অবৈধ উপার্জনের টাকা দান

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৪ আগস্ট, ২০২৫সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

মসজিদ-মাদরাসায় যারা বড় অংকের টাকা দান করেন তাদের উপার্জন অধিকাংশই অবৈধ। এই অবৈধ উপার্জনের টাকা যারা দান করেন তারা কোন সাওয়াব পাবে কিনা? তাদের দান ছাড়া দ্বীনি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করাও সম্ভব হয় না। উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে যে সকল ছাত্র দ্বীনি শিক্ষা লাভ করবে এর সাওয়াব কে পাবে?

উত্তর

মসজিদ-মাদরাসায় যারা বড় অংকের টাকা দান করে তাদের উপার্জন অধিকাংশই অবৈধ আপনার এই দাবী ঠিক নয়। আর অবৈধ উপার্জনকারীদের টাকা ছাড়া মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ সম্ভব হবে না- এই দাবীও ঠিক নয়। বরং অসৎপথে উপার্জনকারীরাও সাধারণত মসজিদ মাদরাসায় হালাল উপার্জন থেকেই দান করার চেষ্টা করে। অবশ্য কারো ব্যপারে যদি জানা থাকে যে তার সমুদয় বা অধিকাংশ আয় অবৈধ কিংবা অবৈধ মাল থেকেই সে দান করতে তাহলে সেক্ষেত্রে মসজিদ-মাদরাসা কর্তৃপক্ষের জন্য উক্ত দান গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরী। তাছাড়া মসজিদ-মাদরাসার কর্তৃপক্ষের জন্য এটাও জরুরী যে, সাধারণ জনগণ বিশেষ করে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গদেরকে হারামের মৌলিক বিধানসহ দ্বীনী বিষয়ের ব্যাপারে সচেতন করা এবং তাদেরকে পূর্ণ দ্বীনের উপর আনার জন্য ফিকির জারী রাখা। আর হারাম মাল থেকে দান করে সাওয়াব অর্জনের প্রশ্নই আসে না; বরং জেনে শুনে সাওয়াবের উদ্দেশে হারাম মাল দান করলে ইমান চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫:৩৪২, #আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির, ১:১৭৫ #আহসানুল ফাতাওয়া ৮:১০৩]

অবৈধ উপার্জনের টাকা দান | ইসলামী যিন্দেগী