হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি ‘আলিমুল গায়েব ছিলেন?
হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি ‘আলিমুল গায়েব তথা পূর্বাপর এবং বর্তমানের সকল বিষয়ে অবগত ছিলেন?
‘আলিমুল গায়েব বলা হয়, যিনি অদৃশ্যের সকল খবর এবং অদৃশের সকল বিষয় কেউ জানানো ব্যতীত নিজস্বভাবে জানেন। ‘আলিমুল গায়েব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই। কোনো নবী-রাসূল ‘আলিমুল গায়েব ছিলেন না।
হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের গায়েব জানা সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা
পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে ইহকালীন ও পরকালীন দৃশ্য-অদৃশ্যের সকল বিষয়ের বিস্তারিত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই রয়েছে। তবে আল্লাহ তা‘আলা আম্বিয়ায়ে কেরামকে ওহী ও ইলহামের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে অবগত করেছেন। বিশেষ করে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর শান অনুযায়ী অতীত ও ভবিষ্যতের অসংখ্য ঘটনা, আলমে বরযখ, কবরের অবস্থা, ময়দানে মাহশারের চিত্র, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ ইত্যাদি সম্পর্কে অনেক কিছু জানিয়েছেন যা অন্য কোনো নবী এবং নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতাকেও জানানো হয়নি। এগুলো থেকে অনেক বিষয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকেও জানিয়েছিলেন। এটাকে গায়েব জানা বলা হয় না। কারণ এগুলো ছাড়াও অদৃশ্যের অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো তিনি জানতেন না।
সুতরাং হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দৃশ্য-অদৃশ্যের সকল বিষয় জানতেন এবং পৃথিবীর শুরুলগ্ন থেকে যা কিছু ঘটেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সবকিছুই তিনি জানেন, অথবা তাঁর জীবদ্দশায় কিংবা মৃত্যুপরবর্তী সময়ে কখন কোথায় কী হচ্ছে, সবকিছুই তিনি জানেন বা দেখছেন, এমন আক্বীদা পোষণ করা স্পষ্ট কুফরী ও শিরকী কাজ।
মনে রাখতে হবে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাধারণ থেকে সাধারণ বেআদবী যেমন কুফরীর কারণ, ঠিক তেমনি তাকে খোদায়ী গুণ, (তথা ‘আলিমুল গায়েবের গুণে) গুণান্বিত করে খোদার আসনে বসানোও সুস্পষ্ট শিরক এবং আল্লাহ তা‘আলার শানে চরম বেয়াদবী। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সঠিক আক্বীদা পোষণ করার তাউফীক দান করুন। আমীন!
কুরআনের অসংখ্য আয়াত এবং নবীয়ে কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অগণিত হাদীস দ্বারা উল্লিখিত আক্বীদা প্রমাণিত। সেগুলো থেকে কয়েকটি আয়াত ও হাদীস এখানে পেশ করা হলো।
প্রথম আয়াত :
قُلْ لَّا یَعْلَمُ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ الْغَیْبَ اِلَّا اللهُ ؕ وَمَا یَشْعُرُوْنَ اَیَّانَ یُبْعَثُوْنَ ﴿۶۵﴾
অর্থ: (হে নবী!) আপনি বলুন, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া আসমান-যমীনে কেউ অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না। তারা জানে না কখন তারা উত্থিত হবে। সূরা নামল; আয়াত ৬৫
দ্বিতীয় আয়াত:
قُلْ لَّاۤ اَقُوْلُ لَكُمْ عِنْدِیْ خَزَآئِنُ اللهِ وَلَاۤ اَعْلَمُ الْغَیْبَ وَلَاۤ اَقُوْلُ لَكُمْ اِنِّیْ مَلَكٌ ۚ اِنْ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ ؕ قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الْاَعْمٰی وَ الْبَصِیْرُ ؕ اَفَلا تَتَفَکَّرُوْنَ ﴿۠۵۰﴾
অর্থ: (হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার নিকট আল্লাহর ধনভাণ্ডার রয়েছে। আমি গায়েব জানি না এবং আমি তোমাদের এটাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমার নিকট যা প্রত্যাদেশ হয় আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। সুরা আন‘আম; আয়াত ৫০
তৃতীয় আয়াত:
اِنَّ اللهَ عِنْدَهٗ عِلْمُ السَّاعَۃِ ۚ وَ یُنَزِّلُ الْغَیْثَ ۚ وَ یَعْلَمُ مَا فِی الْاَرْحَامِ ؕ وَمَا تَدْرِیْ نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا ؕ وَمَا تَدْرِیْ نَفْسٌۢ بِاَیِّ اَرْضٍ تَمُوْتُ ؕ اِنَّ اللهَ عَلِیْمٌ خَبِیْرٌ ﴿۠۳۴﴾
অর্থ: কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই রয়েছে। তিনি বারি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন মাতৃগর্ভে কী রয়েছে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোথায় তার মৃত্যু ঘটবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবগত। সুরা লুকমান; আয়াত ৩৪
চতুর্থ আয়াত:
وَ عِنْدَهٗ مَفَاتِحُ الْغَیْبِ لَا یَعْلَمُهَاۤ اِلَّا هُوَ ؕ
অর্থ: অদৃশ্যের চাবিকাঠি কেবল আল্লাহর নিকটই রয়েছে, তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না। সুরা আন‘আম; আয়াত ৫৯
পঞ্চম আয়াত:
قُلْ لَّاۤ اَمْلِكُ لِنَفْسِیْ نَفْعًا وَّلَا ضَرًّا اِلَّا مَا شَآءَ اللهُ ؕ وَلَوْ كُنْتُ اَعْلَمُ الْغَیْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَیْرِۚۖۛ وَمَا مَسَّنِیَ السُّوْٓءُ ۚۛ
অর্থ: (হে নবী!) আপনি বলুন, আল্লাহ তা‘আলা যা ইচ্ছা করেন, তা ব্যতীত নিজের ভালো-মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। যদি আমি গায়েব জানতাম তাহলে আমি প্রভূত কল্যাণ লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণ আমাকে স্পর্শ করত না। সুরা আ‘রাফ; আয়াত ১৮৮
উল্লিখিত সবগুলো আয়াতে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ (তিনি নবী হোন কিংবা ফেরেশতা) অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন না।
প্রথম হাদীস:
عن عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَعْلَمُ الغَيْبَ، فَقَدْ كَذَبَ، وَهُوَ يَقُولُ: لاَ يَعْلَمُ الغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি তোমাকে বলে নবীজী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গায়েব জানেন, সে মিথ্যাবাদী। কারণ নবীজী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই বলতেন, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কেউ গায়েব জানেন না। বুখারী; হাদীস ৭৩৮০
দ্বিতীয় হাদীস:
عن اياس بن سلمة عن ابيه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قُبَّةٍ حَمْرَاءَ، إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ عَلَى فَرَسٍ عَقُوقٍ يَتْبَعُهَا مُهْرُهُ، فَقَالَ: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا رَسُولُ اللهِ قَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: غَيْبٌ، وَلَا يَعْلَمُ الْغَيْبَ إِلَّا اللهُ قَالَ: فَمَتَى نُمْطَرُ؟ قَالَ: غَيْبٌ، وَلَا يَعْلَمُ الْغَيْبَ إِلَّا اللهُ قَالَ: فَمَا فِي بَطْنِ فَرَسِي؟ قَالَ: غَيْبٌ، وَلَا يَعْلَمُ الْغَيْبَ إِلَّا اللهُ
উপরোক্ত হাদীসের সারাংশ হলো, এক অশ্বারোহী নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে গায়েবের বিষয়ে তিনটি প্রশ্ন করলো,
১. কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?
২. আমাদের উপর বৃষ্টি কখন বর্ষণ হবে?
৩. আমার ঘোড়ার পেটের বাচ্চাটি কী (নর না মাদী)?
নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবগুলোর উত্তরেই বলেছেন, এটা গায়েবের বিষয় আর গায়েব আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ জানে না। আল মু‘জামুল কাবীর; হাদীস ৬৬৪৫
এখন প্রশ্ন হলো, যদি নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েব জানতেনই তাহলে তিনি উল্লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে একথা কেন বললেন যে, এটা গায়েবের বিষয়, আর গায়েব আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না?
তৃতীয় হাদীস:
عَنِ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بَعْضِ أَهْلِهِ فَوَجَدَ عِنْدَهُمْ تَمْرًا أَجْوَدَ مِنْ تَمْرِهُمْ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ هَذَا؟ فَقَالُوا: أَبْدَلَنَا صَاعَيْنِ بِصَاعٍ
নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার তার কয়েকজন বিবির নিকট গেলেন, তখন তাদের ঘরে যে খেজুর ছিলো তার চেয়ে উত্তম খেজুর দেখে বললেন, তোমরা এ খেজুর কোত্থেকে পেলে? তারা বললেন, আমরা আমাদের দুই সা’ (নিম্নমানের খেজুর) এর বিনিময়ে এক সা’ (উত্তম খেজুর) গ্রহণ করেছি। মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক, হদীস: ১৬১৯১
এবার বলুন, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি গায়েব জানতেনই তাহলে বিবিদেরকে কেন প্রশ্ন করলেন যে, তোমরা এ খেজুর কোত্থেকে পেলে?
চতুর্থ হাদীস:
অর্থ: আমের ইবনে মালেক নামে এক ব্যক্তি নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি নজদবাসীর নিকট কিছু সাহাবী প্রেরণ করা হয় আর তারা নজদবাসীকে ইসলামের দা’ওয়াত দেয়, তাহলে আমি আশা করি তারা ইসলাম গ্রহণ করবে। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাদের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা হয়। তখন সে বললো, আমি তাদের দায়িত্ব নিব। সুতরাং তার দায়িত্ব গ্রহণের শর্তে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্তরজন সাহাবীর এক জামা‘আত যারা ক্বারী হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন, তাদেরকে নজদে প্রেরণ করলেন। যখন তাঁরা বীরে মা‘ঊনা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন নজদবাসী এই সত্তরজন সাহাবীকে শহীদ করে ফেললো। সহীহ বুখারী; হাদীস ৩০৬৪
সম্মানিত পাঠক! নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি গায়েব জানতেন যে, তাঁর সত্তরজন জালীলুর কদর সাহাবীকে শহীদ করে ফেলা হবে, তাহলে কি নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে প্রেরণ করতেন?
পঞ্চম হাদীস:
খাইবার যুদ্ধের পর যাইনাব বিনতে হারিস নামক এক ইয়াহুদী মহিলা কৌশলে নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিষ মিশ্রিত বকরীর গোশত হাদিয়া পেশ করলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোশত মুখে দেয়া মাত্রই ‘গোশতের টুকরাটিই’ বিষ মিশ্রিত হওয়ার বিষয়টি নবীজীকে জানিয়ে দিল। সাথে সাথে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোশত রেখে দিলেন। ইতোমধ্যে নবীজীর সঙ্গী সাহাবী হযরত বিশর ইবনে বারা রাযি. তা গলধঃকরণ করে ফেলেন। এর বিষক্রিয়ায় তিনি ইন্তিকাল করেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামও এর বিষক্রিয়ায় কিছুটা আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসা স্বরূপ তিনি শিংগা লাগান। ফেলেন পরবর্তীতে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুকালেও সে বিষক্রিয়া অনুভব করেছিলেন। সহীহ বুখারী; হাদীস ৪২৪৯, আল বিদায়া ওয়ান নিহয়া: ৪/১২৭-১২৮
এখন পাঠকের কাছে প্রশ্ন হলো, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি গায়েব জানতেন তাহলে কি তিনি বিষমিশ্রিত গোশত নিজে মুখে দিতেন এবং নিজ সাহাবীকে খেতে দিতেন?
উপরোল্লিখিত আয়াত ও হাদীস দ্বারা একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে গেলো যে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলিমুল গায়েব ছিলেন না।
নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের গায়েব জানা সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত আক্বীদা
বিদ‘আতী ও রেযাখানীদের আক্বীদা হলো, পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, সবকিছুই নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানেন। তাঁর মৃত্যুপূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে যখন যেখানে যা কিছু ঘটছে, সবকিছুই তিনি জানেন। তারা এর স্বপক্ষে কয়েকটি আয়াত ও হাদীস পেশ করেন। নিচে সেগুলো জবাবসহ উল্লেখ করা হলো।
প্রথম আয়াত:
وَمَا کَانَ اللهُ لِیُطْلِعَكُمْ عَلَی الْغَیْبِ وَلٰکِنَّ اللهَ یَجْتَبِیْ مِنْ رُّسُلِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ۪
অর্থ: আল্লাহ তা‘আলার শান এটা নয় যে, তিনি তোমাদেরকে গায়েবের বিষয়ে অবগত করবেন, তবে তিনি স্বীয় রাসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সূরা আলে ইমরান; আয়াত ১৭৯
বিদ‘আতীদের বক্তব্য হলো, এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলা আম্বিয়ায়ে কেরামকে গায়েবের বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন।
দ্বিতীয় আয়াত:
فَلَا یُظْهِرُ عَلٰی غَیْبِهٖۤ اَحَدًا . اِلَّا مَنِ ارْتَضٰی مِنْ رَّسُوْلٍ
অর্থ: আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত গায়েবের বিষয়ে কাউকে অবহিত করেন না। সূরা জ্বীন; আয়াত ২৬-২৭
তারা বলে, এই আয়াত স্পষ্টরূপে প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা নবীজীকে অদৃশ্যের বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন।
খণ্ডন: এ কথা সর্বস্বীকৃত যে, আল্লাহ তা‘আলা আম্বিয়ায়ে কেরামকে ওহী ও ইলহামের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু বিষয়ে গায়েবের জ্ঞান দান করেছেন। কিন্তু এর দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় না যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অদৃশ্যের সকল জ্ঞান দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় আয়াতের পূর্বের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلْ اِنْ اَدْرِیْۤ اَقَرِیْبٌ مَّا تُوْعَدُوْنَ اَمْ یَجْعَلُ لَهٗ رَبِّیْۤ اَمَدًا ﴿۲۵﴾
এ আয়াতে مَا تُوعَدُونَ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আযাব অথবা কিয়ামত। তাহলে আয়াতের অর্থ হয়, হে নবী! আপনি বলে দিন, আমি জানি না তোমাদেরকে যে (আযাব বা কিয়ামতের) প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা সন্নিকটেই নাকি আমার প্রভু তার জন্য (ভিন্ন) কোন সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন। সূরা জ্বীন; আয়াত ২৫
এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আযাব অথবা কিয়ামতের সময় সম্পর্কে জানেন না। তাহলে এ কথা বলা কিভাবে সহীহ হয় যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অদৃশ্যের সকল বিষয়ে অবগত?
উপরোল্লিখিত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলিমুল গায়েব ছিলেন না। সাথে সাথে একথাও মনে রাখতে হবে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলিমুল গায়েব না হওয়ায় আল্লাহ তা‘আলা তাকে যে মর্যাদা দান করেছেন তাতে সামান্যতম ঘাটতি আসবে না, বরং যথার্থই বাকী থাকবে। কারণ নবী বা রাসূল হওয়ার জন্য গায়েবের ইলম থাকা শর্ত নয়, তার নিকট ওহী আসা শর্ত।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সঠিক আক্বীদা পোষণ করার তাউফীক দান করুন। আমীন!