শিরক, বিদ‘আত ও জাহিলিয়্যাতের প্রথা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৬ মে, ২০২২ঈমান আক্বাইদ, অপসংস্কৃতি ও বাতিল সম্প্রদায়

নিম্ন লিখিত কাজগুলো শিরক, এসব হতে দূরে থাকা কর্তব্য

(১) কোন পীর বুযুর্গ এমনকি কোন নবী সম্বন্ধে এ রকম আক্বীদা রাখা যে, তিনি সব সময় আমাদের সব অবস্থা জানেন।

(২) জ্যোতিষী, গণকঠাকুরদের নিকট অদৃষ্টের কথা জিজ্ঞাস করা।

(৩) কোন পীর বুযুর্গের কবরের নিকট আওলাদ বা অন্য কোন উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে প্রার্থনা করা।

(৪) পীর বা কবরকে সিজদা করা।

 (৫) কোন পীর বুযুর্গের নামে শিরনী সদকা বা মান্নত মানা।

(৬) কোন পীর-বুযুর্গের দরগাহ বা কবরের চতুর্দিক দিয়ে তওয়াফ করা।

(৭) কোন পীর বুযুর্গ বা অন্য কারো নামে জানোয়ার যবেহ করা বা কারো দোহাই দেয়া।

(৮) কোন পীর বুযুর্গ বা অন্য কারো নামে ছেলের নাক, কান ছিদ্র করা, আংটি পরানো, চুল রাখা, টিকা রাখা।

(৯) কোন জিনিসের বা ব্যারাম-পীড়ার (রোগের) ছুত লাগে বলে বিশ্বাস করা।

(১০) ভালো মন্দ বার বা তারিখ জিজ্ঞাসা করা। যেমন, অনেকে জিজ্ঞাসা করে এই বারে বিবাহ শুভ কিনা? কোন্ দিনে নতুন ঘরে যেতে হয়? রোববারে বাঁশ কাটা যায় কিনা? ইত্যাদি।

(১১) পীরের বাড়ি বা কোন বুযুর্গের দরগাহ বা তীর্থকে কাবা শরীফের মত আদব বা তাযিম করা।

(১২) কোন জিনিস হতে কুলক্ষণ ধরা বা কুযাত্রা মনে করা। যেমন- যাত্রামুখে কেউ হাঁচি দিলে অনেকে সেটাকে কুযাত্রা মনে করে থাকে।

(১৩) কোন দিন বা মাসকে অশুভ মনে করা।

(১৪) কোন বুযুর্গের নাম অযিফার মত জপ করা।

(১৫) কারো নামের কসম খাওয়া বা যিকির করা। কাউকে পরম পূজনীয় সম্বোধন করে লেখা। কষ্ট না করলে কেষ্ট পাওয়া যায় না বলা। জয়কালী নেগাহবান, ইত্যাদি বলা।

(১৬) ছবি, ফটো বা মূর্তি রাখা বিশেষ করে কোন বুযুর্গের ফটো তাযীমের জন্য রাখা।

 কিছু বিদ‘আতের আলোচনা

(১) কোন বুযুর্গের মাযারে ধুমধামের সাথে ’উরস’ করা, মেলা বসানো বাতি জ্বালানো।

(২) মেয়ে লোকের বিভিন্ন দরগায় যাওয়া।

(৩) কবরের উপর চাদর,আগরবাতি,মোমবাতি ও ফল দেওয়া।

(৪) কোন বুযুর্গকে সন্তুষ্ট করার জন্যে শরী‘আতের সীমারেখার বেশি তাযীম করা।

(৬) কবরে চুমো খাওয়া।

(৭) কোন কোন অজ্ঞ লেখক আজমীর শরীফ, বাজেবোস্তান, পীরানে কার্লিয়ার ইত্যাদিকে মুসলমানদের তীর্থস্থান বলে উল্লেখ করেছে, তা দেখে তীর্থ গমনের ন্যায় সেসব স্থানে যাওয়া।

(৮) কবরে গম্বুজ বানানো।

জাহিলিয়্যাতের কিছু প্রথার বর্ণনা

(১) ছেলে-মেয়েদেরকে কুরআন ইলমে দীন শিক্ষা না দিয়ে মূর্খ বানিয়ে রাখা বা কু-শিক্ষায়, অসৎ সঙ্গে লিপ্ত হতে সহায়তা করা।

(২) বিধবা বিবাহকে দূষণীয় মনে করা।

(৩) বিবাহের সময় সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও সমস্ত দেশাচার-রসম পালন করা।

(৪) বিবাহে নাচ-গান করানো।

(৫) হিন্দুদের উৎসবে যোগদান করা।

(৬) মেয়েলোকদের দেবর, ভাসুর, মামাত, ফুফাত, খালাত, চাচাত ভাইদের বা ভগ্নীপতি, বেয়াই, নন্দাই ইত্যাদির সঙ্গে হাসি মশকরা করা বা তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করা কিংবা পথে ঘাটে বেড়ানো।

(৭) গান-বাদ্য শুনা।

(৮) জারি, যাত্রা, কীর্তন,গাজীর গীত, থিয়েটার, বায়োস্কোপ, ষাঁড় লড়াই, মোরগ লড়াই ইত্যাদিতে যোগদান করা।

(৯) সারঙ্গ, বেহালা, হারমোনিয়াম, গ্রামোফোন ইত্যাদি বাজানো বা শুনা।

(১০) গান-গীত গাওয়া, বিশেষত খাজাবাবার উরসের নামে গান করা বা শোনাকে সাওয়াবের কাজ মনে করা।

(১১) কোন হালাল পেশাকে অপমানের বিষয় মনে করা। যেমন: দপ্তরির কাজ করা, মাঝিগিরি, দর্জিগিরি করা বা মাছ বিক্রি করা ইত্যাদি।

(১২) গীত গেয়ে স্ত্রী পুরুষ একত্রিত হয়ে বরকনেকে গোসল দেয়া।

(১৩) পুরুষদের জন্য সোনার আংটি, চেইন ইত্যাদি পরা বা পরানো।

(১৪) পুরুষদের জন্য হাতে পায়ে বা নখে মেহেদী লাগানো। কিন্তু মেয়েলোকের জন্য মেহেদী লাগানো মুস্তাহাব।

(১৫) আতশবাজী করা।

(১৬) বিবাহে কাগজ কেটে বা কলাগাছ গেড়ে গেট সাজানো।

(১৭) কেউ মরে গেলে চিৎকার করে, মুখ বুক পিটিয়ে বা মৃত ব্যক্তির গুণাবলী বর্ণনা করে ক্রন্দন করা।

(১৮) ধুতি, হাফপ্যান্ট বা পায়ের গোড়ালী ঢাকা কিংবা টাইট ফিটিং প্যান্ট পরা, বা হ্যাট, টাই পরা।

শিরক, বিদ‘আত ও জাহিলিয়্যাতের প্রথা | ইসলামী যিন্দেগী