বিবাহের জন্য পাত্রী দেখার নিয়ম

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

মেয়ে দেখে পছন্দ হলে, বিবাহ করবে এবং পছন্দ না হলে বিবাহ করবে না- এরূপ মানসিকতা নিয়ে কোন ছেলে কোন মেয়েকে দেখা ও তার সাথে কথা বলা শরী‘আতের দৃষ্টিতে জায়েয কি-না?

উত্তর

বিয়ের আগে শরী‘আতসম্মত ভাবে কনে দেখেতে হলে, তার নিয়ম এই যে, প্রথমে দীনদারী ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে মনঃপুত হওয়ার পর শুধু বর নিজেই বেশী জানাজানি না করে কোন বাহনা বা সুযোগে মেয়েকে দেখে নিবে। অথবা নিজের নির্ভরযোগ্য কোন মহিলাকে পাঠিয়ে খবর জেনে নিবে। এছাড়া অন্য কোন পুরুষের জন্য বরের পক্ষে কনে দেখা শরী‘আত সিদ্ধ নয়। চাই বরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যেমন, পিতা কিংবা অন্য কেউ হোন না কেন। তাদের কেউ বরের পক্ষে কনে দেখলে, অবশ্যই তাকে গুনাহগার থেকে হবে। আনুষঙ্গিক সকল বিষয়ে অবগত হওয়ার পর বরের জন্য বিয়ে করার পুরাপুরি ইচ্ছা করার পর কোন বাহানায় মেয়েকে দেখা শরী‘আতে অনুমতি আছে। কনে দেখার পর যদি অনিবার্য কোন কারণে সে বিয়ে অনুষ্ঠিত না হয়, তবে বরকে গুনাহগার হতে হবে না। কিন্তু বিয়ে না করার প্রত্যয় নিয়ে যদি বিয়ে করবো- এমন বাহনায় কোন নারীকে শুধু দেখার সুযোগ গ্রহণ করে আত্মতৃপ্তি লাভ করে, তাহলে অবশ্যই তাকে এহেন জঘন্য কর্মের দায়ে গুনাহগার হতে হবে।

উল্লেখ্য, বিয়ের আগে জীবন সঙ্গীনীকে কোন বাহনায় এক নযর দেখে নেয়া শরী‘আতে মুস্তাহাব, জরুরী নয়। অবশ্য বিভিন্ন দেশে ঘটা করে মেয়ে দেখার যে পদ্ধতি চালু আছে, এটা শরী‘আতে প্রমাণিত নয়।মোদ্দাকথা, শরী‘আতে কোন বাহানায় দেখা প্রমাণিত আছে। কিন্তু প্রচলিত নিয়মে দেখা বা দেখানোর প্রমাণ শরী‘আতে নেই। কারণ - এভাবে ঘটা করে দেখানোর পর যদি কোন কারণবশতঃ বিবাহ না হয়, তাহলে ঐ মেয়েকে বিবাহ দেয়া রীতিমত বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তী সময়ে অন্যরা মেয়ের ব্যাপারে নানা রকম সন্দেহের মধ্যে পড়ে। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া মাহমূদিয়া, ৩:২১২ # মুসলিম শরীফ,১:৪৫৬ # আবূ দাউদ শরীফ, ১:২৮৪]

বিবাহের জন্য পাত্রী দেখার নিয়ম | ইসলামী যিন্দেগী