মাদরাসার সম্মানিত আসাতিজায়ে কিরামের (শিক্ষকবৃন্দের) প্রতি অনুরোধ -

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৭ অক্টোবর, ২০২৩উলামা তোলাবা

আর মাদরাসার সম্মানিত আসাতিজায়ে কিরামের (শিক্ষকবৃন্দের) প্রতি আমার অনুরোধ নিম্নরূপ :

(১) কা’য়িদা পড়ানোর সময় অক্ষরের বিশুদ্ধতার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। যেসব নতুন ছাত্র অন্য জায়গা থেকে ভুল পড়ে এসেছে তাদেরকে প্রথমে ع (আইন) ও ء (হামযাহ)-এর পার্থক্য বুঝিয়ে দেবেন। তারপর বুঝাবেন ছোট ه (হা) ও বড় ح (হা) এর পার্থক্য । অতঃপর ছোট ك (কাফ) এবং বড় ق (কাফ)-এর পার্থক্য বুঝাবেন। এভাবে ص (সাদ) ও ش (শীন), ذ (যাল) ও ز (যা) এবং ظ (যওয়া) ও ض (যাদ)-এর পার্থক্য বুঝিয়ে দেবেন। এবং খুব ভালোভাবে মশ্‌ক করিয়ে দেবেন।

(২) কা’য়িদার প্রতিটি অধ্যায়ের আলাদা আলাদা পরীক্ষা নেবেন। আর পরীক্ষাগুলো কা’য়িদার উস্তাদ নিজে না নিয়ে অন্যদের দ্বারা নেয়াবেন। কোন অধ্যায়ে একশতভাগ পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত আগে বাড়তে দেবেন না।এভাবে প্রতিটি অধ্যায়ের পরীক্ষা নেয়ার সময় যেসব ভুল-ত্রুটি হবে, সেগুলো লিপিবদ্ধ করে ছাত্রদের হাতে দেবেন, যাতে তারা নিজ নিজ উস্তাদের কাছে নিয়ে যেতে পারে। এবং উস্তাদগণ ও সেগুলো সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে পারেন।

(৩) অতঃপর الله (আল্লাহ) শব্দের মশ্‌ক করাবেন, কোথায় পাতলা হবে আর কোথায় মোটা হবে। এভাবে প্রতিটি নিয়ম-কানুনের মশ্‌ক করিয়ে দেবেন।

(৪) যে সকল ছাত্র হিফযের জন্যে এসেছে, তাদের আমুখ্‌তাকে আবশ্যক করে দেবেন।

(৫) হিফজ সম্পন্ন করার পর নিজের তত্ত্বাবধানে মাদরাসায় একবার শুনে, তারপর অন্য জায়গায় শুনানোর অনুমতি দেবেন।

(৬) উস্তাদ নিয়োগের সময় গোপনে তার আদায়ে আলফায কাওয়ায়িদে তাজবীদেরও (বিশুদ্ধ তিলাওয়াত) পরীক্ষা নেবেন।

(৭) ভর্তির সময় জেনে নেবেন সাইয়্যিদ কি-না? কারণ যাকাতের মাল সাইয়্যিদের পেছনে খরচ করা যাবে না।

(৮) বেতন-ভাতা প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া দরকার। কুরআনের উস্তাদের বেতন-ভাতা নাহু সরফের উস্তাদের বেতন-ভাতার চেয়ে কম না হওয়া উচিত। নাহু সরফ মকসূদের মাধ্যম। আর কুরআন পাক মাকসূদ।

(৯) কোন ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বৃত্তি বাড়িয়ে দেবেন এবং সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন, যেরকম নিজের সন্তানের জন্যে করে থাকেন। আর তার রোগ মুক্তির জন্যে দু‘আ করতে থাকুন এবং তার মিযাজ বুঝে চলতে থাকুন।

(১০) তোলাবায়ে কিরামকে (সম্মানিত ছাত্রবৃন্দ) আল্লাহর পথের মুজাহিদ ও রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহমান মনে করে তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করুন। উযীরের সন্তান, পীরের সন্তান, ফকীরের সন্তান সকলের প্রতি সমান দৃষ্টি রাখুন।

(১১) শাসনের প্রয়োজন হলে অন্তরে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখুন- অবজ্ঞা নয়।

(১২) চেষ্টা করবেন যাতে সবাই সফলকাম হয়, কেউ যেন ফেল না করে।

(১৩) পরিদর্শনের উদ্দেশ্য শুধু দেখা-শুনা না হয়ে বরং ইসলাহ হওয়া উচিৎ।

(১৪) পরিদর্শনের সময় মাদ্রাসার বাবুর্চীখানা ও প্রস্রাব- পায়খানার জায়গা পরিস্কার কি না দেখা উচিত। অনুরূপ খানার সময় যদি লাইনের প্রয়োজন হয়, তাহলে ছাত্রদেরকে এমনভাবে দাঁড় করানো উচিত, যাতে কেউ যেতে চাইলে দূ’জনের মাঝের ফাঁক দিয়ে চলে যেতে পারে। একেবারে গায়ে লেগে দাঁড়াতে না দেয়া এবং হৈ চৈ করা থেকে বিরত রাখা।

(১৫) মুহতামিম সাহেবের সফর বা অন্য যে কোন প্রয়োজনের সময় নায়িবে মুহতামিম মাদরাসা পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন। এবং আগত মেহমানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও জরুরী কথা-বার্তারও জবাব দেবেন।

(১৬) ঘর তৈরীকে প্রাধান্য দিন। প্লাস্টারের চিন্তা করবেন না শোভা ও সৌন্দর্যকে দুই নম্বরে রেখে, উত্তম লেখা-পড়াকে এক নম্বরে স্থান দিন। এতে যদি ঘরের দরজা লাগাতে বিলম্বও হয়, হোক।

(১৭) মসজিদের ভিতরে লাউড স্পীকারের দ্বারা আযান দিবেন না। এটা বাইরের কোন কামরায় রাখুন এবং লাউড স্পীকার দ্বারা নামায আদায় করবেন না। যদিও নামায আদায় হয়ে যায় কিন্তু ফি নাফসিহী এর ব্যবহার ঠিক না। তাবলীগী ইজতিমা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। এসব ইজতিমার অনেকগুলোতে লক্ষ লক্ষ লোক হয়, কিন্তু আযান ও নামাযে লাউড স্পীকার ব্যবহার করা হয় না।

(১৮) মসজিদে রং ব্যবহারের ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন। হাঁ যদি দুর্গন্ধমুক্ত রং যা স্বল্প মূল্যে পাওয়া যায় অর্থাৎ ‘প্লাষ্টিক পেইন্ট’ ব্যবহারে ক্ষতি নেই। কিন্তু প্রকাশ থাকে যে, রং লাগানোর জন্যে যে ব্রাশ ব্যবহার করা হবে, সেটা যেন শূকরের পশমের তৈরী না হয়। কেননা, যতো ভালো ব্রাশ আছে, সবই শূকরের পশম দ্বারা তৈরী। এজন্যে রং করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। কারণ এটা এমন জরুরী কিছু নয় যে, করতেই হবে।

(১৯) মসজিদের মিম্বরে কোন কিছু না বিছিয়ে তার উপর কুরআন শরীফ রাখবেন না।

(২০) মসজিদের ভিতরে বিনিময় নিয়ে পড়ানো জায়িয নেই। এজন্যে মাদরাসার ঘরের প্রয়োজন সর্বাগ্রে। চাই তা শুধু চাটাইয়ের তৈরী হোক।

মাদরাসার সম্মানিত আসাতিজায়ে কিরামের (শিক্ষকবৃন্দের) প্রতি অনুরোধ - | ইসলামী যিন্দেগী