القلم

القلم

আল-কালাম

Ayah ৫২ · Meccan · Para ২৯

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

نٓ وَالۡقَلَمِ وَمَا یَسۡطُرُوۡنَ ۙ

নূন। (হে রাসূল!) শপথ কলমের এবং তারা যা লিখছে তার।

مَاۤ اَنۡتَ بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ بِمَجۡنُوۡنٍ ۚ

স্বীয় প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি উন্মাদ নও।

وَاِنَّ لَکَ لَاَجۡرًا غَیۡرَ مَمۡنُوۡنٍ ۚ

নিশ্চয়ই তোমার জন্য আছে অনিঃশেষ প্রতিদান।

وَاِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ

এবং নিশ্চয়ই তুমি অধিষ্ঠিত আছ মহান চরিত্রে।

فَسَتُبۡصِرُ وَیُبۡصِرُوۡنَ ۙ

সুতরাং অচিরেই তুমি দেখবে এবং তারাও দেখতে পাবে—

بِاَىیِّکُمُ الۡمَفۡتُوۡنُ

তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত—।

اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ۪ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ভালোভাবে জানেন সেই ব্যক্তিকে, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং ভালোভাবে জানেন সঠিক পথপ্রাপ্তদেরকেও।

فَلَا تُطِعِ الۡمُکَذِّبِیۡنَ

সুতরাং যারা (তোমাকে) মিথ্যাবাদী বলে, তুমি তাদের কথায় চলো না।

وَدُّوۡا لَوۡ تُدۡہِنُ فَیُدۡہِنُوۡنَ

তারা চায় তুমি নমনীয় হলে তারাও নমনীয় হবে।

وَلَا تُطِعۡ کُلَّ حَلَّافٍ مَّہِیۡنٍ ۙ

এবং অত্যধিক কসমকারী হীন ব্যক্তির কথায়ও চলো না,

ہَمَّازٍ مَّشَّآءٍۭ بِنَمِیۡمٍ ۙ

যে নিন্দা করতে অভ্যস্ত, চুগলি করে বেড়ায়,

مَّنَّاعٍ لِّلۡخَیۡرِ مُعۡتَدٍ اَثِیۡمٍ ۙ

সৎকাজে বাধাদানকারী, সীমালংঘনকারী, পাপিষ্ঠ,

عُتُلٍّۭ بَعۡدَ ذٰلِکَ زَنِیۡمٍ ۙ

রূঢ় স্বভাব, তাছাড়া অজ্ঞাতকুলশীল।

اَنۡ کَانَ ذَا مَالٍ وَّبَنِیۡنَ ؕ

এই কারণে যে, সে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধ।

اِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِ اٰیٰتُنَا قَالَ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ

তার সামনে যখন আমার আয়াতসমূহ পড়া হয়, তখন সে বলে, (এটা তো) অতীত লোকদের কিসসা-কাহিনী।

سَنَسِمُہٗ عَلَی الۡخُرۡطُوۡمِ

আমি অচিরেই তার শুঁড় দাগিয়ে দেব।

اِنَّا بَلَوۡنٰہُمۡ کَمَا بَلَوۡنَاۤ اَصۡحٰبَ الۡجَنَّۃِ ۚ  اِذۡ اَقۡسَمُوۡا لَیَصۡرِمُنَّہَا مُصۡبِحِیۡنَ ۙ

আমি তাদেরকে (অর্থাৎ মক্কাবাসীকে) পরীক্ষায় ফেলেছি, যেমন পরীক্ষায় ফেলেছিলাম (এক) বাগানওয়ালাদেরকে, যখন তারা শপথ করেছিল, ভোর হওয়া মাত্র আমরা বাগানের ফসল কাটব।

وَلَا یَسۡتَثۡنُوۡنَ

এবং (একথা বলার সময়) তারা কোন ব্যতিক্রম রাখছিল না।

فَطَافَ عَلَیۡہَا طَآئِفٌ مِّنۡ رَّبِّکَ وَہُمۡ نَآئِمُوۡنَ

অতঃপর তারা যখন নিদ্রিত ছিল, তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সেই বাগানে হানা দিল এক উপদ্রব,

فَاَصۡبَحَتۡ کَالصَّرِیۡمِ ۙ

ফলে ভোরবেলা তা হয়ে গেল কাটা ক্ষেতের মত।

فَتَنَادَوۡا مُصۡبِحِیۡنَ ۙ

ভোর হতেই তারা একে অন্যকে ডাক দিল।

اَنِ اغۡدُوۡا عَلٰی حَرۡثِکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰرِمِیۡنَ

তোমরা ফসল কাটতে চাইলে ভোর বেলায়ই ক্ষেতে চল।

فَانۡطَلَقُوۡا وَہُمۡ یَتَخَافَتُوۡنَ ۙ

সুতরাং তারা চুপিসারে একে অন্যকে এই বলতে বলতে রওয়ানা হল

اَنۡ لَّا یَدۡخُلَنَّہَا الۡیَوۡمَ عَلَیۡکُمۡ مِّسۡکِیۡنٌ ۙ

যে, আজ যেন কোন মিসকীন তোমাদের কাছে এ বাগানে ঢুকতে না পারে।

وَّغَدَوۡا عَلٰی حَرۡدٍ قٰدِرِیۡنَ

এবং তারা সতেজে বের হয়ে পড়ল শক্তিমত্তার সাথে।

فَلَمَّا رَاَوۡہَا قَالُوۡۤا اِنَّا لَضَآلُّوۡنَ ۙ

অতঃপর যখন বাগানটি দেখল, বলে উঠল, আমরা নিশ্চয়ই রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি।

بَلۡ نَحۡنُ مَحۡرُوۡمُوۡنَ

(কিছুক্ষণ পর বলল) না, বরং আমরা তো হৃতসর্বস্ব।

قَالَ اَوۡسَطُہُمۡ اَلَمۡ اَقُلۡ لَّکُمۡ لَوۡلَا تُسَبِّحُوۡنَ

তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে ভালো ছিল, সে বলল, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা তাসবীহ পড়ছ না কেন?

قَالُوۡا سُبۡحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیۡنَ

তখন তারা বলল, আমরা আমাদের প্রতিপালকের তাসবীহ (তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা) করছি। নিশ্চয়ই আমরা জালেম ছিলাম।

فَاَقۡبَلَ بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَلَاوَمُوۡنَ

তারপর তারা একে অন্যের দিকে মুখ করে পরস্পরকে দোষারোপ করতে লাগল।

قَالُوۡا یٰوَیۡلَنَاۤ اِنَّا کُنَّا طٰغِیۡنَ

তারপর সকলে (একযোগে) বলল, হায় আফসোস! নিশ্চয়ই আমরা অবাধ্য হয়ে গিয়েছিলাম।

عَسٰی رَبُّنَاۤ اَنۡ یُّبۡدِلَنَا خَیۡرًا مِّنۡہَاۤ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا رٰغِبُوۡنَ

অসম্ভব কিছু নয়, আমাদের প্রতিপালক এ বাগানের পরিবর্তে আমাদেরকে আরও উৎকৃষ্ট বাগান দান করবেন। আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হচ্ছি।

کَذٰلِکَ الۡعَذَابُ ؕ  وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَکۡبَرُ ۘ  لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ ٪

শাস্তি এমনই হয়ে থাকে। আর নিশ্চয়ই আখেরাতের শাস্তি কঠিনতর যদি তারা জানত!

اِنَّ لِلۡمُتَّقِیۡنَ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ

তবে মুত্তাকীদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে নি‘আমতপূর্ণ উদ্যানরাজি।

اَفَنَجۡعَلُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ کَالۡمُجۡرِمِیۡنَ ؕ

আচ্ছা, আমি কি অনুগতদেরকে অপরাধীদের সমান গণ্য করব?

مَا لَکُمۡ ٝ  کَیۡفَ تَحۡکُمُوۡنَ ۚ

তোমাদের কী হল? তোমরা কী রকমের সিদ্ধান্ত করছ?

اَمۡ لَکُمۡ کِتٰبٌ فِیۡہِ تَدۡرُسُوۡنَ ۙ

তোমাদের কাছে কি এমন কোন কিতাব আছে, যার ভেতর তোমরা পড়ছ

اِنَّ لَکُمۡ فِیۡہِ لَمَا تَخَیَّرُوۡنَ ۚ

যে, সেখানে তোমরা যা পছন্দ কর তাই পাবে?

اَمۡ لَکُمۡ اَیۡمَانٌ عَلَیۡنَا بَالِغَۃٌ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۙ  اِنَّ لَکُمۡ لَمَا تَحۡکُمُوۡنَ ۚ

নাকি তোমরা আমার থেকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এমন কসম নিয়ে রেখেছ যে, তোমরা যা স্থির করবে তাই সেখানে পাবে?

سَلۡہُمۡ اَیُّہُمۡ بِذٰلِکَ زَعِیۡمٌ ۚۛ

(হে রাসূল!) তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তাদের মধ্যে কে এ বিষয়ের যিম্মাদার?

اَمۡ لَہُمۡ شُرَکَآءُ ۚۛ فَلۡیَاۡتُوۡا بِشُرَکَآئِہِمۡ اِنۡ کَانُوۡا صٰدِقِیۡنَ

না কি (আল্লাহর প্রভুত্বে) তাদের (বিশ্বাস মত) কোন শরীক আছে (যারা এই নিশ্চয়তা গ্রহণ করেছে)? তাহলে তারা তাদের সেই শরীকদেরকে উপস্থিত করুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়!

یَوۡمَ یُکۡشَفُ عَنۡ سَاقٍ وَّیُدۡعَوۡنَ اِلَی السُّجُوۡدِ فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ۙ

যে দিন ‘সাক’ খুলে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে সিজদার জন্য ডাকা হবে, তখন তারা (সিজদা করতে) সক্ষম হবে না।

خَاشِعَۃً اَبۡصَارُہُمۡ تَرۡہَقُہُمۡ ذِلَّۃٌ ؕ وَقَدۡ کَانُوۡا یُدۡعَوۡنَ اِلَی السُّجُوۡدِ وَہُمۡ سٰلِمُوۡنَ

তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনত। হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখবে, অথচ যখন তারা সুস্থ ও নিরাপদ ছিল, তখনও তাদেরকে সিজদার জন্য ডাকা হত (তখন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা সিজদা করত না)।

فَذَرۡنِیۡ وَمَنۡ یُّکَذِّبُ بِہٰذَا الۡحَدِیۡثِ ؕ  سَنَسۡتَدۡرِجُہُمۡ مِّنۡ حَیۡثُ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ

সুতরাং (হে রাসূল!) যারা এ বাণীকে প্রত্যাখ্যান করছে তাদেরকে আমার উপর ছেড়ে দাও। আমি তাদেরকে এমনভাবে ক্রমান্বয়ে (ধ্বংসের দিকে) নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না।

وَاُمۡلِیۡ لَہُمۡ ؕ اِنَّ کَیۡدِیۡ مَتِیۡنٌ

আর আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়ে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই আমার কৌশল বড় শক্ত।

اَمۡ تَسۡـَٔلُہُمۡ اَجۡرًا فَہُمۡ مِّنۡ مَّغۡرَمٍ مُّثۡقَلُوۡنَ ۚ

তুমি কি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ যে, তারা জরিমানা-ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ছে?

اَمۡ عِنۡدَہُمُ الۡغَیۡبُ فَہُمۡ یَکۡتُبُوۡنَ

না কি তাদের কাছে গায়েবের জ্ঞান আছে, যা তারা লিখে রাখছে।

فَاصۡبِرۡ لِحُکۡمِ رَبِّکَ وَلَا تَکُنۡ کَصَاحِبِ الۡحُوۡتِ ۘ  اِذۡ نَادٰی وَہُوَ مَکۡظُوۡمٌ ؕ

মোদ্দাকথা তুমি তোমার প্রতিপালকের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সবর করতে থাক এবং মাছ-সম্পর্কিত ব্যক্তির মত হয়ো না, যখন সে (আমাকে) ডেকেছিল বেদনার্ত অবস্থায়।

لَوۡلَاۤ اَنۡ تَدٰرَکَہٗ نِعۡمَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ لَنُبِذَ بِالۡعَرَآءِ وَہُوَ مَذۡمُوۡمٌ

তাঁর প্রতিপালকের অনুগ্রহ যদি তাকে না আগলাত, তবে সে খোলা ময়দানে নিক্ষিপ্ত হত নিকৃষ্ট অবস্থায়।

فَاجۡتَبٰہُ رَبُّہٗ فَجَعَلَہٗ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ

অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।

وَاِنۡ یَّکَادُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَیُزۡلِقُوۡنَکَ بِاَبۡصَارِہِمۡ لَمَّا سَمِعُوا الذِّکۡرَ وَیَقُوۡلُوۡنَ اِنَّہٗ لَمَجۡنُوۡنٌ ۘ

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা যখন উপদেশ-বাণী শোনে, তখন মনে হয় তারা যেন তাদের (তীব্র) দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়িয়ে দেবে এবং তারা বলে, এই ব্যক্তি তো পাগল।

وَمَا ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ٪

অথচ এটা তো বিশ্বজগতের জন্য কেবলই উপদেশ।