ওয়াকফকৃত জমি পরির্তন করা
প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি ৪ কাঠা জমি ওয়াকফ করেন। পরবর্তীতে উক্ত ওয়াকফকারীর ছেলে সেই জমি বিক্রি করে বিক্রিত জমির টাকা দিয়ে তার ছেলেকে (ওয়াকফ কারকের নাতি) বিদেশ পাঠান। উল্লেখ্য যে, ওয়াকফকৃত জমি বিক্রি করা হয়েছিল ৫০,০০০/- টাকায়। অবশ্য ওয়াকফকারীর নাতি বিদেশে গিয়ে ৫০,০০০/- টাকা ফেরত দেন। কিন্তু এখন জমির বাজার দর বৃদ্ধি পাওয়ায় উক্ত টাকায় ৪ কাঠা জমি ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে উক্ত টাকা কি করতে হবে, জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।
প্রকাশ থাকে যে, উক্ত টাকা দিয়ে এখন জমি ইজারা রাখা হয়েছে এবং ইজারার ফসল স্থানীয় মসজিদ ও গরীবদের দেয়া হচ্ছে। ইজারায় গ্রহণকৃত জমির বাৎসরিক খাজনাই উক্ত টাকা থেকে আদায় করা হচ্ছে। এটা জায়েয হচ্ছে কি-না?
উত্তর
শরী‘আতের দৃষ্টিতে ওয়াকফকৃত জমি পরিবর্তন বা বিক্রি করা জায়েয নয়। সুতরাং, কেউ যদি ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বিক্রি করে থাকে, তাহলে তার মারাত্মক অপরাধ হবে। তবে তার জন্য উচিত, ক্রেতাকে যেভাবেই হোক রাজি করিয়ে তার টাকা ফেরত দিয়ে জমি ফিরিয়ে নেয়া। আর বেচা-কেনা নাজায়েয হওয়ার কারণে ক্রেতার উপরও জরুরী জমি ফিরিয়ে দেয়া এবং ইতিপূর্বে যতদিন সে উক্ত জমি ভোগ করেছে, ততদিনের ভাড়া দেয়া। অন্যথায় গুনাহগার হবে।
তারপরও যদি ক্রেতা জমি ফেরত দিতে অস্বীকার করে, তাহলে বিক্রেতার উক্ত জমির টাকা দিয়ে ঐ ওয়াকফ খাতের নামে এ শ্রেণীর অন্যস্থানে উল্লেখিত পরিমাণ জমি ক্রয় করে দিতে হবে। আর যদি বাজার দর বৃদ্ধি পাওয়ায় উক্ত টাকা দিয়ে এ পরিমাণ জমি পাওয়া না যায়, তাহলে বিক্রেতার নিজের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত টাকা সংযোজন করে দিতে হবে। যতদূর সম্ভব ওয়াকফ খাতের নিকটবর্তী এলাকার জমি খরিদ করে দিতে চেষ্টা করবে, যাতে বেশী উপকার হয়। আর নিজেদের কৃত অন্যায়ের জন্য আল্লাহর দরবারে ইসতিগফার করতে থাকবে।
উল্লেখ্য যে, ওয়াকফকৃত জমি বিক্রি করাই যেহেতু নাজায়েয, তাই উক্ত টাকা দ্বারা জমি ইজরা রাখা জায়েয হবে না। (প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী ৪:৩৯৬-৪২৮, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ২:৪১৩, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১: ৪৯৭, আযীযুল ফাতাওয়া ৫৯৩)