বাই‘আতের ফায়দা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৮ অক্টোবর, ২০২৩আত্মশুদ্ধি

বাইয়াত হয়ে নিজের অবস্থা মুর্শিদকে না জানালে এবং ইসলাহ না করালে, এ রকম বাই‘আতের কোন ফায়দা নেই। এটা বরং ওয়াদা খিলাফী।

এক ব্যক্তির স্ত্রী অসুস্থ। তাই তাবলীগে যাওয়ার মাসআলা জানতে এসেছে। জবাবে আমি বললাম, আবেগ তাড়িত হওয়া উচিত নয়। আবেগেকে আ‘মালের অনুগত রাখুন। স্ত্রী কিংবা মাতা-পিতাকে অসুস্থ রেখে তাবলীগে যাবেন না। যদিও অন্যরা খিদমত করতে পারবে; কিন্তু স্বামীর উপস্থিতি স্ত্রীর জন্যে যে শক্তি যোগাবে, অন্য কারো দ্বারা তা সম্ভব নয়। এ রকম সন্তানের উপস্থিতি মাতা-পিতার জন্যে যে শক্তি যোগান দেবে, অন্য কারো দ্বারা সেটা পূরণ হবার নয়।

এক বুযুর্গ বলেন- ‘ হে কা’বার পথের যাত্রীদল! ধীরে ধীরে, ধাপে ধাপে অগ্রসর হও । যারা মা’শুক তারা কখনো লাফিয়ে লাফিয়ে চলে না।

জিলহজ্জের ৯ তারিখ সব হাজীগণ আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হয়। এখন কেউ যদি আল্লাহ তা‘আলার ‍মুহাব্বতের জযবায় মাতাল হয়ে কা’বা শরীফের তাওয়াফ করতে থাকে এবং আরাফাতের মাঠে না আসে, তাহলে তার হজ্জ তো হবেই না; বরং আল্লাহ পাকের নিকট থেকে আরো দূরে সরে যাবে। কেননা, সে দিনের কা’বা তো আরাফাতের ময়দানে। তাঁর (আল্লাহর) খাস তাজাল্লী, নৈকট্য ও সন্তুষ্টি সবই সেদিন আরাফাতের ময়দানে। আরাফাতের যেখানে মন চায় তাবু গেড়ে নাও, সেখানেই পুরস্কার পাবে।

সুতরাং স্ত্রী কিংবা মাতা-পিতার অসুস্থতার সময় তাদের খিদমতে রত থেকে দ্বীনের যতটুকু খিদমত করা সম্ভব হয়, ততটুকুই করতে থাকুন।

বাই‘আতের ফায়দা | ইসলামী যিন্দেগী