الإنسان

الإنسان

আল-ইনসান

Ayah ৩১ · Medinan · Para ২৯

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

ہَلۡ اَتٰی عَلَی الۡاِنۡسَانِ حِیۡنٌ مِّنَ الدَّہۡرِ لَمۡ یَکُنۡ شَیۡئًا مَّذۡکُوۡرًا

মানুষের উপর কখনও এমন সময় এসেছে কি, যখন সে উল্লেখযোগ্য কোন বস্তু ছিল না?

اِنَّا خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ اَمۡشَاجٍ ٭ۖ نَّبۡتَلِیۡہِ فَجَعَلۡنٰہُ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু হতে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য। তারপর তাকে বানিয়েছি শ্রবণকারী ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।

اِنَّا ہَدَیۡنٰہُ السَّبِیۡلَ اِمَّا شَاکِرًا وَّاِمَّا کَفُوۡرًا

আমি তাকে পথ দেখিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে অথবা হবে অকৃতজ্ঞ।

اِنَّاۤ اَعۡتَدۡنَا لِلۡکٰفِرِیۡنَ سَلٰسِلَا۠ وَاَغۡلٰلًا وَّسَعِیۡرًا

আমি কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করেছি শিকল, গলার বেড়ি ও প্রজ্বলিত আগুন।

اِنَّ الۡاَبۡرَارَ یَشۡرَبُوۡنَ مِنۡ کَاۡسٍ کَانَ مِزَاجُہَا کَافُوۡرًا ۚ

নিশ্চয়ই পুণ্যবানেরা এমন পানপাত্র হতে (পানীয়) পান করবে, যাতে কাফূর মিশ্রিত থাকবে।

عَیۡنًا یَّشۡرَبُ بِہَا عِبَادُ اللّٰہِ یُفَجِّرُوۡنَہَا تَفۡجِیۡرًا

সে পানীয় হবে এমন প্রস্রবণের, যা থেকে আল্লাহর (নেক) বান্দাগণ পান করবে। তারা তা (যেথা ইচ্ছা) সহজে প্রবাহিত করে নিয়ে যাবে।

یُوۡفُوۡنَ بِالنَّذۡرِ وَیَخَافُوۡنَ یَوۡمًا کَانَ شَرُّہٗ مُسۡتَطِیۡرًا

তারা ওইসব লোক, যারা নিজ মানত পূর্ণ করে এবং অন্তরে সেই দিনের ভয় রাখে, যার অনিষ্ট চারদিকে বিস্তৃত থাকবে।

وَیُطۡعِمُوۡنَ الطَّعَامَ عَلٰی حُبِّہٖ مِسۡکِیۡنًا وَّیَتِیۡمًا وَّاَسِیۡرًا

তারা আল্লাহর ভালোবাসায় মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীদেরকে খাবার দান করে।

اِنَّمَا نُطۡعِمُکُمۡ لِوَجۡہِ اللّٰہِ لَا نُرِیۡدُ مِنۡکُمۡ جَزَآءً وَّلَا شُکُوۡرًا

(এবং তাদেরকে বলে,) আমরা তো তোমাদেরকে খাওয়াই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে। আমরা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও না।

اِنَّا نَخَافُ مِنۡ رَّبِّنَا یَوۡمًا عَبُوۡسًا قَمۡطَرِیۡرًا

আমরা তো আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ভয় করি, এমন এক দিনের যে দিন চেহারা ভীষণভাবে বিকৃত হয়ে যাবে।

فَوَقٰہُمُ اللّٰہُ شَرَّ ذٰلِکَ الۡیَوۡمِ وَلَقّٰہُمۡ نَضۡرَۃً وَّسُرُوۡرًا ۚ

পরিণামে আল্লাহ তাদেরকে সেই দিনের অনিষ্ট হতে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে উৎফুল্লতা ও আনন্দ দান করবেন।

وَجَزٰىہُمۡ بِمَا صَبَرُوۡا جَنَّۃً وَّحَرِیۡرًا ۙ

এবং তারা যে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিল তার প্রতিদানে তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী পোশাক দান করবেন।

مُّتَّکِـِٕیۡنَ فِیۡہَا عَلَی الۡاَرَآئِکِ ۚ  لَا یَرَوۡنَ فِیۡہَا شَمۡسًا وَّلَا زَمۡہَرِیۡرًا ۚ

তারা তাতে (জান্নাতে) আরামদায়ক উচ্চ আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, যেখানে তারা কোন রোদ-তাপ বোধ করবে না এবং অতিশয় শীতও না।

وَدَانِیَۃً عَلَیۡہِمۡ ظِلٰلُہَا وَذُلِّلَتۡ قُطُوۡفُہَا تَذۡلِیۡلًا

অবস্থা এমন হবে যে, সে উদ্যানের ছায়া তাদের উপর নামানো থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করে দেওয়া হবে।

وَیُطَافُ عَلَیۡہِمۡ بِاٰنِیَۃٍ مِّنۡ فِضَّۃٍ وَّاَکۡوَابٍ کَانَتۡ قَؔوَارِیۡرَا۠ ۙ

এবং তাদের সামনে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে ও স্ফটিকের পেয়ালায়।

قَؔ‍وَارِیۡرَا۠ مِنۡ فِضَّۃٍ قَدَّرُوۡہَا تَقۡدِیۡرًا

স্ফটিকও রুপার, পরিবেশনকারীরা তা যথাযথ পরিমাণে ভরে দেবে।

وَیُسۡقَوۡنَ فِیۡہَا کَاۡسًا کَانَ مِزَاجُہَا زَنۡجَبِیۡلًا ۚ

সেখানে এমন পেয়ালায় তাদেরকে পান করতে দেওয়া হবে, যার (পানীয়ের) মিশ্রণ হবে আদা

عَیۡنًا فِیۡہَا تُسَمّٰی سَلۡسَبِیۡلًا

সেখানকার এমন প্রস্রবণ হতে, যার নাম সালসাবিল।

وَیَطُوۡفُ عَلَیۡہِمۡ وِلۡدَانٌ مُّخَلَّدُوۡنَ ۚ اِذَا رَاَیۡتَہُمۡ حَسِبۡتَہُمۡ لُؤۡلُؤًا مَّنۡثُوۡرًا

তাদের সামনে (সেবার জন্য) ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। তুমি যখন তাদেরকে দেখবে, তোমার মনে হবে তারা ছড়িয়ে দেওয়া মণি-মুক্তা।

وَاِذَا رَاَیۡتَ ثَمَّ رَاَیۡتَ نَعِیۡمًا وَّمُلۡکًا کَبِیۡرًا

এবং তুমি যখন সে স্থান দেখবে, তখন তুমি দেখতে পাবে নি‘আমতপূর্ণ এক জগত ও বিশাল রাজ্য।

عٰلِیَہُمۡ ثِیَابُ سُنۡدُسٍ خُضۡرٌ وَّاِسۡتَبۡرَقٌ ۫ وَّحُلُّوۡۤا اَسَاوِرَ مِنۡ فِضَّۃٍ ۚ وَسَقٰہُمۡ رَبُّہُمۡ شَرَابًا طَہُوۡرًا

তাদের উপর থাকবে সবুজ রংয়ের মিহি রেশমী পোশাক ও মোটা রেশমী কাপড়। তাদেরকে রূপার কাঁকন দ্বারা সজ্জিত করা হবে এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে অতি পবিত্র পানীয় পান করাবেন।

اِنَّ ہٰذَا کَانَ لَکُمۡ جَزَآءً وَّکَانَ سَعۡیُکُمۡ مَّشۡکُوۡرًا ٪

এবং (বলবেন), এটা তোমাদের পুরস্কার এবং তোমরা (দুনিয়ায়) যে মেহনত করেছিলে তার পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করা হল।

اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ تَنۡزِیۡلًا ۚ

(হে রাসূল!) আমিই তোমার উপর কুরআন নাযিল করেছি অল্প-অল্প করে।

فَاصۡبِرۡ لِحُکۡمِ رَبِّکَ وَلَا تُطِعۡ مِنۡہُمۡ اٰثِمًا اَوۡ کَفُوۡرًا ۚ

সুতরাং তুমি নিজ প্রতিপালকের নির্দেশের উপর অবিচলিত থাক এবং তাদের মধ্যকার কোন গুনাহগার বা কাফেরের আনুগত্য করো না।

وَاذۡکُرِ اسۡمَ رَبِّکَ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا ۖۚ

এবং নিজ প্রতিপালকের নামের যিকির কর সকাল ও সন্ধ্যায়।

وَمِنَ الَّیۡلِ فَاسۡجُدۡ لَہٗ وَسَبِّحۡہُ لَیۡلًا طَوِیۡلًا

এবং রাতের কিছু অংশেও তাঁর সম্মুখে সিজদা কর এবং রাতের দীর্ঘক্ষণ তার তাসবীহতে রত থাক।

اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ یُحِبُّوۡنَ الۡعَاجِلَۃَ وَیَذَرُوۡنَ وَرَآءَہُمۡ یَوۡمًا ثَقِیۡلًا

তারা তো (দুনিয়ার) নগদ জিনিসকে ভালোবাসে এবং তাদের সামনে যে কঠিন দিন আসছে তাকে উপেক্ষা করছে।

نَحۡنُ خَلَقۡنٰہُمۡ وَشَدَدۡنَاۤ اَسۡرَہُمۡ ۚ وَاِذَا شِئۡنَا بَدَّلۡنَاۤ اَمۡثَالَہُمۡ تَبۡدِیۡلًا

আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাদের গ্রন্থিবন্ধন দৃঢ় করেছি এবং আমি যখন ইচ্ছা করব তাদের পরিবর্তে তাদের অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করব।

اِنَّ ہٰذِہٖ تَذۡکِرَۃٌ ۚ فَمَنۡ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰی رَبِّہٖ سَبِیۡلًا

বস্তুত এটা এক উপদেশবাণী। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের দিকের পথ অবলম্বন করুক।

وَمَا تَشَآءُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ٭ۖ

আর তোমরা ইচ্ছা করবে না, যাবৎ না আল্লাহ ইচ্ছা করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

یُّدۡخِلُ مَنۡ یَّشَآءُ فِیۡ رَحۡمَتِہٖ ؕ  وَالظّٰلِمِیۡنَ اَعَدَّ لَہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ٪

তিনি যাকে ইচ্ছা করেন নিজ রহমতের ভেতর দাখিল করে নেন আর যারা জালেম, তাদের জন্য তিনি যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।