(انا ) আমিত্বই সব নষ্টের মূল
হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব হুজুর দামাত বারাকাতুহুম বলেন, যেখানেই انا (আমিত্ব) পাওয়া যায় সেখানেই এক ধরনের অহংকারের ভাব চলে আসে। আল্লাহ তা‘আলা এই শব্দটিকে খুবই অপছন্দ করেন। ফিরআউনের কাছে হযরত মুসা ‘আলাইহিস সালাম দাওয়াত নিয়ে গেলে সে বলে ছিল, انا ربكم الاعلى “আমি তোমাদের বড় প্রভূ”। যার ফলে আল্লাহ তাকে হেদায়েত নসীব করেন নি, পানিতে ডুবিয়ে মারলেন।
হযরত মূসা ‘আলাইহিস সালামকে কওমের লোকেরা জিজ্ঞাসা করেছিল, বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম কে ? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, انا (আমি)। আল্লাহ তা‘আলার এই উত্তরটি পছন্দ না হওয়ায়, হযরত মূসা ‘আলাইহিস সালামকে হযরত খাযির আলাইহিস সালাম এর নিকট ইলম শিখতে পাঠিয়ে ছিলেন। এবং একথা বুঝিয়েছেন যে, তোমার চেয়েও বড় আলেম দুনিয়াতে বিদ্যমান।
হুজুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় রাতে সফর করলেন। সাহাবায়ে কেরাম রা. ফজরের কিছু সময় পূর্বে কিছুক্ষণ বিশ্রামের অনুমতি চাইলেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন বিশ্রাম করতে গেলে সকলে ঘুমিয়ে পড়বে। ফজরের সময় আমাদেরকে জাগ্রত করবে কে ? নামায কাযা হয়ে যাবে। তাই নামায পড়ে আমরা বিশ্রাম করবো। তখন হযরত বিলাল রা. বললেন انا اوقظ يا رسول الله (আমি জাগ্রত করবো)। দেখা গেল সকলে ঘুমিয়েছে। বেলাল রা. পূর্বদিকে মূখ করে উটের সাথে হেলান দিয়ে বসে রইলেন। সুবহে সাদিক হওয়ার সাথে সাথে সকলকে জাগ্রত করবেন। কোন সময় তার চোখ লেগে গেলো তিনিও তা জানেন না। সর্বপ্রথম হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘুম ভাঙ্গল সূর্যের তাপে। ইতিহাসে দেখা যায়, যেখানে এই انا (আমি) পাওয়া গেছে সেখানেই পদস্খলন ঘটেছে। এটা বড় ভয়াবহ শব্দ। এজন্য কোন শায়েখের দরবারে গিয়ে নিজের আমিত্ব মিটাতে হবে।