ بِخَیۡرٍ فَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
আল্লাহ যদি তোমাকে কষ্ট দান করেন, তবে স্বয়ং তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ করেন, তবে তিনি তো সব বিষয়ে শক্তিমান।
وَہُوَ الۡقَاہِرُ فَوۡقَ عِبَادِہٖ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ
তিনি নিজ বান্দাদের উপর পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, পরিপূর্ণভাবে অবগত।
قُلۡ اَیُّ شَیۡءٍ اَکۡبَرُ شَہَادَۃً ؕ قُلِ اللّٰہُ ۟ۙ شَہِیۡدٌۢ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ۟ وَاُوۡحِیَ اِلَیَّ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنُ لِاُنۡذِرَکُمۡ بِہٖ وَمَنۡۢ بَلَغَ ؕ اَئِنَّکُمۡ لَتَشۡہَدُوۡنَ اَنَّ مَعَ اللّٰہِ اٰلِہَۃً اُخۡرٰی ؕ قُلۡ لَّاۤ اَشۡہَدُ ۚ قُلۡ اِنَّمَا ہُوَ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ وَّاِنَّنِیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُشۡرِکُوۡنَ ۘ
বল, (কোনও বিষয়ে) সাক্ষ্য দানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ জিনিস কী? বল, আল্লাহ! (এবং তিনিই) আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আমার প্রতি ওহীরূপে এই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকেও সতর্ক করি এবং যাদের নিকট এ কুরআন পৌঁছবে তাদেরকেও। সত্যিই কি তোমরা এই সাক্ষ্য দিতে পার যে, আল্লাহর সাথে অন্যান্য মাবুদও আছে? বলে দাও, আমি তো (এরূপ) সাক্ষ্য দেব না। বলে দাও, তিনি তো একই মাবুদ। তোমরা যে সকল জিনিসকে তাঁর শরীক সাব্যস্ত কর, আমি তাদের থেকে বিমুখ।
اَلَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَعۡرِفُوۡنَہٗ کَمَا یَعۡرِفُوۡنَ اَبۡنَآءَہُمۡ ۘ اَلَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ٪
যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে (অর্থাৎ শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) সেইরূপ চেনে, যেরূপ নিজেদের সন্তানদেরকে চেনে। (তথাপি) যারা নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা ঈমান আনবে না।
وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الظّٰلِمُوۡنَ
যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রটনা করে অথবা তার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে, তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে? নিশ্চিত (জেন), জালিমগণ সফলতা লাভ করতে পারে না।
وَیَوۡمَ نَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ نَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡۤا اَیۡنَ شُرَکَآؤُکُمُ الَّذِیۡنَ کُنۡتُمۡ تَزۡعُمُوۡنَ
সেই দিন (-কে স্মরণ কর), যখন আমি তাদের সকলকে একত্র করব, অতঃপর যারা শিরক করেছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করব, তোমাদের সেই মাবুদগণ কোথায়, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবী করতে (‘তারা আল্লাহর অংশীদার’)?
ثُمَّ لَمۡ تَکُنۡ فِتۡنَتُہُمۡ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡا وَاللّٰہِ رَبِّنَا مَا کُنَّا مُشۡرِکِیۡنَ
সে দিন তাদের এ ছাড়া কোনও অজুহাত থাকবে না যে, তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর শপথ, আমরা তো মুশরিক ছিলাম না।
اُنۡظُرۡ کَیۡفَ کَذَبُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ
দেখ, তারা নিজেদের সম্পর্কে কিরূপ মিথ্যা বলে। আর তারা যে মিথ্যা (মাবুদ) উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে।
وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّسۡتَمِعُ اِلَیۡکَ ۚ وَجَعَلۡنَا عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ اَکِنَّۃً اَنۡ یَّفۡقَہُوۡہُ وَفِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَقۡرًا ؕ وَاِنۡ یَّرَوۡا کُلَّ اٰیَۃٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡا بِہَا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡکَ یُجَادِلُوۡنَکَ یَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ
তাদের মধ্যে কতক লোক এমন, যারা তোমার কথা কান পেতে শোনে, (কিন্তু সে শোনাটা যেহেতু সত্য-সন্ধানের জন্য নয়; বরং নিজেদের জেদ ধরে রাখার লক্ষ্যে হয়ে থাকে, তাই) আমি তাদের অন্তরে পর্দা ফেলে দিয়েছি। ফলে তারা তা বোঝে না; তাদের কানে বধিরতা সৃষ্টি করে দিয়েছি এবং (এক-এক করে) সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেও তারা ঈমান আনবে না। এমনকি তারা যখন বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য তোমার কাছে আসে তখন কাফেরগণ বলে, এটা (কুরআন) পূর্ববর্তী লোকদের উপাখ্যান ছাড়া কিছুই নয়।
وَہُمۡ یَنۡہَوۡنَ عَنۡہُ وَیَنۡـَٔوۡنَ عَنۡہُ ۚ وَاِنۡ یُّہۡلِکُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡفُسَہُمۡ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ
তারা (অন্যকেও) এর (অর্থাৎ কুরআনের) থেকে বিরত রাখে এবং নিজেরাও এর থেকে দূরে থাকে এবং (এভাবে) তারা নিজেরা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করছে না। কিন্তু তারা (তা) উপলব্ধি করে না।
وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ وُقِفُوۡا عَلَی النَّارِ فَقَالُوۡا یٰلَیۡتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُکَذِّبَ بِاٰیٰتِ رَبِّنَا وَنَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
এবং (সেটা বড় ভয়ানক দৃশ্য হবে) যদি তুমি সেই সময় দেখতে পাও, যখন তাদেরকে জাহান্নামের পাশে দাঁড় করানো হবে এবং তারা বলবে, হায়! আমাদেরকে যদি (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠানো হত, তবে আমরা এবার আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করতাম না এবং আমরা মুমিনদের মধ্যে গণ্য হতাম।
بَلۡ بَدَا لَہُمۡ مَّا کَانُوۡا یُخۡفُوۡنَ مِنۡ قَبۡلُ ؕ وَلَوۡ رُدُّوۡا لَعَادُوۡا لِمَا نُہُوۡا عَنۡہُ وَاِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ
(অথচ তাদের এ আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হবে না), বরং পূর্বে তারা যা গোপন করত, তা তাদের সামনে প্রকাশ পেয়ে গেছে (তাই নিরুপায় হয়ে তারা এ দাবী করবে, নচেৎ) সত্যিই যদি তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়, তবে পুনরায় তারা সে সবই করবে, যা থেকে তাদেরকে বারণ করা হয়েছে। নিশ্চয়ই তারা ঘোর মিথ্যাবাদী।
وَقَالُوۡۤا اِنۡ ہِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنۡیَا وَمَا نَحۡنُ بِمَبۡعُوۡثِیۡنَ
তারা বলে, যা-কিছু আছে তা কেবল আমাদের এই পার্থিব জীবনই। (মৃত্যুর পর) আমরা পুনর্জীবিত হওয়ারই নই।
وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ وُقِفُوۡا عَلٰی رَبِّہِمۡ ؕ قَالَ اَلَیۡسَ ہٰذَا بِالۡحَقِّ ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَرَبِّنَا ؕ قَالَ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ ٪
তুমি যদি সেই সময় দেখতে পাও, যখন তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে। তিনি বলবেন, এটা (অর্থাৎ এই দ্বিতীয় জীবন) কি সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই, আল্লাহ বলবেন, তবে তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর। যেহেতু তোমরা কুফর করতে।
قَدۡ خَسِرَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِلِقَآءِ اللّٰہِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتۡہُمُ السَّاعَۃُ بَغۡتَۃً قَالُوۡا یٰحَسۡرَتَنَا عَلٰی مَا فَرَّطۡنَا فِیۡہَا ۙ وَہُمۡ یَحۡمِلُوۡنَ اَوۡزَارَہُمۡ عَلٰی ظُہُوۡرِہِمۡ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوۡنَ
যারা আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়াকে অস্বীকার করেছে, নিশ্চয়ই তারা অতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশেষে কিয়ামত যখন অকস্মাৎ তাদের সামনে এসে পড়বে তখন তারা বলবে, হায় আফসোস! আমরা এ (কিয়ামত) সম্পর্কে বড় অবহেলা করেছি এবং তারা (তখন) তাদের পিঠে নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে। সাবধান! তারা যা বহন করবে তা অতি নিকৃষ্ট।
وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا لَعِبٌ وَّلَہۡوٌ ؕ وَلَلدَّارُ الۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لِّلَّذِیۡنَ یَتَّقُوۡنَ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ
পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক ছাড়া কিছু নয়। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে আখিরাতের নিবাসই তাদের জন্য শ্রেয়। (এতটুকু কথাও কি) তোমরা বুঝতে পার না?
قَدۡ نَعۡلَمُ اِنَّہٗ لَیَحۡزُنُکَ الَّذِیۡ یَقُوۡلُوۡنَ فَاِنَّہُمۡ لَا یُکَذِّبُوۡنَکَ وَلٰکِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ یَجۡحَدُوۡنَ
(হে রাসূল!) আমি ভালো করেই জানি, তারা যা বলে তাতে তোমার কষ্ট হয়। কেননা তারা আসলে তোমাকে মিথ্যাবাদী বলছে না; বরং জালিমগণ আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করছে।
وَلَقَدۡ کُذِّبَتۡ رُسُلٌ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَصَبَرُوۡا عَلٰی مَا کُذِّبُوۡا وَاُوۡذُوۡا حَتّٰۤی اَتٰہُمۡ نَصۡرُنَا ۚ وَلَا مُبَدِّلَ لِکَلِمٰتِ اللّٰہِ ۚ وَلَقَدۡ جَآءَکَ مِنۡ نَّبَاِی الۡمُرۡسَلِیۡنَ
বস্তুত তোমার পূর্বে বহু রাসূলকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে যে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে ও কষ্ট দান করা হয়েছে, তাতে তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল, যে পর্যন্ত না তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছেছে। এমন কেউ নেই, যে আল্লাহর কথা পরিবর্তন করতে পারে। (পূর্ববর্তী) রাসূলগণের কিছু ঘটনা আপনার কাছে তো পৌঁছেছেই।
وَاِنۡ کَانَ کَبُرَ عَلَیۡکَ اِعۡرَاضُہُمۡ فَاِنِ اسۡتَطَعۡتَ اَنۡ تَبۡتَغِیَ نَفَقًا فِی الۡاَرۡضِ اَوۡ سُلَّمًا فِی السَّمَآءِ فَتَاۡتِیَہُمۡ بِاٰیَۃٍ ؕ وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَجَمَعَہُمۡ عَلَی الۡہُدٰی فَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡجٰہِلِیۡنَ
যদি তাদের উপেক্ষা তোমার কাছে বেশি পীড়াদায়ক হয়, তবে পারলে তুমি ভূগর্ভে (যাওয়ার জন্য) কোনও সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে (ওঠার জন্য) কোনও সিঁড়ি সন্ধান কর, অতঃপর তাদের কাছে (তাদের ফরমায়েশী) কোন নিদর্শন নিয়ে এসো। আল্লাহ চাইলে তাদের সকলকে হিদায়াতের উপর একত্র করতেন। সুতরাং তুমি কিছুতেই অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
اِنَّمَا یَسۡتَجِیۡبُ الَّذِیۡنَ یَسۡمَعُوۡنَ ؕؔ وَالۡمَوۡتٰی یَبۡعَثُہُمُ اللّٰہُ ثُمَّ اِلَیۡہِ یُرۡجَعُوۡنَ
কথা তো কেবল তারাই মানতে পারে, যারা (সত্যের আকাক্সক্ষী হয়ে) শোনে। আর মৃতদের বিষয়টা এই যে, আল্লাহই তাদেরকে কবর থেকে উঠাবেন, অতঃপর তাঁরই কাছে তারা প্রত্যানীত হবে।
وَقَالُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ قُلۡ اِنَّ اللّٰہَ قَادِرٌ عَلٰۤی اَنۡ یُّنَزِّلَ اٰیَۃً وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ
তারা বলে, (ইনি যদি নবী হন, তবে) তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোনও নিদর্শন অবতীর্ণ করা হল না কেন? তুমি (তাদেরকে) বল, নিশ্চয়ই আল্লাহ যে কোনও নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম, কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক (এর পরিণাম) জানে না।
وَمَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا طٰٓئِرٍ یَّطِیۡرُ بِجَنَاحَیۡہِ اِلَّاۤ اُمَمٌ اَمۡثَالُکُمۡ ؕ مَا فَرَّطۡنَا فِی الۡکِتٰبِ مِنۡ شَیۡءٍ ثُمَّ اِلٰی رَبِّہِمۡ یُحۡشَرُوۡنَ
ভূপৃষ্ঠে যত জীব বিচরণ করে, যত পাখি তাদের ডানার সাহায্যে উড়ে, তারা সকলে তোমাদেরই মত সৃষ্টির বিভিন্ন প্রকার। আমি কিতাব (লাওহে মাহফুজ)-এ কিছুমাত্র ত্রুটি রাখিনি। অতঃপর তাদের সকলকে তাদের প্রতিপালকের কাছে একত্র করা হবে।
وَالَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا صُمٌّ وَّبُکۡمٌ فِی الظُّلُمٰتِ ؕ مَنۡ یَّشَاِ اللّٰہُ یُضۡلِلۡہُ ؕ وَمَنۡ یَّشَاۡ یَجۡعَلۡہُ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ
যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, তারা অন্ধকারে (উদ্ভ্রান্ত থেকে) বধির ও মূক হয়ে গেছে। আল্লাহ যাকে চান তাকে (তার হঠকারিতার কারণে) গোমরাহীতে নিক্ষেপ করেন আর যাকে চান তাকে সরল পথে স্থাপিত করেন।
قُلۡ اَرَءَیۡتَکُمۡ اِنۡ اَتٰىکُمۡ عَذَابُ اللّٰہِ اَوۡ اَتَتۡکُمُ السَّاعَۃُ اَغَیۡرَ اللّٰہِ تَدۡعُوۡنَ ۚ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
(কাফেরদেরকে) বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে বল দেখি, তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আপতিত হলে অথবা তোমাদের নিকট কিয়ামত উপস্থিত হলে তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকবে?
بَلۡ اِیَّاہُ تَدۡعُوۡنَ فَیَکۡشِفُ مَا تَدۡعُوۡنَ اِلَیۡہِ اِنۡ شَآءَ وَتَنۡسَوۡنَ مَا تُشۡرِکُوۡنَ ٪
বরং তাকেই ডাকবে। অতঃপর যে দুর্দশার জন্য তাকে ডাক, তিনি চাইলে তা দূর করবেন; আর যাদেরকে (দেবতাদেরকে) তোমরা (আল্লাহর) শরীক সাব্যস্ত করছ, (তখন) তাদেরকে ভুলে যাবে।
وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَاَخَذۡنٰہُمۡ بِالۡبَاۡسَآءِ وَالضَّرَّآءِ لَعَلَّہُمۡ یَتَضَرَّعُوۡنَ
(হে নবী!) তোমার পূর্বেও বহু জাতির নিকট আমি রাসূল পাঠিয়েছি। অতঃপর আমি (তাদের অবাধ্যতার কারণে) তাদেরকে অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত করেছি, যাতে তারা অনুনয়-বিনয় করে।
فَلَوۡلَاۤ اِذۡ جَآءَہُمۡ بَاۡسُنَا تَضَرَّعُوۡا وَلٰکِنۡ قَسَتۡ قُلُوۡبُہُمۡ وَزَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার (পক্ষ হতে) সংকট আসল, তখন তারা কেন অনুনয়-বিনয় করল না? বরং তাদের অন্তর আরও কঠিন হয়ে গেল এবং তারা যা করছিল, শয়তান তাকে তাদের কাছে শোভনীয় করে দিল।
فَلَمَّا نَسُوۡا مَا ذُکِّرُوۡا بِہٖ فَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ اَبۡوَابَ کُلِّ شَیۡءٍ ؕ حَتّٰۤی اِذَا فَرِحُوۡا بِمَاۤ اُوۡتُوۡۤا اَخَذۡنٰہُمۡ بَغۡتَۃً فَاِذَا ہُمۡ مُّبۡلِسُوۡنَ
তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য সমস্ত কিছুর দুয়ার খুলে দিলাম। অবশেষে তাদেরকে যা দেওয়া হয়েছিল যখন তাতে তারা উল্লসিত হল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে ধরলাম। ফলে তারা সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে গেল।
فَقُطِعَ دَابِرُ الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ؕ وَالۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ
এভাবে যারা জুলুম করেছিল তাদের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَخَذَ اللّٰہُ سَمۡعَکُمۡ وَاَبۡصَارَکُمۡ وَخَتَمَ عَلٰی قُلُوۡبِکُمۡ مَّنۡ اِلٰہٌ غَیۡرُ اللّٰہِ یَاۡتِیۡکُمۡ بِہٖ ؕ اُنۡظُرۡ کَیۡفَ نُصَرِّفُ الۡاٰیٰتِ ثُمَّ ہُمۡ یَصۡدِفُوۡنَ
(হে নবী! তাদেরকে) বল, তোমরা বল তো, আল্লাহ যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি এবং তোমাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে মোহর করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া কোন্ মাবুদ আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো ফিরিয়ে দেবে? দেখ, আমি কিভাবে বিভিন্ন পন্থায় নিদর্শনাবলী বিবৃত করি। তা সত্ত্বেও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
قُلۡ اَرَءَیۡتَکُمۡ اِنۡ اَتٰىکُمۡ عَذَابُ اللّٰہِ بَغۡتَۃً اَوۡ جَہۡرَۃً ہَلۡ یُہۡلَکُ اِلَّا الۡقَوۡمُ الظّٰلِمُوۡنَ
বল, তোমরা বল তো, আল্লাহর শাস্তি যদি তোমাদের উপর অকস্মাৎ এসে পড়ে অথবা ঘোষণা দিয়ে, (উভয় অবস্থায়) জালিমদের ছাড়া অন্য কাউকে ধ্বংস করা হবে কি?
وَمَا نُرۡسِلُ الۡمُرۡسَلِیۡنَ اِلَّا مُبَشِّرِیۡنَ وَمُنۡذِرِیۡنَ ۚ فَمَنۡ اٰمَنَ وَاَصۡلَحَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ
আমি রাসূলগণকে তো কেবল (সৎ কর্মের ক্ষেত্রে পুরস্কারের) সুসংবাদদাতা এবং (অবাধ্যতার ক্ষেত্রে আল্লাহর আযাব সম্পর্কে) ভীতি প্রদর্শনকারীরূপেই পাঠিয়ে থাকি। সুতরাং যারা ঈমান আনে ও নিজেকে সংশোধন করে, তাদের কোন ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
وَالَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَمَسُّہُمُ الۡعَذَابُ بِمَا کَانُوۡا یَفۡسُقُوۡنَ
আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে, তাদের নিরবচ্ছিন্ন অবাধ্যতার কারণে তাদের উপর অবশ্যই শাস্তি আপতিত হবে।
قُلۡ لَّاۤ اَقُوۡلُ لَکُمۡ عِنۡدِیۡ خَزَآئِنُ اللّٰہِ وَلَاۤ اَعۡلَمُ الۡغَیۡبَ وَلَاۤ اَقُوۡلُ لَکُمۡ اِنِّیۡ مَلَکٌ ۚ اِنۡ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ ؕ قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ؕ اَفَلَا تَتَفَکَّرُوۡنَ ٪
(হে নবী! তাদেরকে) বল, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন ভাণ্ডার আছে। অদৃশ্য সম্পর্কেও আমি (পরিপূর্ণ) জ্ঞান রাখি না এবং আমি তোমাদেরকে একথাও বলি না যে, আমি ফিরিশতা। আমি তো কেবল সেই ওহীরই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি অবতীর্ণ হয়। বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না?
وَاَنۡذِرۡ بِہِ الَّذِیۡنَ یَخَافُوۡنَ اَنۡ یُّحۡشَرُوۡۤا اِلٰی رَبِّہِمۡ لَیۡسَ لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ وَلِیٌّ وَّلَا شَفِیۡعٌ لَّعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ
এবং (হে নবী!) তুমি এই ওহীর দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করে দাও, যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের নিকট এমন অবস্থায় সমবেত করা হবে যে, তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক থাকবে না এবং না কোনও সুপারিশকারী, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।
وَلَا تَطۡرُدِ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَدٰوۃِ وَالۡعَشِیِّ یُرِیۡدُوۡنَ وَجۡہَہٗ ؕ مَا عَلَیۡکَ مِنۡ حِسَابِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ وَّمَا مِنۡ حِسَابِکَ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَتَطۡرُدَہُمۡ فَتَکُوۡنَ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ
যারা তাদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সকাল ও সন্ধ্যায় তাকে ডাকে, তাদেরকে তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না। তাদের হিসাব(-এর অন্তর্ভুক্ত কর্মসমূহ) থেকে কোনওটির দায় তোমার উপর নয় এবং তোমার হিসাব (-এর অন্তর্ভুক্ত কর্মসমূহ) থেকে কোনওটিরও দায় তাদের উপর নয়, যে কারণে তুমি তাদেরকে বের করে দেবে এবং জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
وَکَذٰلِکَ فَتَنَّا بَعۡضَہُمۡ بِبَعۡضٍ لِّیَقُوۡلُوۡۤا اَہٰۤؤُلَآءِ مَنَّ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡۢ بَیۡنِنَا ؕ اَلَیۡسَ اللّٰہُ بِاَعۡلَمَ بِالشّٰکِرِیۡنَ
এভাবেই আমি তাদের কতক লোক দ্বারা কতককে পরীক্ষায় ফেলেছি, যাতে তারা (তাদের সম্পর্কে) বলে, এরাই কি সেই লোক, আমাদের সকলকে রেখে আল্লাহ যাদেরকে অনুগ্রহ করার জন্য বেছে নিয়েছেন? (যে সকল কাফের এ কথা বলছে, তাদের ধারণায়) আল্লাহ কি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদের সম্পর্কে (অন্যদের থেকে) বেশি জানেন না?
وَاِذَا جَآءَکَ الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِنَا فَقُلۡ سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ کَتَبَ رَبُّکُمۡ عَلٰی نَفۡسِہِ الرَّحۡمَۃَ ۙ اَنَّہٗ مَنۡ عَمِلَ مِنۡکُمۡ سُوۡٓءًۢ ابِجَہَالَۃٍ ثُمَّ تَابَ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ وَاَصۡلَحَ فَاَنَّہٗ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান রাখে, তারা যখন তোমার কাছে আসে, (তখন তাদেরকে) বল, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের প্রতিপালক নিজের উপর রহমতকে অবধারিত করে নিয়েছেন; তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অজ্ঞতাবশত কোনও মন্দ কাজ করে, তারপর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, তবে আল্লাহ তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَکَذٰلِکَ نُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ وَلِتَسۡتَبِیۡنَ سَبِیۡلُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ٪
এভাবে আমি নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বর্ণনা করি (যাতে সরল পথও স্পষ্ট হয়ে যায়) এবং এতে অপরাধীদের পথও পরিষ্কার হয়ে যায়।
قُلۡ اِنِّیۡ نُہِیۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ قُلۡ لَّاۤ اَتَّبِعُ اَہۡوَآءَکُمۡ ۙ قَدۡ ضَلَلۡتُ اِذًا وَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُہۡتَدِیۡنَ
(হে নবী! তাদেরকে) বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে (মিথ্যা উপাস্যদেরকে) ডাক, আমাকে তাদের ইবাদত করতে নিষেধ করা হয়েছে। বল, আমি তোমাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করতে পারি না। করলে আমি বিপথগামী হয়ে যাব এবং আমি সৎপথপ্রাপ্তদের মধ্যে গণ্য হব না।
قُلۡ اِنِّیۡ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَکَذَّبۡتُمۡ بِہٖ ؕ مَا عِنۡدِیۡ مَا تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ بِہٖ ؕ اِنِ الۡحُکۡمُ اِلَّا لِلّٰہِ ؕ یَقُصُّ الۡحَقَّ وَہُوَ خَیۡرُ الۡفٰصِلِیۡنَ
বল, আমি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি, অথচ তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছ। তোমরা যা তাড়াতাড়ি চাচ্ছ, তা আমার কাছে নেই। হুকুম আল্লাহ ছাড়া আর কারও চলে না। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী।
قُلۡ لَّوۡ اَنَّ عِنۡدِیۡ مَا تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ بِہٖ لَقُضِیَ الۡاَمۡرُ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِالظّٰلِمِیۡنَ
বল, তোমরা যে জিনিস সত্বর চাচ্ছ তা যদি আমার কাছে থাকত, তবে আমার ও তোমাদের মধ্যে ফায়সালা হয়ে যেত। আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
وَعِنۡدَہٗ مَفَاتِحُ الۡغَیۡبِ لَا یَعۡلَمُہَاۤ اِلَّا ہُوَ ؕ وَیَعۡلَمُ مَا فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ ؕ وَمَا تَسۡقُطُ مِنۡ وَّرَقَۃٍ اِلَّا یَعۡلَمُہَا وَلَا حَبَّۃٍ فِیۡ ظُلُمٰتِ الۡاَرۡضِ وَلَا رَطۡبٍ وَّلَا یَابِسٍ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ
আর তাঁরই কাছে আছে অদৃশ্যের কুঞ্জি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা-কিছু আছে, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত। (কোনও গাছের) এমন কোনও পাতা ঝরে না, যে সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত নন। মাটির অন্ধকারে কোনও শস্যদানা অথবা আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কোনও জিনিস নেই যা এক উন্মুক্ত কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।
وَہُوَ الَّذِیۡ یَتَوَفّٰىکُمۡ بِالَّیۡلِ وَیَعۡلَمُ مَا جَرَحۡتُمۡ بِالنَّہَارِ ثُمَّ یَبۡعَثُکُمۡ فِیۡہِ لِیُقۡضٰۤی اَجَلٌ مُّسَمًّی ۚ ثُمَّ اِلَیۡہِ مَرۡجِعُکُمۡ ثُمَّ یُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٪
তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাতের বেলা (ঘুমের ভেতর) তোমাদের আত্মা (মাত্রা বিশেষে) কব্জা করে নেন এবং দিনের বেলা তোমরা যা-কিছু কর তা তিনি জানেন। তারপর (নতুন) দিনে তোমাদেরকে নতুন জীবন দান করেন, যাতে (তোমাদের জীবনের) নির্ধারিত কাল পূর্ণ হতে পারে। অতঃপর তার দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তোমরা যা করতে তা তোমাদেরকে অবহিত করবেন।
وَہُوَ الۡقَاہِرُ فَوۡقَ عِبَادِہٖ وَیُرۡسِلُ عَلَیۡکُمۡ حَفَظَۃً ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ تَوَفَّتۡہُ رُسُلُنَا وَہُمۡ لَا یُفَرِّطُوۡنَ
তিনিই নিজ বান্দাদের উপর পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখেন এবং তোমাদের জন্য রক্ষক (ফিরিশতা) প্রেরণ করেন। অবশেষে যখন তোমাদের কারও মৃত্যুকাল এসে পড়ে, তখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ তাকে পরিপূর্ণরূপে উসুল করে নেয় এবং তারা বিন্দুমাত্র ত্রুটি করে না।
ثُمَّ رُدُّوۡۤا اِلَی اللّٰہِ مَوۡلٰىہُمُ الۡحَقِّ ؕ اَلَا لَہُ الۡحُکۡمُ ۟ وَہُوَ اَسۡرَعُ الۡحٰسِبِیۡنَ
অতঃপর তাদের সকলকে তাদের প্রকৃত মনিব আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। স্মরণ রেখ, হুকুম কেবল তারই চলে। তিনি সর্বাপেক্ষা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
قُلۡ مَنۡ یُّنَجِّیۡکُمۡ مِّنۡ ظُلُمٰتِ الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ تَدۡعُوۡنَہٗ تَضَرُّعًا وَّخُفۡیَۃً ۚ لَئِنۡ اَنۡجٰىنَا مِنۡ ہٰذِہٖ لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الشّٰکِرِیۡنَ
বল, স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে সেই সময় কে তোমাদেরকে রক্ষা করেন, যখন তোমরা মিনতি সহকারে ও চুপিসারে তাকেই ডাক (এবং বল যে,) তিনি যদি এই মসিবত থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করেন, তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব?
قُلِ اللّٰہُ یُنَجِّیۡکُمۡ مِّنۡہَا وَمِنۡ کُلِّ کَرۡبٍ ثُمَّ اَنۡتُمۡ تُشۡرِکُوۡنَ
বল, আল্লাহই তোমাদেরকে রক্ষা করেন এই মসিবত থেকে এবং সমস্ত দুঃখ-কষ্ট হতে। তা সত্ত্বেও তোমরা শিরক কর।
قُلۡ ہُوَ الۡقَادِرُ عَلٰۤی اَنۡ یَّبۡعَثَ عَلَیۡکُمۡ عَذَابًا مِّنۡ فَوۡقِکُمۡ اَوۡ مِنۡ تَحۡتِ اَرۡجُلِکُمۡ اَوۡ یَلۡبِسَکُمۡ شِیَعًا وَّیُذِیۡقَ بَعۡضَکُمۡ بَاۡسَ بَعۡضٍ ؕ اُنۡظُرۡ کَیۡفَ نُصَرِّفُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَفۡقَہُوۡنَ
বল, তিনি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সক্ষম যে, তোমাদের প্রতি কোনও শাস্তি পাঠাবেন তোমাদের উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে এক দলকে পরস্পরের মুখোমুখি করে দেবেন এবং এক দলকে অপর দলের শক্তির স্বাদ গ্রহণ করাবেন। দেখ, আমি কিভাবে বিভিন্ন পন্থায় স্বীয় নিদর্শনাবলী বিবৃত করছি, যাতে তারা বুঝতে সক্ষম হয়।
وَکَذَّبَ بِہٖ قَوۡمُکَ وَہُوَ الۡحَقُّ ؕ قُلۡ لَّسۡتُ عَلَیۡکُمۡ بِوَکِیۡلٍ ؕ
(হে নবী!) তোমার সম্প্রদায় একে (কুরআনকে) মিথ্যা বলেছে, অথচ এটা সম্পূর্ণ সত্য। তুমি বলে দাও, আমি তোমাদের কর্মবিধায়ক নই।
لِکُلِّ نَبَاٍ مُّسۡتَقَرٌّ ۫ وَّسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ
প্রত্যেক ঘটনার একটা নির্ধারিত সময় আছে এবং শীঘ্রই তোমরা (সব) জানতে পারবে।
وَاِذَا رَاَیۡتَ الَّذِیۡنَ یَخُوۡضُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا فَاَعۡرِضۡ عَنۡہُمۡ حَتّٰی یَخُوۡضُوۡا فِیۡ حَدِیۡثٍ غَیۡرِہٖ ؕ وَاِمَّا یُنۡسِیَنَّکَ الشَّیۡطٰنُ فَلَا تَقۡعُدۡ بَعۡدَ الذِّکۡرٰی مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ
যারা আমার আয়াতের সমালোচনায় রত থাকে, তাদেরকে যখন দেখবে তখন তাদের থেকে দূরে সরে যাবে, যতক্ষণ না তারা অন্য বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়। যদি শয়তান কখনও তোমাকে (এটা) ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর জালিম লোকদের সাথে বসবে না।
وَمَا عَلَی الَّذِیۡنَ یَتَّقُوۡنَ مِنۡ حِسَابِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ وَّلٰکِنۡ ذِکۡرٰی لَعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ
তাদের হিসাব (-এর অন্তর্ভুক্ত কর্মসমূহ) হতে কোন কিছুর দায় মুত্তাকীদের উপর বর্তায় না। অবশ্য উপদেশ দেওয়া (তাদের কাজ)। হয়ত তারাও (এরূপ বিষয় থেকে) সাবধানতা অবলম্বন করবে।
وَذَرِ الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا دِیۡنَہُمۡ لَعِبًا وَّلَہۡوًا وَّغَرَّتۡہُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا وَذَکِّرۡ بِہٖۤ اَنۡ تُبۡسَلَ نَفۡسٌۢ بِمَا کَسَبَتۡ ٭ۖ لَیۡسَ لَہَا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلِیٌّ وَّلَا شَفِیۡعٌ ۚ وَاِنۡ تَعۡدِلۡ کُلَّ عَدۡلٍ لَّا یُؤۡخَذۡ مِنۡہَا ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اُبۡسِلُوۡا بِمَا کَسَبُوۡا ۚ لَہُمۡ شَرَابٌ مِّنۡ حَمِیۡمٍ وَّعَذَابٌ اَلِیۡمٌۢ بِمَا کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ ٪
যারা নিজেদের দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলেছে, তুমি তাদেরকে পরিত্যাগ কর এবং এর (অর্থাৎ কুরআনের) মাধ্যমে (মানুষকে) উপদেশ দিতে থাক, যাতে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে গ্রেফতার না হয় যখন আল্লাহ (-এর শাস্তি) হতে বাঁচানোর জন্য তার কোনও অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকবে না। আর সে যদি (নিজ মুক্তির জন্য) সব রকমের মুক্তিপণও পেশ করতে চায়, তবে তার পক্ষ হতে তা গৃহীত হবে না। এরাই (অর্থাৎ যারা দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে, তারা) নিজেদের কৃতকর্মের কারণে ধরা পড়ে গেছে। কুফরে রত থাকার কারণে তাদের জন্য রয়েছে অতি গরম পানীয় ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
قُلۡ اَنَدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُنَا وَلَا یَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلٰۤی اَعۡقَابِنَا بَعۡدَ اِذۡ ہَدٰىنَا اللّٰہُ کَالَّذِی اسۡتَہۡوَتۡہُ الشَّیٰطِیۡنُ فِی الۡاَرۡضِ حَیۡرَانَ ۪ لَہٗۤ اَصۡحٰبٌ یَّدۡعُوۡنَہٗۤ اِلَی الۡہُدَی ائۡتِنَا ؕ قُلۡ اِنَّ ہُدَی اللّٰہِ ہُوَ الۡہُدٰی ؕ وَاُمِرۡنَا لِنُسۡلِمَ لِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ
(হে নবী! তাদেরকে) বল, আমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে এমন সব জিনিসের ইবাদত করব, যারা আমাদের কোনও উপকারও করতে পারে না এবং কোনও অপকারও করতে পারে না? আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দেওয়ার পর আমরা কি সেই ব্যক্তির মত উল্টো দিকে ফিরে যাব, যাকে শয়তান ধোঁকা দিয়ে মরুভূমিতে নিয়ে গেছে, ফলে সে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়? তার কিছু সঙ্গী আছে, যারা তাকে হিদায়াতের দিকে ডাক দেয় যে, আমাদের কাছে এসো। বল, আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াতই সত্যিকারের হিদায়াত। আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে, যেন আমরা রাব্বুল আলামীনের সামনে নতি স্বীকার করি।
وَاَنۡ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاتَّقُوۡہُ ؕ وَہُوَ الَّذِیۡۤ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ
এবং (এই হুকুমও দেওয়া হয়েছে যে,) সালাত কায়েম কর এবং তাকে ভয় করে চল। তিনিই সেই সত্তা, যার কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।
وَہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ وَیَوۡمَ یَقُوۡلُ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ۬ؕ قَوۡلُہُ الۡحَقُّ ؕ وَلَہُ الۡمُلۡکُ یَوۡمَ یُنۡفَخُ فِی الصُّوۡرِ ؕ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ
তিনিই সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন যথোচিত এবং যে দিন তিনি (কিয়ামতকে) বলবেন, ‘হয়ে যাও’, তা হয়ে যাবে। তার কথা সত্যই। যে দিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, সে দিন রাজত্ব হবে তাঁরই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্য সব কিছুই জানেন। তিনিই মহা প্রাজ্ঞ ও সর্ব বিষয়ে অবহিত।
وَاِذۡ قَالَ اِبۡرٰہِیۡمُ لِاَبِیۡہِ اٰزَرَ اَتَتَّخِذُ اَصۡنَامًا اٰلِہَۃً ۚ اِنِّیۡۤ اَرٰىکَ وَقَوۡمَکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ
এবং (সেই সময়ের বৃত্তান্ত শোন) যখন ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বলেছিল, আপনি কি মূর্তিদেরকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছেন? আমি তো দেখছি, আপনি ও আপনার সম্প্রদায় স্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত রয়েছেন।
وَکَذٰلِکَ نُرِیۡۤ اِبۡرٰہِیۡمَ مَلَکُوۡتَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلِیَکُوۡنَ مِنَ الۡمُوۡقِنِیۡنَ
আর এভাবেই আমি ইবরাহীমকে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব প্রদর্শন করাই। আর উদ্দেশ্য ছিল, সে যেন পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
فَلَمَّا جَنَّ عَلَیۡہِ الَّیۡلُ رَاٰ کَوۡکَبًا ۚ قَالَ ہٰذَا رَبِّیۡ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَ قَالَ لَاۤ اُحِبُّ الۡاٰفِلِیۡنَ
সুতরাং যখন তার উপর রাত ছেয়ে গেল, তখন সে একটি নক্ষত্র দেখে বলল, ‘এই আমার প্রতিপালক’। অতঃপর সেটি যখন ডুবে গেল, সে বলল, যা কিছু ডুবে যায় আমি তা পছন্দ করি না।
فَلَمَّا رَاَ الۡقَمَرَ بَازِغًا قَالَ ہٰذَا رَبِّیۡ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَ قَالَ لَئِنۡ لَّمۡ یَہۡدِنِیۡ رَبِّیۡ لَاَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡقَوۡمِ الضَّآلِّیۡنَ
অতঃপর যখন সে চাঁদকে উজ্জ্বলরূপে উদিত হতে দেখল তখন বলল, ‘এই আমার রব্ব’। কিন্তু যখন সেটিও ডুবে গেল, তখন বলতে লাগল, আমার রব্ব আমাকে হিদায়াত না দিলে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্ট লোকদের দলভুক্ত হয়ে যাব।
فَلَمَّا رَاَ الشَّمۡسَ بَازِغَۃً قَالَ ہٰذَا رَبِّیۡ ہٰذَاۤ اَکۡبَرُ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَتۡ قَالَ یٰقَوۡمِ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُشۡرِکُوۡنَ
তারপর যখন সে সূর্যকে সমুজ্জ্বলরূপে উদিত হতে দেখল, তখন বলল, এই আমার রব্ব। এটি বেশি বড়। তারপর যখন সেটিও ডুবে গেল, তখন সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা যে সকল জিনিসকে (আল্লাহর সঙ্গে) শরীক কর, তাদের সাথে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।
اِنِّیۡ وَجَّہۡتُ وَجۡہِیَ لِلَّذِیۡ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ حَنِیۡفًا وَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ۚ
আমি সম্পূর্ণ একনিষ্ঠভাবে সেই সত্তার দিকে নিজের মুখ ফেরালাম, যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।
وَحَآجَّہٗ قَوۡمُہٗ ؕ قَالَ اَتُحَآجُّوۡٓنِّیۡ فِی اللّٰہِ وَقَدۡ ہَدٰىنِ ؕ وَلَاۤ اَخَافُ مَا تُشۡرِکُوۡنَ بِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ رَبِّیۡ شَیۡئًا ؕ وَسِعَ رَبِّیۡ کُلَّ شَیۡءٍ عِلۡمًا ؕ اَفَلَا تَتَذَکَّرُوۡنَ
এবং (তারপর এই ঘটল যে,) তার সম্প্রদায় তার সাথে হুজ্জত শুরু করে দিল। ইবরাহীম (তাদেরকে) বলল, তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে আমার সঙ্গে হুজ্জত করছ, অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দান করেছেন? তোমরা যে সকল জিনিসকে (আল্লাহর) শরীক সাব্যস্ত করছ, (তারা আমার কোন ক্ষতি সাধন করার ক্ষমতা রাখে না। তাই) আমি তাদেরকে ভয় করি না। অবশ্য আমার প্রতিপালক যদি (আমার) কোন (ক্ষতি সাধন) করতে চান (তবে সর্বাবস্থায়ই তা সাধিত হবে)। আমার প্রতিপালকের জ্ঞান সবকিছু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এতদসত্ত্বেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
وَکَیۡفَ اَخَافُ مَاۤ اَشۡرَکۡتُمۡ وَلَا تَخَافُوۡنَ اَنَّکُمۡ اَشۡرَکۡتُمۡ بِاللّٰہِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِہٖ عَلَیۡکُمۡ سُلۡطٰنًا ؕ فَاَیُّ الۡفَرِیۡقَیۡنِ اَحَقُّ بِالۡاَمۡنِ ۚ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ۘ
তোমরা যে সকল জিনিসকে (আল্লাহর) শরীক বানিয়ে নিয়েছ, আমি কিভাবেই বা তাদেরকে ভয় করতে পারি, যখন তোমরা ওই সকল জিনিসকে আল্লাহর শরীক বানাতে ভয় করছ না, যাদের বিষয়ে তিনি তোমাদের প্রতি কোনও প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি? সুতরাং তোমাদের কাছে যদি কিছু জ্ঞান থাকে, তবে (বল,) দুই দলের মধ্যে কোন দল নির্ভয়ে থাকার বেশি উপযুক্ত?
اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَلَمۡ یَلۡبِسُوۡۤا اِیۡمَانَہُمۡ بِظُلۡمٍ اُولٰٓئِکَ لَہُمُ الۡاَمۡنُ وَہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ ٪
(প্রকৃতপক্ষে) যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, নিরাপত্তা ও স্বস্তি তো কেবল তাদেরই অধিকার এবং তারাই সঠিক পথে পৌঁছে গেছে।
وَتِلۡکَ حُجَّتُنَاۤ اٰتَیۡنٰہَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ عَلٰی قَوۡمِہٖ ؕ نَرۡفَعُ دَرَجٰتٍ مَّنۡ نَّشَآءُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ حَکِیۡمٌ عَلِیۡمٌ
এটা ছিল আমার ফলপ্রসূ দলীল, যা আমি ইবরাহীমকে তার কওমের বিপরীতে দান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা উচ্চ মর্যাদা দান করি। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
وَوَہَبۡنَا لَہٗۤ اِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ ؕ کُلًّا ہَدَیۡنَا ۚ وَنُوۡحًا ہَدَیۡنَا مِنۡ قَبۡلُ وَمِنۡ ذُرِّیَّتِہٖ دَاوٗدَ وَسُلَیۡمٰنَ وَاَیُّوۡبَ وَیُوۡسُفَ وَمُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ؕ وَکَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ ۙ
আমি ইবরাহীমকে দান করেছিলাম ইসহাক (-এর মত পুত্র) ও ইয়াকুব (-এর মত পৌত্র)। তাদের প্রত্যেককে আমি হিদায়াত দান করেছিলাম। আর নূহকে আমি আগেই হিদায়াত দিয়েছিলাম এবং তার বংশধরদের মধ্যে দাঊদ, সুলায়মান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকেও। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
وَزَکَرِیَّا وَیَحۡیٰی وَعِیۡسٰی وَاِلۡیَاسَ ؕ کُلٌّ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ۙ
এবং যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা ও ইলিয়াসকেও (হিদায়াত দান করেছিলাম)। এরা সকলে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَالۡیَسَعَ وَیُوۡنُسَ وَلُوۡطًا ؕ وَکُلًّا فَضَّلۡنَا عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ
এবং ইসমাঈল, ইয়াসা, ইউনুস ও লুতকেও। তাদের সকলকে আমি বিশ্বের সকল মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
وَمِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَذُرِّیّٰتِہِمۡ وَاِخۡوَانِہِمۡ ۚ وَاجۡتَبَیۡنٰہُمۡ وَہَدَیۡنٰہُمۡ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ
তাদের বাপ-দাদা, সন্তানবর্গ ও তাদের ভাইদের মধ্য হতেও বহু লোককে। আমি তাদেরকে মনোনীত করেছিলাম ও তাদেরকে সরল পথ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম।
ذٰلِکَ ہُدَی اللّٰہِ یَہۡدِیۡ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ ؕ وَلَوۡ اَشۡرَکُوۡا لَحَبِطَ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
এটা আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াত, যার মাধ্যমে তিনি বান্দাদের মধ্য হতে যাকে চান সরল পথে পৌঁছিয়ে দেন। তারা যদি শিরক করত, তবে তাদের সমস্ত (সৎ) কর্ম নিষ্ফল হয়ে যেত।
اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡحُکۡمَ وَالنُّبُوَّۃَ ۚ فَاِنۡ یَّکۡفُرۡ بِہَا ہٰۤؤُلَآءِ فَقَدۡ وَکَّلۡنَا بِہَا قَوۡمًا لَّیۡسُوۡا بِہَا بِکٰفِرِیۡنَ
তারা ছিল এমন লোক, যাদেরকে আমি কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করেছিলাম। সুতরাং এসব লোক (মক্কার মুশরিকগণ) যদি এটা (নবুওয়াত) প্রত্যাখ্যান করে, তবে (তার কোনও পরওয়া করো না। কেননা) এর (অনুসরণের) জন্য আমি এমন লোক নির্দিষ্ট করেছি, যারা এর অস্বীকারকারী নয়।
اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ ہَدَی اللّٰہُ فَبِہُدٰىہُمُ اقۡتَدِہۡ ؕ قُلۡ لَّاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٰی لِلۡعٰلَمِیۡنَ ٪
(উপরে যাদের কথা উল্লেখ করা হল) তারা ছিল এমন লোক, আল্লাহ যাদেরকে (বিরুদ্ধাচারীদের আচার-আচরণে সবর করার) হিদায়াত করেছিলেন। সুতরাং (হে নবী!) তুমিও তাদের পথে চলো। (বিরুদ্ধবাদীদের) বলে দাও, আমি এর (অর্থাৎ দাওয়াতের) জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটা তো বিশ্বজগতের জন্য এক উপদেশ মাত্র।
وَمَا قَدَرُوا اللّٰہَ حَقَّ قَدۡرِہٖۤ اِذۡ قَالُوۡا مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ عَلٰی بَشَرٍ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ قُلۡ مَنۡ اَنۡزَلَ الۡکِتٰبَ الَّذِیۡ جَآءَ بِہٖ مُوۡسٰی نُوۡرًا وَّہُدًی لِّلنَّاسِ تَجۡعَلُوۡنَہٗ قَرَاطِیۡسَ تُبۡدُوۡنَہَا وَتُخۡفُوۡنَ کَثِیۡرًا ۚ وَعُلِّمۡتُمۡ مَّا لَمۡ تَعۡلَمُوۡۤا اَنۡتُمۡ وَلَاۤ اٰبَآؤُکُمۡ ؕ قُلِ اللّٰہُ ۙ ثُمَّ ذَرۡہُمۡ فِیۡ خَوۡضِہِمۡ یَلۡعَبُوۡنَ
তারা (কাফিরগণ) আল্লাহর যথার্থ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি, যখন তারা বলেছে, আল্লাহ কোনও মানুষের প্রতি কিছু নাযিল করেননি। (তাদেরকে) বল, মূসা যে কিতাব নিয়ে এসেছিল তা কে নাযিল করেছিল, যা মানুষের জন্য আলো ও হিদায়াত ছিল এবং যা তোমরা বিভিন্ন পৃষ্ঠা আকারে রেখে দিয়েছিলে, যা(-র মধ্য হতে কিছু) তোমরা প্রকাশ কর এবং যার অনেকাংশ তোমরা গোপন কর এবং (যার মাধ্যমে) তোমাদেরকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল, যা তোমরা জানতে না এবং তোমাদের বাপ-দাদাগণও নয়। (হে নবী!) তুমি নিজেই (এ প্রশ্নের উত্তরে) বলে দাও, সে কিতাব নাযিল করেছিলেন) আল্লাহ। তারপর তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা তাদের বেহুদা কথাবার্তায় লিপ্ত থেকে আনন্দ-ফূর্তি করতে থাকুক।
وَہٰذَا کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ مُبٰرَکٌ مُّصَدِّقُ الَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ وَلِتُنۡذِرَ اُمَّ الۡقُرٰی وَمَنۡ حَوۡلَہَا ؕ وَالَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَہُمۡ عَلٰی صَلَاتِہِمۡ یُحَافِظُوۡنَ
এবং এটা এক বরকতময় কিতাব, যা আমি নাযিল করেছি, যা তার পূর্ববর্তী আসমানী হিদায়াতসমূহের সমর্থক, আর যাতে তুমি এর মাধ্যমে জনপদসমূহের কেন্দ্র (মক্কা) ও তার আশপাশের লোকদেরকে সতর্ক কর। যারা আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, তারা এর প্রতিও বিশ্বাস রাখে এবং তারা তাদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে।
وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ قَالَ اُوۡحِیَ اِلَیَّ وَلَمۡ یُوۡحَ اِلَیۡہِ شَیۡءٌ وَّمَنۡ قَالَ سَاُنۡزِلُ مِثۡلَ مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ ؕ وَلَوۡ تَرٰۤی اِذِ الظّٰلِمُوۡنَ فِیۡ غَمَرٰتِ الۡمَوۡتِ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ بَاسِطُوۡۤا اَیۡدِیۡہِمۡ ۚ اَخۡرِجُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اَلۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ الۡہُوۡنِ بِمَا کُنۡتُمۡ تَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ غَیۡرَ الۡحَقِّ وَکُنۡتُمۡ عَنۡ اٰیٰتِہٖ تَسۡتَکۡبِرُوۡنَ
সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে কিংবা বলে, আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে, অথচ তার প্রতি কোনও ওহী নাযিল করা হয়নি এবং যে বলে, আল্লাহ যে কালাম নাযিল করেছেন, আমিও অনুরূপ নাযিল করব? তুমি যদি সেই সময় দেখ (তবে বড় ভয়াল দৃশ্য দেখতে পাবে) যখন জালিমগণ মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রান্ত হবে এবং ফিরিশতাগণ তাদের হাত বাড়িয়ে (বলতে থাকবে), নিজেদের প্রাণ বের কর, আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেওয়া হবে, যেহেতু তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা কথা আরোপ করতে এবং যেহেতু তোমরা তার নিদর্শনাবলীর বিপরীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে।
وَلَقَدۡ جِئۡتُمُوۡنَا فُرَادٰی کَمَا خَلَقۡنٰکُمۡ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّتَرَکۡتُمۡ مَّا خَوَّلۡنٰکُمۡ وَرَآءَ ظُہُوۡرِکُمۡ ۚ وَمَا نَرٰی مَعَکُمۡ شُفَعَآءَکُمُ الَّذِیۡنَ زَعَمۡتُمۡ اَنَّہُمۡ فِیۡکُمۡ شُرَکٰٓؤُا ؕ لَقَدۡ تَّقَطَّعَ بَیۡنَکُمۡ وَضَلَّ عَنۡکُمۡ مَّا کُنۡتُمۡ تَزۡعُمُوۡنَ ٪
(কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলবেন,) তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ অবস্থায় এসেছ, যেমন আমি প্রথমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আর আমি তোমাদেরকে যা-কিছু দান করেছিলাম, তা তোমাদের পেছনে ফেলে এসেছ। আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীগণকে দেখছি না, যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবী ছিল, তারা তোমাদের ব্যাপারে (আমার) শরীক। প্রকৃতপক্ষে তাদের সাথে তোমাদের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যাদের (অর্থাৎ যে দেবতাদের) সম্পর্কে তোমাদের ধারণা ছিল (যে, তারা তোমাদের সাহায্য করবে), তারা সকলে তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে।
اِنَّ اللّٰہَ فَالِقُ الۡحَبِّ وَالنَّوٰی ؕ یُخۡرِجُ الۡحَیَّ مِنَ الۡمَیِّتِ وَمُخۡرِجُ الۡمَیِّتِ مِنَ الۡحَیِّ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ
নিশ্চয় আল্লাহই শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী। তিনি প্রাণহীন বস্তু হতে প্রাণবান বস্তু নির্গত করেন এবং তিনিই প্রাণবান বস্তু হতে নিষ্প্রাণ বস্তুর নির্গতকারী। হে মানুষ! তিনিই আল্লাহ। সুতরাং তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
فَالِقُ الۡاِصۡبَاحِ ۚ وَجَعَلَ الَّیۡلَ سَکَنًا وَّالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ حُسۡبَانًا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ
(তিনিই) ভোরের উদঘাটক। তিনিই রাতকে বানিয়েছেন বিশ্রামের সময় এবং সূর্য ও চন্দ্রকে করেছেন এক হিসাবের অনুবর্তী। এ সমস্ত মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ সত্তার পরিকল্পনা।
وَہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ النُّجُوۡمَ لِتَہۡتَدُوۡا بِہَا فِیۡ ظُلُمٰتِ الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ ؕ قَدۡ فَصَّلۡنَا الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ
তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তার মাধ্যমে তোমরা স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ জানতে পার। আমি নিদর্শনাবলী স্পষ্ট করে দিয়েছি, সেই সকল লোকের জন্য, যারা জ্ঞানকে কাজে লাগায়।
وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ فَمُسۡتَقَرٌّ وَّمُسۡتَوۡدَعٌ ؕ قَدۡ فَصَّلۡنَا الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّفۡقَہُوۡنَ
তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের সকলকে একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর (প্রত্যেকের রয়েছে) এক অবস্থানস্থল ও এক আমানত স্থল। আমি নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করে দিয়েছি, সেই সকল লোকের জন্য, যারা বুঝ-সমঝ রাখে।
وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَخۡرَجۡنَا بِہٖ نَبَاتَ کُلِّ شَیۡءٍ فَاَخۡرَجۡنَا مِنۡہُ خَضِرًا نُّخۡرِجُ مِنۡہُ حَبًّا مُّتَرَاکِبًا ۚ وَمِنَ النَّخۡلِ مِنۡ طَلۡعِہَا قِنۡوَانٌ دَانِیَۃٌ وَّجَنّٰتٍ مِّنۡ اَعۡنَابٍ وَّالزَّیۡتُوۡنَ وَالرُّمَّانَ مُشۡتَبِہًا وَّغَیۡرَ مُتَشَابِہٍ ؕ اُنۡظُرُوۡۤا اِلٰی ثَمَرِہٖۤ اِذَاۤ اَثۡمَرَ وَیَنۡعِہٖ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکُمۡ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ
আর আল্লাহ তিনিই, যিনি (তোমাদের জন্য) আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর আমি তা দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদের চারা উদগত করেছি, তারপর তা থেকে সবুজ গাছপালা জন্মিয়েছি, যা থেকে আমি থরে থরে বিন্যস্ত শস্যদানা উৎপন্ন করি এবং খেজুর গাছের চুমরি থেকে (ফল-ভারে) ঝুলন্ত কাঁদি নির্গত করি এবং আমি আঙ্গুর বাগান উদগত করেছি এবং যায়তুন ও আনারও। তার একটি অন্যটির সদৃশ ও বিসদৃশও। যখন সে বৃক্ষ ফল দেয়, তখন তার ফলের প্রতি ও তার পাকার অবস্থার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য কর। এসবের মধ্যে সেই সকল লোকের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা ঈমান আনে।
وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ الۡجِنَّ وَخَلَقَہُمۡ وَخَرَقُوۡا لَہٗ بَنِیۡنَ وَبَنٰتٍۭ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یَصِفُوۡنَ ٪
লোকে জিনদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছে, অথচ আল্লাহই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারা অজ্ঞতাবশত তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা গড়ে নিয়েছে, অথচ তারা (আল্লাহর সম্পর্কে) যা-কিছু বলে, তিনি তা থেকে পবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বে।
بَدِیۡعُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اَنّٰی یَکُوۡنُ لَہٗ وَلَدٌ وَّلَمۡ تَکُنۡ لَّہٗ صَاحِبَۃٌ ؕ وَخَلَقَ کُلَّ شَیۡءٍ ۚ وَہُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ
(তিনি) আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। তার কোনও সন্তান হবে কি করে, যখন তার কোনও স্ত্রী নেই? তিনিই সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সকল বস্তু সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ فَاعۡبُدُوۡہُ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ وَّکِیۡلٌ
তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রতিপালক। তিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই। তিনি যাবতীয় বস্তুর স্রষ্টা। সুতরাং তাঁরই ইবাদত কর। তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।
لَا تُدۡرِکُہُ الۡاَبۡصَارُ ۫ وَہُوَ یُدۡرِکُ الۡاَبۡصَارَ ۚ وَہُوَ اللَّطِیۡفُ الۡخَبِیۡرُ
দৃষ্টিসমূহ তাঁকে ধরতে পারে না, কিন্তু দৃষ্টিসমূহ তার আয়ত্তাধীন। তাঁর সত্তা অতি সূক্ষ্ম এবং তিনি সর্ব বিষয়ে অবগত।
قَدۡ جَآءَکُمۡ بَصَآئِرُ مِنۡ رَّبِّکُمۡ ۚ فَمَنۡ اَبۡصَرَ فَلِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ عَمِیَ فَعَلَیۡہَا ؕ وَمَاۤ اَنَا عَلَیۡکُمۡ بِحَفِیۡظٍ
(হে নবী! তাদেরকে বল,) তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে জ্ঞান-বর্তিকা এসে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি চোখ খুলে দেখবে সে নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে ব্যক্তি অন্ধ হয়ে থাকবে সে নিজেরই ক্ষতি করবে। আর আমি তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বশীল নই।
وَکَذٰلِکَ نُصَرِّفُ الۡاٰیٰتِ وَلِیَقُوۡلُوۡا دَرَسۡتَ وَلِنُبَیِّنَہٗ لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ
এভাবেই আমি নিদর্শনাবলী বিভিন্ন প্রকারে বিবৃত করে থাকি, (যাতে তুমি তা মানুষের কাছে পৌঁছাও) এবং পরিশেষে তারা বলে, তুমি (কারও কাছে) শিক্ষা লাভ করেছ; আর যারা জ্ঞানকে কাজে লাগায়, তাদের জন্য আমি সত্যকে সুস্পষ্ট করে দেই।
اِتَّبِعۡ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ وَاَعۡرِضۡ عَنِ الۡمُشۡرِکِیۡنَ
(হে নবী!) তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমার প্রতি যে ওহী পাঠানো হয়েছে, তুমি তারই অনুসরণ কর। তিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই। যারা (আল্লাহর সঙ্গে) শিরক করে, তাদের অগ্রাহ্য কর।
وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَاۤ اَشۡرَکُوۡا ؕ وَمَا جَعَلۡنٰکَ عَلَیۡہِمۡ حَفِیۡظًا ۚ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِوَکِیۡلٍ
আল্লাহ চাইলে তারা শিরক করত না। আমি তোমাকে তাদের রক্ষক নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাদের (কাজ-কর্মের) যিম্মাদারও নও।
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَیَسُبُّوا اللّٰہَ عَدۡوًۢا بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ کَذٰلِکَ زَیَّنَّا لِکُلِّ اُمَّۃٍ عَمَلَہُمۡ ۪ ثُمَّ اِلٰی رَبِّہِمۡ مَّرۡجِعُہُمۡ فَیُنَبِّئُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
(হে মুসলিমগণ!) তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে (ভ্রান্ত মাবুদদেরকে) ডাকে, তোমরা তাদেরকে গালমন্দ করো না। কেননা পরিণামে তারা অজ্ঞাতবশত সীমালংঘন করে আল্লাহকেও গালমন্দ করবে। (এ দুনিয়ায় তো) আমি এভাবেই প্রত্যেক জাতির দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপকে সুশোভন করে দিয়েছি। অতঃপর তাদেরকে নিজ প্রতিপালকের কাছেই ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে তারা যা-কিছু করত সে সম্বন্ধে অবহিত করবেন।
وَاَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ لَئِنۡ جَآءَتۡہُمۡ اٰیَۃٌ لَّیُؤۡمِنُنَّ بِہَا ؕ قُلۡ اِنَّمَا الۡاٰیٰتُ عِنۡدَ اللّٰہِ وَمَا یُشۡعِرُکُمۡ ۙ اَنَّہَاۤ اِذَا جَآءَتۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ
তারা আল্লাহর নামে অতি জোরালো কসম খেয়ে বলে, তাদের কাছে যদি সত্যই কোন নিদর্শন (অর্থাৎ তাদের কাঙ্খিত মুজিযা) আসে, তবে তারা অবশ্যই তাতে ঈমান আনবে। (তাদেরকে) বলে দাও, সমস্ত নিদর্শন আল্লাহর হাতে এবং (হে মুসলিমগণ!) তোমরা কিভাবে জানবে, প্রকৃতপক্ষে তা (অর্থাৎ তাদের কাঙ্খিত মুজিযা) আসলেও তারা ঈমান আনবে না।
وَنُقَلِّبُ اَفۡـِٕدَتَہُمۡ وَاَبۡصَارَہُمۡ کَمَا لَمۡ یُؤۡمِنُوۡا بِہٖۤ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّنَذَرُہُمۡ فِیۡ طُغۡیَانِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ٪
তারা যেমন প্রথমবার এর (অর্থাৎ কুরআনের মত মুজিযার) প্রতি ঈমান আনেনি, তেমনি আমি, (তার প্রতিফলস্বরূপ) তাদের অন্তর ও দৃষ্টি অন্য দিকে ফিরিয়ে দেব এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে দেব।
وَلَوۡ اَنَّنَا نَزَّلۡنَاۤ اِلَیۡہِمُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ وَکَلَّمَہُمُ الۡمَوۡتٰی وَحَشَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ کُلَّ شَیۡءٍ قُبُلًا مَّا کَانُوۡا لِیُؤۡمِنُوۡۤا اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ یَجۡہَلُوۡنَ
আমি যদি তাদের কাছে ফিরিশতা পাঠিয়েও দিতাম এবং মৃত ব্যক্তিরা তাদের সাথে কথাও বলত এবং (তাদের ফরমায়েশী) সকল জিনিস তাদের চোখের সামনে হাজির করে দিতাম, তবুও তারা ঈমান আনবার ছিল না। অবশ্য আল্লাহ যদি চাইতেন (যে, তাদেরকে জোরপূর্বক ঈমান আনতে বাধ্য করবেন, তবে সেটা ছিল ভিন্ন কথা, কিন্তু এরূপ ঈমান কাম্য ও ধর্তব্য নয়)। কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোক অজ্ঞতাসুলভ কথা বলে।
وَکَذٰلِکَ جَعَلۡنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا شَیٰطِیۡنَ الۡاِنۡسِ وَالۡجِنِّ یُوۡحِیۡ بَعۡضُہُمۡ اِلٰی بَعۡضٍ زُخۡرُفَ الۡقَوۡلِ غُرُوۡرًا ؕ وَلَوۡ شَآءَ رَبُّکَ مَا فَعَلُوۡہُ فَذَرۡہُمۡ وَمَا یَفۡتَرُوۡنَ
এবং (তারা যেমন আমার নবীর সাথে শত্রুতা করছে) এভাবেই আমি (পূর্ববর্তী) প্রত্যেক নবীর জন্য কোনও না কোনও শত্রুর জন্ম দিয়েছি অর্থাৎ মানব ও জিনদের মধ্য হতে শয়তান কিসিমের লোকদেরকে, যারা ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একে অন্যকে বড় চমৎকার কথা শেখাত। আল্লাহ চাইলে তারা এরূপ করতে পারত না। সুতরাং তাদেরকে তাদের মিথ্যা রচনার কাজে পড়ে থাকতে দাও।
وَلِتَصۡغٰۤی اِلَیۡہِ اَفۡـِٕدَۃُ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ وَلِیَرۡضَوۡہُ وَلِیَقۡتَرِفُوۡا مَا ہُمۡ مُّقۡتَرِفُوۡنَ
এবং (নবীদের শত্রুরা চমৎকার-চমৎকার কথা বলে) এজন্য যাতে আখিরাতে যারা ঈমান রাখে না, তাদের অন্তর সে দিকে আকৃষ্ট হয় এবং তারা তাতে মগ্ন থাকে আর তারা যে সব অপকর্ম করার তা করতে থাকে।
اَفَغَیۡرَ اللّٰہِ اَبۡتَغِیۡ حَکَمًا وَّہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ اِلَیۡکُمُ الۡکِتٰبَ مُفَصَّلًا ؕ وَالَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَعۡلَمُوۡنَ اَنَّہٗ مُنَزَّلٌ مِّنۡ رَّبِّکَ بِالۡحَقِّ فَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُمۡتَرِیۡنَ
(হে নবী! তাদেরকে বল,) আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সালিস বানাব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন বিস্তারিত বিবরণরূপে? (পূর্বে) যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা নিশ্চিতভাবে জানে, এটা তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে সত্য নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং কিছুতেই তুমি সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
وَتَمَّتۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ صِدۡقًا وَّعَدۡلًا ؕ لَا مُبَدِّلَ لِکَلِمٰتِہٖ ۚ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ
তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পরিপূর্ণ। তাঁর কথার কোনও পরিবর্তনকারী নেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
وَاِنۡ تُطِعۡ اَکۡثَرَ مَنۡ فِی الۡاَرۡضِ یُضِلُّوۡکَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ اِنۡ یَّتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَخۡرُصُوۡنَ
তুমি যদি পৃথিবীর অধিকাংশ বাসিন্দার পেছনে চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা তো ধারণা ও অনুমান ছাড়া অন্য কিছুর অনুগমন করে না। এবং তারা কেবল অনুমানভিত্তিক কথাই বলা।
اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ مَنۡ یَّضِلُّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ۚ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ভালো করে জানেন, কে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং তিনিই ভালো করে জানেন, কারা সৎপথে আছে।
فَکُلُوۡا مِمَّا ذُکِرَ اسۡمُ اللّٰہِ عَلَیۡہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ بِاٰیٰتِہٖ مُؤۡمِنِیۡنَ
সুতরাং এমন সব (হালাল) পশু থেকে খাও, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে যদি তোমরা সত্যিই তার নিদর্শনাবলীতে ঈমান রাখ।
وَمَا لَکُمۡ اَلَّا تَاۡکُلُوۡا مِمَّا ذُکِرَ اسۡمُ اللّٰہِ عَلَیۡہِ وَقَدۡ فَصَّلَ لَکُمۡ مَّا حَرَّمَ عَلَیۡکُمۡ اِلَّا مَا اضۡطُرِرۡتُمۡ اِلَیۡہِ ؕ وَاِنَّ کَثِیۡرًا لَّیُضِلُّوۡنَ بِاَہۡوَآئِہِمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُعۡتَدِیۡنَ
তোমাদের জন্য এমন কী বাধা আছে, যদ্দরুন তোমরা যে সকল পশুতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা থেকে খাও না? অথচ তিনি তোমাদের জন্য (সাধারণ অবস্থায়) যা-কিছু হারাম করেছেন তা তিনি তোমাদেরকে বিশদভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তবে তোমরা যা খেতে বাধ্য হয়ে যাও (তার কথা ভিন্ন। হারাম হওয়া সত্ত্বেও তখন তা খাওয়ার অনুমতি থাকে)। বহু লোক কোনও রকমের জ্ঞান ছাড়া (কেবল) নিজেদের খেয়াল-খুশীর ভিত্তিতে (অন্যদেরকে) বিপথগামী করে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সীমালংঘনকারীদের সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।
وَذَرُوۡا ظَاہِرَ الۡاِثۡمِ وَبَاطِنَہٗ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَکۡسِبُوۡنَ الۡاِثۡمَ سَیُجۡزَوۡنَ بِمَا کَانُوۡا یَقۡتَرِفُوۡنَ
তোমরা প্রকাশ্য ও গুপ্ত উভয় প্রকার পাপ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই যারা পাপ কামাই করে, তাদেরকে শীঘ্রই সেই সমস্ত অপরাধের শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে তারা লিপ্ত হয়।
وَلَا تَاۡکُلُوۡا مِمَّا لَمۡ یُذۡکَرِ اسۡمُ اللّٰہِ عَلَیۡہِ وَاِنَّہٗ لَفِسۡقٌ ؕ وَاِنَّ الشَّیٰطِیۡنَ لَیُوۡحُوۡنَ اِلٰۤی اَوۡلِیٰٓئِہِمۡ لِیُجَادِلُوۡکُمۡ ۚ وَاِنۡ اَطَعۡتُمُوۡہُمۡ اِنَّکُمۡ لَمُشۡرِکُوۡنَ ٪
যে পশুতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, তা থেকে খেও না। এরূপ করা কঠিন গুনাহ। (হে মুসলিমগণ!) শয়তানেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিতর্ক করার জন্য প্ররোচনা দিতে থাকে। তোমরা যদি তাদের কথা মত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে।
اَوَمَنۡ کَانَ مَیۡتًا فَاَحۡیَیۡنٰہُ وَجَعَلۡنَا لَہٗ نُوۡرًا یَّمۡشِیۡ بِہٖ فِی النَّاسِ کَمَنۡ مَّثَلُہٗ فِی الظُّلُمٰتِ لَیۡسَ بِخَارِجٍ مِّنۡہَا ؕ کَذٰلِکَ زُیِّنَ لِلۡکٰفِرِیۡنَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
একটু বল তো, যে ব্যক্তি ছিল মৃত, অতঃপর আমি তাকে জীবন দিয়েছি এবং তার জন্য এক আলোর ব্যবস্থা করেছি, যার সাহায্যে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ওই ব্যক্তির মত হতে পারে, যার অবস্থা এই যে, সে অন্ধকার দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা থেকে সে কখনও বের হতে পারবে না? এভাবেই কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের কৃতকর্মকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।
وَکَذٰلِکَ جَعَلۡنَا فِیۡ کُلِّ قَرۡیَۃٍ اَکٰبِرَ مُجۡرِمِیۡہَا لِیَمۡکُرُوۡا فِیۡہَا ؕ وَمَا یَمۡکُرُوۡنَ اِلَّا بِاَنۡفُسِہِمۡ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ
এভাবেই আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের প্রধানদেরকে (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) চক্রান্ত করার অবকাশ দিয়েছি। তারা যে চক্রান্ত করে, (প্রকৃতপক্ষে) তা অন্য কারও নয়; বরং তাদের নিজেদেরই বিরুদ্ধে যায়, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।
وَاِذَا جَآءَتۡہُمۡ اٰیَۃٌ قَالُوۡا لَنۡ نُّؤۡمِنَ حَتّٰی نُؤۡتٰی مِثۡلَ مَاۤ اُوۡتِیَ رُسُلُ اللّٰہِ ؕۘؔ اَللّٰہُ اَعۡلَمُ حَیۡثُ یَجۡعَلُ رِسَالَتَہٗ ؕ سَیُصِیۡبُ الَّذِیۡنَ اَجۡرَمُوۡا صَغَارٌ عِنۡدَ اللّٰہِ وَعَذَابٌ شَدِیۡدٌۢ بِمَا کَانُوۡا یَمۡکُرُوۡنَ
যখন তাদের (অর্থাৎ মক্কাবাসীদের) কাছে (কুরআনের) কোন আয়াত আসে, তখন বলে, আল্লাহর রাসূলগণকে যা দেওয়া হয়েছিল, সে রকম জিনিস আমাদেরকে যতক্ষণ পর্যন্ত না দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কিছুতেই ঈমান আনব না। অথচ আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি তাঁর রিসালাত কার উপর ন্যস্ত করবেন। যারা (এ জাতীয়) অন্যায় উক্তি করেছে, তাদেরকে তাদের ষড়যন্ত্রের প্রতিফল হিসেবে আল্লাহর কাছে (গিয়ে) লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
فَمَنۡ یُّرِدِ اللّٰہُ اَنۡ یَّہۡدِیَہٗ یَشۡرَحۡ صَدۡرَہٗ لِلۡاِسۡلَامِ ۚ وَمَنۡ یُّرِدۡ اَنۡ یُّضِلَّہٗ یَجۡعَلۡ صَدۡرَہٗ ضَیِّقًا حَرَجًا کَاَنَّمَا یَصَّعَّدُ فِی السَّمَآءِ ؕ کَذٰلِکَ یَجۡعَلُ اللّٰہُ الرِّجۡسَ عَلَی الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ
আল্লাহ যাকে হিদায়াত দানের ইচ্ছা করেন, তার বক্ষ ইসলামের জন্য খুলে দেন; আর যাকে (তার হঠকারিতার কারণে) পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষ অতিশয় সংকীর্ণ করে দেন (ফলে ঈমান আনয়ন তার পক্ষে এমন কঠিন হয়ে যায়), যেন তাকে জবরদস্তিমূলকভাবে আকাশে চড়তে হচ্ছে। যারা ঈমান আনে না, আল্লাহ এভাবেই তাদের উপর (কুফরের) কালিমা লেপন করেন।
وَہٰذَا صِرَاطُ رَبِّکَ مُسۡتَقِیۡمًا ؕ قَدۡ فَصَّلۡنَا الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّذَّکَّرُوۡنَ
এবং এটা (অর্থাৎ ইসলাম) তোমার প্রতিপালকের (দেওয়া) সরল পথ। উপদেশ গ্রহণ করে এমন সম্প্রদায়ের জন্য (এ পথের) নিদর্শনাবলী স্পষ্টরূপে বর্ণনা করে দিয়েছি।
لَہُمۡ دَارُ السَّلٰمِ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ وَہُوَ وَلِیُّہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
তাদের জন্যই তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে সুখণ্ডশান্তির নিবাস। আর তারা যা-কিছু করে তার দরুণ তিনিই তাদের রক্ষাকর্তা।
وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ۚ یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ قَدِ اسۡتَکۡثَرۡتُمۡ مِّنَ الۡاِنۡسِ ۚ وَقَالَ اَوۡلِیٰٓؤُہُمۡ مِّنَ الۡاِنۡسِ رَبَّنَا اسۡتَمۡتَعَ بَعۡضُنَا بِبَعۡضٍ وَّبَلَغۡنَاۤ اَجَلَنَا الَّذِیۡۤ اَجَّلۡتَ لَنَا ؕ قَالَ النَّارُ مَثۡوٰىکُمۡ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰہُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ حَکِیۡمٌ عَلِیۡمٌ
(সেই দিনের কথা মনে রেখ) যে দিন আল্লাহ তাদের সকলকে একত্র করবেন (এবং দুষ্ট জিনদেরকে বলবেন), হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা বিপুল সংখ্যক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছ। মানুষের মধ্যে যারা তাদের বন্ধু, তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা একে অন্যের দ্বারা আনন্দ উপভোগ করেছি এবং এখন আমরা আমাদের সেই সময়ে উপনীত হয়েছি, যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। আল্লাহ বলবেন, (এখন) আগুনই তোমাদের ঠিকানা, যাতে তোমরা সর্বদা থাকবে যদি না আল্লাহ অন্য রকম ইচ্ছা করেন। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হিকমতওয়ালা, সর্বজ্ঞ।
وَکَذٰلِکَ نُوَلِّیۡ بَعۡضَ الظّٰلِمِیۡنَ بَعۡضًۢا بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ٪
এভাবেই আমি জালেমদের কতককে কতকের উপর তাদের কৃতকর্মের কারণে আধিপত্য দান করে থাকি।
یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ رُسُلٌ مِّنۡکُمۡ یَقُصُّوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِیۡ وَیُنۡذِرُوۡنَکُمۡ لِقَآءَ یَوۡمِکُمۡ ہٰذَا ؕ قَالُوۡا شَہِدۡنَا عَلٰۤی اَنۡفُسِنَا وَغَرَّتۡہُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا وَشَہِدُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ اَنَّہُمۡ کَانُوۡا کٰفِرِیۡنَ
হে জিন ও মানব জাতি! তোমাদের কাছে কি তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে এমন রাসূল আসেনি, যারা তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শোনাত এবং তোমাদেরকে এ দিনের সম্মুখীন হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করত, যে দিনে আজ তোমরা উপনীত হয়েছ? তারা বলবে, (আজ) আমরা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম (যে, সত্যিই আমাদের কাছে নবী-রাসূল এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিলাম)। (প্রকৃতপক্ষে) পার্থিব জীবন তাদেরকে ধোঁকায় নিক্ষেপ করেছিল। আর আজ তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিল যে, তারা কাফের ছিল।
ذٰلِکَ اَنۡ لَّمۡ یَکُنۡ رَّبُّکَ مُہۡلِکَ الۡقُرٰی بِظُلۡمٍ وَّاَہۡلُہَا غٰفِلُوۡنَ
এটা (অর্থাৎ নবী প্রেরণের ধারা) ছিল এজন্য যে, কোনও জনপদকে সীমালংঘনের কারণে এ অবস্থায় ধ্বংস করা তোমার প্রতিপালকের পছন্দ ছিল না যে, তার অধিবাসীগণ অনবহিত থাকবে।
وَلِکُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوۡا ؕ وَمَا رَبُّکَ بِغَافِلٍ عَمَّا یَعۡمَلُوۡنَ
সব ধরনের লোকের জন্য তাদের কৃতকর্ম অনুসারে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। তারা যা-কিছুই করে সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক উদাসীন নন।
وَرَبُّکَ الۡغَنِیُّ ذُو الرَّحۡمَۃِ ؕ اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ وَیَسۡتَخۡلِفۡ مِنۡۢ بَعۡدِکُمۡ مَّا یَشَآءُ کَمَاۤ اَنۡشَاَکُمۡ مِّنۡ ذُرِّیَّۃِ قَوۡمٍ اٰخَرِیۡنَ ؕ
তোমার প্রতিপালক বেনিয়ায, দয়াশীলও বটে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকে (পৃথিবী থেকে) অপসারণ করতে এবং তোমাদের পরে তোমাদের স্থানে যাকে চান আনয়ন করতে পারেন যেমন তোমাদেরকে তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশ হতে সৃষ্টি করেছেন।
اِنَّ مَا تُوۡعَدُوۡنَ لَاٰتٍ ۙ وَّمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ
নিশ্চয়ই তোমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা দেওয়া হচ্ছে, তার আগমন অবধারিত এবং তোমরা (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারবে না।
قُلۡ یٰقَوۡمِ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَکَانَتِکُمۡ اِنِّیۡ عَامِلٌ ۚ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ مَنۡ تَکُوۡنُ لَہٗ عَاقِبَۃُ الدَّارِ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الظّٰلِمُوۡنَ
(হে নবী! ওই সকল লোককে) বল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আপন স্থানে (নিজেদের নিয়ম অনুসারে) কাজ করতে থাক, আমিও (নিজ নিয়ম অনুসারে) কাজ করছি। শীঘ্রই জানতে পারবে, এ দুনিয়ার পরিণাম কার অনুকূলে যায়। (আপন স্থানে) এটা নিশ্চিত সত্য যে, জালেমগণ কৃতকার্য হয় না।
وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ مِمَّا ذَرَاَ مِنَ الۡحَرۡثِ وَالۡاَنۡعَامِ نَصِیۡبًا فَقَالُوۡا ہٰذَا لِلّٰہِ بِزَعۡمِہِمۡ وَہٰذَا لِشُرَکَآئِنَا ۚ فَمَا کَانَ لِشُرَکَآئِہِمۡ فَلَا یَصِلُ اِلَی اللّٰہِ ۚ وَمَا کَانَ لِلّٰہِ فَہُوَ یَصِلُ اِلٰی شُرَکَآئِہِمۡ ؕ سَآءَ مَا یَحۡکُمُوۡنَ
আল্লাহ যে শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, তারা তার মধ্যে আল্লাহর জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করেছে। সুতরাং তারা নিজ ধারণা অনুযায়ী বলে, এ অংশ আল্লাহর এবং এটা আমাদের শরীকদের (অর্থাৎ দেব-দেবীদের)। অতঃপর যে অংশ তাদের শরীকদের জন্য, তা (কখনও) আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, আর যে অংশ আল্লাহর জন্য, তা তাদের শরীকদের কাছে পৌঁছে। তারা যা স্থির করে নিয়েছে তা কতই না নিকৃষ্ট!
وَکَذٰلِکَ زَیَّنَ لِکَثِیۡرٍ مِّنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ قَتۡلَ اَوۡلَادِہِمۡ شُرَکَآؤُہُمۡ لِیُرۡدُوۡہُمۡ وَلِیَلۡبِسُوۡا عَلَیۡہِمۡ دِیۡنَہُمۡ ؕ وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَا فَعَلُوۡہُ فَذَرۡہُمۡ وَمَا یَفۡتَرُوۡنَ
এমনিভাবে বহু মুশরিককে তাদের শরীকগণ বুঝিয়ে রেখেছিল যে, নিজ সন্তানকে হত্যা করা বড় ভালো কাজ, যাতে তারা তাদেরকে (অর্থাৎ মুশরিকদেরকে) সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারে এবং তাদের কাছে তাদের দীনকে বিভ্রান্তিপূর্ণ করে দিতে পারে। আল্লাহ চাইলে তারা এরূপ করতে পারত না। সুতরাং তাদেরকে তাদের মিথ্যাচারের মধ্যে পড়ে থাকতে দাও।
وَقَالُوۡا ہٰذِہٖۤ اَنۡعَامٌ وَّحَرۡثٌ حِجۡرٌ ٭ۖ لَّا یَطۡعَمُہَاۤ اِلَّا مَنۡ نَّشَآءُ بِزَعۡمِہِمۡ وَاَنۡعَامٌ حُرِّمَتۡ ظُہُوۡرُہَا وَاَنۡعَامٌ لَّا یَذۡکُرُوۡنَ اسۡمَ اللّٰہِ عَلَیۡہَا افۡتِرَآءً عَلَیۡہِ ؕ سَیَجۡزِیۡہِمۡ بِمَا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ
তারা বলে, এই সব গবাদি পশু ও শস্যতে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত আছে। তাদের ধারণা এই যে, আমরা যাদেরকে ইচ্ছা করব তারা ছাড়া অন্য কেউ এসব খেতে পারবে না এবং কতক গবাদি পশু এমন, যাদের পিঠকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কিছু পশু এমন, যার যবাহকালে আল্লাহর নাম নেয় না (এসবই তারা করে) তাঁর (অর্থাৎ আল্লাহর) প্রতি মিথ্যারোপ করে। তারা যে মিথ্যাচার করছে, আল্লাহ শীঘ্রই তার প্রতিফল তাদেরকে দেবেন।
وَقَالُوۡا مَا فِیۡ بُطُوۡنِ ہٰذِہِ الۡاَنۡعَامِ خَالِصَۃٌ لِّذُکُوۡرِنَا وَمُحَرَّمٌ عَلٰۤی اَزۡوَاجِنَا ۚ وَاِنۡ یَّکُنۡ مَّیۡتَۃً فَہُمۡ فِیۡہِ شُرَکَآءُ ؕ سَیَجۡزِیۡہِمۡ وَصۡفَہُمۡ ؕ اِنَّہٗ حَکِیۡمٌ عَلِیۡمٌ
তারা আরও বলে, এই বিশেষ গবাদি পশুগুলির গর্ভে যে বাচ্চা আছে, তা আমাদের পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট এবং আমাদের নারীদের জন্য হারাম। আর তা যদি মৃত হয়, তবে তাতে (নারী-পুরুষ) সকলে অংশীদার হত। তারা যে সব কথা তৈরি করছে শীঘ্রই আল্লাহ তাদেরকে তার প্রতিফল দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
قَدۡ خَسِرَ الَّذِیۡنَ قَتَلُوۡۤا اَوۡلَادَہُمۡ سَفَہًۢا بِغَیۡرِ عِلۡمٍ وَّحَرَّمُوۡا مَا رَزَقَہُمُ اللّٰہُ افۡتِرَآءً عَلَی اللّٰہِ ؕ قَدۡ ضَلُّوۡا وَمَا کَانُوۡا مُہۡتَدِیۡنَ ٪
প্রকৃতপক্ষে যারা কোন জ্ঞানগত ভিত্তি ছাড়া নিছক নির্বুদ্ধিতাবশত নিজেদের সন্তান হত্যা করেছে এবং আল্লাহ প্রদত্ত রিযককে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করতঃ হারাম সাব্যস্ত করেছে, তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই তারা গোমরাহ হয়েছে এবং তারা কখনও হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না।
وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَ جَنّٰتٍ مَّعۡرُوۡشٰتٍ وَّغَیۡرَ مَعۡرُوۡشٰتٍ وَّالنَّخۡلَ وَالزَّرۡعَ مُخۡتَلِفًا اُکُلُہٗ وَالزَّیۡتُوۡنَ وَالرُّمَّانَ مُتَشَابِہًا وَّغَیۡرَ مُتَشَابِہٍ ؕ کُلُوۡا مِنۡ ثَمَرِہٖۤ اِذَاۤ اَثۡمَرَ وَاٰتُوۡا حَقَّہٗ یَوۡمَ حَصَادِہٖ ۫ۖ وَلَا تُسۡرِفُوۡا ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ۙ
আল্লাহ তিনি, যিনি উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছেন, (যার মধ্যে) কতক (লতাযুক্ত, যা) মাচা আশ্রিত এবং কতক মাচা আশ্রিত নয়। এবং খেজুর গাছ, বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য, যায়তুন ও আনার (সৃষ্টি করেছেন) যা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ এবং সাদৃশ্যবিহীনও। যখন এসব গাছ ফল দেয় তখন তার ফল থেকে খাবে এবং ফল কাটার দিন আল্লাহর হক আদায় করবে এবং অপচয় করবে না। (মনে রেখ,) তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।
وَمِنَ الۡاَنۡعَامِ حَمُوۡلَۃً وَّفَرۡشًا ؕ کُلُوۡا مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰہُ وَلَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ اِنَّہٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ ۙ
তিনি গবাদি পশুর মধ্যে কতক (সৃষ্টি করেছেন), ভারবাহীরূপে এবং কতককে মাটির সাথে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই, সে তোমাদের এক প্রকাশ্য শত্রু।
ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ ۚ مِنَ الضَّاۡنِ اثۡنَیۡنِ وَمِنَ الۡمَعۡزِ اثۡنَیۡنِ ؕ قُلۡ ءٰٓالذَّکَرَیۡنِ حَرَّمَ اَمِ الۡاُنۡثَیَیۡنِ اَمَّا اشۡتَمَلَتۡ عَلَیۡہِ اَرۡحَامُ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ؕ نَبِّـُٔوۡنِیۡ بِعِلۡمٍ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ۙ
আল্লাহ (গবাদি পশুর) মোট আট প্রকার (সৃষ্টি করেছেন)। দু’ প্রকার (নর ও মাদী) ভেড়ায় ও দু’ প্রকার ছাগলে। (তাদেরকে) জিজ্ঞেস কর তো, তিনি কি নর দু’টোকেই হারাম করেছেন, না মাদী দু’টোকে? না কি এমন প্রত্যেক বাচ্চাকে, যা (উভয় শ্রেণীর) মাদী দু’টির গর্ভে আছে? তোমরা সত্যবাদী হলে কোনও জ্ঞানের ভিত্তিতে আমাকে জানাও।
وَمِنَ الۡاِبِلِ اثۡنَیۡنِ وَمِنَ الۡبَقَرِ اثۡنَیۡنِ ؕ قُلۡ ءٰٓالذَّکَرَیۡنِ حَرَّمَ اَمِ الۡاُنۡثَیَیۡنِ اَمَّا اشۡتَمَلَتۡ عَلَیۡہِ اَرۡحَامُ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ؕ اَمۡ کُنۡتُمۡ شُہَدَآءَ اِذۡ وَصّٰکُمُ اللّٰہُ بِہٰذَا ۚ فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا لِّیُضِلَّ النَّاسَ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٪
এমনিভাবে উটেরও দু’টি প্রকার (নর ও মাদী) (সৃষ্টি করেছেন) এবং গরুরও দু’টি। (তাদেরকে) বল, নর দু’টোকেই কি আল্লাহ হারাম করেছেন, না মাদী দু’টিকে? না কি এমন প্রত্যেক বাচ্চাকে, যা (উভয় শ্রেণীর) মাদী দু’টির গর্ভে আছে। আল্লাহ যখন এসব নির্দেশ দান করেন, তখন কি তোমরা উপস্থিত ছিলে? (যদি তা না থাক এবং নিশ্চয়ই ছিলে না,) তবে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হবে, যে কোনও জ্ঞানের ভিত্তি ছাড়াই মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে? প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ জালেম লোকদেরকে সৎপথে পৌঁছান না।
قُلۡ لَّاۤ اَجِدُ فِیۡ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیَّ مُحَرَّمًا عَلٰی طَاعِمٍ یَّطۡعَمُہٗۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ مَیۡتَۃً اَوۡ دَمًا مَّسۡفُوۡحًا اَوۡ لَحۡمَ خِنۡزِیۡرٍ فَاِنَّہٗ رِجۡسٌ اَوۡ فِسۡقًا اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ ۚ فَمَنِ اضۡطُرَّ غَیۡرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَاِنَّ رَبَّکَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
(হে নবী! তাদেরকে) বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমি এমন কোনও জিনিস পাই না, যা কোনও আহারকারীর জন্য হারাম, তবে যদি তা মৃত জন্তু বা বহমান রক্ত কিংবা শূকরের গোশত হয় (তা হারাম)। কেননা তা নাপাক। অথবা যদি হয় এমন গুনাহের পশু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে যবাহ করা হয়েছে। হাঁ যে ব্যক্তি (এসব বস্তুর মধ্যে কোনওটি খেতে) বাধ্য হয়ে যায়, আর তার উদ্দেশ্য মজা লোটা না হয় এবং প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম না করে, তবে নিশ্চয়ই তোমার রব্ব (আল্লাহ) অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَعَلَی الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا حَرَّمۡنَا کُلَّ ذِیۡ ظُفُرٍ ۚ وَمِنَ الۡبَقَرِ وَالۡغَنَمِ حَرَّمۡنَا عَلَیۡہِمۡ شُحُوۡمَہُمَاۤ اِلَّا مَا حَمَلَتۡ ظُہُوۡرُہُمَاۤ اَوِ الۡحَوَایَاۤ اَوۡ مَا اخۡتَلَطَ بِعَظۡمٍ ؕ ذٰلِکَ جَزَیۡنٰہُمۡ بِبَغۡیِہِمۡ ۫ۖ وَاِنَّا لَصٰدِقُوۡنَ
আমি ইয়াহুদীদের জন্য নখরবিশিষ্ট সকল জন্তু হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগল থেকে তাদের জন্য হারাম করেছিলাম তাদের চর্বি, তবে যে চর্বি তাদের পিঠ বা অন্ত্রে লেগে থাকে বা যা কোন অস্থিতে থাকে (তা ব্যতিক্রম ছিল)। এই শাস্তি আমি তাদেরকে দিয়েছিলাম তাদের অবাধ্যতার কারণে। নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী।
فَاِنۡ کَذَّبُوۡکَ فَقُلۡ رَّبُّکُمۡ ذُوۡ رَحۡمَۃٍ وَّاسِعَۃٍ ۚ وَلَا یُرَدُّ بَاۡسُہٗ عَنِ الۡقَوۡمِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ
তারপরও যদি তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) তোমাকে অস্বীকার করে, তবে বলে দাও, তোমাদের প্রতিপালক সর্বব্যাপী দয়ার মালিক এবং অপরাধীদের থেকে তার শাস্তি টলানো যায় না।
سَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا لَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَاۤ اَشۡرَکۡنَا وَلَاۤ اٰبَآؤُنَا وَلَا حَرَّمۡنَا مِنۡ شَیۡءٍ ؕ کَذٰلِکَ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ حَتّٰی ذَاقُوۡا بَاۡسَنَا ؕ قُلۡ ہَلۡ عِنۡدَکُمۡ مِّنۡ عِلۡمٍ فَتُخۡرِجُوۡہُ لَنَا ؕ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا تَخۡرُصُوۡنَ
যারা শিরক অবলম্বন করেছে, তারা বলবে, আল্লাহ চাইলে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের বাপ-দাদারাও না; আর না আমরা কোনও বস্তুকে হারাম সাব্যস্ত করতাম। তাদের পূর্ববর্তী লোকেও (রাসূলগণকে) এভাবেই অস্বীকার করেছিল, পরিশেষে তারা আমার শাস্তি ভোগ করেছিল। তুমি (তাদেরকে) বল, তোমাদের কাছে কি এমন কোনও জ্ঞান আছে, যা আমার সামনে বের করতে পার? তোমরা কেবল কল্পনারই অনুসরণ কর এবং শুধু আনুমানিক কথাই বল।
قُلۡ فَلِلّٰہِ الۡحُجَّۃُ الۡبَالِغَۃُ ۚ فَلَوۡ شَآءَ لَہَدٰىکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ
(হে নবী! তাদেরকে) বল, চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই আছে, সুতরাং তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে (জোরপূর্বক) হিদায়াতের উপর নিয়ে আসতেন।
قُلۡ ہَلُمَّ شُہَدَآءَکُمُ الَّذِیۡنَ یَشۡہَدُوۡنَ اَنَّ اللّٰہَ حَرَّمَ ہٰذَا ۚ فَاِنۡ شَہِدُوۡا فَلَا تَشۡہَدۡ مَعَہُمۡ ۚ وَلَا تَتَّبِعۡ اَہۡوَآءَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَالَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ وَہُمۡ بِرَبِّہِمۡ یَعۡدِلُوۡنَ ٪
(তাদেরকে) বল, তোমরা তোমাদের সেই সকল সাক্ষীকে উপস্থিত কর, যারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ এসব হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়ও, তবুও তুমি তাদের সঙ্গে সাক্ষ্য দিয়ো না। আর তুমি সেই সকল লোকের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না, যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা আখিরাতের উপর ঈমান রাখে না এবং যারা (অন্যদেরকে) তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ গণ্য করে।
قُلۡ تَعَالَوۡا اَتۡلُ مَا حَرَّمَ رَبُّکُمۡ عَلَیۡکُمۡ اَلَّا تُشۡرِکُوۡا بِہٖ شَیۡئًا وَّبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ۚ وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَکُمۡ مِّنۡ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُکُمۡ وَاِیَّاہُمۡ ۚ وَلَا تَقۡرَبُوا الۡفَوَاحِشَ مَا ظَہَرَ مِنۡہَا وَمَا بَطَنَ ۚ وَلَا تَقۡتُلُوا النَّفۡسَ الَّتِیۡ حَرَّمَ اللّٰہُ اِلَّا بِالۡحَقِّ ؕ ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ
(তাদেরকে) বল, এসো, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি যা-কিছু হারাম করেছেন, আমি তা (তোমাদেরকে) পড়ে শোনাই। তা এই যে, তোমরা তার সঙ্গে কাউকে শরীক করো না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা নিজ সন্তানদেরকে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকেও রিযক দেই এবং তাদেরকেও। আর তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন কোনও রকম অশ্লীল কাজের নিকটেও যেয়ো না আর আল্লাহ যে প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন, তাকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করো না। এই সব বিষয়ে, আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন, যাতে তোমরা উপলব্ধি কর।
وَلَا تَقۡرَبُوۡا مَالَ الۡیَتِیۡمِ اِلَّا بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ حَتّٰی یَبۡلُغَ اَشُدَّہٗ ۚ وَاَوۡفُوا الۡکَیۡلَ وَالۡمِیۡزَانَ بِالۡقِسۡطِ ۚ لَا نُکَلِّفُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَہَا ۚ وَاِذَا قُلۡتُمۡ فَاعۡدِلُوۡا وَلَوۡ کَانَ ذَا قُرۡبٰی ۚ وَبِعَہۡدِ اللّٰہِ اَوۡفُوۡا ؕ ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ ۙ
ইয়াতীম পরিপক্ক বয়সে না পৌঁছা পর্যন্ত তার সম্পদের নিকটেও যেয়ো না, তবে এমন পন্থায় (যাবে, তার পক্ষে) যা উত্তম হয় এবং পরিমাপ ও ওজন ন্যায়ানুগভাবে পরিপূর্ণ করবে। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত কষ্ট দেই না। এবং যখন (কোনও কথা) বলবে, তখন ন্যায্য বলবে, যদিও নিকটাত্মীয়ের বিষয়ে হয়। আর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবে। আল্লাহ এসব বিষয়ে তোমাদেরকে গুরুত্বের সাথে আদেশ করেছেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
وَاَنَّ ہٰذَا صِرَاطِیۡ مُسۡتَقِیۡمًا فَاتَّبِعُوۡہُ ۚ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِکُمۡ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ
(হে নবী! তাদেরকে) আরও বল, এটা আমার সরল-সঠিক পথ। সুতরাং এর অনুসরণ কর, অন্য কোনও পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এসব বিষয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে গুরুত্বের সাথে আদেশ করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।
ثُمَّ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ تَمَامًا عَلَی الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ وَتَفۡصِیۡلًا لِّکُلِّ شَیۡءٍ وَّہُدًی وَّرَحۡمَۃً لَّعَلَّہُمۡ بِلِقَآءِ رَبِّہِمۡ یُؤۡمِنُوۡنَ ٪
এবং মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম সৎকর্মশীলদের প্রতি (আল্লাহ নি‘আমতের) পূর্ণতা, সব কিছুর বিশদ বিবরণ, (মানুষের জন্য) পথ নির্দেশ ও রহমতস্বরূপ, যাতে তারা (আখিরাতে) তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাত সম্পর্কে ঈমান আনে।
وَہٰذَا کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ مُبٰرَکٌ فَاتَّبِعُوۡہُ وَاتَّقُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ۙ
(এমনিভাবে) এটা এক বরকতপূর্ণ কিতাব, যা আমি নাযিল করছি। সুতরাং এর অনুসরণ কর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ হয়।
اَنۡ تَقُوۡلُوۡۤا اِنَّمَاۤ اُنۡزِلَ الۡکِتٰبُ عَلٰی طَآئِفَتَیۡنِ مِنۡ قَبۡلِنَا ۪ وَاِنۡ کُنَّا عَنۡ دِرَاسَتِہِمۡ لَغٰفِلِیۡنَ ۙ
(আমি এ কিতাব নাযিল করেছি এজন্য যে,) পাছে তোমরা কখনও বল, কিতাব তো নাযিল করা হয়েছিল আমাদের পূর্বের দু’টি সম্প্রদায় (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান)-এর প্রতি। আমরা তার পাঠ সম্পর্কে বিলকুল অজ্ঞাত ছিলাম।
اَوۡ تَقُوۡلُوۡا لَوۡ اَنَّاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡنَا الۡکِتٰبُ لَکُنَّاۤ اَہۡدٰی مِنۡہُمۡ ۚ فَقَدۡ جَآءَکُمۡ بَیِّنَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ ۚ فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَصَدَفَ عَنۡہَا ؕ سَنَجۡزِی الَّذِیۡنَ یَصۡدِفُوۡنَ عَنۡ اٰیٰتِنَا سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ بِمَا کَانُوۡا یَصۡدِفُوۡنَ
কিংবা তোমরা বল, আমাদের প্রতি কিতাব নাযিল করা হলে আমরা অবশ্যই তাদের (অর্থাৎ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের) চেয়ে বেশি হিদায়াতপ্রাপ্ত হতাম। কাজেই তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক উজ্জ্বল প্রমাণ এবং হিদায়াত ও রহমত এসে গেছে। অতঃপর যে-কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করবে ও তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হবে? যারা আমার আয়াতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, আমি তাদেরকে তাদের সত্যবিমুখতার কারণে নিকৃষ্ট শাস্তি দেব।
ہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ تَاۡتِیَہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ اَوۡ یَاۡتِیَ رَبُّکَ اَوۡ یَاۡتِیَ بَعۡضُ اٰیٰتِ رَبِّکَ ؕ یَوۡمَ یَاۡتِیۡ بَعۡضُ اٰیٰتِ رَبِّکَ لَا یَنۡفَعُ نَفۡسًا اِیۡمَانُہَا لَمۡ تَکُنۡ اٰمَنَتۡ مِنۡ قَبۡلُ اَوۡ کَسَبَتۡ فِیۡۤ اِیۡمَانِہَا خَیۡرًا ؕ قُلِ انۡتَظِرُوۡۤا اِنَّا مُنۡتَظِرُوۡنَ
তারা কি (ঈমান আনার জন্য) কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফিরিশতা আসবে বা তোমার প্রতিপালক নিজে আসবেন অথবা তোমার প্রতিপালকের কিছু নিদর্শন আসবে? (অথচ) যে দিন তোমার প্রতিপালকের কোনও নিদর্শন এসে যাবে, সে দিন এমন ব্যক্তির ঈমান তার কোন কাজে আসবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা নিজ ঈমানের সাথে কোন সৎকর্ম অর্জন করেনি। (সুতরাং তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষায় আছি।
اِنَّ الَّذِیۡنَ فَرَّقُوۡا دِیۡنَہُمۡ وَکَانُوۡا شِیَعًا لَّسۡتَ مِنۡہُمۡ فِیۡ شَیۡءٍ ؕ اِنَّمَاۤ اَمۡرُہُمۡ اِلَی اللّٰہِ ثُمَّ یُنَبِّئُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ
(হে নবী!) নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের সাথে তোমার কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় তো আল্লাহরই উপর ন্যস্ত। অতঃপর তারা যা-কিছু করছে, তিনি তাদেরকে তা জানাবেন।
مَنۡ جَآءَ بِالۡحَسَنَۃِ فَلَہٗ عَشۡرُ اَمۡثَالِہَا ۚ وَمَنۡ جَآءَ بِالسَّیِّئَۃِ فَلَا یُجۡزٰۤی اِلَّا مِثۡلَہَا وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ
যে ব্যক্তি কোনও পুণ্য নিয়ে আসবে, তার জন্য অনুরূপ তার দশগুণ (সওয়াব) রয়েছে। আর যে ব্যক্তি কোনও অসৎকর্ম নিয়ে আসবে, তাকে কেবল তারই সমান প্রতিফল দেওয়া হবে। আর তাদের প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।
قُلۡ اِنَّنِیۡ ہَدٰىنِیۡ رَبِّیۡۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ۬ۚ دِیۡنًا قِیَمًا مِّلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ حَنِیۡفًا ۚ وَمَا کَانَ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ
(হে নবী!) বলে দাও, আমার প্রতিপালক আমাকে একটি সরল পথে পরিচালিত করেছেন, যা সুপ্রতিষ্ঠিত দীন; ইবরাহীমের মিল্লাত, যে একনিষ্ঠভাবে নিজেকে আল্লাহঅভিমুখী করে রেখেছিল; আর সে ছিল না শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত।
قُلۡ اِنَّ صَلَاتِیۡ وَنُسُکِیۡ وَمَحۡیَایَ وَمَمَاتِیۡ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ
বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার ইবাদত ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
لَا شَرِیۡکَ لَہٗ ۚ وَبِذٰلِکَ اُمِرۡتُ وَاَنَا اَوَّلُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ
তাঁর কোনও শরীক নেই। আমাকে এরই হুকুম দেওয়া হয়েছে এবং আনুগত্য স্বীকারকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম।
قُلۡ اَغَیۡرَ اللّٰہِ اَبۡغِیۡ رَبًّا وَّہُوَ رَبُّ کُلِّ شَیۡءٍ ؕ وَلَا تَکۡسِبُ کُلُّ نَفۡسٍ اِلَّا عَلَیۡہَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ۚ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ مَّرۡجِعُکُمۡ فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ
বলে দাও, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও প্রতিপালক সন্ধান করব, অথচ তিনি প্রতিটি জিনিসের মালিক? প্রত্যেক ব্যক্তি যা-কিছু করে, তার লাভ-ক্ষতি অন্য কারও উপর নয়, স্বয়ং তার উপরই বর্তায় এবং কোনও ভার-বহনকারী অন্য কারও ভার বহন করবে না। পরিশেষে তোমার প্রতিপালকের কাছেই তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে। তোমরা যে সব বিষয়ে মতভেদ করতে, তখন তিনি সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবেন।
وَہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَکُمۡ خَلٰٓئِفَ الۡاَرۡضِ وَرَفَعَ بَعۡضَکُمۡ فَوۡقَ بَعۡضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَبۡلُوَکُمۡ فِیۡ مَاۤ اٰتٰکُمۡ ؕ اِنَّ رَبَّکَ سَرِیۡعُ الۡعِقَابِ ۫ۖ وَاِنَّہٗ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪
এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীতে তোমাদের কতককে কতকের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং কতককে কতকের উপর মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন। নিশ্চয়, তোমার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তিদাতা এবং নিশ্চয়ই, তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।