মুনাজাতের সুন্নাত ও আদবসমূহ

অডিও

১। আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরূদের মাধ্যমে দু‘আ শুরু করা। যেমন: এভাবে দু‘আ শুরু করা-

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اٰ لِه  وَصَحْبِه اَجْمَعِيْنَ

অর্থ: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য এবং রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাথীবর্গের উপর।

এ হলো হামদ (প্রশংসা) ও সালাতের (দুরূদের) সংক্ষিপ্ত বাক্য। আরো বিস্তারিত ও অনেক ফজীলতপূর্ণ হামদ ও সালাত রয়েছে। যখন সময় বেশি থাকে তখন সেগুলো পড়া উত্তম হবে।

হযরত ফাজালা ইবনে উবায়দ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামায পড়ে দু‘আ করতে লাগল। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো। আমার প্রতি দয়া করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি তাড়াহুড়া করেছ। তুমি যখন নামায পড়ে বসবে তখন প্রথমে আল্লাহ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে অতঃপর আমার প্রতি দুরূদ পড়বে তারপর দু‘আ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আরেকজন লোক এসে নামায পড়ল। আল্লাহর প্রশংসা করল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরূদ পড়ল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি দু‘আ করো, তোমার দু‘আ কবুল করা হবে। (তিরমিযী, হাদীস:৩৪৭৬)

অন্য হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-

كُلُّ دُعَاءٍ مَحْجُوْبٌ حَتّٰى يُصَلّٰى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দুরূদ না পড়া পর্যন্ত সকল দু‘আ আটকে থাকে। (ত্ববারানী আউসাত, হাদীস: ৪৩৯৯)


এ ছাড়া আসমায়ে হুসনা ও ইসমে আ‘যমের মাধ্যমে দু‘আ করলেও দু‘আ কবুল হয়। যার বিবরণ মূল কিতাবে বর্ণিত হবে ইনশাআল্লাহ।

২। উযুর সাথে কিবলামুখী হয়ে দু‘আ করা। (মুসলিম, হাদীস: ১৭৬৩)

৩। উভয় হাত সিনা বরাবর সামনে রাখা। হাতের তালু আসমানের দিকে প্রশস্ত করে রাখা। (আবু দাউদ, হাদীস: ১৩১৮,১৪৮৮)

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় তোমাদের রব লজ্জাশীল, মহান দাতা। তাঁর বান্দা যখন তাঁর কাছে দু’হাত উঠায় (দু‘আ করার জন্য) তখন তিনি তা শূন্য ফেরৎ দিতে লজ্জাবোধ করেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস: ৮৭৬; সুনানে আবু দাউদ হাদীস: ১৪৮৮)

৪। হাতের আঙ্গুলসমূহের মাঝে স্বাভাবিক ফাঁকা রাখা।

৫। দু‘হাতের মাঝে সামান্য ফাঁকা রাখা।

৬। মন দিয়ে কাকুতি মিনতি করে দু‘আ করা।

৭। প্রার্থিত বিষয়টি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে দৃঢ়তার সাথে বারবার চাওয়া।

৮। ইখলাসের সাথে নিঃশব্দে দু‘আ করা মুস্তাহাব। তবে দু‘আ সম্মিলিত হলে এবং কারো নামাযে বা ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হলে স্বশব্দে করাও জায়েয।

৯। দু‘আর শেষে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরূদ পাঠ করে ‘আমীন’ বলা। যেমন:

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ . اَللّٰهُمَّ اٰمِيْنْ

অর্থ: তারা যা দোষারোপ করে তা হতে আপনার প্রতিপালক মহা পবিত্র, যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য। হে আল্লাহ! তুমি কবুল করো। (সূরা  সফফাত,আয়াত: ১৮০-১৮২)

১০। মুনাজাতের পর উভয় হাত দ্বারা মুখমন্ডল মুছে নেওয়া।

মুনাজাতের সুন্নাত ও আদবসমূহ | ইসলামী যিন্দেগী