الملك
আল-মুলক
Ayah ৩০ · Meccan · Para ২৯
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
تَبٰرَکَ الَّذِیۡ بِیَدِہِ الۡمُلۡکُ ۫ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرُۨ ۙ
মহিমাময় সেই সত্তা, যার হাতে গোটা রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর পরিপূর্ণ শক্তিমান।
الَّذِیۡ خَلَقَ الۡمَوۡتَ وَالۡحَیٰوۃَ لِیَبۡلُوَکُمۡ اَیُّکُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفُوۡرُ ۙ
যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে, কর্মে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম। তিনিই পরিপূর্ণ ক্ষমতার মালিক, অতি ক্ষমাশীল।
الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا ؕ مَا تَرٰی فِیۡ خَلۡقِ الرَّحۡمٰنِ مِنۡ تَفٰوُتٍ ؕ فَارۡجِعِ الۡبَصَرَ ۙ ہَلۡ تَرٰی مِنۡ فُطُوۡرٍ
যিনি উপর-নীচ স্তর বিশিষ্ট সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন। তুমি দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন অসঙ্গতি পাবে না। ফের দৃষ্টিপাত করে দেখ, কোন ফাটল দেখতে পাও কি?
ثُمَّ ارۡجِعِ الۡبَصَرَ کَرَّتَیۡنِ یَنۡقَلِبۡ اِلَیۡکَ الۡبَصَرُ خَاسِئًا وَّہُوَ حَسِیۡرٌ
অতঃপর বারবার দৃষ্টিপাত কর। দৃষ্টি ক্লান্ত ও ব্যর্থ হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।
وَلَقَدۡ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ وَجَعَلۡنٰہَا رُجُوۡمًا لِّلشَّیٰطِیۡنِ وَاَعۡتَدۡنَا لَہُمۡ عَذَابَ السَّعِیۡرِ
আমি নিকটবর্তী আকাশকে সাজিয়েছি উজ্জ্বল প্রদীপ দ্বারা এবং সেগুলোকে শয়তানের উপর নিক্ষেপের উপকরণও বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি।
وَلِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ عَذَابُ جَہَنَّمَ ؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ
যারা তাদের প্রতিপালকের সাথে কুফরী আচরণ করেছে, তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি। তা অতি মন্দ ঠিকানা।
اِذَاۤ اُلۡقُوۡا فِیۡہَا سَمِعُوۡا لَہَا شَہِیۡقًا وَّہِیَ تَفُوۡرُ ۙ
যখন তাদেরকে তাতে ফেলা হবে, তারা তার গর্জন শুনতে পাবে আর তা হবে উদ্বেলিত।
تَکَادُ تَمَیَّزُ مِنَ الۡغَیۡظِ ؕ کُلَّمَاۤ اُلۡقِیَ فِیۡہَا فَوۡجٌ سَاَلَہُمۡ خَزَنَتُہَاۤ اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ نَذِیۡرٌ
মনে হবে যেন তা রোষে ফেটে পড়ছে। যখনই তাতে (কাফেরদের) কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরী তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আসেনি?
قَالُوۡا بَلٰی قَدۡ جَآءَنَا نَذِیۡرٌ ۬ۙ فَکَذَّبۡنَا وَقُلۡنَا مَا نَزَّلَ اللّٰہُ مِنۡ شَیۡءٍ ۚۖ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ کَبِیۡرٍ
তারা বলবে, হাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা (তাকে) মিথ্যাবাদী ঠাওরিয়েছি এবং বলেছি, আল্লাহ কোন কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা কেবল বিরাট গোমরাহীতেই নিপতিত।
وَقَالُوۡا لَوۡ کُنَّا نَسۡمَعُ اَوۡ نَعۡقِلُ مَا کُنَّا فِیۡۤ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ
এবং তারা বলবে, আমরা যদি শুনতাম এবং বুদ্ধিকে কাজে লাগাতাম, তবে (আজ) আমরা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।
فَاعۡتَرَفُوۡا بِذَنۡۢبِہِمۡ ۚ فَسُحۡقًا لِّاَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ
এভাবে তারা নিজেরা নিজেদের গুনাহ স্বীকার করবে। অভিশাপ জাহান্নামীদের জন্য!
اِنَّ الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَیۡبِ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ کَبِیۡرٌ
(পক্ষান্তরে) যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখেই ভয় করে নিঃসন্দেহে তাদের জন্য আছে মাগফিরাত ও মহা প্রতিদান।
وَاَسِرُّوۡا قَوۡلَکُمۡ اَوِ اجۡہَرُوۡا بِہٖ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ
তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল বা প্রকাশ্যে বল (সবই তাঁর জানা। কেননা) তিনি তো অন্তর্যামী।
اَلَا یَعۡلَمُ مَنۡ خَلَقَ ؕ وَہُوَ اللَّطِیۡفُ الۡخَبِیۡرُ ٪
যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক জ্ঞাত!
ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ ذَلُوۡلًا فَامۡشُوۡا فِیۡ مَنَاکِبِہَا وَکُلُوۡا مِنۡ رِّزۡقِہٖ ؕ وَاِلَیۡہِ النُّشُوۡرُ
তিনিই তোমাদের জন্য ভূমিকে বশ্য করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তার কাঁধে চলাফেরা কর ও তাঁর (দেওয়া) রিযিক খাও। তাঁরই কাছে তোমাদেরকে পুনর্জীবিত হয়ে যেতে হবে।
ءَاَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یَّخۡسِفَ بِکُمُ الۡاَرۡضَ فَاِذَا ہِیَ تَمُوۡرُ ۙ
তোমরা কি আসমানওয়ালার থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদেরকে ভূমিতে ধসিয়ে দেবেন না, যখন তা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে?
اَمۡ اَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یُّرۡسِلَ عَلَیۡکُمۡ حَاصِبًا ؕ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ کَیۡفَ نَذِیۡرِ
নাকি তোমরা আসমানওয়ালা হতে নিশ্চিত হয়ে গেছ এ ব্যাপারে যে, তিনি তোমাদের উপর পাথর-বৃষ্টি বর্ষণ করবেন না, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?
وَلَقَدۡ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ
তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও (নবীগণকে) অবিশ্বাস করেছিল। অতঃপর (দেখ) কেমন ছিল আমার শাস্তি?
اَوَلَمۡ یَرَوۡا اِلَی الطَّیۡرِ فَوۡقَہُمۡ صٰٓفّٰتٍ وَّیَقۡبِضۡنَ ؔۘؕ مَا یُمۡسِکُہُنَّ اِلَّا الرَّحۡمٰنُ ؕ اِنَّہٗ بِکُلِّ شَیۡءٍۭ بَصِیۡرٌ
তারা কি তাদের উপর দিকে তাকিয়ে পাখীদেরকে দেখে না, যারা পাখা ছড়িয়ে দেয় আবার তা গুটিয়েও নেয়? দয়াময় (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কেউ তাদেরকে স্থির রাখেন না। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু পরিপূর্ণরূপে দেখেন।
اَمَّنۡ ہٰذَا الَّذِیۡ ہُوَ جُنۡدٌ لَّکُمۡ یَنۡصُرُکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ الرَّحۡمٰنِ ؕ اِنِ الۡکٰفِرُوۡنَ اِلَّا فِیۡ غُرُوۡرٍ ۚ
আচ্ছা, দয়াময় আল্লাহ ছাড়া সে কে, যে তোমাদের সৈন্য হয়ে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? বস্তুত কাফেরগণ নিছক ধোঁকার মধ্যে পড়ে রয়েছে।
اَمَّنۡ ہٰذَا الَّذِیۡ یَرۡزُقُکُمۡ اِنۡ اَمۡسَکَ رِزۡقَہٗ ۚ بَلۡ لَّجُّوۡا فِیۡ عُتُوٍّ وَّنُفُوۡرٍ
তিনি যদি তাঁর রিযক বন্ধ করে দেন, তবে এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযক দিতে পারে? এতদসত্ত্বেও তারা অবাধ্যতা ও সত্যবিমুখতায় অবিচল রয়েছে।
اَفَمَنۡ یَّمۡشِیۡ مُکِبًّا عَلٰی وَجۡہِہٖۤ اَہۡدٰۤی اَمَّنۡ یَّمۡشِیۡ سَوِیًّا عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ
আচ্ছা যে ব্যক্তি উল্টো হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলছে, সেই কি বেশি গন্তব্যস্থলে পৌঁছবে, না সে, যে সোজা হয়ে সরল পথে চলছে?
قُلۡ ہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَکُمۡ وَجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ
বলে দাও, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় বানিয়েছেন। (কিন্তু) তোমরা শোকর আদায় কর অল্পই।
قُلۡ ہُوَ الَّذِیۡ ذَرَاَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ وَاِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ
বলে দাও, তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্র করে নিয়ে যাওয়া হবে।
وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?
قُلۡ اِنَّمَا الۡعِلۡمُ عِنۡدَ اللّٰہِ ۪ وَاِنَّمَاۤ اَنَا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ
বলে দাও, এর জ্ঞান কেবল আল্লাহরই কাছে আছে। আমি কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
فَلَمَّا رَاَوۡہُ زُلۡفَۃً سِیۡٓـَٔتۡ وُجُوۡہُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَقِیۡلَ ہٰذَا الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تَدَّعُوۡنَ
যখন তারা তা (অর্থাৎ কিয়ামতের আযাব) আসন্ন দেখবে, তখন কাফেরদের চেহারা বিমর্ষ হয়ে পড়বে এবং বলা হবে, এটাই সেই জিনিস, যা তোমরা চাচ্ছিলে।
قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَہۡلَکَنِیَ اللّٰہُ وَمَنۡ مَّعِیَ اَوۡ رَحِمَنَا ۙ فَمَنۡ یُّجِیۡرُ الۡکٰفِرِیۡنَ مِنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ
(হে রাসূল! তাদেরকে) বলে দাও, একটু বল তো, আল্লাহ আমাকে ও আমার সঙ্গীদেরকে ধ্বংস করুন বা আমাদের প্রতি রহমত করুন (উভয় অবস্থায়) কাফেরদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তি হতে কে রক্ষা করবে?
قُلۡ ہُوَ الرَّحۡمٰنُ اٰمَنَّا بِہٖ وَعَلَیۡہِ تَوَکَّلۡنَا ۚ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ ہُوَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ
বলে দাও, তিনি দয়াময় (আল্লাহ)। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা তাঁরই উপর ভরসা করেছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত।
قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَصۡبَحَ مَآؤُکُمۡ غَوۡرًا فَمَنۡ یَّاۡتِیۡکُمۡ بِمَآءٍ مَّعِیۡنٍ ٪
বলে দাও, একটু বল তো, কোন ভোরে তোমাদের পানি যদি ভূগর্ভে অন্তর্হিত হয়ে যায়, তবে কে তোমাদেরকে প্রস্রবণ হতে প্রবাহিত পানি এনে দেবে?