শরী‘আতের দৃষ্টিতে মহিলাদের পার্থিব শিক্ষা অর্জন করা
প্রশ্ন
শরী‘আতের দৃষ্টিতে মহিলাদের জন্য জেনারেল লাইনে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করা কেমন?
উত্তর
আল্লাহ তা‘আলার বিধানে মেয়েদের জন্য জাগতিক বিষয়াবলীতে সাদাসিদা থাকা এবং বেশী চতুর না হওয়া মর্যাদার বিষয়। এর ব্যতিক্রম করা তাদের মান-মর্যাদা ক্ষুন্নকারী। কুরআনের আয়াতে এ কথার ইঙ্গিত আছে। (সূরা নূর-২৩)
তাছাড়া যে সব ত্রু টির কারণে অধিকাংশ মেয়েলোককে জাহান্নামী বলা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ত্রুটি হলো, চালাক-চতুর হয়ে স্বামীকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলা। আর আধুনিক শিক্ষার দ্বারা মেয়েরা খুবই দুরন্ত ও চতুর হয়ে এ ক্ষতির মধ্যে পতিত হয়। সে হিসেবে মেয়েদের জন্য কুরআনে কারীম ও দীনী ইলম শিক্ষা করার পর দৈনন্দিন জীবনের অতি প্রয়োজনীয় দুনিয়াবী বিদ্যা শিক্ষা অর্জন করাই যথেষ্ট। এর থেকে বেশী তাদের জন্য শোভনীয় নয় বরং তাদের মর্যাদা ক্ষুন্নকারী। (প্রমাণঃ ইসালাহে ইনকিলাবে উম্মত-খঃ ১, প্রঃ ৩১৪)
বলা বাহুল্য, যে শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষা বলা হয়, তা প্রাপ্ত বয়স্কা নারীদের জন্য কোন ক্রমেই শোভনীয় নয় বরং পর্দাবিহীনভাবে শিক্ষাগ্রহণ করা বা সহ শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করা নাজায়েয ও হারাম এবং এটা ইংরেজরা কৌশলে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য একটি ফাঁদ পেতেছে। ফলে এর দ্বারা সমাজে নানাবিধ সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া মহিলাদের পার্থিব বিদ্যা বেশি শিক্ষা করা কোন জরুরীও নয়। কারণ পার্থিব বিদ্যা বেশী অর্জনের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে জীবিকা নির্বাহ ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করা। আর জীবিকা অর্জনের দায়িত্ব শরী‘আতের পক্ষ থেকে পুরুষদের উপর অর্পণ করা হয়েছে। কাজেই উক্ত কাজের দায়িত্ব মহিলাদের নিজের হাতে তুলে নেয়া বা তুলে দেয়া শরী‘আত পরিপন্থী। এছাড়াও মহিলাদের আধুনিক শিক্ষার নিম্নরূপ কুফল রয়েছে।
মহিলাদের আধুনিক শিক্ষার কুফল
(১) শরী‘আতের দৃষ্টিতে পুরুষ ও মহিলাদের কর্মক্ষেত্র যেহেতু ভিন্ন; সুতরাং, প্রত্যেকের শিক্ষা-দীক্ষা তার কর্মক্ষেত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। কুরআন-সুন্নাহর তালীম ব্যতীত অন্যান্য শিক্ষা-দীক্ষা এবং তার সিলেবাস কোন ক্রমেই উভয়ের জন্য এক ও অভিন্ন হতে পারে না। ইসলাম উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ নিষেধ করেনি; কিন্তু তা অবশ্যই এমন হতে হবে, যা তার কর্মজীবনে কাজে আসে। যাতে করে তার পড়াশুনার শ্রম বিফল ও ব্যর্থ না হয়। কেননা, অনর্থক শ্রম শরী‘আতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং কুরআনে মুমিনদের একটি বিশেষ গুণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, “তারা অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে”। (সূরা মুমিনূন-আয়াত ৩)
(২) মহিলাদের জন্য দীনী শিক্ষা বাদ দিয়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া খুবই ক্ষতিকর। কারণ অল্প বয়সে অন্তরে যা বৃদ্ধমূল হয়ে যায়, তা আর কোন দিন দূর হয় না এবং তার দ্বারা প্রাথমিক অবস্থাতেই অনৈসলামিক চিন্তা-চেতনার সৃষ্টি হয়।
(৩) বাল্যকালে আধুনিক শিক্ষার প্রতিক্রিয়া তার শিরা-উপশিরায় বসে যাওয়ার কারণে, পরবর্তীতে এর পরিবর্তন ঘটানো কঠিন হয়ে যায়।
(৪) দীনী পরিবারের মহিলাও যখন আধুনিক পরিবেশে যায় এবং সেখানের মেয়েদেরকে আধুনিক অবস্থায় দেখতে পায়, তখন তারাও ইসলামিক পোশাক-পরিচ্ছদ পরিত্যাগ করে, বিভিন্ন রকম সাজ-সজ্জা, বেশ-ভূষা গ্রহণ করা আরম্ভ করে।
(৫) লাজুকতা মহিলাদের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ গুণ। আর আধুনিক শিক্ষা মহিলাদের এ লজ্জাকে ধুয়ে মুছে শেষ করে দেয়।
(৬) পর পুরুষের সঙ্গে মহিলাদের দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলা-মেশাতো দূরের কথা, কথা বলতে হলেও শক্ত ও নিরস ভাষায় বলার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় নব্য শিক্ষিতা মহিলারা পর পুরুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং কোমল কণ্ঠে কথা বলা কে ভদ্রতা মনে করে এবং আকর্ষণীয় করে কথা বলা শিক্ষা করাকে জ্ঞান শিক্ষা বলে মনে করে। অথচ এটাই আধুনিক শিক্ষার বিষফল।
(৭) কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوْنَ عَلَی النِّسَآءِ অর্থাৎ পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল (সূরা নিসা-৩৪) কিন্তু আধুনিক শিক্ষিতা মহিলারা শ্লোগান তুলছে সমান অধিকারের, যা কুরআন-হাদীসের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটাও আধুনিক শিক্ষার বিষফল।
(৮) আধুনিক শিক্ষা মহিলাদেরকে স্বামীর খেদমত না করা এবং স্বামীর অবাধ্য হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে তোলে।
(৯) আধুনিক শিক্ষিতা মহিলারা স্বামীর ঘরে পর্দাতে থাকতে রাজী থাকে না। তারা অফিস-আদালতে চাকুরী করতে চায়। অথচ মহিলাদেরকে এসব কাজের অনুমতি দেয়া হয়নি। ভুগোল শিক্ষা করার দ্বারা মনে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করার বাসনা সৃষ্টি হয় এবং ঘর থেকে বের হওয়ার পথ সুগম হয়, যা মহিলাদের কাজ নয়। (প্রমাণঃ ইসলাহে খাওয়াতীন পৃ-৪০১)
(১০) ইতিহাস শিক্ষা করার দ্বারা বড় বড় নাস্তিক মহিলার ন্যায় নিজেকে গড়ার মনোভাব পয়দা হয়।
তবে পর্দা ও শরী‘আতের হুকুম পর্দা-পুশিদা ঠিক রেখে পার্থিব বিদ্যাসমূহের মধ্যে প্রয়োজনমাফিক বিদ্যা গ্রহণ করা বৈধ। যেমন, হিসাব-নিকাশের প্রাথমিক বিদ্যা ও কিছু পরিমাণ লেখা ও পড়ার যোগ্যতা অর্জন করা, হন্তশিল্প ও গৃহস্থালীর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বিদ্যা শিক্ষা করা মেয়েদের জন্য জায়েয আছে। তেমনিভাবে পরিবারের পৃষ্ঠপোষক কোন পুরুষ লোক না থাকা অবস্থায় নিজের সতিত্ব রক্ষা করে পর্দার ভিতরে থেকে কিছু কামাই রোজগারের জন্য দীনী বা দুনিয়াবী বিদ্যা শিক্ষা করা যেতে পারে। তবে এমন বিদ্যা অর্জন করা যা শিখতে ও প্রয়োগ করতে গেলে পর্দা ভঙ্গ হয় বা নিজের সতিত্বের উপর হুমকি আসে তা বৈধ হবে না।