মসজিদ মাদরাসায় মান্নত করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৫ জানুয়ারি, ২০২৬কসম ও মান্নত

প্রশ্ন

(ক)মসজিদ মাদরাসায় মান্নত মানা জায়েয কিনা? যদি জায়েয হয় তাহলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব কিনা?

(খ) কোন ব্যক্তি মান্নত মানলে যে, আমার ছেলে রোগ থেকে সুস্থ হলে দু টি বকরী গরীবদেরকে দান করব। এখন সেই ছেলে সুস্থ হলে, ঐ বকরী দুইটি দান করা ওয়াজিব কিনা? যদি ওয়াজিব হয়, তাহলে দুই বকরীই দেয়া ওয়াজিব, নাকি একটি দিলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে? আর মান্নতকারী যদি গরীব হয়, তাহলেও কি মান্নত পুরা করা ওয়াজিব?

উত্তর

মান্নতের স্থান এবং যাকাতের স্থান একই। সুতরাং,যাকাত যে স্থানে খরচ করা যায়, মান্নত সেখানে খরচ করা যায় এবং সে স্থানের জন্য মান্নত করা সহীহ হয়। সেই হিসাবে যেসব মাদরাসায় লিল্লাহ বোর্ডিং এবং গরীব ছাত্র আছে, তাদের জন্য মান্নত মানা যায়। উদ্দেশ্য পূর্ণ হলে মান্নত পুরা করা জরুরী। সরাসরি মসজিদে বা মাদরাসার জন্য মান্নত মানা যায় না। কেউ মানলে, তা ওয়াজিব হয় না। তার পরেও যদি দেয়, তাহলে তা জায়েয আছে, নফল দান হিসাবে গণ্য হবে।(বাদায়িউস সানায়ি ৫:৮২, আদ দুররুল মুখতার ৩:৭৩৫, দারুল উলূম ১২:১২৯/১৩২, আহসানুল ফাতাওয়া ৫:৪৭৭)

(খ) বর্ণনা অনুযায়ী উদ্দেশ্য পূর্ণ হলে দু’টি বকরী বা দু’টির মূল্য গরীবদেরকে দান করা ওয়াজিব। একটি দান করলে, ওয়াজিব পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে না। (প্রমাণঃ ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২:১৩১, ফাতাওয়া শামী ৩:৭৩৫)

কিছু মান্নতকারী যদি গরীব হয় এবং তার মাল না থাকে, তাহলে মান্নত পুরা করা জরুরী নয়। কেননা, মালবিহীন গরীব লোকের মালের মান্নত সহীহ (শুদ্ধ) হয় না। সুতরাং, পুরা করা জরুরী নয়। তবে যদি তার কিছু পরিমাণ মাল থাকে, এবং সেই মালের মধ্যে মান্নত মানে, তাহলে সহীহ হবে এবং মান্নত পূর্ণ করা জরুরী হবে। (প্রমাণঃ ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২:১৩৭, ফাতাওয়া শামী ৩:৭৪২)

মসজিদ মাদরাসায় মান্নত করা | ইসলামী যিন্দেগী