টেলিভিশনে ইসলামী গান-গযল ও খবর শোনা

প্রশ্ন

মাসিক মুজাহিদ বার্তা অক্টোবর ’৯৯ সংখ্যায় ২৭ নং প্রশ্নের উত্তরে লিখেছেন, বাদ্য ব্যতীত ইসলামী গান, গযল ও খবর রেডিওতে পরিবেশন ও শুনা যাবে। টেলিভিশনে মহিলা ব্যতীত পরিবেশিত খবর ও ইসলামী অনুষ্ঠান ও ‍শিক্ষামূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান দেখা যাবে। অথচ মাসিক রাহমানী পয়গাম অক্টোবর ’৯৯ সংখ্যায় লিখেছেন কোন অবস্থায়ই টেলিভিশনের কোন অনুষ্ঠান দেখা জায়িয হবে না। সঠিক ‍উত্তর জানতে ইচ্ছুক।

উত্তর

মুজাহিদ বার্তায় যে টেলিভিশনের কথা বলেছে তা আজ কোথায় আছে? স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের এ যুগে মুজাহিদ বার্তার মাসআলা কল্পনা বিলাস ছাড়া আর কি হতে পারে। তাছাড়া টিভি দেখা না জায়িয হওয়ার উল্লেখযোগ্য একটি কারণ হল ধারণকৃত প্রাণীর ছবি। কারণ, শরী‘আতের দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবি ধারণ করে রাখা অংকনের নামান্তর। আর ধারণ করা যেমন না জায়িয, তেমনি ইচ্ছাকৃত ভাবে তা দেখাও না জায়িয। কারণ, এতে ছবি দেখার সাথে সাথে হারাম কাজের সহযোগিতা করা হয়। অথচ কিছু খেলাধুলা ছাড়া টিভির প্রোগ্রাম

সাধারণত পূর্ব থেকে ধারণকৃতই হয়ে থাকে। সুতরাং সর্বাবস্থায় এটা রাখা ও দেখা হারাম।

সর্বক্ষণ যার মধ্যে চরম বেহায়াপনা সহ হারাম প্রোগ্রাম চলতে থাকে তার মধ্যে সামান্য কিছু সময় ইসলামী প্রোগ্রাম করা দীন অবমাননা এবং দীন নিয়ে ঠাট্টা তামাশার শামিল। এর দৃষ্টান্ত এরূপ যে, নাচ-গানের ফাঁকে-ফাঁকে দীনের নসীহত করা, ওয়াজ করা বা নর্দমা দিয়ে মিষ্টান্ন ভেসে আসা। সুতরাং টিভিতে দীনী প্রোগ্রাম করা নিঃসন্দেহে দীন কে অপমান করা। যা স্বয়ং কুরআনেই নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে ইয়াহুদীদের চরিত্র বলা হয়েছে। সুতরাং বর্তমানে টিভিতে দীনী প্রোগ্রাম জায়িয হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

অবশ্য রেডিওতে গান-বাজনা না শুনে খবর বা কোন বৈধ প্রোগ্রাম শোনা সম্ভব বিধায় শরী‘আতে তার অবকাশ আছে। তাও এ শর্তে যে তা ঘরের দ্বায়িত্বশীলগণ সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখবে। নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ঘরে রেখে দিলে এর দ্বারাও ঘরের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।[প্রমাণঃ তাকমিলায়ে ফাতহুল মুলহিম ৪ : ১৬৪ # ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪ : ২৫৮ # জাওয়াহিরুল ফিক্বহ, ৩ : ৮৪ # ইমদাদুল মুফতীন ৯৯১ # আহসানুল ফাঃ ৮ : ১৭৩]

টেলিভিশনে ইসলামী গান-গযল ও খবর শোনা | ইসলামী যিন্দেগী