কুরবানীর গোশতের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন
প্রশ্ন
আমাদের গ্রামে কুরবানির সময় সমাজের জন্য একটি ভাগ প্রত্যেক পশু থেকে রাখা হয় যা সমাজের সকলের মাঝে বিতরণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে উক্ত গোশত নিতে হলে সবাইকে মাথা পিছু ৪০ টাকা করে দিতে হয় মানে যদি কোন পরিবারে ৬ জন সদস্য থাকে তাহলে তাকে ২৪০ টাকা দিয়ে তা নিতে হয়। উক্ত টাকা ইমাম সাহেবকে প্রদান করা হয়। কারণ অন্য সময় ইমাম সাহেবের বেতন তুলতে গেলে অনেকে গরিমসি করে থাকে। এখন এভাবে কুরবানীর মাংসের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করলে কি কুরবানীর কোন ক্ষতি হবে এবং ইহা কি জায়েজ হবে?
উত্তর
কুরবানী শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু এভাবে গোশতের বিনিময়ে ইমামের হাদিয়া গ্রহণটি দু’টি কারণে নাজায়েজ। যথা-
১ এর মাঝে কুরবানীর গোশত বিক্রির সাদৃশ্য রয়েছে। আর কুরবানী গোশত বিক্রি করলে সেই টাকা দান করে দেয়া আবশ্যক।
২ বাধ্য করে কারো কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করা জায়েজ নয়।
এ দুই কারণে উপরোক্ত পদ্ধতিতে ইমামের জন্য হাদিয়া গ্রহণটি শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে নাজায়েজ ও হারাম হবে।
فإن باع الجلد أو اللحم به أى بمستهلك أو بدراهم تصدق بثمنه (إعلاء السنن، كتاب الأضحية، باب جلد الأضحية، كرتاشى-17/262، دار الكتب العلمية بيروت-14/285)
لو باع اللحم يتصدق بثمنه (الفتوى الولوالجية-3/77)
ولو باع الجلد واللحم بالدراهم أو بما لا ينتفع به إلا بعد استهلاكه تصدق بثمنه (هداية، كتاب الأضحية، أشرفية-4/450، رد المحتار، زكريا-9/475، كرتاشى-6/328)
ليس لأحد أن يأخذ مال غيره بلا سبب شرعى (شرح المجلة الأحكام العدلية، رستم باز-1/62، رقم-97، قواعد الفقه-110، رقم-269، الموسوعة الفقهية الكويتية-21/112)
لا يحل لمسلم أن يأخذ ما أخيه بغير حق (مجمع الزوائد-4/171)