কুরআন হাতে নিয়ে কসম করা ও কসম ভঙ্গের হুকুম

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মারধোর করে বেহাল অবস্থা করে ফেলানোর পর কুরআন হাতে নিয়ে বলেছে- “আমি যদি আর কখনো তোমার গায়ে হাত তুলি, তাহলে আমি আমার মায়ের সঙ্গে যিনা করি”।

উপরোক্ত অঙ্গীকারের পরেও সে যখন তখন তার স্ত্রীকে অমানুষের মত মারধোর করছে। এমন ব্যক্তির জন্য ইসলাম কি বিধি-বিধান আরোপ করেছে এবং তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে কি না?

উত্তর

কুরআন হাতে নিয়ে অঙ্গীকার করা কসম গন্য করা হয় না। সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনানুযায়ী কুরআন নিয়ে অঙ্গীকার করা স্বামীর জন্য কসম হয় নাই। [প্রমাণঃ ফাতওয়া মাহমূদিয়া, ১৪:৩১৫# ফাতওয়া মাহমূদিয়া # আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ের]

স্ত্রীকে মারধোর করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কোন ভাল মানুষ তা করতে পারে না। স্ত্রীর অপরাধের কোন এক পর্যায় শরী‘আত প্রহারের অনুমতি দিলেও মহানবী ﷺ তার কোন ভদ্র উম্মতের জন্য এটা পছন্দ করেন নি। তাই এমন ব্যক্তিকে কোন ক্রমই ভদ্র বলা যায় না। বরং সে মস্তবড় জালেম। কারো ভাগ্যে এমন স্বামী পড়ে গেলে, তাকে খুব বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। বিশেষতঃ স্বামীর মন মেযাজের প্রতি তীক্ষ্ম দৃষ্টি রেখে এগুতে হবে।

বর্ণানুযায়ী কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে স্বামী যে উক্তি করেছে, এমন উক্তি অবাঞ্ছিত। এর জন্য তাওবা করতে হবে এবং আর কখনো এমন উক্তি করবে না।

কুরআন হাতে নিয়ে কসম করা ও কসম ভঙ্গের হুকুম | ইসলামী যিন্দেগী