হুকুকুল ইবাদ
পিতা-মাতার হক
পিতা-মাতার হক জানা এবং সন্তানের তা পালন করা একান্ত কর্তব্য। পিতা-মাতার হক ১৪টি। জীবিত অবস্থায় ৭টি, মৃত্যুর পরে ৭টি।
জীবিত অবস্থায় ৭টিঃ
১. পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। ২. মনে প্রাণে মহব্বত করা। ৩. সর্বদা তাদেরকে মেনে চলা। ৪. তাদের খিদমত করা। ৫. তাদের প্রয়োজন পুরা করা। ৬. সর্বদা তাদের আরাম পৌঁছানোর চিন্তা-ভাবনা করা। ৭. নিয়মিত তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা।
মৃত্যুর পর ৭টিঃ
১. তাদের মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করা। ২. সাওয়াব রেসানী করা। ৩. তাদের সাথী-সঙ্গী ও আত্মীয়-স্বজনের সম্মান করা। ৪. তাদের সাথী-সঙ্গী ও আত্মীয়-স্বজনের সাহায্য-সহায়তা করা। ৫. ঋণ পরিশোধ ও আমানত আদায় করা। ৬. তাদের শরীয়তসম্মত অসীয়ত পূর্ণ করা। ৭. মাঝে মাঝে তাদের কবর যিয়ারত করা।
পিতা মাতার দায়িত্বে সন্তানের হক
সন্তানের দায়িত্বে যেমন মা-বাপের হক রয়েছে তেমনি মা-বাপের দায়িত্বেও সন্তানের কিছু হক রয়েছে, যেমন-
১. সতী সাধ্বী ও চরিত্রবান মহিলাকে বিবাহ করা যাতে তার গর্ভে সুসন্তান জন্ম লাভ করে।
২. শিশুকালে যত্ন ও স্নেহ মমতার সাথে সন্তানদেরকে লালন-পালন করা। এর অনেক ফযীলত রয়েছে।
বিশেষতঃ কন্যা সন্তানের লালন-পালনের ব্যাপারে মনে কোন সংকোচ দেখা না দেয়া। কন্যা সন্তান লালন-পালনের ফযীলত অপরিসীম। ধাত্রীর দুধপান করাতে হলে চরিত্রবান ও দীনদার ধাত্রী খুঁজে নেওয়া। কেননা শিশুর চরিত্র গঠনে দুধের প্রভাব অবশ্যই পড়ে থাকে।
৩. দীনী ইলম ও আদব শিক্ষা দেওয়া।
৪. বিবাহের বয়স হলে অবিলম্বে বিবাহ দেওয়া । বিবাহিতা কন্যার যদি স্বামী মারা যায়, তাহলে দ্বিতীয় বিবাহ হওয়া পর্যন্ত নিজের ঘরে তাকে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করা।
স্বামী-স্ত্রীর হক
স্বামীর দায়িত্বে স্ত্রীর হক হলো
১. সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে অবহেলা না করা।
২. স্ত্রীকে দীনী মাসআলা-মাসায়েল শিখাতে থাকা এবং নেক কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে থাকা।
৩. মাহরাম আত্মীয়-স্বজনের সাথে মাঝে মাঝে দেখা-সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেয়া এবং তাদের অসাবধানতা ও বুদ্ধিমত্তার অভাবে কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে গেলে ধৈর্য্য ধারণ করা। কখনো শাসন ও সংশোধনের প্রয়োজন হলে ভারসাম্য রক্ষা করা।
স্ত্রীর দায়িত্বে স্বামীর হক
১. যথাযথভাবে স্বামীর আনুগত্য করা, আদব, খেদমত, মন জয় ও সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। তবে শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ হলে এত অপারগতা প্রকাশ করবে।
২. স্বামীর সামর্থ্যের অতিরিক্ত কোন চাপ সৃষ্টি না করা।
৩. অনুমতি ছাড়া স্বামীর সম্পদ ব্যয় না করা।
৪. স্বামীর আত্মীয় ও আপনজনদের সাথে এমন ব্যবহার না করা যাতে তার মনে কষ্ট হয়। বিশেষতঃ স্বামীর মা-বাপকে শ্রদ্ধা ও সেবার পাত্র মনে করে যথাসম্ভব শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও সেবা করা।