الأعراف

الأعراف

আল-আরাফ

Ayah ২০৬ · Meccan · Para ৮

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الٓـمّٓصٓ ۚ

আলিফ-লাম-মীম-সাদ।

کِتٰبٌ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ فَلَا یَکُنۡ فِیۡ صَدۡرِکَ حَرَجٌ مِّنۡہُ لِتُنۡذِرَ بِہٖ وَذِکۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ

(হে নবী! এটি) একখানি কিতাব, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে, যাতে তুমি এর দ্বারা (মানুষকে) সতর্ক কর। সুতরাং এর কারণে তোমার অন্তরে যেন কোন কুণ্ঠা দেখা না দেয় এবং এটা মুমিনদের জন্য এক উপদেশবাণী।

اِتَّبِعُوۡا مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَلَا تَتَّبِعُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَذَکَّرُوۡنَ

(হে মানুষ!) তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে, তার অনুসরণ কর এবং নিজেদের প্রতিপালককে ছেড়ে অন্য (মনগড়া) অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। (কিন্তু) তোমরা উপদেশ কমই গ্রহণ কর।

وَکَمۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ اَہۡلَکۡنٰہَا فَجَآءَہَا بَاۡسُنَا بَیَاتًا اَوۡ ہُمۡ قَآئِلُوۡنَ

কত জনপদকেই আমি ধ্বংস করেছি। আমার শাস্তি তাদের কাছে এসে পড়েছিল রাতের বেলা অথবা দুপুরে যখন তারা বিশ্রাম করছিল।

فَمَا کَانَ دَعۡوٰىہُمۡ اِذۡ جَآءَہُمۡ بَاۡسُنَاۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ

যখন আমার শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল, তখন তাদের তো বলার কিছুই ছিল না কেবল তাদের এই কথা ছাড়া যে, বাস্তবিকই আমরা জালেম ছিলাম।

فَلَنَسۡـَٔلَنَّ الَّذِیۡنَ اُرۡسِلَ اِلَیۡہِمۡ وَلَنَسۡـَٔلَنَّ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۙ

অতঃপর যাদের নিকট রাসূল পাঠানো হয়েছিল, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং আমি রাসূলগণকেও জিজ্ঞেস করব (যে, তারা কি বার্তা পৌঁছিয়েছিল এবং তারা কী জবাব পেয়েছিল?)।

فَلَنَقُصَّنَّ عَلَیۡہِمۡ بِعِلۡمٍ وَّمَا کُنَّا غَآئِبِیۡنَ

অতঃপর আমি স্বয়ং তাদের সামনে নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে (যাবতীয় ঘটনা) বর্ণনা করব। (কেননা) আমি তো (সে সব ঘটনাকালে) অনুপস্থিত ছিলাম না।

وَالۡوَزۡنُ یَوۡمَئِذِ ۣالۡحَقُّ ۚ فَمَنۡ ثَقُلَتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ

এবং সে দিন (আমলসমূহের) ওজন (করার বিষয়টি) একটি অকাট্য সত্য। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে কৃতকার্য।

وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَازِیۡنُہٗ فَاُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ بِمَا کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَظۡلِمُوۡنَ

আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই তো সেই সব লোক, যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে সীমালংঘন করে নিজেদেরকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

وَلَقَدۡ مَکَّنّٰکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ وَجَعَلۡنَا لَکُمۡ فِیۡہَا مَعَایِشَ ؕ  قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ ٪

আমি তো পৃথিবীতে তোমাদেরকে থাকার জায়গা দিয়েছি এবং তাতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি। তথাপি তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা আদায় কর।

وَلَقَدۡ خَلَقۡنٰکُمۡ ثُمَّ صَوَّرۡنٰکُمۡ ثُمَّ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ ٭ۖ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ لَمۡ یَکُنۡ مِّنَ السّٰجِدِیۡنَ

এবং আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদের আকৃতি গঠন করেছি, তারপর ফিরিশতাদেরকে বলেছি, আদমকে সিজদা কর। সুতরাং সকলে সিজদা করল, ইবলীস ছাড়া। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হল না।

قَالَ مَا مَنَعَکَ اَلَّا تَسۡجُدَ اِذۡ اَمَرۡتُکَ ؕ قَالَ اَنَا خَیۡرٌ مِّنۡہُ ۚ خَلَقۡتَنِیۡ مِنۡ نَّارٍ وَّخَلَقۡتَہٗ مِنۡ طِیۡنٍ

আল্লাহ বললেন, আমি যখন তোকে আদেশ করলাম তখন কিসে তোকে সিজদা করা হতে বিরত রাখল? সে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম। তুমি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছ, আর তাকে সৃষ্টি করেছ মাটি দ্বারা।

قَالَ فَاہۡبِطۡ مِنۡہَا فَمَا یَکُوۡنُ لَکَ اَنۡ تَتَکَبَّرَ فِیۡہَا فَاخۡرُجۡ اِنَّکَ مِنَ الصّٰغِرِیۡنَ

আল্লাহ বললেন, তাহলে তুই এখান থেকে নেমে যা। কেননা তোর এই অধিকার নেই যে, এখানে (থেকে) অহংকার করবি। সুতরাং বের হয়ে যা। তুই হীনদের অন্তর্ভুক্ত।

قَالَ اَنۡظِرۡنِیۡۤ اِلٰی یَوۡمِ یُبۡعَثُوۡنَ

সে বলল, যে দিন মানুষকে (কবর থেকে) জীবিত করে তোলা হবে, সেই দিন পর্যন্ত আমাকে (জীবিত থাকার) সুযোগ দাও।

قَالَ اِنَّکَ مِنَ الۡمُنۡظَرِیۡنَ

আল্লাহ বললেন, তোকে সুযোগ দেওয়া হল।

قَالَ فَبِمَاۤ اَغۡوَیۡتَنِیۡ لَاَقۡعُدَنَّ لَہُمۡ صِرَاطَکَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ۙ

সে বলল, তুমি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছ, তাই আমিও শপথ করছি যে, আমি তাদের (অর্থাৎ মানুষের) জন্য তোমার সরল পথে ওঁৎ পেতে বসে থাকব।

ثُمَّ لَاٰتِیَنَّہُمۡ مِّنۡۢ بَیۡنِ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمِنۡ خَلۡفِہِمۡ وَعَنۡ اَیۡمَانِہِمۡ وَعَنۡ شَمَآئِلِہِمۡ ؕ وَلَا تَجِدُ اَکۡثَرَہُمۡ شٰکِرِیۡنَ

তারপর আমি (চারও দিক থেকে) তাদের উপর হামলা করব, তাদের সম্মুখ থেকে, তাদের পিছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকেও। আর তুমি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবে না।

قَالَ اخۡرُجۡ مِنۡہَا مَذۡءُوۡمًا مَّدۡحُوۡرًا ؕ لَمَنۡ تَبِعَکَ مِنۡہُمۡ لَاَمۡلَـَٔنَّ جَہَنَّمَ مِنۡکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ

আল্লাহ বললেন, এখান থেকে ধিকৃত ও বিতাড়িত হয়ে বের হয়ে যা। তাদের মধ্যে যারা তোর পিছনে চলবে (তারাও তোর সঙ্গী হবে), আমি তোদের সকলকে দিয়ে জাহান্নাম ভরব।

وَیٰۤاٰدَمُ اسۡکُنۡ اَنۡتَ وَزَوۡجُکَ الۡجَنَّۃَ فَکُلَا مِنۡ حَیۡثُ شِئۡتُمَا وَلَا تَقۡرَبَا ہٰذِہِ الشَّجَرَۃَ فَتَکُوۡنَا مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ

এবং হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী উভয়ে জান্নাতে বাস কর এবং যেখান থেকে (যে বস্তু) ইচ্ছা হয় খাও, তবে এই (বিশেষ) গাছটির কাছেও যেয়ো না। গেলে তোমরা (দু’জন) সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

فَوَسۡوَسَ لَہُمَا الشَّیۡطٰنُ لِیُبۡدِیَ لَہُمَا مَا وٗرِیَ عَنۡہُمَا مِنۡ سَوۡاٰتِہِمَا وَقَالَ مَا نَہٰکُمَا رَبُّکُمَا عَنۡ ہٰذِہِ الشَّجَرَۃِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَا مَلَکَیۡنِ اَوۡ تَکُوۡنَا مِنَ الۡخٰلِدِیۡنَ

অতঃপর (এই ঘটল যে,) শয়তান তাদের অন্তরে কুমন্ত্রণা দিল, যাতে তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের থেকে গোপন রাখা হয়েছিল, তাদের পরস্পরের সামনে প্রকাশ করতে পারে। সে বলতে লাগল, তোমাদের প্রতিপালক অন্য কোনও কারণে নয়; বরং কেবল এ কারণেই এই গাছ থেকে তোমাদেরকে বারণ করেছিলেন, পাছে তোমরা ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ কর।

وَقَاسَمَہُمَاۤ اِنِّیۡ لَکُمَا لَمِنَ النّٰصِحِیۡنَ ۙ

সে তাদের সামনে কসম খেয়ে বলল, বিশ্বাস কর, আমি তোমাদের কল্যাণকামীদের একজন।

فَدَلّٰىہُمَا بِغُرُوۡرٍ ۚ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَۃَ بَدَتۡ لَہُمَا سَوۡاٰتُہُمَا وَطَفِقَا یَخۡصِفٰنِ عَلَیۡہِمَا مِنۡ وَّرَقِ الۡجَنَّۃِ ؕ وَنَادٰىہُمَا رَبُّہُمَاۤ اَلَمۡ اَنۡہَکُمَا عَنۡ تِلۡکُمَا الشَّجَرَۃِ وَاَقُلۡ لَّکُمَاۤ اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لَکُمَا عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ

এভাবে সে উভয়কে ধোঁকা দিয়ে নিচে নামিয়ে দিল। সুতরাং যখন তারা সে গাছের স্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের উভয়ের লজ্জাস্থান উভয়ের কাছে প্রকাশ হয়ে গেল। অনন্তর তারা জান্নাতের কিছু পাতা (জোড়া দিয়ে) নিজেদের শরীরে জড়াতে লাগল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এ গাছ থেকে বারণ করিনি এবং তোমাদেরকে বলিনি, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?

قَالَا رَبَّنَا ظَلَمۡنَاۤ اَنۡفُسَنَا ٜ وَاِنۡ لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَنَا وَتَرۡحَمۡنَا لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ

তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজ সত্তার উপর জুলুম করে ফেলেছি। আপনি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন ও আমাদের প্রতি রহম না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অকৃতকার্যদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।

قَالَ اہۡبِطُوۡا بَعۡضُکُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ ۚ وَلَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مُسۡتَقَرٌّ وَّمَتَاعٌ اِلٰی حِیۡنٍ

আল্লাহ (আদম, তার স্ত্রী ও ইবলীসকে) বললেন, তোমরা সকলে এখান থেকে নেমে যাও, একে অন্যের শত্রুরূপে। আর পৃথিবীতে তোমাদের জন্য রয়েছে একটা কাল পর্যন্ত অবস্থান ও ক্ষাণিকটা ভোগ।

قَالَ فِیۡہَا تَحۡیَوۡنَ وَفِیۡہَا تَمُوۡتُوۡنَ وَمِنۡہَا تُخۡرَجُوۡنَ ٪

তিনি বললেন, সেখানেই (পৃথিবীতে) জীবন যাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে এবং সেখান থেকেই তোমাদেরকে পুনরায় (জীবিত করে) ওঠানো হবে।

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمۡ لِبَاسًا یُّوَارِیۡ سَوۡاٰتِکُمۡ وَرِیۡشًا ؕ وَلِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ ؕ ذٰلِکَ مِنۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ لَعَلَّہُمۡ یَذَّکَّرُوۡنَ

হে আদমের সন্তান-সন্ততি! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, যা তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দূষণীয় তা আবৃত করে এবং তা শোভাস্বরূপ। বস্তুত তাকওয়ার যে পোশাক, সেটাই সর্বোত্তম। এসব আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ لَا یَفۡتِنَنَّکُمُ الشَّیۡطٰنُ کَمَاۤ اَخۡرَجَ اَبَوَیۡکُمۡ مِّنَ الۡجَنَّۃِ یَنۡزِعُ عَنۡہُمَا لِبَاسَہُمَا لِیُرِیَہُمَا سَوۡاٰتِہِمَا ؕ اِنَّہٗ یَرٰىکُمۡ ہُوَ وَقَبِیۡلُہٗ مِنۡ حَیۡثُ لَا تَرَوۡنَہُمۡ ؕ اِنَّا جَعَلۡنَا الشَّیٰطِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ لِلَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ

হে আদমের সন্তান-সন্ততিগণ! শয়তান যেন কিছুতেই তোমাদেরকে প্রতারিত করতে না পারে, যেমন সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল। সে তাদেরকে তাদের পরস্পরের লজ্জাস্থান দেখানোর উদ্দেশ্যে তাদের দেহ থেকে তাদের পোশাক অপসারণ করিয়েছিল। সে ও তার দল এমন স্থান থেকে তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। যারা ঈমান আনে না, আমি শয়তানকে তাদের বন্ধু বানিয়ে দিয়েছি।

وَاِذَا فَعَلُوۡا فَاحِشَۃً قَالُوۡا وَجَدۡنَا عَلَیۡہَاۤ اٰبَآءَنَا وَاللّٰہُ اَمَرَنَا بِہَا ؕ قُلۡ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَاۡمُرُ بِالۡفَحۡشَآءِ ؕ اَتَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) যখন কোন অশ্লীল কাজ করে, তখন বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এরূপই করতে দেখেছি এবং আল্লাহ আমাদেরকে এরই আদেশ করেছেন। তুমি (তাদেরকে) বল, আল্লাহ অশ্লীলতার আদেশ করেন না। তোমরা কি আল্লাহর সম্পর্কে এমন কথা বলছ যা তোমরা জান না?

قُلۡ اَمَرَ رَبِّیۡ بِالۡقِسۡطِ ۟  وَاَقِیۡمُوۡا وُجُوۡہَکُمۡ عِنۡدَ کُلِّ مَسۡجِدٍ وَّادۡعُوۡہُ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ؕ  کَمَا بَدَاَکُمۡ تَعُوۡدُوۡنَ ؕ

বল, আমার প্রতিপালক তো ইনসাফ করার হুকুম দিয়েছেন এবং (আরও আদেশ করেছেন যে,) যখন (কোথাও) সিজদা করবে, তখন নিজ রোখ ঠিক রাখবে এবং তাকে ডাকবে এই বিশ্বাসের সাথে যে, আনুগত্য কেবল তাঁরই প্রাপ্য। তিনি যেভাবে প্রথমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তোমরা সেভাবেই ফিরে আসবে।

فَرِیۡقًا ہَدٰی وَفَرِیۡقًا حَقَّ عَلَیۡہِمُ الضَّلٰلَۃُ ؕ اِنَّہُمُ اتَّخَذُوا الشَّیٰطِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَیَحۡسَبُوۡنَ اَنَّہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ

(তোমাদের মধ্যে) একটি দলকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন এবং একটি দল এমন, যাদের প্রতি পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে। কেননা তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে, আর তারা মনে করছে যে, তারা সরল পথে প্রতিষ্ঠিত আছে।

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ خُذُوۡا زِیۡنَتَکُمۡ عِنۡدَ کُلِّ مَسۡجِدٍ وَّکُلُوۡا وَاشۡرَبُوۡا وَلَا تُسۡرِفُوۡا ۚ  اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ٪

হে আদমের সন্তান-সন্ততিগণ! যখনই তোমরা কোনও মসজিদে আসবে, তখন নিজেদের শোভার বস্তু (অর্থাৎ শরীরের পোশাক) নিয়ে আসবে এবং খাও ও পান কর, কিন্তু অপব্যয় করো না। আল্লাহ অপব্যয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।

قُلۡ مَنۡ حَرَّمَ زِیۡنَۃَ اللّٰہِ الَّتِیۡۤ اَخۡرَجَ لِعِبَادِہٖ وَالطَّیِّبٰتِ مِنَ الرِّزۡقِ ؕ قُلۡ ہِیَ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا خَالِصَۃً یَّوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ کَذٰلِکَ نُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ

বল, আল্লাহ নিজ বান্দাদের জন্য যে শোভার উপকরণ সৃষ্টি করেছেন, কে তা হারাম করেছে? এবং (এমনিভাবে) উৎকৃষ্ট জীবিকার বস্তুসমূহ? বল, এসব পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য (এবং) কিয়ামতের দিনে বিশেষভাবে (তাদেরই)। যারা জ্ঞানকে কাজে লাগায়, তাদের জন্য এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করি।

قُلۡ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّیَ الۡفَوَاحِشَ مَا ظَہَرَ مِنۡہَا وَمَا بَطَنَ وَالۡاِثۡمَ وَالۡبَغۡیَ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَاَنۡ تُشۡرِکُوۡا بِاللّٰہِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِہٖ سُلۡطٰنًا وَّاَنۡ تَقُوۡلُوۡا عَلَی اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

বলে দাও, আমার প্রতিপালক তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজসমূহ প্রকাশ্য হোক বা গোপন এবং সর্বপ্রকার গুনাহ, অন্যায়ভাবে (কারও প্রতি) সীমালংঘন, আল্লাহ যে সম্পর্কে কোনও প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, এমন জিনিসকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্তকরণ এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলাকে, যে সম্পর্কে তোমাদের বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই।

وَلِکُلِّ اُمَّۃٍ اَجَلٌ ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُہُمۡ لَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ سَاعَۃً وَّلَا یَسۡتَقۡدِمُوۡنَ

প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য এক নির্দিষ্ট সময় আছে। যখন তাদের সেই নির্দিষ্ট সময় এসে পড়ে, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারে না এবং ত্বরাও করতে পারে না।

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ اِمَّا یَاۡتِیَنَّکُمۡ رُسُلٌ مِّنۡکُمۡ یَقُصُّوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِیۡ ۙ فَمَنِ اتَّقٰی وَاَصۡلَحَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ

(মানুষকে সৃষ্টি করার সময়ই আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে,) হে বনী আদম! তোমাদের কাছে যদি তোমাদেরই মধ্য হতে কোন রাসূল এসে আমার আয়াতসমূহ তোমাদেরকে পড়ে শোনায়, তবে তখন যারা তাকওয়া অবলম্বন করবে ও নিজেদেরকে সংশোধন করবে, তাদের কোনও ভয় দেখা দেবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

وَالَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَاسۡتَکۡبَرُوۡا عَنۡہَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

আর যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে ও অহংকারবশে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা হবে জাহান্নামবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِہٖ ؕ اُولٰٓئِکَ یَنَالُہُمۡ نَصِیۡبُہُمۡ مِّنَ الۡکِتٰبِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُنَا یَتَوَفَّوۡنَہُمۡ ۙ قَالُوۡۤا اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ قَالُوۡا ضَلُّوۡا عَنَّا وَشَہِدُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ اَنَّہُمۡ کَانُوۡا کٰفِرِیۡنَ

সুতরাং (বল), তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হবে, যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে? এরূপ লোকদের ভাগ্যে (রিযকের) যতটুকু অংশ লেখা আছে, তা তাদের নিকট (দুনিয়ার জীবনে) পৌঁছবেই। অবশেষে যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ তাদের রূহ কবজ করার জন্য তাদের নিকট আসবে তখন তারা বলবে, তারা কোথায়, আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে তোমরা ডাকতে? তারা বলবে, তারা আমাদের থেকে অন্তর্হিত হয়েছে এবং তারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, আমরা কাফের ছিলাম।

قَالَ ادۡخُلُوۡا فِیۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ فِی النَّارِ ؕ کُلَّمَا دَخَلَتۡ اُمَّۃٌ لَّعَنَتۡ اُخۡتَہَا ؕ حَتّٰۤی اِذَا ادَّارَکُوۡا فِیۡہَا جَمِیۡعًا ۙ قَالَتۡ اُخۡرٰىہُمۡ لِاُوۡلٰىہُمۡ رَبَّنَا ہٰۤؤُلَآءِ اَضَلُّوۡنَا فَاٰتِہِمۡ عَذَابًا ضِعۡفًا مِّنَ النَّارِ ۬ؕ قَالَ لِکُلٍّ ضِعۡفٌ وَّلٰکِنۡ لَّا تَعۡلَمُوۡنَ

আল্লাহ বলবেন, তোমাদের পূর্বে জিন ও মানুষদের যেসব দল গত হয়েছে, তাদের সাথে তোমরাও জাহান্নামে প্রবেশ কর। (এভাবে) যখনই কোনও দল (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে, তারা অপর দলকে অভিসম্পাত করবে। এমনকি যখন একের পর এক সকলে তাতে গিয়ে একত্র হবে, তখন তাদের পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই আমাদেরকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করেছিল। সুতরাং এদেরকে আগুন দ্বারা দ্বিগুণ শাস্তি দাও। আল্লাহ বলবেন, প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে। কিন্তু তোমরা (এখনও পর্যন্ত) জান না।

وَقَالَتۡ اُوۡلٰىہُمۡ لِاُخۡرٰىہُمۡ فَمَا کَانَ لَکُمۡ عَلَیۡنَا مِنۡ فَضۡلٍ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡسِبُوۡنَ ٪

আর তাদের পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীগণকে বলবে, আমাদের উপর তোমাদের কোনও শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সুতরাং তোমরা তোমাদের নিজ কৃতকর্মের কারণে শাস্তি ভোগ কর।

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَاسۡتَکۡبَرُوۡا عَنۡہَا لَا تُفَتَّحُ لَہُمۡ اَبۡوَابُ السَّمَآءِ وَلَا یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ حَتّٰی یَلِجَ الۡجَمَلُ فِیۡ سَمِّ الۡخِیَاطِ ؕ وَکَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُجۡرِمِیۡنَ

নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অহংকারের সাথে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে (তাদের কৃতকর্মের) বদলা দেই।

لَہُمۡ مِّنۡ جَہَنَّمَ مِہَادٌ وَّمِنۡ فَوۡقِہِمۡ غَوَاشٍ ؕ وَکَذٰلِکَ نَجۡزِی الظّٰلِمِیۡنَ

তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামেরই বিছানা এবং উপর দিক থেকে তারই আচ্ছাদন। এভাবেই আমি জালেমদেরকে (তাদের কৃতকর্মের) প্রতিফল দিয়ে থাকি।

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَا نُکَلِّفُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَہَاۤ ۫ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আর (মনে রাখতে হবে) আমি কারও প্রতি তার সাধ্যের বেশি ভার অর্পণ করি না, তারাই হবে জান্নাতবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।

وَنَزَعۡنَا مَا فِیۡ صُدُوۡرِہِمۡ مِّنۡ غِلٍّ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہِمُ الۡاَنۡہٰرُ ۚ وَقَالُوا الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ ہَدٰىنَا لِہٰذَا ۟ وَمَا کُنَّا لِنَہۡتَدِیَ لَوۡلَاۤ اَنۡ ہَدٰىنَا اللّٰہُ ۚ لَقَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِالۡحَقِّ ؕ وَنُوۡدُوۡۤا اَنۡ تِلۡکُمُ الۡجَنَّۃُ اُوۡرِثۡتُمُوۡہَا بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

আর (ইহজীবনে) তাদের বুকের ভেতর (পারস্পরিক) কোন কষ্ট থাকলে আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশে নহর বহমান থাকবে। আর তারা বলবে, সমস্ত শোকর আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই স্থানে পৌঁছিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে না পৌঁছালে আমরা কখনই (এ স্থলে) পৌঁছতে পারতাম না। বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ আমাদের কাছে সম্পূর্ণ সত্য কথাই নিয়ে এসেছিলেন। আর তাদেরকে ডেকে বলা হবে, হে মানুষ! এই হল জান্নাত, তোমরা যে আমল করতে তারই ভিত্তিতে তোমাদেরকে এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

وَنَادٰۤی اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ اَصۡحٰبَ النَّارِ اَنۡ قَدۡ وَجَدۡنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَہَلۡ وَجَدۡتُّمۡ مَّا وَعَدَ رَبُّکُمۡ حَقًّا ؕ  قَالُوۡا نَعَمۡ ۚ  فَاَذَّنَ مُؤَذِّنٌۢ بَیۡنَہُمۡ اَنۡ لَّعۡنَۃُ اللّٰہِ عَلَی الظّٰلِمِیۡنَ ۙ

আর জান্নাতবাসীগণ জাহান্নামীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তো তা সত্য পেয়েছি। এবার (তোমরা বল), তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তোমরাও কি তাকে সত্য পেয়েছ? তারা উত্তরে বলবে, হাঁ। এমনই সময় তাদের মধ্যে এক ঘোষক ঘোষণা করবে, আল্লাহর লানত জালেমদের প্রতি-

الَّذِیۡنَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَیَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا ۚ  وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ کٰفِرُوۡنَ ۘ

যারা আল্লাহর পথে (মানুষকে) বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা সন্ধান করত এবং যারা আখিরাতকে অস্বীকার করত।

وَبَیۡنَہُمَا حِجَابٌ ۚ وَعَلَی الۡاَعۡرَافِ رِجَالٌ یَّعۡرِفُوۡنَ کُلًّۢا بِسِیۡمٰہُمۡ ۚ وَنَادَوۡا اَصۡحٰبَ الۡجَنَّۃِ اَنۡ سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ ۟ لَمۡ یَدۡخُلُوۡہَا وَہُمۡ یَطۡمَعُوۡنَ

এবং (জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসী এই) উভয় দলের মধ্যে একটি আড়াল থাকবে। আর আরাফ-এ (অর্থাৎ সেই আড়ালের উচ্চতায়) কিছু লোক থাকবে, যারা প্রত্যেক দলের লোককে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনতে পারবে। তারা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম। তারা (অর্থাৎ আরাফবাসী) তখনও পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করেনি, কিন্তু তারা সাগ্রহে (তার) আশাবাদী হবে।

وَاِذَا صُرِفَتۡ اَبۡصَارُہُمۡ تِلۡقَآءَ اَصۡحٰبِ النَّارِ ۙ  قَالُوۡا رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ٪

আর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামবাসীদের প্রতি ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ওই জালেমদের সঙ্গে রেখ না।

وَنَادٰۤی اَصۡحٰبُ الۡاَعۡرَافِ رِجَالًا یَّعۡرِفُوۡنَہُمۡ بِسِیۡمٰہُمۡ قَالُوۡا مَاۤ اَغۡنٰی عَنۡکُمۡ جَمۡعُکُمۡ وَمَا کُنۡتُمۡ تَسۡتَکۡبِرُوۡنَ

আরাফবাসীগণ একদল লোককে, যাদেরকে তারা তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে, ডাক দিয়ে বলবে, তোমাদের সংগৃহীত সঞ্চয় তোমাদের কোনও কাজে আসল না এবং তোমরা যাদেরকে বড় মনে করতে তারাও না।

اَہٰۤؤُلَآءِ الَّذِیۡنَ اَقۡسَمۡتُمۡ لَا یَنَالُہُمُ اللّٰہُ بِرَحۡمَۃٍ ؕ اُدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡکُمۡ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ تَحۡزَنُوۡنَ

(অতঃপর জান্নাতবাসীদের প্রতি ইশারা করে বলবে,) এরাই কি তারা, যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করে বলতে, আল্লাহ তাদেরকে নিজ রহমতের কোনও অংশ দেবেন না? (তাদেরকে তো বলে দেওয়া হয়েছে,) তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমাদের কোনও ভয় নেই এবং তোমরা কোনও দুঃখেরও সম্মুখীন হবে না।

وَنَادٰۤی اَصۡحٰبُ النَّارِ اَصۡحٰبَ الۡجَنَّۃِ اَنۡ اَفِیۡضُوۡا عَلَیۡنَا مِنَ الۡمَآءِ اَوۡ مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰہُ ؕ  قَالُوۡۤا اِنَّ اللّٰہَ حَرَّمَہُمَا عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ۙ

আর জাহান্নামবাসীগণ জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদের উপর সামান্য কিছু পানিই ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে নিয়ামত দিয়েছেন তার কিছু অংশ (আমাদের কাছে পৌঁছে দাও)। তারা উত্তর দেবে, আল্লাহ এ দু’টো জিনিস ওই কাফেরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন-

الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا دِیۡنَہُمۡ لَہۡوًا وَّلَعِبًا وَّغَرَّتۡہُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا ۚ فَالۡیَوۡمَ نَنۡسٰہُمۡ کَمَا نَسُوۡا لِقَآءَ یَوۡمِہِمۡ ہٰذَا ۙ وَمَا کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَجۡحَدُوۡنَ

যারা নিজেদের দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বস্তুতে পরিণত করেছিল এবং যাদেরকে পার্থিব জীবন ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল। সুতরাং আজ আমি তাদেরকে বিস্মৃত হব, যেভাবে তারা ভুলে গিয়েছিল যে, তাদেরকে এই দিনের সম্মুখীন হতে হবে এবং যেভাবে তারা আমার আয়াতসমূহকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করত।

وَلَقَدۡ جِئۡنٰہُمۡ بِکِتٰبٍ فَصَّلۡنٰہُ عَلٰی عِلۡمٍ ہُدًی وَّرَحۡمَۃً لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ

বস্তুত আমি তাদের কাছে এমন এক কিতাব উপস্থিত করেছি, যার ভেতর আমি (আমার) জ্ঞানের ভিত্তিতে (প্রতিটি বিষয়ের) বিশদ ব্যাখ্যা করেছি। যারা ঈমান আনে, তাদের পক্ষে এটা হিদায়াত ও রহমত।

ہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا تَاۡوِیۡلَہٗ ؕ  یَوۡمَ یَاۡتِیۡ تَاۡوِیۡلُہٗ یَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ نَسُوۡہُ مِنۡ قَبۡلُ قَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِالۡحَقِّ ۚ  فَہَلۡ لَّنَا مِنۡ شُفَعَآءَ فَیَشۡفَعُوۡا لَنَاۤ اَوۡ نُرَدُّ فَنَعۡمَلَ غَیۡرَ الَّذِیۡ کُنَّا نَعۡمَلُ ؕ  قَدۡ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٪

কাফিরগণ কি এই কিতাবে বর্ণিত শেষ পরিণামেরই অপেক্ষা করছে? (অথচ) এই কিতাবের বর্ণিত শেষ পরিণাম যে দিন আসবে সে দিন, যারা পূর্বে সে পরিণামের কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্যবাণী নিয়েই এসেছিলেন। এখন আমাদের কি এমন কোন সুপারিশকারী লাভ হবে, যারা আমাদের পক্ষে সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি পুনরায় (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠানো হবে, যাতে আমরা যে (মন্দ) কাজ করতাম তার বিপরীত কাজ করতে পারি? বস্তুত তারা নিজেরাই নিজেদের লোকসানে ফেলেছে এবং তারা যা-কিছু গড়ে রেখেছিল (অর্থাৎ তাদের দেবতাগণ), তারা তাদের থেকে অন্তর্হিত হয়েছে।

اِنَّ رَبَّکُمُ اللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ۟ یُغۡشِی الَّیۡلَ النَّہَارَ یَطۡلُبُہٗ حَثِیۡثًا ۙ وَّالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ وَالنُّجُوۡمَ مُسَخَّرٰتٍۭ بِاَمۡرِہٖ ؕ اَلَا لَہُ الۡخَلۡقُ وَالۡاَمۡرُ ؕ تَبٰرَکَ اللّٰہُ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক সেই আল্লাহ, যিনি সমস্ত আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি আরশে ইস্তিওয়া গ্রহণ করেন। তিনি দিনকে রাতের দ্বারা ঢেকে দেন, যা দ্রুতগতিতে ধাবিত হয়ে তাকে ধরে ফেলে। এবং সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি (সৃষ্টি করেছেন), যা সবই তাঁরই আজ্ঞাধীন। স্মরণ রেখ, সৃষ্টি ও আদেশ দান তাঁরই কাজ। আল্লাহ অতি বরকতময়, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।

اُدۡعُوۡا رَبَّکُمۡ تَضَرُّعًا وَّخُفۡیَۃً ؕ  اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُعۡتَدِیۡنَ ۚ

তোমরা বিনীতভাবে ও চুপিসারে নিজেদের প্রতিপালককে ডাক। নিশ্চয়ই তিনি সীমালংঘন- কারীদেরকে পছন্দ করেন না।

وَلَا تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ بَعۡدَ اِصۡلَاحِہَا وَادۡعُوۡہُ خَوۡفًا وَّطَمَعًا ؕ اِنَّ رَحۡمَتَ اللّٰہِ قَرِیۡبٌ مِّنَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর তাতে অশান্তি বিস্তার করো না এবং (অন্তরে তাঁর) ভয় ও আশা রেখে তাঁর ইবাদত কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

وَہُوَ الَّذِیۡ یُرۡسِلُ الرِّیٰحَ بُشۡرًۢا بَیۡنَ یَدَیۡ رَحۡمَتِہٖ ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَقَلَّتۡ سَحَابًا ثِقَالًا سُقۡنٰہُ لِبَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَنۡزَلۡنَا بِہِ الۡمَآءَ فَاَخۡرَجۡنَا بِہٖ مِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ کَذٰلِکَ نُخۡرِجُ الۡمَوۡتٰی لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ

এবং তিনিই (সেই সত্তা), যিনি নিজ রহমতের (অর্থাৎ বৃষ্টির) পূর্বক্ষণে (বৃষ্টির) সুসংবাদবাহীরূপে বায়ু প্রেরণ করেন। যখন তা ভারী মেঘমালাকে বয়ে নিয়ে যায়, তখন আমি তাকে কোন মৃত ভূখণ্ডের দিকে চালিয়ে নিয়ে যাই, তারপর সেখানে পানি বর্ষণ করি এবং তা দ্বারা সর্বপ্রকার ফল উৎপন্ন করি। এভাবেই আমি মৃতদেরকেও জীবিত করে তুলব। হয়ত (এসব বিষয়ে চিন্তা করে) তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে।

وَالۡبَلَدُ الطَّیِّبُ یَخۡرُجُ نَبَاتُہٗ بِاِذۡنِ رَبِّہٖ ۚ  وَالَّذِیۡ خَبُثَ لَا یَخۡرُجُ اِلَّا نَکِدًا ؕ  کَذٰلِکَ نُصَرِّفُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّشۡکُرُوۡنَ ٪

আর যে ভূমি উৎকৃষ্ট, তার ফসল তার প্রতিপালকের হুকুমে উৎপন্ন হয় এবং যে ভূমি নষ্ট হয়ে গেছে, তাতে মন্দ ফসল ছাড়া কিছুই উৎপন্ন হয় না। এভাবেই আমি নিদর্শনসমূহ বিভিন্নভাবে বিবৃতি করি, সেই সব লোকের জন্য যারা মূল্যায়ন করে।

لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖ فَقَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ

আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়ের লোক! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। নিশ্চয়ই আমি আশংকা করি, তোমাদের উপর এক মহা দিনের শাস্তি আপতিত হবে।

قَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِہٖۤ اِنَّا لَنَرٰىکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ

তার সম্প্রদায়ের নেতৃবর্গ বলল, আমরা তো নিশ্চিতরূপেই দেখছি, তুমি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত রয়েছ।

قَالَ یٰقَوۡمِ لَیۡسَ بِیۡ ضَلٰلَۃٌ وَّلٰکِنِّیۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ

নূহ উত্তর দিল, হে আমার সম্প্রদায়! কোনও বিভ্রান্তি আমাকে স্পর্শ করেনি। প্রকৃতপক্ষে আমি রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত রাসূল।

اُبَلِّغُکُمۡ رِسٰلٰتِ رَبِّیۡ وَاَنۡصَحُ لَکُمۡ وَاَعۡلَمُ مِنَ اللّٰہِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ

আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বাণী পৌঁছাই ও তোমাদের কল্যাণ কামনা করি। আল্লাহর পক্ষ হতে আমি এমন বিষয় জানি, যা তোমরা জান না।

اَوَعَجِبۡتُمۡ اَنۡ جَآءَکُمۡ ذِکۡرٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ عَلٰی رَجُلٍ مِّنۡکُمۡ لِیُنۡذِرَکُمۡ وَلِتَتَّقُوۡا وَلَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ

তবে কি তোমরা এই কারণে বিস্ময়বোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের উপদেশ পৌঁছেছে তোমাদেরই মধ্যকার একজন লোকের মাধ্যমে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে এবং তোমরা (মন্দ কাজ থেকে) বেঁচে থাক, আর যাতে তোমাদের প্রতি (আল্লাহর) রহমত হয়?

فَکَذَّبُوۡہُ فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَالَّذِیۡنَ مَعَہٗ فِی الۡفُلۡکِ وَاَغۡرَقۡنَا الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ؕ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمًا عَمِیۡنَ ٪

তথাপি তারা নূহকে মিথ্যাবাদী বলল। সুতরাং আমি তাকে ও তার সঙ্গে যারা নৌকায় ছিল তাদেরকে রক্ষা করি আর, যারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদেরকে নিমজ্জিত করি। নিশ্চয়ই তারা ছিল অন্ধ লোক।

وَاِلٰی عَادٍ اَخَاہُمۡ ہُوۡدًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ

আর আদ জাতির নিকট আমি তাদের ভাই হুদকে (পাঠাই)। সে বলল, হে আমার কওম! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তবুও কি তোমরা (আল্লাহকে) ভয় করবে না?

قَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖۤ اِنَّا لَنَرٰىکَ فِیۡ سَفَاہَۃٍ وَّاِنَّا لَنَظُنُّکَ مِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ

তার সম্প্রদায়ের যে সর্দারগণ কুফর অবলম্বন করেছিল, তারা বলল, আমরা তো নিশ্চিতভাবে তোমাকে নির্বুদ্ধিতার ভেতর দেখছি এবং নিশ্চয়ই আমাদের ধারণা, তুমি একজন মিথ্যুক লোক।

قَالَ یٰقَوۡمِ لَیۡسَ بِیۡ سَفَاہَۃٌ وَّلٰکِنِّیۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ

হুদ বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমার কোনও নির্বুদ্ধিতা দেখা দেয়নি। বরং আমি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল।

اُبَلِّغُکُمۡ رِسٰلٰتِ رَبِّیۡ وَاَنَا لَکُمۡ نَاصِحٌ اَمِیۡنٌ

আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বার্তাসমূহ পৌঁছিয়ে থাকি এবং আমি তোমাদের এক বিশ্বস্ত কল্যাণকামী।

اَوَعَجِبۡتُمۡ اَنۡ جَآءَکُمۡ ذِکۡرٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ عَلٰی رَجُلٍ مِّنۡکُمۡ لِیُنۡذِرَکُمۡ ؕ وَاذۡکُرُوۡۤا اِذۡ جَعَلَکُمۡ خُلَفَآءَ مِنۡۢ بَعۡدِ قَوۡمِ نُوۡحٍ وَّزَادَکُمۡ فِی الۡخَلۡقِ بَصۜۡطَۃً ۚ فَاذۡکُرُوۡۤا اٰلَآءَ اللّٰہِ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ

তবে কি তোমরা এ কারণে বিস্ময়বোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের উপদেশ পৌঁছেছে তোমাদেরই মধ্যকার একজন লোকের মাধ্যমে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে? তোমরা সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন তিনি নূহের সম্প্রদায়ের পর তোমাদেরকে (তাদের) স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং শারীরিকভাবে তোমাদেরকে (অন্যদের অপেক্ষা) বাড়-বাড়ন্ত রেখেছেন। সুতরাং তোমরা তাঁর নিয়ামতসমূহ স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলতা লাভ কর।

قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا لِنَعۡبُدَ اللّٰہَ وَحۡدَہٗ وَنَذَرَ مَا کَانَ یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَا ۚ فَاۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ

তারা বলল, তুমি কি এজন্যই আমাদের কাছে এসেছ যে, আমরা যেন শুধু আল্লাহরই ইবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের (যে মূর্তিদের) ইবাদত করত, তাদেরকে ত্যাগ করি? ঠিক আছে, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে তুমি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ, তা আমাদের সামনে উপস্থিত কর।

قَالَ قَدۡ وَقَعَ عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ رِجۡسٌ وَّغَضَبٌ ؕ اَتُجَادِلُوۡنَنِیۡ فِیۡۤ اَسۡمَآءٍ سَمَّیۡتُمُوۡہَاۤ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُکُمۡ مَّا نَزَّلَ اللّٰہُ بِہَا مِنۡ سُلۡطٰنٍ ؕ فَانۡتَظِرُوۡۤا اِنِّیۡ مَعَکُمۡ مِّنَ الۡمُنۡتَظِرِیۡنَ

হুদ বলল, তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে শাস্তি ও ক্রোধ অবধারিত হয়ে গেছে। তোমরা কি আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছ এমন কতগুলো (মূর্তির) নাম সম্বন্ধে, যা তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদাগণ রেখে দিয়েছ, যার সমর্থনে আল্লাহ কোনও প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি? সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।

فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَالَّذِیۡنَ مَعَہٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا وَقَطَعۡنَا دَابِرَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَمَا کَانُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ ٪

সুতরাং আমি তাকে (হুদ আলাইহিস সালামকে) ও তার সঙ্গীদেরকে নিজ দয়ায় রক্ষা করলাম; আর যারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল ও যারা মুমিন ছিল না, তাদেরকে নির্মূল করলাম।

وَاِلٰی ثَمُوۡدَ اَخَاہُمۡ صٰلِحًا ۘ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ قَدۡ جَآءَتۡکُمۡ بَیِّنَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ ؕ ہٰذِہٖ نَاقَۃُ اللّٰہِ لَکُمۡ اٰیَۃً فَذَرُوۡہَا تَاۡکُلۡ فِیۡۤ اَرۡضِ اللّٰہِ وَلَا تَمَسُّوۡہَا بِسُوۡٓءٍ فَیَاۡخُذَکُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ

আর ছামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহকে (পাঠাই)। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনও মাবুদ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক উজ্জ্বল প্রমাণ এসে গেছে। এটা আল্লাহর উটনী, যা তোমাদের জন্য একটি নিদর্শনস্বরূপ। সুতরাং তোমরা এটিকে স্বাধীনভাবে আল্লাহর জমিতে (চরে) খেতে দাও এবং একে কোন মন্দ ইচ্ছায় স্পর্শ করো না। পাছে কোনও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তোমাদের পাকড়াও করে।

وَاذۡکُرُوۡۤا اِذۡ جَعَلَکُمۡ خُلَفَآءَ مِنۡۢ بَعۡدِ عَادٍ وَّبَوَّاَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ تَتَّخِذُوۡنَ مِنۡ سُہُوۡلِہَا قُصُوۡرًا وَّتَنۡحِتُوۡنَ الۡجِبَالَ بُیُوۡتًا ۚ فَاذۡکُرُوۡۤا اٰلَآءَ اللّٰہِ وَلَا تَعۡثَوۡا فِی الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِیۡنَ

স্মরণ কর, যখন আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে (তাদের) স্থলাভিষিক্ত করেন এবং যমীনে তোমাদেরকে এভাবে প্রতিষ্ঠা দান করেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছ ও পাহাড় কেটে গৃহের মত তৈরি করছ। সুতরাং আল্লাহর নিয়ামতসমূহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে বেড়িয়ো না।

قَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ لِلَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا لِمَنۡ اٰمَنَ مِنۡہُمۡ اَتَعۡلَمُوۡنَ اَنَّ صٰلِحًا مُّرۡسَلٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ قَالُوۡۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلَ بِہٖ مُؤۡمِنُوۡنَ

তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতৃবর্গ, যে সকল দুর্বল লোক ঈমান এনেছিল, তাদেরকে জিজ্ঞেস করল, তোমরা কি এটা বিশ্বাস কর যে, সালিহ নিজ প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল? তারা বলল, নিশ্চয়ই আমরা তো তাঁর মাধ্যমে প্রেরিত বানীতে ঈমান রাখি।

قَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا بِالَّذِیۡۤ اٰمَنۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ

সেই দাম্ভিক লোকেরা বলল, তোমরা যে বাণীতে ঈমান এনেছ আমরা তো তা প্রত্যাখ্যান করি।

فَعَقَرُوا النَّاقَۃَ وَعَتَوۡا عَنۡ اَمۡرِ رَبِّہِمۡ وَقَالُوۡا یٰصٰلِحُ ائۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ

সুতরাং তারা উটনীটি মেরে ফেলল ও তাদের প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করল এবং বলল, সালিহ! সত্যিই তুমি নবী হয়ে থাকলে আমাদেরকে যার (যে শাস্তির) ভয় দেখাচ্ছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো।

فَاَخَذَتۡہُمُ الرَّجۡفَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دَارِہِمۡ جٰثِمِیۡنَ

পরিণামে তারা ভূমিকম্পে আক্রান্ত হল এবং তারা নিজ-নিজ বাড়িতে অধঃমুখে পড়ে থাকল।

فَتَوَلّٰی عَنۡہُمۡ وَقَالَ یٰقَوۡمِ لَقَدۡ اَبۡلَغۡتُکُمۡ رِسَالَۃَ رَبِّیۡ وَنَصَحۡتُ لَکُمۡ وَلٰکِنۡ لَّا تُحِبُّوۡنَ النّٰصِحِیۡنَ

অতঃপর সালিহ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল এবং বলতে লাগল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বাণী পৌঁছিয়েছিলাম এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছিলাম, কিন্তু (আফসোস!) তোমরা কল্যাণকামীদেরকে পছন্দ কর না।

وَلُوۡطًا اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِہٖۤ اَتَاۡتُوۡنَ الۡفَاحِشَۃَ مَا سَبَقَکُمۡ بِہَا مِنۡ اَحَدٍ مِّنَ الۡعٰلَمِیۡنَ

এবং লুতকে (পাঠালাম)। যখন সে নিজ সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের আগে সারা বিশ্বে কেউ করেনি?

اِنَّکُمۡ لَتَاۡتُوۡنَ الرِّجَالَ شَہۡوَۃً مِّنۡ دُوۡنِ النِّسَآءِ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ مُّسۡرِفُوۡنَ

তোমরা কামেচ্ছা পূরণের জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষের কাছে গিয়ে থাক (আর এটা তো কোনও আকস্মিক ব্যাপার নয়;) বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।

وَمَا کَانَ جَوَابَ قَوۡمِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡۤا اَخۡرِجُوۡہُمۡ مِّنۡ قَرۡیَتِکُمۡ ۚ اِنَّہُمۡ اُنَاسٌ یَّتَطَہَّرُوۡنَ

তার সম্প্রদায়ের উত্তর ছিল কেবল এই বলা যে, ‘এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক, যারা বড় পবিত্র থাকতে চায়।

فَاَنۡجَیۡنٰہُ وَاَہۡلَہٗۤ اِلَّا امۡرَاَتَہٗ ۫ۖ کَانَتۡ مِنَ الۡغٰبِرِیۡنَ

পরিণামে আমি তাকে (অর্থাৎ লুত আলাইহিস সালামকে) ও তার পরিবারবর্গকে (জনপদ থেকে বের করে) রক্ষা করলাম, তবে তার স্ত্রী ছাড়া। সে অবশিষ্ট লোকদের মধ্যে শামিল থাকল (যারা আযাবের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়)।

وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ مَّطَرًا ؕ  فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ٪

আর আমি তাদের উপর (পাথরের) প্রচণ্ড বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং দেখ, সে অপরাধীদের পরিণাম কেমন (ভয়াবহ) হয়েছিল।

وَاِلٰی مَدۡیَنَ اَخَاہُمۡ شُعَیۡبًا ؕ  قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ  قَدۡ جَآءَتۡکُمۡ بَیِّنَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ فَاَوۡفُوا الۡکَیۡلَ وَالۡمِیۡزَانَ وَلَا تَبۡخَسُوا النَّاسَ اَشۡیَآءَہُمۡ وَلَا تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ بَعۡدَ اِصۡلَاحِہَا ؕ  ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ۚ

আর মাদয়ানের কাছে তাদের ভাই শুআইবকে (পাঠালাম)। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে স্পষ্ট প্রমাণ এসে গেছে। সুতরাং মাপ ও ওজন ঠিকভাবে দিবে ও মানুষের মালিকানাধীন বস্তুসমূহে তাদের অধিকার খর্ব করবে না আর দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর অশান্তি বিস্তার করবে না। এটাই তোমাদের পক্ষে কল্যাণকর পথ যদি তোমরা (আমার কথা) মেনে নাও।

وَلَا تَقۡعُدُوۡا بِکُلِّ صِرَاطٍ تُوۡعِدُوۡنَ وَتَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ مَنۡ اٰمَنَ بِہٖ وَتَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا ۚ وَاذۡکُرُوۡۤا اِذۡ کُنۡتُمۡ قَلِیۡلًا فَکَثَّرَکُمۡ ۪ وَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُفۡسِدِیۡنَ

(মানুষকে) ধমকানোর জন্য এবং যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহর পথে বাধা দান ও তাতে বক্রতা সন্ধানের উদ্দেশ্যে পথে-ঘাটে বসে থাকবে না। স্মরণ কর, যখন তোমরা অল্প ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের সমৃদ্ধি দিলেন এবং লক্ষ্য কর, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কী হয়েছে।

وَاِنۡ کَانَ طَآئِفَۃٌ مِّنۡکُمۡ اٰمَنُوۡا بِالَّذِیۡۤ اُرۡسِلۡتُ بِہٖ وَطَآئِفَۃٌ لَّمۡ یُؤۡمِنُوۡا فَاصۡبِرُوۡا حَتّٰی یَحۡکُمَ اللّٰہُ بَیۡنَنَا ۚ وَہُوَ خَیۡرُ الۡحٰکِمِیۡنَ

আমার মাধ্যমে যা পাঠানো হয়েছে, তাতে যদি তোমাদের এক দল ঈমান আনে এবং অন্য দল ঈমান না আনে, তবে সবর কর, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেন। আর তিনি শ্রেষ্ঠতম ফায়সালাকারী।

قَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ لَنُخۡرِجَنَّکَ یٰشُعَیۡبُ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَکَ مِنۡ قَرۡیَتِنَاۤ اَوۡ لَتَعُوۡدُنَّ فِیۡ مِلَّتِنَا ؕ  قَالَ اَوَلَوۡ کُنَّا کٰرِہِیۡنَ ۟

তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দারগণ বলল, হে শুআইব! আমরা অবশ্যই তোমাকে ও তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেব, অন্যথায় তোমাদের (সকলকে) অবশ্যই আমাদের দীনে ফিরে আসতে হবে। শুআইব বলল, আমরা যদি (তোমাদের দীনকে) ঘৃণা করি তবুও কি?

قَدِ افۡتَرَیۡنَا عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اِنۡ عُدۡنَا فِیۡ مِلَّتِکُمۡ بَعۡدَ اِذۡ نَجّٰنَا اللّٰہُ مِنۡہَا ؕ وَمَا یَکُوۡنُ لَنَاۤ اَنۡ نَّعُوۡدَ فِیۡہَاۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ رَبُّنَا ؕ وَسِعَ رَبُّنَا کُلَّ شَیۡءٍ عِلۡمًا ؕ عَلَی اللّٰہِ تَوَکَّلۡنَا ؕ رَبَّنَا افۡتَحۡ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَ قَوۡمِنَا بِالۡحَقِّ وَاَنۡتَ خَیۡرُ الۡفٰتِحِیۡنَ

আমরা যদি তোমাদের দীনে ফিরে যাই, যখন আল্লাহ আমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তবে তো আমরা আল্লাহর প্রতি অতি বড় মিথ্যারোপ করব। বস্তুত তাতে ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে কখনও সম্ভব নয় হাঁ আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করলে (সেটা ভিন্ন কথা)। আমাদের প্রতিপালক নিজ জ্ঞান দ্বারা সবকিছু বেষ্টন করে রেখেছেন। আমরা আল্লাহরই প্রতি নির্ভর করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে ফায়সালা করে দিন। আপনিই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী।

وَقَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ لَئِنِ اتَّبَعۡتُمۡ شُعَیۡبًا اِنَّکُمۡ اِذًا لَّخٰسِرُوۡنَ

তার সম্প্রদায়ের সর্দারগণ যারা কুফরকেই ধরে রেখেছিল, (সম্প্রদায়ের সাধারণ লোকদেরকে) বলল, তোমরা যদি শুআইবের অনুসরণ কর, তবে (মনে রেখ), তোমরা তখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

فَاَخَذَتۡہُمُ الرَّجۡفَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دَارِہِمۡ جٰثِمِیۡنَ ۚۖۛ

অতঃপর তারা ভূমিকম্পে আক্রান্ত হল এবং প্রভাতকালে তারা নিজেদের বাড়িতে অধঃমুখে পড়ে থাকল।

الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا شُعَیۡبًا کَاَنۡ لَّمۡ یَغۡنَوۡا فِیۡہَا ۚۛ اَلَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا شُعَیۡبًا کَانُوۡا ہُمُ الۡخٰسِرِیۡنَ

যারা শুআইবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা (এমন হয়ে গেল), যেন সেখানে কখনও বসবাসই করেনি। যারা শুআইবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, শেষ পর্যন্ত তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হল।

فَتَوَلّٰی عَنۡہُمۡ وَقَالَ یٰقَوۡمِ لَقَدۡ اَبۡلَغۡتُکُمۡ رِسٰلٰتِ رَبِّیۡ وَنَصَحۡتُ لَکُمۡ ۚ  فَکَیۡفَ اٰسٰی عَلٰی قَوۡمٍ کٰفِرِیۡنَ ٪

সুতরাং সে (শুআইব আলাইহিস সালাম) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল এবং বলতে লাগল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের কাছে আমার রবের বাণীসমূহ পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছিলাম। (কিন্তু) যে সম্প্রদায় ছিল অকৃতজ্ঞ, আমি তাদের জন্য কিভাবে আক্ষেপ করি!

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِیۡ قَرۡیَۃٍ مِّنۡ نَّبِیٍّ اِلَّاۤ اَخَذۡنَاۤ اَہۡلَہَا بِالۡبَاۡسَآءِ وَالضَّرَّآءِ لَعَلَّہُمۡ یَضَّرَّعُوۡنَ

আমি যে-কোনও জনপদে নবী পাঠিয়েছি, তার অধিবাসীদেরকে অবশ্যই অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত করেছি, যাতে তারা বিনয় অবলম্বন করে।

ثُمَّ بَدَّلۡنَا مَکَانَ السَّیِّئَۃِ الۡحَسَنَۃَ حَتّٰی عَفَوۡا وَّقَالُوۡا قَدۡ مَسَّ اٰبَآءَنَا الضَّرَّآءُ وَالسَّرَّآءُ فَاَخَذۡنٰہُمۡ بَغۡتَۃً وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ

তারপর আমি অবস্থা বদলে দূরাবস্থার স্থানে সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্য দিয়েছি, এমনকি তারা সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং বলতে শুরু করে, দুঃখ ও সুখ তো আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও স্পর্শ করেছে। অতঃপর আমি অকস্মাৎ তাদেরকে এভাবে পাকড়াও করি যে, তারা (আগে থেকে কিছুই) টের করতে পারেনি।

وَلَوۡ اَنَّ اَہۡلَ الۡقُرٰۤی اٰمَنُوۡا وَاتَّقَوۡا لَفَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ بَرَکٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ وَلٰکِنۡ کَذَّبُوۡا فَاَخَذۡنٰہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ

যদি সে সকল জনপদবাসী ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে কল্যাণধারা মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা (সত্য) প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং তারা ক্রমাগত যা করে যাচ্ছিল, তার পরিণামে আমি তাদেরকে পাকড়াও করি।

اَفَاَمِنَ اَہۡلُ الۡقُرٰۤی اَنۡ یَّاۡتِیَہُمۡ بَاۡسُنَا بَیَاتًا وَّہُمۡ نَآئِمُوۡنَ ؕ

তবে কি জনপদবাসীরা এ বিষয় হতে সম্পূর্ণ নির্ভয় হয়ে গেছে যে, কোনও রাতে তাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হবে, যখন তারা থাকবে ঘুমন্ত?

اَوَاَمِنَ اَہۡلُ الۡقُرٰۤی اَنۡ یَّاۡتِیَہُمۡ بَاۡسُنَا ضُحًی وَّہُمۡ یَلۡعَبُوۡنَ

এসব জনপদবাসী কি এর থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে যে, তাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হবে পূর্বাহ্নে, যখন তারা খেলাধুলায় মেতে থাকবে?

اَفَاَمِنُوۡا مَکۡرَ اللّٰہِ ۚ  فَلَا یَاۡمَنُ مَکۡرَ اللّٰہِ اِلَّا الۡقَوۡمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ٪

তবে কি তারা আল্লাহ প্রদত্ত অবকাশ (-এর পরিণাম) সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? (যদি তাই হয়) তবে (তারা যেন স্মরণ রাখে), আল্লাহ প্রদত্ত অবকাশ সম্পর্কে নিশ্চিন্ত থাকে কেবল সেই সব লোক, যারা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

اَوَلَمۡ یَہۡدِ لِلَّذِیۡنَ یَرِثُوۡنَ الۡاَرۡضَ مِنۡۢ بَعۡدِ اَہۡلِہَاۤ اَنۡ لَّوۡ نَشَآءُ اَصَبۡنٰہُمۡ بِذُنُوۡبِہِمۡ ۚ وَنَطۡبَعُ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ فَہُمۡ لَا یَسۡمَعُوۡنَ

যারা কোন ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের (ধ্বংসপ্রাপ্তির) পর তার উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কি এই শিক্ষা লাভ হয়নি যে, আমি চাইলে তাদেরকেও তাদের গুনাহের কারণে শাস্তি দান করতে পারি? এবং (হঠকারিতাবশত এ শিক্ষা গ্রহণ না করার কারণে) আমি তাদের অন্তরে মোহর করে দিতে পারি, ফলে তারা (কোনও কথা) শুনতে পাবে না?

تِلۡکَ الۡقُرٰی نَقُصُّ عَلَیۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآئِہَا ۚ وَلَقَدۡ جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ ۚ فَمَا کَانُوۡا لِیُؤۡمِنُوۡا بِمَا کَذَّبُوۡا مِنۡ قَبۡلُ ؕ کَذٰلِکَ یَطۡبَعُ اللّٰہُ عَلٰی قُلُوۡبِ الۡکٰفِرِیۡنَ

এই হচ্ছে সেই সব জনপদ, যার বৃত্তান্ত তোমাকে শোনাচ্ছি। বস্তুত তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তারা পূর্বে যা প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাতে ঈমান আনার জন্য কখনও প্রস্তুত ছিল না। যারা কুফর অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের অন্তরে এভাবেই মোহর করে দেন।

وَمَا وَجَدۡنَا لِاَکۡثَرِہِمۡ مِّنۡ عَہۡدٍ ۚ وَاِنۡ وَّجَدۡنَاۤ اَکۡثَرَہُمۡ لَفٰسِقِیۡنَ

আমি তাদের অধিকাংশের ভেতরই অঙ্গীকার নিষ্ঠা পাইনি। প্রকৃতপক্ষে আমি তাদের অধিকাংশকেই পেয়েছি অবাধ্য।

ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ مُّوۡسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ فَظَلَمُوۡا بِہَا ۚ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُفۡسِدِیۡنَ

অতঃপর আমি তাদের সকলের পর মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে পাঠালাম। তারাও এর (অর্থাৎ নিদর্শনাবলীর) প্রতি অবিচার করল। সুতরাং দেখ, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছে।

وَقَالَ مُوۡسٰی یٰفِرۡعَوۡنُ اِنِّیۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ

মূসা বলেছিল, হে ফির‘আউন! নিশ্চয়ই আমি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে একজন রাসূল।

حَقِیۡقٌ عَلٰۤی اَنۡ لَّاۤ اَقُوۡلَ عَلَی اللّٰہِ اِلَّا الۡحَقَّ ؕ  قَدۡ جِئۡتُکُمۡ بِبَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ فَاَرۡسِلۡ مَعِیَ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ

এটা আমার অবশ্য কর্তব্য যে, আমি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে সত্য ছাড়া বলব না। আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছি। অতএব বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে যেতে দাও।

قَالَ اِنۡ کُنۡتَ جِئۡتَ بِاٰیَۃٍ فَاۡتِ بِہَاۤ اِنۡ کُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ

সে বলল, তুমি কোন নিদর্শন এনে থাকলে তা পেশ কর যদি তুমি সত্যবাদী হও।

فَاَلۡقٰی عَصَاہُ فَاِذَا ہِیَ ثُعۡبَانٌ مُّبِیۡنٌ ۚۖ

তখন মূসা নিজ লাঠি নিক্ষেপ করল এবং তৎক্ষণাৎ তা এক সাক্ষাৎ অজগরে পরিণত হল।

وَّنَزَعَ یَدَہٗ فَاِذَا ہِیَ بَیۡضَآءُ لِلنّٰظِرِیۡنَ ٪

এবং নিজ হাত (বগল থেকে) টেনে আনল, সহসা তা দর্শকদের সামনে চমকাতে লাগল।

قَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِ فِرۡعَوۡنَ اِنَّ ہٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِیۡمٌ ۙ

ফির‘আউনের কওমের সর্দারগণ (একে অন্যকে) বলতে লাগল, নিশ্চয়ই এ একজন দক্ষ যাদুকর।

یُّرِیۡدُ اَنۡ یُّخۡرِجَکُمۡ مِّنۡ اَرۡضِکُمۡ ۚ فَمَاذَا تَاۡمُرُوۡنَ

সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন (বল), তোমরা কী পরামর্শ দাও?

قَالُوۡۤا اَرۡجِہۡ وَاَخَاہُ وَاَرۡسِلۡ فِی الۡمَدَآئِنِ حٰشِرِیۡنَ ۙ

তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিঞ্চিৎ অবকাশ দিন এবং নগরে নগরে সংগ্রাহক পাঠান।

یَاۡتُوۡکَ بِکُلِّ سٰحِرٍ عَلِیۡمٍ

যাতে তারা সকল দক্ষ যাদুকরকে আপনার কাছে নিয়ে আসে।

وَجَآءَ السَّحَرَۃُ فِرۡعَوۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّ لَنَا لَاَجۡرًا اِنۡ کُنَّا نَحۡنُ الۡغٰلِبِیۡنَ

(সুতরাং তাই করা হল) এবং যাদুকরগণ ফির‘আউনের কাছে চলে আসল (এবং) তারা বলল, আমরা যদি (মূসার বিরুদ্ধে) জয়ী হই, তবে আমরা অবশ্যই পুরস্কার লাভ করব তো?

قَالَ نَعَمۡ وَاِنَّکُمۡ لَمِنَ الۡمُقَرَّبِیۡنَ

ফির‘আউন বলল, হাঁ এবং তোমরা (আমার) ঘনিষ্ঠ লোকদের মধ্যে গণ্য হবে।

قَالُوۡا یٰمُوۡسٰۤی اِمَّاۤ اَنۡ تُلۡقِیَ وَاِمَّاۤ اَنۡ نَّکُوۡنَ نَحۡنُ الۡمُلۡقِیۡنَ

তারা (মূসা আলাইহিস সালামকে) বলল, হে মূসা! চাইলে তুমি (যা নিক্ষেপের ইচ্ছা রাখ তা) নিক্ষেপ কর, নয়ত আমরা (আমাদের যাদুর বস্তু) নিক্ষেপ করি?

قَالَ اَلۡقُوۡا ۚ فَلَمَّاۤ اَلۡقَوۡا سَحَرُوۡۤا اَعۡیُنَ النَّاسِ وَاسۡتَرۡہَبُوۡہُمۡ وَجَآءُوۡ بِسِحۡرٍ عَظِیۡمٍ

মূসা বলল, তোমরাই নিক্ষেপ কর। সুতরাং তারা যখন (তাদের রশি ও লাঠি) নিক্ষেপ করল, তখন তারা লোকের চোখে যাদু করল, তাদেরকে আতঙ্কিত করল এবং বিরাট যাদু প্রদর্শন করল।

وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی اَنۡ اَلۡقِ عَصَاکَ ۚ  فَاِذَا ہِیَ تَلۡقَفُ مَا یَاۡفِکُوۡنَ ۚ

আর আমি ওহীর মাধ্যমে মূসাকে আদেশ করলাম, তুমি নিজ লাঠি নিক্ষেপ কর। (সে তাই করল), অমনি সেটা তারা যে ভোজবাজি দেখাচ্ছিল তা গ্রাস করতে লাগল।

فَوَقَعَ الۡحَقُّ وَبَطَلَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ۚ

এভাবে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল এবং তারা যা-কিছু করছিল তা মিথ্যা সাব্যস্ত হল।

فَغُلِبُوۡا ہُنَالِکَ وَانۡقَلَبُوۡا صٰغِرِیۡنَ ۚ

সেখানে তারা পরাজিত হল ও (প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে) লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে গেল।

وَاُلۡقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیۡنَ ۚۖ

আর এ ঘটনা যাদুকরগণকে (তাদের অচিন্তিতে) সিজদায় ফেলে দিল।

قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ

তারা বলে উঠল, আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামীনের প্রতি

رَبِّ مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ

যিনি মূসা ও হারূনের প্রতিপালক।

قَالَ فِرۡعَوۡنُ اٰمَنۡتُمۡ بِہٖ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَکُمۡ ۚ اِنَّ ہٰذَا لَمَکۡرٌ مَّکَرۡتُمُوۡہُ فِی الۡمَدِیۡنَۃِ لِتُخۡرِجُوۡا مِنۡہَاۤ اَہۡلَہَا ۚ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ

ফির‘আউন বলল, আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই এটা কোন চক্রান্ত। তোমরা শহরে এই চক্রান্ত করেছ, যাতে তোমরা এর বাসিন্দাদেরকে এখান থেকে বহিষ্কার করতে পার। আচ্ছা, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।

لَاُقَطِّعَنَّ اَیۡدِیَکُمۡ وَاَرۡجُلَکُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ ثُمَّ لَاُصَلِّبَنَّکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ

আমি অবশ্যই তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব, তারপর তোমাদের সকলকে শূলে চড়িয়ে ছাড়ব।

قَالُوۡۤا اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا مُنۡقَلِبُوۡنَ ۚ

তারা বলল, (মৃত্যুর পর) আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাব।

وَمَا تَنۡقِمُ مِنَّاۤ اِلَّاۤ اَنۡ اٰمَنَّا بِاٰیٰتِ رَبِّنَا لَمَّا جَآءَتۡنَا ؕ  رَبَّنَاۤ اَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا صَبۡرًا وَّتَوَفَّنَا مُسۡلِمِیۡنَ ٪

তুমি কি রুষ্ট হচ্ছ কেবল আমাদের এ কাজের দরুণই যে, যখন আমাদের কাছে আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী এসে গেল তখন আমরা তাতে ঈমান এনেছি? হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর সবর ঢেলে দাও এবং (তোমার) তাবেদাররূপে আমাদের মৃত্যু দান কর।

وَقَالَ الۡمَلَاُ مِنۡ قَوۡمِ فِرۡعَوۡنَ اَتَذَرُ مُوۡسٰی وَقَوۡمَہٗ لِیُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَیَذَرَکَ وَاٰلِہَتَکَ ؕ قَالَ سَنُقَتِّلُ اَبۡنَآءَہُمۡ وَنَسۡتَحۡیٖ نِسَآءَہُمۡ ۚ وَاِنَّا فَوۡقَہُمۡ قٰہِرُوۡنَ

ফির‘আউনের কওমের নেতৃবর্গ (ফির‘আউনকে) বলল, আপনি কি মূসা ও তার সম্প্রদায়কে ছেড়ে দিবেন, যাতে তারা (অবাধে) পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করতে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যদেরকে বর্জন করতে পারে? সে বলল, আমরা তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করব এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব, আর তাদের উপর তো আমাদের পরিপূর্ণ ক্ষমতা আছেই।

قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہِ اسۡتَعِیۡنُوۡا بِاللّٰہِ وَاصۡبِرُوۡا ۚ اِنَّ الۡاَرۡضَ لِلّٰہِ ۟ۙ یُوۡرِثُہَا مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ ؕ وَالۡعَاقِبَۃُ لِلۡمُتَّقِیۡنَ

মূসা নিজ সম্প্রদায়কে বলল, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও ও ধৈর্য ধারণ কর। বিশ্বাস রাখ, যমীন আল্লাহর। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যাকে চান এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন, আর শেষ পরিণাম মুত্তাকীদেরই অনুকূলে থাকে।

قَالُوۡۤا اُوۡذِیۡنَا مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تَاۡتِیَنَا وَمِنۡۢ بَعۡدِ مَا جِئۡتَنَا ؕ  قَالَ عَسٰی رَبُّکُمۡ اَنۡ یُّہۡلِکَ عَدُوَّکُمۡ وَیَسۡتَخۡلِفَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرَ کَیۡفَ تَعۡمَلُوۡنَ ٪

তারা বলল, আমাদেরকে তো আপনার আগমনের আগেও উৎপীড়ন করা হয়েছে এবং আপনার আগমনের পরেও (উৎপীড়ন করা হচ্ছে)। মূসা বলল, আশা করা যায়, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের দুশমনকে ধ্বংস করবেন এবং যমীনে তোমাদেরকে (তাদের) স্থলাভিষিক্ত করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কীরূপ কাজ কর।

وَلَقَدۡ اَخَذۡنَاۤ اٰلَ فِرۡعَوۡنَ بِالسِّنِیۡنَ وَنَقۡصٍ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَذَّکَّرُوۡنَ

আমি ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে দুর্ভিক্ষ ও ফসলাদির ক্ষতিতে আক্রান্ত করলাম, যাতে তারা সতর্ক হয়।

فَاِذَا جَآءَتۡہُمُ الۡحَسَنَۃُ قَالُوۡا لَنَا ہٰذِہٖ ۚ وَاِنۡ تُصِبۡہُمۡ سَیِّئَۃٌ یَّطَّیَّرُوۡا بِمُوۡسٰی وَمَنۡ مَّعَہٗ ؕ اَلَاۤ اِنَّمَا طٰٓئِرُہُمۡ عِنۡدَ اللّٰہِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

(কিন্তু ফল হল এই যে), যখন তাদের সুখের দিন আসত তখন বলত, এটা তো আমাদের প্রাপ্য ছিল। আর যখন কোন বিপদ দেখা দিত, তখন তাকে মূসা ও তার সঙ্গীদের অশুভতা সাব্যস্ত করত। শোন, (এটা তো) তাদেরই অশুভতা (ছিল এবং যা) আল্লাহর জ্ঞানে ছিল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানত না।

وَقَالُوۡا مَہۡمَا تَاۡتِنَا بِہٖ مِنۡ اٰیَۃٍ لِّتَسۡحَرَنَا بِہَا ۙ فَمَا نَحۡنُ لَکَ بِمُؤۡمِنِیۡنَ

এবং তারা (মূসাকে) বলত, আমাদেরকে যাদু করার জন্য তুমি আমাদের সামনে যে-কোনও নিদর্শনই উপস্থিত কর না কেন, আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনার নই।

فَاَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمُ الطُّوۡفَانَ وَالۡجَرَادَ وَالۡقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ اٰیٰتٍ مُّفَصَّلٰتٍ ۟ فَاسۡتَکۡبَرُوۡا وَکَانُوۡا قَوۡمًا مُّجۡرِمِیۡنَ

সুতরাং আমি তাদের উপর পৃথক-পৃথক নিদর্শনরূপে ছেড়ে দেই প্লাবন, পঙ্গপাল, ঘুণপোকা, ব্যাঙ ও রক্ত। তথাপি তারা অহংকার প্রদর্শন করে। বস্তুত তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।

وَلَمَّا وَقَعَ عَلَیۡہِمُ الرِّجۡزُ قَالُوۡا یٰمُوۡسَی ادۡعُ لَنَا رَبَّکَ بِمَا عَہِدَ عِنۡدَکَ ۚ  لَئِنۡ کَشَفۡتَ عَنَّا الرِّجۡزَ لَنُؤۡمِنَنَّ لَکَ وَلَنُرۡسِلَنَّ مَعَکَ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۚ

যখন তাদের উপর শাস্তি আসত তারা বলত, হে মূসা! তোমার সাথে তোমার প্রতিপালকের যে ওয়াদা রয়েছে, তার অছিলায় আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালকের কাছে দোয়া কর (যাতে তিনি এ আযাব দূর করে দেন)। তুমি আমাদের থেকে এই আযাব অপসারণ করলে আমরা তোমার কথা মেনে নেব এবং বনী ইসরাঈলকে অবশ্যই তোমার সঙ্গে যেতে দেব।

فَلَمَّا کَشَفۡنَا عَنۡہُمُ الرِّجۡزَ اِلٰۤی اَجَلٍ ہُمۡ بٰلِغُوۡہُ اِذَا ہُمۡ یَنۡکُثُوۡنَ

অতঃপর যেই আমি তাদের উপর থেকে এক মেয়াদকাল পর্যন্ত আযাব দূর করতাম, যে পর্যন্ত তাদের পৌঁছা অবধারিত ছিল, অমনি তারা তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে ফিরে যেত।

فَانۡتَقَمۡنَا مِنۡہُمۡ فَاَغۡرَقۡنٰہُمۡ فِی الۡیَمِّ بِاَنَّہُمۡ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَکَانُوۡا عَنۡہَا غٰفِلِیۡنَ

সুতরাং আমি তাদের থেকে বদলা নিলাম এবং তাদেরকে সাগরে নিমজ্জিত করলাম। কেননা তারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তা থেকে বিলকুল গাফেল হয়ে গিয়েছিল।

وَاَوۡرَثۡنَا الۡقَوۡمَ الَّذِیۡنَ کَانُوۡا یُسۡتَضۡعَفُوۡنَ مَشَارِقَ الۡاَرۡضِ وَمَغَارِبَہَا الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا ؕ وَتَمَّتۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ الۡحُسۡنٰی عَلٰی بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۬ۙ بِمَا صَبَرُوۡا ؕ وَدَمَّرۡنَا مَا کَانَ یَصۡنَعُ فِرۡعَوۡنُ وَقَوۡمُہٗ وَمَا کَانُوۡا یَعۡرِشُوۡنَ

আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত, আমি তাদেরকে সেই দেশের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম, যেথায় আমি বরকত নাযিল করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের ব্যাপারে তোমার প্রতিপালকের শুভ বাণী পূর্ণ হল, যেহেতু তারা সবর করেছিল; আর ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায় যা-কিছু বানাত ও যা কিছু চড়াত, তা সব আমি ধ্বংস করে দিলাম।

وَجٰوَزۡنَا بِبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ الۡبَحۡرَ فَاَتَوۡا عَلٰی قَوۡمٍ یَّعۡکُفُوۡنَ عَلٰۤی اَصۡنَامٍ لَّہُمۡ ۚ قَالُوۡا یٰمُوۡسَی اجۡعَلۡ لَّنَاۤ اِلٰـہًا کَمَا لَہُمۡ اٰلِـہَۃٌ ؕ قَالَ اِنَّکُمۡ قَوۡمٌ تَجۡہَلُوۡنَ

আমি বনী ইসরাঈলকে সাগর পার করিয়ে দিলাম। অতঃপর তারা এমন কিছু লোকের নিকট উপস্থিত হল, যারা তাদের মূর্তিপূজায় রত ছিল। বনী ইসরাঈল বলল, হে মূসা! এদের যেমন দেবতা আছে, তেমনি আমাদের জন্যও কোন দেবতা বানিয়ে দাও। মূসা বলল, তোমরা এমন (আজব) লোক যে, মূর্খতাসুলভ কথা বলছ।

اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ مُتَبَّرٌ مَّا ہُمۡ فِیۡہِ وَبٰطِلٌ مَّا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

নিশ্চয়ই এসব লোক যে ধান্ধায় লেগে আছে, সব ধ্বংস হয়ে যাবে এবং তারা যা-কিছু করছে সব ভ্রান্ত।

قَالَ اَغَیۡرَ اللّٰہِ اَبۡغِیۡکُمۡ اِلٰـہًا وَّہُوَ فَضَّلَکُمۡ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ

(এবং) সে বলল, তোমাদের জন্য কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য খুঁজে আনব? অথচ তিনিই তোমাদেরকে বিশ্বজগতের সমস্ত মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

وَاِذۡ اَنۡجَیۡنٰکُمۡ مِّنۡ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ یَسُوۡمُوۡنَکُمۡ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ ۚ  یُقَتِّلُوۡنَ اَبۡنَآءَکُمۡ وَیَسۡتَحۡیُوۡنَ نِسَآءَکُمۡ ؕ  وَفِیۡ ذٰلِکُمۡ بَلَآءٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ عَظِیۡمٌ ٪

এবং (আল্লাহ বলছেন স্মরণ কর), আমি তোমাদেরকে ফির‘আউনের লোকদের থেকে মুক্তি দিয়েছি, যারা তোমাদেরকে নিকৃষ্টতম শাস্তি দিত তোমাদের পুত্রদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখত। এ বিষয়ের মধ্যে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ছিল এক মহা পরীক্ষা।

وَوٰعَدۡنَا مُوۡسٰی ثَلٰثِیۡنَ لَیۡلَۃً وَّاَتۡمَمۡنٰہَا بِعَشۡرٍ فَتَمَّ مِیۡقَاتُ رَبِّہٖۤ اَرۡبَعِیۡنَ لَیۡلَۃً ۚ وَقَالَ مُوۡسٰی لِاَخِیۡہِ ہٰرُوۡنَ اخۡلُفۡنِیۡ فِیۡ قَوۡمِیۡ وَاَصۡلِحۡ وَلَا تَتَّبِعۡ سَبِیۡلَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ

আমি মূসার জন্য ত্রিশ রাতের মেয়াদ স্থির করেছিলাম (যে, এ রাতসমূহে তূর পাহাড়ে এসে ইতিকাফ করবে)। তারপর আরও দশ দ্বারা তা পূর্ণ করি। এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত মেয়াদ চল্লিশ রাত হয়ে গেল এবং মূসা তার ভাই হারুনকে বলল, আমার অনুপস্থিতিতে তুমি আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, সবকিছু ঠিকঠাক রাখবে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অনুসরণ করবে না।

وَلَمَّا جَآءَ مُوۡسٰی لِمِیۡقَاتِنَا وَکَلَّمَہٗ رَبُّہٗ ۙ قَالَ رَبِّ اَرِنِیۡۤ اَنۡظُرۡ اِلَیۡکَ ؕ قَالَ لَنۡ تَرٰىنِیۡ وَلٰکِنِ انۡظُرۡ اِلَی الۡجَبَلِ فَاِنِ اسۡتَقَرَّ مَکَانَہٗ فَسَوۡفَ تَرٰىنِیۡ ۚ فَلَمَّا تَجَلّٰی رَبُّہٗ لِلۡجَبَلِ جَعَلَہٗ دَکًّا وَّخَرَّ مُوۡسٰی صَعِقًا ۚ فَلَمَّاۤ اَفَاقَ قَالَ سُبۡحٰنَکَ تُبۡتُ اِلَیۡکَ وَاَنَا اَوَّلُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে এসে পৌঁছল এবং তার প্রতিপালক তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখা দিন, আমি আপনাকে দেখব। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কিছুতেই দেখতে পাবে না। তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি দৃষ্টিপাত কর। তা যদি আপন স্থানে স্থির থাকে, তবে তুমি আমাকে দেখতে পারবে। অতঃপর যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে তাজাল্লী ফেললেন (জ্যোতি প্রকাশ করলেন), তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল এবং মূসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেল। পরে যখন তার সংজ্ঞা ফিরে আসল, তখন সে বলল, আপনার সত্তা পবিত্র। আমি আপনার দরবারে তাওবা করছি এবং (দুনিয়ায় কেউ আপনাকে দেখতে সক্ষম নয় এ বিষয়ের প্রতি) আমি সবার আগে ঈমান আনছি।

قَالَ یٰمُوۡسٰۤی اِنِّی اصۡطَفَیۡتُکَ عَلَی النَّاسِ بِرِسٰلٰتِیۡ وَبِکَلَامِیۡ ۫ۖ فَخُذۡ مَاۤ اٰتَیۡتُکَ وَکُنۡ مِّنَ الشّٰکِرِیۡنَ

বললেন, হে মূসা! আমি আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা মানুষের মধ্যে তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। সুতরাং আমি তোমাকে যা-কিছু দিলাম তা গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।

وَکَتَبۡنَا لَہٗ فِی الۡاَلۡوَاحِ مِنۡ کُلِّ شَیۡءٍ مَّوۡعِظَۃً وَّتَفۡصِیۡلًا لِّکُلِّ شَیۡءٍ ۚ فَخُذۡہَا بِقُوَّۃٍ وَّاۡمُرۡ قَوۡمَکَ یَاۡخُذُوۡا بِاَحۡسَنِہَا ؕ سَاُورِیۡکُمۡ دَارَ الۡفٰسِقِیۡنَ

এবং আমি ফলকসমূহে তার জন্য সর্ববিষয়ে উপদেশ এবং সবকিছুর বিস্তারিত ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি। (এবং আদেশ করেছি) এবার এগুলো শক্তভাবে ধর এবং নিজ সম্প্রদায়কে হুকুম দাও, এর উত্তম বিধানাবলী যেন মেনে চলে। আমি শীঘ্রই তোমাদেরকে অবাধ্যদের বাসস্থান দেখাব।

سَاَصۡرِفُ عَنۡ اٰیٰتِیَ الَّذِیۡنَ یَتَکَبَّرُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ ؕ وَاِنۡ یَّرَوۡا کُلَّ اٰیَۃٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡا بِہَا ۚ وَاِنۡ یَّرَوۡا سَبِیۡلَ الرُّشۡدِ لَا یَتَّخِذُوۡہُ سَبِیۡلًا ۚ وَاِنۡ یَّرَوۡا سَبِیۡلَ الۡغَیِّ یَتَّخِذُوۡہُ سَبِیۡلًا ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَکَانُوۡا عَنۡہَا غٰفِلِیۡنَ

পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার প্রকাশ করে, তাদেরকে আমি আমার নিদর্শনাবলী হতে বিমুখ করে রাখব। তারা সব রকমের নিদর্শন দেখলেও তাতে ঈমান আনবে না। তারা যদি হিদায়াতের সরল পথ দেখতে পায়, তবে তাকে নিজের পথ হিসেবে গ্রহণ করবে না, আর যদি গোমরাহীর পথ দেখতে পায়, তাকে নিজের পথ বানাবে। কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তা থেকে বিলকুল গাফেল হয়ে গেছে।

وَالَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَلِقَآءِ الۡاٰخِرَۃِ حَبِطَتۡ اَعۡمَالُہُمۡ ؕ  ہَلۡ یُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٪

যারা আমার নিদর্শনসমূহ ও আখিরাতের সম্মুখীন হওয়াকে অস্বীকার করেছে, তাদের কর্মসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে। তাদেরকে তো কেবল তারা যা কিছু করত তারই বদলা দেওয়া হবে।

وَاتَّخَذَ قَوۡمُ مُوۡسٰی مِنۡۢ بَعۡدِہٖ مِنۡ حُلِیِّہِمۡ عِجۡلًا جَسَدًا لَّہٗ خُوَارٌ ؕ اَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّہٗ لَا یُکَلِّمُہُمۡ وَلَا یَہۡدِیۡہِمۡ سَبِیۡلًا ۘ اِتَّخَذُوۡہُ وَکَانُوۡا ظٰلِمِیۡنَ

আর মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে তাদের অলংকার দ্বারা একটি বাছুর বানাল, (বাছুরটি কেমন ছিল?), একটি (প্রাণহীন) দেহ, যা থেকে গরুর মত ডাক বের হচ্ছিল। তারা কি এতটুকুও দেখল না যে, তা না তাদের সাথে কথা বলতে পারে আর না তাদেরকে কোনও পথ দেখাতে পারে? (কিন্তু) তারা সেটিকে (উপাস্য) বানিয়ে নিল এবং (নিজেদের প্রতিই) জুলুমকারী হয়ে গেল।

وَلَمَّا سُقِطَ فِیۡۤ اَیۡدِیۡہِمۡ وَرَاَوۡا اَنَّہُمۡ قَدۡ ضَلُّوۡا ۙ قَالُوۡا لَئِنۡ لَّمۡ یَرۡحَمۡنَا رَبُّنَا وَیَغۡفِرۡ لَنَا لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ

তারা যখন (নিজ কৃতকর্মের কারণে) অনুতপ্ত হল এবং উপলব্ধি করল যে, তারা বিপথগামী হয়ে গেছে, তখন বলতে লাগল, আল্লাহ যদি আমাদের প্রতি দয়া না করেন ও আমাদেরকে ক্ষমা না করেন, তবে নিশ্চয়ই আমরা বরবাদ হয়ে যাব।

وَلَمَّا رَجَعَ مُوۡسٰۤی اِلٰی قَوۡمِہٖ غَضۡبَانَ اَسِفًا ۙ قَالَ بِئۡسَمَا خَلَفۡتُمُوۡنِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِیۡ ۚ اَعَجِلۡتُمۡ اَمۡرَ رَبِّکُمۡ ۚ وَاَلۡقَی الۡاَلۡوَاحَ وَاَخَذَ بِرَاۡسِ اَخِیۡہِ یَجُرُّہٗۤ اِلَیۡہِ ؕ قَالَ ابۡنَ اُمَّ اِنَّ الۡقَوۡمَ اسۡتَضۡعَفُوۡنِیۡ وَکَادُوۡا یَقۡتُلُوۡنَنِیۡ ۫ۖ فَلَا تُشۡمِتۡ بِیَ الۡاَعۡدَآءَ وَلَا تَجۡعَلۡنِیۡ مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ

এবং মূসা যখন ক্রুদ্ধ ও ব্যথিত হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসল, তখন সে বলল, তোমরা আমার অনুপস্থিতিতে আমার কতইনা নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করেছ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের আদেশের অপেক্ষা না করে তাড়াহুড়া করলে? এবং (এই বলে) সে ফলকগুলি ফেলে দিল এবং নিজ ভাই (হারুন আলাইহিস সালাম)-এর মাথা ধরে তাকে নিজের দিকে টানছিল। সে বলল, হে আমার মায়ের পুত্র! বিশ্বাস কর, লোকজন আমাকে দুর্বল মনে করেছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যা করেই ফেলেছিল। তুমি শত্রুদেরকে আমার প্রতি হাসার সুযোগ দিয়ো না এবং আমাকে জালেমদের মধ্যে গণ্য করো না।

قَالَ رَبِّ اغۡفِرۡ لِیۡ وَلِاَخِیۡ وَاَدۡخِلۡنَا فِیۡ رَحۡمَتِکَ ۫ۖ  وَاَنۡتَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ ٪

মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে তোমার দয়ার ভেতর দাখিল কর। তুমি শ্রেষ্ঠতম দয়ালু।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوا الۡعِجۡلَ سَیَنَالُہُمۡ غَضَبٌ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ وَذِلَّۃٌ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ وَکَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُفۡتَرِیۡنَ

(আল্লাহ বললেন), যারা বাছুরকে (উপাস্য) বানিয়েছে, তাদের উপর শীঘ্রই তাদের প্রতিপালকের ক্রোধ এবং পার্থিব জীবনেই লাঞ্ছনা আপতিত হবে। যারা মিথ্যা রচনা করে, আমি এভাবেই তাদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।

وَالَّذِیۡنَ عَمِلُوا السَّیِّاٰتِ ثُمَّ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِہَا وَاٰمَنُوۡۤا ۫ اِنَّ رَبَّکَ مِنۡۢ بَعۡدِہَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ

আর যারা মন্দ কাজ করে ফেলে তারপর তাওবা করে নেয় ও ঈমান আনে, তোমার প্রতিপালক সেই তাওবার পর (তাদের পক্ষে) অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

وَلَمَّا سَکَتَ عَنۡ مُّوۡسَی الۡغَضَبُ اَخَذَ الۡاَلۡوَاحَ ۚۖ وَفِیۡ نُسۡخَتِہَا ہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّلَّذِیۡنَ ہُمۡ لِرَبِّہِمۡ یَرۡہَبُوۡنَ

আর যখন মূসার রাগ থেমে গেল, তখন সে ফলকগুলো তুলে নিল, আর তাতে যা লেখা ছিল তা ছিল সেই সকল লোকের পক্ষে হিদায়াত ও রহমত, যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে।

وَاخۡتَارَ مُوۡسٰی قَوۡمَہٗ سَبۡعِیۡنَ رَجُلًا لِّمِیۡقَاتِنَا ۚ فَلَمَّاۤ اَخَذَتۡہُمُ الرَّجۡفَۃُ قَالَ رَبِّ لَوۡ شِئۡتَ اَہۡلَکۡتَہُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ وَاِیَّایَ ؕ اَتُہۡلِکُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَہَآءُ مِنَّا ۚ اِنۡ ہِیَ اِلَّا فِتۡنَتُکَ ؕ تُضِلُّ بِہَا مَنۡ تَشَآءُ وَتَہۡدِیۡ مَنۡ تَشَآءُ ؕ اَنۡتَ وَلِیُّنَا فَاغۡفِرۡ لَنَا وَارۡحَمۡنَا وَاَنۡتَ خَیۡرُ الۡغٰفِرِیۡنَ

মূসা তার সম্প্রদায় হতে সত্তর জন লোককে আমার স্থিরীকৃত সময়ে (তূর পাহাড়ে) আনার জন্য মনোনীত করল। অতঃপর যখন তাদেরকে ভূমিকম্প আক্রান্ত করল তখন মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি চাইলে পূর্বেই তো তাদেরকে এবং আমাকেও ধ্বংস করতে পারতেন। আমাদের মধ্যকার কিছু নির্বোধ লোকের কর্মকাণ্ডের কারণে কি আমাদের সকলকে ধ্বংস করবেন? (বলাবাহুল্য, আপনি তা করবেন না। সুতরাং বোঝা গেল) এ ঘটনা আপনার পক্ষ হতে কেবল এক পরীক্ষা, যার মাধ্যমে আপনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করবেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করবেন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন ও আমাদের প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ক্ষমাশীল।

وَاکۡتُبۡ لَنَا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّفِی الۡاٰخِرَۃِ اِنَّا ہُدۡنَاۤ اِلَیۡکَ ؕ  قَالَ عَذَابِیۡۤ اُصِیۡبُ بِہٖ مَنۡ اَشَآءُ ۚ  وَرَحۡمَتِیۡ وَسِعَتۡ کُلَّ شَیۡءٍ ؕ  فَسَاَکۡتُبُہَا لِلَّذِیۡنَ یَتَّقُوۡنَ وَیُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِاٰیٰتِنَا یُؤۡمِنُوۡنَ ۚ

আমাদের জন্য এ দুনিয়াতেও কল্যাণ লিখে দিন এবং আখিরাতেও। (এতদুদ্দেশ্যে) আমরা আপনারই দিকে রুজু করছি। আল্লাহ বললেন, আমি আমার শাস্তি যাকে ইচ্ছাকরি দিয়ে থাকি আর আমার দয়া সে তো প্রত্যেক বস্তুতে ব্যাপ্ত। সুতরাং আমি এ রহমত (পরিপূর্ণভাবে) সেই সব লোকের জন্য লিখব, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত দেয় এবং যারা আমার আয়াত সমূহে ঈমান রাখে

اَلَّذِیۡنَ یَتَّبِعُوۡنَ الرَّسُوۡلَ النَّبِیَّ الۡاُمِّیَّ الَّذِیۡ یَجِدُوۡنَہٗ مَکۡتُوۡبًا عِنۡدَہُمۡ فِی التَّوۡرٰىۃِ وَالۡاِنۡجِیۡلِ ۫  یَاۡمُرُہُمۡ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَیَنۡہٰہُمۡ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَیُحِلُّ لَہُمُ الطَّیِّبٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیۡہِمُ الۡخَبٰٓئِثَ وَیَضَعُ عَنۡہُمۡ اِصۡرَہُمۡ وَالۡاَغۡلٰلَ الَّتِیۡ کَانَتۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ  فَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِہٖ وَعَزَّرُوۡہُ وَنَصَرُوۡہُ وَاتَّبَعُوا النُّوۡرَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ مَعَہٗۤ ۙ  اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ٪

যারা এই রাসূলের অর্থাৎ উম্মী নবীর অনুসরণ করে, যার কথা তারা তাওরাত ও ইনজীলে, যা তাদের নিকট আছে, লিপিবদ্ধ পাবে, যে তাদেরকে সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজে নিষেধ করবে এবং তাদের জন্য উৎকৃষ্ট বস্তু হালাল করবে ও নিকৃষ্ট বস্তু হারাম করবে এবং তাদের থেকে ভার ও গলার বেড়ি নামাবে, যা তাদের উপর চাপানো ছিল। সুতরাং যারা তার (অর্থাৎ নবীর) প্রতি ঈমান আনবে, তাকে সম্মান করবে, তার সাহায্য করবে এবং তার সঙ্গে যে নূর অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ করবে, তারাই হবে সফলকাম।

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ جَمِیۡعَۨا الَّذِیۡ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ۪ فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہِ النَّبِیِّ الۡاُمِّیِّ الَّذِیۡ یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَکَلِمٰتِہٖ وَاتَّبِعُوۡہُ لَعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ

(হে রাসূল! তাদেরকে) বল, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের প্রতি সেই আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, যার আয়ত্তে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর সেই রাসূলের প্রতি ঈমান আন, যিনি উম্মী নবী এবং যিনি আল্লাহ ও তার বাণীসমূহে বিশ্বাস রাখেন এবং তোমরা তার অনুসরণ কর, যাতে তোমরা হিদায়াত লাভ কর।

وَمِنۡ قَوۡمِ مُوۡسٰۤی اُمَّۃٌ یَّہۡدُوۡنَ بِالۡحَقِّ وَبِہٖ یَعۡدِلُوۡنَ

মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একটি দলও আছে, যারা (মানুষকে) সত্যের পথ দেখায় এবং সেই (সত্য) অনুসারে ইনসাফ করে।

وَقَطَّعۡنٰہُمُ اثۡنَتَیۡ عَشۡرَۃَ اَسۡبَاطًا اُمَمًا ؕ وَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی اِذِ اسۡتَسۡقٰىہُ قَوۡمُہٗۤ اَنِ اضۡرِبۡ بِّعَصَاکَ الۡحَجَرَ ۚ فَانۡۢبَجَسَتۡ مِنۡہُ اثۡنَتَا عَشۡرَۃَ عَیۡنًا ؕ قَدۡ عَلِمَ کُلُّ اُنَاسٍ مَّشۡرَبَہُمۡ ؕ وَظَلَّلۡنَا عَلَیۡہِمُ الۡغَمَامَ وَاَنۡزَلۡنَا عَلَیۡہِمُ الۡمَنَّ وَالسَّلۡوٰی ؕ کُلُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰکُمۡ ؕ وَمَا ظَلَمُوۡنَا وَلٰکِنۡ کَانُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ

আমি তাদেরকে (অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে) পৃথক-পৃথক দলরূপে বারটি খান্দানে বিভক্ত করে দিয়েছিলাম। যখন মূসার কওম তার কাছে পানি চাইল, তখন আমি ওহী মারফত তাকে হুকুম দিলাম, তোমার লাঠি দ্বারা অমুক পাথরে আঘাত কর। সুতরাং সে পাথর থেকে বারটি প্রস্রবণ উৎসারিত হল। প্রত্যেক খান্দান নিজ-নিজ পানি পানের স্থান জানতে পারল। আর আমি তাদেরকে মেঘের ছায়া দিলাম এবং তাদের উপর মান্ন ও সালওয়া অবতীর্ণ করলাম (ও বললাম,) আমি তোমাদেরকে যে উত্তম রিযক দান করেছি তা খাও। (এতদসত্ত্বেও তারা আমার যে অকৃতজ্ঞতা করল, তাতে) তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি; বরং তারা তাদের নিজেদের প্রতিই জুলুম করেছে।

وَاِذۡ قِیۡلَ لَہُمُ اسۡکُنُوۡا ہٰذِہِ الۡقَرۡیَۃَ وَکُلُوۡا مِنۡہَا حَیۡثُ شِئۡتُمۡ وَقُوۡلُوۡا حِطَّۃٌ وَّادۡخُلُوا الۡبَابَ سُجَّدًا نَّغۡفِرۡ لَکُمۡ خَطِیۡٓـٰٔتِکُمۡ ؕ سَنَزِیۡدُ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

এবং (সেই সময়কে স্মরণ কর) যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, এই জনপদে বাস কর এবং তার যেখান থেকে ইচ্ছা খাও। আর বলতে থাক, (হে আল্লাহ!) আমরা তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর (জনপদটির) প্রবেশদ্বার দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর। আমি তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করব (এবং) সৎকর্মশীলদেরকে আরও বেশি (সওয়াব) দেব।

فَبَدَّلَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡہُمۡ قَوۡلًا غَیۡرَ الَّذِیۡ قِیۡلَ لَہُمۡ فَاَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ رِجۡزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا کَانُوۡا یَظۡلِمُوۡنَ ٪

কিন্তু তাদেরকে যে কথা বলা হয়েছিল, তাদের মধ্যকার জালেমগণ তা পরিবর্তন করে অন্য কথা তৈরি করে নিল। সুতরাং তাদের ক্রমাগত সীমালংঘনের কারণে আমি তাদের উপর আসমান থেকে শাস্তি পাঠালাম।

وَسۡـَٔلۡہُمۡ عَنِ الۡقَرۡیَۃِ الَّتِیۡ کَانَتۡ حَاضِرَۃَ الۡبَحۡرِ ۘ اِذۡ یَعۡدُوۡنَ فِی السَّبۡتِ اِذۡ تَاۡتِیۡہِمۡ حِیۡتَانُہُمۡ یَوۡمَ سَبۡتِہِمۡ شُرَّعًا وَّیَوۡمَ لَا یَسۡبِتُوۡنَ ۙ لَا تَاۡتِیۡہِمۡ ۚۛ کَذٰلِکَ ۚۛ نَبۡلُوۡہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَفۡسُقُوۡنَ

এবং তাদের কাছে সাগর-তীরে অবস্থিত জনপদবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর যখন তারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালংঘন করত, যখন তাদের (সাগরের) মাছ শনিবার দিন তো পানিতে ভেসে ভেসে তাদের সামনে আসত; আর যখন তারা শনিবার উদযাপন করত না, (অর্থাৎ অন্যান্য দিনে) তা আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে তাদের উপর্যুপরি অবাধ্যতার কারণে পরীক্ষা করেছিলাম।

وَاِذۡ قَالَتۡ اُمَّۃٌ مِّنۡہُمۡ لِمَ تَعِظُوۡنَ قَوۡمَۨا ۙ اللّٰہُ مُہۡلِکُہُمۡ اَوۡ مُعَذِّبُہُمۡ عَذَابًا شَدِیۡدًا ؕ قَالُوۡا مَعۡذِرَۃً اِلٰی رَبِّکُمۡ وَلَعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ

এবং (তাদেরকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যখন তাদেরই একটি দল (অন্য দলকে) বলেছিল, তোমরা এমন সব লোককে কেন উপদেশ দিচ্ছ, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে ফেলবেন কিংবা কঠোর শাস্তি দিবেন? তারা বলল, (আমরা এটা করছি) তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দায়িত্বমুক্ত হওয়ার জন্য এবং (এ উপদেশ দ্বারা) হতে পারে, তারা তাকওয়া অবলম্বন করবে।

فَلَمَّا نَسُوۡا مَا ذُکِّرُوۡا بِہٖۤ اَنۡجَیۡنَا الَّذِیۡنَ یَنۡہَوۡنَ عَنِ السُّوۡٓءِ وَاَخَذۡنَا الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا بِعَذَابٍۭ بَئِیۡسٍۭ بِمَا کَانُوۡا یَفۡسُقُوۡنَ

তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা যখন তারা ভুলে গেল, তখন অসৎ কাজে যারা বাধা দিচ্ছিল তাদেরকে তো আমি রক্ষা করি। কিন্তু যারা সীমালংঘন করেছিল, উপর্যুপরি অবাধ্যতার কারণে তাদেরকে এক কঠোর শাস্তি দ্বারা আক্রান্ত করি।

فَلَمَّا عَتَوۡا عَنۡ مَّا نُہُوۡا عَنۡہُ قُلۡنَا لَہُمۡ کُوۡنُوۡا قِرَدَۃً خٰسِئِیۡنَ

সুতরাং তাদেরকে যে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছিল, তারা যখন তার বিপরীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল, তখন আমি তাদেরকে বললাম, ঘৃণিত বানর হয়ে যাও।

وَاِذۡ تَاَذَّنَ رَبُّکَ لَیَبۡعَثَنَّ عَلَیۡہِمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ مَنۡ یَّسُوۡمُہُمۡ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ ؕ اِنَّ رَبَّکَ لَسَرِیۡعُ الۡعِقَابِ ۚۖ وَاِنَّہٗ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ

এবং (সেই সময়ের কথা স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করলেন, তিনি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাদের উপর এমন লোকদেরকে কর্তৃত্ব দান করতে থাকবেন, যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট রকমের শাস্তি দেবে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তিদানকারী এবং নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালুও বটে।

وَقَطَّعۡنٰہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ اُمَمًا ۚ مِنۡہُمُ الصّٰلِحُوۡنَ وَمِنۡہُمۡ دُوۡنَ ذٰلِکَ ۫ وَبَلَوۡنٰہُمۡ بِالۡحَسَنٰتِ وَالسَّیِّاٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ

এবং আমি পৃথিবীতে তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেই। তাদের মধ্যে কতক ছিল সৎকর্মশীল এবং কতক অন্য রকম। আমি তাদেরকে ভালো ও মন্দ অবস্থা দ্বারা পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা (সঠিক পথের দিকে) ফিরে আসে।

فَخَلَفَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ خَلۡفٌ وَّرِثُوا الۡکِتٰبَ یَاۡخُذُوۡنَ عَرَضَ ہٰذَا الۡاَدۡنٰی وَیَقُوۡلُوۡنَ سَیُغۡفَرُ لَنَا ۚ وَاِنۡ یَّاۡتِہِمۡ عَرَضٌ مِّثۡلُہٗ یَاۡخُذُوۡہُ ؕ اَلَمۡ یُؤۡخَذۡ عَلَیۡہِمۡ مِّیۡثَاقُ الۡکِتٰبِ اَنۡ لَّا یَقُوۡلُوۡا عَلَی اللّٰہِ اِلَّا الۡحَقَّ وَدَرَسُوۡا مَا فِیۡہِ ؕ وَالدَّارُ الۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لِّلَّذِیۡنَ یَتَّقُوۡنَ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ

অতঃপর তাদের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কিতাব (অর্থাৎ তাওরাত)-এর উত্তরাধিকারী হল এমন সব উত্তরপুরুষ, যারা এই তুচ্ছ দুনিয়ার সামগ্রী (ঘুষরূপে) গ্রহণ করত এবং বলত, ‘আমাদেরকে ক্ষমা করা হবে’। কিন্তু তার অনুরূপ সামগ্রী তাদের কাছে পুনরায় আসলে তারা (ঘুষরূপে) তাও নিয়ে নিত। তাদের থেকে কি কিতাবে বর্ণিত এই সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর প্রতি সত্য ছাড়া কোন কথা আরোপ করবে না? এবং তাতে (সেই কিতাবে) যা-কিছু (লেখা) ছিল তারা তা যথারীতি পড়েওছিল। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য আখিরাতের নিবাস শ্রেষ্ঠতর। (হে ইয়াহুদীগণ!) তারপরও কি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে না?

وَالَّذِیۡنَ یُمَسِّکُوۡنَ بِالۡکِتٰبِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ ؕ اِنَّا لَا نُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُصۡلِحِیۡنَ

আর যারা কিতাবকে মজবুতভাবে ধরে রাখে ও নামায কায়েম করে, আমি এরূপ সংশোধনকারীদের কর্মফল নষ্ট করি না।

وَاِذۡ نَتَقۡنَا الۡجَبَلَ فَوۡقَہُمۡ کَاَنَّہٗ ظُلَّۃٌ وَّظَنُّوۡۤا اَنَّہٗ وَاقِعٌۢ بِہِمۡ ۚ  خُذُوۡا مَاۤ اٰتَیۡنٰکُمۡ بِقُوَّۃٍ وَّاذۡکُرُوۡا مَا فِیۡہِ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ ٪

এবং (স্মরণ কর) যখন আমি পাহাড়কে তাদের উপর এভাবে তুলে ধরেছিলাম, যেন সেটি একখানি শামিয়ানা, এবং তারা মনে করেছিল সেটি তাদের উপর পতিত হবে। (তখন আমি হুকুম দিয়েছিলাম) আমি তোমাদেরকে যে কিতাব দিয়েছি, তা আঁকড়ে ধর, ও তাতে বর্ণিত বিষয়সমূহ স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।

وَاِذۡ اَخَذَ رَبُّکَ مِنۡۢ بَنِیۡۤ اٰدَمَ مِنۡ ظُہُوۡرِہِمۡ ذُرِّیَّتَہُمۡ وَاَشۡہَدَہُمۡ عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ ۚ  اَلَسۡتُ بِرَبِّکُمۡ ؕ  قَالُوۡا بَلٰی ۚۛ  شَہِدۡنَا ۚۛ  اَنۡ تَقُوۡلُوۡا یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اِنَّا کُنَّا عَنۡ ہٰذَا غٰفِلِیۡنَ ۙ

এবং (হে রাসূল! মানুষকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদেরকে বের করেছিলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের সম্পর্কে সাক্ষী বানিয়েছিলেন (আর জিজ্ঞেস করেছিলেন যে,) আমি কি তোমাদের রব্ব নই? সকলে উত্তর দিয়েছিল, কেন নয়? আমরা সকলে (এ বিষয়ে) সাক্ষ্য দিচ্ছি (এবং এ স্বীকারোক্তি আমি এজন্য নিয়েছিলাম) যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পার যে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম।’

اَوۡ تَقُوۡلُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَشۡرَکَ اٰبَآؤُنَا مِنۡ قَبۡلُ وَکُنَّا ذُرِّیَّۃً مِّنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ۚ اَفَتُہۡلِکُنَا بِمَا فَعَلَ الۡمُبۡطِلُوۡنَ

কিংবা এরূপ না বল যে, শিরক (-এর সূচনা) তো (বহু) পূর্বে আমাদের বাপ-দাদাগণই করেছিল। আর আমরা ছিলাম তাদেরই পরবর্তী বংশধর। তবে কি বিভ্রান্ত লোকদের কৃতকর্মের কারণে আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন?

وَکَذٰلِکَ نُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ وَلَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ

এভাবেই আমি নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বিবৃত করে থাকি, যাতে মানুষ (সত্যের দিকে) ফিরে আসে।

وَاتۡلُ عَلَیۡہِمۡ نَبَاَ الَّذِیۡۤ اٰتَیۡنٰہُ اٰیٰتِنَا فَانۡسَلَخَ مِنۡہَا فَاَتۡبَعَہُ الشَّیۡطٰنُ فَکَانَ مِنَ الۡغٰوِیۡنَ

এবং (হে রাসূল!) তাদেরকে সেই ব্যক্তির ঘটনা পড়ে শোনাও, যাকে আমি আমার নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম, কিন্তু সে তা সম্পূর্ণ বর্জন করে। ফলে শয়তান তার পিছু নেয়। পরিণামে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

وَلَوۡ شِئۡنَا لَرَفَعۡنٰہُ بِہَا وَلٰکِنَّہٗۤ اَخۡلَدَ اِلَی الۡاَرۡضِ وَاتَّبَعَ ہَوٰىہُ ۚ فَمَثَلُہٗ کَمَثَلِ الۡکَلۡبِ ۚ اِنۡ تَحۡمِلۡ عَلَیۡہِ یَلۡہَثۡ اَوۡ تَتۡرُکۡہُ یَلۡہَثۡ ؕ ذٰلِکَ مَثَلُ الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ۚ فَاقۡصُصِ الۡقَصَصَ لَعَلَّہُمۡ یَتَفَکَّرُوۡنَ

আমি ইচ্ছা করলে সেই আয়াতসমূহের বদৌলতে তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করতাম। কিন্তু সে তো দুনিয়ার দিকেই ঝুঁকে পড়ল এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত ওই কুকুরের মত, যার উপর তুমি হামলা করলেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকবে, আর তাকে (তার অবস্থায়) ছেড়ে দিলেও জিহ্বা বের করে হাঁপাবে। এই হল যে সব লোক আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে তাদের দৃষ্টান্ত। সুতরাং তুমি (তাদেরকে) এসব ঘটনা শোনাতে থাক, যাতে তারা চিন্তা করে।

سَآءَ مَثَلَاۨ الۡقَوۡمُ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَاَنۡفُسَہُمۡ کَانُوۡا یَظۡلِمُوۡنَ

যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের প্রতি জুলুম করে, তাদের দৃষ্টান্ত কত মন্দ!

مَنۡ یَّہۡدِ اللّٰہُ فَہُوَ الۡمُہۡتَدِیۡ ۚ وَمَنۡ یُّضۡلِلۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ

আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, কেবল সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়, আর আল্লাহ যাদেরকে বিপথগামী করেন, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

وَلَقَدۡ ذَرَاۡنَا لِجَہَنَّمَ کَثِیۡرًا مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ ۫ۖ لَہُمۡ قُلُوۡبٌ لَّا یَفۡقَہُوۡنَ بِہَا ۫ وَلَہُمۡ اَعۡیُنٌ لَّا یُبۡصِرُوۡنَ بِہَا ۫ وَلَہُمۡ اٰذَانٌ لَّا یَسۡمَعُوۡنَ بِہَا ؕ اُولٰٓئِکَ کَالۡاَنۡعَامِ بَلۡ ہُمۡ اَضَلُّ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡغٰفِلُوۡنَ

আমি জিন ও মানুষের মধ্য হতে বহুজনকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তা দ্বারা তারা অনুধাবন করে না, তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দ্বারা দেখে না এবং তাদের কান আছে, কিন্তু তা দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তার চেয়েও বেশি বিভ্রান্ত। এরাই গাফেল।

وَلِلّٰہِ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی فَادۡعُوۡہُ بِہَا ۪ وَذَرُوا الَّذِیۡنَ یُلۡحِدُوۡنَ فِیۡۤ اَسۡمَآئِہٖ ؕ سَیُجۡزَوۡنَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ

উত্তম নামসমূহ আল্লাহরই। সুতরাং তাকে সেই সব নামেই ডাকবে। যারা তার নামের ব্যাপারে বক্র পথ অবলম্বন করে, তাদেরকে বর্জন কর। তারা যা-কিছু করছে, তাদেরকে তার বদলা দেওয়া হবে।

وَمِمَّنۡ خَلَقۡنَاۤ اُمَّۃٌ یَّہۡدُوۡنَ بِالۡحَقِّ وَبِہٖ یَعۡدِلُوۡنَ ٪

আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একটি দল আছে, যারা (মানুষকে) সত্যের পথ দেখায় এবং সেই (সত্য) অনুযায়ী ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে।

وَالَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا سَنَسۡتَدۡرِجُہُمۡ مِّنۡ حَیۡثُ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۚۖ

আর যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, আমি তাদের এমনভাবে পর্যায়ক্রমে পাকড়াও করব যে, তারা জানতেই পারবে না।

وَاُمۡلِیۡ لَہُمۡ ؕ۟ اِنَّ کَیۡدِیۡ مَتِیۡنٌ

এবং আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই আমার গুপ্ত কৌশল বড় মজবুত।

اَوَلَمۡ یَتَفَکَّرُوۡا ٜ مَا بِصَاحِبِہِمۡ مِّنۡ جِنَّۃٍ ؕ اِنۡ ہُوَ اِلَّا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ

তবে কি তারা চিন্তা করেনি যে, তাদের এই সহচর (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে উন্মাদগ্রস্ততার কিছু নেই। সে তো কেবল এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

اَوَلَمۡ یَنۡظُرُوۡا فِیۡ مَلَکُوۡتِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا خَلَقَ اللّٰہُ مِنۡ شَیۡءٍ ۙ وَّاَنۡ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنَ قَدِ اقۡتَرَبَ اَجَلُہُمۡ ۚ فَبِاَیِّ حَدِیۡثٍۭ بَعۡدَہٗ یُؤۡمِنُوۡنَ

তারা কি লক্ষ্য করেনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বে এবং আল্লাহ যে সকল জিনিস সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি এবং এর প্রতিও যে, সম্ভবত তাদের নির্ধারিত সময় কাছেই এসে পড়েছে? সুতরাং এর পর আর কোন কথায় তারা ঈমান আনবে?

مَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَلَا ہَادِیَ لَہٗ ؕ وَیَذَرُہُمۡ فِیۡ طُغۡیَانِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ

আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন, তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না; আর আল্লাহ তাদেরকে (অসহায়ভাবে) ছেড়ে দেন তাদের অবাধ্যতার ভেতর উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে।

یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ السَّاعَۃِ اَیَّانَ مُرۡسٰہَا ؕ قُلۡ اِنَّمَا عِلۡمُہَا عِنۡدَ رَبِّیۡ ۚ لَا یُجَلِّیۡہَا لِوَقۡتِہَاۤ اِلَّا ہُوَ ؕۘؔ ثَقُلَتۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ لَا تَاۡتِیۡکُمۡ اِلَّا بَغۡتَۃً ؕ یَسۡـَٔلُوۡنَکَ کَاَنَّکَ حَفِیٌّ عَنۡہَا ؕ قُلۡ اِنَّمَا عِلۡمُہَا عِنۡدَ اللّٰہِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

(হে রাসূল!) লোকে তোমাকে কিয়ামত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে, তা কখন ঘটবে? বলে দাও, এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আমার প্রতিপালকেরই আছে। তিনিই তা যথাসময়ে প্রকাশ করে দেখাবেন, অন্য কেউ নয়। আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে তা অতি ভারী বিষয়। তোমাদের কাছে তা আসবে হঠাৎ করেই। তারা তোমাকে এমনভাবে জিজ্ঞেস করে, যেন তুমি তা সম্পূর্ণরূপে জেনে রেখেছ। বলে দাও, তার জ্ঞান কেবল আল্লাহরই কাছে রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ (এ বিষয়ে) জানে না।

قُلۡ لَّاۤ اَمۡلِکُ لِنَفۡسِیۡ نَفۡعًا وَّلَا ضَرًّا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰہُ ؕ  وَلَوۡ کُنۡتُ اَعۡلَمُ الۡغَیۡبَ لَاسۡتَکۡثَرۡتُ مِنَ الۡخَیۡرِ ۚۖۛ  وَمَا مَسَّنِیَ السُّوۡٓءُ ۚۛ  اِنۡ اَنَا اِلَّا نَذِیۡرٌ وَّبَشِیۡرٌ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٪

বল, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ইচ্ছা না করেন, আমি আমার নিজেরও কোন উপকার ও অপকার করার ক্ষমতা রাখি না। আমার যদি গায়েব সম্পর্কে জানা থাকত, তবে ভালো-ভালো জিনিস প্রচুর পরিমাণে সংগ্রহ করে নিতাম এবং কোনও রকম কষ্ট আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা সেই সকল লোকের জন্য, যারা (আমার কথা) মানে।

ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّجَعَلَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا لِیَسۡکُنَ اِلَیۡہَا ۚ فَلَمَّا تَغَشّٰہَا حَمَلَتۡ حَمۡلًا خَفِیۡفًا فَمَرَّتۡ بِہٖ ۚ فَلَمَّاۤ اَثۡقَلَتۡ دَّعَوَا اللّٰہَ رَبَّہُمَا لَئِنۡ اٰتَیۡتَنَا صَالِحًا لَّنَکُوۡنَنَّ مِنَ الشّٰکِرِیۡنَ

আল্লাহ তিনি, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার স্ত্রীকে বানিয়েছেন, যাতে সে তার কাছে এসে শান্তি লাভ করতে পারে। তারপর পুরুষ যখন স্ত্রীকে আচ্ছন্ন করল, তখন স্ত্রী (গর্ভের) হালকা এক বোঝা বহন করল, যা নিয়ে সে চলাফেরা করতে থাকল। অতঃপর সে যখন ভারী হয়ে গেল, তখন (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহর কাছে দোয়া করল, তুমি যদি আমাদেরকে সুস্থ সন্তান দান কর তবে আমরা অবশ্যই তোমার কৃতজ্ঞতা আদায় করব।

فَلَمَّاۤ اٰتٰہُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَہٗ شُرَکَآءَ فِیۡمَاۤ اٰتٰہُمَا ۚ فَتَعٰلَی اللّٰہُ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ

কিন্তু আল্লাহ যখন তাদেরকে একটি সুস্থ সন্তান দান করলেন, তখন তারা আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতে আল্লাহর সঙ্গে অন্যদেরকে শরীক করল, অথচ আল্লাহ তাদের অংশীবাদীসুলভ বিষয়াদি হতে বহু ঊর্ধ্বে।

اَیُشۡرِکُوۡنَ مَا لَا یَخۡلُقُ شَیۡئًا وَّہُمۡ یُخۡلَقُوۡنَ ۫ۖ

তারা কি এমন সব জিনিসকে (আল্লাহর সাথে) শরীক মানে, যারা কোনও বস্তু সৃষ্টি করতে পারে না; বরং খোদ তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়?

وَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ لَہُمۡ نَصۡرًا وَّلَاۤ اَنۡفُسَہُمۡ یَنۡصُرُوۡنَ

এবং যারা তাদের কোনও সাহায্য করতে পারে না এবং খোদ নিজেদেরও সাহায্য করতে পারে না।

وَاِنۡ تَدۡعُوۡہُمۡ اِلَی الۡہُدٰی لَا یَتَّبِعُوۡکُمۡ ؕ سَوَآءٌ عَلَیۡکُمۡ اَدَعَوۡتُمُوۡہُمۡ اَمۡ اَنۡتُمۡ صَامِتُوۡنَ

তোমরা যদি তাদেরকে সঠিক পথের দিকে ডাক, তবে তারা তোমাদের কথা মানবে না; (বরং) তোমরা তাদেরকে ডাক বা চুপ থাক, উভয় তাদের জন্য সমান।

اِنَّ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ عِبَادٌ اَمۡثَالُکُمۡ فَادۡعُوۡہُمۡ فَلۡیَسۡتَجِیۡبُوۡا لَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে ডাক, তারা তোমাদেরই মত (আল্লাহর) বান্দা। সুতরাং তোমরা তাদের কাছে প্রার্থনা কর, অতঃপর তারা তোমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করুক যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

اَلَہُمۡ اَرۡجُلٌ یَّمۡشُوۡنَ بِہَاۤ ۫ اَمۡ لَہُمۡ اَیۡدٍ یَّبۡطِشُوۡنَ بِہَاۤ ۫ اَمۡ لَہُمۡ اَعۡیُنٌ یُّبۡصِرُوۡنَ بِہَاۤ ۫ اَمۡ لَہُمۡ اٰذَانٌ یَّسۡمَعُوۡنَ بِہَا ؕ قُلِ ادۡعُوۡا شُرَکَآءَکُمۡ ثُمَّ کِیۡدُوۡنِ فَلَا تُنۡظِرُوۡنِ

তাদের কি পা’ আছে, যা দিয়ে তারা চলবে? অথবা তাদের কি হাত আছে, যা দিয়ে তারা ধরবে? অথবা তাদের কি চক্ষু আছে, যা দিয়ে দেখবে? অথবা তাদের কি কান আছে, যা দ্বারা তারা শুনবে? (তাদের) বলে দাও, তোমরা যে সকল দেবতাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছ, তাদেরকে ডাক তারপর আমার বিরুদ্ধে কোন চক্রান্ত কর এবং আমাকে একটুও অবকাশ দিয়ো না।

اِنَّ وَلِیِّ ۦَ اللّٰہُ الَّذِیۡ نَزَّلَ الۡکِتٰبَ ۫ۖ وَہُوَ یَتَوَلَّی الصّٰلِحِیۡنَ

আমার অভিভাবক তো আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন, আর তিনি পুণ্যবানদের অভিভাবকত্ব করেন।

وَالَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ نَصۡرَکُمۡ وَلَاۤ اَنۡفُسَہُمۡ یَنۡصُرُوۡنَ

তোমরা তাকে ছেড়ে যাদেরকে ডাক, তারা তোমাদের কোনও সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং খোদ নিজেদেরও কোনও সাহায্য করতে পারে না।

وَاِنۡ تَدۡعُوۡہُمۡ اِلَی الۡہُدٰی لَا یَسۡمَعُوۡا ؕ وَتَرٰىہُمۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَیۡکَ وَہُمۡ لَا یُبۡصِرُوۡنَ

তুমি যদি তাদেরকে সঠিক পথের দিকে ডাক তবে তারা তা শুনবেও না। তুমি তাদেরকে দেখবে, যেন তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে তারা কিছুই দেখে না।

خُذِ الۡعَفۡوَ وَاۡمُرۡ بِالۡعُرۡفِ وَاَعۡرِضۡ عَنِ الۡجٰہِلِیۡنَ

(হে নবী!) তুমি ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন কর এবং (মানুষকে) সৎকাজের আদেশ দাও আর অজ্ঞদের অগ্রাহ্য করো।

وَاِمَّا یَنۡزَغَنَّکَ مِنَ الشَّیۡطٰنِ نَزۡغٌ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰہِ ؕ اِنَّہٗ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ

যদি শয়তানের পক্ষ হতে তোমাকে কোনও কুমন্ত্রণা দেওয়া হয়, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا اِذَا مَسَّہُمۡ طٰٓئِفٌ مِّنَ الشَّیۡطٰنِ تَذَکَّرُوۡا فَاِذَا ہُمۡ مُّبۡصِرُوۡنَ ۚ

যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদেরকে যখন শয়তানের পক্ষ হতে কোনও কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে, তখন তারা (আল্লাহকে) স্মরণ করে। ফলে তৎক্ষণাৎ তাদের চোখ খুলে যায়।

وَاِخۡوَانُہُمۡ یَمُدُّوۡنَہُمۡ فِی الۡغَیِّ ثُمَّ لَا یُقۡصِرُوۡنَ

আর যারা শয়তানের ভাই, শয়তানগণ তাদেরকে বিভ্রান্তির দিকে টেনে নিয়ে যায়। ফলে তারা (বিভ্রান্তি হতে) ফিরে আসে না।

وَاِذَا لَمۡ تَاۡتِہِمۡ بِاٰیَۃٍ قَالُوۡا لَوۡلَا اجۡتَبَیۡتَہَا ؕ قُلۡ اِنَّمَاۤ اَتَّبِعُ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ مِنۡ رَّبِّیۡ ۚ ہٰذَا بَصَآئِرُ مِنۡ رَّبِّکُمۡ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ

এবং (হে নবী!) তুমি যদি তাদের সামনে (তাদের ফরমায়েশী) মুজিযা উপস্থিত না কর, তবে তারা বলে, তুমি নিজে বাছাই করে এ মুজিযা পেশ করলে না কেন? বলে দাও, আমার প্রতিপালক ওহীর মাধ্যমে আমাকে যে বিষয়ে আদেশ করেন, আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি। এ কুরআন তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে জ্ঞান-তত্ত্বের সমষ্টি এবং যারা ঈমান আনে তাদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।

وَاِذَا قُرِیٴَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَہٗ وَاَنۡصِتُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ

যখন কুরআন পড়া হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত হয়।

وَاذۡکُرۡ رَّبَّکَ فِیۡ نَفۡسِکَ تَضَرُّعًا وَّخِیۡفَۃً وَّدُوۡنَ الۡجَہۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ وَلَا تَکُنۡ مِّنَ الۡغٰفِلِیۡنَ

এবং সকালে ও সন্ধ্যায় নিজ প্রতিপালককে স্মরণ কর বিনয় ও ভীতির সাথে, মনে মনে এবং অনুচ্চস্বরে মুখেও। যারা গাফলতিতে নিমজ্জিত, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

اِنَّ الَّذِیۡنَ عِنۡدَ رَبِّکَ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِہٖ وَیُسَبِّحُوۡنَہٗ وَلَہٗ یَسۡجُدُوۡنَ ٪ٛ

স্মরণ রেখ, যারা (অর্থাৎ ফিরিশতাগণ) তোমার রবের সান্নিধ্যে আছে, তারা তাঁর ইবাদত থেকে অহংকারে মুখ ফেরায় না এবং তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁরই সম্মুখে সিজদাবনত হয়।