মহিলাদের বোরকা পরিধান করে মার্কেটে যাওয়া

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৪ আগস্ট, ২০২৫মেয়েদের বিষয়, মহিলাদের বিষয়

প্রশ্ন

আমরা জানি মহিলারা জরুরত তথা একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত স্বীয় ঘর থেকে বের হয়ে কোথাও যেতে পারবে না। এখন আমার প্রশ্ন হল, কোন মহিলার জন্য একাকী বা স্বীয় স্বামীর সাথে বোরকা পরিধান করে মার্কেটে গিয়ে কাপড় বা কোন জিনিস পছন্দ করা জায়েয হবে কি-না বা এটা জরুরতের অন্তর্ভুক্ত হবে কি-না?

উত্তর

মহিলাদের স্বীয় দীনদারী টিকিয়ে রাখার জন্য অর্থাৎ, দুনিয়া ও আখিরাতে সুউচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তাদের কর্তব্য হলো সর্বদা গৃহাভ্যন্তরে থাকা, বাইরে না যাওয়া। তবে একান্ত প্রয়োজনে মাহরামের সাথে, পর্দার সাথে বাইরে যাওয়া অনুমতি আছে।

মহিলাদের শুধুমাত্র জিনিসপত্র পছন্দ করার জন্য স্বীয় স্বামীর সাথে মার্কেটে যাওয়ার অনুমতি শরী‘আতে নেই। কেননা, প্রথমতঃ শরী‘আত মহিলাদেরকে যে প্রয়োজন বা ঠেকার ভিত্তিতে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে এটা সে প্রয়োজনের আওতায় পড়ে না। কারণ, প্রয়োজনে বা ঠেকার অর্থ এমন জরুরত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। শুধু পর্দা করলেই বা বোরকা পড়লেই মহিলাদের বাড়ীর বাইরে যাওয়া জায়েয হয় না। বরং প্রথমে বিশেষ জরুরত সাব্যস্ত হতে হবে, তারপর পর্দা সহকারে বের হওয়া জায়েয হবে।

দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর নিজের পক্ষ থেকে জিনিস পছন্দ করাটা স্বামীর প্রতি পূর্ণ ভালবাসা ও বিশ্বাস না থাকার পরিচয় বহন করে। কারণ লেবাস-পোশাক দ্বারা একমাত্র স্বামীকে খুশী করাই স্ত্রীর কাম্য। সুতরাং, যাকে খুশী করা উদ্দেশ্য তিনি নিজের পছন্দমত কিনবেন এটাই তো যুক্তিযুক্ত। তাই স্ত্রীর এ ধরনের আচরণ থেকে দূরে থাকা একান্ত কর্তব্য। তাইতো কুরআনে কারীমে মহিলাদের উদ্দেশে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন “তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে, মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না”। (সূরা আহযাব-৩৩)

এমনিভাবে হাদীস শরীফে এসেছে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর ইন্তেকালের পরে হযরত আয়িশা রাযি. বলেন, যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকতেন, তাহলে তিনি অবশ্যই মহিলাদেরকে মসজিদে গমনে নিষেধ করতেন। অন্য এক হাদীসে এসেছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছে, তোমরা মহিলাদেরকে মসজিদে গমনে নিষেধ করো না তবে তাদের জন্য তাদের ঘরে নামায পড়াটাই উত্তম। এ হাদীসদ্বয়ের সমন্বয়ে ফুকহায়ে কিরাম বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ইন্তেকালের পর তথা সাহাবায়ে কেরামের যামানায়ই ফিৎনার আংশকায় মহিলাদেরকে মসজিদে গমনে নিষেধ করে দেয়া হয়। বলা বাহুল্য বর্তমান যামানার পরিস্থিতির সাথে আর সাহাবীগণের স্বর্ণযুগের পরিস্থিতির সাথে কোন তুলনা করা যায় না। অর্থাৎ, এর মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। আর যখন সেই সাহাবায়ে কিরামের যামানায় সামান্যতম ফিৎনার আশংকায় মহিলাদেরকে মসজিদে এসে নামায পড়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়। সেখানে বর্তমান ফিৎনার যামানায় কি করে একজন মহিলার জন্য মার্কেটে যাওয়া বৈধ হতে পারে। চাই সে একা যাক বা স্বামীকে নিয়ে যাক। কেননা, শোনা যায় অনেক সময় স্বামী বা মাহরাম থাকা অবস্থায়ও অনেক মহিলার বিপদে পড়তে হয়েছে। তাছাড়া মহিলা স্বামীর সাথে বোরকা পরিধান করে মার্কেটে গেলে যদিও তার সৌন্দর্য কোন বেগানা পুরুষ দেখতে পারবে না। কিন্তু সে তো একটি অযথা কাজ করতে গিয়ে নিজে কোন পুরুষকে দেখবে। আর এ ব্যাপারে হাদীসে এসেছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট তাঁর পত্নি তথা উম্মে সালামা ও মাইমুনা রা. ছিলেন। হঠাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (অন্ধ) সাহাবী রাসূলুল্লাহ ﷺ নিকট আগমন করলেন; তাই তিনি স্বীয় স্ত্রীদ্বয়কে তার থেকে পর্দা করতে বললেন। তখন স্ত্রীগণ বললেন, আগন্তুক তো অন্ধ, সে কিভাবে আমাদেরকে দেখবে? তাদের কথার প্রতিউত্তরে প্রিয়নবী ﷺ বললেন, তোমরাও কি অন্ধ (তোমরা কি তাকে দেখবে না? সেটা কি তোমাদের জন্য বৈধ হবে?)

অতএব, সকল মহিলাদের জন্য এদিকে লক্ষ রাখা দরকার। উল্লেখ্য, মহিলাদের মুখমন্ডল ও হাত সতরের মধ্যে শামিল। সুতরাং, প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও সমস্ত শরীর এবং চেহারা ঢেকে হাত মোজা ও পা মোজা পরিধান করে বের হওয়া কর্তব্য। (সূরা আহযাব-আয়াত ৩৩, আবু দাউদ শরীফ-১:৮৪, মিশকাত শরীফ-২৬৯, ফাতাওয়া রাহীমিয়া-১:৩০, মা‘আরিফুল কুরআন-৭:১৩৪-২০৮, ২১৭)

মহিলাদের বোরকা পরিধান করে মার্কেটে যাওয়া | ইসলামী যিন্দেগী